কাঁঠালিয়ায় শীত ও বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে শ্রমজীবীরা

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতজনিত রোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং শিশু ও বৃদ্ধরা এই সময়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে শীতের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলতে থাকে। এ অবস্থায় কাঁঠালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সড়কে তেমন কোনো যানবাহন চলছিল না এবং মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন না।

কাঁঠালিয়ার জমাদ্দার হাটের হোটেল ব্যবসায়ী মো. সেলিম ঘরামি জানান, প্রচুর শীত থাকার কারণে এবং গতকাল রাত থেকে বৃষ্টির কারণে বাজারে তেমন মানুষ আসছে না, ফলে তার বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।

এদিকে, শ্রমজীবী মানুষও কঠিন পরিস্থিতির শিকার। মো. স্বপন খান, একজন দিনমজুর, বলেন, “বৃষ্টি এবং শীতের কারণে বাজারে লোকজন আসে না। তাই আমি কাজ করতে পারিনি, টাকা রোজগারও করতে পারিনি।”

রিকশাচালক মো. তোকাব হাওলাদার জানান, বৃষ্টির কারণে তিনি আজ কোন আয়-রোজগার করতে পারেননি। তিনি জানান, তার অসুস্থ স্ত্রীর জন্য প্রতিদিন ওষুধ কেনা প্রয়োজন, কিন্তু আজ সে ওষুধ কেনা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান।

এমন পরিস্থিতিতে কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের চিকিৎসক সোহাগ মজুমদার জানান, তীব্র শীত এবং বৃষ্টির কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, বিশেষ করে কাশি ও সর্দি-জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শ্রমজীবী মানুষদের সাহায্য করা হবে এবং শীতজনিত রোগগুলোর প্রতিকার করা হবে।




 বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে কমিশন

বাংলাদেশে গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে ভারতের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে একটি কমিশন। দুই দেশের বন্দি বিনিময়ের কার্যক্রম এবং আটক ব্যক্তিদের পরিণতি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী কমিশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় ভারতের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাবেক বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিশন সম্প্রতি ‘সত্য উদঘাটন’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে। কমিশন জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে যে কিছু বন্দি এখনও ভারতের জেলে থাকতে পারে।

কমিশন আরও জানায়, তারা পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন তারা ভারতের জেলে থাকা কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজে বের করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। তবে, বাংলাদেশে এই বিষয়টি তদন্ত করার এখতিয়ার কমিশনের নেই।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে অপহৃত হয়ে ভারতীয় কারাগারে পৌঁছানো সুখরঞ্জন বালি এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘটনা দুইটি বড় প্রমাণ সরবরাহ করছে যে, গুমের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল।

সালাহউদ্দিন আহমেদের বিষয়ে কমিশন জানায়, তাকে ২০১৫ সালে উত্তরায় লুকিয়ে থাকার সময় আটক করা হয় এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত সেলে আটক রাখা হয়েছিল, যেখানে একটি গর্ত ছিল যা টয়লেট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তার দেওয়া কম্বলে ‘টিএফআই’ অক্ষরগুলো লেখা ছিল, যা ‘টাস্ক ফোর্স ফর ইন্টারোগেশন’-এর ইঙ্গিত বহন করে।

কমিশন পরিদর্শন করে নিশ্চিত করেছে যে, র‍‍্যাব গোয়েন্দা শাখা এখনও ওই স্থাপনার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর চাবি নিজেদের হাতে রাখে। তবে, ওই স্থাপনার অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো সম্প্রতি ধ্বংস করা হয়েছে। কমিশন জানায়, ২০১০-১১ সালের দিকে এই কেন্দ্র পরিদর্শনকারী সেনা সদস্যদের সাক্ষাৎকার থেকে জানা গেছে, এক সময় এই স্থাপনায় অতিরিক্ত একটি তলা ছিল, যা বর্তমানে আর প্রবেশ করা যায় না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বন্দী হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রকৃতি এবং এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেছে।

কমিশন এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে, তবে প্রাথমিকভাবে এটি সন্দেহ করা হচ্ছে যে, সালাহউদ্দিন আহমেদ বর্তমানে নষ্ট করে ফেলা সেলগুলোর একটিতে আটক ছিলেন। তাদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময় কার্যক্রমের মাধ্যমে গুমের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে সংগঠিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রকৃতির।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়াল

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার খবর এসেছে, ফলে চলতি বছর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬১ জনে। এ সময়েই নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪১ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৯ জনে পৌঁছেছে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২২ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ৩৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৩৫ জন, খুলনা বিভাগে ১১ জন, ময়মনসিংহে ৫ জন এবং রাজশাহীতে ৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭০ জন ডেঙ্গু রোগী। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ২৬৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে ৫৬১ জন ডেঙ্গু রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, “ডেঙ্গু এখন আর সিজনাল নয়, এটি সারা বছরই হচ্ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনে পক্ষ থেকে সর্বত্র প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে এবং জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।”

কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলেন, “মশানিধন কেবল জেল-জরিমানা এবং জনসচেতনতা বাড়িয়ে হবে না, সঠিক জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছিল এবং ১ হাজার ৭০৫ জন মৃত্যুবরণ করেছিল, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাকিব-তামিমকে কি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে রাখা হবে?

বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই প্রভাবশালী তারকা সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল। তাদের ক্যারিয়ার এখনো সগৌরবে চললেও, বর্তমানে তাদের ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সাকিব এবং তামিম—দুজনই এখন ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে, তবে তাদের ভবিষ্যত ভিন্ন কারণে ঝুলে আছে।

তবে সম্প্রতি বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাকিব ও তামিমের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়ানডে ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট, এবং উল্লেখযোগ্য যে দুজনের কেউই এখনও অবসর নেননি। বিসিবি সভাপতির মন্তব্য অনুযায়ী, “যদি কোনো খেলোয়াড় অবসর না নিয়ে থাকে, সে অবশ্যই নির্বাচনের জন্য উপলব্ধ থাকবে।”

সাকিব আল হাসানের পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি তিনি, বিশেষ করে সরকার পতনের পর তার দেশে ফেরার ব্যাপারে অনেক বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফারুক আহমেদ বলেন, “এটা একদম আলাদা বিষয়, কিছুই নতুন নেই। সে শেষবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না খেলতে। বিপিএল খেলার বিষয়ে এখনও কোনো আপডেট নেই।”

অন্যদিকে, তামিম ইকবাল ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত বদলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলেন। বিশ্বকাপের দল থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিলেও, বর্তমানে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে, দলের জন্য প্রয়োজন হলে তিনি ফিরতে প্রস্তুত। ফারুক আহমেদ জানান, “তামিমের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক বলেছেন যে, এখনো কোনো পলিসি নেই। যদি নির্বাচকরা মনে করে, তাকে দরকার, তখন তারা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলবে।”

সাকিবের অবস্থা যতটা জটিল, তামিমের অবস্থা ততটা সহজ ও পরিষ্কার। তামিমের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার সম্ভাবনা তাই বেশি বলে মনে হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের উজিরপুর পথসভায় বিএনপি নেতা এস সরফুদ্দীন আহমেদ সান্টু

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ বেলায়েত হোসেনের উপস্থিতিতে উজিরপুরে একটি বিশেষ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। উজিরপুর মডেল থানার উদ্যোগে এই পথসভাটি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সুধী সমাজের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। ২১ ডিসেম্বর শনিবার দুপুর ১:৩০ মিনিটে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সোনার বাংলা বাজারের সামনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোঃ বেলায়েত হোসেন।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুস সালাম এর সভাপতিত্বে এবং এসআই ওসমান গনির সঞ্চালনায় পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বরিশাল জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উজিরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস সরফুদ্দীন আহমেদ সান্টু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার একরামুল আহাদ, উপজেলা জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ খোকন সরদার, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর সভাপতি মাওলানা মোঃ শাহে আলম।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ হুমায়ুন খান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম আলাউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রফিকুজ্জামান লিটন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ শহিদুল ইসলাম খান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সাহাবুদ্দিন আকন সাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আফম শামসুদ্দোহা আজাদ, এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শীতের বৃষ্টিতে স্থবির বরিশালের জনজীবন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘু চাপের কারণে বরিশালে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শনিবার দিনভর চলতে থাকে। শনিবার দিনভর মেঘলা আকাশের কারণে সূর্যের দেখা মেলেনি, ফলে শহরের জনজীবন এক ধরনের স্থবির হয়ে পড়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. মাসুদ রানা রুবেল জানান, শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিট থেকে বরিশালে বৃষ্টি শুরু হয়। শনিবার দিনভর কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনো হালকা বৃষ্টি হতে থাকে। শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত ২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দিনের তাপমাত্রা বাড়েনি এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শীত অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া মেঘলা এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি আরো জানান, উপকূল এবং ভোলার নিম্নাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হয়েছে, যা আরো দুই-এক দিন ধরে চলতে পারে।

এ অবস্থা শহরের জনজীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বৃষ্টির কারণে কাজে না যাওয়ার জন্য বেশিরভাগ মানুষ ঘরেই অবস্থান করছেন। তবে মহাসড়ক পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ার কারণে পরিবহন চালকদের কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। এরই মধ্যে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের উজিরপুরের ইচলাদিতে সাকুরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে বাসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ আহত হয়নি। এছাড়া, সকাল বেলা মহাসড়কে দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। তবে ধীরগতির কারণে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ২১ জন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা ছাত্র আন্দোলনকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও পুলিশ দিয়ে হয়রানি চালিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উপাচার্যের সাথে একটি সভা করবেন।’ তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সকল পক্ষের মতামত নেওয়া হবে, যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন।

সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার না হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শারমিন ২১ ছাত্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত শুক্রবার রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে অবশ্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এটা ধারণা করা হচ্ছে যে, মামলা দায়ের কিংবা একাডেমিক শাস্তি, যেকোনো একটি বা দুটি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এর আগে, ছাত্র আন্দোলনকারীরা তিনটি পৃথক পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা উপাচার্যের কাছে জমা দেন। এরপর এসব তালিকা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে কাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলে বৃষ্টি ও শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এর ফলে শীতের তীব্রতা বেড়েছে এবং নিম্নআয়ের মানুষদের আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে এবং পুরো উপকূলজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার জাহান জানান, সাগরে সৃষ্ট এই নিম্নচাপের প্রভাবে আকাশের এ অবস্থা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপের কারণে পায়রা এবং দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং গভীর সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার কারণে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে গেছে। পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষগুলো বৃষ্টির কারণে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এতে উপকূলীয় এলাকায় শীত এবং বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জাতীয় সরকার ছাড়া বর্তমান সরকার ছয় মাসও টিকবে না: নুরুল হক

ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক বলেছেন, “জাতীয় সরকার ছাড়া এ সরকার ছয় মাসও টিকবে না। তারা নিজেদের পরিচিত সার্কেল, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছে, যা গণঅভ্যুত্থানের অংশীদারদের হতাশ করেছে।”

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিপরীতে হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত এক দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর গণঅধিকার পরিষদের গুলশান জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।

সভায় নুরুল হক বলেন, “বর্তমান সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ত্যাগ ও বিপ্লবীদের পাশে না দাঁড়িয়ে সরকার তাদের এড়িয়ে চলছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

তিনি আরও বলেন, “বারবার আহত ও নিহতদের সহযোগিতা ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই, ডিসেম্বরের মধ্যে আহতদের অর্ধ কোটি এবং নিহতদের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া না হলে জানুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।”

নুরুল হক জানান, “আমরা জানি, বিপ্লবের পর প্রতি বিপ্লবের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু সরকার আমাদের বার্তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে জনসমর্থন হারিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারও টিকে থাকতে পারবে না।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান এবং যুব অধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মামুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে পাঁচটি প্রধান চ্যালেঞ্জ : ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং অ্যালমানাকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ ৬ষ্ঠ সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় করণীয়

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আর্থিকখাতের সংস্কার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বেসরকারি খাত সম্প্রসারণের চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ব্যক্তি খাত ও সরকারকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে অলিগার্কিক মার্কেটের প্রভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৫ সালের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান এবং কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিনিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

অর্থনীতিবিদ আরও জানান, বিনিয়োগ স্থবির থাকার কারণ শুধু অর্থনৈতিক নীতি নয়; এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাজনিত বিষয়গুলোরও জড়িত। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, তবে ধীরে ধীরে সফলতা আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের বিশেষ দিক

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থসচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তথ্য বিভ্রাটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, আর্থিকখাতের উন্নয়নে দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকিং অ্যালমানাকের এক্সিকিউটিভ এডিটর সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যালমানাকের প্রকল্প পরিচালক আবদার রহমান।

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আর্থিকখাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগ এবং ব্যক্তি খাতের সম্পৃক্ততা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম