জাতীয়বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে কমিশন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিশন। দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের কার্যক্রম এবং আটক ব্যক্তিদের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে কমিশন তাদের প্রতিবেদনের একটি অংশে জানায়, ‘এটি স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে, দুই দেশের সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয়ের মাধ্যমেই এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।’

সাবেক বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশন সম্প্রতি ‘সত্য উদঘাটন’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে।

কমিশন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে এ বিষয়ে একটি জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে যে, কিছু বন্দি এখনও ভারতের জেলে থাকতে পারে।

কমিশন জানায়, ‘আমরা পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করছি যেন তারা ভারতে এখনও বন্দি অবস্থায় থাকতে পরে এমন যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজে বের করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে। বাংলাদেশের সীমানার বাইরে এই বিষয়টি তদন্ত করা কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ।’

প্রতিবেদনে উল্লিখিত দুটি বহুল আলোচিত ঘটনা গুমের এই কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল তা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করে।




শহীদ ও আহতদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা প্রকাশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল।

গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকায় ৮৫৮ জন শহীদের নাম এবং আহতদের তালিকায় ১১ হাজার ৫৫১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে শহীদ বা আহত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ৬৪টি জেলায় গঠিত জেলা কমিটি এবং গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ওয়েবসাইটে (https://musc.portal.gov.bd) প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের উল্লিখিত খসড়া তালিকা দুটি আগামী ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায়, প্রকাশিত খসড়া তালিকা দুটিতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি যাচাই অথবা সংশোধন অথবা চূড়ান্ত করতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য অথবা ওয়ারিশ অথবা প্রতিনিধিদের মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হলো।

এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত তালিকার বিষয়ে কারো কোনো মতামত অথবা পরামর্শ থাকলে অথবা সংযোজন অথবা বিয়োজন করার মতো যুক্তিসংগত কোনো তথ্য থাকলে তা আগামী ২৩ ডিসেম্বর মধ্যে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ইমেইলে (muspecialcell36@gmail.com) অবহিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।




বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্তে জন্ম হচ্ছে নতুন স্বাধীন দেশ!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পাশে জন্ম নিতে যাচ্ছে আরো একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। যে কোন সময় আত্নপ্রকাশ ঘটতে পারে দেশটির। প্রায় দেড় দশক আগে আরাকান আর্মি তৈরি হয়। রাখাইন রাজ্যকে ঘিরে ইতোমধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সরকারি বাহিনীকে রীতিমত পরাজিত করে তারা পুরো অঞ্চল দখল নিয়েছে। সর্বশেষ মংডু দখল করার মধ্য দিয়ে তারা মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়েছে। খুব দ্রুত হয়তো আত্নপ্রকাশ হতে যাচ্ছে কক্সবাজারের পাশে নতুন একটি দেশ আরাকান রাজ্য।

ইতোমধ্যে ভারত-চীনের মতো দেশগুলো যোগাযোগ শুরু করেছে আরাকান আর্মির সাথে। তৎপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের অস্থিরতার মধ্যেই আরো বড় ঘূর্ণাবতে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পড়তে পারে ভৌগলিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণে।




কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কে অটোরিকশা উল্টে শিশুর মৃত্যু

কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের মোস্তফাপুর এলাকায় একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা উল্টে গিয়ে প্রান্ত (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রান্ত উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজন হাওলাদারের পুত্র।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে অটোরিকশায় করে নিজ বাড়ি থেকে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামে খালাবাড়িতে যাচ্ছিল। মহাসড়কে চলার সময় অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ঢালে উল্টে যায়। এতে প্রান্ত গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “দুর্ঘটনার বিষয়টি জানার পর হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



‘অভিনয় করতে করতেই মরে যেতে চাই’: রওনক হাসানের অভিব্যক্তি

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমা ‘নকশী কাঁথার জমিন’ আসন্ন ২৭ ডিসেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। এই চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা রওনক হাসান। সম্প্রতি তিনি নিজের অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং জীবনের গভীর আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।

রওনকের আবেগঘন পোস্ট

২১ ডিসেম্বর ভোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রওনক হাসান একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, “গিটার বাজাতে বাজাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন অর্থহীন ব্যান্ডের গিটারিস্ট পিকলু ভাই। আমিও এমনই মৃত্যু কামনা করি। অভিনয় করতে করতেই আমি চলে যাবো ওপারে।”

করোনাকালে ‘নকশী কাঁথার জমিন’ সিনেমার শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি আরও বলেন, “এই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। আপনাদের এই চলচ্চিত্র দেখার আমন্ত্রণ জানাই।’’

সিনেমার নির্মাণ ও প্রাপ্তি

‘নকশী কাঁথার জমিন’ পরিচালনা করেছেন আকরাম খান। হাসান আজিজুল হকের গল্প ‘বিধবাদের কথা’ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমা ইতোমধ্যেই সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। এটি ভারতের বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করেছে এবং ৫৩তম ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ায় (আইএফএফআই) আইসিএফটি-ইউনেসকো গান্ধী মেডেলের জন্য মনোনীত হয়েছিল।

অভিনয়শিল্পীদের অংশগ্রহণ

এই সিনেমায় দুই বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান এবং ফারিহা শামস সেঁওতি, আর দুই ভাইয়ের চরিত্রে দেখা যাবে ইরেশ যাকের ও রওনক হাসানকে। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে এই চরিত্রগুলো গল্পের গভীরতা ও আবেগকে তুলে ধরবে বলে প্রত্যাশা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চুল কালো রাখার সহজ উপায়

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ধূসর চুল হওয়া স্বাভাবিক। তবে বর্তমান জীবনযাত্রা এবং পরিবেশগত কারণে অকালেই চুল সাদা হওয়া সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সঠিক যত্নের মাধ্যমে চুলের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিছু কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রাকৃতিকভাবে চুল কালো রাখতে পারেন। আসুন জেনে নিই সেই উপায়গুলো:

কারি পাতা:
কারি পাতা চুলের ফলিকলে মেলানিন উৎপাদনে সাহায্য করে। নারিকেল তেলের সঙ্গে কারি পাতা মিশিয়ে গরম করুন এবং এই তেলটি নিয়মিত মাথায় ম্যাসাজ করুন। এটি চুলে পুষ্টি জোগায় এবং কালো রাখে।

আমলকি তেল বা গুঁড়া:
আমলকি ভিটামিন সি-তে ভরপুর, যা চুলের প্রাকৃতিক রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে। আমলকি তেল মাথায় ম্যাসাজ করুন বা পাউডার দিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করে ব্যবহার করুন। এটি চুলের পিগমেন্টেশন ধরে রাখতে সহায়ক।

ব্ল্যাক টি:
ব্ল্যাক টি চুলের জন্য প্রাকৃতিক রঙ হিসেবে কাজ করে। চা পাতা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিন এবং এটি চুলে ব্যবহার করুন। কয়েকদিন পরেই আপনি চুলের রঙে পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।

পেঁয়াজের রস:
পেঁয়াজে থাকা ক্যাটালেস এনজাইম চুল প্রাকৃতিকভাবে কালো করতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের রস নারিকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। আধা ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মেহেদি হেয়ার মাস্ক:
মেহেদি চুলের জন্য প্রাকৃতিক রঞ্জক হিসেবে কাজ করে। সামান্য পানি দিয়ে মেহেদি গুঁড়া মিশিয়ে একটি মাস্ক তৈরি করুন। এটি কয়েক ঘণ্টা চুলে রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের রঙ কালো হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনায় আওয়ামী লীগ নেতার হাতে দেশীয় অস্ত্র, ভিডিও ভাইরাল

বরগুনায় এক আওয়ামী লীগ নেতার হাতে দেশীয় অস্ত্রসহ একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বরগুনা জেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি এবং সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া একটি দেশীয় অস্ত্র (চাকু) হাতে উত্তেজিতভাবে বাগবিতণ্ডা করছেন। ভিডিওটি শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ১৭ সেকেন্ড, যেখানে গোলাম কিবরিয়া একটি ঘরের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করছেন। পরে উত্তেজিত হয়ে তিনি দেশীয় অস্ত্র হাতে উপস্থিত লোকজনের দিকে ধাবিত হতে চেষ্টা করেন। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন তাকে বাধা দিলে বড় কোনো অঘটন ঘটেনি।

বরগুনা সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. তালিমুল ইসলাম পলাশ এই ভিডিওর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, গোলাম কিবরিয়া এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁর দাবি, ভিডিওটি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিচায়ক এবং এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি কিবরিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “এই ভিডিওর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে যদি অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় গ্রাহকের ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও দুই সমবায় সমিতি

ভোলার দৌলতখান উপজেলার দুইটি সমবায় সমিতি গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। গ্রাহকেরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য অনিশ্চয়তায় ভুগছেন এবং সমিতির অফিসের সামনে রাত-দিন অপেক্ষা করছেন।

দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে আইডিয়াল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং নিউ আইডিয়াল মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নামে দুটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। এই সমিতির সভাপতি আব্দুর রব গ্রাহকদের উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন। গ্রাহকদের মাঝে বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে এই টাকা সংগ্রহের পর, গত নভেম্বর মাসে সমিতির অফিসে তালা মেরে তিনি আত্মগোপন করেন।

জানা গেছে, সমিতির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এক লাখ টাকার বিপরীতে ১৫ হাজার টাকার উচ্চ মুনাফা দেওয়া হতো এবং দ্বিগুণ লাভের অফারও দেওয়া হতো। এই লোভনীয় অফারগুলোতে আকৃষ্ট হয়ে দৌলতখান এবং আশপাশের এলাকার গ্রাহকরা তাদের পুঁজি জমা রাখেন। একসময় এই সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত টাকার ফেরত পেতে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।

স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম জানান, তিনি তার গরু-ছাগল বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন, কিন্তু এখন তিনি তার টাকার হাল জানেন না। সুরমা বেগমও জানান, তার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি ৩০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন, কিন্তু সেই টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না। বিধবা মাজেদা বেগমও জানিয়েছেন, তার মৃত স্বামী রেখে যাওয়া ৩ লাখ টাকা তিনি সমিতিতে জমা রেখেছিলেন, কিন্তু এখন তিনি অফিসে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ফেসবুক আইডিতে তিনি জানান, তার বাড়িঘর বিক্রি করে হলেও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেবেন।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “যদি কোনো গ্রাহক থানায় লিখিত অভিযোগ দেন, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপ সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, সমবায় আইন অনুযায়ী যদি কোনো অভিযোগ আসে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কাঁঠালিয়ায় শীত ও বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে শ্রমজীবীরা

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতজনিত রোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং শিশু ও বৃদ্ধরা এই সময়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে শীতের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলতে থাকে। এ অবস্থায় কাঁঠালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সড়কে তেমন কোনো যানবাহন চলছিল না এবং মানুষ খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন না।

কাঁঠালিয়ার জমাদ্দার হাটের হোটেল ব্যবসায়ী মো. সেলিম ঘরামি জানান, প্রচুর শীত থাকার কারণে এবং গতকাল রাত থেকে বৃষ্টির কারণে বাজারে তেমন মানুষ আসছে না, ফলে তার বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।

এদিকে, শ্রমজীবী মানুষও কঠিন পরিস্থিতির শিকার। মো. স্বপন খান, একজন দিনমজুর, বলেন, “বৃষ্টি এবং শীতের কারণে বাজারে লোকজন আসে না। তাই আমি কাজ করতে পারিনি, টাকা রোজগারও করতে পারিনি।”

রিকশাচালক মো. তোকাব হাওলাদার জানান, বৃষ্টির কারণে তিনি আজ কোন আয়-রোজগার করতে পারেননি। তিনি জানান, তার অসুস্থ স্ত্রীর জন্য প্রতিদিন ওষুধ কেনা প্রয়োজন, কিন্তু আজ সে ওষুধ কেনা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান।

এমন পরিস্থিতিতে কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের চিকিৎসক সোহাগ মজুমদার জানান, তীব্র শীত এবং বৃষ্টির কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, বিশেষ করে কাশি ও সর্দি-জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শ্রমজীবী মানুষদের সাহায্য করা হবে এবং শীতজনিত রোগগুলোর প্রতিকার করা হবে।




 বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে কমিশন

বাংলাদেশে গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে ভারতের সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে একটি কমিশন। দুই দেশের বন্দি বিনিময়ের কার্যক্রম এবং আটক ব্যক্তিদের পরিণতি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী কমিশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় ভারতের ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাবেক বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিশন সম্প্রতি ‘সত্য উদঘাটন’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে। কমিশন জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে যে কিছু বন্দি এখনও ভারতের জেলে থাকতে পারে।

কমিশন আরও জানায়, তারা পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন তারা ভারতের জেলে থাকা কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজে বের করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। তবে, বাংলাদেশে এই বিষয়টি তদন্ত করার এখতিয়ার কমিশনের নেই।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে অপহৃত হয়ে ভারতীয় কারাগারে পৌঁছানো সুখরঞ্জন বালি এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘটনা দুইটি বড় প্রমাণ সরবরাহ করছে যে, গুমের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল।

সালাহউদ্দিন আহমেদের বিষয়ে কমিশন জানায়, তাকে ২০১৫ সালে উত্তরায় লুকিয়ে থাকার সময় আটক করা হয় এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত সেলে আটক রাখা হয়েছিল, যেখানে একটি গর্ত ছিল যা টয়লেট হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তার দেওয়া কম্বলে ‘টিএফআই’ অক্ষরগুলো লেখা ছিল, যা ‘টাস্ক ফোর্স ফর ইন্টারোগেশন’-এর ইঙ্গিত বহন করে।

কমিশন পরিদর্শন করে নিশ্চিত করেছে যে, র‍‍্যাব গোয়েন্দা শাখা এখনও ওই স্থাপনার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর চাবি নিজেদের হাতে রাখে। তবে, ওই স্থাপনার অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো সম্প্রতি ধ্বংস করা হয়েছে। কমিশন জানায়, ২০১০-১১ সালের দিকে এই কেন্দ্র পরিদর্শনকারী সেনা সদস্যদের সাক্ষাৎকার থেকে জানা গেছে, এক সময় এই স্থাপনায় অতিরিক্ত একটি তলা ছিল, যা বর্তমানে আর প্রবেশ করা যায় না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বন্দী হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রকৃতি এবং এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটেছে।

কমিশন এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে, তবে প্রাথমিকভাবে এটি সন্দেহ করা হচ্ছে যে, সালাহউদ্দিন আহমেদ বর্তমানে নষ্ট করে ফেলা সেলগুলোর একটিতে আটক ছিলেন। তাদের মতে, দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময় কার্যক্রমের মাধ্যমে গুমের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে সংগঠিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রকৃতির।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম