বরিশাল মহানগর বিএনপির বিভেদ মেটাতে গুলশানে সমঝোতা বৈঠক

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বরিশাল মহানগর বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত ও চার ভাগে বিভক্ত। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্যোগে ঢাকার গুলশানে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. জে এম জাহিদ হোসেন, বরিশাল সদর-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, মাহাবুবুল হক নান্নু, মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্যসচিব জিয়া উদ্দীন সিকদার এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাছরিন

বৈঠকে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, তার পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। আফরোজা খানম নাছরিন বলেন,“আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে কথা দিয়েছি, দলের যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক না কেন, তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। তবে সবাই একই ব্লকে যুক্ত নয়।”

বৈঠকে বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান উল্লেখ করেন, জেলা সদর আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশি নেতারা জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যভাবে সমালোচনা করছেন। এতে ব্যক্তির নয়, বরং দলের ক্ষতি হচ্ছে। বৈঠকে এই পরিস্থিতি বন্ধ করার এবং মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। প্রধান বিরোধী বলয়গুলো ছিলেন:

  • আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,
  • সদস্য সচিব জিয়া উদ্দীন সিকদার জিয়া,
  • সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,
  • যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন সরোয়ার

এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন সরোয়ার নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন। বর্তমানে বরিশাল মহানগর বিএনপিতে চারটি সক্রিয় গ্রুপ ও একাধিক উপগ্রুপ রয়েছে, যা দলকে অনেকটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় রাখছে।

রাজধানীতে এই সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় আশা করা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে বরিশাল বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দলীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার নদীতে ফের জেলেদের সরব উপস্থিতি, প্রস্তুত তিন লাখ মৎস্যজীবী

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও জীবন ফিরে পাচ্ছে ভোলার নদ-নদীগুলো। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকেই মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নামবেন জেলার প্রায় তিন লাখ জেলে। এরইমধ্যে জেলেপল্লিগুলোতে চলছে নৌকা, ট্রলার ও জাল মেরামতের ব্যস্ততা। বহু কষ্টের পর ইলিশ শিকারে নামতে পেরে আনন্দে মুখর তারা।

শুক্রবার দুপুরে ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জেলেরা নদীতে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুরোদমে। কেউ নতুন জাল কিনছেন, কেউ ট্রলার মেরামত করছেন, আবার কেউ পুরোনো নৌকায় নতুন করে রঙ করছেন। দীর্ঘ ২২ দিন আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় অনেকেই ধারদেনা করে প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করেছেন।

স্থানীয় জেলে সুমন মাঝিসোহেল মাঝি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় আমরা আবার নদীতে নামব। ধারদেনা করে নতুন জাল কিনেছি। আশা করছি, এবার পর্যাপ্ত ইলিশ পাব এবং ঋণ শোধ করতে পারব।”

অন্যদিকে খলিল মাঝিজাকির মাঝি জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা পেয়েছেন, তবে বাকিটা নিজেরাই সামলাতে হয়েছে। তারা বলেন, “এই সময়টা খুব কষ্টে কেটেছে। এখন নদীতে ভালো মাছ পেলে সব দুঃখ কেটে যাবে।”

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, “নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা যেন নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকার করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে। আশা করি, এবার নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ মিলবে, আর জেলেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।”

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ভোলার সাত উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে দুই শতাধিক জেলেকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক জেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা দেওয়া হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ছিল। জেলার সাত উপজেলায় প্রায় তিন লাখ জেলে জীবিকা নির্বাহ করেন, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার সরকারিভাবে নিবন্ধিত।

জেলেরা এখন আশা করছেন—এই মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়লে সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে জীবনযুদ্ধে নামতে পারবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নতুন কমিটি গঠন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি প্রতিরোধে নতুন অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কমিটি গঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর ২০২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীনের স্বাক্ষরে এক অফিস আদেশে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেহানা পারভীন। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—

  • আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সরদার কায়সার আহমেদ,
  • বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও বরিশাল জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাফরুন নেছা রোজী,
  • মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, বরিশালের প্রোগ্রাম অফিসার জাহানারা পারভীন,
  • ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খাদিজা আক্তার (সদস্য-সচিব)।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট কর্তৃক যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকি ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এবারের বিপিএলে থাকছে না ফরচুন বরিশাল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আসন্ন আসরে অংশ নিচ্ছে না আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ফরচুন বরিশাল। টানা দুই আসরে দাপটের সঙ্গে শিরোপা জেতা দক্ষিণাঞ্চলের এই দলটি আর্থিক সংকটের কারণে এবারের আসর থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে।

বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে বরিশাল ছিল সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় দল। সর্বশেষ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক মিজানুর রহমান জানিয়েছিলেন, নতুন মৌসুমেও শক্তিশালী দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “ফরচুন বরিশালের মালিক মিজান ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এত অল্প সময়ে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব নয়। আমরা ২৮ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এরপরও যদি তারা বিড না করেন, তাহলে আর কিছু করার থাকবে না।”

সূত্র জানায়, এবারের বিপিএলে অংশ নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে ১০ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। এখনো পর্যন্ত কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আনুষ্ঠানিকভাবে ফরম জমা দেয়নি, তবে সাত-আটটি কোম্পানি দল নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইফতেখার রহমান আরও বলেন, “যদি কেউ ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে না পারে, তাহলে দ্বিতীয় অপশনে যাবে বিসিবি। গ্যারান্টি ছাড়া কাউকে দল দেওয়া হবে না।”

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্লেয়ার ড্রাফট, এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মাঠে গড়াবে দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট—বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)।

ফরচুন বরিশালের অনুপস্থিতিতে এবারের বিপিএলে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির আগমন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাকেরগঞ্জে দুই সড়ক এখন মরণ ফাঁদ, চরম দুর্ভোগে দুই গ্রামের মানুষ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাগুলোর ইটসোলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় দুই গ্রামের হাজারো মানুষকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরাদি ইউনিয়নের রানীরহাট বাজার থেকে পশ্চিম চরাদি গ্রামের হয়ে রাজাখালী খেয়াঘাট হয়ে দবদপিয়া-ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সড়ক এবং হলতা বাজার থেকে মধ্য চরাদি হয়ে বরিশাল-দুমকি আঞ্চলিক সড়ক পর্যন্ত অপর সড়কটি বছরের পর বছর সংস্কারবিহীন পড়ে আছে। এর মধ্যে হলতা বাজার সড়কটিতে প্রায় পাঁচ বছর ধরে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

রানীরহাট বাজার সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন।

মধ্য চরাদি গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও কষ্টকর হয়ে গেছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে যাওয়া এখন দুর্ভোগের নামান্তর।”

অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক বারেক হাওলাদার জানান, “হলতা বাজার সড়কে এত গর্ত যে আমরা বাশ ও কাঠ দিয়ে নিজেরাই সাঁকো বানিয়ে চলাচল করি। কৃষিপণ্য মাথায় করে বাজারে নিতে হয়। পাঁচ বছর ধরে কোনো উন্নয়ন হয়নি।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, হলতা বাজার সড়কটির ইটসোলিং উঠে গিয়ে কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। রাস্তার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চরাদি খালের ভাঙনে একাধিক স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। আর রানীরহাট বাজার সড়কটি প্রায় ৩ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙাচোরা ও কাদা-পানিতে ভরা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, চরাদি ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

চরাদি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, “দুই সড়কের বিষয়ে এলজিইডিকে বারবার অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসনাইন আহমেদ বলেন, “সড়ক দুটির বিষয়টি জানা আছে। পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এই দুই সড়ক সংস্কার করে যাতায়াতের উপযোগী করা না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরফ্যাশনের গাছিরখাল লঞ্চঘাটে পন্টুন স্থাপন, উদ্যোগে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর গাছিরখাল লঞ্চঘাটে অবশেষে বসানো হয়েছে নতুন একটি পন্টুন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এ পন্টুনটি স্থাপন করেছে। এ উদ্যোগে বিশেষ ভূমিকা রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ভোলা-৪ (চরফ্যাশন–মনপুরা) আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।

বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পন্টুনটি গাছিরখাল ঘাটে পৌঁছায়। পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া নিজে ঘাটে গিয়ে পন্টুন স্থাপনের কাজ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় তিনি বলেন, “গণমানুষের সেবাই আমার রাজনীতি। এই এলাকার মানুষ বহু বছর ধরে নদীপথে ভোগান্তিতে ছিল। আজ সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে, এটি আমার জন্য বড় সন্তুষ্টি।” তিনি আরও আশ্বাস দেন, নুরাবাদসহ পুরো চরফ্যাশন ও মনপুরার উন্নয়নে তিনি ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন।

নতুন পন্টুন স্থাপনের ফলে গাছিরখাল, নুরাবাদ ও আশপাশের গ্রামের হাজারো মানুষ এখন থেকে নিরাপদে ও সহজে নৌপথে চলাচল করতে পারবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

পরে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আহমদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামে তাঁর নিজ অর্থায়নে নির্মিতব্য দোতলা মসজিদের কাজ পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার আশ্বাস দেন।

জুমার নামাজ শেষে তিনি চরফ্যাশন শহরের একটি এতিমখানায় অনাথ শিশুদের সঙ্গে বসে দুপুরের খাবার খান এবং তাদের হাতে খাবার তুলে দেন।

এরপর বিকেল ৪টায় চরফ্যাশন টিবি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত “শহীদ জিয়া স্মৃতি সিটি হকিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬”-এর ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় তিনি বলেন,
“খেলাধুলা সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখে। তাই সমাজের প্রতিটি স্তরে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে হবে।”

তিনি চরফ্যাশন ও মনপুরার তরুণদের খেলাধুলা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সব সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকা-বরিশাল রুটে আবারও চালু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার ‘পি এস মাহসুদ’

বাংলাদেশের নৌযান ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতীক ‘পি এস মাহসুদ’ আবারও ফিরছে নদীপথে। ঢাকা–বরিশাল নৌরুটে শতবর্ষী এই প্যাডেল স্টিমারটি আধুনিক রূপে চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর সদরঘাট থেকে পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করে ঐতিহাসিক স্টিমারটি। এতে অংশ নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “পি এস মাহসুদ শুধু একটি নৌযান নয়, এটি বাংলাদেশের নদীজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বহু বছর পর এটি আবারও মানুষকে নদীর সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ করে দেবে।”

তিনি আরও জানান, আগামী ১৫ নভেম্বর জমকালো উদ্বোধনের মাধ্যমে স্টিমারটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা–বরিশাল রুটে নিয়মিত পর্যটন সার্ভিস হিসেবে চলাচল শুরু করবে।

দীর্ঘদিন সংরক্ষণের পর এই ঐতিহ্যবাহী জলযানকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। সংস্কারকাজে মূল কাঠামো ও ঐতিহাসিক নকশা অক্ষুণ্ণ রেখে ইঞ্জিন, ফায়ার সেফটি, নেভিগেশন সিস্টেম এবং যাত্রী নিরাপত্তা সরঞ্জাম সম্পূর্ণ নবায়ন করা হয়েছে। এতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক কেবিন, পর্যটক-বান্ধব ডেক, ডিজিটাল নেভিগেশন ব্যবস্থা, জিপিএস, এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা সরঞ্জাম।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার ঢাকা থেকে বরিশাল এবং শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকা পর্যন্ত চলবে পি এস মাহসুদ। যাত্রীরা এই ভ্রমণে উপভোগ করতে পারবেন নদীর সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

উপদেষ্টা আরও জানান, ‘পি এস মাহসুদ’-এর পাশাপাশি আরও তিনটি পুরনো স্টিমার—পি.এস অস্ট্রিচ, পি.এস লেপচা ও পি.এস টার্ন—সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য নদীপথের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করা।

স্টিমার পরিচালনায় থাকবেন ২৫ জন প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা ও নাবিক। পরিবেশবান্ধব নতুন ইঞ্জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এটি নদীপথে দূষণ কমাবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) দেলোয়ারা বেগম, বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নারায়ণগঞ্জের নৈশপ্রহরী হত্যা মামলার প্রধান আসামি পটুয়াখালীতে গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জে নৈশপ্রহরী আবু হানিফকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি অপু (২৫)–কে হত্যার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্প।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি বিশেষ অভিযানিক দল কলাপাড়া থানার বলিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অপুকে আটক করে। সে নারায়ণগঞ্জের মহসিন ক্লাব এলাকার হিরা মিয়ার ছেলে।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর দুপুরে শিশু সানজিদা নামের ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নৈশপ্রহরী আবু হানিফকে সন্দেহভাজন হিসেবে কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সুন্দরবন মাঠ, সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিপরীতে এবং পরে খানপুর মেট্রো হলের পশ্চিম পাশে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মারধর করা হয়। এ সময় ইট, লাঠি ও ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি।

স্থানীয়রা আহত অবস্থায় হানিফকে খানপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে রাতেই তিনি মারা যান। নিহত হানিফের বাড়ি বাগেরহাট জেলার শরণখোলায় হলেও তিনি নারায়ণগঞ্জের খানপুর এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হযরত আলী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলো অপু। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপু হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে।

র‌্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মো. রাশেদুল আহসান বলেন, “চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারে র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে মূল অভিযুক্তকে কলাপাড়া থেকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে এবং এতে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। তারা দ্রুত সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিএম কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজে (বিএম কলেজ) দীর্ঘ ২৪ বছর পর ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় কলেজে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার প্রতিফলন ঘটছে না। তাঁরা বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চাই। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দিতে হবে, নইলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দাবিতে গত এক মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও প্রশাসন তা আমলে নিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে আজ তাঁরা প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন।

একজন আন্দোলনকারী ছাত্র বলেন, “৩২ হাজার শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। ছাত্র সংসদ থাকলে শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাবি আদায় ও সমস্যার সমাধান করা যেত। কিন্তু এত বছরেও নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত।”

এ বিষয়ে বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্যাতিতা সালমা আক্তারের মাথা গোঁজার ঠাঁই

বরিশালের জেলা প্রশাসনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন নির্যাতিতা সালমা আক্তার। দীর্ঘ দুই দশকের সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তার পর বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মিত ঘরটি সালমার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বিমানবন্দর সংলগ্ন রহমতপুর এলাকায় ঘরটি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।

২০০২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিজের চাচাতো ভাইয়ের হাতে নির্যাতনের শিকার হন সালমা আক্তার। এ ঘটনার পর পরিবারসহ সমাজচ্যুত হন তিনি। মামলার পর ২০১১ সালে বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত চাচাতো ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সালমার গর্ভজাত সন্তানকে ২১ বছর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ভরণপোষণের নির্দেশ দেন।

কিন্তু সেই অর্থের বেশিরভাগই পরিবারের অন্য সদস্যদের পেছনে ব্যয় হয়ে যায়। বর্তমানে সালমার সন্তান স্থানীয় একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়ন করছে।

জেলা প্রশাসক বিষয়টি জানতে পেরে সালমার জন্য প্রথমে জমি কিনে দেন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি আধা-পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বৃহস্পতিবার ঘরটি সালমার হাতে তুলে দেওয়ার সময় আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি।

ঘর পেয়ে সালমা বলেন,এখন আমার ও আমার সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। আমি শান্তিতে বাঁচতে পারব। এজন্য আমি জেলা প্রশাসকসহ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও অনুরোধ জানান, সমাজ যেন তার মতো আর কোনো নারীর জীবনে এমন দুর্ভাগ্যের পুনরাবৃত্তি না ঘটতে দেয়।