কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে এআই গডফাদারের ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী করলেন ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক জিওফ্রে হিন্টন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দশকের মধ্যে মানব জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

এআই প্রযুক্তি তৈরিতে নিজের ভূমিকা নিয়ে দুঃখও প্রকাশ করেছেন চলতি বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পাওয়া অধ্যাপক হিন্টন। তিনি এর দ্রুত বিকাশকে শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেছেন। সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘যন্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রণ (আমাদের) নিয়ে নিতে পারে। আমার ধারণার চেয়েও দ্রুত এই প্রযুক্তি বিকশিত হচ্ছে।’

৭৭ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে হিন্টন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিন দশকের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির পতনের কারণ হতে পারে, এমন সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ।

তবে তিনি সেই সম্ভাবনাকে আরও বেশি এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। বিবিসি রেডিও ফোরের ‘টুডে’ প্রোগ্রামে তিনি এখন বলছেন, ‘আসলে তা নয়। আমার মনে হয় ১০ থেকে ২০ বছর! কেননা আমাদের আগে কখনো নিজের চেয়ে বুদ্ধিমান জিনিসগুলোর সাথে মোকাবিলা করতে হয়নি।’

‘আপনি কয়টি উদাহরণ জানেন যে, বেশি বুদ্ধিমান জিনিস কম বুদ্ধিমান জিনিস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়? উদাহরণ খুব কমই আছে।’

১৯৮০-এর দশকে অধ্যাপক হিন্টন এমন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটার বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করতে পারে এবং ছবিতে নির্দিষ্ট উপাদান সনাক্ত করতে পারে। এটি মূলত আধুনিক এআইয়ের ভিত্তি ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি শিল্প বিপ্লবের মতো। শিল্প বিপ্লবে, মানুষের শক্তি কম প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল, কারণ মেশিনগুলো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। যদি আপনি এখন একটি গর্ত খনন করতে চান, তবে একটি মেশিন দিয়ে খনন করবেন। কিন্তু আমরা এখন যা পেয়েছি (এআই) তা হলো এমন কিছু, যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে প্রতিস্থাপন করছে।’

এর আগেও এই অধ্যাপক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এআই সাধারণ মানুষের জীবনকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করবে, ঠিক যেমন শিল্প বিপ্লব করেছিল।

তিনি বলেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে কী হবে তা নির্ভর করবে ‘আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এই প্রযুক্তি দিয়ে কী করে’ তার ওপর।

‘যদিও এটি উত্পাদনশীলতা ব্যাপক বাড়াবে, তবে আমার উদ্বেগ হচ্ছে যে, এটি সমাজের জন্য খুব খারাপ হতে পারে, যদি সমস্ত সুবিধা ধনীদের হাতে চলে যায়।’

শুধু তাই নয়, তিনি মনে করেন, এতে অনেক লোক তাদের চাকরিও হারাবে। অনেকে আরও দরিদ্র হয়ে যাবে।




তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে পটুয়াখালীতে বিশাল গণমিছিল

পটুয়াখালীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বিশাল গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বিকেল ৩টায় শিল্পকলা একাডেমিতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে এ গণমিছিলটি শুরু হয়।

গণমিছিলটির নেতৃত্ব দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। মিছিলটি শিল্পকলা একাডেমি থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেরে বাংলা সড়কস্থ সুরাইয়া ভিলার সামনে এসে শেষ হয়।

শিল্পকলা একাডেমির সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্য মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না মিয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা হলো আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের ভিত্তি। এই ৩১ দফা দেশের মানুষের মুক্তির সনদ। রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের এই রূপরেখা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সবসময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে আসছেন।”

 

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. এটিএম মোজাম্মেল হোসেন তপন

জেলা আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এড. মো. মহসিন উদ্দিন

জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা লায়লা ইয়াসমিন

সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেসমিন জাফর

 

গণমিছিলের আগে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ভরে তোলে। সমাবেশের সময় শিল্পকলা একাডেমি ও আশপাশের রাস্তাঘাট জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



‘আন্দোলন-আন্দোলন খেলার জন্য এত মানুষ জীবন দেয়নি’: তথ্য উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম

তথ্য উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আন্দোলনের নামে যারা চাকরিবিধি লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি মন্তব্য করেন, “আন্দোলন-আন্দোলন খেলার জন্য কিংবা গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে এত মানুষ জীবন দেয়নি।”

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এমন মন্তব্যসহ একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন তিনি। সেখানে তিনি প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মচারীদের সতর্ক করে বলেন, “আন্দোলনের নামে যারা চাকরিবিধি লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

একটি ভিডিও বার্তায় মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, “এখন জনগণকে সেবা দেওয়ার সময় এবং গণতান্ত্রিক ট্রানজিশন সফল করতে সহায়তা করার সময়। রাষ্ট্রের সংস্কারের মাধ্যমে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। তবে আন্দোলনের নামে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে, তা নৈতিকতার বাইরে এবং চাকরিবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।”

তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের যেসব আমলা এখনও লুকিয়ে আছেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩১ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে কী হতে যাচ্ছে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ৩১ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একের পর এক রহস্যজনক স্লোগান লিখছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যরা। ফলে সেদিন কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে ফেসবুকে এক ধরনের ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন ‘Comrades Now or Never.’

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘এ বছরই হবে। ৩১ ডিসেম্বর। ইন শা আল্লাহ!’




কলাপাড়ায় প্রথমবারের মতো খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী

“এখানে ছিল এখানে আছে এখানে, আমাদের ঋণ তোমাদেরই কাছে” প্রতিপাদ্য নিয়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ১ম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পুরনো বন্ধুদের পেয়ে নাচে-গানে মেতে ওঠে। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। এছাড়াও পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল মান্নান, সদস্য সচিব রেজাউল করিম বাবলাসহ উদযাপন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় আয়োজন
প্রথম পুনর্মিলনীতে বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ১২০০ প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল:

সাবেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান।

বৃক্ষরোপণ।

স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান।

অ্যালামনাই সংগঠন গঠন।

ফানুস উৎসব।

বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

ঢাকা ও খুলনা থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনা।

র‍্যাফেল ড্র।

অনুষ্ঠানটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান জানান, পুনর্মিলনীর মূল লক্ষ্য বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



 সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সম্পর্কিত নির্দেশনা

বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৭ নং ভবনে সম্প্রতি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, এর আওতাধীন দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা  ও পর্যালোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

প্রথমত, সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় একটি কার্যকর নিরাপত্তা কমিটি গঠনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদি কোন কমিটি না থাকে, তাহলে আগামীকালই একটি নতুন কমিটি গঠন করে তার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং কোনো ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করবেন।

দ্বিতীয়ত, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কার্যকর অবস্থায় আছে কিনা তা পরীক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সেটি সচল করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত জনবলের উপর মনিটরিং বাড়ানো এবং প্রবেশ পথে এন্ট্রি রেজিস্টার বাধ্যতামূলকভাবে পূরণ করার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয়ত, কেপিআই স্থাপনা গুলো পরিদর্শন করা এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা যেমন ফায়ার এলার্ম, স্প্রিংকলার সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা গ্রহণ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদান, ফায়ার এক্সিটের সঠিক অবস্থান ও যোগাযোগের নাম্বার সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপস্থিতিতে মহড়া আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অফিস সময়ের পরে ভবন সঠিকভাবে লক করা হচ্ছে কিনা, চাবী কার কাছে রয়েছে এবং নাইটগার্ডের ডিউটি সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই সমস্ত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“ক্যাডার-নন-ক্যাডার বৈষম্য দূর করার আহ্বান”

বৈষম্যবিরোধী গণকর্মচারী পরিষদের নেতারা সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘‘ক্যাডার ও নন-ক্যাডার নির্বিশেষে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যে মৌলিক বৈষম্য বিদ্যমান, তা দূর করা অত্যন্ত জরুরি।’’ তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বৈষম্য না কমালে প্রশাসনে আরও বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি হতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক জিন্নাত আলী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব রাশেদুল আলম ও মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, জনপ্রশাসনে সংস্কারের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই সাবেক সচিব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীকে প্রধান করে একটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। কিন্তু, কমিশনে বিভিন্ন সরকারি সার্ভিসের প্রতিনিধিত্বকারী অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বিশালসংখ্যক নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ‘‘যদিও কমিশন নাগরিকদের মতামত সংগ্রহ করছে, কিন্তু সরকারি জনবল কাঠামোর বৃহত্তম অংশ নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এর কোনো বৈঠক হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’’ তারা মনে করেন, জনগণের সরাসরি সেবা প্রদানকারী নন-ক্যাডার কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর না হলে জনপ্রশাসন কখনোই জনকল্যাণমুখী হতে পারবে না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ‘‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’’তে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মের শ্রেণিবিভাগে ‘নন-ক্যাডার’ নামে এক ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে, যার ফলে দক্ষ ও মেধাবী সরকারি কর্মচারীরা প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন দফতরের নন-ক্যাডার কর্মচারীদের সমস্যাগুলোর দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন— ‘‘সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে পরিচিতি, মর্যাদা, প্রেষণ, পদোন্নতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা-প্রশিক্ষণসহ নানান ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান। এসব বৈষম্যের ফলে শুধু একটি অস্থির প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি হয় না, বরং একটি পক্ষপাতমূলক সমাজের জন্ম নেয়।’’

তারা আরও উল্লেখ করেন, চাকরি জীবনের শুরুতেই একই গ্রেডে একজনকে ক্যাডার এবং অন্যজনকে নন-ক্যাডার হিসেবে তকমা দেওয়া হয়, যা চরম বৈষম্যমূলক। ‘‘গেজেটেড অফিসার্স রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৭৮’’ ও ‘‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন (কনসালটেশন) ১৯৭৯’’ অনুযায়ী সরকারি পদগুলো বিভক্ত করা হয়, যেখানে নবম গ্রেডকে ‘গেজেটেড’ এবং ১০ম-২০তম গ্রেডকে ‘নন-গেজেটেড’ পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তারা মনে করেন, ‘‘একই গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা হলেও, তাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করার কারণে সরকারি সুযোগপ্রাপ্তি ও মর্যাদায় বড় ধরনের অমিল রয়েছে।’’ তাই তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, ‘‘সরকারি কর্মে ক্যাডার-নন-ক্যাডার বিভাজন বিলুপ্ত করে বৈষম্যহীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হোক।’’

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সহযোগী অধ্যাপকদের পুনর্বহালের দাবিতে শেবামেকের শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবামেক) এর দুই সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের বদলি করার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শেবামেকের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার্থীদের বা সমন্বয়কদের নাম ভাঙিয়ে এ বদলি করিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শেবামেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আকবর কবির এবং প্যাথলজি বিভাগের বিভাগের প্রধান ডা. প্রবীর কুমার সাহার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের বদলি করা হয়েছে। তারা আরও জানান, এই দুই শিক্ষকের বদলি শেবামেকের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শনিবার দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন শেবামেকের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান রানা। তিনি বলেন, “এই বদলি আমাদের জন্য ক্ষতিকর এবং আমরা দাবি করছি, দুই সহযোগী অধ্যাপককে পূর্বের কর্মস্থলে পুনর্বহাল করা হোক। দাবি না মানা হলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হুমায়রা আনজুম জুঁই, মুজাহিদুল ইসলাম, মিনহাজুল ইসলাম, আজগর হোসাইন, মাহমুদুল হাসান মুশফিক, খন্দকার নাজমুস সালেহীন, আলিফ ইসলামসহ শেবামেকের ৫২তম ব্যাচের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।

**মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম**

**ট্যাগ:** #শেবামেক #সহযোগীঅধ্যাপক #পুনর্বহাল #বদলি #বরিশাল #শিক্ষার্থী #মেডিক্যাল #শিক্ষার_দাবি #বাংলাদেশ




হজ কোটা পূর্ণ হলো না, তিন বছর পরও সমাধান হয়নি সংকট

২০২৫ সালে হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধনের শেষ তারিখ ছিল বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর), তবে শেষ দিনেও হজ কোটা পূর্ণ হয়নি। এ বছরও কোটা ফাঁকা রয়ে গেছে। মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের জন্য নির্ধারিত কোটা ছিল, যার বিপরীতে প্রাথমিক নিবন্ধন করেছে ৮৩ হাজার ৫৮৭ জন। তবে, সাড়া না পেয়ে তিন দফা সময়সীমা বাড়ানো হয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে, তবুও কোটা পূর্ণ হয়নি। গত তিন বছর ধরে এই সংকট চলতে থাকায় হজে জড়িত ব্যবসাগুলোতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হজ এজেন্সির মালিকরা।

২০২৩ এবং ২০২৪ সালে দেখা গেছে, কোটা পূর্ণ হওয়ার চেয়ে অনেক কম যাত্রী হজ পালন করেছেন। ২০২৩ সালে কোটা থেকে ৩ হাজার ৯৮০ জন এবং ২০২৪ সালে ৪১ হাজার ৯৪১ জন কম যাত্রী হজ পালন করেন, কিন্তু কোটা ছিল এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন।

হজ একটি পবিত্র ইবাদত হলেও, দিন দিন হজ ব্যবস্থাপনা কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। খরচের জন্য অনেকেই নফল উমরার দিকে ঝুঁকছেন, এবং বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর কাছে নিবন্ধন না করায় তাদের ক্ষতি হয়েছে। এ বছরের হজ প্যাকেজের মূল্য তারতম্য এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়মগুলির কারণে, হজ ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে, বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর অভিযোগ, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও তাদের মধ্যে দূরত্ব এবং সামনাসামনি আলাপ-আলোচনার অভাবের কারণে কোটা পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় একদল বাণিজ্যিক মহল লাভবান হয়েছে, যারা হজকে একটি মৌসুমী ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি অহিদুল আলম বলেন, “হজ একটি বড় ইবাদত, কিন্তু এর সঙ্গে ব্যবসায়িক নজর যুক্ত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে হজের খরচ কম হলেও, বাংলাদেশে তা অনেক বেশি। সৌদি আরবের ভাড়া, আবাসন এবং অন্যান্য খরচের কারণে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

এছাড়া, সরকারিভাবে হজ প্যাকেজের খরচ প্রতিবারই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৯ সালে যেখানে খরচ ছিল তিন লাখ ৪৫ হাজার টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্লেন ভাড়া এবং সৌদি সরকারের সেবার খরচের কারণে হজের খরচে ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুমকিতে বিএনপির নামে চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর দুমকিতে উড়ো চিঠি মাধ্যমে বিএনপির নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের একাংশ।

শুক্রবার রাত ৯টায় প্রেস ক্লাব দুমকিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ সাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “গত ২৭ ডিসেম্বর বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ‘নববর্ষ উপলক্ষ্যে দুমকিতে বিএনপির নামে চাঁদা দাবি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ষড়যন্ত্রমূলক।”

তিনি আরও জানান, “চাঁদা দাবির অভিযোগে যাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে, তারা সবাই জাতীয়তাবাদী শক্তির পরীক্ষিত ত্যাগী কর্মী। এরা বিগত আওয়ামী দুঃশাসনে অত্যাচারিত ও নির্যাতিত, এবং রাজপথে টিকে থাকতে বারবার হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা রয়েছে।”

সৈয়দ সাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা একটি চিঠি পেয়েছি, যেখানে কোনো আয়োজনকারী বা দাওয়াতকারী নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই চিঠিটি কে বা কারা ছেপেছে, তা আমরা জানি না। তবে, পত্রিকায় যাদের নাম এসেছে, আমরা তাদের পক্ষে কথা বলছি, এবং তাদের বিরুদ্ধে এমন চাঁদা দাবি করার কোনো প্রমাণ নেই। এটা আমাদের দলের ঐক্যকে দুর্বল করার একটি ষড়যন্ত্র।”

তিনি জেলা বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান, তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করা হোক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বিএফডিসি জাতীয়তাবাদী অ্যামপ্লেয়েজের সাধারণ সম্পাদক, দুমকি উপজেলা বিএনপির সদস্য জিএম সাহজাদা, দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শাহীন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন হাওলাদার এবং শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম মৃধা।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর দুমকি উপজেলা বিএনপি প্রাথমিক তদন্ত করেছে এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ রিপোর্ট জেলা বিএনপির কাছে পাঠিয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম