শিশু ইব্রাহিমের ঠাঁই হলো পুনর্বাসন কেন্দ্রে, মাকে হারিয়ে অসহায় জীবন

বরিশাল নগরীর বেলসপার্কের ফুটপাতে শীতের রাতে এক শিশুর কষ্টকর পরিস্থিতি ছিলো নজরে। চার বছরের শিশু ইব্রাহিমের গর্ভধারীনি মা তাকে রেখে চলে গেছেন, আর শিশু ইব্রাহিম ছিলো পাতলা পোশাকে শুয়ে, কাঁপতে কাঁপতে। এ দৃশ্যটি শুক্রবার রাতের এক যুবক দেখেন এবং দ্রুতই বিষয়টি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজকে অবহিত করেন।

অবিলম্বে শিশুটিকে উদ্ধার করে ওই কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে তাকে সমাজসেবা কার্যালয়ের সমন্বিত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এতে শিশুটির ভবিষ্যতের জন্য একটা নতুন আশ্রয়স্থল তৈরি হয়। এছাড়া, সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ইব্রাহিমের মা, ময়না বেগমকেও খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে, শিশু ইব্রাহিমের জীবন আরও বিপর্যস্ত। তার বাবা, জীবন মিয়া গত পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ। শিশু ইব্রাহিমের খোঁজ-খবর নিয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ জানান, সরকার শিশুটির লেখাপড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করবে। সমাজসেবা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এছাড়া, সমাজসেবা কার্যালয় জানায় যে, ইব্রাহিমের মা ময়না বেগম বরিশাল লঞ্চঘাটে ভাসমান জীবনযাপন করেন, এবং মানুষের সাহায্য নিয়ে তিনি তার জীবিকা নির্বাহ করেন। মাতৃহীন ইব্রাহিমকে ফিরে পেয়ে কিছুটা আশার আলো দেখতে পেলেন ময়না বেগম। তার অনুমতি সাপেক্ষে শিশুটিকে সমাজসেবা কার্যালয়ের পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিসিসিতে প্লান নিয়ে হয়রানির অভিযোগ

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) কর্তৃক প্লান অনুমোদনে জটিলতা ও হয়রানির প্রতিবাদে ১১টি দাবি তুলে ধরে রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে বরিশাল নাগরিক অধিকার অন্দোলনের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আগামী সাতদিনের মধ্যে দাবিগুলো মেনে না নিলে পরবর্তীতে বিক্ষোভ সমাবেশ, সিটি করপোরেশন ঘেরাও, অবস্থান ধর্মঘট, গণঅনশনসহ কঠোর কর্মসূচী গ্রহণের হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. আবু ছালেহ বলেন, নগরবাসী প্রায় দেড় বছর ধরে প্লান অনুমোদনে জটিলতা থাকায় হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিক, জমির মালিক, ব্যবসায়ী, ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টবৃন্দসহ নানা পেশার মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ইতোমধ্যে বরিশাল নাগরিক অধিকার অন্দোলনের পক্ষ থেকে গত ২৪ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর ১১ দফা দাবি তুলে ধরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। যেকারণে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এসোসিয়েশন অব বিল্ডিং কনসালটেন্ট, বরিশাল ডেভেলপার এসোসিয়েশন, সিমেন্ট ও লৌহজাত ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, ইলেকট্রিশিয়ান শ্রমিক ইউনিয়ন, জমির মালিকগনসহ নানা পেশার লোকজন মিলে গত ১৮ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সামনে মানববন্ধন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করা হয়। তারাও এ অন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। দাবিগুলো হল-বরিশাল সিটি করপোরেশনে জমা থাকা সকল প্লান অনতিবিলম্বে অনুমোদন দিতে হবে। ইতোমধ্যে পাশকৃত সকল প্লান (যাহার চালান, হোল্ডিং এবং পানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে) তা ডেলিভারি দিতে হবে। বরিশাল শহরের অধিকাংশ রাস্তার প্র্রশস্ততা কম তাই রাস্তার প্রশস্ততার ক্ষেত্রে গতানুগতিক ও প্রচলিত নিয়মে প্লানের অনুমোদন দিতে হবে। সিটি করপোরেশনের চতুর্থ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত বরিশাল ইমারত নির্মান নীতিমালা-২০২০ পূর্ণবহাল করতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মরোধে প্লান অনুমোদনসহ সকল ধরনের সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

অতি পুরাতন অকার্যকর মাষ্টার প্লান (যাহা ২০২০ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে) তার অযুহাত দিয়ে রেড জোন, শিল্পাঞ্চল জোন, কৃষি জোন, ইকোপার্ক জোন দেখিয়ে জনগনকে যে হয়রানী করা হচ্ছে তা লাঘব করে অকার্যকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ পুরাতন মাষ্টার প্লান বাতিল করতে হবে। ইমারত নির্মান বিধিমালা-১৯৯৬ এর আওতায় প্লান অনুমোদনের কথা বললেও কর্তৃপক্ষ কেবল মাত্র রাস্তার ক্ষেত্রে উক্ত বিধিমালা অনুসরণ করে কিন্তু প্লান পাশের ফিসহ অন্যান্য বিষয়ে মনগড়া আইন বাস্তবায়ন করছেন তাই স্ক-বিরোধী এ নিয়ম বাতিল করতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় কিংবা বাড়িতে পানির সরবরাহ লাইন সংযোগ করা হয়নি, সেই সব এলাকার জনগনকে পানির বিল হইতে অব্যহতি দিতে হবে। ভবনে বসবাস শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির বিল নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পূর্বে ভরাটকৃত ব্যক্তিগত রেকর্ডিয় জমির শ্রেনীতে পুকুর উল্লেখ থাকলে প্লান অনুমোদন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত না করে সরেজমিন তদন্ত করে প্লান অনুমোদন দিতে হবে। খালের পাড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের রেকর্ডিয় জমির ক্ষেত্রে ইমারত নির্মানে জমি ছাড়ের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত ও বান্ধন ভিত্তিক সমাধান করতে হবে।

অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বরিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলন কমিটির আহবায়ক মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য প্রকৌশলী এএফএম হারুন-অর রশীদ, যুগ্ম আহবায়ক নিয়াজ মাহমুদ, প্রকৌশলী আকতার হোসেন, আনোয়ার হোসাইন খান, যুগ্ম সদস্য সচিব ডিজাইনার রিয়াদুল আহসান, গোপাল চন্দ্র সাহা, সোহেল রানা, সদস্য প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির, প্রকৌশলী শাহ আলম সিকদার, প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় বিপুল পরিমাণ হাতবোমা ও অস্ত্রসহ ৬ সন্ত্রাসী আটক

ভোলা সদর উপজেলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২৯টি হাতবোমা, ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১০টি দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ ৬ সন্ত্রাসী আটক করা হয়েছে। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে এই অভিযান চালানো হয়।

আটক সন্ত্রাসীরা হলেন মফিজুল হক মজু (৬২), মো. শাকিল (২৬), মো. মোবারক (৩৮), মো. ইব্রাহিম (২৩), মো. মামুন (৩২) ও মো. সিকান্দার (৬৪)। তারা সকলেই ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং একাধিক অপরাধের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে।

কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রিফাত আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী মফিজুল হক মজুর নেতৃত্বে একটি দল জমিদখল, চাঁদাবাজি, নদীতে অসহায় জেলেদের মাছ ও টাকা লুট এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ অভিযানে ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ২৯টি হাতবোমা, ১০টি ধারালো দেশীয় অস্ত্র, এবং ২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাদেরকে ভোলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে।

এসএলটি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন

বরিশালে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বরিশাল নগরী ও জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রীদের বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ক্যাম্পেইন পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা না করা ১০ থেকে ১৪ বছরের কিশোরীদেরও নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে।

কিশোরীরা টিকা গ্রহণের জন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের জন্মনিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবে।

রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বরিশাল আভাস প্রশিক্ষণ সেন্টারে টিকাদান ক্যাম্পেইনটির উদ্বোধন করেন বরিশাল পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আবদুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আভাস নির্বাহী পরিচালক রাহিমা সুলতানা কাজল। এছাড়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. এজাজ হোসেন ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেডিকেল অফিসার ডা. সজল পান্ডে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্ত বয়সে সন্তানধারণ, বহু গর্ভধারণ, একাধিক যৌনসঙ্গী, ধূমপায়ী জনগোষ্ঠী, এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি এবং প্রজনন বিষয়ে অজ্ঞ জনগোষ্ঠী জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা অত্যন্ত কার্যকর।

তবে ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার পর থেকে এই টিকার বিরুদ্ধে নানা গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এসব গুজব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

এসএলটি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের স্কোয়াড: বিপিএল শিরোপা ধরে রাখার জন্য প্রস্তুত শক্তিশালী দল

আগামীকাল শুরু হতে যাচ্ছে বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) ২০২৪, এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ফরচুন বরিশাল নিজেদের শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশনে নেমেছে। ২০১২ সালের প্রথম বিপিএলে শিরোপার খুব কাছে চলে গিয়েছিল বরিশাল, তবে ঢাকা ডায়নামাইটসের কাছে ফাইনাল হারার পর তাদের সোনালী ট্রফির স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ এবং ২০২২ আসরে কুমিল্লার কাছে পরাজয় মেনে নিতে হয়, কিন্তু ২০২৩ সালে অবশেষে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে গত হারের প্রতিশোধ নিলো।

বরিশালের এবারের স্কোয়াডে নানা স্তরের তারকা ক্রিকেটারদের সমাবেশ ঘটেছে, এবং তারা শিরোপা ধরে রাখার জন্য দারুণভাবে প্রস্তুত। জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্যদের মতোই শক্তিশালী দল গড়েছে বরিশাল, যেখানে ব্যাটিং বিভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তামিম ইকবাল। তার সঙ্গে থাকছেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এছাড়া তরুণদের মধ্যে নাজমুল শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ও বরিশালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে চলেছেন। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের ডেভিড মালান ও শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা।

অলরাউন্ডার বিভাগে মোহাম্মদ নবী, কাইল মেয়ার্স, ফাহিম আশরাফ ও জেমস ফুলারদের মধ্যে যে কোন একজন বা একাধিক খেলোয়াড় একাদশে জায়গা পেতে পারেন। তবে বিগ ব্যাশে খেলার কারণে রিশাদ হোসেনের খেলার সুযোগ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। তবে বরিশাল তার বোলিং ইউনিটের শক্তি দিয়েও প্রভাব ফেলবে, যেখানে শাহিন শাহ আফ্রিদি এবারের সবচেয়ে বড় চমক। এছাড়া এবাদত হোসেন, নান্দ্রে বার্গার, শহিদুল ইসলাম, তানভীর, রিপন মণ্ডল, নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের মতো বোলাররা আছেন।

ফরচুন বরিশাল, এবারের বিপিএলে অংশগ্রহণকারী সব দলকেই চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো একটি শক্তিশালী স্কোয়াড সাজিয়েছে। তবে অতিরিক্ত তারকাদের মাঝে সঠিক একাদশ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কোচ মিজানুর রহমান বাবুলের জন্য কিছুটা জটিলতা হতে পারে। তবে কোনো সমস্যা না হলে বরিশাল দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

আগামীকাল সোমবার দুপুরে বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে দুর্বার রাজশাহীর বিপক্ষে মাঠে নামবে বরিশাল। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এই ম্যাচটি, যেখানে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে শিরোপা ধরে রাখার জন্য ফরচুন বরিশাল প্রবলভাবে প্রস্তুত।

এসএলটি, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিপিএল টিকিট পেতে মিরপুরে দর্শকদের বিক্ষোভ, উত্তেজনা ছড়ালো

বিপিএল শুরুর আগের দিন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টিকিট নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। হাজারো দর্শক ভোর থেকেই স্টেডিয়ামের ১ ও ২ নম্বর ফটকের সামনে টিকিট সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন, কিন্তু টিকিট বুথ বন্ধ থাকায় তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সকাল থেকে টিকিট পাওয়ার জন্য অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের দাবি ছিল, টিকিট ছাড়া কেউ ফিরবেন না।

ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এক পর্যায়ে দুই নম্বর ফটকের সামনে জমায়েত হওয়া দর্শকরা স্লোগান ও গালিগালাজ শুরু করেন এবং প্রবল ধাক্কাধাক্কিতে ফটক খুলে ফেলেন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করলেও দৌড়াদৌড়ির মধ্যে কয়েকজন দর্শক আহত হন। পরে লোহার ফটক তালাবদ্ধ করা হলেও উত্তেজনা থামেনি।

ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক দর্শক সংবাদ মাধ্যমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চার-পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কিছু জানলাম না। বারবার ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে জানানো হবে বলা হলেও কিছু হয়নি। বিসিবি কি আমাদের কোনো মূল্য দেয় না?” আরেক দর্শক অভিযোগ করেন, “কালকেই আনসারদের কাছে ২০০-৪০০ টাকায় টিকিট পাওয়া যাবে।”

বিপিএল কর্তৃপক্ষ অবশেষে বেলা পৌনে ১২টায় টিকিট বিক্রির তথ্য জানায়। টিকিট অনলাইনে কেনা যাবে, তবে বুথ থেকে সংগ্রহ করতে হবে কি না, তা পরিষ্কার করা হয়নি। এছাড়া মধুমতি ব্যাংকের সাতটি শাখায়ও টিকিট কেনার সুযোগ থাকবে।

বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব নাজমুল আবেদীন বলেন, “দর্শকদের কাছে তথ্য আরও আগে পৌঁছানো উচিত ছিল। এখানে ব্যাংকসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের জটিলতা ছিল, তবে দায় আমাদেরই।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপা প্রেসক্লাবে নতুন নেতৃত্বের কমিটি গঠন

পটুয়াখালীর গলাচিপা প্রেসক্লাবের ২০২৫-২০২৬ মেয়াদের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. হারুন অর রশিদ (দৈনিক নয়াদিগন্তের প্রতিনিধি), এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাকিব হাসান (একাত্তর টিভি ও দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি)।

কমিটির অন্যান্য সদস্য

সহ-সভাপতি: মো. মনিরুল ইসলাম (দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস)

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মো. শহিদুল ইসলাম মোল্লা (প্রতিদিনের সংবাদ)

কোষাধ্যক্ষ: সাব্বির আহমেদ ইমন (এশিয়ান টিভি)

দপ্তর সম্পাদক: আল মামুন (মানবকণ্ঠ)

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: আরেফিন লিমন (বাংলাদেশ সমাচার)

সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মো. ইশরাত হোসেন মাসুদ (প্রতিদিনের কাগজ)

নির্বাহী সদস্যরা

শংকর লাল দাস (জনকণ্ঠ), মো. মশিউর রহমান বাবুল (যুগান্তর), মো. কাওসার (সমকাল), জসিম উদ্দিন আহমেদ (খোলা কাগজ/এশিয়ান টেলিভিশন), আহসান জিকো (বিজয় টিভি) এবং মাজাহারুল ইসলাম মলি (মানবজমিন)।

দায়িত্ব গ্রহণ ও মেয়াদ

নবগঠিত কমিটি আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলার শাজাহানের নবজাতকের দায়িত্ব নিলেন ডিসি

ভোলার শহীদ শাজাহানের নবজাতককে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আজাদ জাহান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত শাজাহানের নবজাতককে দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবার সকালে ভোলা শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে শিশুটিকে দেখে ডিসি অভিভাবক হিসেবে তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

শাহজাহানের পরিবার ও নবজাতক: 

শুক্রবার বিকালে ভোলার এশিয়া ডক্টরস পয়েন্টে শাজাহানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রাখা হয় ওমর ফারুক। শাজাহান, যিনি ভোলার দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ছোটধলী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন, ঢাকায় পাপোশ বিক্রি করতেন। ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গুলিতে নিহত হন তিনি, তখন তার স্ত্রী ফাতেমা ছিলেন চার মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা।

ডিসি’র সহযোগিতা ও প্রতিশ্রুতি:

শিশুটির জন্ম সংবাদ পাওয়ার পর ডিসি মো. আজাদ জাহান শনিবার সকালে ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। তিনি শিশুটির মাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। ডিসি বলেন, “শাহজাহান ছিলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে একজন। আমরা শুরু থেকেই তার অসুস্থ স্ত্রীর পাশে ছিলাম এবং জেলা প্রশাসন থেকে অনুদান দিয়েছি। এখন নবজাতকের দায়িত্ব নিয়েছি, এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকব।”

শাহজাহানের পরিবার ও সরকারের সহযোগিতা :

শাহজাহানের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা সরকারের সহযোগিতায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। ফাতেমা বেগম বলেন, “শাহজাহান ছিলেন সন্তানকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। আজ তাকে ছেলেকে দেখে যেতে হয়নি, তবে আমি সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি যাতে আমার সন্তান ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে।”

ভোলার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক রাহিম ইসলাম ও কামরুন নাহার এনি জানিয়েছেন, তারা শিশুটির পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতে খোঁজখবর রাখবেন।

শারীরিক সুস্থতা ও চিকিৎসক মন্তব্য :

ক্লিনিকের চিকিৎসক আফরোজা বেগম জানান, প্রসূতি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং আপাতত কোনো সমস্যা নেই। তাদের পর্যবেক্ষণ চলছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অস্থায়ী পাস নিয়ে সাংবাদিকরা সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অস্থায়ী পাস নিয়ে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে সাংবাদিকরা সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সামনে তিনি এ কথা জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল সেটার প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার আজকে শেষ দিন। আজ পর্যন্ত আমরা কাউকে এলাউ করছি না সচিবালয় প্রবেশ করার জন্য। এ কারণে আজকে আপনারা প্রবেশ করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, বিগত সময়ে ৩ হাজার প্লাস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড দেওয়া হয়েছে। সবাই কিন্তু সাংবাদিক নন। সেটি আমাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। সাংবাদিকদের আবেদনের ভিত্তিতে একটি সময়ের মধ্যে নতুন করে স্থায়ী পাসের ব্যবস্থা করব। সেই সময় পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক সাংবাদিককে একটা অস্থায়ী পাস দেওয়া হবে। আমরা সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে বসব। সচিবালয়ে এবং বাইরের যেসব সংগঠন রয়েছে তাদের সঙ্গে বসে একটা নির্দিষ্ট অস্থায়ী পাস দেওয়া হবে। কাল (সোমবার) থেকে সচিবালয়ে আপনারা প্রবেশ করতে পারবেন। এখন যে পাস আছে সব বাতিল হয়ে যাবে।




৩১শে ডিসেম্বর মুজিববাদী সংবিধানের কবর রচিত হবে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আসছে ৩১শে ডিসেম্বর দেশে মুজিববাদী সংবিধানের কবর রচিত হবে, এবং আওয়ামী লীগ দল হিসেবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে বাংলাদেশে। ওইদিন ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ ঘোষণা করা হবে।

রোববার ঢাকায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা এমন কথা বলেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, “এই ঘোষণাপত্র পাঁচই অগাস্টেই হওয়া উচিত ছিল, না হওয়ার ফলে ফ্যাসিবাদের পক্ষের শক্তিগুলো ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। দুই হাজারের ঊর্ধ্বে শহীদ এবং ২০ হাজারের ঊর্ধ্বে আহতদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে তারা এই আন্দোলনের ‘লেজিটেমেসি’কে প্রশ্ন করেই যাচ্ছে।”

“জুলাই অভ্যুত্থান, যে গণ অভ্যুত্থানটি হয়েছে…তার মধ্য দিয়ে মানুষ মুজিববাদী সংবিধানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই যে মানুষ মুজিববাদী সংবিধানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তার একটি লিগ্যাল ডকুমেন্টেশন থাকা উচিত।”

“সে জায়গা থেকে ৩১শে ডিসেম্বর ছাত্র-জনতার উপস্থিতিতে… ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ঘিরে আমাদের যে গণ-আকাঙ্খা তৈরি হয়েছে, ‘৭২ এর সংবিধানের বিপরীতে গিয়ে মানুষ যে রাস্তায় নেমে এসেছে এ অভ্যুত্থানে – সেটির প্রাতিষ্ঠানিক, দালিলিক স্বীকৃতি ঘোষণা করার জন্য আমরা ৩১শে ডিসেম্বর ছাত্রজনতার উপস্থিতিতে শহীদমিনার থেকে আমাদের ‘প্রোক্লেমেশন অব জুলাই রেভ্যুলেশন’ ঘোষণা করবো।”