বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ অনিয়ম নিয়ে সোনালী ব্যাংকের বড় ঘোষণা

সোনালী ব্যাংক থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের নেওয়া ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট দাবি করেছে যে তারা ঋণ আদায়কে কেন্দ্র করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষত, হলমার্ক গ্রুপের ঋণের বিপরীতে দেওয়া সম্পত্তির পরিমাণও আরও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, নতুন জমির সাথে ১৬৭ একর জমি সংযুক্ত করা হয়েছে। এসবের ফলে ব্যাংকটির ঋণ আদায়ে সহায়তা প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছে।

২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, হলমার্ক এবং টিএম ব্রাদার্সের মতো বড় ঋণ গ্রহীতাদের ঋণ আদায়ে তারা কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছেন না। এছাড়া, সোনালী ব্যাংক ২০২৪ সালে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে এবং এটি ব্যাংকটির ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড।

এদিকে, ব্যাংকের সাম্প্রতিক মুনাফা এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রদান বৃদ্ধি নিয়েও সোনালী ব্যাংক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তার মতে, তারা ঋণ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করছে এবং ২০২৪ সালে তাদের প্রভিশন ঘাটতি কমে আসবে।

এছাড়া, সোনালী ব্যাংক তাদের কর্মীদের মোটিভেট করতে পদোন্নতি প্রদান করেছে এবং ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ বেড়ে ১৬৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা বেশি।

সোনালী ব্যাংকের এমডি জানান, তারা ২০২৫ সালে আরও সমৃদ্ধির পথে চলার জন্য প্রস্তুত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চল: হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় জনজীবন অচল

হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন। বরিশালসহ বিভাগের ছয় জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তিকর শীতের কবলে পড়েছে। গত দুদিনে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। ঘন কুয়াশার সাথে শীতল হাওয়া সবকিছু ঢেকে রেখে, বিশেষত ভোর ও রাতের দিকে মহানগরীসহ পুরো অঞ্চল কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে।

শীতের প্রকোপের পাশাপাশি, বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুরা শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে, যা থেকে বোঝা যায় যে শীতকালীন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ শীতজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাজহারুল ইসলাম জানান, গত দুদিন ধরে বরিশালে সূর্যের দেখা মেলেনি। বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ রয়েছে, যার কারণে আকাশ মেঘলা এবং কুয়াশা বেশি। তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে, চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং আগামী তিনদিনে শীতের প্রকোপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

দুদিন ধরে সূর্যের আলো না মেলায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ শীতের তীব্রতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই শীতকাল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই শীতের মধ্যেও কাজ করতে বেরিয়েছেন, তবে শীতের কারণে তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়ক ও নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, যার ফলে যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষত শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, শীতকালীন সময়ে সাধারণত হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। তিনি বলেন, ‘‘শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করা, যারা নিউমোনিয়া, অ্যাজমা এবং ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া, শিশুদেরও এই সময় তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’’

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওবায়দুল ইসলাম জানান, শীতজনিত রোগে শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। তিনি বলেন, ‘‘এখন শিশুরা অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া ও ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হচ্ছে। শীতের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।’’ তিনি শিশুদের পরামর্শ দেন, ‘‘শীতকালে তাদের ভালোভাবে গরম কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে এবং ভেজা স্থানে রাখা যাবে না। পাশাপাশি, এ সময় শিশুদের জন্য ভাইরাল ফিভার বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাসের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।’’

বয়স্কদের জন্যও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, ‘‘বয়স্কদের জন্য নিউমোনিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, তাই তাদের যথাসম্ভব শীত থেকে দূরে রাখা উচিত এবং গরম কাপড় পরানো উচিত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর পানি এবং শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।’’

এদিকে, শীতজনিত রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে হাসপাতালে, তবে চিকিৎসকরা মনে করছেন যে সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, এই শীতকাল আরও অনেক মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ২০১৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোঃ আবুল হাসান (৪০)।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোর সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর মনিপুরি পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারওয়ান বাজারে প্রচারণার সময় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আাওয়ালের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন বেগম খালেদা জিয়া। ওই প্রচারণায় তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। হামলার ঘটনায় ২২ আগস্ট তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন আবুল হাসান।

থানা সূত্রে আরো জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আবুল হাসান তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় আরও একটি নিয়মিত মামলা রয়েছে।

এখন পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম *টাইমস অব ইন্ডিয়া* জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার জন্য সপ্তাহখানেক আগে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। তবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “শেখ হাসিনাকে ফেরত পাওয়ার বিষয়ে নতুন কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই।” তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ভারত সরকার এ বিষয়ে কোনো নতুন মন্তব্য করতে চায় না।

এছাড়া, সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় দাস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “চিন্ময় দাস ন্যায় বিচার পাবেন, আমরা তার জন্য আশাবাদী।”

উল্লেখ্য, গত ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছিল, যা এখনও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




  চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শান্তই অধিনায়ক, সাকিবকে চান ফারুক

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তর নামেই আস্থা রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যদিও কিছু দিন আগে তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে তাকে অধিনায়ক হিসেবে রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিপিএলের ম্যাচ চলাকালে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফারুক আহমেদ বলেন, “শান্ত এখনও দলের অধিনায়ক থাকবে। তার অধিনায়কত্বের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল না, আমরা মনে করি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পর্যন্ত সে অধিনায়ক থাকবে। শান্তর অধিনায়কত্ব না নেওয়ার কোনো কারণ দেখছি না।”

ফারুক আহমেদ আরও যোগ করেন, “শান্ত আগেই জানিয়েছিল যে, তিনি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অধিনায়ক হিসেবে কমফোর্টেবল নন। তাই আমরা টি-টোয়েন্টির জন্য নতুন অধিনায়কের কথা চিন্তা করছি। তবে, টি-টোয়েন্টি খুবই দূরে, তাই বর্তমানে সেটা নিয়ে চিন্তা করার সময় নয়।”

এদিকে, সাকিব আল হাসান প্রসঙ্গে ফারুক আহমেদ বলেন, “সাকিব এখনও অবসর নেয়নি। সাকিব যদি অবসর নিত, তাহলে আমি বলতাম, সে আর নেই। নির্বাচকরা আমাদের কাছে দল গঠনের আগে পলিসি জানতে চায়। সাকিবকে নিয়ে আমরা আরও একটি চেষ্টা করব চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে এর উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিব।”

বাংলাদেশ দলের জন্য ১৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে শুরু হবে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সেখানে শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশের দল লড়বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। সাকিব আল হাসানও চূড়ান্তভাবে দলে থাকবেন কিনা, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিসিবিকে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খেলনা গাড়িতে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, নারী মাদক পাচারকারী আটক

বরিশালের উজিরপুর থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার পুলিশ বিভাগ এই অভিযানটি পরিচালনা করে।

আটক হওয়া নারীর নাম শান্তনা আক্তার (২৫)। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার কাগাশুরা হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা মো. সুরুজ হাওলাদারের স্ত্রী। শান্তনা বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করতেন এবং তার পিতার নাম হাসান সরদার।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শান্তনা আক্তার উপজেলার দামোদর কাঠি এলাকার পিত্রালয় থেকে ইয়াবা নিয়ে বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকায় যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় অবস্থান নেয়। বামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৌঁছালে শান্তনাকে আটক করা হয়। তার কাছে থাকা একটি খেলনা গাড়ির মধ্যে লুকানো অবস্থায় ৯ হাজার ৯০৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শান্তনা আক্তারের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই কাজী ওবায়দুল কবির।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় ওয়ারিশ সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলমুক্ত করে বৈধ ওয়ারিশদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় গলাচিপা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান মফিজ।

মফিজ, যিনি গলাচিপা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত নুরুল হাইয়ের ছেলে, লিখিত বক্তব্যে জানান, তার দাদা মৃত আফাজ উদ্দিন আহম্মেদ পেশকারের সম্পত্তির একজন বৈধ ওয়ারিশ তিনি। তবে তার চতুর্থ চাচা ডা. মো. নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে উক্ত সম্পত্তি জবরদখল করে ভোগদখল করছেন।

মফিজ অভিযোগ করেন যে, গলাচিপা থানায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেও তিনি কোনো সমাধান পাননি। ফলে সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সহযোগিতার জন্য তিনি সংবাদ সম্মেলনের পথ বেছে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মফিজ প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান, যাতে পৈতৃক সম্পত্তি তার ন্যায্য অধিকার অনুযায়ী বুঝে পান।

 




উসমানের ঝড়ে রাজশাহীকে হারাল চিটাগং কিংস

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিপিএল ২০২৩-এর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে চিটাগং কিংস রাজশাহীকে ১০৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। পাকিস্তানি ওপেনার উসমান খানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং বল হাতে চমৎকার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে চিটাগং জয়ের খাতা খুলে বিপিএল ইতিহাসে তাদের দ্বিতীয় বড় জয় নিশ্চিত করল।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চিটাগং কিংস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২১৯ রান। উসমান খান রাজশাহীর বোলারদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে মাত্র ৬২ বলে ১২৩ রানের বিশাল ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৯টি ছক্কার ঝড়। এই ইনিংসটি দলের জন্য ছিল এক দারুণ মাইলফলক। ইংল্যান্ডের গ্রাহাম ক্লার্কও ২৫ বলে ৪০ রান করে তাকে ভালো সঙ্গ দেন, এবং দ্বিতীয় উইকেটে তারা গড়েন ১২০ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি।

রাজশাহীর পক্ষে একমাত্র সফল বোলার ছিলেন তাসকিন আহমেদ, যিনি উসমান খানের উইকেট তুলে নেন। তবে তার আগেই চিটাগংয়ের সংগ্রহ ২০০ রান পেরিয়ে যায়, যা রাজশাহীকে বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়।

২২০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রাজশাহী শুরুতেই বিপদে পড়ে। প্রথম ওভারেই ওপেনার সাব্বির হোসেন মাত্র ৮ রান করে আউট হন। মোহাম্মদ হারিসের ১৫ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংস কিছুটা আশা দেখালেও, সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চিটাগংয়ের বোলারদের সামনে বাকিরা একে একে ফিরতে থাকেন।

রাজশাহীর ক্যাপ্টেন এনামুল হক বিজয়ের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৮ রান। ইয়াসির রাব্বি ও রায়ান বার্লও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত রাজশাহী মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায়, এবং চিটাগং কিংস ১০৫ রানের বিশাল জয় পায়।

চিটাগংয়ের পক্ষে আরাফাত সানি ও আলিস ইসলাম তিনটি করে উইকেট তুলে নেন, যা রাজশাহীকে ছোট্ট করে দেয়। তাদের বোলিং পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ, যার ফলে রাজশাহী ২২০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়াতে পারেনি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

ভোলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা জনজীবনে এক বিরাট বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। তীব্র শীত ও হিম বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপজেলার মানুষ। বিশেষত, নদী তীরবর্তী এবং নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য এই শীত আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে আকাশে কিছুটা সূর্যের দেখা মিললেও, এর তাপ ছিল একেবারেই কম। কিছুক্ষণ পর পর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। ভোলা জেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি বছর ভোলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে হাড় কাঁপানো শীতের কারণে মানুষজন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই দিনের বেলা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন, আবার কেউ সূর্যের কিছুটা তাপের জন্য নদীর তীরে বসে আছেন। এর ফলে, ঘর থেকে বের হওয়া অনেকেই কষ্টকর মনে করছেন।

শহরের কালিবাড়ি রোড মোড়ের ভাসমান দিনমজুরদের বাজারও আজ বসেনি। রাস্তায় চলাচলকারী রিকশার সংখ্যাও অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম ছিল।

তেতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধের পাশে বসবাসকারী জেলে মো. এমরান জানান, গত দুই দিন থেকে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে এবং এর ফলে নদীতে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। মেঘনা নদীর তুলাতুলি এলাকার বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, “একদিকে শীত, অন্যদিকে প্রচুর ঠান্ডা বাতাস। ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টকর। আমরা গরিব মানুষ, এখনো সরকারি সহায়তা হিসেবে শীতের কাপড় পাইনি। যদি পাই, তবে উপকার হবে।”

ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক মো. রতন জানান, “আজ শুক্রবার অন্যদিনের তুলনায় ভাড়া বেশি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজ রাস্তায় যাত্রী কম। পেট তো শীত-বর্ষা মানে না, তাই রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।”

ভোলা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টা থেকে আজ (শুক্রবার) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও বলেন, আগামীকাল পর্যন্ত শীতের এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলার তেতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন: চলছেই পরিবেশগত বিপর্যয়

ভোলার তেতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন, তবে তা থামছেই না। নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে দিনের পর দিন, বিশেষত গভীর রাতে, যার ফলে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বছরের পর বছর ধরে বালু উত্তোলন চলছে অবাধে, যার ফলে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি, এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীর জীববৈচিত্র্য।

তেতুলিয়া নদীতে কোনো বালু মহাল না থাকলেও, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, রাতের অন্ধকারে প্রভাবশালী মহল একযোগে কয়েকটি ড্রেজার দিয়ে লাখ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে নদীভাঙন বাড়ছে, এবং বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ভোলার বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, এবং তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন চর এলাকাতে এই অবৈধ কার্যক্রম চলতে থাকলেও প্রশাসনের অভিযান মাঝে মাঝে সফল হলেও এর প্রভাব সীমিত হচ্ছে।

**কোস্টগার্ড ও প্রশাসনের অভিযান**

কোস্টগার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও, ড্রেজার মেশিনগুলো রাতের বেলা নদীতে এসে অবাধে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয় মাছ শিকারিরাও অভিযোগ করেন, এসব ড্রেজার মেশিনের কারণে তাদের মাছ ধরার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং নদীতে প্রচণ্ড শব্দের জন্য মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “তেতুলিয়া নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন একটি গুরুতর অপরাধ। আমরা অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং শীঘ্রই আরও অভিযান পরিচালিত হবে।” এছাড়া, কোস্টগার্ড জানায়, তাদের সফল অভিযান অব্যাহত রয়েছে, এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রশাসন তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রবাহমান তেতুলিয়া নদীকে রক্ষা করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকা যেমন চন্দ্রদ্বীপ, নাজিরপুর, কচুয়া, ধুলিয়া ইউনিয়ন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদী খনন না করা এবং বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্যও বিপর্যস্ত হচ্ছে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা আগামী দিনে বড় পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এখনো পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলন রোধ করা সম্ভব হয়নি, যদিও প্রশাসন ও কোস্টগার্ড বিভিন্ন অভিযান চালাচ্ছে। যদি এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান না করা যায়, তবে ভবিষ্যতে তেতুলিয়া নদী আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বিপর্যয় আরও বাড়বে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম