ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উজিরপুর সেতু, বালুর বস্তায় ঠেকিয়ে চলছে যানচলাচল

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল উজিরপুরের সেতুটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে। সেতুর নিচের তিনটি গার্ডারের মধ্যে দুটি গার্ডারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেল সেতুটি পারাপার হচ্ছে। ফাটল ধরা গার্ডারগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সাময়িকভাবে ঠেকিয়ে রেখেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তবে এই ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত নয় বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় ভ্যানচালক জুলহাস বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে কোনো সংস্কার হয়নি। এখন নিচের মাটি সরে গেছে, পাশে বড় গর্ত হয়েছে। ছোট গাড়ি গেলেও সেতু কেঁপে ওঠে।”
আরেক বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে এই রুটে ভারী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। আমরা আতঙ্কে আছি।”
সওজ সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ার পর কর্মকর্তারা পরিদর্শনে যান। পরে তারা গার্ডারের নিচে বালুর বস্তা ফেলে সেতুটি সাময়িকভাবে সচল রাখেন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শাহীন খান বলেন, “সেতুর দুই পাশের মাটি নদীর স্রোতে ক্ষয় হয়ে গেছে। ফলে গার্ডারে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। আপাতত বালুর বস্তা দিয়ে সেতুটি সচল রাখা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে সেতুটি ধসে পড়লে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ঢাকা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠিসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








