মির্জাগঞ্জ সড়কে কলেজ ছাত্র নিহত এর ঘটনায় আটক ৩

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক কলেজ ছাত্র, আহত হয়েছেন তার দুই বন্ধু। শনিবার সন্ধ্যায় মির্জাগঞ্জ সড়কের ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন সিকদার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কলেজ ছাত্র নেয়ামুল হক নাফিস পটুয়াখালী জেলার মুন্সেফ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আইনজীবী নাজমুল হকের ছেলে এবং ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নাফিস তার দুই বন্ধু সাফিন ও ফারাবি হাসানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় নাফিস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত সাফিন ও ফারাবিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পটুয়াখালী ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার সহায়তায় প্রাইভেটকার চালক মো. শহিদুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার চামটা গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম (৪২), পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের মো. মোহন সিকদার (৪১) এবং সিদ্দিক সিকদার।

পটুয়াখালী সদর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৫৪/২৪।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাফিসের মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আতশবাজি ও ফানুসের আগুনে রাজধানীর একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ড

ইংরেজী নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি ও ফানুসের আগুনে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার মধ্যে মিরপুর, ধানমন্ডি, ও ল্যাবএইড সংলগ্ন এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরে ডাস্টবিনে আগুন ধরলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়। তবে ধানমন্ডির একটি দোকানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় একটি ডাস্টবিনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়, তবে আগুন নিভে যায়। অন্যদিকে, রাত ১২টা ৫৩ মিনিটে ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালের পিছনে একটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি, তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইংরেজী নববর্ষের আনন্দ উদযাপন উপলক্ষে আতশবাজি ও ফানুসের কারণে এ আগুনের সৃষ্টি হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শেবাচিমে পরিচালকের কঠোর নজরদারীতে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন এবং শৃঙ্খলিত হয়ে উঠেছে। সকাল বেলা এখন আর হকারদের ভিড় কিংবা যানবাহনের জটলা দেখা যায় না। দুপাশের মাঠে ময়লা আবর্জনার স্তূপও নেই। হাসপাতালের ভিতরে দেয়াল, ফ্লোর এবং সিঁড়িতে পান-সিগারেটের দাগও দেখা যাচ্ছে না। চমৎকার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগী ও তাদের স্বজনদের চোখে স্বস্তির অনুভূতি স্পষ্ট। তবে, বাইরের পরিবেশ কিছুটা উন্নত হলেও, কিছু অনিয়ম এখনও হাসপাতালের ভিতরে বিদ্যমান।

মঙ্গলবার ( ৩১ ডিসেম্বর ) সকালে সরেজমিনে ঘুরে শেবাচিমে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তবে, এখানকার কিছু বিভাগে এখনও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। বিশেষত টিকিট কাউন্টার, মেডিসিন, ক্যান্সার এবং চক্ষু বিভাগে অব্যবস্থাপনা চলছে। এসব বিভাগের প্রধানরা এখনও পুরনো সরকারের মনোনীত লোকজন, এবং টেকনোলজিস্টের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের সুযোগে অযোগ্যরা এসব বিভাগ দখল করে রেখেছে।

হাসপাতালের চত্বর ঘুরে দেখা যায় টিকিট কাউন্টারেও কিছু অনিয়ম চলছে। এখানে মোট সাতটি কাউন্টার থাকার কথা, কিন্তু টিকিট বিক্রি করছেন মাত্র চারজন। টিকিটের মূল্য ১০ টাকা, তবে ভর্তি রোগীদের জন্য ১৫ টাকা লেখা রয়েছে দেয়ালে। অনেক রোগী তাদের অবস্থা জানানোর পরেও সঠিকভাবে পরিষেবা পাচ্ছেন না। কিছু দিন আগে, একটি কাউন্টারে একটি মহিলাকে ২০ টাকা নেওয়ার পর টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। টিকিট কাউন্টার এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে স্বজনপ্রীতির কারণে রোগীরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।

এছাড়া, হাসপাতালের ভিতরে রোগী ও স্বজনদের কিছু অসচেতনতাও লক্ষ্য করা গেছে। পিক বা থুথু যত্রতত্র ফেলছে তারা, এবং তাদের অভিযোগ, ডাস্টবিনের অভাবে এমনটি হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের পরামর্শ অনুযায়ী, টিকিট কাউন্টার হাসপাতাল ভবনের বাইরে সরিয়ে নেয়া হলে সুবিধা হতো। এছাড়া, হাসপাতাল চত্বরে আরও পাবলিক টয়লেট এবং সড়ক সংলগ্ন টিকিট কাউন্টার স্থাপন করা যেতে পারে।

বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট দূর করা হলে, হাসপাতালের কার্যক্রম আরও উন্নত হবে। এ বিষয়ে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, “বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং টেকনোলজি সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যাগুলি সমাধান করব।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিপিএল দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত নগরবাসী: ৬টি এলইডি মনিটরের ৫টি অকেজো

বরিশালে বিপিএল-২০২৪ এর উদ্বোধনী খেলা শুরু হলেও, এবারের আয়োজনে নগরবাসী একসাথে খেলা উপভোগ করতে পারছেন না। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) ৬টি এলইডি মনিটরের মধ্যে ৫টি বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে আছে, যার ফলে জনগণ খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গতকাল ফরচুন বরিশাল বনাম রাজশাহী রয়্যালস এর উদ্বোধনী খেলা শুরু হওয়ার পর, এসব মনিটরে খেলা দেখানোর ঐতিহ্য আর দেখা যাচ্ছে না।

২০১৯ সালে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরীর বিভিন্ন জনবহুল স্থানে এলইডি মনিটর স্থাপন করেছিল। রুপাতলী, নথুল্লাবাদ, বিবির পুকুর পাড়, এ্যানেক্স ভবন, বেলস পার্ক এবং নগর ভবন ছিল এই মনিটরগুলোর স্থাপন স্থান। এসব মনিটরে নগরবাসী বিপিএলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন। বিশেষ করে বিপিএলের সময় ফরচুন বরিশালের ম্যাচগুলো দেখানো হলে হাজার হাজার মানুষ একসাথে খেলা উপভোগ করতেন।

কিন্তু, এসব মনিটর স্থাপনের দুই-তিন বছরের মধ্যেই তদারকির অভাবে একে একে নষ্ট হতে শুরু করে। ঘূর্নিঝড় রিমাল এবং ৫ই আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর এ্যানেক্স ভবনের মনিটরটি পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে মোট ৬টি এলইডি মনিটরের মধ্যে একমাত্র নগর ভবনের মনিটরটি অবশিষ্ট রয়েছে, তবে সেটিও ত্রুটিপূর্ণ এবং যেকোন সময় বিকল হতে পারে বলে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ শাখার প্রধান ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একে একে মনিটরগুলো বিকল হয়েছে এবং এগুলো ঠিক করার কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এগুলো ঠিক করা হবে কিনা, তা নিশ্চিত না। তবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।”

এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস বলেন, “বরিশালের সাধারণ মানুষ বিগত দিনে এই মনিটরে খেলা উপভোগ করেছে। খেলার দিনগুলো ছিল উৎসবমুখর। বর্তমানে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে একসাথে খেলা দেখার আনন্দ থেকে। আমি মনে করি, নগরবাসীর বিনোদনের স্বার্থে মনিটরগুলো ঠিক করা উচিত।”

এ পরিস্থিতি নিয়ে নগরবাসীর মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে শহরের জনগণ আবারও একসাথে খেলা উপভোগ করতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল নগরীতে চলছে পানির সংকট

বরিশাল নগরীজুড়ে ভয়াবহ পানির সংকট চলছে, যা চাহিদার ৬০ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানির সংকট তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি, নগরীর নথুল্লাবাদ ও কাজীপাড়ার পাম্প হাউজ দুটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, কারণ এখানকার গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে না।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) সূত্রে জানা গেছে, নগরীর দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ লিটার, যেখানে ৩৮টি পাম্পের মাধ্যমে ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের কারণে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমে গেছে এবং গড়ে ১০ লাখ লিটার পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, বরিশালের বেশিরভাগ এলাকাতে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, নগরীতে ঢালাওভাবে গভীর নলকূপ খনন, কাঁচা নালা এবং আরসিসি ড্রেন নির্মাণের ফলে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। তারা দাবি করছেন, গত কয়েক বছরে বৃষ্টির ঘাটতি ও প্রকৃতির বিরূপ আচরণ পানির স্তর কমানোর অন্যতম কারণ। এই সমস্যা বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে প্রকট হয়ে উঠেছে, এবং চলতি মাসে পানির উত্তোলন অনেকাংশে কমে গেছে।

পানির সংকট মোকাবেলা করতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও প্লান্ট দুটি গত পাঁচ বছরে বন্ধ ছিল, এখন সেগুলো চালু করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং প্লান্ট চালু করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে।

২০০৩-০৪ অর্থবছরে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এবং ২শ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে প্রকল্পটি সম্পন্ন হলেও, এটি সরাসরি নগরবাসীর কাছে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না করে শুধুমাত্র ওভারহেড ট্যাংকগুলোতে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যার ফলে প্রকল্পটি কার্যকর হয়নি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এই প্লান্ট দুটি চালু করতে ব্যাপক চেষ্টা করছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্লান্ট দুটি চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফিরে দেখা বরিশাল: রাজনৈতিক উত্তেজনা, সহিংসতা ও গণঅভ্যুত্থান

গত এক বছরের মধ্যে বরিশালে ঘটে গেছে নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, যা প্রভাব ফেলেছে স্থানীয় রাজনীতি, সামাজিক পরিস্থিতি ও জনগণের জীবনে। ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু হয়ে ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদের পতনে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীদের পলায়ন—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বরিশালও ছিল এসব ঘটনাপ্রবাহের অংশ।

নির্বাচন ও বরিশালের আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব ::

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বরিশাল আওয়ামী লীগে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য সালাউদ্দিন রিপনের মধ্যে ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এতে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহের সমর্থন পেয়ে স্যালাউদ্দিন রিপন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন, যা আওয়ামী লীগে বিভক্তির সূচনা ঘটায়। সাধারণ ভোটাররা এ নির্বাচন বয়কট করে সরকারের প্রতি তাদের অনাস্থা প্রকাশ করে।

বিস্ফোরণ, ধর্ষণ এবং শ্রমিক সংঘর্ষ ::

বরিশালে একের পর এক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। ১৩ ফেব্রুয়ারী গৌরনদী উপজেলায় বোমা উদ্ধার করতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে পুলিশ সদস্যসহ তিনজন আহত হয়। মার্চে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশের এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ। এই ঘটনায় বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলী হোসেনও জিম্মি হন। এরপর ২১ এপ্রিল বাকেরগঞ্জের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়, যা বরিশালে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এদিকে ২৩ মে ফরচুন সু হাউজে শ্রমিকদের আন্দোলনে আনসার সদস্যরা গুলি চালায়, যাতে ৫ শ্রমিক আহত হয়। এর কয়েকদিন পর, ১২ জুন কাউনিয়ায় একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে, যেখানে বাবা তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন।

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান ::

জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা আন্দোলন ও বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। ১ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে, যার ফলে সরকার পালিয়ে যায় এবং ৮ আগস্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল চৌধুরী নিহত হন এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে।

গ্রেফতার, বিস্ফোরক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা ::

অগাস্টে বরিশাল আসনের সাবেক সাংসদ জাহিদ ফারুক শামিন গ্রেফতার হন। এরপর কয়েকটি গ্রেনেড উদ্ধার হওয়া, ১ অক্টোবর বিএনপির অফিসে আক্রমণ এবং ২৩ অক্টোবর মঈন আব্দুল্লাহর গ্রেফতার—এই ঘটনাগুলোর কারণে বরিশালে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ডিসেম্বরে বরিশালের সড়ক দুর্ঘটনা এবং স্প্রীডবোট সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং বরিশালবাসীর প্রত্যাশা ::

গত এক বছরে বরিশালের প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর, বরিশালবাসী তাদের সুসংহত ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী। তবে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম এখনও হতাশাজনক, যা জনগণের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৩১ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “খ্রিস্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে আমি দেশ-বিদেশের সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। কামনা করি সবার জীবনে খ্রিস্টীয় নববর্ষ অনাবিল আনন্দ, সুখ, স্বাচ্ছন্দ, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনুক। শুভ নববর্ষ।”

তারেক রহমান নতুন বছরের জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, “নতুন বছরে আমরা দেশের সামগ্রিক রূপান্তরের একটি পর্বে উপনীত হতে পারবো বলে আশা রাখি। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আসুন আমরা রাষ্ট্র ও সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একযোগে কাজ করি।”

তিনি আরও বলেন, “অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। চিরদিনের জন্য দূর হয়ে যাক সব অন্যায়-উৎপীড়ন, নির্যাতন। আমরা এমন একটি জাতি নির্মাণের প্রত্যাশা করছি, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ স্বাধীন থাকবে।”

তারেক রহমান ২০২৪ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, “গেল বছরটি এখন আমাদের মনে সতর্ক হয়ে থাকবে। গত বছরের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা, ছাত্র-জনতার আত্মদান এবং অধিকার হারানোর যন্ত্রণা আগামী বছরে আমাদের একদিকে যেমন বেদনার্ত করবে, অন্যদিকে নতুন উদ্যোমে শান্তি, সম্প্রীতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনায় আমাদের উদ্বুদ্ধ করবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হবে, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ শক্তিশালী করা ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনে একযোগে কাজ করা।”

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্রের আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণবিরোধী পরাজিত শক্তি এতদিন জনগণের সকল অধিকারকে বন্দী করে রেখেছিল। এমতাবস্থায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তির মিলিত প্রচেষ্টায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করতে হবে। হৃত গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য আমি সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 থার্টি ফার্স্ট নাইটে বরিশালজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা, মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট

থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকে কেন্দ্র করে বরিশাল শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) এই রাতের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে নগরবাসী সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে নতুন বছর উদযাপন করতে পারে।

এবারের থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে পুরো শহরে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং নগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের নজরদারি থাকবে, পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হবে। পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ফানুস ও আতশবাজি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে।

নগরীজুড়ে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে ফানুস ও আতশবাজি থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে বরিশাল ফায়ার স্টেশনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং র‌্যাবও এদিন কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এছাড়া, উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান না হওয়ার জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশন ও পুলিশ কমিশনার কর্তৃক আরও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে থার্টি ফার্স্ট নাইটে বরিশালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম নিরাপত্তা ব্যবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। যদিও কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নগরীর জন্য বিশেষ কোনো হুমকি সঙ্কেত পাওয়া যায়নি, তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 বরিশাল শহরে ইমারত নীতিমালা না থাকায় দুর্ভোগ

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সুনির্দিষ্ট ইমারত নীতিমালা না থাকার কারণে শহরের নাগরিকরা ভবন নির্মাণে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। দুই বছর ধরে নতুন ভবনের নকশা অনুমোদন না পাওয়ায় আবাসন খাত এবং ব্যক্তিপর্যায়ের ভবন নির্মাতারা বিপাকে পড়েছেন। ভবন নির্মাণে এই জটিলতা ও হয়রানি নিরসনের পাশাপাশি নগরীর জন্য উপযোগী ইমারত নির্মাণবিধি প্রণয়নের দাবি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, আগে নকশা অনুমোদন নিয়ে নানা ধরনের নৈরাজ্য ও বাণিজ্য ছিল, কিন্তু নতুন প্রশাসন আসার পর সেই সব বন্ধ হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তারা অর্ধশত ভবনের নকশা অনুমোদন সম্পন্ন করেছেন এবং শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করতে চলেছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী বরিশাল সিটি করপোরেশন ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়া শুরু করে। পরবর্তী সময়ে, ২০০৮ সালে শওকত হোসেন হিরণ মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই বিধিমালার পরিমার্জিত সংস্করণ কার্যকর করা হয়। ২০১০ সালের পর থেকে, এটি নাগরিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং নকশা জমা দেওয়ার হার কমে যায়। ২০২০ সালে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল ইমারত নির্মাণবিধি-২০২০ নামে একটি নতুন বিধি প্রণয়ন করেন, যা কিছুটা বাস্তবতার সাথে মিল রেখে তৈরি হয়েছিল।

তবে বর্তমান মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন ২০২০ সালের বিধি বাতিল করে ১৯৯৬ সালের বিধিমালা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন। এর পর থেকে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদনের জন্য ৯৫০টিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বরিশাল নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সদস্যসচিব প্রকৌশলী আবু সালেহ বলেন, “বর্তমান মেয়র এবং সিটি করপোরেশন যে বিধি অনুসরণ করছেন তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ১৯৯৬ সালের বিধি অনুসারে, অধিকাংশ রাস্তার প্রশস্ততা কম থাকায় ২ থেকে ৫ তলার বেশি প্ল্যান অনুমোদন সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, “নগরীর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ইমারত নির্মাণ বিধিমালা থাকা প্রয়োজন, যাতে ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন দ্রুত এবং কার্যকরীভাবে দেওয়া যায়। এছাড়া দুর্নীতি রোধে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা এবং জমির শ্রেণি অনুযায়ী নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে পরিবর্তন আনা উচিত।”

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “আমরা বাড়ি নির্মাণের জন্য সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়া প্ল্যানগুলো যাচাই-বাছাই করছি। এরই মধ্যে ৫০টি প্ল্যান যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই সেগুলো অনুমোদন করা হবে।”

এছাড়া তিনি জানান, নকশা অনুমোদন সংক্রান্ত যে নৈরাজ্য ও বাণিজ্য ছিল, তা এখন বন্ধ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




২০২৪ সালে যাদের হারিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন আরেকটি বছর। এরইমধ্যে অনেকে নতুন বছরের পরিকল্পনাও সাজাতে বসে গেছে। আনন্দ-বেদনা, আশা-নিরাশায় ভেলায় চড়ে সবাই ২০২৪ সালকে বিদায় জানাতে যখন প্রস্তুত তখন একটু পেছন ফিরে দেখা যাক ফেলে আসা দিনগুলো।

চলতি বছর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় হারিয়েছে বেশ ক’জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে। যারা কোনোদিন ফিরবেন না। চিরদিনের জন্য পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। চলতি বছরে ঘটে যাওয়া সেই হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো নিয়ে এই প্রতিবেদন।

বছরের শুরুর দিকে (১৭ জানুয়ারি) রাতে মেসের নিজ কক্ষে বৃষ্টি সরকার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। মৃত শিক্ষার্থী বৃষ্টি সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি সাতক্ষীরায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কর্ণকাঠির এমএম টাওয়ারের ষষ্ঠতলায় একটি মেসে থাকতেন।

৯ জুন রাত ১১টার দিকে শেফা নূর ইবাদি নামের এক ছাত্রীকে হলের পাঠকক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। শেফা নূর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষে পড়তেন। তাঁর বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায়। তিনি বঙ্গমাতা হলের ১৪১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন।

৬ সেপ্টেম্বর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অর্পনা দাস শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাড়িতে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ করেন। হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

৩০ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা ফৌজিয়া মিম । বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাসচাপায় তিনি নিহত হন। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।

এছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহে ছয়টি দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও মাইসা ফৌজিয়া মিম।

এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”