বরিশালে নারী নির্যাতনের অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দাবি

বরিশাল: সংবাদ সম্মেলনে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ তোলার পর এবার পুনরায় হামলা, অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের বাসিন্দা শিমু বেগম।

সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শিমু বেগম জানান, গত ২ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও দাড়িয়াল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিজান মিয়ার নেতৃত্বে তার সাবেক স্বামী বজলু হাওলাদারসহ একদল লোক মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালায়। তারা ঘরের জানালা ও দরজা ভাঙচুর করে এবং শিমুকে টেনে-হিঁচড়ে মারধরের চেষ্টা করে।

শিমু বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। পরকীয়া, একাধিক বিবাহ ও দেহ ব্যবসার মতো অপবাদ তুলে তার চরিত্র হননের প্রচেষ্টা চলছে। এমনকি তার ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে সমাজে তাকে ঘৃণার পাত্র বানানো হয়।

তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে ‘ড্রাগ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত’ বলে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে এবং অনলাইনে ‘এই মহিলাকে ধরিয়ে দিন’ এমন উস্কানিমূলক আহ্বান দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি ও তার দুই মেয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

শিমু বেগম অভিযোগ করেন, পূর্বে সংবাদ সম্মেলনে সত্য প্রকাশ করায় প্রতিশোধ নিতে বিএনপি নেতারা এই হামলা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, বিকৃত ছবি প্রচারকারীদের সাইবার অপরাধ আইনে শাস্তির আওতায় আনা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিমু বেগম বলেন, “আমি ভয় পাই না, আমি চাই সত্য প্রকাশ পাক। সাংবাদিক সমাজ যেন এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতির বিবেক জাগিয়ে তোলে।”

অভিযুক্ত কামরুজ্জামান মিজান মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কারও বাড়িতে যাইনি। এটি রাজনৈতিকভাবে মিথ্যা অভিযোগ।”
একইভাবে বিএনপি নেতা বজলু হাওলাদারও বলেন, “আমরা শুধু সড়কে মিছিল করেছি, হামলা বা ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে আওয়ামী লীগ ও জাপার ৯ নেতা কারাগারে

বরিশালে পৃথক দুটি মামলায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) ৯ জন নেতাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (২ নভেম্বর) দুপুরে উচ্চ আদালতের জামিন মেয়াদ শেষে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) ইসরাত জাহান তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন — হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাহাবুদ্দিন পণ্ডিত, ইউপি সদস্য মোশারেফ তালুকদারইলিয়াস মেলকার, যুবলীগ নেতা কাজী লিয়াকত হোসেন এবং হুমায়ুন কবির
আর জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতারা হলেন — আক্তার রহমান সপ্রু, রফিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলামমো. জুম্মান

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রথম মামলাটি হয়েছে হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নে। গত ২০ জুলাই বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। এই মামলার আসামি হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতারা উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। মেয়াদ শেষে তারা আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করলে বিচারক তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলাটি বরিশাল নগরীতে গত ৩১ মে জাতীয় পার্টির একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হয়। মিছিলে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে কটূক্তি করা হলে সেখানে উপস্থিত গণঅধিকার পরিষদের নেতারা প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে জাপা নেতারা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের মহানগর সভাপতি শফিকুল ইসলাম সাগর বাদী হয়ে মামলা করেন।

এই মামলার আসামি হিসেবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মহসিন উল ইসলাম হাবুলসহ পাঁচ নেতা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। পরে আদালতে হাজির হলে বিচারক হাবুলের জামিন মঞ্জুর করলেও বাকি চারজনের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




সাদা মাছির আক্রমণে নারকেল উৎপাদনে ধস, বিপুল তেলকল বন্ধের পথে

বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সাদা মাছির আক্রমণে প্রায় এক কোটি নারকেল গাছের ফলনে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত এক বছরে এই ক্ষতিকর পোকার আক্রমণে নারকেল, পেয়ারা ও অন্যান্য মৌসুমি ফলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বিশেষত নারকেল গাছে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে, ফলে অঞ্চলের নারকেলভিত্তিক অর্থনীতি চরম সংকটে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা মাছি গাছের পাতার নিচে অবস্থান করে রস শুষে নেয়, এতে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ফলন নেমে আসে তলানিতে। সাধারণ স্প্রে মেশিন দিয়ে এই পোকা দমন সম্ভব নয়, কারণ গাছের উচ্চতায় পাতার নিচে কীটনাশক পৌঁছায় না। শুধুমাত্র ফুট-স্প্রে মেশিন দিয়ে স্প্রে করলে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব। কিন্তু অধিকাংশ কৃষকের কাছে এমন স্প্রে যন্ত্র না থাকায় নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় বরিশালের বাজারে ডাব ও নারকেলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ছোট একটি ডাব এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে, আর জোড়া নারকেলের দাম প্রায় ৩০০ টাকা। এতে করে গরমে ও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অপরিহার্য পানীয় ডাব এখন বিলাসপণ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, “সম্প্রতি নারকেলসহ বিভিন্ন ফলের গাছে সাদা মাছির আক্রমণ বেড়েছে। আমরা আক্রান্ত এলাকা শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফুট-পাম্প স্প্রের মাধ্যমে কীটনাশক প্রয়োগ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।”

এই আক্রমণের কারণে দক্ষিণাঞ্চলে তেলজাতীয় ফল উৎপাদনেও বড় সংকট তৈরি হয়েছে। নারকেল নির্ভর শতাধিক ক্ষুদ্র ও কুটির তেলকল এখন বন্ধের পথে। এসব তেলকলের অনেকগুলো এসএমই খাত ও ব্যাংক ঋণে পরিচালিত হওয়ায় উদ্যোক্তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) জানিয়েছে, দেশে বছরে প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে পাঁচ লাখ টন ডাব উৎপাদিত হয়, যার বড় অংশই বরিশাল ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে। বারি উদ্ভাবিত ‘বারি নারিকেল-১’ ও ‘বারি নারিকেল-২’ জাত দুটি সাধারণত বছরে ৬৫–৭৫টি নারকেল দেয় এবং প্রতি গাছে তেলের পরিমাণ ৫৫–৬০ শতাংশ পর্যন্ত থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সাদা মাছির আক্রমণ নারকেল শিল্পকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাজু, সম্পাদক লিংকন

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ সাজু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট এসএম সাদিকুর রহমান লিংকন নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট সাজু ৩৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ পান ৩২২ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী অ্যাডভোকেট লিংকন ৩৬৯ ভোটে বিজয়ী হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন দিলু পেয়েছেন ৩৪১ ভোট।

ফলাফল অনুযায়ী, ১১টি কার্যকরী পরিষদ পদের মধ্যে সভাপতিসহ ১০টিতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যরা বিজয়ী হয়েছেন। সহসভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সামসুল হুদা জিন্নাত ও অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদ হোসেন মাখন, যুগ্ম সম্পাদক পদে আতিকুর রহমান জুয়েল ও ফাহাদ এমএ বাসার, আর্থিক সম্পাদক পদে উজ্জল কুমার রায় এবং নির্বাহী সদস্য পদে আব্দুল ওয়াদুদ হাওলাদার, মো. হুমায়ুন কবির খান, মুহাম্মদ আরিফুর রহমান আরিফ ও ইমতিয়াজ আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৮৩৪ জন সদস্যের মধ্যে ৭৩২ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। রাতভর ভোট গণনা শেষে শুক্রবার সকালে নির্বাচন উপপরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মহসিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট সাজু আগৈলঝাড়ার সাবেক ইউএনও গাজী তারেক সালমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানহানি মামলার বাদী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




একশো আসনে পিআর হলে ভালো হবে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, শতভাগ প্রতিনিধিত্বমূলক (পি আর) নির্বাচনের পক্ষপাতী নন, তবে একশো আসনে পিআর ব্যবস্থা থাকলে ভালো হবে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ নিয়ে তিনি দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, দল একটি কক্ষের পক্ষেই। প্রয়োজনে সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে, যাতে মহিলা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পিছিয়ে পড়া মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

রোববার বিকেলে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, উচ্চ কক্ষে পিআর হলে এমপিদের বেচাকেনার ঝুঁকি থাকবে। নির্বাচনের পর গণভোট হলে জটিলতা বাড়বে। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তত একটি স্থানীয় নির্বাচন করা উচিত ছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে ইউনুস সরকারকে সফল মনে করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ঝালকাঠি-০২ আসনের এমপি প্রার্থী শেখ জামাল হোসেন, জেলা আহ্বায়ক মো. জামাল হাওলাদার, সদস্য সচিব জাহিদ হোসেন বশির ও অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মঠবাড়িয়ার ডিজিটাল একচেঞ্জ পরিত্যক্ত, ময়লার ভাগাড়ে পরিণত

মঠবাড়িয়া উপজেলার প্রাচীন টিএন্ডটি ভবনটি এখন পরিত্যক্ত হয়ে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ছাদ ও দেয়ালের ফলেস্টারা খসে পড়ছে, অফিস এলাকা লতাপাতা কচু গাছে ঘেরা, আর সেবার কোনো কার্যক্রম নেই। স্থানটি স্থানীয়দের মতে এমনভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যেন এটি ভুতুড়ে ভবনে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে বিটিসিএলের সাইনবোর্ডে লেখা “ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর”। তবে বাস্তবে ডিজিটালের কোনো ছোঁয়া নেই, বরং আবর্জনায় এলাকা ভরপুর। একজন জেলা থেকে আসা কর্মচারী মাঝে মাঝে এখানে কাজ করেন।

বিটিসিএল অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে ভবনটি টিএন্ডটি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ২০০২ সালে এটি ডিজিটাল হয়েছে। বর্তমানে এখানে টেলিফোন ও এল এল আই সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়, সরকারি হাসপাতাল, নির্বাচন কমিশন অফিসসহ ৩০টি সংযোগ রয়েছে।

বিটিসিএলের পিরোজপুর জেলার জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, আবর্জনার বিষয়টি নজরে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার সহযোগিতায় পরিষ্কার করা হয়েছে। মেন সড়কে কালভার্টের কাজের কারণে লাইনের ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, অতি দ্রুত অফিসের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ চলবে।

সেবা গ্রহণকারী জামান আবির বলেন, ২০০২ সালের ডিজিটাল রূপান্তরের পরও সেবা পাননি, ফলে এক সময়ে লাইনটি কেটে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবদুল কাইয়ূম জানিয়েছেন, অফিস সচল ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। তিনি ভিজিট করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইন্দুরকানীতে সরকারি পুলের বিম বিক্রির সময় দুইজন আটক

ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের বাগোলেরহাট বাজারে সরকারি পুলের বিম বিক্রি করার সময় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ নং পত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টি (জেপি) আহ্বায়ক মো. শাহীন হাওলাদারের বাড়ি থেকে ভ্যানযোগে দুটি বিম মোড়েলগঞ্জের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। ভ্যানটি বাজারে পৌঁছালে স্থানীয়রা সন্দেহ করে পুলিশে খবর দেয়।

ইন্দুরকানী থানার এসআই শাহিনের নেতৃত্বে পুলিশ এসে ভ্যানসহ দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিরা হলেন-

  • আতিয়ার শেখ, মৃত মোন্তাজ উদ্দিন শেখের ছেলে, ভাঙারি ব্যবসায়ী, মিত্রডাঙ্গা, মোড়েলগঞ্জ
  • সাজু, আতিয়ারের নির্দেশে ভ্যান চালানো ব্যক্তি

আটক আতিয়ার শেখ দাবি করেছেন, পত্তাশী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারের চাচাতো ভাই সোহেল হাওলাদারের কাছ থেকে বিম ক্রয় করেছেন। বিমের ক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, যার জন্য তিনি বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠান। অপরদিকে সোহেল হাওলাদার এই বিষয়ে অজানা থাকার কথা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাজারে ভ্যান পৌঁছালে তাদের সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ইন্দুরকানী থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তফা জাফর জানিয়েছেন, সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক আতিয়ার শেখের বিরুদ্ধে মোড়েলগঞ্জ থানায় ইতিমধ্যেই তিনটি মামলা, যার মধ্যে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পিরোজপুরে কিশোর গ্যাং ও ইভ টিজিং নির্মূলে ছাত্রদলের অভিযান

পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল কিশোর গ্যাং নির্মূল ও কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। রবিবার সকালে শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ের বাইরে আড্ডায় থাকা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে দেন এবং কিশোর গ্যাংয়ে জড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা করেন।

সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, “কিশোর গ্যাং দেশের জন্য বড় সমস্যা। আজকের কিশোররাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের যদি সঠিক পথে রাখা না যায়, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা আমাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এই অভিযান চালাচ্ছি এবং এটি চলমান থাকবে। কেউ যদি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষার আগে রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়াতে উৎসাহ দেয়, তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব।”

পিরোজপুরের পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের ছাত্রদলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে জেলা ছাত্রদলের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে অভিযান চালাচ্ছি এবং তা আরও জোরদার করা হবে।”

এদিকে জেলা ছাত্রদলের এই উদ্যোগে স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, “এ ধরনের সামাজিক দায়িত্বশীল উদ্যোগ কিশোর সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মিষ্টিকার্টন বানিয়ে স্বাবলম্বী বরগুনার ৪ নারী

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের দক্ষিণ মনসাতলী গ্রামে চার নারী উদ্যোক্তা—শিউলি রানী, নীলিমা রানী, সুস্মিতা রানী ও জোছনা রানী—গড়ে তুলেছেন ‘মিষ্টিকার্টন উৎপাদন ও বিপণন’ নামে এক গ্রামীণ ব্যবসা। এক সময় সীমিত স্বপ্নের ছেঁড়া ছাদের নিচে থাকা এই নারীরা আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন উদাহরণ তৈরি করেছেন।

খোঁজে জানা গেছে, প্রতিদিন তারা প্রায় ৫০০ প্যাকেট কার্টন উৎপাদন করেন এবং স্থানীয় মিষ্টির দোকান, বেকারি, ইভেন্ট আয়োজক ও পাইকারি বাজারে সরবরাহ করেন। প্রত্যেক উদ্যোক্তার মাসিক আয় গড়ে ১৫ হাজার টাকা, যা পরিবারের দৈনন্দিন খরচ ও জরুরি চাহিদা মেটাতে বড় সহায়ক।

ব্যবসার শুরুটা ছিল মাত্র ৪০ হাজার টাকার বিনিয়োগে, অক্সফাম ও জাগোনারী পরিচালিত এসটি-২ প্রকল্পের সহায়তায়। প্রথম মাসেই এটি লাভজনক হয়ে ওঠে এবং চারজন নারী স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

দায়িত্ববণ্টন অনুযায়ী, শিউলি রানী দেখেন উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ, নীলিমা রানী বিক্রয় ও বিপণন, সুস্মিতা রানী হিসাব-নিকাশ, আর জোছনা রানী গ্রাহক সেবা ও বিতরণের দায়িত্বে আছেন। এই সমন্বিত দায়িত্ববণ্টন ব্যবসা টেকসই করেছে এবং দুর্ঘটনার সময়ও উৎপাদন ও আয় সচল রাখে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, নতুন ডিজাইনের কার্টন ও উন্নত প্যাকেজিং পদ্ধতি চালু করা হবে, যাতে জেলা ও বিভাগীয় শহরেও পণ্য পৌঁছানো যায়।

শিউলি রানী বলেন, “আমরা এক সঙ্গে হলে ভয় পাই না। এই কার্টনের পেছনে শুধু মিষ্টি নয়, আমাদের গ্রামের আশা ও পরিশ্রম আছে। আমরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করব।”
নীলিমা রানী বলেন, “প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পের সহায়তায় আমরা সীমিত পরিচিতি থেকে বাজারে পৌঁছাতে পেরেছি।”
সুস্মিতা রানী বলেন, “গ্রামের নারীরাও শুধু অপেক্ষা নয়, কাজ করে স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।”

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াছিন আরাফাত রানা বলেন, “এই চার নারী এখন শুধু কারিগর নন, গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন উদাহরণ। সাহস, সহযোগিতা ও পরিশ্রম মিলিয়ে তারা নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির এক অনন্য গল্প তৈরি করছেন। স্থানীয় প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনার তিন নদীর ভাঙনে লাখাধিক মানুষ বিপর্যস্ত

বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী তীরের ভয়াবহ ভাঙনের কারণে উপকূলজুড়ে নীরব বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রতিদিন নদীর ঢেউয়ে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ি, স্কুল, বাজার, কৃষিজমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদীভাঙনের আতঙ্কে লক্ষাধিক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধ নির্মাণ করলেও নদীর তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের কারণে বাঁধগুলো টেকসই হচ্ছে না। বাঁধের লাইন তিনবার পরিবর্তন হলেও নদীর আগ্রাসী ভাঙন থামানো সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাঙনের প্রধান কারণ হলো বর্ষাকালে পানি চাপ বৃদ্ধি, অবৈধ দখল, বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, ইটভাটা ও চর দখল, জলবায়ু পরিবর্তন, সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঘূর্ণিঝড়ের ঘনঘন প্রভাব।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো পায়রা ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বরগুনা সদরের বালিয়াতলী, তেঁতুলবাড়িয়া, বুড়িরচর, গোলবুনিয়া, রায়ের তবক, নলটোনা, আজগরকাঠি, ডালভাঙ্গা, নদী বন্দর, পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা, জিনতলা, রুহিতা, কাকচিড়া, বামনা উপজেলার রামনা, বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি, কালিকাবাড়ী, হোসনাবাদ, মোকামিয়া, আমতলী উপজেলার বালিয়াতলী, গুলিশাখালী, পচাকোড়ালিয়া, আরপাঙ্গাশিয়া, যোপখালী, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া, চরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা।

বরগুনা সদর উপজেলার ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের নলটোনা গ্রাম ইতোমধ্যেই বিষখালী নদীর আগ্রাসনে বিপর্যস্ত। ফসলি জমি, বসতবাড়ি, বিদ্যালয় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে বসতভিটা হারিয়ে এলাকা ত্যাগ করেছেন।

স্থানীয় চাষি ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নদী ভাঙন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, “পাউবো বরাবর হাতজোড় করে অনুরোধ করেছি, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেই।” তালতলীর মিশনবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল জব্বার হাওলাদার বলেন, “গত বছর বীজ রোপণ করেছি, আজ সেখানে নদীর ঢেউ খেলছে। গৃহহীন হাজারো মানুষ, কৃষিজমি নদীতে বিলীন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস।”

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮৫০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৫০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত, সংস্কার হচ্ছে মাত্র ৩০০ কিলোমিটারে। বাকি ২০০ কিলোমিটার ঝুঁকির মুখে। অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে এবং স্থায়ী সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের অপেক্ষায় আছি। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, “কাগজে প্রকল্প আছে, বাস্তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেই।”

স্থানীয়দের দাবি, উপকূল রক্ষায় টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন, দখলমুক্ত নদী প্রবাহ এবং কার্যকর বাঁধ নির্মাণ অত্যাবশ্যক। যদি এখনই পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, বরগুনার বহু জনপদ ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫