স্ট্যাটাস দিলেন পলাতক মনিরুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে খোঁজ ছিল না আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মো. মনিরুল ইসলামের। এরপর ১৩ আগস্ট পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে হঠাৎ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন মনিরুল ইসলাম।

তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার ২০২৫।’

এ নিউজ লেখা পর্যন্ত তার স্ট্যাটাসটি সাতান্নটি লাইক, উনত্রিশটি কমেন্ট ও একটি শেয়ার হয়। এতে অনেকেই তার পক্ষে কমেন্ট করেন। আবার কেউ তার বিরুদ্ধে লেখেন।

আল মামুন নামে একজন লিখেছেন, ‌‘কিরে ভণ্ড হাজার হাজার নিরীহ মানুষদের জঙ্গি নাটক সাজিয়ে খুন করেছত। এই মুহূর্তে তোমাকে দেশে খুব প্রয়োজন।’

মো. রাজু পারভেজ মল্লিক নামে একজন লিখেছেন, ‌‘নতুন বছরের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নিবেন ভাই।’




একবছরে বিশ্ব ক্রিকেটে সেরা পারফর্মার যারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সূর্য ডুবেছে ২০২৪ সালের। ২০২৫–এর নতুন ভোর হয়েছে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনেও। আরেকটি ব্যস্ততম সূচিতে ডুব দেওয়ার আগে বিগত এক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হালখাতায় নজর দেওয়া যাক। ওই সময়ে ছেলে ও মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নতুন দুই চ্যাম্পিয়ন পেয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে ব্যাট-বলে বছরের সেরা পারফর্মার কারা, সেটি এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রে।

পুরুষ ক্রিকেটে ব্যাট হাতে টেস্টে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ তারকা জো রুট। যেখানে তার সঙ্গে দারুণ লড়াই হয়েছে ভারতীয় ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালের। এ ছাড়া ওয়ানডেতে কুশল মেন্ডিসসহ শ্রীলঙ্কান ব্যাটারদের আধিপত্য এবং টি-টোয়েন্টিতে সহযোগী দেশগুলোর ব্যাটাররাই তালিকায় সবার ওপরে। কারণ ওই সময়ে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাইরে ফরম্যাটটিতে খুব বেশি ম্যাচ খেলেনি।

একইভাবে বোলিং পারফরম্যান্সেও একক আধিপত্য নেই কারও। টেস্টে দাপুটে অবস্থান ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ’র। ওয়ানডেতে সমান উইকেট শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও কানাডার ডিলন হেইলিগারের। টি-টোয়েন্টি বোলিংয়ের তালিকায় শীর্ষ তিনে হাসারাঙ্গা থাকলেও, তার ওপরে হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বোলার।




রাজধানীতে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে শিশুসহ দগ্ধ ৫

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাজধানীতে থার্টিফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে পৃথক ঘটনায় শিশুসহ পাঁচ জন দগ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে আনা হয়। দগ্ধরা হলেন– ফারহান (৮), সিফান মল্লিক (১২), সুমাত (২০), সেন্টু (৪৫) ও তফসির (৩)।

বুধবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।




বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে এই মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

প্রতি বছরের মতো এবারও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে। এবারের বাণিজ্য মেলায় প্রথমবারের মতো অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো ই-টিকিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ছাড়ে উবার সার্ভিস।

মেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের সম্মানার্থে তৈরি করা হয়েছে ‘জুলাই চত্বর’ ও ‘ছত্রিশ চত্বর’। এছাড়া দেশের তরুণ সমাজকে রপ্তানি বাণিজ্যে উদ্বুদ্ধ করতে তৈরি করা হয়েছে ইয়ুথ প্যাভিলিয়ন।




বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্পষ্ট বার্তা ‘আগে বিচার ও সংস্কার’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা বলেছেন, ‘যারা হাসিনার মতো স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করতে পেরেছে, তারা দেশও চালাতে পারবে। তরুণেরা পেরেছে, পারবে। স্বৈরাচারের দোসরদের জায়গা এ দেশে আর হবে না।’

তারা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের বিচার ও দেশ সংস্কারের আগে কোনো নির্বাচন হবে না।’

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন নেতারা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সাধারণ জনতা ও শিক্ষার্থীদের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়। সমাবেশস্থল পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। মিছিল আর স্লোগানে উত্তাল ঢেউ খেলে। শহীদ মিনার এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনুষ্ঠান বিকেল ৩টায় হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় এক ঘণ্টা পর।

এক মিনিট নীরবতা পালন হয় জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে। মঞ্চের দু’পাশে আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের জন্য সংরক্ষিত জায়গা রাখা হয়।

মঞ্চ থেকে থেকে মাইকে স্লোগান দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। স্লোগান দেন ‘ক্ষমতা না জনতা? জনতা, জনতা; গোলামী না আজাদী? আজাদী, আজাদী; দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা; মুজিববাদ মুর্দাবাদ, মুজিবাদী সংবিধান থাকবে না রে থাকবে না; ২৪ এর বাংলায় মুজিবাদের ঠাঁই হবে না; জুলাইয়ের প্রেরণা দিতে হবে ঘোষণা, এই মুহূর্তে দরকার, বিচার আর সংস্কার’ ইত্যাদি।

সমাবেশে আগত সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের হাতে জুলাই-আগস্টের স্মৃতি ধারণ করে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার দেখা গেছে।




বিয়ের পিঁড়িতে অপু বিশ্বাস!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের দেখা মিলল নববধূর সাজে! তবে কি নতুন করে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন ঢালিউড চিত্রনায়িকা l
উত্তরটি হচ্ছে হ্যাঁ, নববধূর সাজেই দেখা দিয়েছেন এ অভিনেত্রী। কিন্তু সেটি নতুন করে বিয়ের জন্য নয়। মূলত একটি ব্রাইডাল ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন। এ জন্যই নববধূর সাজে সেজেছিলেন অপু বিশ্বাস।
সম্প্রতি রাজধানীর যমুনা গ্রুপের সিস্টার কনসার্ন ভোগ লাইফস্টাইল লাউঞ্জ ব্রাইডাল মেকআপ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের যাত্রা শুরুর ঘোষণা দেয়। এ উপলক্ষে একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়েছে। যেখানে মডেল হয়েছিলেন জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস, সাজ্জাদ হোসাইন, মিমি ও লাবণ্য।
এ বিজ্ঞাপনের জন্যই বিয়ের সাজে সেজেছিলেন। আর সেই সাজে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন অপু বিশ্বাস। সাজ, পোশাক, অলংকার বিশেষভাবে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের নজর কেড়েছে।

ঢালিউড ক্যুইনকে নববধূর সাজে ফুটিয়ে তোলার জন্য স্টাইলিং অ্যান্ড কোরিওগ্রাফার, সিনেমাটোগ্রাফার, ফটোগ্রাফার এবং সেট ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেছেন যথাক্রমে মাহফুজ কাদেরি, সাইদ শাহিউর হুসাইন, মোবারক ফায়সাল এবং কিবরিয়া চঞ্চল।

প্রসঙ্গত, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রায়ই শিরোনামে জায়গা করে নিয়ে থাকেন অপু বিশ্বাস। বিশেষ করে দাম্পত্যজীবনে চিত্রনায়ক শাকিব খান ও ছেলে আব্রাম খান জয়কে নিয়ে বেশি আলোচনা হয়ে থাকে। যদিও নায়কের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে তার।




দুই সচিবকে ওএসডি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জামিলা শবনমের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পদায়ন করা হয়।

এদিকে, পৃথক এক প্রজ্ঞাপনে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।




আরও ৩ মাস সময় পাচ্ছে দুর্বল ব্যাংকগুলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গ্যারান্টির আওতায় ধার পাওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলো প্রথম ধাপের ঋণ শোধ করতে পারেনি। ফলে ধার শোধে ব্যাংকগুলোকে আরও তিন মাস সময় বাড়িয়ে দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকে সবল ব্যাংক থেকে ধার নিতে গ্যারান্টি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।

এই ব্যাংকগুলো প্রথম ধাপে সবল ব্যাংক থেকে ৯০০ কোটি টাকার গ্যারান্টি পায়। শর্ত ছিল তিন মাসে এ ধার শোধ করতে হবে। তবে তিন মাস সময় পার হয়ে গেলেও ব্যাংকগুলো অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে ব্যাংকগুলোকে ঋণ শোধে আরও তিন মাস সময় বাড়িয়ে দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে এমন একটি প্রস্তাবনা গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করাও হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ প্রায় ডজনখানেক ব্যাংক থেকে কয়েকটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নামে-বেনাম ঋণ বের করে নেয়। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে নতুন গভর্নর হিসেবে যোগদান করে ড. আহসান এইচ মনুসর। এরপর ব্যাংকগুলোর আসল চিত্র বেরিয়ে আসে। ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে— এখন গ্রাহকের টাকাও দিতে পারছে না।

এমন পরিস্থিতি গত সেপ্টেম্বরে তারল্য সংকটে পড়া ব্যাকগুলোকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে তহবিল পেতে গ্যারান্টি পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই গ্যারান্টির মাধ্যমে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো ভালো ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিতে পারে।




সচিবালয়ে আগুনের প্রাথমিক প্রতিবেদন: তদন্তে যা উঠে এলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গেটে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি জানান, লুজ কানেকশনে বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে সচিবালয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ভয়াবহ এ আগুনে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

তবে প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত বৈদ্যুতিক গোলযোগের (স্পার্ক) বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর দিনগত মধ্য রাতে সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে আগুন লাগে।

আগুনে ছয় থেকে নয় তলার প্রায় সবকিছুই পুড়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাঁচ মন্ত্রণালয়।
এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তদন্ত কমিটি বুয়েট, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করে।
বুয়েট বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণ

আগুনের উৎপত্তিস্থল ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলার লিফট লবি সংলগ্ন করিডোর থেকে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণে যার সত্যতা পাওয়া যায়। আগুনের সূত্রপাত ২৬ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৩০ থেকে ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে। প্রথম যখন আগুন শনাক্ত করা হয়, ফায়ার ফাইটারদের সাক্ষ্য ও উত্তর দিক থেকে নেওয়া ভিডিও অ্যানালাইসিস করে দেখা যায়, আনুমানিক রাত ২টার সময় আগুন ডেভেলপ স্টেজে (বিকশিত স্তর) চলে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সাধারণত সকেট-প্লাগে লুজ কানেকশন, ক্যাবলে ফল্টি জয়েন্ট, কনট্যাস্ট সারফেসে অক্সিডেশন ইত্যাদি কারণে বৈদ্যুতিক স্পার্ক হয়ে থাকে। উক্ত স্পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়া ও আগুনের উৎপত্তি হয়, যা ক্রমশ ফ্ল্যাশওভারে পরিণত হয়। এটি একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এ ধরনের অগ্নিনির্বাপণে ব্যবহৃত পানির প্রবাহে ভস্মীভূত ধ্বংসাবশেষের অধিকাংশ আলামত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভবনে কোনো ধরনের ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম না থাকায় প্রাথমিক ও বিকশিত অবস্থায় আগুন শনাক্ত করা যায়নি।

টানেল সদৃশ্য করিডোরের ফলস সিলিং দাহ্য ও অতি দাহ্য পদার্থ দিয়ে আচ্ছাদিত থাকায় আগুন অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের লিফট ও সিঁড়ির অপরিকল্পিত নকশার কারণে চিমনি ইফেক্ট সৃষ্টি হয়, যাতে অগ্নি শিখা দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী প্রপাগেশন করে ৬ তলা থেকে ৭, ৮ ও ৯ তলায় ছড়িয়ে যায়, যা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

করিডোরে আগুন প্রবাহকালে পাশের রুমগুলোর দরজা পুড়ে যায়। রুমের ভেতরে দাহ্যবস্তু (কাগজ, কাপড়, ফোম, কার্পেট, ফার্নিচার ইত্যাদি) রক্ষিত থাকার কারণে রুমে আগুন প্রবেশ করে। বিভিন্ন রুমে ফুয়েলের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হবার কারণে বিভিন্ন রুম বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬ তলার ৫২৪ নম্বর এবং ৮ তলার ৭০৪ নম্বর কক্ষ দুটির এয়ারকন্ডিশন থেকে রেফ্রিজারেন্ট নির্গত হয়ে প্রজ্বলনের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতীয়মান হয়।

সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল কর্তৃক কোনো ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে নাশকতামূলকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও বিস্তার করা হয়েছে কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।

আগুনের ক্ষয়ক্ষতি ও মাত্রা বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ দল প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের তিনটি সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে প্রাথমিকভাবে শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়।

শনাক্তকরণের কাজে তিনটি আধুনিক বিস্ফোরক ডিটেকশন ডিভাইস- প্রোর্টেবল এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইউকে), আইটেমাইজার এক্সপ্লোসিভট্রেস ডিটেক্টর (জার্মানি) ও ম্যাস স্পেকট্রোমিটার (ইউএসএ) ব্যবহার করা হয়েছে।

মাল্টি-চ্যানেল ফ্লোরিস্কেন টেকনোলজি, আয়ন মবিলিটি স্পেকট্রোমিটার (আইএমএস), আয়ন ট্রাপ ম্যাস স্পেকট্রোমিটারি পদ্ধতি ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। চারটি নমুনা পরীক্ষা করে কোনো বিস্ফোরকের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

সংগ্রহকৃত একটি নমুনা বুয়েটের ল্যাবে পরীক্ষা করে কোনো রকম ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করে কোনো ধরনের বিস্ফোরকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অগ্নিকাণ্ডের উৎপত্তিস্থল নিশ্চিতকরণে অধিকতর পরীক্ষার জন্য ৩০ ডিসেম্বর পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ

ফায়ার সার্ভিসের প্রথমে তিনটি দল ৭ নম্বর ভবনের পশ্চিম অংশের ষষ্ঠ তলার সিঁড়িতে ১টা ৫২ মিনিটে, মধ্যে খানের সিঁড়িতে ১টা ৫৮ মিনিটে এবং পূর্বাংশের সিঁড়িতে ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার ফাইটিং শুরু করে। ফায়ার ফাইটারদের ভাষ্যমতে উক্ত সময়ে আগুন ষষ্ঠ তলার করিডোরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিকশিত পর্যায়ে ছিল।

অগ্নিনির্বাপণ ও রেসকিউ অপারেশন পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও স্পেশাল গাড়ি (উঁচু মই সংযুক্ত ফায়ার গাড়ি) প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা থাকায় গতানুগতিক ফায়ার ফাইটিং করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শুধুমাত্র দুটি স্পেশাল গাড়ি (উঁচু মই সংযুক্ত গাড়ি) ৭ নম্বর ভবনের দক্ষিণ দিকে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

প্রতিটি ফ্লোরের করিডোরে চারটি কলাপসিবল গেট তালা দিয়ে আটকানো ছিল এবং সেখানে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ সৃষ্টির ফলে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হয়েছে।

প্রতিটি ফ্লোরে ইন্টেরিয়র ডিজাইন অতীব মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়, যা উচ্চ মাত্রার দাহ্যবস্তু এবং আগুন বিস্তারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতি তলায় অধিকাংশ রুমে উচ্চ ও সহজ দাহ্যবস্তু দ্বারা কক্ষগুলো বিভাজন করা ছিল। প্রত্যেকটা ফলস সিলিং-এর ওপরে বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তারসহ অন্যান্য তার বিদ্যমান ছিল। কোনো কোনো রুমের পরিমাপ অনুপাতে অপেক্ষাকৃত বেশি ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, কাগজপত্র ও আসবাবপত্র বিদ্যমান ছিল।

৭ নম্বর ভবনটিতে অ্যালার্ম অ্যান্ড ডিটেক্টর সিস্টেম, কন্ট্রোল প্যানেল, অটো স্প্রিংকলার ইত্যাদি অগ্নি নিরাপত্তার সিস্টেম ছিল না এবং কোনো কোনো ফ্লোরে হোজপাইপ সিস্টেম থাকলেও তা ছিল অকার্যকর এবং নজেলবিহীন। ফলে ম্যানুয়ালি লাইন খুলে প্রতিটি ফ্লোরে ফায়ার সার্ভিসের হোজপাইপ লে-আউট করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছিল সময়সাপেক্ষ।

সচিবালয়ের অভ্যন্তরে তিনটি আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভারের মজুদ পানি পর্যাপ্ত না হওয়ায় দূরবর্তী স্থান- ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন ও গেটের বাইরে বিশেষ পানিবাহী গাড়ি থেকে অনেক হোজপাইপ লে-আউটের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়েছে। এছাড়া ওয়াসা থেকেও পানি সরবরাহ করা হয়েছে।

৭ নম্বর ভবনের ৬, ৭, ৮ ও ৯ তলায় দ্রুত গতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রথমে ষষ্ঠ তলায় আগুন নির্বাপণ করতে হয়েছে, পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলায় আগুন নির্বাপণে সময়ের প্রয়োজন হয়েছে।

২৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ১১টা ৪৫ মিনিটে নির্বাপণ সম্পন্ন হয়।

তদন্ত কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম

আগুনের উৎপত্তিস্থল থেকে ৩০ ডিসেম্বর যে সব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে বিভিন্ন বিস্ফোরক ডিটেকশন ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী।

ঘটনা পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ৭ নম্বর ভবন এবং আশপাশের ভবনের সব সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ।

আগুনটি বৈদ্যুতিক উৎস থেকে শুরু হয়েছিল কিনা তা অধিকতর রূপে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দগ্ধ বৈদ্যুতিক ক্যাবল সেগমেন্ট, জয়েন্ট বক্স এবং ব্রেকারগুলোর নমুনার ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: এক্স-রে রেডিওগ্রাফ, মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা এবং পোড়া ইনসুলেটরের রাসায়নিক গঠনের জন্য ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি করেও আগুনের কারণ সম্পর্কে সূত্র পাওয়া যেতে পারে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বুয়েট পরামর্শক দল।

প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত বৈদ্যুতিক গোলযোগের (স্পার্ক) বিষয়টির সঙ্গে অন্যকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।




প্রধান উপদেষ্টার ইঙ্গিতের আলোকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি : সিইসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টার তার বক্তব্যে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন সেটির আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে- এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট হাতে পেলেই ধারণা করা যাবে, নির্বাচন কবে হবে। আমরা নির্বাচনি প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কাজ করছি।’

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বড় রাজনৈতিক দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছে না। তারা প্রথম থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি করে আসছে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়; বরং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। আশা করছি, মার্চ মাসের দুই তারিখ ভোটার তালিকা সম্পন্ন হবে। এরপর বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে হালনাগাদ করে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

সিইসি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সূত্র : বিবিসি