যুগান্তকারী সফরে বাংলাদেশে আসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে গত বছরের আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। নাটকীয় পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সফরে আসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে আগামী মাসে তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন এবং তার আসন্ন এই সফরকে যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আগামী মাসে বাংলাদেশ সফর করবেন। আসন্ন এই সফরটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা গত বছরের আগস্টে ভারতপন্থি সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ককেই সামনে তুলে ধরছে।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, ২০১২ সালের পর পাকিস্তানের কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই প্রথম বাংলাদেশ সফর হতে চলেছে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার আমন্ত্রণে ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ঢাকা সফর করবেন।




উপকূলজুড়ে শীতের তীব্রতায় কাহিল পটুয়াখালীর মানুষ

পটুয়াখালীর উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষজন। সন্ধ্যার পর থেকেই হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। এতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও বাতাসের কারণে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল এবং স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে।

কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা বেশিরভাগ পর্যটক সন্ধ্যার পরপরই হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রাত গভীর হওয়ার আগেই দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটক শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় শীতের প্রকোপ তেমন নেই। কিন্তু কুয়াকাটার শীত ও বাতাসের কারণে বাইরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার জাহান জানান, “গত এক মাস ধরে উপকূলীয় এলাকায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। তবে শীতের তীব্রতা এখন বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসে ২-৩টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অবৈধ শিশুপার্কের কারণে চৌমাথা লেক ও সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা

বরিশালের নবগ্রাম রোডের চৌমাথা এলাকা এখন যানজট ও দুর্ঘটনার জন্য পরিচিত। এখানকার সড়কের মাঝখানে অবৈধভাবে নির্মিত শিশু পার্কটি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে আসা যানবাহনগুলো পার্কের কারণে স্লথ গতি ধারণ করতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। পার্কটি চৌমাথা লেকের কাছেই অবস্থিত, যা বরিশালের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে লেকটি অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই লেকের চারপাশে খাবারের দোকান, মনোহারি পসরা এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের ভিড় গড়ে উঠেছে। সিটি করপোরেশন এবং সড়ক বিভাগের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে পার্কটি ভাঙার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সিটি করপোরেশন বলছে, এটি তাদের দায়িত্ব নয়, তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দাবি করছে যে পার্কটি সিটি করপোরেশনই তৈরি করেছে, তাই এর ভাঙার দায়িত্ব তাদের।

চৌমাথা লেকের চারপাশে বহু বছর ধরে অবৈধ দোকানপাট এবং গোপনীয় পণ্য বেচাকেনা চলছে, যা নগরবাসীর জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দুর্ঘটনা এবং সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে এই এলাকায়। পরিবেশ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে গঠনমূলক পদক্ষেপের অভাবে স্থানীয়রা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

এদিকে, চৌমাথা লেকের উন্নয়ন কাজের শুরু হয়েছিল বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সময়। কিন্তু পরবর্তীতে, নানা অবৈধ কার্যকলাপ এবং প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বের কারণে এটি আর স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে, শিশু পার্কটি এবং তার আশপাশের বিশৃঙ্খলা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং সড়ক বিভাগের মাঝে বিতর্কের কারণে ইতিমধ্যেই এই পার্কটি একাধিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ পার্কটি সরিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের কাছে পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১৭০ বছরের পুরনো পাবলিক লাইব্রেরি এখন চোর ও মাদকাসক্তদের আস্তানা!

বরিশালের সবচেয়ে প্রাচীন পাবলিক লাইব্রেরি এখন পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। অযত্ন ও অবহেলার কারণে লাইব্রেরি ভবনটি বর্তমানে চোর এবং মাদকাসক্তদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। লাইব্রেরির লোহার জানালা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস প্রতিদিন চুরি হয়ে বিক্রি হচ্ছে, এবং একসময় বরিশালের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পদচারণায় মুখরিত এই লাইব্রেরি এখন ভূতের বাড়ি হয়ে উঠেছে।

১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরিটি এক সময় ১৪ হাজার বইয়ের বিশাল সংগ্রহে সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৩ বছর আগে লাইব্রেরির দাপ্তরিক কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং ৯ বছর আগে লাইব্রেরিটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে লাইব্রেরির দরজা, জানালা, গেট, এবং অন্যান্য অংশ চুরি হয়ে গেছে, এমনকি বেশ কিছু মূল্যবান বইও চুরি হয়ে গেছে। এখনো কমপক্ষে ১০ হাজার বই অব্যাহতভাবে লাইব্রেরিতে রয়েছে, যা রক্ষা করা জরুরি বলে জানান পাবলিক লাইব্রেরির অফিস সহায়ক শহীদ গাজী।

অথচ এই লাইব্রেরির ভবনটি ১৮৫৪ সালে বরিশালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন পাবলিক লাইব্রেরি অ্যাক্ট পাস করা হয়। ১৯৮৫ সালে লাইব্রেরিটি নগরীর বান্দ রোডে স্থানান্তরিত করা হয়, কিন্তু সেখানে থাকা অবস্থায়ও ২০১৮ সালের পর থেকে এটি ধ্বংসের পথে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লাইব্রেরির প্রধান ফটক সারাদিন বন্ধ থাকে, জানালার কাচগুলো ভাঙা এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে আগাছা ও পলেস্তরা খসে পড়ছে। কিছু স্থান মোটরসাইকেল গ্যারেজ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সন্ধ্যার পর তা মাদকসেবিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

এ বিষয়ে পাবলিক লাইব্রেরির অফিস সহায়ক শহীদ গাজী জানান, তিনি ৩০ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন, তবে বর্তমানে লাইব্রেরিতে পাঠকরা আসে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে এই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরির মূল্যবান বইগুলো রক্ষা করা যায়।

অপরদিকে, বরিশাল জেলার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, এই লাইব্রেরিটি পুনরুদ্ধারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হচ্ছে, তবে এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তিনি জানান, ২০১২ সালে লাইব্রেরির সদস্য সংখ্যা ছিল ১,১০০, যার মধ্যে ৬০০ জন আজীবন সদস্য এবং ৫০০ জন সাধারণ সদস্য ছিল।

বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তিত্বও এই লাইব্রেরির সংরক্ষণ এবং পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়ে আসছেন। জাতীয় কবিতা পরিষদের সাবেক সভাপতি তপংকর চক্রবর্তী এই লাইব্রেরির এক দীর্ঘ ইতিহাসের কথা তুলে ধরে বলেন, এটি সংরক্ষণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, শীঘ্রই লাইব্রেরি পরিদর্শন করে এটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশের ডাল উৎপাদনে বরিশালের গুরুত্ব

বরিশাল অঞ্চলে দেশে উৎপাদিত ডালের অর্ধেকই উৎপাদিত হয়। এই অঞ্চলের কৃষকরা এবারো প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় পৌনে ৫ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন করছেন। বিশেষত মুগডালের ৮০ শতাংশ এবং খেসারী ডালের প্রায় ৫০ শতাংশই বরিশালে উৎপাদিত হয়, যা দেশের চাহিদার অনেকটা পূরণ করে।

এ বছরের শীতকালীন মুগ, খেসারী, ছোলা ও মুসুরী ডালের আবাদ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরও বরিশালে সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন ডাল উৎপাদিত হয়েছিল। তবে, এই অঞ্চলে এখনও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ডাল বীজের ব্যবহার অতি সীমিত, যার কারণে ডাল উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

বারি’র বিজ্ঞানীরা এই পর্যন্ত ৭টি উচ্চ ফলনশীল মসুর ডালের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়াও খেসারীর ৩টি, মুগ ডালের ৬টি, ছোলার ৯টি, মাষকলাইয়ের ৩টি এবং ফেলন ডালের ১টি উচ্চ ফলনশীল জাত তৈরি করেছেন। এই জাতগুলোর উৎপাদন প্রায় ১.৫ থেকে ২ টন প্রতি হেক্টর, যেখানে আমিষের পরিমাণও ২০-৩০ শতাংশ। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ডালে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ গোশতের পরেই সবচেয়ে বেশি। এর ফলে, ডাল দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত মানুষের জন্য একটি সস্তা প্রোটিন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, যা তাদের আমিষের চাহিদা পূরণের সহায়ক।

বরিশাল অঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে প্রায় সোয়া ২ লাখ হেক্টর মুগ ডাল, ৭৫ হাজার হেক্টর খেসারী, ৫ হাজার হেক্টর মুসুর সহ আরও প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ডাল আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে খেসারী ডালের আবাদ হয়েছে আমন ধানের সাথী ফসল হিসেবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ২৫ লাখ টন ডালের চাহিদার বিপরীতে মোট উৎপাদন মাত্র ১১ লাখ টন। যদিও চলতি রবি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই উৎপাদিত হচ্ছে বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলে। তবে, এখনও দেশের ডালের বৃহৎ চাহিদা আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সুতরাং, ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন আরও নিবিড় কর্মসূচি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে ২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নিমতলী এলাকায়, যখন মাওয়ামুখী আব্দুল্লাহ পরিবহনের একটি বাস কাভার্ডভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের হেলপার মো. জীবন (৪৪) নিহত হন। তাঁর বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার কল্লিগাঁও গ্রামে। দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি ছিলেন বাসযাত্রী মো. রায়হান (২৭), সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের দেবিপুরা গ্রামের বাসিন্দা।

দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ৩ জানুয়ারি, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে হাসাড়া এলাকায়, যেখানে আরও একজন নিহত হন এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুটি দুর্ঘটনাতেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা সম্পর্কে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতির গাড়ির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় জনগণ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদ

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, বিশেষ করে বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদীর ভূরঘাটা থেকে উজিরপুরের ইচলাদী পর্যন্ত সড়কটি দিন দিন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। গত এক বছরে এই সড়কে ৮১টি দুর্ঘটনায় ১০৫ জন নিহত এবং ২২০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৫০ জন পঙ্গু হয়ে গেছেন। এর মধ্যে দুর্ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই বেপরোয়া গাড়ি চালনা, সংকুচিত সড়ক, ফুটপাতে দোকান-পাট, অবৈধ যান চলাচল ও অদক্ষ চালকদের কারণে ঘটে।

হাইওয়ে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মহাসড়কের গৌরনদী থেকে ইচলাদী পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গৌরনদী বার্থী, টরকী, আশোকাঠি, বাটাজোর, সানুহার, জয়শ্রী ও ইচলাদী। গত ২৯ ডিসেম্বর গৌরনদী হাইওয়ে থানার উদ্যোগে একটি ওপেন হাউজ ডে-এ স্থানীয় জনগণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুর্ঘটনার জন্য সড়ক সংকীর্ণতা, অবৈধ যান চলাচল ও চালকদের অদক্ষতা তুলে ধরা হয়।

২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা হল:
– ২৯ ডিসেম্বর গৌরনদী উপজেলার বাইচখোলা এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাস ও তেলবাহী লরির ত্রিমুখী সংঘর্ষে একজন নিহত এবং ২০ জন আহত হন।
– ১৫ ডিসেম্বর কটকস্থল এলাকায় লাবিবা পরিবহনের বাসের ধাক্কায় ৭৫ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হন।
– ৯ সেপ্টেম্বর গৌরনদী উপজেলার ইল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেপরোয়া গতির বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হন।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আমিনুর রহমান জানায়, এই সড়কে দুর্ঘটনা রোধে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করা হয়েছে, কিন্তু সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং যাত্রীরা দাবি করেছেন, মহাসড়কের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিথিল হওয়া বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ

বরিশালে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহর উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম চলমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কালিবাড়ি রোডে সাড়ে তিনশ অসহায় মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

এ সময় শীতবস্ত্র ছাড়াও, জনসাধারণের মাঝে বিএনপির দেওয়া ৩১ দফা আন্দোলনের লিফলেটও বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তারিক সুলাইমান, যুবদল নেতা টিটু, এবং অন্যান্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

প্রধান অতিথি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, “বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি যারা করছে, তারা দলের সদস্য নয়। বিএনপির নেতাকর্মী যদি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হয়, তবে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সেই লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্কার প্রয়োজন।”

এছাড়া, বিকালে বরিশালের ১নং ও ১৮নং ওয়ার্ডে লিফলেট ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চিলিতে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

চিলির উত্তরাঞ্চলে ৬.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) এই ভূমিকম্পটি বন্দরনগরী আন্তোফাগাস্তায় আঘাত হানে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূমি থেকে ১০৪ কিলোমিটার গভীরে।

চিলি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর ইতিহাসে ১৯৬০ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় ভালদিভিয়ায় ঘটে যাওয়া ৯.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী, যা ছয় হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছিল।

এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে চিলির মাউলি এলাকায় ৬.২ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, যা রাজধানী সান্তিয়াগোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব ফেলেছিল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শৈত্যপ্রবাহ ছাড়াই শীতে কাঁপছে দেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কনকনে শীতের মধ্যে শিশুসন্তানদের গরম কাপড় পরিয়ে রিকশায় চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন এক মা। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে তোলা। ছবি : শেখ হাসান

দেশে কাগজে-কলমে শৈত্যপ্রবাহ ছিল না গতকাল বৃহস্পতিবার। তা সত্ত্বেও রাজধানীসহ দেশের অনেক অঞ্চলেই অনুভূত হয়েছে হাড়-কাঁপানো শীত। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কাগজে-কলমে শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও শৈত্যপ্রবাহের মতোই বা তার চেয়ে বেশি শীত অনুভূত হয়েছে। মূলত ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো না আসায় এবং উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাসের প্রভাবে দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অনেক কমে যাওয়ায় শীতের এমন দাপট চলছে।

আজ শুক্রবারও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদরা। আজ দুপুরের পর কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের দেখা মিলতে পারে। তাতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও সামগ্রিকভাবে শীতের অনুভূতি খুব একটা কমবে না। তবে আগামীকাল শনিবার থেকে তাপমাত্রা বেড়ে শীতের অনুভূতি কিছুটা কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক গতকাল রাতে বলেন, “শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও শৈত্যপ্রবাহের মতোই শীত অনুভূত হচ্ছে। এটাকে বলা হয় ‘কোল্ড ডে কন্ডিশন’। অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না নামলেও তীব্র শীতের অনুভূতি হচ্ছে। মধ্যরাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা, উত্তরের বাতাস, জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকা এবং ঊর্ধ্বাকাশের জেট স্ট্রিমের দক্ষিণমুখী বিস্তার ও নিম্নমুখী বিচরণ এই ঠাণ্ডার অনুভূতি হঠাৎ বাড়িয়ে দিয়েছে।