রকস্টার জেমসের তৃতীয় বিয়ে, জন্ম নিল পুত্র সন্তান

বাংলাদেশের রকসংগীতের কিংবদন্তি জেমস তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেছেন এবং এবার তিনি বাবা হয়েছেন। দীর্ঘ এক দশক একাকী জীবন কাটানোর পর ২০২৪ সালের ১২ জুন তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক নামিয়া আমিনকে বিয়ে করেন।

চলতি বছরের ৮ জুন, নিউইয়র্কের হান্টিংটন হাসপাতালে জন্ম নেয় তাদের প্রথম পুত্র সন্তান, যার নাম রাখা হয়েছে জিবরান আনাম। জেমস বলেন, “বাবা হওয়ার অনুভূতি অসাধারণ। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে সুস্থ সন্তান দান করেছেন।”

জানা গেছে, ২০২৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে এক অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় জেমস ও নামিয়ার। পরিচয়ের এক বছর পর ঢাকায় ঘরোয়া পরিবেশে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। নামিয়া যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং জন জে কলেজ থেকে ক্রিমিনাল জাস্টিসে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

এর আগে জেমসের দুটি বিবাহ হয়েছিল। প্রথম স্ত্রী ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রথি; তাদের ঘরে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান। দ্বিতীয় স্ত্রী বেনজীর সাজ্জাদের সঙ্গে তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

নতুন জীবন ও সন্তানের খবরে সামাজিক মাধ্যম এখন জেগে উঠেছে। ভক্তরা নগরবাউল জেমসকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং নতুন সূচনা উদযাপন করছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫



ঝালকাঠিতে টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন বিষয়ক কর্মশালা

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদারকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ঝালকাঠিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ঝালকাঠি সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এ কর্মশালার আয়োজন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। সভাপতিত্ব করেন সনাক সভাপতি সত্যবান সেন গুপ্ত এবং স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির কো-অর্ডিনেটর (সিভিক এনগেজমেন্ট) কাজী শফিকুর রহমান। এছাড়া টিআইবির ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মো. ফিরোজ উদ্দিন কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুশাসনের অভাবে উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও সেবার মান হ্রাস পায়। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মশালায় আলোচ্য বিষয় ছিল—সুশাসন ও এর উপাদান, শুদ্ধাচার, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের অভাব ও করণীয়, সুশাসন টুলস, এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের পদক্ষেপ এবং টেকসই উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা।

দিনব্যাপী কর্মশালায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সমাজসেবা ও অন্যান্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কাঠালিয়ায় উৎসবমুখর ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতা

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় ডাইনের নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভেলা বাইচ প্রতিযোগিতা, যেখানে স্থানীয় ও আশপাশের গ্রামের শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষ উপভোগ করেন উৎসবমুখর পরিবেশ।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকালে আওরাবুনিয়া এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আওরাবুনিয়া সার্বজনীন কালী মন্দির। ভেলা বাইচে মোট ৬টি দল অংশগ্রহণ করে। চূড়ান্ত পর্বে চৌধুরিহিস্যা ভেলা দল প্রথম স্থান অর্জন করে, সুবোত হাওলাদারের ভেলা দল দ্বিতীয় এবং শুশিল ঘরামীর ভেলা দল তৃতীয় স্থান লাভ করে।

দর্শকরা নৌকায় চড়ে, নদীর পাড়ে ও ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতা দেখেন এবং আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করেন। আয়োজক কমিটি জানায়, প্রতিবছর কালীপূজা উপলক্ষে এলাকাবাসীর মধ্যে ভিন্ন মাত্রার আনন্দ ছড়াতে কলাগাছের তৈরি ভেলা বাইচের আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনা এসপি অফিসের গেটে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ, রহস্য ঘিরে জট

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের গেটের সামনেই এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে রহস্য ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিহত যুবকের নাম সীমান্ত দাস (২৪), তিনি বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের লাকুরতলা গ্রামের বিজন দাসের ছেলে।

পুলিশ জানায়, খবর পাওয়ার পর রাত দুইটার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে একটি শুকনো গাছের সঙ্গে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় সীমান্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, সীমান্ত আত্মহত্যা করেছেন।

তবে স্থানীয়দের বয়ানে ঘটনার আগে কিছু অস্বাভাবিকতার আভাস পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী কাইউম জানান, “রাত ১২টার দিকে আমি বাইক নিয়ে ওই পথে যাচ্ছিলাম। দেখি এক চিকন ছেলে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে। কাছে যেতেই সে বলে, আমাকে অসীম অনেক মারছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, অসীম কে? সে তখন বলে, ‘ভাই, আপনি এসপি স্যারকে ফোন দেন’। তাকে চিনতাম না, তাই চলে যাই। সকালে শুনি সে মারা গেছে।”

স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এসপি কার্যালয়ের সামনেই এমন ঘটনা কিভাবে ঘটল এবং তা কারো নজরে পড়ল না কেন। অনেকেই ধারণা করছেন, রাতের আঁধারে আত্মহত্যা পরিকল্পিত কিছু হতে পারে।

বরগুনা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইউনুস আলী ফরাজী বলেন, “সীমান্ত একটি মরা গাছের সঙ্গে নাইলনের দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনা-১: আওয়ামীলীগ দুর্গ রক্ষায় মরিয়া বিএনপি ও জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা-১ আসনে (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জনসংযোগে ব্যস্ত। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনটি আওয়ামীলীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ প্রার্থীরা সক্রিয় না হলেও বিএনপি ও জামায়াত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা গ্রাম, হাট ও বাজারে সভা সমাবেশ করছেন। বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব মো. মতিয়ার রহমান তালুকদার, অধ্যাপক অ্যাডভোকেট মজিদ মল্লিক, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম গাজী, অ্যাডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ তালুকদার অন্যতম। তবে মজিদ মল্লিক ও মজিদ তালুকদার ছাড়া বাকি প্রার্থীরা মাঠে গণসংযোগ করছেন।

বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তালতলী উপজেলা বিএনপির শক্তকেন্দ্র। আমতলী উপজেলায় আওয়ামীলীগ ও বিএনপির ভোট সমানভাবে রয়েছে, তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলেরও ভোট রয়েছে। জামায়াতের ভোট কম। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭৪।

বিএনপির জেলা আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা ও দলীয় নেতারা আশা করছেন, যোগ্য, দক্ষ ও জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন দিলে জয়লাভ সম্ভব হবে। তবে পায়রা নদীর দুই পাড়ে ভোটার বিভাজন এবং উপজেলা অনুযায়ী ভোটের দিক বিবেচনায় মনোনয়ন না দিলে বিএনপি বিজয় অর্জন কঠিন হবে।

তরুণ নেতা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন জানিয়েছেন, আওয়ামীলীগের জন্য দীর্ঘ সময় দমন-নিপীড়নের শিকার হয়েও দলের পক্ষে কাজ করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে বরগুনা জেলাকে মডেল জেলায় রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নারী মনোনয়ন প্রত্যাশী আসমা আজিজ বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্যে দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হবে এবং আশা রাখছি মনোনয়ন পাব।

সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদার বলেন, পূর্বে আমতলী ও তালতলীতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে জয়লাভ করে বরগুনার উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠিতে সুপারির বাজারে চাষি-ক্রেতা মুখরিত, দাম কমে হতাশা

ঝালকাঠির প্রতিটি গ্রামে সুপারির চাষ হলেও এবছর ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও দাম কম থাকার কারণে চাষিরা হতাশ। জেলার চারটি উপজেলা ও ৩২টি ইউনিয়নের ৪৭১টি গ্রামে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার সুপারি ক্রয়-বিক্রয় হয়।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি কুড়ি (২১০টি) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়। যদিও উৎপাদন বেশি, দাম কম থাকায় চাষিরা তৃপ্তি পাচ্ছেন না।

ঝালকাঠির ছত্রকান্দা, সিএন্ডবি বাজার, রাজাপুরের বাগড়ি, লেবুবুনিয়া, বাদুরতলা, নাপিতেরহাট, নলছিটির ভৈরবপাশা, ষাটপাকিয়া, চাকলার বাজার, মানপাশা, মোল্লারহাট, কাঁঠালিয়ার কৈখালী, সাতানি বাজার, আমুসহ জেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সুপারি লেনদেন হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটিয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন চাষিরা।

চাষিরা জানিয়েছেন, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে ঝুঁকি কম এবং উৎপাদন খরচও কম। রোগ-বালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হওয়ায় দিন দিন সুপারি চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে। পাইকাররা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপারি সরবরাহ করছেন।

ক্রেতারা বলছেন, এ বছর বেশি উৎপাদনের কারণে কম দামে সুপারি কেনা সম্ভব হচ্ছে এবং ভালো লাভের আশা করা যাচ্ছে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “আমরা চাষিদের সুপরিকল্পিত সুপারি চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছি, যাতে এই ফসল অর্থনীতিতে আরও অবদান রাখতে পারে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“৮৮ বছরের রইস উদ্দিনের জীবনযুদ্ধ: গ্রামে ফেরিওয়ালার ব্যথা ও সংগ্রাম”

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের ৮৮ বছর বয়সী রইস উদ্দিন দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে গ্রামে পায়ে হেঁটে কাপড় বিক্রি করছেন। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া শরীর, ক্লান্তি ও ঘামে ভিজা হলেও জীবিকার তাগিদে তিনি থেমে থাকেননি।

রইস উদ্দিনের জীবনযাত্রা কঠিন। স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তান আমলে তিনি তরকারি ব্যবসা করতেন, পরে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্বাধীনতার পর থেকে ফেরিওয়ালার কাজে নিয়োজিত। বর্তমানে ১ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে গ্রামে ঘুরে নতুন ও পুরাতন কাপড় বিক্রি করছেন। অসুস্থ বা বৃষ্টিতে ঘরবন্দী হতে হয়, খাবারও ঠিকমতো জোগাড় হয় না।

তার স্ত্রী আদর বানু (৬০) জানান, “দুঃখ আর কষ্ট আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। বয়স্ক ভাতা পাওয়ার পরও সংসার চালানো কঠিন।” রইস উদ্দিন বলেন, “শক্তি থাকলে ভিক্ষা করবো না। কিন্তু কাজ ছাড়া দেখবে কে আমাদের?”

তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, যদি সরকারি ও সমাজের সহায়তা আসে, তবে শেষ জীবনের সংগ্রামে কিছু স্বস্তি পেতে পারেন।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, “বৃদ্ধ রইস উদ্দিনের জীবন যুদ্ধ আমাদের কষ্ট দিচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবো। সমাজের মানুষ এগিয়ে আসলে তাঁর জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“স্ক্রিনের জগতে শিশুরা হারাচ্ছে মনোযোগ ও মেধা”

আগে শিশুদের আনন্দের উৎস ছিল টিভি কার্টুন। আজ সেই স্থান দখল করেছে স্মার্টফোন, ইউটিউব, ভিডিও গেম এবং নানা অ্যাপ। বিনোদনের অপার সম্ভার বেড়েছে, কিন্তু বই পড়ার আগ্রহ ও মনোযোগ কমে গেছে।

কানাডার সাম্প্রতিক এক গবেষণা দেখিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৫ হাজারেরও বেশি শিশুকে নিয়ে চালানো এই গবেষণায়, শৈশবে প্রতিদিন মাত্র এক ঘণ্টা বেশি স্ক্রিন টাইম নিলে ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা ৯ শতাংশ কমে যায়।

গবেষকরা জানান, শিশুরা বেশি স্ক্রিনে সময় কাটালে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। যদিও লেখার ক্ষেত্রে ক্ষতি কম, তবু পড়া বোঝার ক্ষমতা ও আগ্রহ কমে যায়। এক গবেষক রসিকতার ছলে বলেন, “ওরা লিখতে পারে, কিন্তু প্রশ্ন করলে বলে ‘গুগলে খুঁজে দেখুন।’”

তাদের পরামর্শ, অভিভাবকরা ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করবেন। দিনে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ডিভাইস ব্যবহার না করা, ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার না করা এবং পড়ার সময় ডিভাইস বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকরা সতর্ক করছেন, ছোটবেলায় গড়ে ওঠা অভ্যাসই পরবর্তী জীবনের মনোযোগ, শেখার দক্ষতা এবং মেধার বিকাশ নির্ধারণ করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“আবরাহার নকল কাবা: রাজনীতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার করুণ পরিণতি”

ইসলামের আগমনের পূর্বে আরবের একটি ঘটনাই মুসলমানদের জন্য এক চিরন্তন স্মৃতি। ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইয়েমেনে আবিসিনিয়ার শাসক আবরাহা ‘নতুন কাবা’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি মক্কার কাবাকে প্রতিস্থাপন করে ইয়েমেনকে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

আবরাহা সানা শহরে ‘আল-কালিস’ নামে একটি বিশাল গির্জা নির্মাণ করেন। এটি অত্যন্ত বিলাসবহুল ও উঁচু, যা দৃষ্টিনন্দন হলেও আরব উপজাতি ও কুরাইশরা একেবারেই প্রত্যাখ্যান করে। কুরাইশদের একজন যুবক সেখানে প্রবেশ করে গির্জাটিকে অপবিত্র করেন। আবরাহা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মক্কার দিকে বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন।

কোরআনে সূরা ফিল-এ বর্ণিত ঘটনায় দেখা যায়, আল্লাহতায়ালা আবাবিল পাখি পাঠিয়ে সিজ্জিল (পোড়া মাটির পাথর) দিয়ে আবরাহার সেনাকে ধ্বংস করেন। আবরাহা নিজেও আহত হয়ে খাত’আম অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা ঘটেছিল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে, মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম বর্ষে, যাকে ‘আম আল-ফিল’ বলা হয়।

আজ আবরাহার গৌরবময় উপাসনালয় আর নেই। সানা শহরে এর ধ্বংসাবশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের রূপে সংরক্ষিত। এটি আবরাহার ব্যর্থতার প্রতীক, যেখানে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসবহুল নির্মাণ কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসকে জয় করতে পারেনি। বিপরীতে, মক্কার কাবা প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমানকে আকর্ষণ করছে, যা সত্যিকারের ইমান ও আল্লাহর সুরক্ষার প্রমাণ।

ঘটনাটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে ধর্মীয় বিশ্বাসকে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা বা বিলাসবহুল নির্মাণ দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সত্যিকারের ইমান অটুট থাকলেই কোনো শত্রু সফল হতে পারে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“এক পা হারিয়েও সমুদ্রের সঙ্গে লড়াই ছোরাফের”

২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় বাঁ পা হারানো পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে ছোরাফ, জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন অগভীর সমুদ্রে নামেন। ভোরের অন্ধকারে, বৈরি আবহাওয়ায় উত্তাল ঢেউয়ের মাঝখানে তিনি এক পা নিয়েই জাল ভরা নৌকায় উঠেন।

ছোরাফের পাশে থাকে ছোট ভাই, কখনো বড় ছেলে। ঋণ নিয়ে ছোট্ট নৌকা বানিয়ে এতে যুক্ত করেছেন শ্যালো ইঞ্জিন। কখনো সাগরে মাছ না ধরা গেলে ছোট ছেলের চায়ের দোকানই সংসারের ভরসা। তিনি বলেন, “আমি যদি ঘরে বসে থাকি, বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানরা খাবে কী?”

ছোরাফের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, ঝড়ের রাতে স্বামীকে নিয়ে উৎকণ্ঠা থাকে, তবে সকালে জালভরা মাছ নিয়ে ফিরলে আনন্দে অশ্রু ঝরে। পরিবারে তিন সন্তান, বড় ছেলে চায়ের দোকান চালিয়ে বাবাকে সাহায্য করে, ছোট ছেলে মাঝে মধ্যেই সাগরে যায়।

স্থানীয় প্রবীণ জেলে মান্নান হাওলাদার বলেন, “সমুদ্রের মতো মন ওর। পা নাই তো কী হয়েছে? ঝড়ে সাগরে মাছ পড়ে, তখনও জীবন বাজি রেখে ছোরাফ নামেন।”

ছোরাফের বাবা কালাম মাঝি জানান, “আমি আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। সংসারের সব দায়িত্ব ছোরাফের কাঁধে।” সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের ছোট্ট ঘরে পরিবার নিয়ে থাকেন ছোরাফ, একজোড়া ক্র্যাচ আর কৃত্রিম পা-ই তাঁর ভরসা।

ছোরাফ বলেন, “জীবন বাজি রেখে সমুদ্রে নামি। স্রোতের বিপরীতে লড়াই অভ্যাস হয়ে গেছে। চাই সরকার একটু সাহায্য করুক। সন্তানদের মুখে হাসি থাকলেই আমার জয়।”

কলাপাড়ার পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, “ছোরাফ কুয়াকাটার হাজারো সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। সমুদ্রের বুক যেখানে ভয় দেখায়, সেখানেই তিনি প্রমাণ করেছেন—হাল না ছাড়ার নামই আসল লড়াই।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫