ভোলা সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ আটক, মামলা অজ্ঞাত

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]

ভোলা সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইউনুছকে পল্টন থানা পুলিশ আটক করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, মো. ইউনুছের নামে ভোলায় কোনো মামলা ছিল না। তবে ঢাকায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে চিহ্নিত নয়, অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আটক করে দেখানো হয়েছে।

ইউনুছের ভাইয়ের ছেলে মো. মনির জানান, তার চাচা স্থানীয়ভাবে তিনবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপি তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিল। এছাড়া, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা হলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জেলা প্রশাসকের উন্নয়ন সভায় ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেন মো. ইউনুছ।

এ বছরের জুন মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেড় মাস ভোলায় ছিলেন। চিকিৎসাজনিত কারণে এক মাস ধরে তিনি ঢাকায় তার মেয়ের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে পল্টন থানা পুলিশ এবং ভোলা থানার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জামায়াত আমিরের বক্তব্য: ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার হবে দেশে’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল, জনগণ তাদের নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচারের পতনের সাথে সাথে দেশ থেকে সমস্ত জুলুম-নির্যাতনের অবসান হয়েছে। যারা দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন, হত্যা, লুন্ঠন, খুন, গুম করেছেন তাদের ক্ষমা করা হবে না। তাদের বিচার এদেশের মাটিতেই হবে।”

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন সাতক্ষীরা মোড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শার্শা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, “ফ্যাসিবাদের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তারা আমাদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাচ্ছে।” তিনি যোগ করেন, “এই অবস্থায় তাদের চক্রান্ত রুখে দিতে দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “আমরা আগামীতে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনও সুদ-ঘুষ, জাতপাত-দল-ধর্মের ব্যবধান থাকবে না।”

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ফারুক হাসান। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, মোবারক হোসেন, যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, বেনাপোল পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইউছুপ আলী প্রমুখ।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে যশোরে পৌঁছানোর পর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা জানান। পরবর্তী সময়ে তিনি সাতক্ষীরায় রুকন ও কর্মী সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন এবং পথে যশোরের চাঁচড়া চৌরাস্তা, ঝিকরগাছা ও নাভারনে পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। এসব পথসভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ‘ইত্যাদির’ বিশেষ পর্ব

বাংলাদেশ টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, শিল্প-সাহিত্য, এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কে আলোচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানটির প্রতিটি পর্বেই দেশের নানা অঞ্চলের বিশেষত্ব তুলে ধরা হয়, যা দর্শকদের কাছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

এই সপ্তাহের ‘ইত্যাদি’ পর্বটি ধারণ করা হয়েছে বাগেরহাটের মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে। এটি সম্প্রচারিত হবে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাত ৮টায় বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে। অনুষ্ঠানটির রচনা, পরিচালনা এবং উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।

প্রথমেই রয়েছে বাগেরহাটের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য নিয়ে একটি পরিচিতিমূলক গানের সঙ্গে নৃত্য। গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন সোহান, এবং কণ্ঠ দিয়েছেন রাজীব, অয়ন চাকলাদার, তানজিনা রুমা ও এমেলী। হানিফ সংকেতের সুরে এবং মেহেদী’র সংগীতায়োজনে গানের পরিবেশনা ছিল অসাধারণ। আরও একটি সংগীত পরিবেশন করেছেন বাগেরহাটের কণ্ঠশিল্পী নাসির ও শিল্পী সানজিদা রিমি। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল এবং সুর করেছেন কিশোর দাস।

এছাড়া, বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলোর ওপর একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন পরিবেশিত হবে, যেখানে সুন্দরবন, মোংলা সমুদ্র বন্দরসহ বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরা হবে। হজরত খানজাহানের স্মৃতিচিহ্ন এবং নানা কীর্তির কথাও উঠে আসবে প্রতিবেদনটিতে।

বিদেশি প্রতিবেদন পর্বে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ওপর একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রচারিত হবে।

এই পর্বে আরও অংশগ্রহণ করেছেন দেশীয় একাধিক শিল্পী, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সোলায়মান খোকা, বাবুল আহমেদ, আবদুল আজিজ, আবদুল্লাহ রানা, সুভাশিষ ভৌমিক, শবনম পারভীন, কাজী আসাদ, জিল্লুর রহমান, কামাল বায়েজিদ, জামিল হোসেন, মুকিত জাকারিয়া, আনোয়ার শাহী, আবু হেনা রনি, আনোয়ারুল আলম সজল, আনন্দ খালেদ, আমিন আজাদ, নজরুল ইসলাম, শাহেদ আলী, মামুনুল হক টুটু, ইকবাল হোসেন, জাহিদ শিকদার, বিলু বড়ুয়া, সিলভিয়া কুইয়া, মতিউর রহমান, বেলাল আহমেদ মুরাদ, তারিক স্বপন, সাদিয়া তানজিন, অশোক বড়ুয়া, সাবরিনা নিসা, সুবর্ণা মজুমদার, সিয়াম নাসির, শামীম আহমেদ, নিপু সহ আরও অনেকেই।

এছাড়া, এবারের ‘ইত্যাদি’ পর্বের শিল্পনির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন মুকিমুল আনোয়ার। পরিচালক হিসেবে সহায়তা করেছেন রানা সরকার ও মোহাম্মদ মামুন। অনুষ্ঠানটি নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঢাকায় আসছেন রাহাত ফতেহ আলী খান, ২১ ডিসেম্বর মঞ্চ মাতাবেন আতিফ আসলাম

ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে পাকিস্তানি এবং বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক আতিফ আসলাম শো করতে যাচ্ছেন। তবে তার মঞ্চে ওঠার আগে এক নতুন খবর পাওয়া গেলো। আরেক জনপ্রিয় গায়ক রাহাত ফতেহ আলী খানও ঢাকায় আসছেন, যেখানে ২১ ডিসেম্বর ‘ইকোস অব রেভ্যুলেশন’ শিরোনামে একটি চ্যারিটি কনসার্টে পারফর্ম করবেন।

এই কনসার্টের আয় থেকে সংগৃহীত অর্থ যাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ এবং আহতদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য। কনসার্টটি আয়োজন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘স্পিরিটস অফ জুলাই’, যারা কনসার্টের আয় শহীদ জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনে দান করবে।

কাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই কনসার্টের বিস্তারিত জানানো হয়। প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা জানিয়েছেন যে, কনসার্টে অংশগ্রহণকারী গায়ক রাহাত ফতেহ আলী খান বিনা পরিশ্রমে পারফর্ম করবেন এবং তার পারিশ্রমিকও শহীদ ও আহতদের পরিবারকে দান করা হবে।

এছাড়াও, কনসার্টে দেশীয় ব্যান্ড আর্টসেল, চিরকুট, অ্যাশেজ, আফটারম্যাথ, সেজান এবং হান্নান পারফর্ম করবেন। কনসার্টটি ছাড়াও গ্রাফিতি প্রদর্শনী, মঞ্চনাটক এবং মুগ্ধ ওয়াটার জোনসহ আরও নানা আকর্ষণ থাকবে।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কনসার্টের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। কনসার্টে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের একটি উপদেষ্টা পরিষদ, যারা অর্থ বিষয়ক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন।

এটি একটি বিশেষ উদ্যোগ, যেখানে সংগীত ও সমাজসেবা একসাথে মিশে গেছে। কনসার্টটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই নয়, বরং একটি মানবিক উদ্যোগও।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সামান্থা রুথ প্রভুর বাবা আর নেই

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু তার প্রিয় বাবা জোসেফ প্রভুকে হারালেন। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) তিনি মারা যান, তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।

আজ সন্ধ্যায় সামান্থা তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক হৃদয়বিদারক পোস্ট দিয়েছেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, “বাবা, যতক্ষণ না তোমার সঙ্গে পুনরায় দেখা হয়।” পাশাপাশি তিনি একটি ভাঙা হৃদয়ের ইমোজি দিয়েছেন, যা তার দুঃখের পরিমাণ নির্দেশ করে।

তেলেগু সিনেমার অভিনেতা তেজা সাজ্জা এক্স (টুইটার) এ পোস্ট করে, “আপনি আপনার বাবার সঙ্গে ভাগ করা স্মৃতিতে শান্তি খুঁজে পেতে পারেন। প্রিয় সামান্থা রুথ প্রভু এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি,” এমনটা লিখেছেন তিনি।

জোসেফ প্রভু এবং নিনেট প্রভুর কন্যা সামান্থা রুথ প্রভু। জোসেফ প্রভু তেলেগু অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান হলেও, তার মা নিনেট মালায়ালি সিরিয়ান। ১৯৮৭ সালে চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করা সামান্থা ২০১০ সালে চলচ্চিত্রে তার পা রাখেন। সামান্থা রুথ প্রভু বারবার তার বাবার অবদান স্বীকার করেছেন, যিনি তার ক্যারিয়ারে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তাকে সাহস যুগিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দুই বছর সময় প্রয়োজন: নুরুল হক নূর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেছেন, রাতারাতি নির্বাচন হলে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। এজন্য অন্তত দুই বছর সময় নিয়ে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

শুক্রবার দুপুরে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার অফিসার্স ক্লাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল হক নূর বলেন, “দেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও অবিশ্বাস প্রকট হয়ে উঠেছে। আমরা একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন চাই, যেখানে রাজনৈতিক পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, শহীদদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশ তাদের কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেছে। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং আমাদের জন্য হতাশার। আমি আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রতিটি শহীদ পরিবারকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই নিজ নিজ সুবিধা এবং পদ-পদবি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছি। যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের পরিবারের পাশে সেভাবে দাঁড়ানো হচ্ছে না। শহীদ পরিবারগুলো যেন অবহেলার শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে শহীদ আতিকের বাবা শাহ আলম হাওলাদার, শহীদ সাগর গাজীর ভাই সোহাগ গাজীসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার এবং উপজেলা শ্রমিক অধিকার সংগঠনের সদস্য সচিব আমির হোসেন।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর মুহিত, গলাচিপা থানার ওসি মো. আসাদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমির জাকির হোসেন, এবং গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব মিয়া।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




কলকাতায় বাংলাদেশের পতাকার অবমাননা, ঢাকার তীব্র নিন্দা উদ্বেগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের বাইরে সংঘবদ্ধ ও সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকালে বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ নামে একটি স্থানীয় সংগঠন এই বিক্ষোভ আয়োজন করে।

সেখানেই বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা। একইসঙ্গে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন ও ভারতে বাংলাদেশের অন্যান্য কূটনৈতিক মিশনের পাশাপাশি কূটনৈতিক এবং অকূটনৈতিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করছে যে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের বাইরে গতকাল বিকালে কলকাতার একটি হিন্দু সংগঠন ‘বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ’ দ্বারা সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। সে সময় বিক্ষোভকারীদের একটি বড় দল আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ থেকে সহিংস হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সীমানায় পৌঁছায়। তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় আগুন দেয় এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে হলেও ডেপুটি হাইকমিশনের সব সদস্যের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা জানায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বাংলাদেশ সরকার।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ, বাংলাদেশ সরকার যেকোনো ধরনের সহিংস কার্যকলাপের নিন্দা জানায়। একইসঙ্গে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন এবং ভারতে বাংলাদেশের অন্যান্য কূটনৈতিক মিশনের পাশাপাশি কূটনৈতিক এবং অ-কূটনৈতিক সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।




পটুয়াখালীতে কৃষক বাজারে গরুর মাংসের কম্বো প্যাকেজ, স্বস্তিতে ক্রেতারা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় এবার কৃষক বাজারে চালু হলো গরুর মাংসের কম্বো প্যাকেজ। শুক্রবার সকাল থেকে পৌর শহরের ভলিবল খেলার মাঠের কৃষক বাজারে এ প্যাকেজ চালুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে।

এ প্যাকেজে ২০০ গ্রাম গরুর মাংস, তিনটি আলু ও তিনটি কাঁচা মরিচের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০০ টাকা। আর ৫০০ গ্রাম গরুর মাংসের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৩২৫ টাকা। স্বল্প মূল্যের এই প্যাকেজ চালু করায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে।

উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আমরা কলাপাড়াবাসী” এর উদ্যোগে গত শনিবার থেকে খাজনামুক্ত এই কৃষক বাজার চালু করা হয়। এখানে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে পারায় বিক্রেতারা যেমন ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন, তেমনি ক্রেতারা নির্ভরযোগ্য দামে মানসম্মত পণ্য পাচ্ছেন।

মহিউদ্দিন নামে এক ক্রেতা বলেন, “কম দামে এই ধরনের প্যাকেজ পেয়ে আমরা খুবই খুশি। গরুর মাংসের সঙ্গে সবজি যুক্ত হওয়ায় এটা আমাদের জন্য দারুণ সুবিধা।”
সাবিনা আক্তার নামে আরেকজন জানান, “বাজারে সাধারণত এই দামে গরুর মাংস পাওয়া যায় না। তাই আমরা অনেকটাই উপকৃত হয়েছি।”

এ বাজারে উপস্থিত বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “খাজনামুক্ত বাজার হওয়ায় আমরা ভালো দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছি। এমন উদ্যোগ আমাদের জন্য অনেক সহায়ক।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ ক্রেতা ও কৃষকদের জন্য উপকারী। আমরা বাজারের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।”

পটুয়াখালীর এই কৃষক বাজারে গরুর মাংসের কম্বো প্যাকেজ চালুর উদ্যোগটি ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য প্রশংসনীয়। এই বাজারটি একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে কিভাবে স্বল্প খরচে সাধারণ মানুষের চাহিদা পূরণ করা যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে ঝুলন্ত অবস্থায় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল শহর ও হিজলা উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) ঝুলন্ত অবস্থায় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে পৃথক দুটি ঘটনায় এ মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

মৃতদের মধ্যে একজন বরিশাল নগরের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা সোহাগ হোসেন (২৩) এবং অপরজন হিজলা উপজেলার পশ্চিম কোড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাজীব বাবুর্চি (২৮)। সোহাগ ছিলেন রিকশাচালক এবং রাজীব কৃষক হিসেবে কাজ করতেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, সোহাগ দুপুরে নগরের মুন্সির গ্যারেজ এলাকায় তার ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জ দিচ্ছিলেন। পরে বিকেলে গ্যারেজ খুলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন, এবং পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ধারণা করছে, সোহাগের মাদকাসক্তি এবং পারিবারিক কলহের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

অন্যদিকে, হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, রাজীব গত দুপরের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। সন্ধ্যায় তার ছোট ভাই তাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ওসি আরো জানান, রাজীব ঋণে জর্জরিত ছিলেন এবং পারিবারিক কলহের কারণে তিনি হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হতাশার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আমাদের স্বাধীন দেশ নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে আলোচনা কেন: পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, “আমাদের দেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের দেশ নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে আলোচনা হবে কেন? আমরা কি স্বাধীন দেশের নাগরিক নই?” তিনি আরও বলেন, “হিন্দুরা এদেশের নাগরিক, তাদের ভালোমন্দ আমরা দেখবো। এটা নিয়ে অন্যদেশে আলোচনা হবে কেন?”

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিল ময়দানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে পীর সাহেব চরমোনাই এ কথা বলেন।

পীর সাহেব বলেন, “দেশের এই পরিস্থিতিতে সকল দলকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। খুনী ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ইসলাম দেশ ও মানবতার পক্ষে আওয়াজ তুললে বাতিল পালাতে বাধ্য হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সাহাবাদের অনুসরণ। রুহানিয়াত ও জেহাদের সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া বিজয় সম্ভব নয়। বিজয় অর্জন করতে হলে অবশ্যই সাহাবাদের অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর রাসূল কে যেই নীতি ও আদর্শ নিয়ে পাঠিয়েছেন, সেই নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যদি এই নীতি ও আদর্শকে বিশ্বাস করেন, তবে আপনার সন্তানকে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

গণজমায়েতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, “যারা দখলবাজি করছে, এরা আধা পাগল। এদের চিকিৎসার জন্য একটি মেন্টাল হসপিটাল তৈরি করা জরুরি। তবে এসব রাজনীতিবিদরা সুস্থ হয়ে দেশ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “একটি সরকার পরিবর্তন করা সহজ, তবে আদর্শ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তত সহজ নয়। এজন্য আদর্শবান সচ্চরিত্রবান প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। মেধাবীদেরকে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আনতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

গণজমায়েতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল বশর আজিজীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসির উদ্দীন, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নেছার উদ্দীন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট বরকত উল্লাহ লতিফ, অ্যাডভোকেট হাছিবুল ইসলাম, জিএম রুহুল আমীন, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, শরিফুল ইসলাম রিয়াদ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এদিন চরমোনাই ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি ও খুৎবা প্রদান করেন নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই হাফিজাহুল্লাহ। জামাতে অংশ নেন বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উলামায়ে কিরাম ও জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

আগামী ৩০ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় হযরত পীর সাহেব চরমোনাই’র আখেরি বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী বিশাল মাহফিলের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

মাহফিলে আসা মুসল্লীদের মধ্যে গতকাল দুইজন বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। উভয়ের জানাযা শেষে মাহফিল হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম