পবিপ্রবি বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘বিজয়-২৪ হল’

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’ রাখা হয়েছে। ১২ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে শিক্ষার্থীরা পূর্বের নাম ফলক ভেঙে নতুন ব্যানার টানিয়ে এই নামকরণ করেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নামকরণ জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের স্মরণে করা হয়েছে। পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা ফ্যাসিস্ট প্রতীককে উপড়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের চেতনার প্রতীক হিসেবে বিজয়-২৪ নামকরণ করেছি।” একই কথা বলেন আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী নুরুন্নবী সোহান। তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লব আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ের চেতনা। আমরা যেনো সবসময় এই চেতনায় অটল থাকতে পারি, সেজন্য হলের নাম বিজয়-২৪ রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মাসুদুর রহমান জানান, “নাম পরিবর্তনের বিষয়টি শুনেছি, তবে এটি রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়।”

পবিপ্রবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বলেন, “নাম পরিবর্তনের বিষয়ে স্মারকলিপি পাওয়া গেছে। তবে দাপ্তরিকভাবে নাম পরিবর্তনের জন্য রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন।”

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি স্থাপনার নাম ‘বিজয়-২৪’ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত নভেম্বর মাসে প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে নাম পরিবর্তনের দাবির কথা উল্লেখ করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা রুটিন প্রকাশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে। এদিকে এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করা হয়। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ওয়েবসাইটে কেন্দ্র ও কেন্দ্রওয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়।




বাশারের পতনে সবচেয়ে বড় বিজয় হলো তুরস্কের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাশার আল–আসাদের উৎখাত এবং তাঁর মস্কো পলায়নের মধ্য দিয়ে সিরিয়ার প্রায় ৬০ বছরের বাথ–দলীয় শাসনব্যবস্থার অবসান হয়েছে।

সাদ্দাম হোসেনের আগ্রাসনের কালে সিরিয়া ইরানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এর প্রতিদানে ২০১১–১৭ সাল পর্যন্ত সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেট ও আল–কায়েদার আক্রমণ মোকাবিলায় বাশার আল–আসাদের সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিল ইরান।

রাশিয়া, ইরান এবং প্রতিরোধের অক্ষ বলে পরিচিত ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্মিলিত জোট ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পরাজিত করেছিল এবং আরব দেশ দুটির সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।




বাউফলে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনএম জাহাঙ্গির হোসেনকে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দাশপাড়া ইউনিয়নের ল্যাড়া মুন্সীর ব্রিজের কাছে চেয়ারম্যানের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০-৫০ জন লোক অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার সময় চেয়ারম্যান এনএম জাহাঙ্গির হোসেন তার বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। তিনি পুলিশকে সহায়তা চাইলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

চেয়ারম্যানের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা প্রথমে অফিসের সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ৪৫ বস্তা চাল এবং জরুরি কাগজপত্র নিয়ে যায়। এরপর অফিসের আসবাবপত্র বাইরে এনে পুড়িয়ে ফেলে। এ সময় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলে যায়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা ফের এসে তাণ্ডব চালায়।

বাউফল থানার এসআই হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খলিলুর রহমানের দায়ের করা মামলায় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির হোসেনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোয়েল মোল্লাকেও (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকেও একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যেসব ‘শর্তে’ ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক চাইছে দিল্লি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি গত সোমবার ঢাকায় এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন এমন এক আবহে, যা দিল্লির জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল বলা যাবে না। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত সরকারের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে যেরকম অভ্যর্থনা ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখতে অভ্যস্ত ছিলেন, বিক্রম মিশ্রি যে তার ছিটেফোঁটাও পাননি, তা বলার অপেক্ষাই রাখে না!

ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কও গত কয়েক দিনে নানা কারণে তলানিতে ঠেকেছিল, তারও প্রতিফলন সেই বৈঠকে অবশ্যই পড়েছিল।

পররাষ্ট্র সচিব ঢাকায় গিয়ে কথাবার্তা বলে এলেন, তাদের উপদেষ্টাদের সঙ্গে দেখা করে এলেন– তার মানে সব আবার আগের মতো ঠিকঠাক চলছে এটা ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে কী কী করা দরকার, এই আলোচনার মূল ফোকাসটা কিন্তু ছিল সেখানেই’, বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন দিল্লির সাউথ ব্লকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানাচ্ছেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে একটা সুস্থ ‘ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ’ বা কাজের সম্পর্ক রাখার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, তা নিয়ে বৈঠকে দু’পক্ষের মধ্যে খোলাখুলি আলোচনা হয়েছে।

বস্তুত, ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ওই বৈঠক আদৌ হবে কিনা, অনিশ্চয়তা ছিল তা নিয়েও। বাংলাদেশ বৈঠকের সব প্রস্তুতি সেরে রাখলেও দ্বিধা ছিল ভারতের দিক থেকেই। কিন্তু ভারত প্রায় শেষ মুহূর্তে বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করে– কারণ দিল্লি মনে করেছিল এই প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে ঢাকাকে কিছু জরুরি বার্তা দেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশ যেমন ভারতের কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশা কী, সেটা তুলে ধরেছে– তেমনই ভারতও জানিয়েছে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে তাদেরও কিছু ‘কন্ডিশন’ বা শর্ত আছে। ভারতের বক্তব্য ছিল— বাংলাদেশের সঙ্গে বিগত বহু বছর ধরে তারা বিভিন্ন খাতে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, তা রাতারাতি বন্ধ করাটা কোনও কাজের কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতায় সেই সম্পর্কটা বজায় রাখতে হলে ভারতেরও কিছু দাবি-দাওয়া বা শর্ত আছে!

মনে রাখতে হবে, ঢাকার বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলন করলেও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি কিন্তু সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্ন নেননি। দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি এই বার্তাটা দিতেই ভারত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাজি হয়নি; বরং তাদের দেওয়া সব শর্ত পূরণ হলে তবেই আবার পুরোনো প্রটোকলে ফেরা সম্ভব– এটাই বোঝাতে চেয়েছে!

এখন প্রশ্ন হলো, ভারতের দেওয়া এই শর্তগুলো কী কী?

দিল্লিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে বাংলা ট্রিবিউন জানতে পেরেছে, ভারতের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে প্রধানত তিনটি শর্তের ওপর। সেগুলো কী, এই প্রতিবেদনে সেটাই তুলে ধরা হলো।

১. ‘এনগেজমেন্ট হবে লিমিটেড’

ভারত একটা জিনিস ঢাকার কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের একটি ‘অন্তর্বর্তী সরকারের’ সঙ্গে কখনোই ‘ফুল এনগেজমেন্টে’ যাবে না। দিল্লির বক্তব্য হলো, ভারতে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলেও বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের সাংবিধানিক ভিত্তি বা নির্দিষ্ট ম্যান্ডেট কী, সেটাই পরিষ্কার নয়!

আর যদি কিছু থেকেও থাকে, তাহলে ভারতের দৃষ্টিতে তাদের মূল দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করা– এর বেশি কিছু নয়।

অন্যভাবে বললে, নরেন্দ্র মোদি সরকার মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের সঙ্গে এমন কোনও আলোচনায় যাবে না, যেখানে দ্বিপাক্ষিক কোনও ইস্যুতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন আসবে। ভারত ঢাকাকে জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই নেওয়া হবে– তার আগে নয়।

আর যতদিন না এটা হচ্ছে ততদিন বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বা আমলা পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে, কিন্তু মন্ত্রীরা কোনও গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বা চুক্তি করবেন না। তবে যেসব চুক্তি আগে থেকেই বহাল আছে সেগুলো যেমন চলছিল চলবে।

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলছিলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক যখন একেবারেই ভালো নয়, তখনও কিন্তু নভেম্বরের মাঝামাঝি দুই দেশের মধ্যে গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সফল আলোচনা হয়েছে, নথিপত্র বিনিময় হয়েছে! কিন্তু চুক্তির নবায়ন নিয়ে যা-ই সিদ্ধান্ত হোক, সেটা কিন্তু সে দেশের পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।’

সুতরাং, ভারতের দিক থেকে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, আপাতত দুই সরকারের মধ্যে এনগেজমেন্টের পরিধি ও পরিসর ‘সীমিত’ থাকবে, এই বাস্তবতা ঢাকাকে মেনে নিয়েই চলতে হবে।

২. হিন্দুদের সুরক্ষা, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সুবিচার

ভারতের দিক থেকে এই দ্বিতীয় শর্তটাই সবচেয়ে জোরালোভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে– আর তা হলো যেকোনও মূল্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এই বার্তাই ঢাকাকে দিয়েছেন যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলো যদি অন্তর্বর্তী সরকার বেমালুম অস্বীকার করতে থাকে, তাহলে তা দিল্লির কাছে কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হবে না।

ভারতের সংবাদমাধ্যম যে এই ঘটনাগুলো বেশ ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বা অতিরঞ্জিত করে পেশ করছে— তা অবশ্য তিনিও প্রকারান্তরে মেনে নিয়েছেন, কিন্তু তার মানে এরকম কোনও ঘটনাই ঘটছে না বলে ঢাকা যে পাল্টা দাবি করছে, সেটিও দিল্লি মানতে পারছে না।

প্রসঙ্গত, বিক্রম মিশ্রির সফরের অব্যবহিত পরেই বাংলাদেশে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সে দেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে ঘটা অন্তত ৮৮টি নির্যাতনের ঘটনার একটি তালিকাও পেশ করা হয়েছে, যেটিকে ভারত ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবেই দেখছে।

এছাড়া বৈঠকে অবধারিতভাবে এসেছে সনাতন জাগরণ মঞ্চের নেতা তথা ইসকন সন্ন্যাসী (সাবেক) চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের প্রসঙ্গ।

ভারত জানিয়েছে, যে দেশদ্রোহের অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আটক করা হয়েছে তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে, কিন্তু তাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে না, জামিন অস্বীকার করা হবে, অথবা তার হয়ে কোনও আইনজীবীও দাঁড়াবেন না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। একজন হিন্দু সন্ন্যাসীকে আটকের ঘটনা যে ভারতেও হিন্দুদের মধ্যে প্রবল বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, ঢাকাকে জানানো হয়েছে সে কথাও।

ভারতের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক সম্পর্ক’ চাইলে এই ইস্যুগুলোকে যে অবিলম্বে ‘অ্যাড্রেস’ করতে হবে, এটা পররাষ্ট্র সচিব পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

ভারতের সাবেক কূটনীতিবিদ ও ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ভিনা সিক্রি বলছিলেন, ‘আমি যতদূর খবর পেয়েছি, বিক্রম (মিশ্রি) ঢাকায় গিয়ে বলে এসেছে—আমরাও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চাই, অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো শেষ করতে চাই।’

‘কিন্তু এটা তখনই সম্ভব হবে যখন আপনারা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় জিরো টলারেন্স দেখাতে পারবেন, নচেৎ নয়!’, জানাচ্ছেন তিনি।

৩. শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ উত্থাপন নয়

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে বিগত কয়েক মাস ধরে একটি চরম অস্বস্তির বিষয় হয়ে রয়েছে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি এবং সেখান থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া তার নানা রাজনৈতিক বিবৃতি, ভাষণ বা শলাপরামর্শ।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বারবার বলে এসেছে, গত ৫ আগস্ট পতিত স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে ও তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে ভারত আসলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিষিয়ে তুলছে এবং দিল্লির উচিত হবে তার রাশ টেনে ধরা!

এখানে ভারত পাল্টা যুক্তি দিয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতের অতিথি এবং একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি ভারতে সাময়িকভাবে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন, যা মঞ্জুর করা হয়েছে। তিনি ভারতে গৃহবন্দিও নন, কোনও রাজনৈতিক বন্দিও নন– কাজেই বাইরের জগতের সঙ্গে তার সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করারও প্রশ্ন ওঠে না।

এখন সেটাকে কাজে লাগিয়ে তিনি যদি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন, তাহলে ভারতের সেখানে সত্যিই করার কিছু থাকতে পারে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তার সব বক্তব্য বা কাজকর্মেও ভারতের সমর্থন আছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে ফেরার পর দিল্লিতে পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে বিক্রম মিশ্রিও ভারতের এমপিদের কাছে ঠিক একই বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

এ প্রসঙ্গে ভারত আর একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টও তুলে ধরেছে– তা হলো শেখ হাসিনা কিন্তু ভারতে এসেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রচ্ছন্ন সমর্থনেই। তাকে ভারতে বহন করে নিয়ে এসেছিল বাংলাদেশের একটি মিলিটারি এয়ারক্র্যাফট, তার জন্য ভারতের কাছে অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল সেনাবাহিনীর তরফে।

কাজেই শেখ হাসিনার দেশত্যাগ যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষেই হয়েছিল এবং তারপর থেকে সে দেশের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বেও কোনও পরিবর্তন হয়নি– এই বিষয়টিও দিল্লির পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শীর্ষস্থানীয় সূত্র জানাচ্ছেন, শেখ হাসিনাকে আতিথেয়তা দেওয়াটা যে ভারতের একটা ‘কমপালশন’– এটা কোনও প্ররোচনামূলক পদক্ষেপ নয়– সেই বাস্তবতাটা উপলব্ধি করতে ঢাকাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এটাও বলা হয়েছে, সুস্থ ও স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বার্থে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গটি আলোচনার বাইরে রাখলেই উভয় পক্ষের জন্য তা মঙ্গলজনক হবে বলে ভারত মনে করে।

এখন ভারতের দেওয়া এই ‘শর্ত’গুলো বাংলাদেশ কতটা মানতে রাজি হবে সেটা আগামী দিনে বোঝা যাবে। ঢাকার পক্ষ থেকেও যেসব প্রত্যাশা বা দাবিদাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে ভারত কী মনোভাব নেয়, সেটা বুঝতেও কিছুটা সময় লাগবে।

কিন্তু ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের রূপরেখায় উন্নতির আভাস দেখা যাবে, নাকি তলানিতে হাবুডুবু খাবে, তা নির্ভর করবে এই পারস্পরিক শর্তগুলো উভয়পক্ষ মানতে রাজি হয় কিনা, তার ওপর!




সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার মধ্যে এরদোয়ানের ‘ঐতিহাসিক পুনর্মিলন’ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের ঐতিহাসিক পুনর্মিলনের প্রশংসা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার মাধ্যমে সোমালিয়ার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ অবসানের সমঝোতা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।

শান্তি আলোচনা শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, উভয় পক্ষই নিজেদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শান্তি এবং সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি নতুন সূচনার প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা।

তুরস্কের লক্ষ্য হলো আফ্রিকার এই অঞ্চলটিতে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা। এরদোয়ান আরও বলেন, সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার যৌথ বিবৃতি পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতা ও সমৃদ্ধির একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করবে।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহাম্মদ তুরস্কের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তার দেশ সবসময় ইথিওপিয়ার ‘সত্যিকারের বন্ধু’ ছিল এবং থাকবে।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনাকে ‘পারিবারিক সংলাপ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর ফলে উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক ফলাফল এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এই সমঝোতা ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৯০-এর দশকে ইরিত্রিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের (১৯৬১-১৯৯১) পর লোহিত সাগরের বন্দরগুলো হারায় ইথিওপিয়া। ১৯৯১ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর ইথিওপিয়া সমুদ্রপথে সরাসরি প্রবেশাধিকার হারায়। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সোমালিল্যান্ডের লোহিত সাগরের বন্দর বেরবেরা ব্যবহারের অনুমতি পায় ইথিওপিয়া। এরপর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনাকে ‘পারিবারিক সংলাপ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এর ফলে উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক ফলাফল এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এই সমঝোতা ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার মধ্যে নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১৯৯০-এর দশকে ইরিত্রিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের (১৯৬১-১৯৯১) পর লোহিত সাগরের বন্দরগুলো হারায় ইথিওপিয়া। ১৯৯১ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীন হওয়ার পর ইথিওপিয়া সমুদ্রপথে সরাসরি প্রবেশাধিকার হারায়। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সোমালিল্যান্ডের লোহিত সাগরের বন্দর বেরবেরা ব্যবহারের অনুমতি পায় ইথিওপিয়া। এরপর থেকেই দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে।




আসছে শৈত্যপ্রবাহ, বাড়বে শীতের তীব্রতা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সারা দেশে শীতের তীব্রতার সঙ্গে বাড়ছে কুয়াশার দাপট। এরই মধ্যে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে কাঁপন ধরিয়েছে শীত। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই দেশে দেখা দিতে পারে প্রথম শৈত্যপ্রবাহ। এর ফলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী ১৬ তারিখ থেকে কুয়াশা আরও বাড়বে।

এ ছাড়া দু-একদিনের মধ্যেই বয়ে যেতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। এ কয়দিন সূর্যের দেখা পেতে দুপুর হবে এবং আজ থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে।

শাহনাজ সুলতানা জানান, এখনও দেশে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও দু-একদিনেই হবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সূর্য না উঠলে শীতের অনুভব বেশি হবে। বঙ্গোপসাগরের সুস্পষ্ট লঘুচপের প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না। এ ছাড়া এ মাসে একাধিক তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে উত্তরবঙ্গে।

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিরাজমান লঘুচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এমন অবস্থায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে চুয়াডাঙ্গায় বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তবে কনকনে হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন।

আজ সকালে ঢাকার তাপমাত্রা ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পরিমাপ করেছে আবহাওয়া অফিস। বাতাসে ৯৩ শতাংশ আর্দ্রতা রেকর্ড করা হয়েছে।




কুয়াকাটার সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে কুয়াকাটা পৌর বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান। তিনি সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

দুর্নীতি ও অপকর্মের অভিযোগ

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, আনোয়ার হাওলাদার গরিব মানুষের সম্পত্তি দখল, সালিশ বাণিজ্য এবং পৌরসভার ইজারার নামে বাজার থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। উন্নয়নের নামে আত্মীয়স্বজন দিয়ে টেন্ডার বাণিজ্য করাসহ সমুদ্র সৈকতে সুরক্ষা কাজের নামে বিপুল অর্থের অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান করেছে।

বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, আনোয়ার হাওলাদার স্বৈরাচার সরকারের সহযোগী হয়ে ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। ২৪-এর আন্দোলন নস্যাৎ করতে উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং সশস্ত্র মহড়া দেন। ফেসবুকে বিএনপি নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পোস্ট করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করারও অভিযোগ তোলেন নেতারা।

বক্তব্যে জানানো হয়, আনোয়ার হাওলাদার ঘুষ ও প্রভাব খাটিয়ে কুয়াকাটার কেরানিপাড়ার রাখাইন হত্যা মামলায় আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করেন। এ বিষয়ে কলাপাড়া ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর ২৫০/২২)। সিআইডি তদন্ত করে তাকে অভিযুক্ত করে।

অভিযোগের বিষয়ে সাবেক মেয়র আনোয়ার হাওলাদার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়র ছিলাম। আমার জনপ্রিয়তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কারণ।”

সংবাদ সম্মেলনে কুয়াকাটা পৌর বিএনপি নেতারা বলেন, আনোয়ার হাওলাদারের অপকর্মের জন্য তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরব, নিশ্চিত করল ফিফা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগে থেকেই অনেকটা নিশ্চিত ছিল ২০৩৪ ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক হতে যাচ্ছে সৌদি আরব। এবার এসেছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফা জানাল, আগামী ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করবে সৌদি আরব।

আজ বুধবার একটি ভার্চুয়াল সভায় ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সৌদি আরবের নাম ঘোষণা করেছে ফিফা। একই দিনে ফিফা আরো জানিয়েছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল মিলে। এছাড়া, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে একটি করে ম্যাচ হবে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে।




পররাষ্ট্রসচিবের বাংলাদেশ সফর নিয়ে যা জানালো ভারতীয় হাইকমিশন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রী বিক্রম মিশ্রির বাংলাদেশ সফরের পর এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকের ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকের ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি।

সফরের দুদিন পর বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি এক সরকারি সফরে ঢাকায় গিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মিশ্রি একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধা এবং একে অপরের উদ্বেগ ও স্বার্থের প্রতি পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভারতের ইচ্ছার কথাও পুনরায় ঘোষণা করেন তিনি।

বিবৃতি মতে, ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব জোর দিয়ে বলেছেন, জনগণই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রধান স্টেকহোল্ডার এবং উল্লেখ করেছেন যে, আন্তঃযোগাযোগ, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা ও বহুমুখী সম্পৃক্ততা, সমস্ত কিছু বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পররাষ্ট্রসচিব কিছু সাম্প্রতিক ঘটনা ও সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং ভারতের উদ্বেগ, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তিনি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও কূটনৈতিক স্থাপনার ওপর হামলাকে দুঃখজনক ঘটনা বলেও উত্থাপন করেন।

ফরেন অফিস কনসাল্টেশনস তথা পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে উভয়পক্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, বাণিজ্য ও সংযোগ, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, উন্নয়ন সহযোগিতা, কনস্যুলার, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছেন।

উভয় পররাষ্ট্রসচিব উপ-আঞ্চলিক, আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক বিষয়েও মতবিনিময় করেছেন এবং বিমসটেক কাঠামোর অধীনে আঞ্চলিক অখণ্ডতা এগিয়ে নিতে পরামর্শ ও সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছেন।

আরও বলা হয়, পররাষ্ট্র সচিবের এই সফর উদ্বেগ দূর করার পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সহায়ক হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকা সফরে আসেন ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। দিনব্যাপী ব্যস্ত সময় কাটিয়ে রাতেই ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।