গাজীপুরে কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের পানিশাইল এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। সম্প্রতি এক কারখানার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছে শ্রমিকেরা। এ ঘটনায় শ্রমিকদের সঙ্গে এলাকাবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং একপর্যায়ে শ্রমিকরা জিরানী বাজারের পাশে অ্যামাজন নিট ওয়্যার নামের একটি কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সহিংসতায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের পানিশাইল এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হয় গত ৩ দিন ধরে, যখন তারা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চক্রবর্তী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এর প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ আশপাশের অন্তত ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে গত ১ নভেম্বর ডরিন ফ্যাশন লিমিটেড কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। যদিও গত রোববার কারখানাটি খুলে দেওয়া হয়েছিল, তবে আবার সোমবার দুপুরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকালে, ডরিন ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার অনির্দিষ্টকাল বন্ধের নোটিশ দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। শ্রমিকেরা চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের জিরানী এলাকায় অবরোধ সৃষ্টি করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। একই সময় বেক্সিমকো কারখানার শ্রমিকরাও বিক্ষোভে অংশ নেন, এবং এদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন শ্রমিক আহত হন।

এছাড়া, শ্রমিকরা পানিশাইল ও কলতাসুতি এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঢুকে এলাকার বাসিন্দাদেরও মারধর করেন, যার ফলে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ডরিন ফ্যাশন ও বেক্সিমকো কারখানার কিছু শ্রমিক অ্যামাজন নিট ওয়্যার নামের একটি কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেন।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আগুন নেভানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিল্প পুলিশ, থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, আগুন নেভানোর জন্য দুইটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার কাজ চলছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, “বেক্সিমকো ও ডরিন ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় এক পর্যায়ে স্থানীয়দের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় বাড়ছে মহিষ পালন, দুধ-দই বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন চরের মানুষ

ভোলার চরের মানুষের জন্য জীবিকা উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে মহিষ পালন। পূর্বে চরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যেখানে মহিষ পালনের প্রচলন ছিল, বর্তমানে ঘরে ঘরে মহিষ লালন-পালন শুরু করেছে এলাকার মানুষ।

বিশেষ করে, ভোলার নদীঘেঁষা চরের জমি সবুজ ঘাসে ভর্তি, যা মহিষ পালনকারীদের জন্য উপযোগী। এসব চরে হাজার হাজার মহিষ পালন করা হয়, যেগুলো থেকে মিলছে দুধ, দই, মাংস এবং অন্যান্য উৎপাদন, যা বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন মহিষ পালনকারীরা।

ভোলার বিভিন্ন উপজেলা যেমন— জেলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা— এখানে প্রায় অর্ধশতাধিক বিচ্ছিন্ন চর রয়েছে। সরকারি হিসেবে এখানে ২ লক্ষ ৬০ হাজার মহিষের হিসেব থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা ৩ লাখেরও বেশি বলে দাবি করা হয়।

এখানে প্রায় ৯৭টি মহিষের বড় বাতানসহ ৭০০টি দুধের খামার রয়েছে, যা থেকে প্রতিদিন ৩৫-৪০ হাজার লিটার দুধ উৎপন্ন হয়। এই দুধ দিয়েই তৈরি করা হয় সুস্বাদু দই, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

মহিষ পালনকারী ভোলার চরবাসী মিন্টু খাঁ জানান, মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ২০০১ সালে ৪টি মহিষ নিয়ে তার ব্যবসার শুরু। বর্তমানে তার কাছে ৪১টি মহিষ রয়েছে, পাশাপাশি তার ২ একর জমির বাজার মূল্য ২০ লাখ টাকা।

চর বৈরাগিয়ার মহিষের বাতান মালিক জাকির হাওলাদার জানান, তার ৯৫টি মহিষ রয়েছে, যা তিনি তার দাদা-চাচার হাতে রেখে লালন-পালন করছেন। তিনি বলেন, আগে মহিষের বিভিন্ন রোগে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলেও এখন কৃমিনাশক ও ভ্যাকসিন ব্যবহারের ফলে এই ঝুঁকি কমেছে। তাছাড়া দুধ ও মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে লাভের পরিমাণও বাড়ছে।

অন্যদিকে, দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে ইউনুছ মিয়া ও তার পরিবার চার পুরুষ ধরে মহিষ পালন করছে। তার খামারে বর্তমানে প্রায় আড়াইশো মহিষ রয়েছে, যেগুলি থেকে প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৫০ কেজি দুধ সংগ্রহ করা হয়।

স্থানীয় দধি বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের দইয়ের (টালির) চাহিদা বেশি। বর্তমানে দেড় কেজি দই ২৫০ টাকা এবং দুই কেজি দই ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। দইয়ের এই দামের ওপর ভিত্তি করে মাখন, ঘি, ও ঘোলও তৈরি হয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মাখনের দাম বর্তমানে ৯০০ টাকা প্রতি কেজি এবং ঘিয়ের দাম ১৬০০-১৮০০ টাকা প্রতি কেজি।

ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম খান জানান, সরকারিভাবে ভোলায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মহিষ রয়েছে, যা প্রতিদিন গড়ে ৩৫-৪০ হাজার লিটার দুধ উৎপন্ন করছে। তিনি বলেন, ডিএলআরই ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রাণালয়ের যৌথ উদ্যোগে উন্নত মুদ্রাজাত মহিষ উৎপাদনের খামারের কাজ চলমান, যা ভবিষ্যতে ভোলার মহিষ পালনকারীদের আরও উপকৃত করবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘পথের পাঁচালি’র দূর্গা চরিত্রের অভিনেত্রী উমা দাশগুপ্ত আর নেই

বাংলা চলচ্চিত্রের অমর সৃষ্টি ‘পথের পাঁচালি’র দূর্গা চরিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী উমা দাশগুপ্ত আর নেই। আজ (১৮ নভেম্বর) সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সিনেমা ‘পথের পাঁচালি’ যারা দেখেছেন, তারা কখনো ভুলতে পারেন না ছোট্ট দূর্গার সেই প্রাণবন্ত অভিনয়। এই সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যে উমা দাশগুপ্তের অভিব্যক্তি ছিল অনবদ্য। ছোটবেলায় ক্ষেতের মধ্যে ছুটে চলা, কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার দৃশ্যগুলো আজও দর্শকদের মনে অমলিন।

উমা দাশগুপ্তের অভিনয় জীবনের শুরু স্কুলের থিয়েটার থেকে। স্কুলে তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন সত্যজিৎ রায়। তখনই তাকে বেছে নেন পথের পাঁচালির দূর্গা চরিত্রের জন্য। সেই প্রথম ছবিতেই তিনি জায়গা করে নেন বাংলা সিনেমার ইতিহাসে।

কয়েক বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন উমা দাশগুপ্ত। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও, ফের মারণব্যাধি ফিরে আসে তার জীবনে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে হার মানেন তিনি।

পথের পাঁচালির পর আর বড় পর্দায় দেখা যায়নি তাকে। নিজের মতো করে সংসার জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রূপালী দুনিয়ার ঝলকানি থেকে দূরে থাকতে ভালোবাসতেন উমা দাশগুপ্ত।

এর আগে বেশ কয়েকবার উমা দাশগুপ্তের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। এমনকি শোনা গিয়েছিল তিনি বৃদ্ধাশ্রমে ছিলেন। তবে সেইসব গুজব মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। এবার তার মৃত্যুর খবর সত্যি হল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়া এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী আজ চিরবিদায় নিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মির্জাগঞ্জে আইনজীবীকে কুপিয়ে জখম, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পনু শরীফ রিয়াদ (৩৬) নামে এক আইনজীবীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে রিয়াদকে তার বাড়ির সামনে একা পেয়ে হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে এই হামলা হয়। জানা যায়, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রিয়াদের উপর হামলা চালায়। তাদের হাতে ছিল বাংলা দা, লোহার রড, বাশের লাঠি এবং কাচি। এলোপাতাড়ি মারধরের ফলে রিয়াদ গুরুতরভাবে আহত হন। এসময় তার সাথে থাকা প্রায় ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে পুলিশ মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের গোলখালি এলাকা থেকে অভিযুক্ত সাব্বির রহমান রিপনকে (৩০) গ্রেফতার করে। রিপন পটুয়াখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

হামলার পর আহত আইনজীবী রিয়াদ নিজেই মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শাহজাহান হাওলাদার ও তার দুই ছেলে রিপন ও লিটন মিলে তাকে মারধর করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শামীম হাওলাদার বলেন, “একজন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া রাতে বিভিন্ন মামলায় আরও ৩ জন গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে আটক করা হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ ১৩ জন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ১৩ জন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আমলাকে হাজির করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তাঁদের আজ সোমবার গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।
আজ সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পুরাতন হাইকোর্ট ভবন প্রাঙ্গণে তাঁদের হাজির করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান।




ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার কোল থেকে ছিটকে শিশু নিহত

ভোলার চরফ্যাশন মহাসড়কের বোরহানউদ্দিন মিলন বাজার এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত হয়েছে। রোববার (১৭ নভেম্বর) বিকেল ৩:৩০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী নুরে আলম জানিয়েছেন, ভোলা থেকে দ্রুতগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা বাজারে আসার সময় একটি বাসকে সাইড দিতে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার সময় সিএনজির যাত্রী, মো. মিজানুর রহমান মনিরের কাঁধে থাকা ছোট শিশু মুনতাহা মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

এ সময় স্থানীয়রা সিএনজিটিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। বোরহানউদ্দিন থানার সেকেন্ড অফিসার মো. রেহান উদ্দিন জানিয়েছেন, নিহত শিশুর লাশ ও সিএনজিটিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ব্যাটিংয়ে জাকের-অঙ্কনের সাবলীল দিন, হাসানের উইকেট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: টপ অর্ডারের ব্যাটিং যেন কিছুতেই মনমতো হচ্ছে না বাংলাদেশের জন্য। পাকিস্তান-ভারতে অ্যাওয়ে সিরিজের পর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট, রঙ বদলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ… সবখানেই টপ অর্ডারের ব্যর্থতাটাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় চিত্র। উইন্ডিজ সফরে ২ দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও ফলাফল সেই একই।

চারদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ নেমে এসেছে দুইদিনে। তাতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কিছুটা ওয়ানডে মেজাজেই ব্যাট চালিয়েছেন। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে পেসার শ্যারন লুইসের বলে জয় ক্যাচ দেন স্লিপে। মাত্র ১৯ বল খেলে ৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেন জয়।

জাকিরের ইনিংস এরচেয়ে একটু লম্বা। ৩৪ বল আর ১৫ রানের ইনিংস শেষ হয়েছে জাইর ম্যাকঅ্যালিস্টারের বলে। মুমিনুল হক আর শাহাদাত দীপুর পার্টনারশিপের মাঝে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির পর ভাঙে তাদের জুটি। এবারে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৩০ বলে ২৫ রান করা দীপু। মুমিনুল থিতু হয়েও ব্যর্থ। ৫৮ বলে ৩১ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ। স্কোরবোর্ডে ১০১ রান তুলতেই নেই ৪ উইকেট।




মার্কিন মিসাইল দিয়ে রাশিয়ায় হামলা হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ব্যবহার করে ইউক্রেন যদি রাশিয়ায় হামলা চালায় তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে বলে সতর্কতা দিয়েছেন রুশ আইনপ্রণেতা আন্দ্রেই ক্লিসাস।

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাদের দূরপাল্লার মিসাইল ব্যবহার করে ইউক্রেনকে রাশিয়ায় হামলা চালানোর অনুমতি দেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এমন হুমকি দিয়েছেন রাশিয়ার এই নেতা।

ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমারা উত্তেজনা এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেখানে সকালের মধ্যে ইউক্রেন পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যেতে পারে।”

আন্দ্রেই ক্লিসাস জানিয়েছেন, ইউক্রেন যে-ই যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার মিসাইল দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালাবে তার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা হামলা চালানো হবে। এক্ষেত্রে কোনো দেরি করা হবে না। তিনি বলেছেন, “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে এটি বড় ধাপ”

গত সেপ্টেম্বরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, যদি পশ্চিমারা ইউক্রেনকে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে দেয়, এটির অর্থ হবে পশ্চিমারা সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। পুতিন হুমকি দেন, এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান যুদ্ধের প্রকৃতি এবং পরিধি বদলে দেবে। নতুন এ হুমকির বিরুদ্ধে রাশিয়া ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ নেবে বলেও জানান তিনি।




সাইনাসের ব্যথা থেকে মুক্তির ঘরোয়া সমাধান

সাইনাসের সমস্যা যারা ভোগেন, তাদের জন্য এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা ও চোখের জ্বালা—এসব সমস্যা সাইনাস রোগীদের জন্য খুবই কষ্টকর।

সাইনাস দুই প্রকারের হতে পারে: তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী। দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। তবে তীব্র সাইনোসাইটিসের জন্য ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি মেনে চললে দ্রুত ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

সাইনাসের কারণ ও লক্ষণ

সাইনাস সংক্রমণ সাধারণত ডাস্ট অ্যালার্জি, কেমিক্যাল, ধোঁয়া ইত্যাদি কারণে হতে পারে। এটি দীর্ঘস্থায়ী হলে মাথাব্যথা, মুখে ব্যথা, সাইনাসে চাপ, কান ও দাঁতে ব্যথা, জ্বর, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ হওয়া, ফোলাভাব ও কাশি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

কিছু খাবার আছে যা সাইনাসের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যেমন:

ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম

তৈলাক্ত ও ভাজা-পোড়া খাবার

এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো সাইনাসের ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সাইনাসের ব্যথা থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়

আপনি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে সাইনাসের সমস্যার সমাধান করতে পারেন। নিচে কিছু কার্যকরী সমাধান দেওয়া হলো:

1. পর্যাপ্ত পানি পান করুন:
শরীর সুস্থ রাখতে বেশি পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে, পাশাপাশি শ্লেষ্মা পাতলা করে, যা সাইনাসের ব্যথা কমাতে সহায়ক।

2. গরম ভাঁপ নিন:
সাইনাসের ব্যথা কমাতে গরম ভাঁপ নেওয়া খুবই উপকারী। পানিতে পুদিনা পাতা মিশিয়ে বাষ্প গ্রহণ করলে নাকের বন্ধ ভাব কমবে এবং চোখের জ্বালা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

3. গরম স্যুপ পান করুন:
ঠান্ডা বা মাথাব্যথা কমাতে এক বাটি গরম স্যুপ খেতে পারেন। এটি আপনার শ্লেষ্মা পাতলা করবে এবং প্রশান্তি দেবে।

4. নাক পরিষ্কার রাখুন:
নিয়মিত নাক পরিষ্কার করা সাইনাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে। গরম পানির ভাঁপ গ্রহণের মাধ্যমে নাকের ব্যাকটেরিয়া দূর করা সম্ভব।

5. আপেল সিডার ভিনেগার পান করুন:
আপেল সিডার ভিনেগার সাইনাসের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এক গ্লাস গরম পানিতে ১-২ চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করলে ব্যথা কমবে।

6. ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন:
ভিটামিন এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, পালং শাক ইত্যাদি রাখুন।

এসব ঘরোয়া উপায় মেনে চললে সাইনাসের ব্যথা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আঞ্জুমান শিল্পীর পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ, দুদকের অনুসন্ধান শুরু

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত মুখ আঞ্জুমান শিল্পী, নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় ‘বাংলার কমান্ডো’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিনয়ের যাত্রা শুরু করেন। এরপর একে একে ৩৫টি চলচ্চিত্রে কাজ করেন। বিশেষ করে, সালমান শাহর সঙ্গে ‘প্রিয়জন’ সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। যদিও বিগত দুই দশক ধরে চলচ্চিত্র থেকে দূরে রয়েছেন, তবে মাঝে মধ্যে টেলিভিশন নাটক ও উপস্থাপনায় সক্রিয় ছিলেন।

আঞ্জুমান শিল্পী সম্প্রতি আলোচনায় এসেছেন তার স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী এইচ বি এম ইকবালের কারণে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এইচ বি এম ইকবাল এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশনা জারি করেছে।

বিএফআইইউ দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ দিন এই হিসাবের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। এমনকি একক নামে কোনো প্রতিষ্ঠান থাকলে তার হিসাবও জব্দ করতে বলা হয়েছে।

এইচ বি এম ইকবাল, যিনি প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং প্রিমিয়ার গ্রুপের মালিক, তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনৈতিক সম্পদ অর্জন এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গুলশানে হোটেল রেনেসাঁ, হিলটন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এবং রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা নির্মাণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।

নব্বইয়ের দশকে টানা কয়েক বছর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর ঢালিউডে অশ্লীলতার কারণে আঞ্জুমান শিল্পী নিজেকে চলচ্চিত্র থেকে গুটিয়ে নেন। এ প্রসঙ্গে তিনি একবার বলেছিলেন, “চলচ্চিত্রে অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি কারণ তখন চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার জোয়ার ছিল। তাই ২০০১ সালের পর আমি চলচ্চিত্র ছেড়ে নাটকে কাজ শুরু করি এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত নাটকে কাজ করেছি।”

চলচ্চিত্রে আসার গল্প সম্পর্কে আঞ্জুমান শিল্পী বলেছিলেন, “আমার চৌদ্দ পুরুষের কেউ চলচ্চিত্রে কাজ করেনি। স্কুলে পড়ার সময় একদিন ভাইয়ের বন্ধু আমাকে দেখে বলল, ‘তুমি অ্যাড করো না কেন?’ তারপর দুটি অ্যাড করার পর চলচ্চিত্রে কাজ করার প্রস্তাব আসে।”

বর্তমানে ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় এই শিল্পী নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাংক জব্দ সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম