মেসি আবারও ফিফা বর্ষসেরা হওয়ার দৌড়ে

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি আবারও ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের (দ্য বেস্ট) মনোনয়ন পেয়েছেন। ২০২৪ সালের দ্য বেস্ট পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১১ খেলোয়াড়ের তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসি। এটি তার জন্য ৯তম মনোনয়ন, যা ফুটবল ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

মেসি এর আগে তিনবার দ্য বেস্ট পুরস্কার জয় করেছেন, এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ ও ২০২৩ সালের জয়। তবে, ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর মনোনয়নে জায়গা না পাওয়া সত্ত্বেও তিনি দ্য বেস্টের তালিকায় নিজের স্থান নিশ্চিত করেছেন। ফিফা জানিয়েছে, ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা দলের হয়ে মেসির অনুপ্রেরণাদায়ক পারফরম্যান্স তাকে এই মনোনয়ন এনে দিয়েছে।

২০২৩ লিগস কাপ এবং ২০২৪ সাপোর্টার্স শিল্ড জিততে মায়ামিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেসি। একই সময়ে, তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা শিরোপা জিতেছে এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৬ গোল করেছেন তিনি। ৩৭ বছর বয়সেও মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে ফুটবলে তিনি এখনও অপরাজেয়।

ভক্তদের ভোটের মাধ্যমে ২০২৪ দ্য বেস্ট পুরস্কারের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারিত হবে। ভোট চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৫৩ বছরের সুযোগ যেন মতবিরোধের কারণে হাতছাড়া না হয়: নুর

বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর (ভিপি নুর) বলেছেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। তিনি বলেন, এখন আমাদের সামনে নতুন এক সুযোগ এসেছে, যেখানে দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের পথ প্রশস্ত করা সম্ভব।

নুর বলেন, আমরা চাই একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠুক যেখানে জনগণের অধিকার রক্ষিত থাকবে, জুলুম, দুঃশাসন, ভোট ডাকাতি এবং রাজনৈতিক কারণে হয়রানি থাকবে না। তবে, তিনি সতর্ক করেছেন যে কিছু রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে উৎপাত শুরু করেছে, যেন তারা ক্ষমতায় চলে এসেছে। এটি চলতে দেয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, “জেলা-উপজেলায় গিয়েছি এবং পরিষ্কারভাবে ডিসি, এসপি, ইউএনওদের বলেছি যে, তাদের কাজ হবে শুধু রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির প্রাধান্য না দিয়ে, সকলের সঙ্গে মতবিনিময় করে জনকল্যাণে কাজ করা।”

তিনি বরিশালের ঐতিহাসিক চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিলে ওলামা ও সুধী সম্মেলনে বক্তৃতা দেন এবং আরও বলেন, “৫৩ বছর ধরে চলা পুরনো রাজনীতির কারণে দেশের জনগণ অনেক যন্ত্রণা ভোগ করেছে। তবে, এখন একটি সুযোগ এসেছে। এ সুযোগটি আমরা কিভাবে কাজে লাগাবো তা আমাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে, আমি বিনয়ের সাথে বলছি, আমাদের ছোটোখাটো মতবিরোধের কারণে এই সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।”

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর আরও বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগের কিছু সদস্য যারা নেশার সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁদের চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ, গত নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমসহ অন্যান্য আলেম-ওলামাদের লাঞ্ছিত করেছে। তিনি বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য ইসলামী দলের স্লোগান ‘নেতা নয় নীতি চাই’ অত্যন্ত যৌক্তিক। শুধুমাত্র নেতা দিয়ে পরিবর্তন সম্ভব নয়, আমাদের নীতিরও পরিবর্তন প্রয়োজন।”

নুর শেষ করেন, “আল্লাহর রহমত ছাড়া এমন পরিবর্তন সম্ভব হতো না। এখন সময় এসেছে উপযুক্ত নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন মমতা ব্যানার্জি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘কোনো ধর্মের ওপরেই আঘাত আসুক আমি চাই না। এখানে ইসকনের যিনি আছেন, তার সাথে আমার কথা হয়েছে। এটা যেহেতু অন্য একটি দেশের বিষয়, তাই কেন্দ্রীয় সরকারকেই (ভারত সরকার) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ইস্যুতে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের পাশেই আছি।’

বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।

এর আগে তার দলের সংসদ সদস্য সৌগত রায় দিল্লির পার্লামেন্ট ভবনে বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেছিলেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা, চিন্তার বিষয়। হিন্দুদের ওপরে এই অত্যাচার হওয়া উচিত নয়। আমি এ ধরনের ঘটনার আমি নিন্দা জানাই।’

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দল-নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করা ও এর পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে এই প্রথম মন্তব্য শোনা গেল।

গত দু’দিন ধরেই বিজেপির নেতা-নেত্রীরা প্রশ্ন তুলছিলেন যে যখন হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার (তাদের কথায়) চলছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই কেন!

এর আগে কংগ্রেস নেত্রী ও সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ওয়াধেরাও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যাণ্ডেলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার ও ‘সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপরে ক্রমাগত ঘটে চলা সহিংসতার’ সংবাদ অত্যন্ত চিন্তাজনক।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করব যাতে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোরালেভাবে তুলে ধরা হয়।’

এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারে উদ্বেগ জানিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তার পাল্টা বিবৃতি দিয়ে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ বলেছে, যেভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়, চিন্ময় দাসের গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে কোনো কোনো মহল ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, তাতে বাংলাদেশ হতাশা ও দুঃখ বোধ করছে।




চিন্ময় কৃষ্ণসহ ইসকনের ১৭ সদস্যের ব‌্যাংক হিসাব জব্দ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ইসকন বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বলেছে।

বৃহস্প‌তিবার ( ২৮ নভেম্বর) বিএফআইইউ’র সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হিসাব জব্দ করা ব্যক্তিদের নামে ব্যক্তি মালিকানা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট স্থগিত থাক‌বে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার এ সময় বাড়ানো হবে।

যাদের হিসাব জব্দ করা হয়েছে

চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, কার্ত্তিক চন্দ্র দে, অনিক পাল, সরোজ রায়, সুশান্ত দাস, বিশ্ব কুমার সিংহ, চন্ডিদাস বালা, জয়দেব কর্মকার, লিপী রানী কর্মকার, সুধামা গৌর দাস, লক্ষণ কান্তি দাশ, প্রিয়তোষ দাশ, রূপন দাস, রূপন কুমার ধর, আশীষ পুরোহিত, জগদীশ চন্দ্র অধিকারী, এবং সজল দাস।

লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে হিসাব স্থগিত করা ব্যক্তিদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেসব হিসাব স্থগিত করা হয়েছে তাদের হিসাবসংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী যাবতীয় তথ্য চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।




যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা

সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেই লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর একটি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যেখানে হিজবুল্লাহ তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, যে অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে সেটি মিডিয়াম রেঞ্জের রকেট রাখার কাজে ব্যবহার করা হতো। আর এ বিষয়টিকে নিজেদের জন্য হুমকি মনে করায় সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে দখলদার ইসরায়েলের যে চুক্তি হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন দুই পক্ষ সব ধরনের হামলা বন্ধ রাখবে। এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলের সব সেনাকে লেবানন থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। অপরদিকে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সরে গিয়ে লিটানি নদীর অপর পাড়ে চলে যাবে।

গতকাল সকাল থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এরপরই লেবাননের সাধারণ মানুষ তাদের বাড়িঘরে ফেরা শুরু করেন। তবে দখলদার ইসরায়েলের সেনারা যেসব গ্রামে অবস্থান করছে, সেসব গ্রামে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তারা। যারা প্রবেশের চেষ্টা করেছেন তাদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

দীর্ঘ ১৪ মাস যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে। কিন্তু মাত্র দুদিন না যেতেই এই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হয়েছে। তবে বিষয়টিকে হিজবুল্লাহ এখন কীভাবে নেবে সেটি দেখার বিষয়। যদিও ধারণা করা হচ্ছে হিজবুল্লাহ এক্ষেত্রে ধৈর্য্যের সর্বোচ্চ পরীক্ষা দেবে।




বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ‘সুরক্ষা’ নিয়ে ভারতীয় পার্লামেন্টে যা বললেন এস জয়শঙ্কর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পার্লামেন্টে বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, ‘সংখ্যালঘুদের জীবন, স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব l
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে বক্তব্য দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এনডিটিভি জানায়, বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান হামলার বিষয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামে একটি মন্দিরে ভাঙচুর এবং হিন্দু ধর্মগুরু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের ঘটনা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের পর সাময়িকভাবে শাসনভার নেয় সেনাবাহিনী। পরে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তবে এই সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বিদ্ধ বলে মনে করছে ভারত।




ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে কার্যকর পরামর্শ

বায়ুদূষণ এবং ধূমপানের কারণে বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের রোগ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষ নানা ধরণের ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে ফুসফুস ক্যানসার অন্যতম। তবে কিছু ঘরোয়া অভ্যাস অনুসরণ করে ফুসফুসকে সুস্থ রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক ফুসফুসের যত্ন নেওয়ার সহজ কিছু পদ্ধতি।

মুখের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন

ফুসফুস ভালো রাখতে মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ এবং জিহ্বা পরিষ্কার করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া দেহে প্রবেশ করতে পারে না।

ডিটক্স ওয়াটার পান করুন

ফুসফুস পরিষ্কার করতে মধু-গরম পানি, লেবুর শরবত, সবুজ চা, গাজরের রস, হলুদ ও আদার মিশ্রণ কার্যকর। নিয়মিত এসব পানীয় পান করলে ২-৩ সপ্তাহেই ফুসফুসের অবস্থার উন্নতি হয়।

হ্যালোথেরাপি নিন

লবণ থেরাপি বা হ্যালোথেরাপি হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং কাশির জন্য উপকারী। এটি ফুসফুসের শ্লেষ্মা কমাতে সাহায্য করে।

ওরিগানো অয়েলের ব্যবহার

ওরিগানো অয়েল ও আমন্ড অয়েল মিশিয়ে প্রতিদিন ১-২ ফোঁটা জিহ্বার নিচে রেখে কুলকুচি করলে ফুসফুস ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়। এই পদ্ধতি এক মাস ধরে অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

গরম পানিতে গোসল করুন

সপ্তাহে অন্তত ৩ বার গরম পানিতে গোসল করুন বা স্টিম বাথ নিন। এটি ফুসফুসের শ্লেষ্মা কমাতে সহায়ক।

শ্বাসের ব্যায়াম করুন

শ্বাসের ব্যায়াম ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং ঠোঁট পাউট করে শ্বাস ছাড়ুন। প্রতিদিন ৪-৫ বার এই ব্যায়াম করলে বায়ু চলাচল সহজ হয়।

মসলাদার খাবার বাদ দিন

পনির, মাখন, দই, এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ফুসফুসের শ্লেষ্মা বাড়ায়। এসব খাবার থেকে দূরে থাকুন।

ফুসফুস সুস্থ রাখতে এসব অভ্যাস অনুসরণ করে দেখুন। আপনার ফুসফুসের স্বাস্থ্য দ্রুত উন্নতি হতে শুরু করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনার টেস্ট পরীক্ষায় ৮ বিষয়ে ফেল, ফাঁস নিলো স্কুলছাত্রী

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় কুলসুম আক্তার মিতু (১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসএসসির টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আট বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি স্বজনদের। নিহত ওই শিক্ষার্থী পাথরঘাটা আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) বেলা সড়ে ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাতেমপুর নামক এলাকায় নিজ ঘরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কুলসুম ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলামের মেয়ে।

নিহতের স্বজনদের বরাতে পুলিশ ও স্কুলশিক্ষকদের সূত্রে জানা যায়, কুলসুম আক্তার মিতু বরগুনার পাথরঘাটা আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। তবে বুধবার (২৮ নভেম্বর) স্কুল থেকে টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করলে আট বিষয়ে অকৃতকার্য হয় মিতু।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্রে বাসায়ই ছিল মিতু। এ ছাড়া সকালের নাস্তাও একত্রে করে তারা। এর পরপরই বেলা ১১টার দিকে মিতুকে খুঁজতে গিয়ে ঘরের দোতলায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান মিতুর মা মরিয়ম। পরে তিনি ডাক-চিৎকার দিলে প্রতিবেশী ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থল থেকে মিতুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

পাথরঘাটা আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম রেজা বলেন, আমাদের স্কুলে গতকাল বুধবার (২৮ নভেম্বর) ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। স্কুল থেকে এ বছর মোট ৭৭ জন পরীক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ৬১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এদের মধ্যে মিতু ১০টি বিষয়ের আটটিতে অকৃতকার্য হয়। তবে যারা অকৃতকার্য হয়েছিল তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং পরবর্তী করনীয় নিয়ে আগামী রোববার তাদের স্কুলে আসারও কথা ছিল।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, নিজ বাসা থেকে স্কুলছাত্রী মিতুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যেখানে শিক্ষার্থী নেই, সেখানে চলছে সরকারি বেতন

বাংলাদেশের আমতলী উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া হরিদ্রাবাড়ীয়া একতা নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এখন শিক্ষার্থী শূন্য। বছরের পর বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে একটিও শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি, তবে এখানে চারজন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন, যারা মাসে প্রায় লাখ টাকার বেতন উত্তোলন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতির মধ্যে স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বিদ্যালয়টি বিলুপ্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে এলাকাবাসী।

পরীক্ষার দিনেও শিক্ষক-কর্মচারী ছাড়া কেউ নেই

বৃহস্পতিবার, বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা চললেও একটিও শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। বিদ্যালয়ের অবস্থা বর্ণনা করে জানা গেছে, শ্রেণীকক্ষে ময়লা ও আবর্জনা জমে পড়েছে এবং শিক্ষকদের চেয়ার ও টেবিল ছাড়া কোনো ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি ছিল না। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও, অন্য সব কিছু নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানালেন, “বিদ্যালয়ের আশপাশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাই এখানে শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন।”

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত করা হোক

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ নেছারী বলেন, “আমরা আর লজ্জিত হতে চাই না। যদি শিক্ষার্থী না থাকে, তাহলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে কীভাবে? আমরা ছাত্রছাত্রী সংগ্রহের চেষ্টা করছি, কিন্তু পাচ্ছি না।”

এ বিষয়ে গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. এইচএম মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, “নামে মাত্র একটি বিদ্যালয় আছে। বাস্তবে শিক্ষার্থী নেই। এখানে চলে বড় অঙ্কের নিয়োগ বাণিজ্য।”

শিক্ষা অফিসের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষা

এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অলি আহাদ জানান, “আমি বর্তমানে আদালতে আছি, পরে কথা হবে,” বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি জানি, এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এছাড়া, আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান জানান, “প্রথমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জানবো, তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “এই বিদ্যালয়ের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হজ এজেন্সি ব্যবসা বিপদগ্রস্ত, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বর্তমানে বাংলাদেশের হজ এজেন্সি ব্যবসা এক কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি। ২০২৫ সালের হজ মৌসুমের জন্য ইতোমধ্যে ৯৩৭টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশিত হলেও, এর মধ্যে ১০৯টি এজেন্সি এখনও কোনো হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন করতে পারেনি। ধর্ম মন্ত্রণালয় এসব এজেন্সির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং তাদেরকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ এবং পরিণতি

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয় যে, ১০৯টি এজেন্সি যদি প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রী না পায়, তাহলে তাদের নাম ২০২৫ সালের হজ মৌসুমের অনুমোদিত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। এর ফলে, অনেক হজ এজেন্সি তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং কিছু এজেন্সি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে।

প্রথমে ধর্ম মন্ত্রণালয় ১২৪টি হজ এজেন্সিকে দ্রুত হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন করার জন্য চিঠি পাঠিয়েছিল এবং বলেছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, এই অবস্থার মধ্যে হজ এজেন্সিগুলোর ব্যবসা আরও সংকটে পড়তে পারে।

ব্যবসায়িক সমস্যাগুলি এবং খরচ বৃদ্ধি

হজ এজেন্সির আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে হজ ভিসা, উড়োজাহাজের টিকিট, মক্কা-মদিনায় আবাসন, গাড়ি ভাড়া, খাবারের সেবা ইত্যাদি। কিন্তু, রিয়ালের মূল্য বৃদ্ধি, হজকোটা পূর্ণ না হওয়া এবং সৌদি আরবের নতুন শর্তাবলীর কারণে এই ব্যবসা পরিচালনা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অনেক হজ এজেন্সি বর্তমানে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন।

একটি হজ এজেন্সির মালিক, যিনি ২০১২ সাল থেকে হজ এবং উমরা সেবা প্রদান করে আসছেন, বার্তা২৪.কমকে জানান, করোনার পর থেকে তাদের ব্যবসা আগের মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ২০২২ সালে তারা মাত্র ৭০ জন হজযাত্রী পাঠাতে সক্ষম হলেও, করোনার আগে এই সংখ্যা ছিল ২০০-৪০০ জন। একই সঙ্গে, খরচ বৃদ্ধির কারণে এবছরও হজকোটা পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম, এবং ২০২৩ সালের হজ মৌসুমে ৪০,০০০ কোটার স্থান ফাঁকা ছিল, যা এবছরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে বাংলাদেশে ১,২৩৮টি হজ এজেন্সি রয়েছে, যার মধ্যে ৯৩৭টি হজ এজেন্সি কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন পেয়েছে। এই সব এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় ২০,০০০ মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ হজ সেবা খাতে কর্মরত।

এভাবে চলতে থাকলে, অনেক এজেন্সি তাদের ব্যবসা চালিয়ে নিতে অক্ষম হবে, যা দেশের হজ সেবা খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম