পটুয়াখালী-আমতলী-কুয়াকাটায় হাইওয়ে থানার দাবী

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রুট পটুয়াখালী-আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও শত শত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক হিসেবে পরিচিত। বরগুনা জেলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এই রুটে বর্তমানে কোনো হাইওয়ে থানা না থাকায় যাত্রী ও চালকদের জন্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সড়কটি নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রায়ই দুর্ঘটনা, যানজট, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে, কিন্তু দ্রুত উদ্ধার বা চিকিৎসার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রাণহানি ও ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক, যাত্রী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই রুটে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানার দাবি উঠেছে। হাইওয়ে থানা স্থাপন হলে স্পিডগান, উদ্ধার সরঞ্জাম, রেকার ও পর্যাপ্ত যানবাহনসহ জরুরি সেবাগুলো সহজলভ্য হবে। এর ফলে অপরাধ দমন, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা রোধ সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই পদক্ষেপ দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করবে।

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক বরিশাল জোনের আওতাভুক্ত। এই জোনে ১,৬০৩.৯৪ কিমি সড়ক রয়েছে, যার মধ্যে ৩টি জাতীয়, ৭টি আঞ্চলিক ও ৬১টি জেলা মহাসড়ক অন্তর্ভুক্ত। তবে এত বড় রুটের মধ্যে মাত্র ৩২ কিলোমিটার সড়কই হাইওয়ে পুলিশের আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী থেকে আমতলী পর্যন্ত ৩৭ কিমি এবং আমতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৪৭ কিমি সড়কে নেই কোনো হাইওয়ে থানা, পর্যাপ্ত গাড়ি, রেকার বা দ্রুত পৌঁছানোর মতো যানবাহন। ফলে প্রায় ৯৮ শতাংশ সড়ক হাইওয়ে পুলিশের নজরদারির বাইরে রয়েছে।

বরিশাল বিভাগে দুটি সড়ক সার্কেল রয়েছে—বরিশাল সার্কেল ও পটুয়াখালী সার্কেল। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও ভোলা মিলে বরিশাল সার্কেল এবং পটুয়াখালী ও বরগুনা মিলে পটুয়াখালী সার্কেল গঠিত। দুটি সার্কেলের মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১২৭.৯৮ কিমি, আঞ্চলিক মহাসড়ক ২৯০.৯ কিমি এবং জেলা মহাসড়ক ১,১৮৫.৯১ কিমি।

সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে পটুয়াখালী-আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা স্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৬ কোটি টাকা ব্যয়েও সংযোগহীন, ব্যবহারের অযোগ্য সেতু

বরগুনার বেতাগী ও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সীমান্তে জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এখন জনগণের ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৬ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৭ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গার্ডার সেতু দুই বছর ধরে সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

২০২১-২২ অর্থবছরে জলিশাবাজার সংলগ্ন বেড়েরধন নদীর ওপর এই সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় ‘এনায়েত এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় সেতুটি পরিণত হয়েছে ‘শূন্যে ঝুলন্ত স্থাপনায়’।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি মূল সড়ক থেকে প্রায় ১৩ ফুট উঁচুতে নির্মিত এবং এক প্রান্ত গিয়ে ঠেকেছে একটি বাড়ির ছাদের সঙ্গে। এর ফলে স্থানীয়রা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ একটি পুরোনো কাঠের সাঁকো ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং রোগীবাহী যানবাহনও এই সাঁকোর মাধ্যমে চলাচল করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল মিয়া বলেন, “এই ব্রিজ আমাদের কোনো কাজে আসছে না, কেবল কাগজে-কলমে আছে। এখন এটি এলাকার হাস্যরসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
স্কুলছাত্রীরাও অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে গিয়ে তাদের দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকতে হয়।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন ফরাজী বলেন, “প্রয়োজনীয় এই সেতু অকেজো হয়ে পড়ে থাকা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, তবুও কোনো অগ্রগতি হয়নি।”

মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, “নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্ষা শেষে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তবে দুই বছর ধরে কাজ ফেলে রাখা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা ব্যয়ের অতিরিক্ত দায় কে নেবে—এ বিষয়ে এলজিইডি সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেনি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, “জনগণের অর্থের এই অপচয়ের দায় কে নেবে? আর কতকাল একটি শূন্যে ঝুলে থাকা সেতুর বোঝা আমাদের বয়ে নিতে হবে?”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আমতলীতে ইউএনও’র বিরুদ্ধে অপপ্রচারে রাজনৈতিক দলের মানববন্ধন

বরগুনার আমতলী উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনটি বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় আমতলী উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি একটি মহলের সহযোগিতায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে “আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন” শিরোনামের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইউএনও কখনো আমতলীতে আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তারা দাবি করেন, কুচক্রি মহল ইউএনও’র যোগদানের এক সপ্তাহ পূর্বের ছবি ব্যবহার করে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ইউএনও ৬ এপ্রিল তার মাকে ঢাকার পথে পাঠানোর সময় একটি হোটেলে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে চায়ের জন্য বসেছিলেন। সেখানে স্থানীয় একজন ব্যক্তি কুশল বিনিময় করতে আসেন এবং ছবি তোলা হয়। পরে স্বার্থান্বেষী মহল এটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়াও ঝালকাঠিতে কর্মরত একজন সরকারি কর্মকর্তার পারিবারিক ছবিও বিকৃতভাবে ব্যবহার করে বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন:

  • শহিদুল ইসলাম মিরাজ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, আমতলী উপজেলা শাখা সদস্য সচিব ও আহবায়ক
  • জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি
  • ফিরোজ খান তাপস, যুবদল নেতা ও আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
  • ইসা সাইদি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের যুব আন্দোলন, আমতলী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক
  • শামসুল হক, উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক কাউন্সিলার
  • জালাল আহম্মেদ খান, পৌর বিএনপি সদস্য সচিব
  • তুহিন মৃধা, উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব

ইউএনও মো. রোকনুজ্জামান খান জানান, “কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পারিবারিক ভ্রমনের সময় একটি সরকারি কর্মকর্তার পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। সংবাদে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমতলী উপজেলা প্রশাসনকে বিব্রত করার উদ্দেশ্য প্রণোদিত এই সংবাদ প্রচার হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, তিনি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিকে চেনেন না এবং কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সাক্ষাৎ করেননি। তিনি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় যৌথবাহিনীর তল্লাশি অভিযান, ৪২ হাজার টাকা জরিমানা

বরগুনার আমতলী পৌরসভায় যৌথবাহিনী সড়ক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশেষ চেকপোস্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১১টি মামলায় মোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আমতলী উপজেলার সৈকত ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন পটুয়াখালী–কুয়াকাটা মহাসড়কে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট হোসেন মোহাম্মদ বিল্লাল। তার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের সেনা দলের পাশাপাশি আমতলী থানা পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি টিম অংশ নেয়।

চেকপোস্ট চলাকালীন সময়ে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, সিএনজি, মাহিন্দ্রা, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের হেলমেট, কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করা হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয় এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা হয়।

অভিযানে মোট ৯০টি মোটরসাইকেল, ২৩টি বাস, ১০টি প্রাইভেটকার, ১২টি ট্রাক, ১০টি মাইক্রোবাস, ১৫টি সিএনজি এবং নয়টি মাহিন্দ্রা যাচাই করা হয়।
এর মধ্যে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ১১টি মামলায় জরিমানা করা হয় এবং দুটি মোটরসাইকেল, একটি সিএনজি ও একটি মাহিন্দ্রা জব্দ করা হয়।

লেফটেন্যান্ট হোসেন মোহাম্মদ বিল্লাল বলেন, “চালকদের মধ্যে সড়ক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও অপরাধ দমনই আমাদের মূল লক্ষ্য। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরফ্যাশনে প্রধান সড়ক হকার ও যানবাহনের দখলে, চরম ভোগান্তিতে জনতা

ভোলার চরফ্যাশন পৌর শহরের প্রধান সড়কটি বর্তমানে হকার ও যানবাহনের দখলে পরিণত হয়েছে। সড়কের দুই পাশে অস্থায়ী দোকান, যত্রতত্র পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে দিনভর তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, রোগী ও সাধারণ জনগণ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর ২০২৫) সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা পরিষদ মার্কেট থেকে আধুনিক হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে অবৈধভাবে পার্ক করা হয়েছে অটোরিকশা ও সিএনজি। ফুটপাত তো বটেই, রাস্তায়ও বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকানপাট। কেউ ফল বিক্রি করছে, কেউ চা বা খাবারের দোকান বসিয়েছে। ফলে যানবাহনের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হকাররা জানান, তারা নিম্ন আয়ের মানুষ। নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় জীবিকার তাগিদে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ব্যবসা করছেন। তাদের দাবি, পৌরসভা যেন একটি নির্দিষ্ট হকার জোন তৈরি করে দেয়, যাতে তারা সড়কের জায়গা দখল না করে ব্যবসা চালাতে পারেন।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যানজটের কারণে প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন না, শিক্ষার্থীরাও স্কুলে দেরি করে পৌঁছায়। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীরা। হাসপাতালগামী অ্যাম্বুলেন্স বা প্রাইভেট গাড়ি দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় অনেক সময় রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সিদ্দিক বলেন, “হকারদের কারণে দোকানের সামনের জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। এতে ক্রেতারা দোকানে ঢুকতে পারে না, ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।”

অটোরিকশা চালক ইব্রাহিম জানান, “আমাদের জন্য নির্ধারিত পার্কিং স্পট থাকলেও যাত্রী না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাজারের মধ্যে গাড়ি পার্ক করি।”

পৌর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন ইতোপূর্বে যানজট নিরসনে অভিযান পরিচালনা করলেও বর্তমানে তা থেমে গেছে। নির্ধারিত স্থানে যানবাহন পার্ক না করা এবং হকারদের পুনরায় সড়ক দখল করায় পরিস্থিতি আবারও সংকটজনক হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রাসনা শারমিন মিথি বলেন, “প্রধান সড়কের দুই পাশ হকার ও যানবাহনের দখলে রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। যানজট নিরসনে আবারও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, হকার ও যানবাহনের জন্য নির্ধারিত স্থানে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শহরের যানজট অনেকাংশে কমে যাবে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় ৯০ বছরের মায়ের আশ্রয় এখন গোয়াল ঘরে

ভোলার চরফ্যাশনের এক বৃদ্ধা মায়ের জীবন এখন দুঃখের প্রতীক। বয়স ৯০ বছর, নাম ফজলেতুন নেসা। এক সময় ছিলেন সংসারের আলো, এখন আশ্রয় নিয়েছেন গরু রাখার গোয়াল ঘরে। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে থাকা সত্ত্বেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সন্তানদের ঘরে তার ঠাঁই হয়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসতলা গ্রামে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী খলিল মোকাম্মেলের মৃত্যুর পর নিজের নামে থাকা প্রায় তিন শতাংশ জমি তিন ছেলের নামে দলিল করে দেন ফজলেতুন নেসা। কিন্তু সেই দলিলের পর থেকেই শুরু হয় তার দুর্ভোগের জীবন। একে একে ছেলেদের ঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন একটি গোয়াল ঘরে।

প্রতিবেশীরা জানান, এখন ফজলেতুন নেসা হাঁটাচলাও করতে পারেন না। দিনের বেলায় রোদে পুড়েন, রাতে ঠাণ্ডায় কাঁপেন। অথচ পাশের ঘরেই তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে আরাম-আয়েশে জীবন কাটাচ্ছেন। গ্রামের যুবক আরিফ বলেন, “আমরা বারবার ছেলেদের বলেছি মাকে অন্তত একটু জায়গা দিতে, কিন্তু কেউই রাজি হয়নি। এখন গ্রামের মানুষই তাকে মাঝে মাঝে খাবার দিয়ে সাহায্য করে।”

এওয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু ফয়েজ জানান,“এভাবে কোনো মা যদি নিজের সন্তানদের ঘরে ঠাঁই না পান, তাহলে সমাজে মানবিকতা কোথায় টিকবে? আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি, প্রয়োজনে সমাজসেবা অফিসেও জানানো হবে।”

বর্তমানে গোয়াল ঘরের এক কোণে পুরোনো কাপড় দিয়ে ঘেরা জায়গায় দিন কাটছে ফজলেতুন নেসার। মাথার ওপর ফুটো টিন, নিচে ভেজা মাটি। জীবনের এই কঠিন সময়েও তিনি কারও প্রতি অভিযোগ না করে চুপচাপ সহ্য করছেন সব কিছু।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন এই অসহায় মায়ের জন্য একটি মানবিক আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৮৩ পদে নিয়োগ

সরকারি চাকরির প্রত্যাশীদের জন্য সুখবর। বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও এর অধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের কার্যালয়সহ বরিশাল সার্কিট হাউসে ৮৩টি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সব পদই ২০তম গ্রেডভুক্ত। আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী ৩০ অক্টোবর এবং চলবে ২৯ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।

প্রার্থীদের শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ডাকযোগে বা সরাসরি জমা দেওয়া আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পদ ও যোগ্যতা:
১️⃣ অফিস সহায়ক: পদসংখ্যা ৩৩টি।
👉 যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পাস।

২️⃣ নিরাপত্তা প্রহরী: পদসংখ্যা ২৬টি।
👉 যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পাস এবং শারীরিকভাবে সুস্থ।

৩️⃣ পরিচ্ছন্নতা কর্মী: পদসংখ্যা ১৬টি।
👉 যোগ্যতা: জেএসসি বা সমমান পাস। এই পদের ৮০% কোটা জাত হরিজন প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

৪️⃣ মালি: পদসংখ্যা ১টি।
👉 যোগ্যতা: জেএসসি বা সমমান পাস।

৫️⃣ বেয়ারা (সার্কিট হাউস): পদসংখ্যা ৩টি।
👉 যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পাস।

৬️⃣ বাবুর্চি (সার্কিট হাউস): পদসংখ্যা ১টি।
👉 যোগ্যতা: জেএসসি বা সমমান পাস এবং রান্নায় অন্তত ৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৭️⃣ নিরাপত্তা প্রহরী (সার্কিট হাউস): পদসংখ্যা ৩টি।
👉 যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পাস এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে।

বয়সসীমা:
১৮ থেকে ৩২ বছর পর্যন্ত প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

বেতনস্কেল:
সকল পদে বেতন ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)।

আবেদনের নিয়ম:
আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। আবেদন ফি ৫০ টাকা এবং টেলিটক সার্ভিস চার্জসহ মোট ৫৬ টাকা আবেদন জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

সময়সীমা:
🟢 আবেদন শুরু: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ সকাল ১০টা
🔴 আবেদন শেষ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ বিকেল ৫টা

এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বরিশাল অঞ্চলের তরুণদের জন্য সরকারি চাকরির একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মহিপুরে বরফ কল থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে ২০ জন অসুস্থ

পটুয়াখালীর মহিপুরে গাজী আইস প্ল্যান্ট নামে একটি বরফ কলের কর্নেসার পাইপ ফেটে ভয়াবহ অ্যামোনিয়া গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) রাত দুইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ বরফ কলের কর্নেসার পাইপে লিকেজ হলে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের এলাকায় তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বরফ কলের ভেতরে ও আশপাশে থাকা শ্রমিক ও জেলেরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৫ জন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতে হঠাৎ তীব্র গ্যাসের গন্ধে অনেকেই ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। বাতাসে গ্যাসের প্রভাবে চোখ ও গলা জ্বালাপোড়া করতে থাকে। তারা আরও বলেন, বরফ কলের যন্ত্রপাতি পুরনো হয়ে যাওয়ায় এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবুল হোসেন বলেন, “অ্যামোনিয়া গ্যাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে শ্বাসনালীতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে এবং জীবনহানির আশঙ্কাও থাকে। আমরা খবর পেয়ে দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। এর আগেও মহিপুর ও আশেপাশের কয়েকটি বরফ কলে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, অ্যামোনিয়া গ্যাস বরফ তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এসব দুর্ঘটনা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তন ও সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত বরফ কলগুলোর নিরাপত্তা পরিদর্শন ও গ্যাস লিকেজ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনার হাসপাতালে তিন চিকিৎসকে ভরসা দুই লাখ মানুষের

পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের চরবেষ্টিত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এমনকি অনেককে বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।

২০০৮ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয় এই হাসপাতালটি। কিন্তু শয্যা বাড়লেও বাড়েনি চিকিৎসক ও জনবল। ২০০৮ সালের জনবল দিয়েই এখনো চলছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম। স্বাস্থ্যসেবার এই অব্যবস্থাপনায় বিপুল জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে থাকা হাসপাতালটি আজ নিজেই পরিণত হয়েছে সংকটকেন্দ্রে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে মোট ২২ জন চিকিৎসকের থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া গাইনি, সার্জারি, মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিশেষজ্ঞ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ঘাটতিও প্রকট। ৬০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ২২ জন। ফলে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

সরঞ্জামের অবস্থাও করুণ। হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিকল, এক্স-রে মেশিনও কার্যত অচল। অপারেশন থিয়েটারসহ অনেক যন্ত্রপাতি অকার্যকর থাকায় সেবা প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে একদিকে যেমন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে বেসরকারি চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মইনুল ইসলাম বলেন,

“দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও কর্মচারীর অভাবে আমরা সংকটে রয়েছি। বিশেষ করে টেকনিশিয়ানের ঘাটতির কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন,

“উপজেলাগুলোর সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই চিকিৎসক সংকট দেখা দেয়। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করেছি। আশা করছি খুব দ্রুতই নতুন চিকিৎসক নিয়োগ পেলে এই সংকট কেটে যাবে।”

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন অনেক গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও শিশু চিকিৎসা নিতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যান। সরকারি হাসপাতালের অবস্থা এমন থাকলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয় উচ্চমূল্যের বেসরকারি চিকিৎসার দিকে ঝুঁকতে।

দশমিনার মানুষ এখন একটাই দাবি জানাচ্ছে—“আমরা চিকিৎসক চাই, হাসপাতাল সচল হোক।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চিংগরিয়া খাল উদ্ধারে জোর দাবিতে মাঠে প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীরা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত চিংগরিয়া খাল আজ দখল, ভরাট ও শ্রেণি পরিবর্তনের শিকার হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় আদালতের রুলের পর এখন আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি শুরু হয়েছে স্থানীয়দের সামাজিক আন্দোলন। পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সমন্বয়ে।

সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, খাল হিসেবে নিবন্ধিত জমি পরবর্তীতে ‘নাল’ শ্রেণিতে পরিবর্তন করে কয়েকটি সেটেলমেন্ট কেসের (৮২-কে/৮০-৮১, ৯০-কে/৮৬-৮৭, ৭৭৯-কে/৮৬-৮৭ ও ৭৭৭-কে/৮৬-৮৭) মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় বন্দোবস্ত করা হয়। এরপর বাঁধ নির্মাণ, মাছ চাষ ও স্থাপনা তৈরির কারণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ৪০ থেকে ৬০ ফুট প্রশস্ত খালটি সংকুচিত হয়ে মাত্র ১০ থেকে ২০ ফুটে নেমে এসেছে।

এই কারণে বর্ষাকালে কলাপাড়া পৌর এলাকা ও আশপাশের শত শত একর জমি পানিবন্দি থাকে। জলাবদ্ধতায় কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে ফসলি জমিতে, এবং পৌরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

পরিবেশ সংরক্ষণে বেলার উদ্যোগে ২০২৩ সালে রিট পিটিশন (নং ১৪৭২৯/২০২৩) দায়ের করা হয়। এতে আদালত জানতে চান—কেন ৫.৪৬ একর খালভূমি উদ্ধারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না এবং ‘নাল’ শ্রেণিতে রূপান্তর কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি, আদালত ছয় মাসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এই মামলার পর থেকে এলাকায় শুরু হয় ব্যাপক গণআন্দোলন। বেলার সহায়তায় স্থানীয়রা মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান অব্যাহত রাখেন। এর প্রভাবে সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন কিছু অংশে বাঁধ কেটে দেয়ায় খালের পানির প্রবাহ অনেকটাই ফিরে এসেছে।

তবে এলাকাবাসী দাবি করছে—চিংগরিয়া খালের পূর্ণ উন্মুক্তকরণ, অবৈধ লীজ বাতিল এবং উৎসমুখে স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি। তারা আরও বলেছে, সব খালের সীমা নির্ধারণ করে বাঁধ ও স্থাপনা সরিয়ে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে, পাশাপাশি খাল খনন, বনায়ন ও দেশীয় মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই দাবিগুলো সামনে রেখে ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে কলাপাড়া উপজেলা সম্মেলন কক্ষে বেলার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় উপকারভোগী সমন্বয় সভা। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব কাউছার হামিদ, সভাপতিত্ব করেন পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক মেজবাহ উদ্দিন মান্নু। বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী জনাব লিঙ্কন বায়েন স্বাগত বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সভায় ইউএনও বলেন, “আমরা আইন মেনে কাজ করি। আদালতের নির্দেশই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কেউ যেন সরকারি খাল বা নদী দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।”
অন্যদিকে পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মান্নু বলেন, “খাল দখল রোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে না নেমে এই নদীখাল রক্ষা সম্ভব নয়।”

বেলার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও খালের প্রাকৃতিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে আইনগত সহায়তা এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

খাল দখলমুক্ত হয়ে প্রবাহ ফিরে এলে কলাপাড়া পৌর এলাকা আবারও বাঁচবে জলাবদ্ধতা থেকে, আর মানুষের জীবনে ফিরবে স্বস্তি ও নিরাপত্তা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম