চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রী বিক্রম মিশ্রির বাংলাদেশ সফরের পর এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকের ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকের ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
সফরের দুদিন পর বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এক সরকারি সফরে ঢাকায় গিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মিশ্রি একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা এবং একে অপরের উদ্বেগ ও স্বার্থের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারতের ইচ্ছার কথাও পুনরায় ঘোষণা করেন তিনি।
বিবৃতি মতে, ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রধান স্টেকহোল্ডার এবং উল্লেখ করেছেন যে, আন্তঃযোগাযোগ, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা ও বহুমুখী সম্পৃক্ততা, সমস্ত কিছু বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পররাষ্ট্রসচিব কিছু সাম্প্রতিক ঘটনা ও সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং ভারতের উদ্বেগ, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তিনি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও কূটনৈতিক স্থাপনার ওপর হামলাকে দুঃখজনক ঘটনা বলেও উত্থাপন করেন।
ফরেন অফিস কনসাল্টেশনস তথা পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে উভয়পক্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, বাণিজ্য ও সংযোগ, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, উন্নয়ন সহযোগিতা, কনস্যুলার, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছেন।
উভয় পররাষ্ট্রসচিব উপ-আঞ্চলিক, আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক বিষয়েও মতবিনিময় করেছেন এবং বিমসটেক কাঠামোর অধীনে আঞ্চলিক অখণ্ডতা এগিয়ে নিতে পরামর্শ ও সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছেন।
আরও বলা হয়, পররাষ্ট্র সচিবের এই সফর উদ্বেগ দূর করার পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সহায়ক হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা সফরে আসেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। দিনব্যাপী ব্যস্ত সময় কাটিয়ে রাতেই ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।