ভারতে প্রশিক্ষণের অনুমতি বাতিল ৫০ বিচার কর্মকর্তার

ভারতের ভূপালের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি এবং স্টেট জুডিশিয়াল একাডেমিতে ৫০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ (৫ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (প্রশিক্ষণ) ড. আবুল হাসানাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে, ভারতের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমি এবং স্টেট জুডিশিয়াল একাডেমিতে আগামী ১০ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রদানপূর্বক জারি করা প্রজ্ঞাপনটি আজ বাতিল করা হলো।”

উল্লেখ্য, এই প্রশিক্ষণটি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার আলোকে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হিলারি, মেসি কে ‘মেডেল অব ফ্রিডমে’ ভূষিত করলেন বাইডেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিদায় নেওয়ার ১৬ দিন আগে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ক্রীড়া, বিনোদনসহ বিভিন্ন জগতের ১৯ তারকাকে দেশটির অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডমে’ ভূষিত করেছেন জো বাইডেন।

গতকাল শনিবার হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে এক অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনসহ সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তিরা কিংবা তাঁদের প্রতিনিধিদের বাইডেন এ পদক পরিয়ে দেন। রয়টার্সের খবর বলছে, সম্মাননা গ্রহণ করেছেন জনপ্রিয় ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিও। তবে শিডিউলের কারণে তিনি সশরীর অনুষ্ঠানস্থলে আসতে পারেননি।

মার্কিন সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্যান্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা এই গুণীজনদের মধ্যে আরও রয়েছেন নিহত সিনেটর রবার্ট এফ কেনেডি, সাবেক সিনেটর মিট রমনির বাবা প্রয়াত জর্জ রমনি, উদারপন্থী রাজনীতিবিদ ও ধনকুবের জর্জ সরোস, গণমাধ্যমের নির্বাহী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আনা উইনটুর, সংগীতশিল্পী বোনো, অভিনেতা মাইকেল জে ফক্স, বাস্কেটবল কিংবদন্তি আরভিন জনসন (ম্যাজিক নামে পরিচিত), বিনিয়োগকারী ডেভিড এম রুবেনস্টেইন।

উল্লেখযোগ্য আরও আছেন সফটওয়্যার খাতের উদ্যোক্তা টিম গিল, ফ্যাশন ডিজাইনার রাফ লরেন, ‘দ্য সায়েন্স গাই’ নামে পরিচিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব বিল নাই, ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের প্রধান ও প্রতিষ্ঠাতা জোস আন্দ্রেস, প্রয়াত সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন বি কার্টার, প্রাইমাটোলজিস্ট জেন গুডঅল, অধিকারকর্মী ফ্যানি লোউ হ্যামার, আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ স্টিভেনস জুনিয়র ও অভিনেতা ডেনজেল ওয়াশিংটন।




ইসরায়েলের কাছে ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা বাইডেনের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের কাছে ৮০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার কথা কংগ্রেসকে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। অস্ত্রের এ চালান পাঠাতে হাউজ ও সিনেট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ চালানে থাকবে ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বিভিন্ন ধরনের সমরাস্ত্র।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হোয়াইট হাউজ ছাড়ার দুই সপ্তাহ আগে এমন পরিকল্পনার কথা জানানো হলো।

গাজায় বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত হবার কারণে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা না দেবার যে আহ্বান সেটি ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করেছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র দুই হাজার কোটি ডলার ফাইটার জেট ও অন্য সামরিক উপকরণ ইসরায়েলের কাছে বিক্রির একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন করেছিল।

কর্মকর্তারা বলছেন, সবশেষ যেসব অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে আকাশ থেকে আকাশে উৎক্ষেপনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি গোলা এবং বোমা।

এসব অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র বিবিসিকে শনিবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এটা পরিষ্কার করেছেন যে আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসরায়েলের নাগরিকদের আত্মরক্ষা এবং ইরান ও তার প্রক্সিদের আগ্রাসন প্রতিরোধের অধিকার আছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা সরবরাহ আমরা অব্যাহত রাখবো।

জো বাইডেন প্রায়শই ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে ‘অবিচ্ছেদ্য’ আখ্যায়িত করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। এ ছাড়া দেশটি ইসরায়েলকে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সামরিক উপকরণ বানাতে সহায়তা করছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউট (এসআইপিআরআই) এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল সময়ের মধ্যে ইসরায়েল যত অস্ত্র আমদানি করেছে তার ৬৯ ভাগই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র দুই হাজার পাউন্ড ও ৫০০ পাউন্ড ওজনের বোমার একটি চালান স্থগিত করেছিল।

গাজার দক্ষিণাঞ্চলে রাফাহ শহরে ইসরায়েলের স্থল অভিযানের উদ্বেগ থেকে তখন এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল দেশটি। এতে ওয়াশিংটনের রিপাবলিকানরা তীব্র সমালোচনায় নেমে পড়েছিল। পাশাপাশি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ‘অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

এরপর বাইডেন স্থগিতাদেশ আংশিক প্রত্যাহার করে নেন। এবার যে চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে তা বাইডেন প্রশাসনের সাম্প্রতিক সময়ের অনেকগুলো পদক্ষেপের একটি। তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন হোয়াইট হাউজ ছাড়ার আগে সম্ভবত এটাই ইসরায়েলের কাছে শেষ অস্ত্র বিক্রি। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি এর আগে বিদেশে সংঘাত বন্ধের কথা জোর দিয়ে বলেছেন। এমনকি নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কমিয়ে আনার কথা বলেছেন।

ট্রাম্প নিজেকে ইসরায়েলের একজন কট্টর সমর্থক হিসেবে বলে থাকেন। তবে তিনি ইসরায়েলকে গাজার সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করার আহবান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর গাজায় স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল সামরিক বাহিনী।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ওই হামলায় ১২শ মানুষকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এরপর গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে ৪৫ হাজার ৫৮০ জন মারা গেছে বলে সেখানকার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।




পটুয়াখালীতে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইলেকট্রিশিয়ানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী জেলার পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে এক ইলেকট্রিশিয়ানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে, উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের চর নিশানবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে সোহান প্রামাণিক নামে এক ইলেকট্রিশিয়ানের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

নিহত সোহান প্রামাণিক পাবনার সদর থানার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের মধু প্রামাণিকের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোহান পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ম্যানপাওয়ার গাজী এন্টারপ্রাইজের ইলেকট্রিক মিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি গত দুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজে যোগ দেননি এবং রুমেই অবস্থান করছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় তার সহকর্মীরা তাকে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে লাইট জ্বালালে তার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবন খুলেছে, কাজে ফিরছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ১১ দিন আগে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবন আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। নয়তলা ভবনের পুড়ে যাওয়া চারটি ফ্লোর বাদে বাকি পাঁচটি ফ্লোরে রোববার (৫ জানুয়ারি) থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস শুরু করেছেন।

আগুনের ঘটনার পর থেকেই সচিবালয়ে প্রবেশে ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। উপদেষ্টা এবং সচিব ছাড়া অন্য কারও গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে আজ থেকে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাড়িও সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সচিবালয়ে কার্যক্রম অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

সরাসরি পরিদর্শনে দেখা গেছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ নম্বর ভবনের ফ্লোরগুলোতে এখন সবাই প্রবেশ করতে পারছেন। তবে ভবনের পঞ্চম তলার ওপরে, যেখানে গণপূর্ত বিভাগের কাজ চলছে, সেখানে তাদের কর্মকর্তাদের ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনো ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন রয়ে গেছে। দ্বিতীয় তলার মেঝেতে ছাইয়ের কালো দাগ স্পষ্ট। লিফট এখনো চালু হয়নি, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর, সরকারি ছুটির দিন রাতের বেলায় সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এটি সচিবালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড বলে ধরা হচ্ছে। আগুনে ভবনের চারটি তলা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এসব ফ্লোরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অফিস ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভবনের প্রবেশ সীমিত করে দেয়, যেখানে শুধু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রবেশের অনুমতি পেতেন। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর পুনর্গঠনের কাজ চললেও, স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।




ফিলিস্তিন রক্ষায় প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ৮ ডিসেম্বর ১৯১৭। ফিলিস্তিনে ৪০১ বছরের উসমানীয় শাসনের অবসান হয়। পবিত্র এই ভূমির শাসন চলে যায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের হাতে। শুরু হয় ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নীলনকশা।

পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে ইহুদিরা সমবেত হতে থাকে ফিলিস্তিন ভূমিতে। ব্রিটিশ শাসকদের ছত্রচ্ছায়ায় তারা নানা কৌশলে ফিলিস্তিনি ভূমি কবজা করতে থাকে। ফিলিস্তিনিদের কাছে বিষয়টি ক্রমেই স্পষ্ট হয় এবং তারা নানাভাবে তা প্রতিহতের চেষ্টা করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৩১ সালে জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত হয় ওয়ার্ল্ড ইসলামিক কংগ্রেস, যাতে সারা বিশ্বের মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও নেতারা অংশ নেন।

এটা ছিল ফিলিস্তিন রক্ষার প্রথম বৈশ্বিক আন্দোলন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যাটি আরব ও মুসলিম বিশ্বের সংকট হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
ঐতিহাসিক এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন মুফতি হাজি আমিন আল হুসাইনি (রহ.)। তিনি ছিলেন জেরুজালেমের প্রধান মুফতি এবং ব্রিটিশ পৃষ্ঠপোষকতায় ইহুদি বন্দোবস্তের অন্যতম প্রতিবাদকারী।

১৯৩০ থেকে ১৯৪০ দশকের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি যেভাবে ব্রিটিশবিরোধী প্রতিবাদ করেছিলেন তা আজও ইতিহাসে বিখ্যাত। এই সম্মেলনের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন ভারতীয় মুসলিম নেতা মাওলানা মোহাম্মদ আলী জওহর (রহ.)।
ফিলিস্তিনিদের সারা বিশ্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন লেখক ও রাজনীতিক মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)। যিনি ১৯০৬ সাল থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তী সময় ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে ভারতীয়দের আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব করেন।

তিনি উপমহাদেশের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন খিলাফত আন্দোলনের জন্য। এই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তুরস্কের উসমানী খিলাফত রক্ষা দাবিতে; প্রকৃত পক্ষে যা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনই ছিল। কিন্তু সম্মেলন আয়োজনের আগেই তিনি ৪ জানুয়ারি ১৯৩১ লন্ডনে মারা যান।

মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর মৃত্যুর সংবাদ শুনে মুফতি হুসাইনি (রহ.) তাঁর ভাই মাওলানা শওকত আলীকে টেলিগ্রাম করেন। যাতে তিনি মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-কে আল আকসা মসজিদের আশপাশে কবর দেওয়ার আহ্বান জানান। মাওলানা শওকত আলী (রহ.) নিজেও ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। ২৩ জানুয়ারি ১৯৩১ মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর কফিন জেরুজালেমে পৌঁছে। কয়েক হাজার ফিলিস্তিন অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে তা নিয়ে মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়। কুব্বাতুস সাখরার পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

জানাজার সময় মুফতি হুসাইনি (রহ.) মাওলানা মোহাম্মদ আলীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন মিসরের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ আহমদ জাকি পাশা এবং তিউনিশিয়ার জাতীয়বাদী আন্দোলনের নেতা আবদেল আজিজ থালবি। এমনকি একজন আরব খ্রিস্টান কবি মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর স্মরণে কবিতা পাঠ করেন। এ সময় মাওলানা শওকত আলী (রহ.) ফিলিস্তিনে আবারও একটি আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্মেলন আয়োজন করার অনুরোধ করেন, যা মুফতি হুসাইনি (রহ.) আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন। কেননা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ফিলিস্তিনের প্রতি মুসলিম বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণের এটাই সুযোগ।

মাওলানা শওকত আলীর লক্ষ্য ছিল ইসলামী খিলাফতের পুনরুদ্ধার করা এবং তিনি এই লক্ষ্য নিয়ে সুলতান দ্বিতীয় আবদুল মজিদের সঙ্গে দেখাও করেন। অন্যদিকে মুফতি হুসাইনি (রহ.) চাচ্ছিলেন ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমর্থন গড়ে তোলা। সুলতানের সম্মতিতে এবং মুফতি হুসাইনি ও শওকত আলীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনের কাজ এগিয়ে যায়। তুর্কি প্রজাতন্ত্রের সরকার ফ্রান্সকে অনুরোধ করে যেন সুলতান ফিলিস্তিনে আসতে না দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের চাপে মুফতি হুসাইনি (রহ.) ঘোষণা করেন সম্মেলনে খলিফা নির্বাচন করা হবে না। ব্রিটিশরা সম্মেলনের অনুমতি দিলেও সুলতান দ্বিতীয় আবদুল মজিদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে।

৭ ডিসেম্বর ১৯৩১ সালে সম্মেলন শুরু হয়। তাতে ২২টি দেশের ১৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। যাঁদের মধ্যে ছিলেন লেবাননের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ আল সোলহ, সিরিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট শুকরি আল কুওয়াতলি। মিসরের ইসলামী চিন্তাবিদ রশিদ রিদা, ভারতের দার্শনিক ও কবি মুহাম্মদ ইকবাল। তারা মহাসমারোহে ফিলিস্তিনে আগমন করেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মুফতি হুসাইনি (রহ.)। সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায় একটি প্ল্যাটফরম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। অংশগ্রহণকারীরা শপথ নেন সর্বশক্তি দিয়ে পবিত্র স্থানগুলো রক্ষা করা হবে। তাঁরা ইহুদিবাদীদের পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি মুসলিম বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এবং ফিলিস্তিনকে মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। ফিলিস্তিনিদের ভূমি কিনতে একটি কম্পানি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও হয়। ১৪ ডিসেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন আল্লামা ইকবাল (রহ.), যাতে তিনি পুঁজিবাদ ও উগ্রজাতীয়তাবাদীদের ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন এবং উপস্থিত নেতাদের সারা বিশ্বে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বাণী ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান।




পথকুকুরের পাশে পটুয়াখালীর চার যুবক

পটুয়াখালীতে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহে আশ্রয়হীন পথকুকুরদের দুর্দশা তীব্রতর হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে চার যুবক তাদের ব্যবহৃত পুরোনো গরম কাপড় দিয়ে এসব কুকুরের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের এ মহৎ উদ্যোগ প্রশংসার জোয়ার তুলেছে শহরজুড়ে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) মধ্যরাতে শহরের চৌরাস্তা, ঝাউতলা, সবুজবাগ, কলাতলা ও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এলাকায় ঘুরে অন্তত অর্ধশত পথকুকুরকে গরম কাপড় পরিয়ে দেন সাগর চৌধুরী, রুবাইয়াত হক মেহেদী, আক্তারুজ্জামান তুরাগ এবং তানভির রহমান।

তাদের উদ্যোগের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়ান তারা।

এই কাজ সম্পর্কে রুবাইয়াত হক মেহেদী বলেন, “শীতের রাতে বেওয়ারিশ কুকুরদের দুর্দশা দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিই তাদের পাশে দাঁড়ানোর। আমরা আমাদের পুরোনো গরম কাপড় নিয়ে বের হই এবং যতটা সম্ভব কুকুরকে সাহায্য করি। মানুষের কাছ থেকে এমন ইতিবাচক সাড়া পেয়ে আমরা অভিভূত। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই।”

সেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন “এ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী”র প্রতিনিধি মো. আসাদুল্লাহ হাসান মুসা বলেন, “মানুষ চাইলে শীত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে, কিন্তু এই প্রাণীগুলো তা পারে না। এই চার যুবকের কাজ নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।”

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “তাদের এই উদ্যোগ মানবতার প্রকৃত উদাহরণ। রাস্তার কুকুরদের জন্য গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করে তারা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে। আমরা তাদের এই মহৎ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাই।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আপিল খারিজ, তারেক রহমানের চার মামলা বাতিলের রায় বহাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির চারটি মামলা বাতিল করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে রোববার (৫ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

তারেক রহমানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন খোকন।

গত ২৩ অক্টোবর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি মামলা বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন। মামলা বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।




টিভিতে যেসব খেলা দেখবেন আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সিডনিতে ভারত-অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা কেপটাউনে টেস্টের তৃতীয় দিন আজ (রোববার) খেলতে নামবে। ইপিএলে রাতে মুখোমুখি লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

ক্রিকেট
১ম ওয়ানডে
নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা
ভোর ৪টা, সনি স্পোর্টস ৫

সিডনি টেস্ট-৩য় দিন
অস্ট্রেলিয়া-ভারত
ভোর ৫-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ১

কেপটাউন টেস্ট-৩য় দিন
দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান
বেলা ২-৩০ মি., স্পোর্টস ১৮-১, পিটিভি

বিগ ব্যাশ লিগ
হারিকেনস-স্ট্রাইকার্স
বেলা ২-১৫ মি., স্টার স্পোর্টস ২

ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
ফুলহাম-ইপসউইচ
রাত ৮টা, স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১

লিভারপুল-ম্যান ইউনাইটেড
রাত ১০-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১




সুবাতাস বইছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পালে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকসহ সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বলে দিচ্ছে, নতুন সম্পর্ক বিনির্মাণের পাশাপাশি বিরোধের জায়গাগুলো মিটিয়ে ফেলতে দুদেশই অঙ্গীকারাবদ্ধ।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটা সময় পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। কিন্তু বর্তমানে এসে সেই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো ও স্থিতিশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতি দুই প্রতিবেশীই আগ্রহ দেখিয়েছে। দুই দেশের সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার ইচ্ছাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া আশাব্যঞ্জক মোড় নিচ্ছে। যদিও অনেকের শঙ্কা, বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মানসিকতা বেড়ে যাওয়ার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটতে পারে।

কিন্তু পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকসহ সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আদান-প্রদান নতুন সম্পর্ক বোনার আভাস দিচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধের জায়গাগুলো মীমাংসার ক্ষেত্রেও তারা ইতিবাচক।