জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদা জিয়াসহ সবাইকে খালাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের দণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। সেই সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে আজ খালাস দিলেন হাইকোর্ট।

এরপর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, ‘এ মামলার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, আদালত আমাদের শুনেছেন। বলেছেন, আপিলটি আমি লাইন বাই লাইন পড়েছি। এভিডেন্সগুলো দেখেছি। আপনারা যা দিয়েছেন তার আইনগত ভিত্তি রয়েছে। আমি আপিলটি মঞ্জুর করলাম। অর্থাৎ, গ্রহণ করলাম।’

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের দেয়া অর্থদণ্ডের আদেশ স্থগিত করেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। গত ৬ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ড মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিল শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক তৈরির জন্য অনুমতি চেয়ে খালেদা জিয়া আবেদন করেন।




ইসকন নিষিদ্ধ চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসকন নিষিদ্ধ চেয়ে এবং যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে চট্টগ্রাম ও রংপুরে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন এক আইনজীবী।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) গণমাধ্যমের রিপোর্ট তুলে ধরে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে আদেশ প্রার্থনা করেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান।

বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যার্টনি জেনারেলকে ডেকে পাঠান আদালত।

অ্যার্টনি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যে কেউ কোনো অ্যাঙ্গেল থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সরকার জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। সাম্প্রতিক ইস্যুতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এ সময় উচ্চ আদালত বলেন, তারা উদ্বিগ্ন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেউ যাতে অবনতি করতে না পারে। ইসকন ও সাম্প্রতিক ইস্যুতে সরকারের পদক্ষেপ কালকের মধ্যে জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট।




চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে পবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একত্রিত হয় বিক্ষোভ সমাবেশে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা”, “হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই, ইসকনের রক্ষা নাই” এবং “সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না” সহ বিভিন্ন স্লোগানে প্রতিবাদ জানায়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মো. জায়েদ বলেন, “ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

অপর শিক্ষার্থী হাফেজ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ইসকন একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এরা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

এছাড়া, বরিশালের বাবুগঞ্জে অবস্থিত পবিপ্রবির বহিঃস্থ ক্যাম্পাসেও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চিন্ময় কৃষ্ণ সাম্প্রদায়িক উদ্দেশে সন্ত্রাসী সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পরিকল্পনা নিয়েই চিন্ময় কৃষ্ণ কাজ করছিল এবং সাম্প্রদায়িক উদ্দেশে এ ধরনের সন্ত্রাসী সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে যেসব সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে তাদের অবশ্যই কঠোর শাস্তি হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরু থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দাবিদাওয়া আন্তরিকভাবে বিবেচনা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বিভিন্ন সভা সমাবেশে মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হওয়া সত্ত্বেও কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে বিভিন্ন সভা করে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।

মূলত এই ধরনের তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং বাংলাদেশ ও জুলাই অভ্যুত্থানকে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা। ভারতীয় মিডিয়া এরকম মিথ্যা প্রচারণা বরাবরই করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, চট্রগ্রাম আদালতে যেভাবে একজন আইনজীবীকে চিন্ময় কৃষ্ণের সমর্থকরা কুপিয়ে হত্যা করলো তা নজিরবিহীন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বরাবরই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে একটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে চেযেছে। এখন ভারতীয় মিডিয়াও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি করতে চাচ্ছে। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার নাশকতাকারী হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করবে। এসময় সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, দ্রুতই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হবে।




উত্তাল পাকিস্তান, গুলিতে নিহত ৪২

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাদা কাফনে মোড়া দেহগুলি আঁকড়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বজনেরা। আচার বিধি শেষ হওয়ার পরে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল পাকিস্তানের পরাচিনার শহর।

দু’দিন আগে আততায়ীর গুলি ওঁদের ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। সেই ৪২ জনের শেষকৃত্য। সাদা কাফনে মোড়া দেহগুলি আঁকড়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বজনেরা। আচার বিধি শেষ হওয়ার পরে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল পাকিস্তানের পরাচিনার শহর।

ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের। পাকিস্তানের বিক্ষুব্ধ খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পরাচিনার থেকে পেশোয়ারের দিকে সার দিয়ে যাচ্ছিল গাড়িগুলি। কুররামের কাছে হঠাৎ রাস্তা আটকায় দুষ্কৃতীরা। গাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেমে এসে নিরস্ত্র মানুষগুলির উপরে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। গুলিবৃষ্টি থেকে মহিলা বা শিশু কেউ রেহাই পায়নি। নিহতেরা সকলেই শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। নিহতদের মধ্যে ৬ জন মহিলা। জখম হয়েছেন আরও ২০ জন। এখনও পর্যন্ত হামলার দায় নেয়নি কেউ।

সে দিনের ঘটনায় ভাইপোকে হারিয়েছেন আলি গুলাম। তিনি বলছিলেন, ‘‘মাত্র চল্লিশ ছুঁয়েছিল ভাইপো। ও খুব সাধাসিধে মানুষ ছিল। কখনও কারও সঙ্গে ঝগড়া করতে দেখেনি। এ বার ওর পরিবারের কী হবে? ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলোকে কে খাওয়াবে?’’

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। সংখ্যাগুরু সুন্নিরা। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাচীন বিবাদ আজও চলছে। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমের অঞ্চলগুলিতে প্রায়ই শিয়াদের উপরে হামলা চলে। বিষয়টি নিয়ে আজ পরাচিনার, লাহোর, পেশোয়ার-সহ বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ মিছিল করে শিয়ারা। সরকার বিরোধী স্লোগান ওঠে।

শেষকৃত্যের আগে পরাচিনার শহরে একটি শোকসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে কফিনগুলি আনা হয়। স্থানীয় ভাবে সেখানে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের শোক পালন চলছে। আজও পরাচিনারে দোকান-বাজার-স্কুল সব বন্ধ ছিল। খালি ছিল রাস্তা-ঘাট। বিচারের দাবিতে ধর্নায় বসেন স্বজনহারা মানুষেরা। পরাচিনারের কাছে কয়েকটি সরকারি চেক পোস্টে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। ফলে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দেন শিয়া প্রবীণেরা।




চিন্ময় দাশকে গ্রেফতারের কারণ জানালেন উপদেষ্টা আসিফ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতারের কারণ জানালেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেছেন, কোন সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে নয়, রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা কলেজ মাঠে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অসহায় ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

বাজেটসহ অন্যান্য বিষয়ে রংপুরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে আসিফ আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় গোপালগঞ্জসহ দুই একটি জেলার উন্নয়ন করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলোর সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে রংপুরবাসী আর কোন বৈষম্যর শিকার হবে না।

এর আগে শহীদ পরিবারের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে অসহায়-দুস্থ পরিবারের মাঝে প্রায় ৬০০ শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয়। এসময় ২৪ এর গণঅভুথ‍্যানে শহীদের পরিবারের সদস্য রাজমিস্ত্রি শহীদ মঞ্জু মিয়ার স্ত্রী রহিমা খাতুন, গার্মেন্টস কর্মী শহীদ মামুন মিয়ার বাবা আজগর আলী এবং শহীদ সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রানী বেগম তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।




যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাল ইসরায়েল-লেবাননি গোষ্ঠী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও দখলদার ইসরায়েল। বুধবার (২৭ নভেম্বর) মধ্যরাতে এই ঘোষণা দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। প্রাথমিক অবস্থায় এ চুক্তির মেয়াদ থাকবে ৬০ দিন। পরবর্তীতে এটি আবারও বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি জানিয়েছেন, তার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা চুক্তির বিষয়টিতে সম্মতি জানিয়েছে। তবে নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ যদি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তাহলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল লেবানন থেকে তাদের সব সেনা প্রত্যাহার করে নিয়ে যাবে। অপরদিকে হিজবুল্লাহ সীমান্ত এলাকা থেকে সরে গিয়ে লিটানি নদীর অপরপ্রান্তে চলে যাবে। এছাড়া হিজবুল্লাহ সীমান্তে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ ও নিজেদের পুনরায় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত করতে পারবে না।

গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। হামাসকে সহায়তায় এর পরের দিন ৮ অক্টোবর থেকে দখলদার ইসরায়েলের অবৈধ বসতি লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া শুরু করে হিজবুল্লাহ। এর জবাবে ইসরায়েলও লেবাননে হামলা শুরু করে।

তবে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সীমান্ত এলাকা থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দিতে চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর লেবাননে স্থল হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। যদিও ইসরায়েল যে লক্ষ্য করে স্থল হামলা শুরু করেছিল তারা সেটি পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। উল্টো সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।

তবে আকাশ শক্তি ব্যবহার করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েল। তাদের হামলায় দেশটির তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।




চিন্ময় দাসের গ্রেফতারে উদ্বিগ্ন ভারত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেসের (ইসকন) সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার এবং জামিন আবেদন নাকচ করায় ভারত উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর একাধিক হামলার পর এ ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট এবং দেবতার অবমাননা ও মন্দিরে চুরি-ভাঙচুরের একাধিক নথিভুক্ত ঘটনা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আমরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সংখ্যালঘুদের ওপর একাধিক হামলার বিষয়টিও উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, যখন এই ঘটনার অপরাধীরা অধরা রয়ে গেছে, তখন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে ন্যায্য দাবি উপস্থাপনকারী একজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়টিও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি।

আমরা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে হিন্দু ও সব সংখ্যালঘুর শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানাই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও তার এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতিটি প্রকাশ করেছেন।




চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির পর বাংলাদেশ বলছে, চিন্ময় দাশের গ্রেপ্তারের বিষয়টি কোনো কোনো গোষ্ঠী ভুল বুঝেছে।

ঢাকার বিমানবন্দরে আটক বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আদালত আনা হয়।

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার ও জামিন নাকচের ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়ে ভারত সরকারের বিবৃতিকে ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে তুলে ধরে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অন্তর্ববর্তীকালীন সরকার।

মঙ্গলবার পাল্টা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, এই ধরনের ভিত্তিহীন বিবৃতি কেবল তথ্যের ভুল উপস্থাপনই নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার যে মেজাজ, সেটারও পরিপন্থি।”

দিল্লির আহ্বানের বিপরীতে ঢাকা বলেছে, “দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতেও বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

চট্টগ্রাম পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে গ্রেপ্তার ও জামিন নাকচের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে বিবৃতি দেয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তাতে বলা হয়, ‘উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দ্বারা’ বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর একাধিক হামলার পরে চিন্ময় দাশকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর এ ঘটনা ঘটল।

“সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটের পাশাপাশি প্রতিমা ও মন্দিরে চুরি, ভাঙচুর ও অবমাননার ‘কিছু নথিবদ্ধ ঘটনাও রয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতরা যখন ধরাছোঁয়ার বাইরে, তখন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত দাবি উত্থাপনকারী একজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনাটা দুর্ভাগ্যজনক।”




পটুয়াখালীতে মশাল মিছিল: ইসকন নিষিদ্ধের দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে হত্যার প্রতিবাদে এবং ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে পটুয়াখালীতে মশাল মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১০টায় পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

এছাড়া, একই দাবিতে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আলাদা মিছিল করে। এসব মিছিল থেকে ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে তা নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলেন, “ইসকন সন্ত্রাসী সংগঠন, অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে।” শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিবাদে শহরের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম