নতুন যুদ্ধবিরতি ও বন্দীবিনিময় চুক্তির প্রস্তাব করেছে ইসরাইল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসকে মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে একটি যুদ্ধবিরতি ও বন্দীবিনিময় চুক্তির প্রস্তাব করেছে ইসরাইল
। এই প্রস্তাবনার সাথে যুক্ত দু’টি ইসরাইলি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নতুন প্রস্তাবে হামাসের সাথে ৪২ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত সময়ের জন্য একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এই সময় নারী, ৫০ বছরের বেশি পুরুষ ও গুরুতর আহত বন্দীদের মধ্যে থেকে ১০০ জনকে মুক্তি দেবে হামাস। আর হামাসের দাবির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে ৩৩ জনের মুক্তি চেয়েছিল। তাদের কেউ কেউ বেঁচে নেই। বাকিদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। এর বাইরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জেরুসালেম পোস্ট জানিয়েছে, সম্প্রতি আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে ইসরাইল। এর মধ্যে রয়েছে গত অক্টোবরে হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে হত্যা করা এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা ইত্যাদি। এছাড়া আগামী জানুয়ারিতে মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরবেন। এসব ইস্যুতে ইসরাইল কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে। সেখান থেকে পূর্ণ মাত্রায় সুবিধা গ্রহণের জন্যই ইসরাইল নতুন কৌশল অবলম্বন করতে যাচ্ছে।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় ইসরাইল নতুনভাবে হামাসকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে গত আগস্ট মাসে তারা যে প্রস্তাবনা রেখেছিল, নতুন চুক্তিটিকে তারই অবিকল বলা যেতে পারে। তবে সেখান থেকে চুক্তির প্রথম পর্যায়টি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ জোর দেয়া হয়েছে।

ইসরাইলি একটি সূত্র বলেছে, মিসরীয় ও কাতারী মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন যে হামাস এখন নতুন যুদ্ধবিরতি ও বন্দীবিনিময় চুক্তিতে সম্মত হতে পারে। যদিও তাতে তাদের দাবির আংশিক প্রতিফলিত হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে সিনিয়র মন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা প্রধানের সাথে বৈঠকের সময় নতুন প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এই পয়েন্টগুলো মিসরীয় গোয়েন্দাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল, যারা তখন কায়রোতে হামাসের প্রতিনিধিদের কাছে পেশ করেছিল।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলেছেন, মিসর বর্তমানে হামাসের সাথে প্রাথমিক আলোচনার চ্যানেল। তবে কাতারও এতে জড়িত রয়েছে।

হামাসের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছে ইসরাইল
হামাসের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এক ইসরাইলি কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা হামাসের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মিসরীয়দের জানানোর জন্য অপেক্ষা করছি। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা জানতে পারব যে হামাস আমাদের উপস্থাপন করা কাঠামোর মধ্যে আলোচনা করতে ইচ্ছুক কিনা।’

হামাস যদি ইতিবাচকভাবে সাড়া দেয়, তাহলে যুদ্ধবিরতির সময়কাল, কত বন্দী মুক্তি দেয়া হবে এবং কাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে, তার মতো বিশদ বিবরণ চূড়ান্ত করতে একটি ইসরাইলি প্রতিনিধি দল কায়রো যাবে।

এদিকে, ইসরাইলি মন্ত্রী রন ডার্মার ওয়াশিংটনে গিয়ে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজের সাথে দেখা করেছেন।

ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, ইসরাইল সমর্থন করে, এমন কোনো বন্দীবিনিময় ও যুদ্ধবিরতির চুক্তি হলে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সেটিকে সমর্থন করবেন।

তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প চান এই ধরনের একটি চুক্তি দ্রুত এবং ২০ জানুয়ারির আগেই যেন সম্পাদিত হয়ে যায়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি স্কাই নিউজকে বলেছে, তিনি এই বিষয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের সাথে যোগাযোগ করছেন।

সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট




কলকাতা-আগরতলা মিশনের প্রধানদের ঢাকায় ফেরানোর সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার উপ-হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা ও ভাঙচু‌রের পর দুই মিশনের প্রধানকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

বৃহস্প‌তিবার (৫ ডি‌সেম্বর) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক‌টি সূত্র এ তথ্য নি‌শ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, কলকাতায় বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার শিকদার মো. আশরাফুর রহমান এবং ত্রিপুরার সহকারী হাইকমিশনার আরিফুর রহমানকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবা‌রে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোম‌ধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন কলকাতায় বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত উপ-হাইকমিশনার শিকদার মো. আশরাফুর রহমান। ত্রিপুরার সহকারী হাইকমিশনারও আজ ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।




পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিএনপির ৫নং ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সমাবেশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শাখার উদ্যোগে ৫নং ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে চিঙ্গুরিয়া মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার।

ওয়ার্ড পৌর শাখা বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন খানের সঞ্চালনায় সমাবেশ শুরু হয়। উদ্বোধক বক্তা হিসেবে কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মোঃ ফারুক বক্তব্য রাখেন। প্রধান বক্তা হিসেবে কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী বক্তব্য প্রদান করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. খন্দকার নাসির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা বাবু নিতাই রায় সরকার প্রমূখ।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ইমরান বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক আনাম সুমন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম সিকদার, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি লিলি বেগম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নার্গিস আক্তার কাজল, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম- আহবায়ক হারুনর রশীদ প্রমূখ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



খাদ্য মূল্যস্ফীতি নাগালের বাইরে, বেড়েছে ১৩.৮০%

নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৮০ শতাংশ, যা গত এক মাসে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তাদের চলতি বছরের নভেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা এবং তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ জনগণের জন্য খাদ্যপণ্যের দাম আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

নভেম্বর মাসে শুধু খাদ্য নয়, সাধারণ মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে। গত মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০.৮৭ শতাংশ, যা নভেম্বর মাসে বেড়ে ১১.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি সামগ্রী, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দামও বেড়েছে। এই সকল কারণে সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ বাড়ছে।

এছাড়া, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা ছিল ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগের সর্বোচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ২০১১ সালের অক্টোবরে, যেখানে ১২.৮২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখানো হয়েছিল।

এদিকে, জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ১৪.১০ শতাংশে পৌঁছেছিল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এআই অ্যাপ: মৃত্যুর সময় জানার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আজ মানুষের জীবনে বিশাল ভূমিকা পালন করছে। রান্নার রেসিপি থেকে শুরু করে চাকরির সিভি লেখা, স্কুলে পড়ানো, অফিসের কাজ, এমনকি নিউজ প্রেজেন্টিং—এআই সব জায়গায় তার দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে।

সম্প্রতি এআই-এর সাহায্যে এমন একটি অ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা মানুষের মৃত্যুর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করতে সক্ষম বলে দাবি করা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে এই অ্যাপটি বাজারে আসার পর থেকেই এটি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

এআই কীভাবে জানাবে মৃত্যুর সময়?

এই অ্যাপটি বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর সময় সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। ব্যবহারকারীর বয়স, উচ্চতা, ওজন, বিএমআই, প্রতিদিনের শারীরিক পরিশ্রম, ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ, জীবনযাপনের ধরন, ধূমপানের অভ্যাসসহ নানা তথ্য সংগ্রহ করে এআই একটি সম্ভাব্য সময় জানায়।

অ্যাপটির ডেভেলপার ব্রেন্ট ফ্যানসন জানান, এটি ১২০০টি লাইফ এক্সপেক্টেন্সি সমীক্ষার তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। অ্যাপটি বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও সাবস্ক্রিপশন বাধ্যতামূলক। এরই মধ্যে এটি ১ লাখ ২৫ হাজার বার ডাউনলোড হয়েছে।

সমালোচনা এবং বাস্তবতা

বিভিন্ন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কারো মৃত্যুর সময় নির্দিষ্ট করে বলা অসম্ভব। তবে রোগীর অবস্থা বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকরা অনুমান করতে পারেন। এআই এই তথ্য বিশ্লেষণ করেই পূর্বাভাস দেয়।

কীভাবে কাজ করে এই অ্যাপ?

অ্যাপটি ব্যবহারকারীর জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন পরামর্শও দিয়ে থাকে। যেমন:

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম

ধূমপান বন্ধ করা

পর্যাপ্ত ঘুম

দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা

অ্যাপের ইতিবাচক দিক

এই অ্যাপটি মূলত ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য সচেতন করতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে মানুষ তাদের জীবনযাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে।

পর্যালোচনা

যদিও মৃত্যুর সময় নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে এআই-এর এই প্রয়োগ মানুষের জীবনধারা পরিবর্তনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এক পরিবার হিসেবে বাংলাদেশি জনগণের সম্মিলিত দায়িত্ব – ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশি জনগণের ঐক্য ও একতার গুরুত্ব তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশি, আমরা এক পরিবারের সদস্য।” তিনি বলেন, “আমাদের নানা মত, নানা ধর্ম, নানা রীতিনীতি থাকবে, তবে পরিবারটা একটিই।”

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি ও জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমরা যে কোনো বিভেদ ছাড়াই এক কাতারে দাঁড়িয়ে এক পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের শত্রু নয়, আমাদের পরস্পরের মাঝে পার্থক্য থাকতে পারে, তবে জাতির প্রশ্নে আমরা এক।”

আরো পড়ুন : আশুলিয়ায় রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন, আব্দুল মতিন পটুয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার

তিনি আরও বলেন, “শপথ গ্রহণের পর আমি শুনেছিলাম সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, তাই আমি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে কিছু দাবি-দাওয়া জানানো হয়েছিল, তার মধ্যে সবার সমান অধিকার দাবি ছিল। এটা সংবিধানের আওতায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এবং আমি তা নিশ্চিত করবো।”

তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার খবর শোনার পর, আমি সবাইকে নিয়ে বসে আলোচনা করলাম। পূজার সময় হামলার আশঙ্কা ছিল, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কিছু বিদেশি গণমাধ্যমের মাধ্যমে যে হামলার খবর প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে মনে হয়। আমি তথ্য যাচাই করতে চাই।”

ড. ইউনূস যোগ করেন, “আমরা প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে চাই, ভুল তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। সরকারের দায়িত্ব হলো সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা।”

তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই – সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান করা। এ কাজের জন্য ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এছাড়া, তিনি ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শ চান, যাতে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও নিরাপদ ও সঠিক হয়। তিনি জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি কক্ষ থেকে সোহান প্রামাণিক নামে এক কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের চর নিশানবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সোহান প্রামাণিক পাবনা জেলার সদর থানার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা মধু প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ওই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ম্যানপাওয়ার গাজী এন্টারপ্রাইজের অধীনে সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত দুই দিন ধরে কাজে যোগ দেননি সোহান। তিনি রুমেই অবস্থান করছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় সহকর্মীরা তাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে দেখেন, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন সোহান।

সোহানের খালাতো ভাই অন্তর জানান, ১৫ দিন আগে তিনি সোহানকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। তবে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ের কারণে সোহান কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। গত দুই দিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে দীর্ঘসময় কথা বলার পর সোহান বাড়ি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের অন্যতম বড় প্রকল্পগুলোর একটি, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা কেন্দ্রের কর্মপরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব হলেন ফয়েজ আহম্মদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের স্পেশাল করেসপনডেন্ট ফয়েজ আহম্মদ।

আজ (বৃহস্পতিবার) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ফয়েজ আহম্মদকে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধান উপদেষ্টার মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) ৫ম গ্রেডভুক্ত ৪৩,০০০-৬৯,৮৫০/- টাকা স্কেলের সর্বোচ্চ ধাপ ৬৯,৮৫০/- টাকা (নির্ধারিত) বেতনে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিবের শূন্য পদের বিপরীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং-এ ‘সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব’ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।




পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল প্রশ্নে চূড়ান্ত রায় ১৭ ডিসেম্বর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ বেশকিছু বিষয়ে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, এই মর্মে জারি করা রুলের রায়ের জন্য আগামী ১৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

দীর্ঘ ২৩ কার্যদিবস শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন। রিটকারী সুজনের বদিউল আলমের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান, চার আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ।

এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলে বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পক্ষভুক্ত হন। এরপর ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম, চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।




শেখ হাসিনার বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারে ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জুলাই-আগস্ট গণহত্যা মামলার প্রধান আসামি ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা আগে যত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন তা সব মাধ্যম থেকে সরাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই বিচারপতির ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

তথ্য সচিব, তথ্য ও প্রযুক্তি সচিব ও বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে এ আদেশ এখন থেকেই বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।