বরগুনার তিন নদীর ভাঙনে লাখাধিক মানুষ বিপর্যস্ত

বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী তীরের ভয়াবহ ভাঙনের কারণে উপকূলজুড়ে নীরব বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রতিদিন নদীর ঢেউয়ে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ি, স্কুল, বাজার, কৃষিজমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদীভাঙনের আতঙ্কে লক্ষাধিক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধ নির্মাণ করলেও নদীর তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের কারণে বাঁধগুলো টেকসই হচ্ছে না। বাঁধের লাইন তিনবার পরিবর্তন হলেও নদীর আগ্রাসী ভাঙন থামানো সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাঙনের প্রধান কারণ হলো বর্ষাকালে পানি চাপ বৃদ্ধি, অবৈধ দখল, বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, ইটভাটা ও চর দখল, জলবায়ু পরিবর্তন, সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঘনঘন প্রভাব।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো পায়রা ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বরগুনা সদরের বালিয়াতলী, তেঁতুলবাড়িয়া, বুড়িরচর, গোলবুনিয়া, রায়ের তবক, নলটোনা, আজগরকাঠি, ডালভাঙ্গা, নদী বন্দর, পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা, জিনতলা, রুহিতা, কাকচিড়া, বামনা উপজেলার রামনা, বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি, কালিকাবাড়ী, হোসনাবাদ, মোকামিয়া, আমতলী উপজেলার বালিয়াতলী, গুলিশাখালী, পচাকোড়ালিয়া, আরপাঙ্গাশিয়া, যোপখালী, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া, চরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা।

বরগুনা সদর উপজেলার ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের নলটোনা গ্রাম ইতোমধ্যেই বিষখালী নদীর আগ্রাসনে বিপর্যস্ত। ফসলি জমি, বসতবাড়ি, বিদ্যালয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে বসতভিটা হারিয়ে এলাকা ত্যাগ করেছেন।

স্থানীয় চাষি ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদী ভাঙন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, “পাউবো বরাবর হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেই।” তালতলীর মিশনবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল জব্বার হাওলাদার বলেন, “গত বছর বীজ রোপণ করেছি, আজ সেখানে নদীর ঢেউ খেলছে। গৃহহীন হাজারো মানুষ, কৃষিজমি নদীতে বিলীন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস।”

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮৫০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৫০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত, সংস্কার হচ্ছে মাত্র ৩০০ কিলোমিটারে। বাকি ২০০ কিলোমিটার ঝুঁকির মুখে। অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে এবং স্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের অপেক্ষায় আছি। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, “কাগজে প্রকল্প আছে, বাস্তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেই।”

স্থানীয়দের দাবি, উপকূল রক্ষায় টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন, দখলমুক্ত নদী প্রবাহ এবং কার্যকর বাঁধ নির্মাণ অত্যাবশ্যক। যদি এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, বরগুনার বহু জনপদ ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় পানের ভালো ফলন, কিন্তু দাম কমে হতাশ চাষিরা

চলতি মৌসুমে ভালো ফলন হলেও বরগুনার পান চাষিরা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশার মুখে পড়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ চরমভাবে কম হওয়ায় চাষিরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বরগুনার ছয় উপজেলায় ৪১১ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে ফলনও বাম্পার হয়েছে। তবে বাজারে অস্বাভাবিকভাবে কম দাম এবং সার, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে চাষিরা লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত বছর ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ১৮৪ হেক্টর বরজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। এতে ৭৩৬ টন পান উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। চাষিরা অভিযোগ করেছেন, ধারদেনা করে আবাদ করা হলেও এখন তাদের ঋণকভার করা কঠিন হয়ে গেছে। অনেক চাষি আশঙ্কা করছেন, যদি দাম না বাড়ে, আগামী মৌসুমে অনেকে পান চাষ ত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।

বরগুনা সদরের হেউলিবুনিয়া গ্রামের চাষিরা জানান, বরজে পাটকাঠির সাথে ঝুলে থাকা চিরসবুজ পানও এখন তাদের আনন্দের কারণ নয়। কম দাম এবং বেড়ে যাওয়া কৃষি খরচে শ্রমিক নিয়োগও সম্ভব হচ্ছে না। হরেন সাধু নামের ষাটোর্ধ্ব এক চাষি বলেন, “এই ব্যবসা আমাদের পরিবারে বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। কিন্তু ন্যায্য দাম না থাকায় এখন ঋণ নিয়ে বাঁচছি।”

কুমড়াখালী এলাকার চাষি মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা আধুনিকভাবে পানের চাষ করছি, কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম মিলছে না। কৃষি অধিদপ্তর জানিয়েছে মানসম্মত পান উৎপাদন হলে বিদেশে রপ্তানি সম্ভব, সেই প্রস্তুতি আমরা শুরু করেছি।”

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, এ বছর বরগুনায় ৩,৬০৪টি বরজে পানের আবাদ হয়েছে। চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং উৎপাদিত পান যাতে দেশের বাজারে ন্যায্য মূল্য পায় এবং বিদেশে রপ্তানি করা যায়, সেদিকেও কাজ চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রিতে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুদ ও বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্রের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দেখা যায়, লায়বা ফার্মেসিমনি মেডিকেল হল নামের দুটি ওষুধের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির দেওয়া ফ্রি স্যাম্পল ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া একই বাজারে তাহিয়া কসমেটিকস নামের এক দোকানে অনুমোদনহীন ভারতীয় প্রসাধনী, বিশেষ করে “ডিউল” নামের নাইট ক্রিমসহ অবৈধ পণ্য বিক্রির দায়ে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে অবৈধ প্রসাধনীগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

অভিযানে সহযোগিতা করেন উজিরপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এস. এম. ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদ এবং উজিরপুর মডেল থানার এএসআই অন্তর আহমেদ

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“এই বয়সে চাকরি কই পাব?”বরিশালে অপসো স্যালাইন কারখানা বন্ধে শ্রমিকদের কান্না

বরিশালের বগুড়া রোডে অবস্থিত অপসো স্যালাইন ফার্মাসিউটিক্যালস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক। শনিবার বিকেল থেকে রোববার রাত পর্যন্ত শ্রমিকরা কারখানার ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও পুনরায় কারখানা চালুর দাবি জানান।

প্রায় ৫৮০ জন শ্রমিক কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। তাদের একজন, হেনরি বিশ্বাস (৪৭)—তিন সন্তানের জনক এবং প্রায় দেড় যুগ ধরে এই কারখানায় কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, “কোনো দোষ ছাড়া চাকরি কইরা দিল। একসাথে এত মানুষ বেকার হইয়া গেল। এই বয়সে নতুন চাকরি কই পাব? বাচ্চাগো খাওয়ামু কেমনে?”

শ্রমিকদের দাবি, গত ২৭ অক্টোবর তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়, কিন্তু ছুটি শেষে ডাকযোগে তাদের হাতে পৌঁছে যায় ছাঁটাইপত্র। এরপর থেকেই তারা কর্মস্থলে প্রবেশ করতে পারছেন না।

কারখানার ফটকের সামনে বিক্ষোভে শ্রমিকরা বলেন, এই ছাঁটাইয়ের পেছনে কারণ হলো ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ। তারা অভিযোগ করেন, ইউনিয়নের কথাই বলায় মালিকপক্ষ অসন্তুষ্ট হয়ে হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শ্রমিক রাবেয়া খাতুন, চোখে অশ্রু নিয়ে বলেন, “আমরা তো দোষ করি নাই। শুধু ইউনিয়ন চাইছিলাম, যাতে আমাদের অধিকার থাকে। এখন পেটে ভাত নাই, মনে ভয়।”

একজন কারখানা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছে ঢাকার হেড অফিস। তবে হেড অফিস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরে কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম দীপু বলেন, “আন্দোলনের কারণে কারখানাটি সাময়িকভাবে লে-আউট ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের পাওনা যথাসময়ে পরিশোধ করা হবে।”

চল্লিশ বছরের পুরনো এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি বরিশালের অন্যতম বৃহৎ নিয়োগদাতা। হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার অর্থনৈতিক চক্রেও প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২5




বরিশালে বিএনপির লিফলেট বিতরণে তৃণমূলে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি

আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত “রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ৩১ দফা” প্রচারে বরিশাল জেলায় লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার বিকেলে বরিশাল সদর উপজেলার সাহেবের হাট এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক হুইপ ও সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। তিনি বলেন,“তারেক রহমানের ৩১ দফা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রূপরেখা।”

এসময় নেতাকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের হাতে লিফলেট পৌঁছে দেন এবং আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ নুরুল আমিন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন, সদস্য সচিব আব্বাস উদ্দিন, এবং বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

নেতারা বলেন, এই প্রচারণার লক্ষ্য হলো—দলীয় নীতি, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাসনাত আব্দুল্লাহ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দিতে হবে ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ ড. মুহাম্মদ ইউনুসকেই দিতে হবে। তিনি বলেন, “যদি এই আদেশ ‘চুপ্পুর কাছ থেকে’ নিতে হয়, তবে তা হবে বিপ্লবের কফিনে শেষ পেরেক।”

রবিবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এনসিপির জেলা ও মহানগর সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, “আমরা তিনশ’ আসনেই সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করে যাচ্ছি। গুণগত ও কাঠামোগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে যেতে পারি। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

নির্বাচন কমিশন ও প্রতীকের প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “শাপলা প্রতীক কেন দেওয়া হবে না—এর কোনো ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশন দেয়নি। এতে কমিশনকে ঘিরে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে যদি কোনো অনিয়ম হয়, তারা কি তার ব্যাখ্যা দেবে—এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।”

সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। সভার সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলার প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা

সভায় জেলা ও মহানগর নেতারা দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে কবি জীবনানন্দ দাশের বাড়ি পুনরুদ্ধারে চার দফা দাবি

বরিশালে কবি জীবনানন্দ দাশের পৈতৃক বাড়ি পুনরুদ্ধার ও দখলদারদের উচ্ছেদসহ চার দফা দাবি নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেন কবি সৈয়দ মেহেদি হাসান এবং জীবনানন্দ-প্রেমী ও সংস্কৃতিক কর্মীরা।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বরিশাল নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ১৯৪৮ সালে কবি জীবনানন্দ দাশ স্বপরিবারে বরিশাল ত্যাগ করেন। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত বরিশাল নগরের জীবনানন্দ দাশ সড়কের ধানসিঁড়ি নামক বাড়িতে তাদের স্বজনরা থাকতেন। পরে একজন তত্ত্বাবধায়ককে রেখে দখলদার কৌশলে বাড়িটি নিলামে উঠিয়ে বিক্রি করেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা দখলদারদের উচ্ছেদ করে বাড়িটি জীবনানন্দ দাশ গবেষণাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন যাতে কবির ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চার বছর পর নদীতে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী স্টিমার পিএস মাহসুদ

এক সময়ে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর তীরে ভোরবেলার শব্দ ছিল স্টিমার পিএস মাহসুদের হুইসেল আর পানির ছলাৎ ছলাৎ। সদর ঘাট ও পোস্তগোলা ব্রিজে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা এই দৃশ্য উপভোগ করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে সেই আনন্দ ও নৌযানের ছন্দ আর শোনা যাচ্ছিল না।

এবার চার বছর পর ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদ আবার নদীতে নামছে। বর্তমানে এটি বুড়িগঙ্গার বাদামতলি ঘাটে রয়েছে, যাত্রার প্রস্তুতি চলছে পূর্ণমোটে। জানা গেছে, আগামী ১৫ নভেম্বর সদর ঘাট থেকে বরিশালে মাহসুদের যাত্রা শুরু হবে।

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটে একদিনের পরীক্ষামূলক চলাচল সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

বাদামতলি ঘাটে স্টিমারটি পুনরায় সাজানো হচ্ছে। রং করা, ইঞ্জিন পরীক্ষা, কেবিনের খুঁত খুঁজে মেরামতের কাজ তৎপরভাবে চলছে। পুরনো এই স্টিমারের নবযৌবন ফিরিয়ে আনার জন্য কর্মীরা নিঃশব্দভাবে কাজ করছেন।

পিএস মাহসুদকে পরিচিতি দিয়েছে এর দ্রুতগতি। একসময় ঢাকা থেকে খুলনা পৌঁছাতে এটি মাত্র ২০–২২ ঘণ্টা সময় নিত। এই কারণে স্টিমারটি জনসমাজে পরিচিত হয় ‘জলের রকেট’ বা কমলা রকেট নামে। স্টিমারের কমলা রঙও এই নামের সঙ্গে যুক্ত।

নৌযানটির ইঞ্জিন চালক সোহাগ জানান, পদ্মা সেতুর ফলে নদীপথের জনপ্রিয়তা কমেছে। আগে যেখানে ৫০০ যাত্রী যেতেন, এখন ২০০ জনও পূর্ণ হয় না। তবু পিএস মাহসুদ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রত্ননির্ভরযোগ্য পরিবহন হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে এমনকি ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথও এক সময়ে মাহসুদে ভ্রমণ করেছেন।

মাহসুদের বিশেষত্ব হলো প্যাডেল ব্যবস্থা, যা অন্য স্টিমারের পপুলার সিস্টেম থেকে আলাদা। প্যাডেল ঘোরার দৃশ্য নদীতে অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়।

নতুন সার্ভিস অনুযায়ী, ঢাকা–বরিশাল নদীপথে প্রতিসপ্তাহে দুই দিন এই স্টিমার চলবে। শুক্রবার ঢাকা থেকে বরিশালে যাত্রা, শনিবার বরিশাল থেকে ঢাকা ফেরত। নৌযানের আভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা আধুনিক প্রযুক্তিতে আপডেট করা হয়েছে। নতুন জেনারেটর, ইঞ্জিন অংশ, তলার প্লেট, এসি ক্ষমতা, রাডার, জিপিএস ও কম্পাস সবকিছু আধুনিক সংস্করণে এসেছে।

কমার্শিয়াল ডিজিএম তানভীর আহমেদ জানান, এইবার মাহসুদের সার্ভিস হবে রিভার ক্রুজের মতো। নিরাপত্তার কারণে যাত্রী নেওয়া হবে সীমিত। ঢাকা থেকে বরিশালে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ১২ ঘণ্টা, অনুকূল আবহাওয়া ও জোয়ারে ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, শতবর্ষী স্টিমারগুলো আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। পর্যটকদের আকর্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পিএস মাহসুদ পুনরায় নদীপথে চলাচল করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 


 




চরফ্যাশনের গাছিরখাল লঞ্চঘাটে নতুন পন্টুন স্থাপন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর গাছিরখাল লঞ্চঘাটে স্থাপন করা হয়েছে একটি নতুন পন্টুন। এতে এলাকার মানুষ এখন থেকে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে নৌপথে চলাচল করতে পারবেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন পন্টুনটি ঘাটে পৌঁছায়। আগামী ২৮ অক্টোবর নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এর উপস্থিতিতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।

স্থানীয়রা জানান, নতুন এই পন্টুন স্থাপনের ফলে গাছিরখাল ঘাট ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে, একইসঙ্গে পণ্য পরিবহনও সহজ হবে। আগে ঘাটে জোয়ার-ভাটার সময় ওঠানামা করতে দুর্ভোগ পোহাতে হতো যাত্রীদের।

এদিকে শুক্রবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া নতুন স্থাপিত পন্টুনটি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরে তিনি উপজেলার আহমদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামে নিজের অর্থায়নে নির্মিত দোতলা মসজিদের কাজ পরিদর্শন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার আশ্বাস দেন। জুমার নামাজ শেষে চরফ্যাশন শহরের একটি এতিমখানায় অনাথ শিশুদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান এবং তাদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।

অপরদিকে বিকেলে তিনি চরফ্যাশন টিবি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি সিটি হকিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’ এর ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,

“খেলাধুলা সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখে। তাই রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে হবে।”

স্থানীয় তরুণরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন পন্টুন স্থাপন ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে চরফ্যাশনের জীবনমান আরও উন্নত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা, পাথরঘাটায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত

বরগুনা জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। জেলা সদর ছাড়িয়ে এখন উপজেলাগুলোতেও সংক্রমণ বাড়ছে দ্রুতগতিতে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। স্থানীয়রা বলছেন, মশা নিধন কার্যক্রমে প্রশাসনের অবহেলা ও মনোযোগের ঘাটতির কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে।

বিশেষ করে পাথরঘাটা উপজেলা এখন ডেঙ্গুর প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বরগুনার সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় ৮৬৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২ জন, তবে স্থানীয় সূত্রে এই সংখ্যা ৯ জন বলে জানা গেছে।

রোগীরা অভিযোগ করেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। সেখানে কোনো আইসিইউ বেড নেই, ফলে গুরুতর রোগীদের বরিশাল বা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক আনোয়ার হোসেন বলেন, “প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতিদিন নতুন রোগী বাড়ছে। সময়মতো মশা নিধন না হওয়ায় পুরো এলাকা এখন ডেঙ্গুর কবলে।”

অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “এলাকায় সচেতনতা বাড়ানো বা ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রম খুবই সীমিত। প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করলে হয়তো এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”

চিকিৎসকরা বলছেন, আবহাওয়া ও পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে মশার প্রজনন বেড়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন শীতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫