পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার করতেই হবে: প্রধান উপদেষ্টা

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন শহীদ সেনা পরিবারের সদস্যরা। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তারা এই দাবি জানান। পাশাপাশি, ২৫ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ সেনা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হওয়ার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এতো বছর ধরে এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য গোপন রাখা অবিশ্বাস্য।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের যতোটুকু সক্ষমতা আছে, আমরা সমস্ত তথ্য প্রকাশ করব এবং দ্রুত এই ঘটনার তথ্য একত্রিত করতে হবে। সারাদেশের মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী, এবং জাতির পক্ষ থেকে আমাদের এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে।”

শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের দুঃখ-দুর্দশা ও সরকার পক্ষ থেকে তাদের ওপর যে মানসিক নিপীড়ন ও হয়রানি করা হয়েছে তা বর্ণনা করেন। তারা জানান, বিচারের দাবিতে তাদের উপর নানা অত্যাচার করা হয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডে শহীদ পরিবারদের পুর্নবাসন বিষয়ে যে প্রচারণা চালানো হয়েছিল তা মিথ্যা ছিল এবং সেখানে কোন শহীদ পরিবারকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

এসময় শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান, শহীদ পরিবারগুলোর সন্তানদের বিনা বেতনে লেখাপড়া এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ অনেকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় ২০ মন নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ জব্দ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি পিকআপভর্তি ২০ মন বিপন্ন প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ জব্দ করেছে থানা পুলিশ। একই সঙ্গে পিকআপের চালক, হেলপার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই বিএনপি নেতাসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার ভোরে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের বিশকানি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

কলাপাড়া থানার ওসি জুয়েল ইসলাম জানান, মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে শাপলাপাতা মাছের একটি চালান পাচারের চেষ্টা করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পিকআপটি বিশকানি এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ পরিচয়ে টিয়াখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল রানা এবং ছাত্রদল সভাপতি মো. ইমরানের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা মাছ লুট করে এবং চালক ও হেলপারের কাছে চাঁদা দাবি করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় একটি চাকু, একটি প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাসহ ৯ জনকে আটক করে। পিকআপে থাকা ২০ মন নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ জব্দ করা হয়।

ওসি আরও জানান, জব্দ করা মাছগুলো বন বিভাগের উপস্থিতিতে মাটি চাপা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু ২০ জানুয়ারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলী নেওয়াজ বলেন, আমরা আশা করছি ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে এ কার্যক্রম শুরু করতে পারব। ইতোমধ্যে আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। ৫ জানুয়ারির মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করতে পারব। যারা এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন তারা মাঠের যে জনবল বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

তিনি আরও বলেন, ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এটি আমরা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেব। জনগণ এটা দেখার সুযোগ পাবেন। সেখান থেকে যদি কেউ বাদ পড়ে থাকেন তাহলে তাদের দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির একটা ব্যবস্থা করা হবে। দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ কাজ আমরা প্রতি বছরই করে থাকি। এটাকে আমরা চব্বিশের হালনাগাদ ও পঁচিশের ভোটার তালিকা হিসেবে গণ্য করব।

আগাম এক বছরের তথ্য সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুধু পঁচিশ সালের তথ্য সংগ্রহ করব না। একইসঙ্গে ছাব্বিশ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ হবে তাদের তথ্যও সংগ্রহ করব। তাদের আমরা ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করব। তবে তারা পঁচিশ সালের কোনো নির্বাচনে ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন না।

দেশের সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা যখন বাড়ি বাড়ি যাবেন তখন তাদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।




অনন্ত জলিলকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গার্মেন্টস ব্যবসায় ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে বিল পরিশোধ না করায় প্রতারণার অভিযোগ তুলে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়ক ও ব্যবসায়ী অনন্ত জলিলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এক বছর আগে ঢাকার আদালতে দায়ের করা এ মামলায় অনন্তসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিবিআইয়ের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক তাপস চন্দ্র পন্ডিত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ পিবিআইয়ের দেওয়া প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।




পুলিশের মধ্যে অপরাধীদের বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করা হবে : প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পুলিশের মধ্যে যারা অপরাধী তাদের অবশ্যই বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, তাদের ’২৪ এর অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেই কাজ করতে হবে।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় ঢাকাসহ সব বিভাগের কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ কার্যালয় থেকে অংশ নিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম সফল করতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনই আসল সরকার।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সবার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তাই মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের মনোযোগী হতে হবে।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, পুলিশের যারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিতরণের নির্দেশনা দেন তিনি।




ভোট করতে পারবে আওয়ামী লীগ?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সরকার বা আদালত কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে ‘বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক মত বিনিময় সভার শুরুতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে মত বিনিময় করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন বলেন, “এটা মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে। এটাও শোনা যাচ্ছে যে, কেউ কেউ মামলা করেছে কোর্টে। এ দল যাতে নির্বাচনে না আসতে পারে সেটার আদেশ চেয়ে। কোর্ট যদি রায় দেয়, যেভাবে রায় দেয় সেভাবে ব্যবস্থা নেব। আর না হলে এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার।

“দল করার শাসনতান্ত্রিক অধিকার সবারই আছে। কোনো দল রেজিস্ট্রেশন পাবে কি পাবে না সেটার আলাদা বিধি বিধান আছে। কোনো দল শর্ত পূরণ করলে আমরা (নিবন্ধন) দেব। শর্ত পূরণ না করলে দেব না। পুরনো যে দলের কথা বলছেন, এরা কিন্তু বহু আগে রেজিস্টার্ড।”

তিনি বলেন, “সরকার যদি কোনো দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা না করে, আমরা তাদের রেজিস্ট্রেশন তো বাতিল করতে পারি না। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অথবা কোর্টের সিদ্ধান্ত। এ দুইটার একটা হতে হবে, যেটার ভিত্তিতে হয়ত আমরা ব্যবস্থা নেব। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

সিইসি বলেন, “আমি একদম গোড়া থেকে বলে আসছি, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অথবা কোর্টের সিদ্ধান্ত। আমরা এ দুটোর দিকে চেয়ে আছি।”

গত জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বলে আসছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে গণ-অভ্যুত্থানে লড়াই করা জনগণের ‘আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধাচরণ’।

আর বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ নির্বাচন কমিশন সংস্কারের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছে।




যা আছে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের খসড়ায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে।

শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা।

তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছেন এই ঘোষণাপত্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

তাহলে কি আছে এই ঘোষণাপত্রে?

জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের খসড়ায় বলা আছে, যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির জন্য ১৯৪৭ সাল যুদ্ধ করেছে, যেহেতু পাকিস্তান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে, যেহেতু ১৯৭২ এর সংবিধান আমাদের জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারেনি, যেহেতু মার্শাল ল’ এবং সাংবিধানিক সংশোধনীসমূহ ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্রকে দুর্বলতম করেছে। এই উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

খসড়ায় আরও উল্লেখ রয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম করার ক্ষেত্রে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; পিলখানা, শাপলা চত্বর গণহত্যা, বিচার বিভাগীয় হত্যা, সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে; ছাত্র-জনতা এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে; রাজাকারের নাতি হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফ্যাসিস্ট শাসন দীর্ঘস্থায়ী কারার ক্ষেত্রে বেপরোয়া ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে; ছাত্ররা ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করেছিল, ইন্টারনেট বন্ধ করে কারফিউ জারি করে ছাত্র-জনতার উচ্চকিত কণ্ঠ স্তিমিত করার চেষ্টা হয়েছিল; ছাত্র-জনতা অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল; সকল শ্রেণি-পেশার, ধর্ম, বর্ণ, সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী, ডান-বাম নির্বিশেষ ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে অকল্পনীয় ঐক্য গড়ে তুলেছে, সেহেতু ছাত্র-জনতা ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করেছে এবং সহস্রাধিক জীবন বিসর্জন দিয়েছে। সেই সঙ্গে আজও শত শত ছাত্র-জনতা মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতর, সেজন্য আমরা নিজেদের স্বাধীন সার্বভৌম জনগণ হিসেবে ঘোষণা করলাম। এর প্রেক্ষিতে…

* আমরা পার্লামেন্ট বিলুপ্তি চাই।
* হাসিনা সরকারের সময় নিযুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে চাই।
* আমরা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটা অন্তর্বর্তী সরকার চাই।
* মিলিটারি শাসন ও ১/১১ এর পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেজন্য বেগম খালেদা জিয়ার তড়িৎ মুক্তি কামনা করছি।
* আমরা ’৭২ এর সংবিধান সংস্কার বা বাতিল চাই।
* আমরা সকল প্রতিষ্ঠানের সংস্কার চাই।
* আমরা গুম, খুন ও গণহত্যার সুবিচার চাই।
* অর্থপাচার, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার এবং পাচারকারী ব্যক্তিদের শাস্তি চাই।
* আমরা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই। ’৭২ এর বন্দোবস্ত বাতিল চাই।
* ১/১১ এর বন্দোবস্ত বাতিল চাই।
* আমরা একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (Democratic Republic) চাই, আমরা বৈষম্য চাই না।

এই ঘোষণা ৫ আগস্ট, ২০২৪ থেকে কার্যকর হবে বলেও জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে।




সিরিয়ায় নির্বাচন আয়োজনে চার বছর পর্যন্ত লাগতে পারে : আল-শারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সিরিয়ায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমপক্ষে আরও চার বছর সময় লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ক্ষমতাসীন ডি-ফ্যাক্টো নেতা আহমেদ আল-শারা। রোববার সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

দেশে জেঁকে বসা বাশার আল-আসাদের স্বৈরশাসনের পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া স্বশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতা আহমেদ আল-শারা সিরিয়ার নতুন প্রশাসনের প্রধান। গত ৮ ডিসেম্বর বিদ্রোহীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ পালিয়ে যাওয়ার পর ক্ষমতায় আসেন তিনি।

আসাদের পতনের পর দেশটিতে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন আহমেদ আল-শারা। সৌদির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সিরিয়ায় নতুন একটি সংবিধানের খসড়া তৈরিতে তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আর দেশে ব্যাপক পরিবর্তন আনার জন্য আরও প্রায় এক বছর সময় লাগবে।




সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জিমি কার্টার সেন্টার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের।

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন কার্টার। তিনি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জর্জিয়ার প্লেইন্সে তার বাড়িতে ‘হসপিস কেয়ার’-এ ছিলেন। সেখানে তিনি তার স্ত্রী রোজালিন কার্টারের সঙ্গে থাকতেন। তবে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর মারা যান সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি রোজালিন।

এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, জিমি কার্টারই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি তার ১০০তম জন্মদিনে পৌঁছেছিলেন।




বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ডলারের দাম বাড়ায় বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। একইসঙ্গে যোগ হয়েছে দাতা সংস্থার ঋণ ও অনুদান। সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ২৬.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা এ তথ‌্য নি‌শ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশি অনুদান যোগ হয়েছে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো, এসব কারণে রিজার্ভ বেড়েছে।

অবশ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম মেনে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ-এর পরিমাণ এখন ২১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবেও আগের চেয়ে বেড়েছে রিজার্ভ।

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের ‘বিপিএম-৬’ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

তবে এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, তা হলো ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ। এ তথ‌্য আনুষ্ঠা‌নিকভাবে খুব একটা প্রকাশ করে না কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক। সেখানে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ডলার, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা এবং আকুর বিল বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের ব্যয়যোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়।

চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে বৈধ পথে ২৪২ কোটি মার্কিন ডলারের সমপ‌রিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৯ হাজার ৪০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। বিশেষ করে ডলারের দাম ১২০ টাকায় ছিল দীর্ঘদিন ধরে। তবে গত সপ্তাহে ডলারের চা‌হিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়ে যায়। যার কারণে রে‌মিট‌্যান্স প্রবাহও বেড়েছে। যা রিজার্ভ বাড়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।