সচিবালয়ে আগুনের প্রাথমিক প্রতিবেদন: তদন্তে যা উঠে এলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গেটে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি জানান, লুজ কানেকশনে বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে সচিবালয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ভয়াবহ এ আগুনে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

তবে প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত বৈদ্যুতিক গোলযোগের (স্পার্ক) বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর দিনগত মধ্য রাতে সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে আগুন লাগে।

আগুনে ছয় থেকে নয় তলার প্রায় সবকিছুই পুড়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাঁচ মন্ত্রণালয়।
এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তদন্ত কমিটি বুয়েট, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করে।
বুয়েট বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণ

আগুনের উৎপত্তিস্থল ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলার লিফট লবি সংলগ্ন করিডোর থেকে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণে যার সত্যতা পাওয়া যায়। আগুনের সূত্রপাত ২৬ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৩০ থেকে ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে। প্রথম যখন আগুন শনাক্ত করা হয়, ফায়ার ফাইটারদের সাক্ষ্য ও উত্তর দিক থেকে নেওয়া ভিডিও অ্যানালাইসিস করে দেখা যায়, আনুমানিক রাত ২টার সময় আগুন ডেভেলপ স্টেজে (বিকশিত স্তর) চলে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সাধারণত সকেট-প্লাগে লুজ কানেকশন, ক্যাবলে ফল্টি জয়েন্ট, কনট্যাস্ট সারফেসে অক্সিডেশন ইত্যাদি কারণে বৈদ্যুতিক স্পার্ক হয়ে থাকে। উক্ত স্পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়া ও আগুনের উৎপত্তি হয়, যা ক্রমশ ফ্ল্যাশওভারে পরিণত হয়। এটি একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এ ধরনের অগ্নিনির্বাপণে ব্যবহৃত পানির প্রবাহে ভস্মীভূত ধ্বংসাবশেষের অধিকাংশ আলামত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভবনে কোনো ধরনের ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম না থাকায় প্রাথমিক ও বিকশিত অবস্থায় আগুন শনাক্ত করা যায়নি।

টানেল সদৃশ্য করিডোরের ফলস সিলিং দাহ্য ও অতি দাহ্য পদার্থ দিয়ে আচ্ছাদিত থাকায় আগুন অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের লিফট ও সিঁড়ির অপরিকল্পিত নকশার কারণে চিমনি ইফেক্ট সৃষ্টি হয়, যাতে অগ্নি শিখা দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী প্রপাগেশন করে ৬ তলা থেকে ৭, ৮ ও ৯ তলায় ছড়িয়ে যায়, যা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

করিডোরে আগুন প্রবাহকালে পাশের রুমগুলোর দরজা পুড়ে যায়। রুমের ভেতরে দাহ্যবস্তু (কাগজ, কাপড়, ফোম, কার্পেট, ফার্নিচার ইত্যাদি) রক্ষিত থাকার কারণে রুমে আগুন প্রবেশ করে। বিভিন্ন রুমে ফুয়েলের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হবার কারণে বিভিন্ন রুম বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬ তলার ৫২৪ নম্বর এবং ৮ তলার ৭০৪ নম্বর কক্ষ দুটির এয়ারকন্ডিশন থেকে রেফ্রিজারেন্ট নির্গত হয়ে প্রজ্বলনের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতীয়মান হয়।

সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল কর্তৃক কোনো ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে নাশকতামূলকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও বিস্তার করা হয়েছে কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।

আগুনের ক্ষয়ক্ষতি ও মাত্রা বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ দল প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের তিনটি সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে প্রাথমিকভাবে শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়।

শনাক্তকরণের কাজে তিনটি আধুনিক বিস্ফোরক ডিটেকশন ডিভাইস- প্রোর্টেবল এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইউকে), আইটেমাইজার এক্সপ্লোসিভট্রেস ডিটেক্টর (জার্মানি) ও ম্যাস স্পেকট্রোমিটার (ইউএসএ) ব্যবহার করা হয়েছে।

মাল্টি-চ্যানেল ফ্লোরিস্কেন টেকনোলজি, আয়ন মবিলিটি স্পেকট্রোমিটার (আইএমএস), আয়ন ট্রাপ ম্যাস স্পেকট্রোমিটারি পদ্ধতি ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। চারটি নমুনা পরীক্ষা করে কোনো বিস্ফোরকের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

সংগ্রহকৃত একটি নমুনা বুয়েটের ল্যাবে পরীক্ষা করে কোনো রকম ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করে কোনো ধরনের বিস্ফোরকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অগ্নিকাণ্ডের উৎপত্তিস্থল নিশ্চিতকরণে অধিকতর পরীক্ষার জন্য ৩০ ডিসেম্বর পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ

ফায়ার সার্ভিসের প্রথমে তিনটি দল ৭ নম্বর ভবনের পশ্চিম অংশের ষষ্ঠ তলার সিঁড়িতে ১টা ৫২ মিনিটে, মধ্যে খানের সিঁড়িতে ১টা ৫৮ মিনিটে এবং পূর্বাংশের সিঁড়িতে ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার ফাইটিং শুরু করে। ফায়ার ফাইটারদের ভাষ্যমতে উক্ত সময়ে আগুন ষষ্ঠ তলার করিডোরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিকশিত পর্যায়ে ছিল।

অগ্নিনির্বাপণ ও রেসকিউ অপারেশন পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও স্পেশাল গাড়ি (উঁচু মই সংযুক্ত ফায়ার গাড়ি) প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা থাকায় গতানুগতিক ফায়ার ফাইটিং করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শুধুমাত্র দুটি স্পেশাল গাড়ি (উঁচু মই সংযুক্ত গাড়ি) ৭ নম্বর ভবনের দক্ষিণ দিকে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

প্রতিটি ফ্লোরের করিডোরে চারটি কলাপসিবল গেট তালা দিয়ে আটকানো ছিল এবং সেখানে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ সৃষ্টির ফলে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হয়েছে।

প্রতিটি ফ্লোরে ইন্টেরিয়র ডিজাইন অতীব মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়, যা উচ্চ মাত্রার দাহ্যবস্তু এবং আগুন বিস্তারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতি তলায় অধিকাংশ রুমে উচ্চ ও সহজ দাহ্যবস্তু দ্বারা কক্ষগুলো বিভাজন করা ছিল। প্রত্যেকটা ফলস সিলিং-এর ওপরে বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তারসহ অন্যান্য তার বিদ্যমান ছিল। কোনো কোনো রুমের পরিমাপ অনুপাতে অপেক্ষাকৃত বেশি ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, কাগজপত্র ও আসবাবপত্র বিদ্যমান ছিল।

৭ নম্বর ভবনটিতে অ্যালার্ম অ্যান্ড ডিটেক্টর সিস্টেম, কন্ট্রোল প্যানেল, অটো স্প্রিংকলার ইত্যাদি অগ্নি নিরাপত্তার সিস্টেম ছিল না এবং কোনো কোনো ফ্লোরে হোজপাইপ সিস্টেম থাকলেও তা ছিল অকার্যকর এবং নজেলবিহীন। ফলে ম্যানুয়ালি লাইন খুলে প্রতিটি ফ্লোরে ফায়ার সার্ভিসের হোজপাইপ লে-আউট করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছিল সময়সাপেক্ষ।

সচিবালয়ের অভ্যন্তরে তিনটি আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভারের মজুদ পানি পর্যাপ্ত না হওয়ায় দূরবর্তী স্থান- ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন ও গেটের বাইরে বিশেষ পানিবাহী গাড়ি থেকে অনেক হোজপাইপ লে-আউটের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়েছে। এছাড়া ওয়াসা থেকেও পানি সরবরাহ করা হয়েছে।

৭ নম্বর ভবনের ৬, ৭, ৮ ও ৯ তলায় দ্রুত গতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রথমে ষষ্ঠ তলায় আগুন নির্বাপণ করতে হয়েছে, পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলায় আগুন নির্বাপণে সময়ের প্রয়োজন হয়েছে।

২৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ১১টা ৪৫ মিনিটে নির্বাপণ সম্পন্ন হয়।

তদন্ত কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম

আগুনের উৎপত্তিস্থল থেকে ৩০ ডিসেম্বর যে সব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে বিভিন্ন বিস্ফোরক ডিটেকশন ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী।

ঘটনা পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ৭ নম্বর ভবন এবং আশপাশের ভবনের সব সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ।

আগুনটি বৈদ্যুতিক উৎস থেকে শুরু হয়েছিল কিনা তা অধিকতর রূপে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দগ্ধ বৈদ্যুতিক ক্যাবল সেগমেন্ট, জয়েন্ট বক্স এবং ব্রেকারগুলোর নমুনার ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: এক্স-রে রেডিওগ্রাফ, মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা এবং পোড়া ইনসুলেটরের রাসায়নিক গঠনের জন্য ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি করেও আগুনের কারণ সম্পর্কে সূত্র পাওয়া যেতে পারে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বুয়েট পরামর্শক দল।

প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত বৈদ্যুতিক গোলযোগের (স্পার্ক) বিষয়টির সঙ্গে অন্যকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।




প্রধান উপদেষ্টার ইঙ্গিতের আলোকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি : সিইসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার তার বক্তব্যে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন সেটির আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে- এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট হাতে পেলেই ধারণা করা যাবে, নির্বাচন কবে হবে। আমরা নির্বাচনি প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কাজ করছি।’

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বড় রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছে না। তারা প্রথম থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করে আসছে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়; বরং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। আশা করছি, মার্চ মাসের দুই তারিখ ভোটার তালিকা সম্পন্ন হবে। এরপর বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

সিইসি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সূত্র : বিবিসি




মির্জাগঞ্জ সড়কে কলেজ ছাত্র নিহত এর ঘটনায় আটক ৩

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক কলেজ ছাত্র, আহত হয়েছেন তার দুই বন্ধু। শনিবার সন্ধ্যায় মির্জাগঞ্জ সড়কের ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন সিকদার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কলেজ ছাত্র নেয়ামুল হক নাফিস পটুয়াখালী জেলার মুন্সেফ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আইনজীবী নাজমুল হকের ছেলে এবং ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নাফিস তার দুই বন্ধু সাফিন ও ফারাবি হাসানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় নাফিস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত সাফিন ও ফারাবিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পটুয়াখালী ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার সহায়তায় প্রাইভেটকার চালক মো. শহিদুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার চামটা গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম (৪২), পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের মো. মোহন সিকদার (৪১) এবং সিদ্দিক সিকদার।

পটুয়াখালী সদর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৫৪/২৪।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাফিসের মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আতশবাজি ও ফানুসের আগুনে রাজধানীর একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ড

ইংরেজী নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি ও ফানুসের আগুনে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার মধ্যে মিরপুর, ধানমন্ডি, ও ল্যাবএইড সংলগ্ন এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরে ডাস্টবিনে আগুন ধরলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়। তবে ধানমন্ডির একটি দোকানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় একটি ডাস্টবিনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়, তবে আগুন নিভে যায়। অন্যদিকে, রাত ১২টা ৫৩ মিনিটে ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালের পিছনে একটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি, তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইংরেজী নববর্ষের আনন্দ উদযাপন উপলক্ষে আতশবাজি ও ফানুসের কারণে এ আগুনের সৃষ্টি হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শেবাচিমে পরিচালকের কঠোর নজরদারীতে শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন এবং শৃঙ্খলিত হয়ে উঠেছে। সকাল বেলা এখন আর হকারদের ভিড় কিংবা যানবাহনের জটলা দেখা যায় না। দুপাশের মাঠে ময়লা আবর্জনার স্তূপও নেই। হাসপাতালের ভিতরে দেয়াল, ফ্লোর এবং সিঁড়িতে পান-সিগারেটের দাগও দেখা যাচ্ছে না। চমৎকার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রোগী ও তাদের স্বজনদের চোখে স্বস্তির অনুভূতি স্পষ্ট। তবে, বাইরের পরিবেশ কিছুটা উন্নত হলেও, কিছু অনিয়ম এখনও হাসপাতালের ভিতরে বিদ্যমান।

মঙ্গলবার ( ৩১ ডিসেম্বর ) সকালে সরেজমিনে ঘুরে শেবাচিমে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তবে, এখানকার কিছু বিভাগে এখনও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। বিশেষত টিকিট কাউন্টার, মেডিসিন, ক্যান্সার এবং চক্ষু বিভাগে অব্যবস্থাপনা চলছে। এসব বিভাগের প্রধানরা এখনও পুরনো সরকারের মনোনীত লোকজন, এবং টেকনোলজিস্টের অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের সুযোগে অযোগ্যরা এসব বিভাগ দখল করে রেখেছে।

হাসপাতালের চত্বর ঘুরে দেখা যায় টিকিট কাউন্টারেও কিছু অনিয়ম চলছে। এখানে মোট সাতটি কাউন্টার থাকার কথা, কিন্তু টিকিট বিক্রি করছেন মাত্র চারজন। টিকিটের মূল্য ১০ টাকা, তবে ভর্তি রোগীদের জন্য ১৫ টাকা লেখা রয়েছে দেয়ালে। অনেক রোগী তাদের অবস্থা জানানোর পরেও সঠিকভাবে পরিষেবা পাচ্ছেন না। কিছু দিন আগে, একটি কাউন্টারে একটি মহিলাকে ২০ টাকা নেওয়ার পর টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। টিকিট কাউন্টার এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে স্বজনপ্রীতির কারণে রোগীরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন।

এছাড়া, হাসপাতালের ভিতরে রোগী ও স্বজনদের কিছু অসচেতনতাও লক্ষ্য করা গেছে। পিক বা থুথু যত্রতত্র ফেলছে তারা, এবং তাদের অভিযোগ, ডাস্টবিনের অভাবে এমনটি হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের পরামর্শ অনুযায়ী, টিকিট কাউন্টার হাসপাতাল ভবনের বাইরে সরিয়ে নেয়া হলে সুবিধা হতো। এছাড়া, হাসপাতাল চত্বরে আরও পাবলিক টয়লেট এবং সড়ক সংলগ্ন টিকিট কাউন্টার স্থাপন করা যেতে পারে।

বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট দূর করা হলে, হাসপাতালের কার্যক্রম আরও উন্নত হবে। এ বিষয়ে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, “বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং টেকনোলজি সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমি যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যাগুলি সমাধান করব।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিপিএল দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত নগরবাসী: ৬টি এলইডি মনিটরের ৫টি অকেজো

বরিশালে বিপিএল-২০২৪ এর উদ্বোধনী খেলা শুরু হলেও, এবারের আয়োজনে নগরবাসী একসাথে খেলা উপভোগ করতে পারছেন না। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) ৬টি এলইডি মনিটরের মধ্যে ৫টি বর্তমানে অকেজো হয়ে পড়ে আছে, যার ফলে জনগণ খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গতকাল ফরচুন বরিশাল বনাম রাজশাহী রয়্যালস এর উদ্বোধনী খেলা শুরু হওয়ার পর, এসব মনিটরে খেলা দেখানোর ঐতিহ্য আর দেখা যাচ্ছে না।

২০১৯ সালে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরীর বিভিন্ন জনবহুল স্থানে এলইডি মনিটর স্থাপন করেছিল। রুপাতলী, নথুল্লাবাদ, বিবির পুকুর পাড়, এ্যানেক্স ভবন, বেলস পার্ক এবং নগর ভবন ছিল এই মনিটরগুলোর স্থাপন স্থান। এসব মনিটরে নগরবাসী বিপিএলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন। বিশেষ করে বিপিএলের সময় ফরচুন বরিশালের ম্যাচগুলো দেখানো হলে হাজার হাজার মানুষ একসাথে খেলা উপভোগ করতেন।

কিন্তু, এসব মনিটর স্থাপনের দুই-তিন বছরের মধ্যেই তদারকির অভাবে একে একে নষ্ট হতে শুরু করে। ঘূর্নিঝড় রিমাল এবং ৫ই আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর এ্যানেক্স ভবনের মনিটরটি পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে মোট ৬টি এলইডি মনিটরের মধ্যে একমাত্র নগর ভবনের মনিটরটি অবশিষ্ট রয়েছে, তবে সেটিও ত্রুটিপূর্ণ এবং যেকোন সময় বিকল হতে পারে বলে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ শাখার প্রধান ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একে একে মনিটরগুলো বিকল হয়েছে এবং এগুলো ঠিক করার কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এগুলো ঠিক করা হবে কিনা, তা নিশ্চিত না। তবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।”

এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস বলেন, “বরিশালের সাধারণ মানুষ বিগত দিনে এই মনিটরে খেলা উপভোগ করেছে। খেলার দিনগুলো ছিল উৎসবমুখর। বর্তমানে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে একসাথে খেলা দেখার আনন্দ থেকে। আমি মনে করি, নগরবাসীর বিনোদনের স্বার্থে মনিটরগুলো ঠিক করা উচিত।”

এ পরিস্থিতি নিয়ে নগরবাসীর মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে শহরের জনগণ আবারও একসাথে খেলা উপভোগ করতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল নগরীতে চলছে পানির সংকট

বরিশাল নগরীজুড়ে ভয়াবহ পানির সংকট চলছে, যা চাহিদার ৬০ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানির সংকট তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি, নগরীর নথুল্লাবাদ ও কাজীপাড়ার পাম্প হাউজ দুটি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে, কারণ এখানকার গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠছে না।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) সূত্রে জানা গেছে, নগরীর দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ লিটার, যেখানে ৩৮টি পাম্পের মাধ্যমে ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমের কারণে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমে গেছে এবং গড়ে ১০ লাখ লিটার পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, বরিশালের বেশিরভাগ এলাকাতে পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, নগরীতে ঢালাওভাবে গভীর নলকূপ খনন, কাঁচা নালা এবং আরসিসি ড্রেন নির্মাণের ফলে পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। তারা দাবি করছেন, গত কয়েক বছরে বৃষ্টির ঘাটতি ও প্রকৃতির বিরূপ আচরণ পানির স্তর কমানোর অন্যতম কারণ। এই সমস্যা বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে প্রকট হয়ে উঠেছে, এবং চলতি মাসে পানির উত্তোলন অনেকাংশে কমে গেছে।

পানির সংকট মোকাবেলা করতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও প্লান্ট দুটি গত পাঁচ বছরে বন্ধ ছিল, এখন সেগুলো চালু করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং প্লান্ট চালু করতে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে।

২০০৩-০৪ অর্থবছরে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এবং ২শ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে প্রকল্পটি সম্পন্ন হলেও, এটি সরাসরি নগরবাসীর কাছে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না করে শুধুমাত্র ওভারহেড ট্যাংকগুলোতে পানি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যার ফলে প্রকল্পটি কার্যকর হয়নি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এই প্লান্ট দুটি চালু করতে ব্যাপক চেষ্টা করছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্লান্ট দুটি চালু করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফিরে দেখা বরিশাল: রাজনৈতিক উত্তেজনা, সহিংসতা ও গণঅভ্যুত্থান

গত এক বছরের মধ্যে বরিশালে ঘটে গেছে নানা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, যা প্রভাব ফেলেছে স্থানীয় রাজনীতি, সামাজিক পরিস্থিতি ও জনগণের জীবনে। ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু হয়ে ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদের পতনে শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীদের পলায়ন—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বরিশালও ছিল এসব ঘটনাপ্রবাহের অংশ।

নির্বাচন ও বরিশালের আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব ::

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বরিশাল আওয়ামী লীগে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য কর্ণেল অবঃ জাহিদ ফারুক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য সালাউদ্দিন রিপনের মধ্যে ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এতে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহের সমর্থন পেয়ে স্যালাউদ্দিন রিপন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন, যা আওয়ামী লীগে বিভক্তির সূচনা ঘটায়। সাধারণ ভোটাররা এ নির্বাচন বয়কট করে সরকারের প্রতি তাদের অনাস্থা প্রকাশ করে।

বিস্ফোরণ, ধর্ষণ এবং শ্রমিক সংঘর্ষ ::

বরিশালে একের পর এক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। ১৩ ফেব্রুয়ারী গৌরনদী উপজেলায় বোমা উদ্ধার করতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে পুলিশ সদস্যসহ তিনজন আহত হয়। মার্চে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশের এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ। এই ঘটনায় বরিশালের বানারিপাড়া উপজেলার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলী হোসেনও জিম্মি হন। এরপর ২১ এপ্রিল বাকেরগঞ্জের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়, যা বরিশালে ব্যাপক আলোচিত হয়।

এদিকে ২৩ মে ফরচুন সু হাউজে শ্রমিকদের আন্দোলনে আনসার সদস্যরা গুলি চালায়, যাতে ৫ শ্রমিক আহত হয়। এর কয়েকদিন পর, ১২ জুন কাউনিয়ায় একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে, যেখানে বাবা তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন।

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান ::

জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা আন্দোলন ও বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এক পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। ১ আগস্ট থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে, যার ফলে সরকার পালিয়ে যায় এবং ৮ আগস্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। এতে বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল চৌধুরী নিহত হন এবং শহরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে।

গ্রেফতার, বিস্ফোরক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা ::

অগাস্টে বরিশাল আসনের সাবেক সাংসদ জাহিদ ফারুক শামিন গ্রেফতার হন। এরপর কয়েকটি গ্রেনেড উদ্ধার হওয়া, ১ অক্টোবর বিএনপির অফিসে আক্রমণ এবং ২৩ অক্টোবর মঈন আব্দুল্লাহর গ্রেফতার—এই ঘটনাগুলোর কারণে বরিশালে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ডিসেম্বরে বরিশালের সড়ক দুর্ঘটনা এবং স্প্রীডবোট সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং বরিশালবাসীর প্রত্যাশা ::

গত এক বছরে বরিশালের প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর, বরিশালবাসী তাদের সুসংহত ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী। তবে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম এখনও হতাশাজনক, যা জনগণের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা তারেক রহমানের

ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৩১ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “খ্রিস্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে আমি দেশ-বিদেশের সবাইকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। কামনা করি সবার জীবনে খ্রিস্টীয় নববর্ষ অনাবিল আনন্দ, সুখ, স্বাচ্ছন্দ, শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনুক। শুভ নববর্ষ।”

তারেক রহমান নতুন বছরের জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, “নতুন বছরে আমরা দেশের সামগ্রিক রূপান্তরের একটি পর্বে উপনীত হতে পারবো বলে আশা রাখি। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আসুন আমরা রাষ্ট্র ও সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একযোগে কাজ করি।”

তিনি আরও বলেন, “অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। চিরদিনের জন্য দূর হয়ে যাক সব অন্যায়-উৎপীড়ন, নির্যাতন। আমরা এমন একটি জাতি নির্মাণের প্রত্যাশা করছি, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ স্বাধীন থাকবে।”

তারেক রহমান ২০২৪ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, “গেল বছরটি এখন আমাদের মনে সতর্ক হয়ে থাকবে। গত বছরের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা, ছাত্র-জনতার আত্মদান এবং অধিকার হারানোর যন্ত্রণা আগামী বছরে আমাদের একদিকে যেমন বেদনার্ত করবে, অন্যদিকে নতুন উদ্যোমে শান্তি, সম্প্রীতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনায় আমাদের উদ্বুদ্ধ করবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হবে, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ শক্তিশালী করা ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনে একযোগে কাজ করা।”

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্রের আন্দোলনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণবিরোধী পরাজিত শক্তি এতদিন জনগণের সকল অধিকারকে বন্দী করে রেখেছিল। এমতাবস্থায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তির মিলিত প্রচেষ্টায় বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করতে হবে। হৃত গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য আমি সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 থার্টি ফার্স্ট নাইটে বরিশালজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা, মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট

থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকে কেন্দ্র করে বরিশাল শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) এই রাতের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে নগরবাসী সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে নতুন বছর উদযাপন করতে পারে।

এবারের থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে পুরো শহরে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং নগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের নজরদারি থাকবে, পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হবে। পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ফানুস ও আতশবাজি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে।

নগরীজুড়ে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সও অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে ফানুস ও আতশবাজি থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে বরিশাল ফায়ার স্টেশনকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং র‌্যাবও এদিন কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এছাড়া, উন্মুক্ত স্থানে কোনো অনুষ্ঠান না হওয়ার জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশন ও পুলিশ কমিশনার কর্তৃক আরও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে থার্টি ফার্স্ট নাইটে বরিশালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম নিরাপত্তা ব্যবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। যদিও কোনো গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নগরীর জন্য বিশেষ কোনো হুমকি সঙ্কেত পাওয়া যায়নি, তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম