অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানজিদাকে সাময়িক বরখাস্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার সানজিদা আফরিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়েছে। সানজিদা বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সানজিদাকে সরকারি চাকরিবিধি আইনে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালে তিনি বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যার দুটি মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ। কিন্তু আদালতে ওই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই বিষয়টি জানাজানি হয়।

পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফকে ইতিমধ্যে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিবি সূত্র বলছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর আরিফ দাবি করেছেন, তিনি অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সানজিদা আফরিনের নির্দেশে কাজটি করেছেন।




পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষক সমাবেশ: আধুনিকায়নে গুরুত্ব আরোপ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় গত রবিবার সন্ধ্যায় পৌরসভা পর্যায়ে তিন মাসব্যাপী কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের কৃষক জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে তাদের আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা। উপজেলার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর কৃষক দলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর তালুকদার এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম (জনতার রফিক)।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. তরিকুল ইসলাম ইভান, উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক খানজাহান আলী খান সাগর, পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মামুন প্যাদা সহ উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”, এই স্লোগানকে সামনে রেখে কৃষকদের আধুনিকীকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্ভব, তাই সরকারের উচিত কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শক্তি বাড়ানো।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তির কার্যকরী উপায়

শীতের সময় সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জি জনিত সমস্যা বেড়ে যায়। ধুলাবালি ও বাতাসে জীবাণুর আধিক্য বাড়ার ফলে ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। ডাস্ট অ্যালার্জির কারণে হতে পারে হাঁচি-কাশি, চোখ-নাক দিয়ে পানি পড়া, ত্বকে চুলকানি ও লালচে ভাব, র‍্যাশ এবং শ্বাসকষ্ট। এ সমস্যা দূর করতে অনেকেই ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন।

টকদইয়ের উপকারিতা
টকদইয়ে থাকা প্রো-বায়োটিক অ্যালার্জি প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন নিয়মিত টকদই খাওয়ার অভ্যাস করুন।

আপেল সিডার ভিনেগার
এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার পান করলে ডাস্ট অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়।

ভাপ নেওয়া
ডাস্ট অ্যালার্জি কমাতে স্টিম নেওয়া একটি প্রমাণিত পদ্ধতি। গরম পানির বাষ্প নাক ও মুখ দিয়ে গ্রহণ করলে নাকের বন্ধভাব দূর হয়। ১০ মিনিট স্টিম নিলে তাৎক্ষণিক উপকার পাওয়া যায়।

মধুর কার্যকারিতা
মধু প্রাকৃতিক অ্যালার্জেনের সঙ্গে শরীরকে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। এটি প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য অ্যালার্জির ফুসকুড়ি ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।

ঘি ও গুড়
অ্যালার্জি প্রতিরোধে ঘি এবং গুড় খাওয়ার অভ্যাস করুন। আধা চা চামচ ঘি ও গুড় মিশিয়ে খেলে অনিয়ন্ত্রিত হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট কমে যায়।

অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা জেল অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে সহায়ক। ৩-৪ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রস পানিতে মিশিয়ে দিনে দুইবার পান করুন। এটি প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। নিয়মিত অ্যালোভেরার রস খেলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া এই উপায়গুলো অনুসরণ করুন। শীতের দিনে সুস্থ থাকতে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




ঝালকাঠিতে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

ঝালকাঠির নলছিটিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এক ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে কাঁচা ইট ধ্বংস ও ভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। রোববার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা কুলকাঠি ইউনিয়নের সরই গ্রামে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা। অভিযানে জানা যায়, সরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ফসলি জমিতে ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে উঠেছিল এবং সেখানে ইট পোড়ানো হচ্ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা পরিবেশ অধিদপ্তরে এ ভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ভাটাটি ভেঙে দেয়। ভেঙে ফেলার পর ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের মাধ্যমে আগুন নেভানো হয়।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা জানান, “অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়েছি। এটি আগে বন্ধ ছিল, কিন্তু পুনরায় চালু করা হয়েছিল। এ ভাটার কোনো ছাড়পত্র ছিল না। মালিককে পাওয়া যায়নি, তাই তাকে নোটিশ পাঠানো হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

 

বরিশাল নগরীর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবের চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে এক তরুণী রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বান্দ রোডে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, পেটের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি তার পেটে হাত দেন। এ সময় অভিযুক্ত চিকিৎসক তরুণীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। তরুণী বলেন, “আমি চিৎকার দিলে তিনি আমার গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে ল্যাবের অন্যান্য লোকজন চেম্বারে এলে তিনি পালিয়ে যান।”

তরুণী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ডায়াগনস্টিক ল্যাব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রোগীর সঙ্গে একটি ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে ডিজিটাল ল্যাব কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

ঘটনাটি নগরীতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত না হলে কীভাবে এমন অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় অসহায় পরিবারের জমি বন্দোবস্তের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলায় বসবাসরত ৩৬৫ অসহায় পরিবারের জমি বন্দোবস্তের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বক্তারা জানান, ১৯৯৪ সাল থেকে চরবাংলায় তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ও বিত্তবান ভূমি দস্যু নতুন ম্যাপ তৈরি করে জমি নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করেছে। এর ফলে বসবাসরত ৩৬৫ পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে। তারা সরকারি কর্মকর্তাদের সরেজমিনে তদন্ত করে প্রভাবশালীদের বন্দোবস্ত বাতিল এবং জমি প্রকৃত বসবাসকারীদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, দাবি আদায় না হলে কাফনের কাপড় পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভূমি অফিসের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।

মানববন্ধনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গলাচিপা শাখার সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসাইন, চরবিশ্বাস ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা ইমরান নাজির এবং ভূমিহীন কৃষক মাওলানা আব্দুর রব উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামীকাল থেকে ফের শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমতে থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
এত বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সব পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচদিনে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।




পর্যটন সুবিধা বাড়ালে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার ঢালচরের দক্ষিণে অবস্থিত তারুয়া দ্বীপ, বঙ্গোপসাগরের কোলে প্রায় চার দশক আগে জেগে ওঠা এক ছোট্ট দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এ দ্বীপটি যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। সবুজ বনভূমি, সোনালি সৈকত, বালুর ঝলকানি এবং লাল কাঁকড়ার বিচরণ, এসব মিলিয়ে তারুয়া দ্বীপটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতির এক অনন্য উপহার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক প্রচার ও পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত হলে, এই দ্বীপটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে।

তারুয়া দ্বীপে পৌঁছাতে হলে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার সড়কপথ এবং ১৫ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে হয়। দ্বীপের পথে যাত্রায় ক্লান্তি দূর হয়ে যায় সাগরের গর্জন ও চারপাশে বিস্তৃত নীল জলরাশি দেখে। প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তারুয়া সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে ম্যানগ্রোভ বনে ঘেরা বিশাল চারণভূমি। দ্বীপে নানা প্রজাতির প্রাণী বসবাস করছে, যেমন হরিণ, বন্য মহিষ, বানর এবং লাল কাঁকড়া। প্রকৃতির নিখাদ নির্জনতা এবং মোহনীয় দৃশ্য দেখে যেকোনো দর্শক সজীব হয়ে ওঠে, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে সব কিছু সাজিয়েছে।

তারুয়া দ্বীপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। সকালের সোনালি আভায় সাগরের বুক থেকে যখন সূর্য উঁকি দেয়, তখন এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, যা দর্শকদের মনমুগ্ধ করে। আবার সন্ধ্যায়, যখন পশ্চিম আকাশ রক্তিম আভায় রাঙা হয়ে ওঠে, তখন দর্শকদের অনুভূতি এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে যায়।

প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠে তারুয়া দ্বীপ। স্থানীয়রা যখন মাছ ধরতে আসতেন, তখন তাদের জালে শত শত “তারুয়া” মাছ উঠে আসত, যার কারণে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়েছে তারুয়া। এই দ্বীপটি জীববৈচিত্র্যের এক অপূর্ব ক্ষেত্র, যেখানে নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি, হরিণ, কাঠবিড়ালী, বন ষাড়, এবং শীতকালীন অতিথি পাখির বসবাস।

বর্তমানে দ্বীপে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠেনি, তবে গত কয়েক বছরে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। তারুয়া দ্বীপের পর্যটন সম্ভাবনা অত্যন্ত বিশাল। ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার, ক্যাম্পিং সুবিধা এবং পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট গড়ে তুললে, এটি কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সরাসরি সড়কপথ ও সি-ট্রাক পরিষেবা চালু হলে পর্যটকদের জন্য এটি আরো সহজতর হবে।

ভোলার বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক বেলাল জানান, তারুয়া বিচের সৌন্দর্য এবং পাখির অভয়ারণ্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন থাকতে হবে। বন ও পরিবেশের ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ক্যাম্পিং করা উচিত। ম্যানগ্রোভ বনে পরিযায়ী পাখির আগমন শুরু হয়েছে, তাই ফায়ারিং ও আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ। পরিবেশের ক্ষতি রোধ করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শিশু ইব্রাহিমের ঠাঁই হলো পুনর্বাসন কেন্দ্রে, মাকে হারিয়ে অসহায় জীবন

বরিশাল নগরীর বেলসপার্কের ফুটপাতে শীতের রাতে এক শিশুর কষ্টকর পরিস্থিতি ছিলো নজরে। চার বছরের শিশু ইব্রাহিমের গর্ভধারীনি মা তাকে রেখে চলে গেছেন, আর শিশু ইব্রাহিম ছিলো পাতলা পোশাকে শুয়ে, কাঁপতে কাঁপতে। এ দৃশ্যটি শুক্রবার রাতের এক যুবক দেখেন এবং দ্রুতই বিষয়টি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজকে অবহিত করেন।

অবিলম্বে শিশুটিকে উদ্ধার করে ওই কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে তাকে সমাজসেবা কার্যালয়ের সমন্বিত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এতে শিশুটির ভবিষ্যতের জন্য একটা নতুন আশ্রয়স্থল তৈরি হয়। এছাড়া, সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ইব্রাহিমের মা, ময়না বেগমকেও খুঁজে পাওয়া যায়।

তবে, শিশু ইব্রাহিমের জীবন আরও বিপর্যস্ত। তার বাবা, জীবন মিয়া গত পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ। শিশু ইব্রাহিমের খোঁজ-খবর নিয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ জানান, সরকার শিশুটির লেখাপড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করবে। সমাজসেবা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এছাড়া, সমাজসেবা কার্যালয় জানায় যে, ইব্রাহিমের মা ময়না বেগম বরিশাল লঞ্চঘাটে ভাসমান জীবনযাপন করেন, এবং মানুষের সাহায্য নিয়ে তিনি তার জীবিকা নির্বাহ করেন। মাতৃহীন ইব্রাহিমকে ফিরে পেয়ে কিছুটা আশার আলো দেখতে পেলেন ময়না বেগম। তার অনুমতি সাপেক্ষে শিশুটিকে সমাজসেবা কার্যালয়ের পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিসিসিতে প্লান নিয়ে হয়রানির অভিযোগ

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) কর্তৃক প্লান অনুমোদনে জটিলতা ও হয়রানির প্রতিবাদে ১১টি দাবি তুলে ধরে রবিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে বরিশাল নাগরিক অধিকার অন্দোলনের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আগামী সাতদিনের মধ্যে দাবিগুলো মেনে না নিলে পরবর্তীতে বিক্ষোভ সমাবেশ, সিটি করপোরেশন ঘেরাও, অবস্থান ধর্মঘট, গণঅনশনসহ কঠোর কর্মসূচী গ্রহণের হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সদস্য সচিব প্রকৌশলী মো. আবু ছালেহ বলেন, নগরবাসী প্রায় দেড় বছর ধরে প্লান অনুমোদনে জটিলতা থাকায় হাজার হাজার নির্মাণ শ্রমিক, জমির মালিক, ব্যবসায়ী, ইঞ্জিনিয়ার ও আর্কিটেক্টবৃন্দসহ নানা পেশার মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ইতোমধ্যে বরিশাল নাগরিক অধিকার অন্দোলনের পক্ষ থেকে গত ২৪ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর ১১ দফা দাবি তুলে ধরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোন প্রকার আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। যেকারণে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এসোসিয়েশন অব বিল্ডিং কনসালটেন্ট, বরিশাল ডেভেলপার এসোসিয়েশন, সিমেন্ট ও লৌহজাত ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন, ইলেকট্রিশিয়ান শ্রমিক ইউনিয়ন, জমির মালিকগনসহ নানা পেশার লোকজন মিলে গত ১৮ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সামনে মানববন্ধন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করা হয়। তারাও এ অন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। দাবিগুলো হল-বরিশাল সিটি করপোরেশনে জমা থাকা সকল প্লান অনতিবিলম্বে অনুমোদন দিতে হবে। ইতোমধ্যে পাশকৃত সকল প্লান (যাহার চালান, হোল্ডিং এবং পানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে) তা ডেলিভারি দিতে হবে। বরিশাল শহরের অধিকাংশ রাস্তার প্র্রশস্ততা কম তাই রাস্তার প্রশস্ততার ক্ষেত্রে গতানুগতিক ও প্রচলিত নিয়মে প্লানের অনুমোদন দিতে হবে। সিটি করপোরেশনের চতুর্থ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত বরিশাল ইমারত নির্মান নীতিমালা-২০২০ পূর্ণবহাল করতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মরোধে প্লান অনুমোদনসহ সকল ধরনের সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

অতি পুরাতন অকার্যকর মাষ্টার প্লান (যাহা ২০২০ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে) তার অযুহাত দিয়ে রেড জোন, শিল্পাঞ্চল জোন, কৃষি জোন, ইকোপার্ক জোন দেখিয়ে জনগনকে যে হয়রানী করা হচ্ছে তা লাঘব করে অকার্যকর ও মেয়াদোত্তীর্ণ পুরাতন মাষ্টার প্লান বাতিল করতে হবে। ইমারত নির্মান বিধিমালা-১৯৯৬ এর আওতায় প্লান অনুমোদনের কথা বললেও কর্তৃপক্ষ কেবল মাত্র রাস্তার ক্ষেত্রে উক্ত বিধিমালা অনুসরণ করে কিন্তু প্লান পাশের ফিসহ অন্যান্য বিষয়ে মনগড়া আইন বাস্তবায়ন করছেন তাই স্ক-বিরোধী এ নিয়ম বাতিল করতে হবে। যে সমস্ত এলাকায় কিংবা বাড়িতে পানির সরবরাহ লাইন সংযোগ করা হয়নি, সেই সব এলাকার জনগনকে পানির বিল হইতে অব্যহতি দিতে হবে। ভবনে বসবাস শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির বিল নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পূর্বে ভরাটকৃত ব্যক্তিগত রেকর্ডিয় জমির শ্রেনীতে পুকুর উল্লেখ থাকলে প্লান অনুমোদন প্রক্রিয়া বাঁধাগ্রস্ত না করে সরেজমিন তদন্ত করে প্লান অনুমোদন দিতে হবে। খালের পাড়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের রেকর্ডিয় জমির ক্ষেত্রে ইমারত নির্মানে জমি ছাড়ের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত ও বান্ধন ভিত্তিক সমাধান করতে হবে।

অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বরিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলন কমিটির আহবায়ক মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য প্রকৌশলী এএফএম হারুন-অর রশীদ, যুগ্ম আহবায়ক নিয়াজ মাহমুদ, প্রকৌশলী আকতার হোসেন, আনোয়ার হোসাইন খান, যুগ্ম সদস্য সচিব ডিজাইনার রিয়াদুল আহসান, গোপাল চন্দ্র সাহা, সোহেল রানা, সদস্য প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির, প্রকৌশলী শাহ আলম সিকদার, প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম