ইসরায়েলের ৫ সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর হামলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের ৫টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের হাইফা শহরের মধ্যে এবং ওই শহরের কাছাকাছি অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ওই শহরের একটি সিনাগগে একটি রকেট হামলায় দুজন আহত হয়েছে। খবর এএফপির।

ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা একটি প্রযুক্তিগত ঘাঁটি, হাইফা নৌ ঘাঁটি, স্টেলা ম্যারিস নৌ ঘাঁটি এবং হাইফার নিকটবর্তী দুটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি গ্যাস স্টেশন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম ছিল।

এর আগে লেবানন থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় গ্যালিলি এলাকায় প্রায় ২০টির মতো রকেট ছোড়া হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং তারা দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীর দক্ষিণ শহরতলিতে ৫০টি হামলা চালানো হয়েছে।




দুমকিতে শীতের আগমনে জমে উঠেছে পিঠা বিক্রি

পিঠা, যা শুধু একটি খাবার নয়, বরং এটি বাংলা ও বাঙালির গভীর ঐতিহ্যের অংশ। বছরের বিশেষ কিছু সময়, বিশেষত শীতকালে, পিঠার আয়োজন একটি অপরিহার্য সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিকতার ছোঁয়া পিঠা তৈরির রেওয়াজে কিছুটা ভাটা পড়লেও মৌসুমী পিঠা বিক্রেতাদের প্রচেষ্টায় এটি এখনও বাঙালি ঘরে ঘরে বর্তমান। কুয়াশায় আচ্ছন্ন সকালে কিংবা সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাপা পিঠার গরম ধোঁয়া এবং মসলাযুক্ত চিতই পিঠার সুগন্ধ আমাদের মনকে আকর্ষণ করে।

শীত আসতেই পটুয়াখালী জেলার দুমকিতে বিশেষ করে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় গেট পির তলা বাজারের মন্টুর দোকানে ভাপা ও চিতই পিঠার বিক্রি বেড়ে গেছে। সন্ধ্যার দিকে, রাস্তার পাশে বসে পিঠা বিক্রি করতে থাকা মন্টু জানান, শীতকাল আসলে তার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে যায়। পিঠার দোকানে একদিকে যেমন আড্ডা জমে, তেমনি ক্রেতাদের ব্যস্ততার মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসে পিঠা কেনেন। বিশেষ করে রিকশা চালক, দিনমজুর, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী—সবই পিঠার স্বাদ নিতে আসছেন। কেউ কেউ বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারে খাওয়ার জন্য।

পিঠা বিক্রেতা মিন্টু বলেন, “শীতের মৌসুমে আমাদের দোকানে কাজের চাপ বেড়ে যায়। পিঠা বানানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে প্রায় প্রতিদিন ৬টি চুলায় পিঠা তৈরি করতে হয়। বিকেল ৩:৩০ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পিঠা তৈরির কাজ চলে।”

এছাড়াও, চিতই এবং ভাপা পিঠার মধ্যে ১০ টাকায় বিক্রি হয় বিভিন্ন ধরণের পিঠা। পিঠা খেতে আসা সিপন হাওলাদার বলেন, “শীতের সময় চিতই, ভাপা পিঠা খেতে সত্যিই ভালো লাগে। গরমের সময় তেমন খাওয়া যায় না, কিন্তু শীতের দিনগুলোতেই পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা।”

পিঠা বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বর্তমানে পিঠার দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পিঠা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে ভাপা, চিতই, বরাপিঠা, ডিম চিতই, ডিম ভাপা এবং পাটিসাপটা রয়েছে। এছাড়া নারকেল গুড় সহ বিভিন্ন ভর্তা দিয়ে পিঠা খাওয়ার মজা আলাদা। শীত যত বাড়বে, পিঠার বিক্রিও ততো বাড়বে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”



অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিনে রিজার্ভ, ব্যাংক খাত ও মূল্যস্ফীতিতে লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ তম  দিনে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনগুলো রিজার্ভ, ব্যাংক খাত এবং মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রভাব ফেলেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলির মধ্যে কিছু ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, দেশের রিজার্ভ সংকট, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের পরও পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়নি। চলুন, এসব বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা যাক।

রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স:

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত কয়েক বছর ধরেই সংকটে রয়েছে। বিশেষত, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল, যা দাঁড়িয়েছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। তবে কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার পাচার পরিস্থিতির কারণে রিজার্ভে ধীরে ধীরে পতন ঘটতে থাকে। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য রিজার্ভ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ এটি দেশের আমদানি খরচ মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে, অন্তর্বর্তী সরকার রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ছিল ১৩৩ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ২৪০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলেন, এর মূল কারণ হচ্ছে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন, যা রিজার্ভ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “গত কয়েক মাসে রেমিট্যান্স ফ্লো বাড়ছে, যা রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।” তিনি আরও বলেন, “ফরমাল চ্যানেলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ১৭০ কোটি ডলার আসতো, এখন তা ২০০ কোটি ডলারের উপরে চলে গেছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, “সরকার যদি অফিশিয়াল চ্যানেলে মুদ্রা পাঠানোর ক্ষেত্রে যে রেট নির্ধারণ করেছে, তা বাজারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাখা যায়, তাহলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।”

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, রিজার্ভের সংকট মোকাবিলায় সরকার কোনো ধরনের ‘হস্তক্ষেপ’ বা ‘রিজার্ভে হাত দেয়া’ প্রয়োজন হয়নি, যা রিজার্ভের প্রতি কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।

ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি:

বাংলাদেশের ব্যাংক খাত বর্তমানে একটি সংকটকালীন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন ‘সবল’ এবং ‘দুর্বল’ এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত। কয়েকটি ব্যাংক অনাদায়ী ঋণ ও খেলাপি ঋণের কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। এর ফলস্বরূপ, দেশের ব্যাংকিং খাত বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। গত কয়েক মাসে অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করেছে। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন ব্যাংককে তারল্য সংকট মোকাবিলায় বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের সীমা বেঁধে দেয় এবং সেপ্টেম্বর মাসে তা পুনরায় তুলে নেয়। তবুও কিছু ব্যাংক এখনও তারল্য সংকটে ভুগছে এবং গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা সরবরাহ করতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর চলতি হিসেব প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে ব্যাংকগুলোতে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। এদিকে, সাতটি দুর্বল ব্যাংককে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানিয়েছেন, “এই তারল্য সহায়তা কোনো অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে দেয়া হয়নি। বরং সবল ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ হিসেবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”

তবে, অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, “এই ধরনের সাময়িক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারবে না। কারণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতার মূল কারণগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।”

মূল্যস্ফীতি ও সরকারের পদক্ষেপ:

বাংলাদেশের মানুষের জন্য উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ মূল্যস্ফীতি সামলাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১০.৮৭ শতাংশে, যা গত মাসে ছিল ৯.৯২ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি, যা দাঁড়িয়েছে ১২.৬৬ শতাংশ। পেঁয়াজ, ডিম, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে।

সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যেমন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মুদ্রানীতির পরিবর্তন এবং শুল্ক কমানো। পেঁয়াজ ও ডিমের মতো খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

তবে, অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, “যেকোনো ধরনের দাম বেধে দেওয়া বা মার্কেট তদারকির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়। কারণ, এটি কেবল লোক দেখানোর জন্য করা পদক্ষেপ।”

তিনি আরও বলেন, “যে ধরনের প্রকৃত পদক্ষেপ নিতে হবে তা হচ্ছে পাইকারি বাজারে সঠিক তথ্য তুলে ধরা, যাতে মানুষ জানে কোন পণ্য কোথায় কী দামে পাওয়া যাবে।”

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “মুদ্রানীতির সুফল পেতে কমপক্ষে এক বছর লাগবে। চার মাস পার করার পর, মূল্যস্ফীতি কমাতে আরও আট মাস সময় প্রয়োজন।”

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশের অর্থনীতি, ব্যাংক খাত ও রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করার জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিগত সরকারের কারণে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সমালোচনা করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশের দুটি “কিডনি” খেয়ে ফেলেছে— একটি ফিন্যানসিয়াল সেক্টর এবং অন্যটি এনার্জি সেক্টর। শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে ‘পলিসি ডায়ালগ অন ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, বিগত সরকারের দেওয়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির তথ্য মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি দাবি করেন, তথ্য-উপাত্তের রাজনীতিকরণ করা হয়েছে, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগের অভাব এবং ট্যাক্স জিডিপির বৃদ্ধি না হওয়ার বিষয়টি উপেক্ষিত। এমনকি সামাজিক খাতে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় গুরুতর অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমরা এখন মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়েছি। যদি রাষ্ট্রের মেরামত না হয়, তাহলে সামান্য সংস্কার দিয়ে কোনো লাভ হবে না। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা না আনলে সংস্কারের পথ চলা সম্ভব নয়।”

ড. দেবপ্রিয় আরও অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে মাসোহারা দিয়ে অনভিজ্ঞ লোকদের রাখা হয়েছিল, যারা টাকা ছাপিয়ে ভুয়া রিজার্ভ দেখিয়েছে। এমন অযোগ্যদের ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে অর্থনৈতিক দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পলিসি ঘোষণা অর্থ উপদেষ্টার

দেশ থেকে অর্থ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, যদিও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজ সময় সাপেক্ষ, তবে ভবিষ্যতে এমন একটি পলিসি তৈরি করা হবে যাতে কেউ আর অর্থ পাচার করতে না পারে।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল “ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক, যেখানে দেশের আর্থিক খাতে চলমান চ্যালেঞ্জ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে আমাদের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তার স্বল্পমেয়াদি সংস্কার কাজ চলছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রায় কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে। তবে পুরো অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন দ্রুত সম্ভব নয়।” তিনি বলেন, সরকার এখন নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আসা সরকারগুলোকে এই পথ অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও উন্নয়ন বয়ানের সমালোচনা করে বলেন, “যতটা প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে, তার পেছনে তথ্য-উপাত্তের রাজনীতিকরণ রয়েছে। অর্থনীতির অনেক খাতে সঠিক পরিবর্তন আনা হয়নি, যা আমাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

তবে তিনি দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের কাছে আবেদন জানান। এর পাশাপাশি, দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে নতুন পলিসি প্রণয়নও জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ডিজিটাল প্রতারণার হুমকি: বিয়ের নিমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চুরি!

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। তবে, এই প্ল্যাটফর্মটিও প্রতারণার শিকার হচ্ছে, কারণ সাইবার অপরাধীরা নতুন নতুন পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে থাকে। সম্প্রতি এক নতুন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়েছে, যার মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চুরি করছে।

একদিন সন্ধ্যায় হোয়াটসঅ্যাপ খুললে, একটি মেসেজ নজরে আসে। মেসেজটি একটি বিলাসবহুল বাগানের ছবি সহ একটি বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র ছিল। এভাবে একটি নিমন্ত্রণপত্র দেখে খুশি হয়ে যান আপনি, এবং মেসেজের সাথে দেয়া লিঙ্কটিও আপনাকে আকর্ষণ করে। লিঙ্কটিতে ক্লিক করার জন্য বলা হয়েছিল, “নিমন্ত্রণপত্র প্রাপ্তির জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।” নিমন্ত্রণপত্রটি দেখার উত্তেজনায় আপনি তৎক্ষণাৎ লিঙ্কে ক্লিক করলেন।

কিছু সময়ের মধ্যে একটি নতুন পেজ খুলে, যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য এবং এমনকি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তখনই আপনি বুঝতে পারেন না যে, আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি এখন হ্যাকারদের কবলে পড়েছে।

এ ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা দ্রুত নিজেদের সুবিধা হাসিল করছে, এবং এভাবে হোয়াটসঅ্যাপে নানা ভুয়া বিয়ের নিমন্ত্রণ পাঠানো হচ্ছে। ভারতের হিমাচল প্রদেশ সাইবার পুলিশ এই ধরনের অনেক অভিযোগ পেয়েছে এবং সতর্ক করেছে, এমন মেসেজ বা লিঙ্কে কখনও ক্লিক না করার জন্য।

সাইবার অপরাধীরা আরও বলেছে, “এই ধরনের লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করলে আপনার যাবতীয় সঞ্চয় শেষ হয়ে যেতে পারে।” তাই ভবিষ্যতে যদি এমন কোনো সন্দেহজনক লিঙ্ক আসে, তবে তা অবিলম্বে এড়িয়ে চলুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




মালদ্বীপকে হারিয়ে বছর শেষ করল বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। স্কোরলাইন ১-১। হতাশার ড্রয়ে কি শেষ হচ্ছে বাংলাদেশের ২০২৪ সাল? না, শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। যোগ করা সাত মিনিটের তৃতীয় মিনিটে পাপন সিংয়ের গোলে এসেছে দারুণ জয়। বাঁ দিক থেকে শাহরিয়ার ইমনের সেন্টারে পাপন দারুণভাবে প্লেসিং করেন। পিছিয়ে পড়েও মালদ্বীপকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত জয়ের আনন্দেই বছর শেষ করেছেন তপু বর্মণ, শেখ মোরছালিনরা।

১৩ নভেম্বর মালদ্বীপের সঙ্গে প্রথম ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ১-০ গোলে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিকেরা। দুই ম্যাচের সিরিজটা শেষ হলো ১–১ সমতায়।




ঢাকায় স্ত্রীকে নিয়ে রিকশা চালালেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: স্ত্রীকে রিকশায় বসিয়ে প্যাডেল টানছেন ঢাকার পাকিস্তানি হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ! স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলেন, রিকশায় চড়ে কোথায় যাবে বেগম? শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সামাজিকমাধ্যমে এমন এক ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি।

মুহূর্তেই ভিডিওটি নেটিজেনদের দৃষ্টি কেড়েছে। গত বছরের শেষ দিকে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে জায়গা করে নেয় ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র। ঢাকার রিকশা যে কোনো বিদেশি পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয় বিষয়।

মূলত ঢাকার শহরের দৃশ্যপটকে চিহ্নিত করতে হোটেল লে মেরেডিয়ানের লবিতে রাখা রিকশা দেখে তর সইতে পারেননি পাকিস্তান হাইকমিশনার। শেষ পর্যন্ত চালিয়ে দেখেছেনও। শুধু তাই নয়, রিকশা চালকদের প্রতি এই কঠিন কাজের জন্য শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন তিনি।




ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত অক্টোবরের শেষের দিকে বিমান হামলার সময় ইসরায়েল ইরানের পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সে আঘাত করেছে বলে ক্সিওস পোর্টালকে জানিয়েছেন দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, এই হামলায় ত্যাধুনিক সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ায় ইরানের পক্ষে পারমাণবিক বিস্ফোরক ডিভাইস তৈরি করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

তারা বলছেন, ধ্বংস করা অত্যাধুনিক সরঞ্জামগুলো মূলত পারমাণবিক ডিভাইসে ইউরেনিয়ামকে ঘিরে প্লাস্টিকের বিস্ফোরক একটি ডিজাইন। এটি পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, ইরান গত বছর স্পর্শকাতর পরমাণু গবেষণা পুনরায় শুরু করেছে, কিন্তু সত্যিকারের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পদক্ষেপ নেয়নি।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় তবে ধ্বংস হওয়া সরঞ্জামগুলি প্রতিস্থাপন করতে হবে। ইরান যদি এটি সংগ্রহের চেষ্টা করে তবে তারা এটি’ ট্র্যাক’ করতে সক্ষম হবে।

বিটুইন দ্য লাইনস

ইসরাইলি কর্মকর্তারা গোয়েন্দা চিত্র যেভাবে বোঝেন সেভাবেই বর্ণনা করছেন। যদিও ইরানের পরমাণু পরিকল্পনা ও সক্ষমতা সম্পর্কে নিখুঁতভাবে জানা সম্ভব নয়।

ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির মতে, পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সের ‘তালেঘান-২’ স্থাপনাটি ২০০৩ সালের আগে পারমাণবিক ডিভাইস বিস্ফোরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বন্ধ হয়ে যাওয়া সামরিক পরমাণু কর্মসূচি নতুন করে শুরুর অংশ হিসেবে এসব সরঞ্জাম তৈরি করা হয়েছে। অন্তত দুই দশক ধরে এসব স্থাপনায় মজুদ করে রাখা হয়েছে।

মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসকে আরও বলেছেন, ইরান গত বছর গবেষণা পুনরায় শুরু করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিকাশের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বেসামরিক উদ্দেশ্যে গবেষণা হতে পারে, যা ন্যায়সঙ্গত।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তারা (ইরান) বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। এটা একটা ‘টপ সিক্রেট’ ব্যাপার ছিল। ইরান সরকারের একটি ক্ষুদ্র অংশ বিষয়টি জানলেও অধিকাংশই তা জানত না। ‘তালেঘান-২’ স্থাপনার যন্ত্রপাতি গবেষণায় ব্যবহার করা হয়নি, তবে ইরান পারমাণবিক বোমার দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে পরবর্তী পর্যায়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারত।

তিনি বলেন, ইরান যদি পরমাণু বোমার দিকে অগ্রসর হতে চায়, তাহলে ভবিষ্যতে এই সরঞ্জামের প্রয়োজন হবে। এখন তাদের কাছে তা আর নেই। তাদের অন্য একটি সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

পর্দার আড়ালে

ইসরায়েল যখন ১ অক্টোবর ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ‘তালেঘান-২’ স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু ‘তালেঘান ২’ ইরানের ঘোষিত পরমাণু কর্মসূচির অংশ ছিল না। এ কারণেই ইরানিরা পারমাণবিক বিস্তার রোধ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে স্বীকার করছে না l




ইসরাইলের পর্যটন ও হোটেল ব্যবসায় ধস, হাজারো মানুষ কর্মহীন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল-অধিকৃত ভূখণ্ডে ৯০টিরও বেশি হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে পর্যটন ও হোটেল ব্যবসায় মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে।