সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জিমি কার্টার সেন্টার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন কার্টার। তিনি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জর্জিয়ার প্লেইন্সে তার বাড়িতে ‘হসপিস কেয়ার’-এ ছিলেন। সেখানে তিনি তার স্ত্রী রোজালিন কার্টারের সঙ্গে থাকতেন। তবে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর মারা যান সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি রোজালিন।

এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, জিমি কার্টারই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি তার ১০০তম জন্মদিনে পৌঁছেছিলেন।




বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ডলারের দাম বাড়ায় বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। একইসঙ্গে যোগ হয়েছে দাতা সংস্থার ঋণ ও অনুদান। সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ২৬.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা এ তথ‌্য নি‌শ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশি অনুদান যোগ হয়েছে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো, এসব কারণে রিজার্ভ বেড়েছে।

অবশ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম মেনে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ-এর পরিমাণ এখন ২১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবেও আগের চেয়ে বেড়েছে রিজার্ভ।

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের ‘বিপিএম-৬’ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

তবে এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, তা হলো ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ। এ তথ‌্য আনুষ্ঠা‌নিকভাবে খুব একটা প্রকাশ করে না কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক। সেখানে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ডলার, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা এবং আকুর বিল বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের ব্যয়যোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়।

চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে বৈধ পথে ২৪২ কোটি মার্কিন ডলারের সমপ‌রিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৯ হাজার ৪০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। বিশেষ করে ডলারের দাম ১২০ টাকায় ছিল দীর্ঘদিন ধরে। তবে গত সপ্তাহে ডলারের চা‌হিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়ে যায়। যার কারণে রে‌মিট‌্যান্স প্রবাহও বেড়েছে। যা রিজার্ভ বাড়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।




অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানজিদাকে সাময়িক বরখাস্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার সানজিদা আফরিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়েছে। সানজিদা বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সানজিদাকে সরকারি চাকরিবিধি আইনে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালে তিনি বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যার দুটি মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফ। কিন্তু আদালতে ওই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই বিষয়টি জানাজানি হয়।

পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আরিফকে ইতিমধ্যে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিবি সূত্র বলছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর আরিফ দাবি করেছেন, তিনি অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সানজিদা আফরিনের নির্দেশে কাজটি করেছেন।




পটুয়াখালীর গলাচিপায় কৃষক সমাবেশ: আধুনিকায়নে গুরুত্ব আরোপ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় গত রবিবার সন্ধ্যায় পৌরসভা পর্যায়ে তিন মাসব্যাপী কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের কৃষক জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করে তাদের আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করা। উপজেলার উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর কৃষক দলের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর তালুকদার এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম (জনতার রফিক)।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. তরিকুল ইসলাম ইভান, উপজেলা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খান, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক খানজাহান আলী খান সাগর, পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মামুন প্যাদা সহ উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”, এই স্লোগানকে সামনে রেখে কৃষকদের আধুনিকীকরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা বলেন, কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্ভব, তাই সরকারের উচিত কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শক্তি বাড়ানো।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তির কার্যকরী উপায়

শীতের সময় সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জি জনিত সমস্যা বেড়ে যায়। ধুলাবালি ও বাতাসে জীবাণুর আধিক্য বাড়ার ফলে ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। ডাস্ট অ্যালার্জির কারণে হতে পারে হাঁচি-কাশি, চোখ-নাক দিয়ে পানি পড়া, ত্বকে চুলকানি ও লালচে ভাব, র‍্যাশ এবং শ্বাসকষ্ট। এ সমস্যা দূর করতে অনেকেই ওষুধের পাশাপাশি ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেন।

টকদইয়ের উপকারিতা
টকদইয়ে থাকা প্রো-বায়োটিক অ্যালার্জি প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন নিয়মিত টকদই খাওয়ার অভ্যাস করুন।

আপেল সিডার ভিনেগার
এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে দিনে দুই থেকে তিনবার পান করলে ডাস্ট অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়।

ভাপ নেওয়া
ডাস্ট অ্যালার্জি কমাতে স্টিম নেওয়া একটি প্রমাণিত পদ্ধতি। গরম পানির বাষ্প নাক ও মুখ দিয়ে গ্রহণ করলে নাকের বন্ধভাব দূর হয়। ১০ মিনিট স্টিম নিলে তাৎক্ষণিক উপকার পাওয়া যায়।

মধুর কার্যকারিতা
মধু প্রাকৃতিক অ্যালার্জেনের সঙ্গে শরীরকে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। এটি প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য অ্যালার্জির ফুসকুড়ি ও প্রদাহ কমাতে কার্যকর।

ঘি ও গুড়
অ্যালার্জি প্রতিরোধে ঘি এবং গুড় খাওয়ার অভ্যাস করুন। আধা চা চামচ ঘি ও গুড় মিশিয়ে খেলে অনিয়ন্ত্রিত হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট কমে যায়।

অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা জেল অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে সহায়ক। ৩-৪ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রস পানিতে মিশিয়ে দিনে দুইবার পান করুন। এটি প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। নিয়মিত অ্যালোভেরার রস খেলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডাস্ট অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া এই উপায়গুলো অনুসরণ করুন। শীতের দিনে সুস্থ থাকতে সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




ঝালকাঠিতে অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত

ঝালকাঠির নলছিটিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এক ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে কাঁচা ইট ধ্বংস ও ভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। রোববার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা কুলকাঠি ইউনিয়নের সরই গ্রামে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা। অভিযানে জানা যায়, সরই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ফসলি জমিতে ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে উঠেছিল এবং সেখানে ইট পোড়ানো হচ্ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা পরিবেশ অধিদপ্তরে এ ভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে, পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ভাটাটি ভেঙে দেয়। ভেঙে ফেলার পর ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের মাধ্যমে আগুন নেভানো হয়।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা জানান, “অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়েছি। এটি আগে বন্ধ ছিল, কিন্তু পুনরায় চালু করা হয়েছিল। এ ভাটার কোনো ছাড়পত্র ছিল না। মালিককে পাওয়া যায়নি, তাই তাকে নোটিশ পাঠানো হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

 

বরিশাল নগরীর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাবের চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে এক তরুণী রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বান্দ রোডে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, পেটের ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি তার পেটে হাত দেন। এ সময় অভিযুক্ত চিকিৎসক তরুণীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। তরুণী বলেন, “আমি চিৎকার দিলে তিনি আমার গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে ল্যাবের অন্যান্য লোকজন চেম্বারে এলে তিনি পালিয়ে যান।”

তরুণী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ডায়াগনস্টিক ল্যাব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়।

অভিযুক্ত চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে রোগীর সঙ্গে একটি ভুল বোঝাবুঝি বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে ডিজিটাল ল্যাব কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “এই ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

ঘটনাটি নগরীতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্ত না হলে কীভাবে এমন অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় অসহায় পরিবারের জমি বন্দোবস্তের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলায় বসবাসরত ৩৬৫ অসহায় পরিবারের জমি বন্দোবস্তের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

বক্তারা জানান, ১৯৯৪ সাল থেকে চরবাংলায় তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ও বিত্তবান ভূমি দস্যু নতুন ম্যাপ তৈরি করে জমি নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করেছে। এর ফলে বসবাসরত ৩৬৫ পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে। তারা সরকারি কর্মকর্তাদের সরেজমিনে তদন্ত করে প্রভাবশালীদের বন্দোবস্ত বাতিল এবং জমি প্রকৃত বসবাসকারীদের নামে বন্দোবস্ত দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, দাবি আদায় না হলে কাফনের কাপড় পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভূমি অফিসের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।

মানববন্ধনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গলাচিপা শাখার সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসাইন, চরবিশ্বাস ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা ইমরান নাজির এবং ভূমিহীন কৃষক মাওলানা আব্দুর রব উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামীকাল থেকে ফের শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমতে থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
এত বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সব পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া আগামী পাঁচদিনে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।




পর্যটন সুবিধা বাড়ালে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার ঢালচরের দক্ষিণে অবস্থিত তারুয়া দ্বীপ, বঙ্গোপসাগরের কোলে প্রায় চার দশক আগে জেগে ওঠা এক ছোট্ট দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এ দ্বীপটি যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। সবুজ বনভূমি, সোনালি সৈকত, বালুর ঝলকানি এবং লাল কাঁকড়ার বিচরণ, এসব মিলিয়ে তারুয়া দ্বীপটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতির এক অনন্য উপহার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক প্রচার ও পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত হলে, এই দ্বীপটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে।

তারুয়া দ্বীপে পৌঁছাতে হলে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার সড়কপথ এবং ১৫ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে হয়। দ্বীপের পথে যাত্রায় ক্লান্তি দূর হয়ে যায় সাগরের গর্জন ও চারপাশে বিস্তৃত নীল জলরাশি দেখে। প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তারুয়া সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে ম্যানগ্রোভ বনে ঘেরা বিশাল চারণভূমি। দ্বীপে নানা প্রজাতির প্রাণী বসবাস করছে, যেমন হরিণ, বন্য মহিষ, বানর এবং লাল কাঁকড়া। প্রকৃতির নিখাদ নির্জনতা এবং মোহনীয় দৃশ্য দেখে যেকোনো দর্শক সজীব হয়ে ওঠে, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে সব কিছু সাজিয়েছে।

তারুয়া দ্বীপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। সকালের সোনালি আভায় সাগরের বুক থেকে যখন সূর্য উঁকি দেয়, তখন এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, যা দর্শকদের মনমুগ্ধ করে। আবার সন্ধ্যায়, যখন পশ্চিম আকাশ রক্তিম আভায় রাঙা হয়ে ওঠে, তখন দর্শকদের অনুভূতি এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে যায়।

প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠে তারুয়া দ্বীপ। স্থানীয়রা যখন মাছ ধরতে আসতেন, তখন তাদের জালে শত শত “তারুয়া” মাছ উঠে আসত, যার কারণে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়েছে তারুয়া। এই দ্বীপটি জীববৈচিত্র্যের এক অপূর্ব ক্ষেত্র, যেখানে নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি, হরিণ, কাঠবিড়ালী, বন ষাড়, এবং শীতকালীন অতিথি পাখির বসবাস।

বর্তমানে দ্বীপে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠেনি, তবে গত কয়েক বছরে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। তারুয়া দ্বীপের পর্যটন সম্ভাবনা অত্যন্ত বিশাল। ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার, ক্যাম্পিং সুবিধা এবং পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট গড়ে তুললে, এটি কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সরাসরি সড়কপথ ও সি-ট্রাক পরিষেবা চালু হলে পর্যটকদের জন্য এটি আরো সহজতর হবে।

ভোলার বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক বেলাল জানান, তারুয়া বিচের সৌন্দর্য এবং পাখির অভয়ারণ্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন থাকতে হবে। বন ও পরিবেশের ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ক্যাম্পিং করা উচিত। ম্যানগ্রোভ বনে পরিযায়ী পাখির আগমন শুরু হয়েছে, তাই ফায়ারিং ও আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ। পরিবেশের ক্ষতি রোধ করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম