তাপসের কুকীর্তির অজানা অধ্যায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে গা-ঢাকা দেওয়া গান বাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেন তাপস গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবলাবাদক থেকে টিভি চ্যানেলের কর্ণধার হওয়া তাপস বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। তার উত্থান নিয়েও নানা মুখরোচক গল্পের ছড়াছড়ি মিডিয়া পাড়ায়।

কৌশিক হোসেন তাপস ছিলেন একটি বেসরকারি টেলিভশন চ্যানেলের তবলা বাদক। বিগত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নজরে আসেন তাপস। তার স্ত্রী ফারজানা মুন্নি ছিলেন শেখ হাসিনার বিউটিশিয়ান।

এরপর তাপস-মুন্নি দম্পতিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাপস দিনে দিনে হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বড় বড় অনুষ্ঠানের দায়িত্ব ছিল তার। এভাবে কামিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। মালিক বনে যান গান বাংলার।

অভিযোগ রয়েছে, গান বাংলা চ্যানেলের আড়ালে নারী সাপ্লাইসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন। এমনকি স্ত্রী ফারজানা মুন্নী এই অপকর্মে স্বামী তাপসের সহযোগী ছিলেন। এই দম্পতির সঙ্গে বিশেষ খাতির ছিল সালমান এফ রহমানের।

তাপস দম্পতি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন পর্ণ অভিনেত্রী সানি লিওনকে তাদের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এনে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিষেধ উপেক্ষা করে সানি লিওনকে ঢাকায় এনে তাপস নিজের শক্তি দেখান। এতে পরোক্ষ সহযোগিতা করেন সালমান এফ রহমান। মেয়ের বিয়ের অতিথি হিসেবে আনা হলেও রাঘব-বোয়ালদের মনোরঞ্জন করতেই তাকে আনা হয়।

এছাড়া ভারতীয় অনেক নায়িকাকে অনুষ্ঠানের নামে নিয়মিত ঢাকায় আনতেন। এদের মধ্যে নুসরাত জাহান, মিমি চক্রবর্তী, নার্গিস ফাখরিসহ অনেকেই আছেন। তারাও তাপসের মাধ্যমে মনোরঞ্জন সার্ভিস দিতে আসতেন বলে কানাঘুষা আছে।

এছাড়া কর ফাঁকি দিয়ে গানবাংলার নাম করে ইউক্রেন থেকে নারী এনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করার অভিযোগও রয়েছে তাপসের বিরুদ্ধে। এমন দুটি ঘটনায় শাহজালালে দেশটির কয়েকজন নারীকে আটকে দিয়েছিল ইমিগ্রেশন পুলিশ। তখন প্রভাব খাটিয়ে তাদের ইমিগ্রেশন করিয়ে নেন তাপস।

নারীকেন্দ্রিক কুকীর্তিই শুধু নয়, তাপসের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিগত সরকারের অনেক মন্ত্রী-আমলার প্রভাব খাটিয়ে সংগীতাঙ্গনকে কুক্ষিগত করে রাখেন। গানবাংলাকে ঘিরে তিনি রীতিমতো যেনতেন কর্মকাণ্ড শুরু করে আসছিলেন।

তাপসের স্ত্রী ফারজানা মুন্নি শেখ হাসিনার বিউটিশিয়ান হবার সুবাদে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতার সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল তাদের। সেটাকেই কাজে লাগান তাপস। স্ত্রীর কারণে হয়ে ওঠেন ক্ষমতাবান। প্রভাব বিস্তার করেন সংস্কৃতি অঙ্গনে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সব থেকে বড় প্রজেক্ট ছিল জয় বাংলা কনসার্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে এই কনসার্ট আয়োজন করা হতো। পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন তাপস। এ থেকে কোটি কোটি টাকা ঘরে তোলেন তিনি। শিল্পীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ তিনি নিজের পকেটে ভরতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তৎকালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদের আস্থাভাজন ছিলেন তাপস। ফলে সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কাজ সহজেই পেয়ে যেতেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে কনসার্ট আয়োজনের কাজও বাগিয়ে নিতেন তিনি।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন আয়োজিত লাল-সবুজের মহোৎসব, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান থেকেও হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ২০২২ সালে বরিশালে ‘জয়বাংলা উৎসব’ নামে অনুষ্ঠানে ভারত থেকে মিমি চক্রবর্তীসহ অনেক তারকাকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে সালমান এফ রহমান ছিলেন প্রধান অতিথি। এছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও ছিলেন।

আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া তাপসের কাছে এক প্রকার জিম্মি ছিল দেশের অনেক মেধাবী শিল্পী। কাজ পেতে তাদের কেউ কেউ তাপসের পেছন পেছন ঘুরতেন। তাপসের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরলে তাদের কেউ কেউ বড় আয়োজনে গান গাওয়ার সুযোগও পেতেন।

গ্রেপ্তার কৌশিক হোসেন তাপসকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রাজধানীর উত্তরায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা এক মামলায় এজাহারনামীয় আসামি তিনি। রাজধানীর প্রগতি সরণিতে গান বাংলা টেলিভিশনের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর আগে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন গান বাংলার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়। তবে জনরোষ এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সরকার ঘনিষ্ঠ তকমা পাওয়া কৌশিক হোসেন তাপস।




গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে চায় আওয়ামী লীগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’ প্রয়োজন হলে বিএনপির সঙ্গে একযোগে কাজ করার বিষয়ে তার দলের প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

রোববার লন্ডনভিত্তিক ‘চ্যানেল এস’ টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “আমি বিএনপির সাথে অনেক ক্ষেত্রে একমত।

“এবং বিএনপি যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলছে, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছে, সেটির সাথে আমরা একমত এবং প্রয়োজনে বিএনপির সাথে একযোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা কাজ করব।”

ছাত্র-জনতার তুমুল গণ আন্দোলনে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হাছান মাহমুদের দেশ ছাড়ার খবর এসেছিল। তবে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মন্ত্রী ও দলের সংসদ সদস্যদের গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে তিনি কীভাবে বাইরে গেলেন, সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে এখনও।

সরকার পতনের পরপরই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছিলেন। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া আসেনি। দলটির নেতারা আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিরোধের কথা বলছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির বক্তব্যের ধারাও ইদানীং পাল্টেছে। নেতারা দ্রুত নির্বাচন চাইছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এক এগারোর মত ‘মাইনাস টু’য়ের চেষ্টা সফল হবে না।




পায়রা নদীতে ১৩ কেজির বিশাল পাঙাশ ধরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে ১৩.৫ কেজি ওজনের বিশাল পাঙাশ মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি জেলে রাকিব হাওলাদার ও জিয়াদের জালে ধরা পড়ে। পরে সেটি পারাগঞ্জের জালাল ফকিরের মৎস্য আড়তে নিয়ে আসা হয়।

জেলে রাকিব হাওলাদার জানান, “২২ দিনের ইলিশ প্রজনন মৌসুম শেষে নদীতে নামার পরেই এত বড় পাঙাশ ধরা পড়েছে, যা আমাদের জন্য সত্যিই বিস্ময়ের।”

আড়তদার জালাল ফকির জানান, মাছটি স্থানীয় বাজারে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে বিক্রি সম্ভব না হলে তা ঢাকায় পাঠানোর কথাও ভাবা হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “ইলিশ মৌসুমের সফলতা এখন নদীতে স্পষ্ট। শুধু পায়রা নদী নয়, দেশের অন্যান্য নদীতেও বড় পাঙাশসহ নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”




৭ দিন সাড়ে ৩ ঘণ্টা করে বন্ধ থাকবে শাহজালালের রানওয়ে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে আগামী ৮ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সাড়ে ৩ ঘণ্টা করে বন্ধ থাকবে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  এ সময় সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকবে। সোমবার বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সব এয়ারলাইনস ও সংস্থাকে বিষয়টি জানাতে ইতোমধ্যেই নোটিশ জারি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরের যাত্রীদের তাদের স্ব স্ব ফ্লাইট সম্পর্কে অগ্রিম জানাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সকে এবং যাত্রীদের তাদের ফ্লাইট সূচি পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিচ্ছে। প্রয়োজনে বিমানবন্দরের কল সেন্টার ১৩৬০০- তে কল করার পরামর্শ দেন তিনি।

এর আগে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সাড়ে তিন ঘণ্টা করে বন্ধ ছিল বিমানবন্দরের রানওয়ে। তার আগে ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ১০ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নতুন হাইস্পিড কানেকটিং ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ কাজের জন্যও রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিল




ময়মনসিংহে গ্যাস পাম্পে আগুন, নিহত ২

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::ময়মনসিংহ গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ জন হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোট ৭ জন। তার মধ্যে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ২ জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনা তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসন।

নিহতরা হলেন, প্রাইভেটকার চালক সদর উপজেলার কিছমত গ্রামের বাসিন্দা হিমেল ও রহমতপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের ছেলে আব্দুল কুদ্দুস। আহতদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ময়মনসিংহ জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ঘটনার সময় ঢাকা থেকে আনা একটি এলপিজি গ্যাসের ট্যাঙ্ক লড়ি থেকে গ্যাস নামানো হচ্ছিল। পাশাপাশি একটু দূরেই একটি প্রাইভেটকারে তিতাস গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। এ সময় গ্যাস লিকেজ থেকে হঠাৎ এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ৭টি গাড়ি অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি প্রাইভেকটার, তিনটি সিএনজিসহ অন্যান্য গাড়ি রয়েছে।

এর আগে বেলা পৌনে ৩ টার দিকে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের টানা দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে, এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা যায়নি। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কাজ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মুফিদুল আলম। এ সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

ডিসি মো. মুফিদুল আলম বলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন্নাহার নাহারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলো এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে কীভাবে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং অগ্নিকান্ডের ঘটনায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা ওই প্রতিবেদনে জানা যাবে




ঢাবি শিক্ষার্থী পেটানো বাউফলের সেই ছাত্রলীগ নেতা জিহাদ এখনও বহাল তবিয়তে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::১৬ জুলাই ২০২৪ তারিখ মঙ্গলবার। সেদিনই বদলে যায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চিত্র ৷পরেরদিন থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রুপ নেয়।সেদিন রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে দাবি করেন।

ওইদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সহ সারাদেশে বিক্ষোভ করেছিলো সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের সময় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছাত্রলীগের নেতা- কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপরে হামলা চালায়। ঢাবিতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলায় বহিরাগতরাও যোগ দেয়।

তাদের নৃশংস হামলায় ঢাবির প্রায় তিন-শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। ওইদিন হাসপালাতে গিয়ে ছাত্র- ছাত্রীদের পেটায় বহিরাগত ছাত্রলীগ।

বরিশাল টাইমস এর কাছে আশা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেদিন ঢাবি ছাত্র- ছাত্রীদের বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে পটুয়াখালীর বাউফল পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী জিহাদ আহম্মেদ।

হামলার সময় তার হিংস্রতার দৃশ্য ভিডিওতে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের করা হয়নি। জিহাদ আহমেদ বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

ঢাকায় গ্রীন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। ১৬ জুলাই ঢাবিতে তার কর্মকান্ডের কারণে নিজ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। আজ পর্যন্ত তিনি নিজ ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি।

বাউফলে ছাত্রলীগের একাংশের সকল সভা সমাবেশে প্রথম কাতারে দেখা যেতো তাকে। বাউফল সরকারি কলেজে অধ্যায়কালেও মারপিটসহ উশৃঙ্খল কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন জিহাদ আহমেদ।

অনলাইন কেসিনো কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। বাউফল উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মুনতাসীর তাসরিপ বলেন, ঢাবিতে হামলার মধ্য দিয়েই দেশ উত্তপ্ত হয়৷ওই হামলা চালায় ছাত্রলীগ।

বাউফলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের যে বহিরাগতরা হামলায় জড়িত ছিলো, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে। তারা এখনো নানা ভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের বিচারের মাধ্যমেই স্বাধীন বাংলাদেশ পূর্ণতা পাক।

ছাত্রলীগ নেতা জিহাদ আহম্মেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার কোনো সমস্যা নেই। ঢাকাতেই আছি, নিরাপদে আছি। সেদিন আমরা কয়েকজন ছিলাম।

নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য করেছি, নাহলে ওরা আমাদেরকেই মেরে ফেলতো। ইউনিভার্সিটি থেকে ভর্তি বাতিল করেছি, ওখানে যাওয়া নিজের জীবনের রিস্ক তাই যাইনি।চাইলে ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে পড়তে পারতেন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন বলেন, যে ঘটনায় আমরা তাকে অভিযুক্ত করবো, সেই ঘটনা আমার থানা এড়িয়ায় হতে হবে।

অন্য থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেই থানা চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে পারি। এছাড়া অন্য ঘটনায় চাইলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করার নেই বলে জানান তিনি।

বহিরাগত হয়েও ঢাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী জিহাদ আহম্মেদসহ হামলায় জড়িত সকল সন্ত্রসীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বাউফল উপজেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা।




সারজিস আলমের দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া মাদরাসা পরিদর্শন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: “বৈষম্য দূরীকরণের জন্য সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

আজ (৪ অক্টোবর) সোমবার ডেমরায় দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা পরিদর্শনকালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

অধ্যক্ষ আ খ ম আবু বকর সিদ্দিক ও মাদ্রাসার শিক্ষক সহ এলাকার মুরুব্বীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সারজিস আলম বলেন, ছাত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের শিক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির জন্য সচেতন হন, সেই বিষয়েও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

মাদরাসার শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরলে সারজিস আলম এগুলো সমাধানের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাদের মাঝে সাহস ও উদ্যম জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন, যেন শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি তুলে ধরতে সাহসী হন।




তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা

বরিশাল অফিস :: তিন দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন করেন তারা।

ব্রজমোহন কলেজের সেশনজট নিরসন, উত্তরপত্রের সঠিক মূল্যায়ন ও ব্রজমোহন কলেজকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান করার দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।মানববন্ধনে কলেজটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

আন্দোলকারী শিক্ষার্থী শুভ বলেন, নানান অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে আমাদের শিক্ষা জীবন পার করছি। বিএম কলেজে সেশনজটে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর চাকরির বয়স শেষ হয়ে যায়। তার ওপর উত্তরপত্রের অবমূল্যায়ন করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকায় আমাদের ছোট করে দেখা হয়। এসব বৈষম্য থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

সাকিবুল হৃদয় নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ব্রজমোহন কলেজ কারো অধীনে না রেখে স্বতন্ত্র করে দেওয়ার দাবি জানাই। এই কলেজের ঐতিহ্য আছে, স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলার সক্ষমতা আছে। কিন্তু সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করে আমাদের অধীনস্ত করে রাখা হয়েছে। আমরা চাই অনতিবিলম্বে আমাদের কলেজকে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হোক।

 




গলাচিপায় ১৭টি কাছিম উদ্ধার, পাচারকারীকে এক বছরের কারাদণ্ড

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বন্যাতলী খেয়াঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৭টি কাছিম উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকালে বন বিভাগের উদ্যোগে এবং স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের সহযোগিতায় কাছিমগুলো উদ্ধার করা হয়।

এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গলাচিপা বন বিভাগের কর্মকর্তা বিএম মো. নাইম হোসেন খাঁন এবং পরিবেশ সংগঠন Animal Lovers of Patuakhali (ALP)-এর গলাচিপা টিম লিডার সোহেল হোসেন রাসেল। গলাচিপা রেঞ্জ অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযানটি পরিচালিত হয়।

উদ্ধারের পর স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাছিম রেজার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত আটক পাচারকারীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে।

উদ্ধারকৃত কাছিমগুলো পরবর্তীতে বন বিভাগের সদস্য, সহকারী কমিশনার (ভূমি), পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।

পটুয়াখালী বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




বরিশাল কলেজের মাঠ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: ঐতিহ্যবাহী সরকারি বরিশাল কলেজের একমাত্র খেলার মাঠ রক্ষা এবং ভবন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার ( ৪ নভেম্বর) দুপুরে বরিশাল অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে একটিমহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সরকারি বরিশাল কলেজের মাঠ রক্ষা কমিটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিক্ষোভে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি শাহ সাজেদা এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী। বক্তৃতা প্রদান করেন বরিশাল এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা) বরিশাল শাখার সমন্বয়ক লিংকন বায়েন, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য শহিদুল হাওলাদার, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হিরণ কুমার দাস মিঠু, বরিশাল সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান, মহিলা পরিষদ বরিশাল শাখার সাধারণ সম্পাদক পুষ্প চক্রবর্তী, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল শাখার সভাপতি অধ্যাপক টুনু রানী কর্মকার, শুভ সংগঠনের আহ্বায়ক মোসা: নীলা, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র বরিশাল জেলা শাখার সংগঠক তুষার সেন এবং সরকারি বরিশাল কলেজের শিক্ষার্থী শিবানী শিকদার।

বক্তারা জানান, সরকারি বরিশাল কলেজের পূর্বপাশে পর্যাপ্ত বিকল্প জমি থাকলেও কর্তৃপক্ষ কলেজের একমাত্র খেলার মাঠটি নষ্ট করে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা উল্লেখ করেন যে, ২০০০ সালের খেলার মাঠ ও জলাধার সংরক্ষণ আইনে খেলার মাঠের শ্রেণী পরিবর্তন বা মাঠ ভাড়া দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই মাঠে কলেজ শিক্ষার্থীসহ এলাকার শিশু-কিশোররা নিয়মিত খেলাধুলা করে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য মাঠের অভাবে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের বাসভবন ভেঙে জায়গা বের করা হয়েছিল। জুলাই মাসে প্রশাসনের সাথে বৈঠকে বিকল্প স্থানে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলেও, বর্তমানে আবারো মাঠে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

বক্তারা কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে মাঠ সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।