পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপিতে বড় ধাক্কা, দুই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত

পটুয়াখালী-৩ আসনের রাজনীতিতে বড় ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অবিলম্বে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দেওয়ার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একাংশ অনাগ্রহ দেখায়। মাঠপর্যায়ে নুরুল হক নুরের পক্ষে প্রত্যাশিত সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়।

একই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর তার পক্ষে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও কেন্দ্রীয় নজরে আসে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন ভূমিকা রাখাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এর আগে বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে নুরুল হক নুরের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় দল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তার সঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তার দাবি, সিদ্ধান্ত নিতে কেন্দ্র কিছুটা দেরি করেছে। তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই এবং তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সঙ্গেই থাকবেন।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তির চিঠি তারা হাতে পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পটুয়াখালী-৩ আসনে এই সিদ্ধান্ত বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় বার্তা দিচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান দেখিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচনি কৌশলে ভিন্নমত বা দ্বিমুখী ভূমিকার সুযোগ নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটার সৈকতে ফের ভেসে এলো মৃত ডলফিন

পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে আবারও একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার সকালে সৈকতের পশ্চিম পাশের স্বপ্নরাজ্য পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির এক সদস্য।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করেন। পরে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপকূল, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি এবং কুয়াকাটা পৌরসভার সমন্বয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় ডলফিনটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া উঠে গিয়েছিল এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। তাদের ধারণা, ডলফিনটি অন্তত একদিন আগেই মারা গেছে এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে তীরে এসেছে।

পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন উপকূলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ডলফিনটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। শরীরের অধিকাংশ চামড়া উঠে যাওয়ায় কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ ধরনের ঘটনা উপকূলের পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অশনিসংকেত।

ডলফিন সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলজুড়ে ডলফিন রক্ষায় তারা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বছরে কুয়াকাটায় এটি প্রথম মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা হলেও অতীতের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। তিনি বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডলফিন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান জরুরি।

এ বিষয়ে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা একেএম মনিরুজ্জামান জানান, দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়ানোর জন্য দ্রুত ডলফিনটির মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলে একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি এবং ২০২৫ সালে ১১টি মৃত ডলফিন উপকূলে পাওয়া যায়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসেও চর-গঙ্গামতি এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরপর দুটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল।

পরিবেশবিদদের মতে, জাল পেঁচানো, নৌযান চলাচল, শব্দদূষণ কিংবা সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণেও ডলফিনের মৃত্যু হতে পারে। তবে নিয়মিত ময়নাতদন্ত বা বৈজ্ঞানিক গবেষণা না হওয়ায় এখনো এসব মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে উপকূলবাসীর মধ্যে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটের আগে কাবা ঘরে বাউফলবাসীর জন্য দোয়া ড. মাসুদের

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্যপ্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভোটের মাঠে নামার আগে পবিত্র ওমরা পালন করেছেন। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে ওমরা আদায় শেষে তিনি বাউফল উপজেলার মানুষের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন।

শুক্রবার পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে বাউফল উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের জন্য দোয়া করেন ড. মাসুদ। এ সময় তিনি দেশ ও জাতির মঙ্গল, ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্যও প্রার্থনা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ওমরা পালনকালে তিনি বিশেষভাবে বাউফলের সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, সামাজিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দ্বীনি পরিবেশ সুদৃঢ় করার জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি সামনে যে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেখানে যেন তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকতে পারেন—সে জন্যও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

ভোটের আগে একজন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম প্রার্থীর পবিত্র ওমরা পালনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বাউফল উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, নেতৃত্বে আল্লাহভীরু ও নৈতিক মানুষ এলে এলাকার সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

বাউফল পৌর এলাকার একাধিক মুসল্লি ও স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, ভোটের আগে ড. মাসুদের ওমরা পালন তাদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। তারা মনে করছেন, একজন দ্বীনদার ও শিক্ষিত মানুষ জনপ্রতিনিধি হলে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।

নাজিরপুর ইউনিয়নের এক মসজিদের খতিব বলেন, কাবা ঘরে দাঁড়িয়ে বাউফলবাসীর জন্য দোয়া করা নিঃসন্দেহে একটি বরকতময় ঘটনা। এতে এলাকার মানুষের জন্য কল্যাণ নেমে আসবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।

এদিকে কলাইয়া ইউনিয়নের কয়েকজন তরুণ মুসল্লি বলেন, ড. মাসুদ রাজনীতির পাশাপাশি নৈতিকতা ও দ্বীনের কথা বলেন। ভোটের আগে ওমরা পালন করে তিনি দেখিয়েছেন যে ক্ষমতার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের আশা, পবিত্র ভূমি থেকে করা এই দোয়া বাউফল উপজেলার মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সামনের রাজনৈতিক পথচলাতেও এর শুভ ফল দেখা যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দীর্ঘ জটিলতার পর আজ বৃহস্পতিবার রাতে  ১১  দলীয় জোটের আসন সমঝোতা ঘোষণা করেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, ‘আসন সমঝোতায় জামায়াত ১৭৯টি, এনসিপি ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি ও নেজামে ইসলাম ২টি আসনে নির্বাচন করবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনে সমঝোতার কথা জানানো হয়।

আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাগপা ও খেলাফত আন্দোলনের আসনের বিষয়টি এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে জানান জামায়াতের নায়েবে আমির।




যমুনায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় এসেছেন ।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৭টা ২৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে পৌঁছায় তারেক রহমানের গাড়ি বহর।

জনাব তারেক রহমান স্বপরিবারে প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন।

যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। গত ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে দলের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব দেয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আজই প্রথম তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সংস্কার তথা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে হবে গণভোট।

জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের এই বৈঠকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি- বিশেষ করে আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।

 

 




পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্ক।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি  বলেন পোস্টাল ব্যালট বিতর্কে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ব্যালট জব্দ হয়েছে, আবার কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের কাছে ব্যালট কীভাবে পাঠানো হয়েছে, তারা কীভাবে ভোট দেবেন, এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়গুলো বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে আজই ব্যাখ্যা দিতে পারে।

আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা উচিত। বর্তমানে আচরণবিধিতে ভোটার স্লিপে কোনো দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি না দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা পুনর্বিবেচনার দাবি করেছেন। নির্বাচন কমিশন চাইলে এই বিধান পরিবর্তন করতে পারে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।




কুয়াকাটা-কলাপাড়া-পটুয়াখালী সড়ক: ৭০ কিলোমিটারে ১৫ বিপজ্জনক বাঁক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-কলাপাড়া-পটুয়াখালী ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কে অন্তত ১৫টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁক পেরিয়ে বাস ও ট্রাক চলাচলে ক্রমশ দুর্ঘটনা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় আসা পর্যটকবাহী বাসের চালকরা।

বাসচালকরা জানাচ্ছেন, কুয়াকাটা থেকে কলাপাড়ায় যাত্রাপথে বিপজ্জনক বাঁকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কচ্ছপখালী লেক, হলদিবাড়িয়া খালের কালভার্ট, পাখিমারা স্কুল, মাস্টার বাড়ি ইত্যাদি। কলাপাড়া থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত রয়েছে সেকান্দর খালী, বান্দ্রা, কলঙ্ক, খুড়িয়ার খেয়াঘাটের আগে, আমতলী বন্দরের আগে, আমতলী ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন, ঘটখালী, আমরাগাছিয়া, মহিষকাটা, ইটভাটা, শাখারিয়া স্কুলসহ আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট।

দ্রুতগতির বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন বাঁকগুলো ঘুরতে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সতর্কতা সংবলিত নির্দেশনা স্থাপন করা রয়েছে, তারপরও দ্রুতগতিতে আসা যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না।

বাসচালক আল আমিন জানান, “পটুয়াখালী-কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কটির চওড়া কম। ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ২০টির মতো। নিয়মিত চলাচল করলেও দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরিচিত চালকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।”

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “এই বাঁকগুলো চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। দ্রুতগতিতে যানবাহন চালকরা অসতর্ক হলে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সড়কটি প্রশস্তকরণের সময় বাঁকগুলো ঠিক করা যেতে পারে।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো ঠিক করে সড়কটি নিরাপদ করা হবে, যাতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা কমানো যায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন কতটা নিরাপদ?

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ডিজেল সরবরাহের জন্য নির্মিত বহুল আলোচিত পাইপলাইন ফুটো করে তেল চুরির চেষ্টা হয়েছে। এই ঘটনার পর জ্বালানি নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নটিই সামনে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদী ফকিরহাট রাস্তার পশ্চিম পাশে। সেখানে মাটির প্রায় ১০ ফুট গভীরে থাকা ডিজেল পরিবহন পাইপলাইনে ছিদ্র করা হয়। ছিদ্র দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে তেল বেরিয়ে এসে সড়কে ছড়িয়ে পড়লে ৮ জানুয়ারি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় সঙ্গে সঙ্গে ওই লাইনে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে গত রোববার সকালে আবার ডিজেল সরবরাহ শুরু করা হয়।

বিপিসি ও পুলিশ সূত্র জানায়, পাইপলাইনের ঠিক ওপরেই একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আফসার। পরে ঘরটি তিনি ভাড়া দেন খুলনা সিটি করপোরেশনের সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের ছেলে আমিরুল ইসলামের কাছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘর ভাড়া নেওয়ার পর আমিরুল পরিকল্পিতভাবে মাটি খুঁড়ে পাইপলাইন পর্যন্ত পৌঁছান এবং সেখানে ছিদ্র করেন। এরপর পাইপলাইনের সঙ্গে আলাদা একটি পাইপ ও মিটার বসিয়ে তেল চুরির প্রস্তুতি নেন।

পাইপলাইনের ছিদ্রের ঘটনা সরেজমিন দেখতে যান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের একজন বলেন, তেল চোর চক্র মূল পাইপলাইনের সঙ্গে অন্য একটি পাইপ ও মিটার সংযুক্ত করতে চেয়েছিল। তবে সংযোগস্থলে ঝালাই করতে গিয়ে তারা নিয়ন্ত্রণ হারায়। পাইপলাইনে তেলের চাপ বেশি থাকায় ছিদ্র দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল বেরিয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি। সেই তেল সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনায় কাউকে হাতেনাতে তেলসহ আটক করা না গেলেও প্রশ্ন উঠেছে, এত গভীরে থাকা একটি পাইপলাইনে কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে খোঁড়াখুঁড়ি করা সম্ভব হলো। স্থানীয় প্রশাসন, বিপিসি কিংবা নিরাপত্তাব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে এই প্রস্তুতি কীভাবে চলেছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বিপিসি এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে এখনো ওই কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েনি।

বাংলাদেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের গড় বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬৫ লাখ টন। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরবরাহ করা হয়েছে ৬৮ লাখ টন, যার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচ, শিল্প ও পরিবহন—সব খানেই ডিজেলের ওপর নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ২৭ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ এ একটি পাইপলাইন দেশের মোট ডিজেল চাহিদার বড় অংশ বহন করে। ফলে এই অবকাঠামোতে সামান্য বিঘ্ন–জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনে প্রতি পাঁচ কিলোমিটার পরপর একজন করে লোক বসিয়ে পাহারা দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা যদি মূলত মানুষের চোখের ওপর নির্ভর করে, তাহলে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তার দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনের ওপর অবৈধ স্থাপনা, স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য এবং দুর্বল নজরদারি মিলিয়ে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুধু উচ্ছেদ অভিযান বা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি চালু করলেই এই ঝুঁকি কমবে না। এখন থেকেই নিরাপত্তাকে গুরুত্ব না দিলে এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, মিরসরাইয়ের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এটি জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত এবং দুর্বল নজরদারিরই প্রতিফলন। হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সেই উন্নয়ন কতটা টেকসই এই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো দ্রুত পাইপলাইনকে প্রকৃত অর্থে নিরাপদ করা এবং দায় নির্ধারণে কোনো ছাড় না দেওয়া।




সৌদির সড়কে থেমে গেল বরিশালের মিজানুরের স্বপ্ন

বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। চোখভরা ছিল সচ্ছল জীবনের আশা, বুকভরা ছিল বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসজীবনের মাত্র এক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবন, নিভে গেল একটি পরিবারের আশার আলো।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিজানুর রহমান (৩০)। তিনি বরিশাল জেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের বড় ছেলে।

জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে যান মিজানুর। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে কাজ করতেন শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

মিজানুরের মৃত্যুর খবর প্রথমে পরিবার বিশ্বাসই করতে পারেনি। বিদেশে থাকা সন্তানের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে নেমে আসে গভীর নীরবতা। তার স্ত্রী বারবার প্রশ্ন করছেন—এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে কেন? সাড়ে তিন বছরের অবুঝ কন্যাশিশুটি এখনও জানে না, আর কোনো দিন বাবার কোলে ওঠা হবে না।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চাচা সালাম শরীফ বলেন, “মিজানুর পরিবারের বড় ছেলে ছিল। সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে চেয়েছিল।”

চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ বলেন, “মিজানুর ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”

মিজানুর রেখে গেছেন স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই ও তিন বোনসহ অসংখ্য স্বজন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের বড় একটি অংশ। হঠাৎ এই মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। স্বজনদের একটাই আকুতি—অন্তত শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেশে এনে নিজের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে চান তারা।




প্রেমিকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি, পায়রা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ কলেজছাত্রীর

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় প্রেমিকের সঙ্গে ফোনে কথা কাটাকাটির জেরে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক কলেজছাত্রী। রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পায়রা সেতু এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

জানা গেছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করা কলেজছাত্রীর নাম তানজিলা। তিনি বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় পায়রা সেতুতে অবস্থান করছিলেন তিনি। হঠাৎ নদীতে ঝাঁপ দিলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। দ্রুত লেবুখালী সেনানিবাসের সেনাসদস্যদের সহযোগিতায় জেলেদের নৌকা ব্যবহার করে তাকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর তানজিলাকে দ্রুত লেবুখালীর ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, তানজিলার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায়। তার প্রেমিক সজিব একই এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। পরিবারের দাবি, সেই অভিমান থেকেই তানজিলা এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া তিনি আত্মহত্যার আগে ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন বলেও জানা গেছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায় এবং শিক্ষার্থীর পরিবারকে অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মেয়েটি বর্তমানে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সচেতন মহল তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম