২০২৫ সালের শেষ দিকে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে : প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী বছর ২০২৫ সালের শেষে দিকে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আর যদি এর সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত মাত্রার সংস্কার যোগ করি তাহলে অন্তত আরও ছয় মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড একযোগে তার ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করছে। গত আগস্ট মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় উদ্দেশ্য এটি তৃতীয় ভাষণ।

জাতীয় উদ্দেশ্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এখন থেকে সবাই মিলে এমন একটা ঐতিহ্য সৃষ্টি করতে পারি যে স্থানীয় নির্বাচনসহ সকল নির্বাচনে সকল কেন্দ্রে প্রথমবারের ভোটাররা ১০০ শতাংশের এর কাছাকাছি সংখ্যায় ভোটদান নিশ্চিত করবে। এটা নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার সাহস করতে পারবে না।

ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, আমাদের সংস্কারের যে আকাঙ্ক্ষা সেটি বাস্তবায়নে প্রতিটি কমিশনই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের কথা আমি একটু আলাদাভাবে বলতে চাই, কেননা এই দুটি কমিশনের সুপারিশের ওপর প্রধানত নির্ভর করছে আমাদের আগামী নির্বাচন প্রস্তুতি ও তারিখ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ প্রসঙ্গে বড় খবর হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়ে গেছে। কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এখন থেকে তাদের হাতে দায়িত্ব ন্যস্ত হলো ভবিষ্যৎ সরকার গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করার। তারা তাদের প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন। তাদের হাতে অনেক কাজ।

ড. ইউনূস বলেন, প্রথমে সবচেয়ে বড় কাজ ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা। এটা এমনিতেই কঠিন কাজ। এখন কাজটা আরো কঠিন হলো এজন্য যে গত তিনটা নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ করার সুযোগ ছিল না। ভোটার তালিকা যাচাই করার সুযোগ হয়নি কারোর। গত ১৫ বছরে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছে তাদের সবার নাম ভোটার তালিকায় তোলা নিশ্চিত করতে হবে। এটা একটা বড় কাজ। ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর এখানে গলদ রাখার কোনো সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন পর এবার বহু তরুণ তরুণী জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবে। অতীতে তাদেরকে সে অধিকার এবং আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তাই এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটদান একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। এই অভিজ্ঞতাকে মসৃণ করার সমস্ত আয়োজন করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের তরুণ তরুণী ভোটারেরা শতকরা ১০০ ভাগের কাছাকাছি সংখ্যায় ভোট দিয়ে একটি ঐতিহ্য সৃষ্টি করুক। নির্বাচন কমিশন এবং সকল সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার আহ্বান সবাই মিলে আমরা যেন এই লক্ষ্য অর্জনে নানা প্রকার সৃজনশীল কর্মসূচি গ্রহণ করি।

নতুন ভোটার ছাড়াও যাদের আগে থেকে ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা ছিল তারা ভোটার তালিকায় আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ মনোযোগ দিয়ে ভুয়া ভোটারদেরকে তালিকা থেকে বের করে দিতে হবে বলে জাতির উদ্দেশ্য বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে চাই। অতীতে আমরা এ ব্যাপারে অনেকবার আশ্বাসের কথা শুনেছি। এই সরকারের আমলে এটা যেন প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হয় এটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এর জন্য একটা নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছুই সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এর সঙ্গে যদি আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করতে চাই, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করতে চাই, তাহলে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিস্তৃতি ও গভীরতা অনুসারে নির্বাচন কমিশনকে সময় দিতে হবে।

প্রধান রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি সকল প্রধান সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে নির্বাচন আয়োজন করার ব্যাপারে বারবার আপনাদের কাছে আবেদন জানিয়ে এসেছি। তবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের কারণে আমাদেরকে যদি, আবার বলছি “যদি”, অল্প কিছু সংস্কার করে ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে তৈরি করার ভিত্তিতে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয় তাহলে ২০২৫ সালের শেষের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়তো সম্ভব হবে। আর যদি এর সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত মাত্রার সংস্কার যোগ করি তাহলে অন্তত আরও ছয় মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।




জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১২ মিনিটে তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা, অন্য কয়েকজন উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধান।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধান উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

মুক্তি পাগল বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে আনবে বলে একদিন অস্ত্র কাঁধে তুলে নিয়েছিল। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার সবাই শরিক হন এ লড়াইয়ে। সেই ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, সেটির উদয় ঘটে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে, বহু শতাব্দীর স্বপ্ন-স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মাধ্যমে। অবর্ণনীয় দুর্যোগে লন্ডভন্ড হওয়া বাংলাদেশের বঞ্চিত ও শোষিত মানুষ রুখে দাঁড়ায় সর্বশক্তি দিয়ে। আত্মবিস্মৃত বাঙালি আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে উৎসর্গ করে নিজ ও স্বজনকে। ছিনিয়ে আনে বিজয়, লাল-সবুজ পতাকা সংবলিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজ সেই ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৩তম বর্ষ। হাজার বছরের গর্বিত বাঙালি জাতির বীরত্বের অবিস্মরণীয় দিন আজ।




বিজয়ের দিনে বাংলাদেশের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেইন্ট ভিনসেন্টে সময়টা ১৫ ডিসেম্বরের শেষ প্রহর। হাজার কিলোমিটার দূরের বাংলাদেশে ঘড়ির কাটায় এরই মধ্যে ১৬ ডিসেম্বর। আজকের দিনে বাংলাদেশ পালন করছে বিজয়ের ৫৩ বছর। ১৬ই ডিসেম্বরের সকালে দেশের মানুষের উৎসবের উপলক্ষ্যটা আরেকটু চওড়া হলো টিম টাইগার্সের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়ের সুবাদে।

সুদূর ক্যারিবিয়ান দ্বীপ সেন্ট ভিনসেন্টে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০ রান। ক্রিজে তখনো ছিলেন বিধ্বংসী ব্যাটার রভম্যান পাওয়েল। রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে যার ৩৩ বলে ৬৭ রানের জুটি বাংলাদেশের জয়টাকে অনেকখানি বিলম্বিত করেছে। হাসান মাহমুদের শেষ ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য হলেন তিনি। সেখানেই মূলত জয়টা নিশ্চিত হয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের জন্য। এরপর এক বল বিরতি দিয়ে বোল্ড আলজারি জোসেফ। তাতেই নিশ্চিত দারুণ এক জয়।




৫৭ হাজার কোটা ফাঁকা রেখে শেষ হলো হজ নিবন্ধন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত বছরের চেয়ে এবার হজের খরচ এক লাখ টাকার বেশি কমিয়েও নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে পারেনি ধর্ম মন্ত্রণালয়। প্রায় ৫৭ হাজার কোটা ফাঁকা রেখে রোববার (১৫ ডিসেম্বর) শেষ‌ হয়েছে চলতি বছরের হজের চূড়ান্ত নিবন্ধন। তাছাড়া সৌদি সরকারের আল্টিমেটামের কারণে হজে নিবন্ধনের সময় আর বাড়ায়নি মন্ত্রণালয়।

হজ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটার মধ্যে রোববার রাত ৮টা পর্যন্ত ৬২ হাজার ২১২ জন হজযাত্রী চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন। আর হজের যাওয়ার জন্য ব্যাংকে ভাউচার জমা দিয়েছেন প্রায় ৮ হাজার হজযাত্রী। সবমিলিয়ে ৭০ হাজার হজযাত্রী আগামী বছর হজ করার জন্য নিবন্ধন করেছেন। অন্যদিকে সৌদি সরকার বাংলাদেশিদের আগামী বছরের হজের জন্য কোটা দিয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮টি। সে হিসাবে এখনো ফাঁকা রয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার হজ কোটা।

হজ পোর্টালের তথ্যমতে, মোট ৬২ হাজার ২১২ জন হজযাত্রী নিবন্ধিত করেছেন। এর মধ্যে সরকারিভাবে ৪ হাজার ৭৫৯ এবং বেসরকারিভাবে ৫৭ হাজার ৪৫৩ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছে প্রায় ৮ হাজার হজযাত্রী। সাধারণ ব্যাংকে টাকা জমা দিলে এক কর্মদিবস প্রয়োজন হয় জমা হতে। সে হিসাবে আজ যারা টাকা জমা দিয়েছেন তাদের টাকা আগামী মঙ্গলবার জমা হবে। কারণ সোমবার মহান বিজয় দিবসের জন্য সরকারি ছুটি।




ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ সাকিবের বোলিং

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঘোষণা নিয়ে অপেক্ষা ছিল পুরো একদিন। আইসিসির বিধান বলছিল, আপাতত ঘরোয়া কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করা হচ্ছে না সাকিব আল হাসানের। অপেক্ষা ছিল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। সেটাই বিসিবি জানালো রোববার রাতে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ইংল্যান্ডের ল্যাবে ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশন শনাক্তের পর ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশনের কারণে জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) অধীনস্থ প্রতিযোগিতাগুলিতে বোলিং করার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হয়েছেন। এর ফলে, সাকিব বাংলাদেশের বাইরের কোনো ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বোলিং করতে পারবেন না।

মূলত আইসিসির বোলিং অ্যাকশন সংক্রান্ত আইনের কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা। যেখানে ১১.৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘একটি জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন যদি কোনো বোলারকে তাদের নিজস্ব নীতিমালার অধীনে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা যদি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে মানসম্মত বিশ্লেষণ-বিধি অনুযায়ী করা হয়, তাহলে সেই নিষেধাজ্ঞাকে আইসিসি আমলে নেবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরোপ করবে।’




কিংবদন্তি তবলাবাদক উস্তাদ জাকির হুসেন আর নেই

ভারতের কিংবদন্তি তবলাবাদক ও সংগীতজ্ঞ উস্তাদ জাকির হুসেন আর নেই। রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সান ফ্রান্সিসকোর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সংগীতের জাদু দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই বিশিষ্ট তবলাবাদক শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে ভেন্টিলেটরে ছিলেন।

উস্তাদ জাকির হুসেন দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তার হৃদযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।

১৯৫১ সালে মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করা জাকির হুসেনের বাবা উস্তাদ আল্লা রাখাও ছিলেন একজন প্রখ্যাত তবলাবাদক। মাত্র তিন বছর বয়স থেকে তবলার হাতে প্রথম আঙুল রাখা শুরু করেন জাকির। সাত বছর বয়স থেকে মঞ্চে একক পরিবেশনা দিয়ে তার সংগীত জীবন শুরু হয়।

তার অসামান্য প্রতিভার কারণে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ ও পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করেছে। ২০২৪ সালে তার হাত ধরেই ভারতে প্রথম গ্র্যামি পুরস্কার আসে। ভারতীয় ব্যান্ড ‘শক্তি’র গানের অ্যালবাম ‘দিস মোমেন্ট’কে গ্র্যামি পুরস্কারে ‘বেস্ট গ্লোবাল মিউজিক অ্যালবাম’ হিসেবে ভূষিত করা হয়। বর্তমানে ‘শক্তি’ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী শঙ্কর মহাদেবন, আর তবলায় ছিলেন উস্তাদ জাকির।

জাকির হুসেন তবলায় সঙ্গ দিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ পণ্ডিত রবিশঙ্কর, উস্তাদ আমজাদ আলি খান, এবং আন্তর্জাতিক সংগীতজ্ঞ জর্জ হ্যারিসনের মতো দিকপালদের সঙ্গে। তার তবলায় সঙ্গীতের জাদু অনেকের হৃদয়ে চিরকাল অমর থাকবে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”



আজ বিজয়ের দিন: বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশের প্রত্যাশা

চন্দ্রদীপ নিউজ : ১৬ ই ডিসেম্বর।  মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আজকের দিনে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। ৩০ শহীদ আর লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হ স্বাধীনতা।

৩০ লাখের অধিক প্রাণ আর লাখ লাখ মায়ের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে নিজেকে মুক্ত করেছে দীর্ঘকালের নাগপাশ আর বঞ্চনা থেকে।

আজ থেকে ৫৩ বছর আগে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষে বাংলার শোষিত মানুষ পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ, বিজয়ের আনন্দ। আজ সেই মহান বিজয় দিবস। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত গোটা জাতি- নেবে সাম্য ও মানবিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার।

মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বিদেশি কূটনীতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

বঙ্গভবনে অপরাহ্নে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারগুলোকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এ উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু সদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোয় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ) ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে এবং চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দেশের সব শিশুপার্ক ও জাদুঘরগুলো বিনা টিকিটে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।

স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া রোববার এক বাণীতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তাই আসুন- ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখি। দেশ ও জাতিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই, গড়ে তুলি উন্নত-সমৃদ্ধ এক নতুন বাংলাদেশ- মহান বিজয় দিবসে এ আমার প্রত্যাশা।

দেশকে আরও উন্নত ও স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর : প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ‘মহান বিজয় দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গৌরবময় এবং স্মরণীয় দিন। লাখ লাখ শহিদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়ে যাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। তিনি বলেন, বিজয় দিবস কেবল আমাদের গর্বের উৎস নয়, এটি আমাদের শপথের দিনও। শপথ আমাদের একতাবদ্ধ থাকার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার। তিনি বলেন, আজকের এদিনে, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহিদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাই। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং সুশাসিত বাংলাদেশ গঠনে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করছে।

 




বাংলাদেশিদের জন্য নাসায় কাজের সুযোগ

এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তিতে দক্ষ হলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় কাজের সুযোগ পেতে পারে বলে জানিয়েছেন নাসার প্রধান নভোচারী জোসেফ এম আকাবা। রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লে পেন স্কুলে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাসার এই বিজ্ঞানী জানান, এআই প্রযুক্তি মহাকাশ গবেষণার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যদি এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে সাফল্য অর্জন করে, তাহলে নাসায় কাজ করার সুযোগ থাকবে। নাসা এমন প্রতিভাবানদের খুঁজে বেড়ায় যারা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশ অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারে।”

অনুষ্ঠানে তিনি মহাকাশ গবেষণার গুরুত্ব, নাসার বৈশ্বিক ভূমিকা এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশ অনুসন্ধানে কীভাবে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি তাৎক্ষণিক উত্তর দেন এবং মহাকাশ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

মহাকাশ প্রযুক্তিতে এআই ব্যবহার সম্পর্কে জোসেফ আকাবা বলেন, “এআই আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে এবং সিস্টেমের ত্রুটি চিহ্নিত করে। নাসার পরিকল্পনা হচ্ছে সবকিছুতেই এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা। ভবিষ্যতে মহাকাশ অনুসন্ধানের কাজে মানুষের ভূমিকা থাকবে শুধু পরিচালকের।”

আকাবা মনে করেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সম্ভাবনা অফুরন্ত। তিনি বলেন, “যারা এআই প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করবে, তারা নাসাসহ শীর্ষ মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবে। মহাকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণে তাদের কঠোর পরিশ্রম ও গভীর অধ্যয়ন প্রয়োজন।”

নিজের মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আকাবা জানান, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তার ছয় মাসের অভিজ্ঞতা ছিল রোমাঞ্চকর। মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় শারীরিক চ্যালেঞ্জ এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মহাকাশে আগুন, মিটিয়রয়েড আঘাত, কিংবা অ্যামোনিয়া লিকের মতো বিপদ মোকাবিলা নভোচারীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ। এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও মিশন কন্ট্রোল টিমের সহায়তায় তারা নিরাপদ থাকেন।

মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফোনকল করার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে আকাবা বলেন, “নভোচারীরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় বিনামূল্যে ফোনকল করতে পারেন। তবে কেউ মহাকাশে ফোন করতে পারে না।”

আকাবা আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকেও মানুষ মহাকাশে যাবে। তিনি বলেন, “কঠোর পরিশ্রম এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মহাকাশ অনুসন্ধানে বাংলাদেশের অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্লে পেন স্কুলের চেয়ারম্যান এ মান্নান খান, প্রিন্সিপাল শরাবন তহুরা, এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার জেমস গার্ডিনার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এক বছর ধরে বাশারের পতনের পরিকল্পনা করেছেন বিদ্রোহীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাত করা বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত আসাদ সরকারের পতনের পর এইচটিএস বিদ্রোহীরা সিরিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছে দেশটি।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন শনিবার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সিরিয়ার যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি সবার আগে এগিয়ে আসে, মার্কিন কর্মকর্তারা সেই হায়াত তাহরির আল-শাম বা এইচটিএস বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

যদিও তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্যরা দেশ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে অতীতে অভিহিত করেছে।

ব্লিংকেন হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কর্মকর্তা যিনি বাইডেন প্রশাসন এবং আসাদকে গত রোববার ক্ষমতাচ্যুতকারী সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর জোটের নেতৃত্বদানকারী হায়াত তাহরির আল-শাম বা এইচটিএস’এর মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।

জর্ডানের আকাবায় এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় ব্লিংকেন এই যোগাযোগের বিষয়ে জানান। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই গোষ্ঠীটির আচরণ এবং অন্তর্বর্তী সময়ে তারা কিভাবে শাসন পরিচালনা করবে সে সম্পর্কে তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তাটি পাঠানো জরুরি ছিল।

ব্লিংকেন আরও বলেন, “হ্যাঁ, আমরা এইচটিএস ও অন্যান্য দলের সঙ্গে যোগযোগ বজায় রেখেছি”। তিনি আরও বলেন, “সিরিয়ার জনগণের প্রতি আমাদের বার্তা হচ্ছে এই যে— আমরা চাই তারা সফল হোক , আর সে জন্য আমরা তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি”।

উল্লেখ্য, এক সময়ে আল কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত এইটিএস’কে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিদেশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছিল এবং তাদেরকে কোনও রকম বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে সেই নিষেধাজ্ঞায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ওপরে আইনত কোনও বিধিনিষেধ নেই।

প্রসঙ্গত, এইচটিএস দামেস্ক দখলের পর নিরাপত্তা স্থাপনের জন্য এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে উগ্রবাদীদের নিয়ে জনগণের উদ্বেগের মুখে তাদেরকে নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। বিদ্রোহীরা বলছে— তারা উগ্রবাদীদের সঙ্গে তাদের অতীতের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেছে।

গোষ্ঠীটির নেতা আহমাদ আল-শারা গত শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় “এই বিজয়ের জন্য সিরিয়ার মহান জনগণকে” অভিনন্দন জানান। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, সংখ্যালঘু এবং নারীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য শারা খুব ভালো মন্তব্য করছেন।




৫ বিলিয়ন ডলার লোপাট : হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি অনুসন্ধানে রুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম তমাল।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর এ অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

রিটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রিটের বিবাদী করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

বেশ কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাট করেছেন। বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধানকারী গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পোরেশনের তথ্যের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদন করা হয়।