সালিশের নামে শিক্ষার্থীসহ ৫ জনের মাথা ন্যাড়া করলেন ইউপি সদস্য

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের মধ্য চতলাখালী গ্রামে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে পাঁচ তরুণের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার  সকালে প্রায় শতাধিক লোকের সামনে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার পটভূমি ছিল জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতা। মনির গোলদার ও মোজাম্মেল মৃধার মধ্যে পূর্বের জমিজমা সূচক বিরোধ এবং এর জেরে একপর্যায়ে তাদের ছেলে-পুল্লেরা বিবাদে জড়ায়। শনিবার রাতে দু’পক্ষের কথা কাটাকাটির পর রোববার সকালে ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফা উপস্থিতিতে খুতির বাজারে সালিশ বসে। সালিশে ওই ইউপি সদস্য পাঁচ তরুণ—রাব্বি (১৮), রিয়ান (২১), রাতুল (১৭), শাকিল (১৯) ও নয়ন সরদার (১৮)—কে ‘বখাটে’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের চুল কেটে দেয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাপিত ডেকে এনে সদস্য নিজে উপস্থিত থেকে মাথা ন্যাড়া করানো হয়; ঘটনাটি ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগীদের বয়ান অনুযায়ী তারা বানানবিরোধ থামানোর উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, কিন্তু সালিশের নামে তাদের নিজেদেরই অপমান করা হয়েছে। নয়ন সরদারের মা ঝর্ণা বেগম কেঁদে বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি; তিনি মারামারি থামাতে গিয়েছিলেন। নিয়োমিতভাবে আমাকে ডেকে জানানো হতো কিন্তু কেউ ডাকেনি—শুধু এসে আমার ছেলের চুল কেটে ফেলা হয়েছে।’ রাব্বির মা মাহফুজাও বলছেন, মূল বিরোধের সূত্রই জমিজমা; তাদেরই উপর অতিরিক্ত মানহানি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রেশাদ খলিফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ছিলাম না, আমি জানি না’—তথ্যসমূহ সম্পর্কে তিনি নিজেকে দুর্বল অবস্থায় উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে সালিশ (গ্রাম আদালত) পরিচালনার স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে সালিশ বসানো অনুচিত ও আইনবিরোধী; গ্রাম আদালত পরিচালনারও নির্দিষ্ট বিধি-নির্দেশনা রয়েছে এবং তা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার ঘটনাটি শুনেছেন বলে নিশ্চিত করে বলেন, ‘খোঁজখবর নিচ্ছি; সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিব দাশ পুরকায়স্থও ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্থানীয় আইনজীবীরা এই ধরনের জনসম্মুখে অপমানে দণ্ড দেওয়া—কোনও আইনগত শাস্তি নয়—বলেই মন্তব্য করেছেন; তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।

স্থানীয়দের অভিমত—জনপ্রতিনিধি কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি নিজেই আইনবহির্ভূত কর্মে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় ন্যায়বিচার খুঁজবে? বহু পরিবারের সদস্যরা লজ্জায় ও উদ্বেগে ভেঙে পড়েছেন; কিছু পরিবার এই ঘটনায় আইনি পথে বিচার চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কেউ কেউ স্থানীয় প্রভাবের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।

আইনগত বিশ্লেষণ করেছে স্থানীয় অ্যাডভোকেটরা—গ্রাম আদালতের মাধ্যমে জরিমানা বা মধ্যস্থতা করা গেলেও কাউকে জনসম্মুখে অপমান করা, জোর করে চুল কাটা বা প্রকাশ্যে হেয় করা বাংলাদেশের আইনের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘটনাস্থলের সামাজিক পরিবেশ বিবেচনায় স্থানীয় নেতারা ও মানবাধিকারকর্মীরা প্রশাসনকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে—যাতে ভবিষ্যতে কোনো জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজের বিচার-হাতে তুলে না নিতে পারে এবং গ্রামের সাধারণ মানুষ নিরাপদে ন্যায়বিচার পাবেন।

এ ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে; তদন্ত শেষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে সিদ্ধান্ত নেবে তা সবার সামনে প্রকাশ করা হবে এবং প্রমাণিত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের জয় দাবি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানের

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের মনোনয়নপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, বিগত ১৭ বছর ধরে পতিত সরকারের সময়ে বিএনপি ও দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ নানা অন্যায়, অবিচার, খুন ও গুমের শিকার হয়েছে। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে এই দীর্ঘ কষ্টের সুফল ভোগ করতে হবে।

বিগত নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-১ আসনে অংশগ্রহণকারী আবদুস সোবহান আরও বলেন, “যতবার বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে, দেশ ততবারই উন্নয়ন করেছে। তবে পতিত সরকার দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষকে জয়ী করতে হবে।”

শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের গুপ্তেরহাট বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুস সোবহান বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশকে মুক্তির পথে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত স্বৈরাচার ক্ষমতা বৈধ করার চেষ্টা করলেও খালেদা জিয়ার দৃঢ় অবস্থানের কারণে অবৈধ সংসদ টিকে উঠতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় খালেদা জিয়ার আপোষহীনতার কারণে বারবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, তবুও তিনি জনগণকে আন্দোলনের জন্য প্রেরণা দিয়েছেন।

পথসবার পূর্বে আবদুস সোবহান গুপ্তের হাট জামে মসজিদে আছর নামাজ আদায় করেন এবং বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান সহ পরিবারের সুস্থতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মিলাদে অংশ নেন।

এরপর গুপ্তেরহাট বাজারে ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। ভ্যানযোগে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করে তারা গৈলা বাজার, রথখোলা বাজার, বড়বাড়ি বাজার, দরগাহ বাড়ি বাজারে গণসংযোগ চালান।

পথসভায় আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলাম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল লোকমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক আকন, যুবদলের আহবায়ক শোভন রহমান মনিরসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাউফলে রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ সম্পন্ন

পটুয়াখালীর বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির ২০২৫–২৬ সালের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ইউনিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তারা উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আতিকুর রহমান, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা এএসএম এনামুল হক সায়েম এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও বাউফল সরকারি কলেজের প্রভাষক বাদল কুমার দাস

এছাড়া অনুষ্ঠানে বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শপথ বাক্য পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম

শপথগ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত নেতারা সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, গণতন্ত্রের চর্চা শক্তিশালী করা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও বাউফলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, “আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকব, পাঠকদের কাছে নির্ভরযোগ্য সংবাদ পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

অনুষ্ঠান শেষে সকল সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এক প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়, যা পুরো পরিবেশকে আনন্দঘন করে তোলে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন রাসমেলা ও রাসপূর্ণিমা উৎসব। ইতোমধ্যে এই উৎসবকে ঘিরে সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির জোয়ারে মুখর পুরো কুয়াকাটা পর্যটন শহর।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা ও মা লক্ষ্মীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই রাসপূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিবছর কুয়াকাটায় এই উৎসব পালিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও পর্যটন উৎসবে রূপ নিয়েছে, যেখানে দেশ-বিদেশের হাজারও দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রী সমবেত হন।

গত ১৮ অক্টোবর কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজল বরন দাস জানান, রাসমেলা আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। উৎসবের প্রতিদিনই থাকবে গঙ্গাস্নান, পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তিনি বলেন, “এই উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, এটি কুয়াকাটার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন মণ্ডল বলেন, “রাসমেলা এখন এমন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ অংশ নেয়। পর্যটক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনতা সবাই মিলে এটিকে উৎসবের শহরে পরিণত করে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, রাস উৎসবের সময় পর্যটকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে।

স্থানীয় দোকানদার আবদুর রহমান বলেন, “রাসমেলার সময় কুয়াকাটায় ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মেলার সময় দোকানে ভিড় থাকে, বিক্রিও ভালো হয়। এটি আমাদের জন্য উৎসবের সময়।”

উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো গঙ্গাস্নান, যা অনুষ্ঠিত হবে রাসপূর্ণিমার সকালে। ভোরে হাজারও ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও তীর্থযাত্রী সমুদ্রের পবিত্র জলে পুণ্যস্নান করেন। পরে দিনভর চলে পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদীপ প্রজ্বালন ও নানা ধর্মীয় আচার।

রাসমেলাকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা সৈকতজুড়ে চলছে অস্থায়ী দোকান, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা নির্মাণের কাজ। হোটেল-মোটেলগুলোতে চলছে বুকিংয়ের ধুম, আর পর্যটন শহরটি যেন এখন উৎসবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, রাসমেলা কুয়াকাটার ঐতিহ্যের প্রাণ; এটি ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আনন্দের মিলনমেলা


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা নজরুল ইসলাম গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর দুমকিতে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের এক বছরেরও বেশি সময় পর সাবেক শ্রমিক লীগ নেতা মো. নজরুল ইসলাম সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পায়রা পয়েন্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার নজরুল ইসলাম সিকদার (৪০) লেবুখালী ইউনিয়নের তাহের উদ্দিন সিকদারের ছেলে।

নজরুল ইসলাম জানান, তিনি ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল উপজেলা শ্রমিক লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তার দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি প্রভাবশালী মহল আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে তাকে হয়রানি করছে।

এদিকে, নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “২০২২ সালে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নজরুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”


 

আল-আমিন




বাউফলে অবৈধ ট্রলির ধাক্কায় সেনা সদস্যসহ তিনজন আহত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি অবৈধ ট্রলির ধাক্কায় সেনা সদস্যসহ তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাউফল-বগা-বরিশাল মহাসড়কের বাউফল পাবলিক মাঠের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য কাওসার আহমেদ (২৬), ব্যবসায়ী রুমান আহমেদ (২৭) এবং অটোরিকশা চালক বেল্লাল আহমেদ (৩০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাওসার ও রুমান একটি অটোরিকশায় করে পাবলিক মাঠ এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অবৈধ ট্রলি তাদের অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনজনই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেনা সদস্য কাওসার আহমেদ ও ব্যবসায়ী রুমান আহমেদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতারুজ্জামান সরকার জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আল-আমিন


 




রাজধানীতে আগুনে পুড়ল আরো একটি তৈরী পোশাক কারখানায়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  রাজধানীর পল্লবীতে কালশীর চন্দ্রবিন্দুর মোড়ের কাছে অবস্থিত একটি তৈরি পোশাকের কারখানায়, আজ শুক্রবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত ১০টার দিকে ছয়তলা একটি বাণিজ্যিক ভবনের ছয়তলাতে  আগুন লাগে।  ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে।

রাত সোয়া ১০টার ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাকিব আল হাসান বলেন, রাত ১০টার দিকে কালশীর চন্দ্রবিন্দু মোড়ের কাছে ছয়তলা ভবনের ছয় তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গেছে।

শুক্রবার থাকায় কারখানা বন্ধ ছিল। রাত ১০টার ঘটনাস্থল থেকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, কমিউনিটি সেন্টারে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। ভবনটির নিচে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করে আছে।

 




সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল চেয়ারম্যান ও পরিচালকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বরিশালের সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল প্রাইভেট লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান এ কে এম আজিজুর রহমান ও পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে সরকারি বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করার কারণে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা যায়, সার্টিফিকেট দেনাদার হিসেবে তাদের নিকট ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ১০,৭৬,২৫০ টাকা এবং সুদ বাবদ ২,০১,০২৩ টাকা সহ মোট ১২,৭৮,০৭৩ টাকা বকেয়া রয়েছে। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ বকেয়া আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট মামলা করা হয়েছিল।

পরোয়ানায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উল্লেখিত টাকা পরিশোধ না করলে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে, এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চলতি বছরের ১৬ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম জানান, পূর্বে দুই লাখ টাকার পে-অর্ডার দিয়ে এবং বাকিটা কিস্তিতে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন, কিন্তু ধার্য সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ হয়নি। এরপর কোম্পানির চেয়ারম্যান ও পরিচালকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

প্রয়োজন হলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী সিভিল কোর্টে হস্তান্তর করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কনের বয়স কম, তাই বিয়ে দাওয়াতে না খেয়ে ফিরে গেলেন ইউএনও

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী গ্রামে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত হয়ে কনের বয়স কম জানার পর দাওয়াত না খেয়ে ফিরে গেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় কাজীও বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকেন, ফলে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, কনের বয়স ১৬ বছর, যা বয়সসীমা অনুযায়ী কম। সে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। বিয়ে পড়ানোর জন্য কাজী মো. ইসহাক আলী বলেন,“প্রথমে আমাকে জানানো হয়েছিল মেয়ের বয়স ১৮ বছর। পরে প্রকৃত বয়স ১৬ জানার পর আমি বিয়ে পড়াইনি। ইউএনও সাহেবও বিষয়টি জানার পর দাওয়াতে না খেয়ে চলে যান।”

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য জানান, বিয়ে বাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। কিন্তু কনের বয়স কম জানার পর ইউএনও সপরিবারে চলে যাওয়ায় এবং কাজী বিয়ে পড়ানো থেকে বিরত থাকায় বিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়নি।

ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি ব্যক্তিগত অনুরোধে দাওয়াতে গিয়েছিলাম। কনের বয়স কম জানার পর আইনগত ও নৈতিক দিক বিবেচনায় দাওয়াত না খেয়ে ফিরে এসেছি। পরে জানতে পেরেছি, বিয়েটি আর হয়নি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরগুনা পায়রা নদীতে ৩৫ ট্রলার আটক, জেলেদের দাবি অহেতুক জরিমানা

বরগুনার পায়রা নদী থেকে মহিপুর অভিমুখে যাওয়ার পথে ৩৫টি মাছ ধরার ট্রলার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ও অর্থদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। জেলেদের দাবি, তারা ইলিশ শিকারে না গিয়ে খালি ট্রলার নিয়ে যাচ্ছিলেন, অথচ প্রশাসন অহেতুকভাবে ট্রলারগুলো আটক করে জরিমানা করেছে।

তালতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মণ্ডল আটক ও জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বরগুনার পায়রা নদীতে যৌথ অভিযান চালানো হয় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের মাধ্যমে। মা ইলিশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার জেলেরা থেকে আসা ৩৫টি ট্রলার ও প্রায় ১৫০ জেলেকে আটক করা হয়।

পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিটি ট্রলারকে ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড দেয় এবং নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থান ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়। আটক ট্রলারগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

আটক জেলেরা অভিযোগ করেছেন,“আমরা কেউই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করিনি। মাছ ধরার জাল বা সরঞ্জাম আমাদের সঙ্গে ছিল না। শুধু খালি ট্রলার নিয়ে মহিপুর যাচ্ছিলাম খাবার, বরফ ও জাল মেরামতের জন্য। অনেক ট্রলারে চুলা বা গ্যাস ছিল না, রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়েছে।”

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেবক মণ্ডল বলেন, “নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক প্রতিটি ট্রলারে ১,০০০ টাকা করে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রলারগুলো স্থান ত্যাগে নিষিদ্ধ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫