বরিশালে চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া, চাঁদা দাবির অভিযোগ

বরিশালের সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের বিল্লা বাড়ি গ্রামে স্থানীয় একটি রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে যারা প্রতিদিন ওই রাস্তায় চলাচল করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রাক চালক আলম শিকদার তার পরিবারের লোকজন নিয়ে রাস্তাটির মাঝখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে রেখেছেন। এতে করে এলাকার কয়েকটি পরিবার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, আলম শিকদার ওই রাস্তায় চলাচলকারী পরিবারগুলোর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মতাশার ও বিল্লা বাড়ির সীমান্তবর্তী রাস্তার মাঝখানে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে পাশের খাদ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলম শিকদার ২০০৩ সালে মাটির রাস্তা বাঁধাই করেছিলেন এবং বর্তমানে রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে লেবার খরচ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করছেন। চাঁদা না দেওয়ার কারণে গত দুই সপ্তাহ ধরে রাস্তাটি বন্ধ রয়েছে।

আব্দুল ওহাব মাস্টার, যিনি ২০২০ সালে ওই এলাকায় জমি ক্রয় করেছিলেন, বলেন, “এই রাস্তাটি ছিল সকলের জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু সম্প্রতি এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।” একই সঙ্গে, আশপাশের জমির মালিকরা মিলে আলম শিকদারকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান।

অপরদিকে, আলম শিকদার দাবি করেন, “২০০৩ সালে আমি এবং কিছু শ্রমিক মিলে এই রাস্তাটি বাঁধাই করেছি। বর্তমানে কিছু নতুন মালিক জমি বিক্রি করছেন এবং রাস্তাটি ব্যবহারের জন্য কিছু টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা দিলে বাঁশের বেড়া সরিয়ে নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির শিকদার বলেন, “জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ঐতিহ্যবাহী চর কাউয়া খেয়া ঘাট দখল নিয়ে উত্তেজনা

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চর কাউয়া খেয়া ঘাট দখল নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বিআইডব্লিউটি (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ) কর্তৃক শুরু হওয়া উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এই ঘাটটি দখল করা হচ্ছে, যা তাদের চলাচলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঘাটটির দীর্ঘদিনের ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

চর কাউয়া খেয়া ঘাটের মাঝি মাল্লার সভাপতি সাজ্জাদ বলেন,আমাদের এই ঘাটটি বহু পুরানো এবং ঐতিহ্যবাহী। এটি দীর্ঘ বছর ধরে স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। আমরা এর স্থিতি বজায় রাখার দাবি জানাচ্ছি এবং বরিশাল জেলা প্রশাসককে এই বিষয়ে আবেদন জানিয়েছি।

এদিকে, ঘাটের সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন বলেন, এই ঘাটটি আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকে দেখে আসছি। এটা আমাদের জন্য একটি আবেগের জায়গা। প্রতিদিন এই ঘাটটি দিয়ে লাখ লাখ মানুষ পারাপার করে। এখান দিয়ে ১০টি ইউনিয়নের মানুষ একপাড় থেকে আরেকপাড়ে যায়। ভোলা থেকে আসা মানুষও এখান দিয়ে পারাপার করে। এভাবে, আমাদের জন্য কেনো এই ঘাটটি দখল করে নেওয়া হবে? এটা কি সাধারণ মানুষের অধিকার না ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, আমরা চাই, এই ঘাটটি এই জায়গাতেই রক্ষা করা হোক, কারণ এটি আমাদের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এখান দিয়ে চলাচল করেই কাজকর্মে যাবো, সবার জন্য এটি প্রয়োজনীয় একটি পথ।

একজন সাধারণ পথযাত্রী বলেন, আমরা এই ঘাট দিয়ে চলাচল করতে পারলে খুব ভালো হয়। বরিশাল মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহ আগের মেয়র শওকত হোসেন হিরন এর উদ্যোগে ঘাটটি সংস্কার করেছেন, যেটি আমাদের জন্য অনেক উপকারে এসেছে। নতুনভাবে সংস্কার হওয়ায় এখানে চলাচলের সুবিধা অনেক বেড়েছে।

তবে, বিআইডব্লিউটি’র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এস গ্রুপের ইঞ্জিনিয়ার আরমান জানিয়েছেন,আমরা সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ করছি, এবং আমাদের কোনো উদ্দেশ্য নেই ঘাটের ক্ষতি করার। আমরা কাজটি সম্পন্ন করার সময় সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য দুই পাশের ওয়াকওয়ে ক্লিয়ার রাখছি। পাইলিংয়ের কাজ করছি, আমাদের পর্যাপ্ত লোকবল ও সিকিউরিটি রয়েছে। আমরা নিশ্চিত করছি, ঘাটের কোনো ক্ষতি হবে না।

এদিকে, বিআইডব্লিউটি’র তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই উন্নয়নমূলক কাজটি চলাচল সহজতর করতে এবং ঘাটের নিরাপত্তা বাড়াতে করা হচ্ছে। তবে, স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এই কাজের মাধ্যমে ঘাটের জায়গা দখল হয়ে যেতে পারে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করবে।

এই ঘাটটি বরিশাল শহরের গুরুত্বপূর্ণ নৌযান চলাচলের একটি কেন্দ্রস্থল। বহু বছর ধরে এটি স্থানীয় জনগণের পারাপারের মূল পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘাটটির পাশের এলাকায় অনেক ব্যবসায়ী এবং দোকানও রয়েছে, যারা দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনা করেন। ঘাটটি কেবল বরিশালের মানুষদের জন্য নয়, ভোলার মানুষদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটটির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবসা এবং পণ্য পরিবহণ সেবাও অনেক মানুষের জীবিকা নির্বাহের সঙ্গে জড়িত।

চর কাউয়া খেয়া ঘাটের স্থিতি ও মালিকানার ব্যাপারে স্থানীয় জনগণের দাবি রয়েছে, এবং তারা এই ঘাটটির ওপর কোনো ধরনের অযথা হস্তক্ষেপ বা দখল বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন। তবে বিআইডব্লিউটির দাবি, এই কাজের উদ্দেশ্য ঘাটের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন করা, যাতে ভবিষ্যতে পরিবহন ব্যবস্থায় আরও সুবিধা হয়।

বিষয়টি এখন প্রশাসনের নজরে রয়েছে, এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং বিআইডব্লিউটি কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করার আশা করছেন স্থানীয়রা।

শাকিল সিকদার,বরিশাল অফিস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পাঁচ বিসিএসে নিয়োগ পাবে ১৮ হাজার ১৪৯ জন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পাঁচটি বিসিএসের মাধ্যমে মোট ১৮ হাজার ১৪৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান।

তিনি বলেন, এর মধ্যে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে ১২ হাজার ৭১০ জন এবং নন-ক্যাডারে ৫ হাজার ৪৩৯ জন।

রোববার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

পাঁচ বিসিএসের কোনটিতে কত নেবে…

বিসিএস ৪৩তম

৪৩তম বিসিএসে ২ হাজার ৬৪ জনের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি যোগদানের জন্য নির্ধারিত আছে। গেজেট প্রকাশের পর এই নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ায় ক্লিন ইমেজের প্রার্থী নিয়োগের স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থা- এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে অধিকতর যাচাই- বাছাই চলমান আছে।

বিসিএস ৪৪তম

৫ আগস্ট পূর্ববর্তী সময়ে বিসিএস ৪৪তম এর মৌখিক পরীক্ষা চলমান ছিল। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল ১১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৩০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে গত ২৫ আগস্ট এই মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন কমিশন গঠনের পর অধিকতর স্বচ্ছতার স্বার্থে আগের নেওয়া ৩ হাজার ৯৩০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এই বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীর অর্থাৎ ১১ হাজার ৭৩২ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নতুন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিসিএস ৪৫তম

৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১২ হাজার ৭৮৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছিল। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র প্রথম পরীক্ষক কর্তৃক মূল্যায়ন শেষে দ্বিতীয় পরীক্ষক থেকে মূল্যায়নের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে ছিল। সম্প্রতি নতুন কমিশন গঠনের পর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার স্বার্থে এই লিখিত পরীক্ষার সব উত্তরপত্র তৃতীয় পরীক্ষককে দিয়ে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিসিএস ৪৬তম

৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল গত ৯ মে প্রকাশিত হয়। এ পরীক্ষায় ১০ গাজার ৬৩৮ জন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীদের সঙ্গে সমসংখ্যক অর্থাৎ ১০ হাজার ৬৩৮ জন যোগ করে সর্বমোট ২১ বাজার ২৭৬জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচনা করে পুনরায় ফলাফল ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিসিএস ৪৭তম

৪৭তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে ৩ হাজার ৪৮৭টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে অধিযাচন পাঠানো হয়েছে।

এসএইচআর/এমএ




রাজধানীতে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে আগুন, শিশুসহ দগ্ধ ৭

রাজধানীর মিরপুরে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে সৃষ্ট আগুনে ৩ শিশুসহ দুই পরিবারের ৭ জন দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (২৪ নভেম্বর) ভোরের দিকে।

সকালে ঘটনাস্থল থেকে দগ্ধ অবস্থায় সাতজনকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছে, আব্দুল খলিল (৪০), রুমা আক্তার (৩২), আব্দুল্লাহ (১৩), মোহাম্মদ (১০), ইসমত (০৪), স্বপ্না (২৫) এবং শাহ্জাহান (৩৪)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আব্দুল খলিলের শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে, আব্দুল্লাহর ৩৮ শতাংশ এবং মোহাম্মদের ৩৫ শতাংশ দগ্ধ। এদের মধ্যে আব্দুল খলিল, আব্দুল্লাহ ও মোহাম্মদকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে, বাকি চারজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, “গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং দগ্ধদের অবস্থা সংকটজনক। আমরা তাদের চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও, কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নারায়ণগঞ্জে অ্যারোসল কারখানায় বিস্ফোরণে ১০ শ্রমিক দগ্ধ

নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট এলাকায় একটি অ্যারোসল কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। রবিবার (২৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন বিপ্লব, আরিফ, হাসান, শাওন, হোসাইন, চঞ্চল, তামজিদ, তন্ময়, নুর ইসলাম এবং আল আমিন। তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শ্রমিকরা জানান, সকালে তারা কারখানার ইউনিট ওয়ানে অ্যারোসল তৈরির কাজ করছিলেন, এমন সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর কারখানার অগ্নি নির্বাপণ কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে এর মধ্যেই ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হন।

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীর অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় আগুনে কয়েকটি বসতঘর ও কাঠের দোকান পুড়ে গেছে। রবিবার ভোরে লাগা এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালায়। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গুচ্ছে নয়, নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিতে চায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এবার নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নীতিগত প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ২৩ নভেম্বর শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক শুচিতা শরমিন বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছি ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে নেয়া যায় তার সম্পর্কে। সকলেই স্বতন্ত্রভাবে বা নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে সমর্থন করেছেন। এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তে আমরা স্বতন্ত্রভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিতে চাই। বাকি কাজগুলো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “গুচ্ছ পদ্ধতির তুলনায় স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিলে সময়ও কম লাগবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষক জানান, “গুচ্ছ পদ্ধতিতে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ৬ মাস সময় লাগতো। কিন্তু, স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা একমাস বা দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব। গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা একবারই সুযোগ পেত। তবে, নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবেন, যা তাদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ বাড়াবে। এজন্য সেশনজটসহ অন্যান্য সমস্যা কমাতে আমরা একমত।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানি মারুফ বলেন, “গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিলে এসব বিড়ম্বনা কম হবে। নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিলে সময়ও কম লাগে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা-তাণ্ডবে নিহত আরও ২১

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবারপাখতুনখাওয়া প্রদেশে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও তাণ্ডবে কমপক্ষে আরও ২১ জন নিহত হয়েছেন। প্রদেশটির কুররাম জেলায় রাতের আঁধারে সংঘাত, অগ্নিসংযোগ এবং বন্দুকযুদ্ধে তারা প্রাণ হারান।

মূলত দেশটির এই প্রদেশে শিয়া যাত্রীবাহী গাড়িতে বন্দুকধারীদের হামলায় ৪৩ জনের প্রাণহানির পর নতুন সহিংসতায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। এতে করে গত তিন দিনের সহিংসতায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৬৪ জনে পৌঁছেছে।

রোববার (২৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, শনিবার এই সহিংসতার ঘটনার সময় প্রাদেশিক আইনমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মুখ্য সচিব এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশটির অশান্ত ওই জেলায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাতের সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গুলিবর্ষণ করে, সরকারি বিভিন্ন ভবনে ভাংচুর করে, মার্কেটে দোকানপাট লুট করে এবং চেকপয়েন্ট, বাড়ি ও দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়।




ম্যানেজ করেই’ ২ স্বামীর সংসার করছিলেন জান্নাতুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ‘ এ যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে করতেই বসেন দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে।

অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি দুই স্বামীর কাউকেই। গোপনে মন জয় করে চলেছিলেন দুই স্বামীরই।

প্রায় দুই বছর দুই স্বামীর সংসার করার পর অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ২৭ অক্টোবর নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করেন রাজবাড়ী সদরের আলীপুর ইউনিয়নের ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের আবু হানিফ শেখের ছেলে ইউটিউবার সাগর শেখ ও আলীপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস।

বাবা, মা ও ভাই প্রবাসে থাকায় বাবার বাড়িতে একাই থাকতেন জান্নাতুল। সেখানে যাতায়াত করতেন স্বামী সাগর শেখ।

সংসার জীবন ভালোই চলছিল এ দম্পতির।
হঠাৎ জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় শ্বশুরবাড়ি যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় সাগরের। এরই মধ্যে প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে পরিবারের সিদ্ধান্তে অন্য এক যুবককে দ্বিতীয় বিয়ে করেন জান্নাতুল।

এদিকে স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বাড়িতে তুলে না নেওয়ায় শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটান জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী।

প্রথম স্বামী সাগরের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে তার সঙ্গেও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ঠিক রেখে চলছিলেন জান্নাতুল। স্ত্রীর পরিবার তাকে মেনে না নেওয়ায় তার বোনের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে একান্তে সময় কাটাতেন তারা। চলতি মাসের ২ নভেম্বর তারা একসঙ্গে নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকী পালন করেছেন বলেও দাবি করেন সাগর।

তবে দুই সপ্তাহ আগে স্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় স্বামীর ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জানতে পারেন সাগর। আর এতেই বাঁধে বিপত্তি। তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন জান্নাতুল। এখন দ্বিতীয় স্বামী নিয়েই সংসার করতে আগ্রহী তিনি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি আদালতে মামলা করেছেন সাগর।

সাগর শেখ বলেন, জান্নাতুল ও আমার বিয়ের বিষয়টি জান্নাতুলের মা ও বোন জানতো। বিয়ের পর আমাদের সংসার জীবন ভালোই কাটছিল। তবে হঠাৎ করে জান্নাতুলের বাবা প্রবাস থেকে দেশে ফেরায় তাদের বাড়িতে আমার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের বিয়ের চার মাসের মাথায় আমি ভিডিও কন্টেন্ট তৈরির কাজে কয়েকদিনের জন্য রাজবাড়ীর বাইরে যাই। কাজ থেকে এসে শুনি আমার স্ত্রী জান্নাতুল অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করেছে। আমি আমার স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘পরিবারের চাপে বিয়ে করেছি। ওই ছেলের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক হয়নি। আমি তোমার স্ত্রী আছি, তোমারই থাকব। আমার আম্মু দেশে ফিরলে আমি তোমার কাছে চলে আসব। ’

সাগর বলেন, আমি জান্নাতুলদের বাড়ি যাতায়াত করতে না পারার কারণে বিভিন্ন সময় আমরা রাজবাড়ী শহরে আমার বোনের বাসায় ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতাম। ওকে কলেজে আনা-নেওয়াসহ সবকিছু আমিই করতাম। এমনকি গত ২ নভেম্বরও আমরা আমার বোনের বাসায় আমাদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী পালন করেছি। তবে বিবাহবার্ষিকী পালনের দুইদিন পরে আমি জানতে পারি জান্নাতুলের সাথে ওই ছেলের (দ্বিতীয় স্বামীর) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চলছে। ওই ছেলে নিয়মিত জান্নাতুলের বাবার বাড়িতে এসে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি জান্নাতুলকে প্রশ্ন করলে সে আমাকে গালাগালি করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে সে আমার সঙ্গে সংসার করবে না বলেও জানায়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জান্নাতুলের মা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছে। তিনিও এখন আমাকে মেয়ের জামাই হিসেবে অস্বীকার করছে। অথচ তার মেয়ের সাথে আমার প্রেম থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত সবকিছুই তিনি জানতেন। এখন বাধ্য হয়ে আমি আমার স্ত্রীকে ফিরে পেতে আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে গত ১১ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া ১৭ নভেম্বর রাজবাড়ীর বিজ্ঞ ১নং আমলি আদালতে মামলা করেছি।

সাগর আরও বলেন, আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করে আমার সাথে প্রতারণা করেছে জান্নাতুল। সে আমাকেও ম্যানেজ করে চলেছে, একইভাবে তার দ্বিতীয় স্বামীকেও ম্যানেজ করে চলেছে। এটা আইন ও ধর্মীয় দুই দিক থেকেই অপরাধ। এছাড়া আমি এ পর্যন্ত আমার স্ত্রীর পেছনে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। তারপরও আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই। তাকে আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামী। তবে তার দাবি, জান্নাতুলের সঙ্গে সাগরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে তিনি জানতেন। সাগরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি তিনি জানতেন না।

জান্নাতুলের দ্বিতীয় স্বামীর বাবা বলেন, কোনো এক সূত্রে আমার শ্বশুর জান্নাতুলদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তাকে পছন্দ করে। পরে আমি গিয়ে তার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বিয়ের দিন ধার্য হয়। বিয়ের আগের দিন সাগর নামে এক ছেলে আমার ছেলেকে ফোন করে বলে জান্নাতুলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে। সে জান্নাতুলের সাথে নিজের একটি ছবিও আমার ছেলেকে পাঠায়। এরপর আমি ওই এলাকায় আমার আত্মীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি জান্নাতুলের সাথে সাগরের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এছাড়া জান্নাতুলকেও আমি সরাসরি প্রশ্ন করলে সেও সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে ঘরোয়া আয়োজনে জান্নাতুলের সাথে আমার ছেলের বিয়ে হয়। এখন সাগর নামে ছেলেটি জান্নাতুলকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবি করছে। আমি যতদূর জেনেছি সাগরের স্ত্রী ও সন্তান আছে। এখন বিষয়টি আইনগতভাবেই সমাধান হবে।

আর জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে কথা বলতে তার বাবার বাড়িতে গেলে ভেতরে ঢোকার অনুমতি মেলেনি। বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তার মা হাসিনা বেগম বলেন, সাগরের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল৷ তবে বিয়ের দুই মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমার মেয়ে তো ছোট বুঝে নাই, যে কারণে সেসময় ওরা ডিভোর্সের কাগজ ছিড়ে ফেলেছে। এর ৪/৫ মাস পরে আমার মেয়ের আবার বিয়ে হয়েছে। সাগর আমার মেয়েকে চাপে ফেলে এতোদিন তার সাথে সময় কাটাতে বাধ্য করেছে।

আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বক্কার ছিদ্দিক জানান, সাগর ও জান্নাতুলের বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তার নোটিশের একটি কপি ইউনিয়ন পরিষদে আসার কথা। এরকম কোনো কপি কখনো পাননি তারা।

তিনি বলেন, সাগর আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছে। আমিও খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি সাগর জান্নাতুলের প্রথম স্বামী। সে সাগরকে তালাক না দিয়েই সাগরের সাথে বিয়ের চার মাসের মাথায় অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করে। প্রায় দুই বছর সে চালাকি করে দুই স্বামীর সঙ্গেই সংসার করেছে। সাগরের কাছ থেকে জান্নাতুল অনেক টাকা-পয়সা নিয়েছে বলেও আমি জানতে পেরেছি। সাগরের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি জান্নাতুলের বাবাকে নোটিশের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকি। তবে নোটিশ পেয়ে তিনি তার ছোটভাই ও তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামকে সাথে নিয়ে আমার বাড়িতে এসে বলেন, আমি যেন পরিষদে বসে বিষয়টি সমাধান করে দিই। তবে এর ১/২ দিন পরে তিনি জানান, এ বিষয়ে তারা বসতে চান না।
আইনগতভাবে তারা বিষয়টি সমাধান করতে চান। পরে আবার তারা বসতে সম্মত হলে জান্নাতুল ও তার বাবা এবং তাদের এলাকার ইউপি সদস্য আবুল কালামসহ পরিষদের অন্য সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদে বসেছিলাম। সাগরও সেখানে ছিল। তবে সেখানে জান্নাতুল বলে দিয়েছে সে কোনোভাবেই সাগরের সাথে সংসার করবে না।




৪৫০ রানে ইনিংস ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:২০১৪ সালে ঘরের মাঠ সেন্ট ভিনসেন্টে বাংলাদেশের বিপক্ষেই ৪৮৪ রান করে ইনিংস ছেড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গেল ১০ বছরে নিজেদের মাটিতে যা দলীয় সর্বোচ্চ রান হয়ে আছে। এবার সেই বাংলাদেশের বিপক্ষেই আবারও চারশোর বেশি পুঁজি। এবার অবশ্য ৪৫০ রান করেই ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দিয়েছে স্বাগতিক দল।

৫ উইকেটে ২৫০ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে মাত্র ১১ রান যোগ করতেই হারিয়ে ফেলেছিল আরও ২ উইকেট। এরপরের গল্পটা স্বাগতিকদের দাপটের। বাংলাদেশকে হতাশ করে ৯ উইকেটে ৪৫০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।




বৃহস্পতির চাঁদে জীবনের খোঁজে নাসার বিশেষ রোবট

বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপায় জীবনের খোঁজে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এ লক্ষ্যে নাসা ক্ষুদ্রাকৃতির একটি রোবট তৈরি করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে সুইম। পানির নিচে পরীক্ষার মধ্য দিয়ে রোবটটি ভবিষ্যতে বহির্জাগতিক প্রাণের সন্ধান করবে।

সুইমের পূর্ণরূপ হলো সেন্সিং উইথ ইনডিপেনডেন্ট মাইক্রো-সুইমার্স। মুঠোফোন আকারের এই রোবট ঝাঁক একসঙ্গে কাজ করে মহাসাগরের বরফের নিচে অনুসন্ধান চালাতে সক্ষম। নাসার লক্ষ্য, এই রোবট দিয়ে বৃহস্পতির চাঁদ ইউরোপার পৃষ্ঠের ঘন বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা সম্ভাব্য প্রাণের খোঁজ করা।

নাসা ইতোমধ্যে ইউরোপা ক্লিপার নভোযান পাঠিয়েছে, যা ২০৩০ সালে ইউরোপায় পৌঁছাবে। ইউরোপার মহাসাগরের রাসায়নিক গঠন, তাপমাত্রা এবং চাপ বিশ্লেষণ করে প্রাণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত খুঁজবে এটি। সুইম রোবট এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে।

নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী ইথান শ্যালারের মতে, “জীবনের জন্য পানির প্রয়োজন। আমাদের এমন রোবট দরকার যা আমাদের থেকে কয়েক মিলিয়ন মাইল দূরে অনুসন্ধান চালাতে পারে।” বর্তমানে সুইম রোবটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৫ ইঞ্চি হলেও ভবিষ্যতে এটি ৫ ইঞ্চিতে পরিণত করা হবে।

এই রোবট উন্নত সেন্সরের সাহায্যে তাপমাত্রা, চাপ ও রাসায়নিক পরিবর্তন পরিমাপ করতে পারবে। বরফের নিচে কাজ করার উপযোগী অপারেশনাল অ্যালগরিদম ও স্বায়ত্তশাসিত কার্যক্ষমতা রয়েছে এতে।

সুইম রোবট শুধু মহাকাশ গবেষণাতেই নয়, পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে বরফের নিচে কাজ করতেও সক্ষম। প্রকৌশলীরা মনে করছেন, এই রোবট পৃথিবীতে গবেষণা ও পরিবেশ সংরক্ষণের নতুন দিক উন্মোচন করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম