বরিশাল থেকে চুরি হওয়া ট্রাকসহ দুই যুবক গ্রেফতার

বরিশাল থেকে চুরি হওয়া একটি ট্রাকসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন নাজমুল হাসান (২৫) এবং শরীফ হাওলাদার (২১)। তাদেরকে শনিবার রাতে ঢাকার গাজীপুর থেকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে রোববার (২২ ডিসেম্বর) নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন শিকদার। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত যুবকরা একটি চোরাই দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত নাজমুল হাসান (২৫) বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকার আউয়াল মিয়ার ছেলে, এবং শরীফ হাওলাদার (২১) একই এলাকার হুমায়ূন কবিরের ছেলে।

ওসি জাকির হোসেন বলেন, চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল নগরীর কাশিপুর ট্রাকস্ট্যান্ডে ট্রাকটি রেখে চালক শামিম শাহ বাসায় ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে ট্রাকটি দেখতে না পেয়ে তিনি পুলিশকে জানান। পরবর্তীতে ট্রাক চালক শামিম শাহ বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় চুরি মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় এবং চুরি হওয়া ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচিত

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে সুহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রাজা মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ নির্বাচিত হয়েছেন।

রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি গলাচিপা উপজেলা শাখার আয়োজনে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি পটুয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এ মতিন, সদস্য সচিব মনজুরুল আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মশিউর রহমান (শাহীন)।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুনতাসীর মামুন।

সভাপতি মো. রাজা মিয়া বলেন, “শিক্ষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমরা শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটানোর জন্য একযোগে প্রচেষ্টা চালাব।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ওঠা ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের টিম গঠন করেছিল দুদক। ওই টিমকেই ৩০০ মিলিয়ন ডলারের পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিষয়ে একটি প্রাথমিক তদন্ত করে। ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম রিজভী আহমেদ মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম প্রথম নজরে আসে। এফবিআইয়ের তদন্তে সজীব ওয়াজেদ জয়ের গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়টি উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে, তার নামে থাকা হংকং এবং কেম্যান আইল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে স্থানীয় একটি মানি এক্সচেন্জের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে টাকা পাচারের তথ্য উঠে আসে। এফবিআই তাদের লন্ডনের প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং প্রমাণ পেয়েছে যে সেখানে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম এবং মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের (ডিওজে) সিনিয়র ট্রায়াল এটর্নি লিন্ডা সেমুয়েলস স্পেশাল এজেন্ট লা প্রিভোটের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বা ৫৯ হাজার কোটি টাকাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৮০ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেখানে শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকসহ পরিবারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে রূপপুর ছাড়াও আশ্রয়নসহ ৮টি প্রকল্পে দুর্নীতির তথ্য আমলে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য প্রকল্পগুলোতে ২১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।




১৬ বছর পর পটুয়াখালী পৌর মাছ বাজারের ঘাট পুনরুদ্ধার

দীর্ঘ ১৬ বছর পর পটুয়াখালী পৌর মাছ বাজারের ঘাটটি দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। গত ২০ ডিসেম্বর ঘাটটিতে থাকা দোকান ভেঙে দখল মুক্ত করা হয়। এতে পৌর মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দ।

নিউ মার্কেট ক্ষুদ্র মৎস্য কার্যনির্বাহী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হাওলাদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা এই ঘাটটি দখল করে অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। প্রতিদিন এখানে মদ ও জুয়ার আসর বসত। ঘাটটি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের মাছ আনা-নেওয়ার জন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হতো, যা মাছের দামে প্রভাব ফেলত।

মাছ ব্যবসায়ীরা ঘাটটি পুনরুদ্ধার করায় খুশি হলেও দ্রুত এর সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, ঘাটটি সরাসরি মাছের ট্রলার আসা-যাওয়ার উপযোগী হলে ব্যবসা সহজ হবে এবং মাছের দাম কমে যাবে।

ঘাট পুনরুদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন নিউ মার্কেট ক্ষুদ্র মৎস্য কার্যনির্বাহী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মন্নান ফকির, সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হাওলাদার, ক্যাশিয়ার মো. শামীম মৃধা, এবং অন্যান্য মাছ ব্যবসায়ী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পানামা খাল ব্যবহারের জন্য মধ্য-আমেরিকার দেশ পানামা অতিরিক্ত ফি আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত-প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মার্কিন মিত্র পানামার কাছ থেকে খালটির নিয়ন্ত্রণভার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে এই হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

মার্কিন এই নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পানামা যদি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে খালটি পরিচালনা না করে, তাহলে এর নিয়ন্ত্রণভার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের জন্য পানামার কাছে দাবি জানাবেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে পানামা খাল ঘিরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। পানামা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ভুল হাতে এই খালটি পড়তে দেবেন না। পানামা খালে পণ্যবাহী জাহাজ পরিচালনায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই খালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পানামার; চীন বা অন্য কারও নয়। আমরা কখনই এর নিয়ন্ত্রণ ভুল কারও হাতে যেতে দেব না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি একটি সার্বভৌম দেশকে পানামা খাল হস্তান্তর করার জন্য চাপ দিতে পারেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন কূটনীতিতে প্রত্যাশিত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে ট্রাম্পের এই হুমকিতে; যিনি ঐতিহাসিকভাবে মিত্রদের হুমকি ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে কাজ করার সময় মারমুখী অবস্থান নিয়ে থাকেন।

আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে সংযোগকারী পানামা খাল বিশ্ব বাণিজ্যে মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক দশক ধরে খালটি ও এর প্রশাসনিক অঞ্চল নির্মাণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯১৪ সালে পানামা খালের নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই দেশের যৌথ প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে সেটি পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে এই খালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামা।




ঘন কুয়াশায় দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে দুটি বিলাসবহুল যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে লঞ্চ দুটির সম্মুখভাগের বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যক্রমে কোনো যাত্রী হতাহত হননি।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে পদ্মার হাইম চরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চ দুটি একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের পর, এমভি কীর্তনখোলা-১০ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেও, এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০ নামের অপর লঞ্চটি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে নোঙর করে রাখা হয়।

এ ঘটনায়, যদিও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবে লঞ্চ দুটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত লঞ্চগুলোর বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,**
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘর্ষ, নিহত ১

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘন কুয়াশার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, যেখানে প্রায় সাত থেকে আটটি যানবাহন একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা নাগাদ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জের সিংপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংপাড়া আন্ডারপাসে একটি সাকুরা পরিবহনের বাস কাভার্ডভ্যানের পেছনে ধাক্কা দেয়। এরপর পেছনে থাকা মাইক্রোবাসসহ তিনটি যাত্রীবাহী বাস একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

হাসাড়া হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী জানান, দুর্ঘটনার ফলে মাইক্রোবাসের চালক গুরুতর আহত হন। তাকে শ্রীনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, চিকিৎসকরা সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যান্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন।

এ ঘটনায় এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর এলাকায় প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য সড়কে তীব্র জ্যাম সৃষ্টি হয়, যার ফলে যাত্রীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাসিনা পালিয়ে দিল্লিতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক তলানিতে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কয়েক দশক ধরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের মধ্যে ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। কিন্তু চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে সেই সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবস্থা তুলে ধরে এবিসি নিউজের করা এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভের ফলে শুরু হওয়া আন্দোলন শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ‘দেশব্যাপী আন্দোলনে’ পরিণত হয়।

ছাত্র-জনতার এই গণআন্দোলনকে “বিশ্বের প্রথম জেন-জি বিপ্লব” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে দেওয়া এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান — এবং এরপর থেকে তিনি দিল্লিতেই নির্বাসিত রয়েছেন।

এর পরের মাসগুলোতে নানা ঘটনাবলীর প্রেক্ষপটে বাংলাদেশে এক হিন্দু নেতাকে গ্রেপ্তার এবং ভারতে বাংলাদেশের একটি কনস্যুলেটে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জনতার হামলার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এখন দক্ষিণ এশীয় এই দুই জায়ান্ট দেশের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে নেমেছে এবং সম্পর্কের মধ্যে ধর্মীয় উত্তেজনাও বিদ্যমান রয়েছে।

‘সহিংসতা আমাদের শত্রু’
‘আয়রন লেডি’ খ্যাত শেখ হাসিনার কট্টর ও স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে তার অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল অংশীদার বলে মনে করেত।

যদিও আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা সকলেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্থান-পতনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। কিন্তু হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামল গত আগস্টে আকস্মিকভাবে অবসান ঘটার পর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।

বাংলাদেশের ১৭৪ মিলিয়ন বা ১৭ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে হিন্দুদের সংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ এবং তাদের অনেকেই ঐতিহাসিকভাবে হাসিনার আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিল। হাসিনা ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ অনেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রতীক এবং কিছু ক্ষেত্রে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিন্দুদেরও টার্গেট করেছিল।

সেই সময়ে ড. ইউনূস সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে “অর্থহীন সহিংসতার” নিন্দা করেছিলেন এবং হামলা বন্ধ না হলে পদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সহিংসতা আমাদের শত্রু। দয়া করে আর শত্রু তৈরি করবেন না। শান্ত হোন এবং দেশ গড়তে প্রস্তুত হন।

তবুও ড. ইউনূসের সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট কাজ না করার অভিযোগ করেছে ভারত। ভারতে নির্বাসিত থাকা হাসিনাও দাবি করেছেন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে “গণহত্যার” জন্য দায়ী এই সরকার।

পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ : যে শর্ত দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গত সেপ্টেম্বরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে রাশিয়া-ইউক্রেন, ইসরায়েল-গাজার মধ্যে চলমান সংঘাত এবং বাংলাদেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উল্লেখ করে “অপ্রত্যাশিত” পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

কিন্তু গত নভেম্বরের শেষের দিকে বাংলাদেশে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এটি ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক’
চলতি বছরের অক্টোবরে এক সমাবেশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে অসম্মান করার অভিযোগে হিন্দু নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তার সমর্থকদের বিশ্বাস, হিন্দুদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়ে সোচ্চার থাকায় তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

যদিও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতীয় এক সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দাবিগুলো অতিরঞ্জিত করে সামনে আনা হয়েছে।

ইতোমধ্যেই ভারতে উগ্র কট্টরপন্থি হিন্দু গোষ্ঠী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি অনেক দলই ভারতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে এবং উভয় দেশের সরকার — যারা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক উপভোগ করেছে — ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসিনা সরকারের পতনের অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে ভারতকে নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো অমিত রঞ্জন বলেন, “বাংলাদেশি সমাজের সবসময়ই এই অনুভূতি থাকে যে— বাংলাদেশের বিষয়ে খুব বেশি হস্তক্ষেপ করে ভারত। বাংলাদেশিদের এই অনুভূতিও আছে যে— হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন টিকে ছিল ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের সমর্থনে।”

বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরির গবেষক খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শুধুমাত্র “হাসিনার আওয়ামী শাসনামলের সাথে উষ্ণ ছিল, সাধারণ মানুষের সাথে নয়। এখানে বাংলাদেশে আমরা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বলে উপহাস করতাম।”

হাসিনার পতনের পর ভারতীয় কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা ড. ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে এবং বাংলাদেশের পতাকা অবমাননা করেছে। আর উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের এমন ছবি যা বাংলাদেশে ভারতের প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এবং চলতি ডিসেম্বর মাসের শুরুতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে সম্প্রতি হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা সেখানে ভাঙচুর চালায় এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি অবমাননা করে।




ফাইনালে ভারতকে হারাতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১১৮

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চলতি মাসেই ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশের যুবারা। এবার মেয়েদের বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের ফাইনালেও মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত। যেখানে আগে ব্যাট করা ভারত গোঙ্গাদি তৃষার ফিফটিতে টাইগ্রেসদের ১১৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে। বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশি পেসার ফারজানা ইয়াসমিন।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে হয়েছে প্রথমবার আয়োজিত মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের পুরো আসর। আজও (রোববার) একই ভেন্যু বায়েওমাস স্টেডিয়ামে চলছে শিরোপানির্ধারণী ম্যাচ। টস জিতে এদিন ভারতকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক সুমাইয়া আক্তার। শুরু থেকে ভারতীয়দের একের পর এক উইকেট তুলে নিলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে তৃষা তাদের লড়াকু পুঁজি এনে দিয়েছেন।

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসার মতো তেমন ব্যবস্থা নেই। তাই বাংলাদেশি সমর্থকরা সাইডলাইনে দাঁড়িয়েই ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে গলা ফাটিয়েছেন দেশটির সমর্থকরা। মাঠের খেলায় আগে ব্যাট করতে নেমে ভারত দেখেশুনে শুরু করে। তাদের ইনিংসে প্রথম ধাক্কাটি আসে দলীয় ২৩ রানে। ওপেনার কমলীনিকে ব্যক্তিগত ৫ রানে ফিরিয়েছেন ফারজানা। ২ রানের ব্যবধানেই আবারও এই পেসারের আঘাত, রানের খাতা খোলার আগেই আউট সানিকা চালকে।




নির্দেশনা মানছে না বরিশালের দেড়শ কলকারখানা

বরিশাল নগরীতে আবাসিক এলাকায় চলমান বৃহৎ কলকারখানাগুলোর কারণে নগরবাসীকে প্রতিবছর নতুন করে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ১৫ বছর ধরে প্রতি বছর শিল্প কারখানাগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, গত এক দশকে মাত্র একটি ওষুধ কারখানা আংশিক সরানো হয়েছে। বাকিরা এখনও সেই নির্দেশনা মানেনি, ফলে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হচ্ছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, কারখানার মেশিনের শব্দ এবং নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রতিদিনই অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একদিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি, অন্যদিকে বিশুদ্ধ বাতাস ও শান্ত পরিবেশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বরিশাল পরিবেশ অধিদফতর জানায়, গত ১৫ বছরে ওষুধ কোম্পানিগুলোসহ অন্যান্য কারখানার মালিকদের মোট ১৫ বার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে কিছু কারখানা নিজ উদ্যোগে অন্যত্র চলে গেলেও অধিকাংশই এখনও আবাসিক এলাকায় রয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম জানান, সেগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় রেখে দূষণমুক্ত উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ সংগঠক সিলভিয়া বলেন, “বরিশাল শহরের মধ্যে দেড়শ কলকারখানা জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব অনুভূত হচ্ছে।”

প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যারা দিনদিন এই কলকারখানার কারণে সমস্যায় পড়ছেন। এক বাসিন্দা, আরাফাত হোসেন বলেন, “শব্দদূষণের কারণে মাথা ধরেছে, আর রাতের বেলা তো ঘুমানোর উপায় থাকে না।” আরেক বাসিন্দা, খাইরুল জানান, “ফ্যাক্টরির কারণে আমাদের গাছপালাও নষ্ট হয়ে গেছে, ফলন কমে গেছে।”

এদিকে, কিছু কারখানা যেমন অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড এবং কেমিস্ট ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অধিকাংশ কারখানা এখনও নগরীতেই রয়ে গেছে। সিলভিয়া বলেন, “যতদিন না কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, ততদিন নাগরিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

এছাড়া, বরিশাল কলকারখানা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল মহানগরীতে দেড়শেরও বেশি বৃহৎ কলকারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ৯টি বৃহৎ ওষুধ কোম্পানির কারখানাও অন্তর্ভুক্ত। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম