নির্বাচন-অভ্যুত্থানে টালমাটাল বরিশাল

বরিশালে ২০২৪ সাল ছিল উত্তাল ও রকমের এক বছর, যেখানে একাধিক ঘটনা সমান্তরালভাবে ঘটেছে, যার মধ্যে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব ঘটনায় বরিশাল এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নানা চাপ সৃষ্টি হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের পতন .

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়, যেখানে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। আন্দোলনটি দ্রুত পুরো দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, এবং সেখানে শিক্ষক ও অভিভাবকরা আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানাতে রাজপথে নামেন। আন্দোলনের সময় পুলিশি নির্যাতন, অস্ত্রধারীদের হামলা, এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা দমে যায়নি। ৫ আগস্ট, আন্দোলনের ফলস্বরূপ, সরকার পতন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতির দেশ ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বড় ধরনের আলোচনার সৃষ্টি করে।

রাজনৈতিক সহিংসতা ও মামলা

অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করায় বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলা দায়ের হয়। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অফিসে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে সেরনিয়াবাত ভবনে তিনজনের মৃত্যু হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। ২২ আগস্ট, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিরাও আসামি হন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ

২০২৪ সালে বরিশালবাসী বিশেষভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দুর্বিষহ জীবনযাপন করেছে। বিশেষত সয়াবিন তেল, ডিম, চাল, পেঁয়াজ, আলু, এবং সবজির বাজারে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। তবে ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগও বরিশালের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় রিমাল দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে, এবং বিশেষজ্ঞরা এর কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। এছাড়া বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, ও বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে নদী ভাঙনের ফলে হাজারো মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে।

নির্বাচন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা

২০২৪ সালের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। বরিশালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ এবং বাগবিতণ্ডা ঘটে, যেখানে পুলিশি সংঘর্ষের কারণে বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরই মধ্যে বরিশালে বিদ্রোহী প্রার্থীদের হামলা, পুড়িয়ে ফেলা মোটরসাইকেল, এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাংবাদিক নির্যাতন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের বদলি বিষয়ক আলোচনা ছিল এবছরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এছাড়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে, বিশেষ করে নির্বাচনকালে।

বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা

বরিশালের জিলা স্কুলের ছাত্র মাহাথির রহমান ক্যান্সার জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা সবার মধ্যে আশা ও অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছে, এবং বরিশালের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনও আলোচনায় আসে।

২০২৪ সাল ছিল বরিশালের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, এবং প্রাকৃতিকভাবে চ্যালেঞ্জের বছর। তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও বরিশালের জনগণ তাদের সংগ্রাম চালিয়ে গেছে, এবং কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কালকিনিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বোমা বিস্ফোরণ, ইউপি সদস্য ও তাঁর ছেলে নিহত

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার শিকদার (৪২) এবং তাঁর ছেলে মারুফ শিকদার (২০)। আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকায় সংঘর্ষের সময় হাতবোমার বিস্ফোরণে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

নিহত আক্তার শিকদার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যেরচর এলাকায় ফকির এবং শিকদার বংশের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর আক্তার শিকদার এলাকা ছেড়ে চলে যান। আজ ভোররাতে তিনি তাঁর লোকজন নিয়ে মধ্যেরচরে ফেরার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে জলিল ফকিরের দল ওই এলাকায় মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।

এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষ দেশী অস্ত্রসহ একে অপরকে আক্রমণ করে এবং কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। এর মধ্যে আক্তার শিকদার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার ছেলে মারুফ শিকদার গুরুতর আহত হন এবং শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।

এ ছাড়া, এই সংঘর্ষে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাঁশগাড়ী এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা জানান, পুলিশের যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে এবং আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা অমিত সেনগুপ্ত জানান, মারুফ শিকদারকে সকাল ৯টার দিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীর রক্তাক্ত ছিল এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মাদারীপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আক্তার শিকদারের বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা ছিল, যার মধ্যে ৫টি হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি সরকার পতনের পর এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর নতুন করে এলাকা প্রবেশের চেষ্টা করেন, যার ফলশ্রুতিতে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মধ্যেরচর এলাকার বাসিন্দা রাজন হোসেন জানান, শিকদার বংশের লোকজন প্রায় ২০০ জন নিয়ে প্রথমে ফকির বংশের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায়, পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ঘটনায় আসামিদের ধরতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র : জাতীয় নাগরিক কমিটি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডকে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন আখ্যায়িত করে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অবকাঠামো পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এ ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে মনে করে তারা।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি এ কথা বলেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।

বিজ্ঞপ্তিতে সচিবালয়ের আগুন নেভাতে গিয়ে সোয়ানুর জামান নামের ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্যের ট্রাকচাপায় মৃত্যুতে গভীর শোক এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি।

জাতীয় নাগরিক কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সচিবালয়ের মতো একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে এ ধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তিদের ষড়যন্ত্র বলেই আমরা মনে করি। এ ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতির চিত্র ফুটে উঠেছে। এ ঘটনার পরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা উচিত। এই আগুনের ঘটনার সুষ্ঠু ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করে বিচারের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানায় জাতীয় নাগরিক কমিটি।




মনমোহনের মৃত্যুতে ভারতে ৭ দিনের শোক, শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মনমোহন সিং মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করতে যাচ্ছে ভারত।

এছাড়া ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করা মনমোহনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বৃহস্পতিবার ৯২ বছর বয়সে মারা যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে সম্মান জানাতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সাত দিনের জন্য জাতীয় শোক ঘোষণা করবে বলে বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভারতের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।




২৭ ডিসেম্বর : যেমন থাকবে আজের আবহাওয়া

আজ সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সরকারি সার ক্রয়ে ৬৩৪ কোটি টাকার অনুমোদন

চলতি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য রাশিয়া, সৌদি আরব, মরক্কো এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে এক লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩৪ কোটি ৩২ লাখ ১২ হাজার টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের কৃষি পুষ্টি কোম্পানি (সাবিক) থেকে ১৪তম লটের ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১২৫ কোটি ৮৮ লাখ ১২ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৩৪৯.৬৭ মার্কিন ডলার।

দেশীয় প্রতিষ্ঠান কাফকো থেকে ১০ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনা হবে। এ ক্রয়ে মোট ব্যয় হবে ১২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪৩.২৫ মার্কিন ডলার।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার প্রোডিন্টরগ ও বিএডিসির চুক্তির আওতায় ৬ষ্ঠ লটের ৩০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১০৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য পড়বে ৪৮৯.৭৫ মার্কিন ডলার।

মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস ও বিএডিসির চুক্তির আওতায় ১০ম লটের ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ২৮০ কোটি ৫৬ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৮৪.৫০ মার্কিন ডলার।

সরকারি এ উদ্যোগ কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার গ্রেফতার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য এবং রাষ্ট্রীয় জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বলরাম পোদ্দারকে গ্রেফতার করেছে রমনা থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট ::
ডিসি মাসুদ করিম জানান, বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীর কাকরাইলের নিজ বাসা থেকে বলরাম পোদ্দারকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে রমনা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। গ্রেফতারের পর বলরামকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

অভিযোগের বিবরণ::
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বলরাম পোদ্দারের বিরুদ্ধে বরিশালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং রাজধানীর পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানায় ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত হত্যা মামলার তথ্য রয়েছে।

তবে এসব মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের প্রয়াণ

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং আর নেই। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫১ মিনিটে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে এআইআইএমএসে তার সফল করোনারি বাইপাস সার্জারি হয়। এছাড়া ২০২১ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

মনমোহন সিং ১৯৭১ সালে ভারত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯১-১৯৯৬ সালে তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন এবং এপ্রিলে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেন। মনমোহন সিংয়ের অবদান স্মরণ করে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সচিবালয়ে এমন অগ্নিকাণ্ড ৫৩ বছরেও ঘটেনি, দেশের মানুষ আতঙ্কিত : চরমোনাই পীর

দেশের প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “সচিবালয়ে এমন অগ্নিকাণ্ড স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও ঘটেনি। এমন ঘটনায় দেশের মানুষ আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নথি যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশ কতটুকু সুরক্ষিত, জনগণের মনে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বরিশালের চরমোনাই মাদ্রাসা মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সমন্বয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যে ভবনে অবস্থিত, সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত হতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। এজন্য শুধু একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না, একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থাকে দিয়ে গভীরভাবে তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কারণ খুঁজে বের করে তার প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দিয়ে পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “সচিবালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতা এবং দায়িত্ব পালনের বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে হবে। যদি কেউ দায়িত্ব পালনে উদাসীন বা অবহেলা করে থাকেন, তবে তাদের আইনের আওতায় এনে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে।”

চরমোনাই পীর বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সেতু মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রাকটর ও কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছে এবং আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছে, তাদের যদি কোনো সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে তাদের কঠিন বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একইসঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় কুশল কর্মকারের অগ্নদগ্ধের ঘটনা আজও শরীর শিহরে ওঠে

২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাত ৩টায় ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে আগুন লাগার ফলে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় ঢাকা গ্রীন লাইফ মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র কুশল কর্মকারও onboard ছিলেন। তিনি এবছর ঢাকা গ্রীন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ থেকে চূড়ান্ত পরীক্ষা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সাথে ওই দিনটির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন কুশল কর্মকার। তিনি জানান, লঞ্চে আগুন লাগার পর তার চোখের সামনে মানুষ পুড়তে থাকে এবং নিজের শরীরও আগুনের তাপে দগ্ধ হয়। এই সময়েই জীবনকে ঝুঁকিতে রেখে দগ্ধ অবস্থায় মাঝ নদীতে ঝাঁপ দেন কুশল।

ঘটনার রাতে কনকনে শীতের মধ্যে সুগন্ধা নদীতে একটানা ৪৫ মিনিট সাঁতার কাটেন কুশল এবং অবশেষে মৃত্যুপুরী থেকে প্রাণে বাঁচেন। তিনি বলেন, “মাঝরাতে হঠাৎ বিকট শব্দ, মানুষের চিৎকার আর ছোটাছুটিতে আমার ঘুম ভাঙে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের শরীরে আগুন জ্বলছিলো, আর অনেক মা শিশুদের নিয়ে সাঁতার না জানার কারণে লঞ্চ থেকে লাফিয়ে পড়তে পারেনি। তারা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।”

লঞ্চটিতে ছিল না কোনো সুরক্ষাসামগ্রী বা লাইফ জ্যাকেট, যার ফলস্বরূপ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কুশল আরও বলেন, “আগুনের উত্তাপে আর থাকতে পারছিলাম না, তখন পোশাক খুলে ফেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাফ দিই নদীতে। এক ঘণ্টারও বেশি সময় সাঁতার কেটে তেলবাহী জাহাজের কাছে পৌঁছাই। জাহাজের লোকজন আমাকে গরম পোশাক পরিয়ে নেয় এবং উদ্ধারকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যায়।”

কুশলের বাবা কৃষ্ণ কর্মকার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, “ঈশ্বরই আমার ছেলেকে বাঁচিয়েছে। ঈশ্বর বাঁচালে কেউ মারতে পারে না।”

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা সদরঘাট থেকে প্রায় ৪০০ যাত্রী নিয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি যাত্রা শুরু করে। পরের দিন রাত ৩টায় ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে আগুন ধরে যায় এবং পরে লঞ্চটি নদীর তীরে ভেড়ানো হয়। অনেক যাত্রী প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মারা যায়, দগ্ধ হয় শতাধিক এবং ৪৯ জন মারা যায়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম