সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা আসছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অর্থ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত করেছে, যা অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে। ১ থেকে ৩য় গ্রেডে মহার্ঘ ভাতা হবে মূল বেতনের ১০ শতাংশ, ৪ থেকে ১০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা ২০, ১১ থেকে ২০ গ্রেডধারীরা ২৫ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন। এতে সর্বনিম্ন ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বেতন বাড়বে। স্কেলের মারপ্যাঁচের কারণেও কেউ ৪ হাজার টাকার কম এ ভাতা পাবেন না। তবে মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হওয়ার পর আগের সরকারের দেওয়া ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা সুবিধাটি আর বহাল থাকবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা আরও জানিয়েছেন, পেনশন ভোগরত কর্মকর্তা-কমর্চারীরাও মহার্ঘ ভাতা পাবেন।

জনপ্রশাসন সচিব আরও বলেন, মহার্ঘ ভাতা নিয়ে দুটি সভা হয়েছে। এবার যারা পেনশনে গিয়েছেন তাদেরও মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। যারা মহার্ঘ ভাতা পাবেন, ইনক্রিমেন্টের সময় সেই ভাতা বেসিকের সঙ্গে যোগ হবে। কত শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে? এ প্রশ্নের জবাবে মহার্ঘ ভাতা পর্যালোচনা কমিটির এ সদস্য অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সরকারি কর্মচারীদের সর্বশেষ পে-স্কেল দেওয়া হয় ২০১৫ সালে। এরপর আর বেতন বাড়েনি তাদের। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে। চাকরিজীবীদের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল বেতনের সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারি চাকরিজীবীদের কার কত বেতন বাড়ছেসরকারি চাকরিজীবীদের কার কত বেতন বাড়ছে
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের দাবি ছিল মহার্ঘ ভাতার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণে কমিটি গঠন করে। কমিটি বিষয়ে অর্থ বিভাগের জারি করা আদেশে বলা হয়েছিল, সরকারি কাজে নিয়োজিত জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর আওতাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা সংস্থানের বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির কার্যপরিধি ছিল মহার্ঘ ভাতার প্রযোজ্যতা ও প্রাপ্যতার বিষয় পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দাখিল করবে কমিটি।

সাধারণত পাঁচ বছর অন্তর একটি নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু ২০১৫ সালের পর আর কোনো নতুন পে-স্কেল দেওয়া হয়নি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। সর্বশেষ পে-কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন। তিনি নতুন পে-কমিশন না করে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে বেতন কমিশন গঠনের সুপারিশ করেন। কিন্তু আগের সরকার এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। বাড়তি মূল্যস্ফীতিতে বেতন বাড়াতে নতুন পে-স্কেল ঘোষণাসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়ে আসছিলেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ৭৮০০ ও সর্বনিম্ন ৪০০০ টাকা বেতন বাড়বেসরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ৭৮০০ ও সর্বনিম্ন ৪০০০ টাকা বেতন বাড়বে
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৪ লাখ কর্মচারী কর্মরত। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে তাদের বেতনভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। বাজেটে মহার্ঘ ভাতায় কোনো বরাদ্দ নেই। তবে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ হার চূড়ান্ত করে পরিচালন বাজেটের অন্য খাতের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর সরকারি কর্মচারীদের জন্য সংশোধিত বাজেটে মহার্ঘ ভাতার বরাদ্দ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ওইদিনের একনেক বৈঠক শেষে তিনি বলেছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের বহু ধরনের দাবিদাওয়া মেটাতে গিয়ে বেতনভাতা বাড়ানোর বিষয় আছে। মহার্ঘ ভাতার বিষয় আছে। তাই রাজস্ব খাতে ব্যয় কমিয়ে রাখা খুবই কঠিন। কাজেই সবকিছু উন্নয়ন বাজেটের ওপর এসে পড়ে। উন্নয়ন বাজেট কমাতে হবে। বাজেট-ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে উন্নয়ন বাজেট সমন্বয় করতে হবে।




লস অ্যাঞ্জেলেসে ভয়াবহ দাবানল, পুড়ে ছাই তারকাদের কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ভয়াবহ দাবানলে এক ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। বিশেষ করে প্যাসিফিক প্যালিসেডস অঞ্চলে থাকা হলিউড তারকাদের বিলাসবহুল বাড়ি এবং গাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে। এই অঞ্চলে বসবাসকারী বেশ কিছু তারকা, যেমন জেমস উড, জেনিফার অ্যানিস্টন, ব্র্যাডলি কুপার, টম হ্যাঙ্কস, বেন অ্যাফ্লেক, মাইকেল কিটন, অ্যাডাম স্যান্ডলারসহ অনেক সেলিব্রিটির সম্পত্তি দাবানলে ভস্মীভূত হয়েছে। এমনকি প্যারিস হিলটনও ঘরহারা হয়েছেন।

বিস্তারিত জানা গেছে, দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেসের চারপাশের বিশাল এলাকা পুড়ে গেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরের পাহাড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ইতিহাসে এটি একে অন্যতম ভয়াবহ দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শহরের হাজার হাজার বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, দাবানল এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি, এবং এরই মধ্যে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ১ হাজার কোটি ডলার থেকে ৬ হাজার কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এছাড়া, একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে সস্তা বীমা খরচ ছিল, তবে এই ভয়াবহ দাবানলের পর বীমা খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার সম্পত্তির মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় বীমার খরচ কম হলেও, অনেক বীমা প্রতিষ্ঠান তাদের কভারেজ কমিয়ে দিয়েছে।

২০২৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার গড় বীমা প্রিমিয়াম ছিল ২২০০ ডলার, যা অন্য রাজ্যগুলোর তুলনায় অনেক কম ছিল। তবে, দাবানলের কারণে এই সস্তা বীমার খরচ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, দাবানলে পুড়ে গেছে লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৭ হাজার একর জায়গা, এবং সেখানে একটিও সম্পত্তি আগুন থেকে রক্ষা পায়নি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যুক্তরাজ্য যেতে পারলেন না নিপুণ, সিলেট বিমানবন্দরে আটকে গেলেন

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চিত্রনায়িকা নিপুণকে যুক্তরাজ্য যাওয়ার পথে আটকে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাংলাদেশ বিমানের বিজি ২০১ ফ্লাইটে যুক্তরাজ্য যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ইমিগ্রেশন পুলিশের বাধার মুখে তার যাত্রা স্থগিত হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় নিপুণকে চিনে ফেলে দায়িত্বশীলরা। তার পাসপোর্টে নাম ছিল ‘নাসরিন আক্তার’ এবং স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ঢাকার বনানী উল্লেখ করা ছিল। এরপর তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ওই ফ্লাইটে তার যাত্রা বাতিল করা হয়।

এছাড়া, জানা যায়, ফ্লাইট বাতিলের পর নিপুণকে বিমানবন্দরে বাইরে চলে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়। কিছু সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) আপত্তি জানিয়েছিল, যার ফলে এই ঘটনা ঘটে।

নিপুণ আক্তারের লন্ডনে যাওয়ার গুঞ্জন চলছিল কিছুদিন ধরে, তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তিনি দেশে থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন। এদিকে, তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আলোচিত হয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় বিসিক শিল্পনগরীর ৬০ প্লটের ৪০টি এখনও বরাদ্দহীন

বরগুনা বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ নিতে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ৬০টি প্লটের মধ্যে ৪০টি এখনও বরাদ্দ হয়নি। উচ্চমূল্য এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের অনেকেই এই প্লট নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। চার বছর আগে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও, এখনো অধিকাংশ প্লট বরাদ্দের বাইরে রয়েছে।

বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্পের খরচ বাড়ানো এবং প্লটের দাম কমানো হলে বরগুনার বিসিক কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র বৈরাগী আশাবাদী যে, চলতি বছরের মধ্যে সব প্লট বরাদ্দ হয়ে যাবে। ২০১১ সালে ৭ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন পায় এবং ২০২০ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

প্রাথমিকভাবে প্লটের দাম ছিল প্রতি শতাংশ ৩ লাখ ২ হাজার টাকা, যা পরবর্তীতে কমিয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। তবুও, প্রকল্পের চার বছরে মাত্র ২০টি প্লট বরাদ্দ হয়েছে, বাকি প্লটগুলো এখনও বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা প্লটের দাম ও জমি পাওয়ার জটিলতার কারণে আগ্রহ হারিয়েছেন।

এক নারী উদ্যোক্তা, আসমা আক্তার সিতু বলেন, “বিসিক শিল্পনগরীতে প্লটের বরাদ্দের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে, যা আমাদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করছে। আমরা ছোট উদ্যোক্তা, ভবিষ্যতে কারখানা বা অন্য ব্যবসার জন্য প্লট নিতে আগ্রহী, তবে নানা জটিলতার কারণে এটি সম্ভব হচ্ছে না।”

অন্য একজন উদ্যোক্তা, আব্দুর রহিম বলেন, “প্লটের দাম খুব বেশি, আমার মতো সাধারণ উদ্যোক্তার পক্ষে সেই দাম পরিশোধ করা সম্ভব নয়।”

বরগুনার বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র বৈরাগী জানান, “দ্বিতীয় দফায় দাম কমানো হয়েছে এবং এখন প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা করছি, চলতি বছরেই সব প্লট বরাদ্দ হয়ে যাবে এবং শিল্পকারখানা চালু হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে জখম

বরিশাল নগরীর গোরস্থান রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার সাচিব রাজিব (৪৭)। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে রাজিব আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

রাজিবের বোন শাহীনা আজমিন জানিয়েছেন, তার ভাইয়ের স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে পুরোনো বিরোধ ছিল। এ কারণেই সেই ব্যক্তি এবং একজন অজ্ঞাত সঙ্গী রাজিবের ওপর হামলা চালিয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, রাজিবের হাতে, পায়ে এবং বুকে প্রায় ১২টি আঘাত রয়েছে। অবস্থার গুরুতর অবনতির কারণে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দুই দুর্বৃত্ত ধারালো দা হাতে নিয়ে রাজিবকে ধাওয়া করে। এরপর তাকে কুপিয়ে আহত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে, এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।

এই নৃশংস হামলার ঘটনা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




গাজায় নিহত আরও ৭০, প্রাণহানি ছাড়িয়ে গেল ৪৬ হাজার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বর্বর হামলায় কমপক্ষে আরও ৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৪৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় কমপক্ষে আরও ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ হাজার ৬ জনে পৌঁছেছে বলে বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরলস এই হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ৯ হাজার ৩৭৮ জন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৭০ জন নিহত এবং আরও ১০৪ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকা জুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিচারের মুখোমুখি করবে হামাস
এছাড়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে প্রায় ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

মূলত ইসরায়েলি আক্রমণ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে গাজার সকলেই এখন খাদ্য নিরাপত্তাহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।

এছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।




মার্কিন সমর্থনপুষ্ট সেনাপ্রধানই হলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘ দুই বছর ধরে শূন্য থাকা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন লেবাননের সেনাপ্রধান জোসেফ আউন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট এই সেনাপ্রধানকে বৃহস্পতিবার লেবাননের পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্টই নন, বরং ইসরায়েলের সঙ্গে বিধ্বংসী যুদ্ধের পর ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রভাব তিনি সীমিত করেছেন বলে মনে করা হয়।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে সেনাপ্রধান জোসেফ আউনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার এই ঘটনা লেবানন এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করছে। কারণ গত বছরের যুদ্ধে লেবাননের শিয়া মতাবলম্বী হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ডিসেম্বরে হিজবুল্লাহর মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন ঘটেছে।

সেনাপ্রধানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া লেবাননে সৌদি আরবের প্রভাবের পুনরুত্থানেরও ইঙ্গিত দেয়; যেখানে রিয়াদের ভূমিকা ইরান এবং হিজবুল্লাহ অনেক আগেই নস্যাৎ করে দিয়েছিল।

লেবাননের সাম্প্রদায়িক ক্ষমতা ভাগাভাগি ব্যবস্থায় একজন ম্যারোনাইট খ্রিস্টানের জন্য সংরক্ষিত প্রেসিডেন্ট পদটি ২০২২ সালের অক্টোবরে মিশেল আউনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে খালি রয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে গভীর বিভক্তি থাকায় সংসদের ১২৮ আসনের ভোটাভুটিতে পর্যাপ্তসংখ্যক ভোট জিততে পারে এমন কোনও প্রার্থীর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল।

দেশটির সংসদের স্পিকার নাবিহ বেরির মতে, বুধবার প্রথম দফার ভোটে জোসেফ আউন প্রয়োজনীয় ৮৬ ভোটের চেয়ে ১৫ ভোট কম পান। সংসদের ৭১ জন সদস্যের সমর্থন পান তিনি। পরে হিজবুল্লাহ ও তাদের শিয়া মিত্র আমাল মুভমেন্টের সংসদ সদস্যরা সমর্থন জানানোয় দ্বিতীয় দফায় ৯৯ ভোট পান আউন।

বৃহস্পতিবার ভোটাভুটির আগে হিজবুল্লাহর পছন্দের প্রার্থী সুলেমান ফ্রাঙ্গিয়েহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়ে সেনাপ্রধান আউনের প্রতি সমর্থন জানান। সেনাপ্রধান জোসেফ আউনের প্রতি সমর্থন ঘিরে দিনভর ফরাসি ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতরা বৈরুতে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন বলে লেবাননের তিনটি রাজনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। এসব বৈঠকের ফলে মার্কিন সমর্থনপুষ্ট লেবাননের সেনাপ্রধানের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াটা অনেকাংশে সহজ হয়ে যায়।

সৌদি আরবের রাজকীয় আদালতের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ভোটের আগে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র বেরিকে ফরাসী, সৌদি এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা জানিয়ে দেন সৌদি আরবসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা আউনের নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে।

গত নভেম্বরে ওয়াশিংটন এবং প্যারিসের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে জোসেফ আউনের প্রধান ভূমিকা ছিল। চুক্তির শর্ত হিসাবে সেই সময় বলা হয়েছিল, ইসরায়েলি সৈন্য ও হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করার সময় লেবাননের সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন করতে হবে।

মার্কিন-সমর্থনপুষ্ট ৬০ বছর বয়সী আউন ২০১৭ সাল থেকে লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। হিজবুল্লাহর প্রভাব সীমিত করতে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমর্থন হ্রাসে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেন তিনি। দীর্ঘস্থায়ী এই মার্কিন নীতির ফলে লেবাননের সেনাবাহিনীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি।




আগামী মাসের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক সবাই হাতে পাবে : প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আগামী মাসের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক সবাই হাতে পাবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি নিয়ে কাজ করছে।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুল আলম বলেন, চট্টগ্রামে বর্ষায় সমস্যা হয়। জলাবদ্ধতার সমস্যা যত দ্রুত নিরসন করা সম্ভব সেই বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আর ট্রাফিকের বিষয়ে কেবিনেটে আলোচনা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতির চাপ নিম্ন আয়ের মানুষের গায়ে বেশি লাগে
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, অপূর্ব জাহাঙ্গীর, সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




রেস্তোরাঁ-ইন্টারনেট ও পানীয়সহ বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক-ভ্যাট বৃদ্ধি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: হোটেল, রেস্তোরাঁ, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক-ভ্যাট বৃদ্ধি করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় আরও যুক্ত হবে মিষ্টি, ওষুধ, এলপি গ্যাস, ফলের রস, ড্রিংক, বিস্কুট ও চশমার ফ্রেমসহ নানা পণ্য।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সই করা অধ্যাদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অধ্যাদেশ জারির পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগ এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। এর ফলে এই অধ্যাদেশের পরিবর্তনগুলো সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়ে গেছে।

এর আগে ফ্রিজ, এসি ও মোটরসাইকেলেন করপোরেট কর বাড়ানোর পর শতাধিক পণ্যের ভ্যাট ও শুল্ক বাড়ায় সরকার। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএফএম) শর্ত পরিপালনে কিছু কিছু পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়ানো এবং যৌক্তিকীকরণ করার পরিকল্পনা নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। উপদেষ্টাদের সভায় এনবিআরের দেওয়া প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে, যা অনুমোদন দেওয়া হয়।

যেসব পণ্য ও সেবার খরচ বাড়বে

আগে মোবাইলফোনের সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের ওপর ২০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ হতো। এটি বাড়িয়ে এখন ২৩ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে মুঠোফোনে কথা বলা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও বাড়বে। ইন্টারনেট সেবা বা আইএসপির উপর প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।

আমদানি পর্যায়ে যেসব পণ্যের সম্পূরক শুল্ক বেড়েছে

অধ্যাদেশ অনুযায়ী—সুপারি বাদাম ৩০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ, পাইন বাদাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ, তাজা বা শুকনা সুপারি ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ, আম, কমলালেবু, লেবুজাতীয় ফল, আঙ্গুর, লেবু, পেঁপে, তরমুজ, আপেল ও নাশপাতি, ফলের রস, সবজির রস, তামাক, বাদাম, পেইন্টস, পলিমার, ভার্নিশ ও লেকার, সাবান ও সাবান জাতীয় পণ্য, ডিটারজেন্ট, ফু্রট ড্রিংকস, আর্টিফিশিয়াল বা ফ্লেভার ড্রিংকস ও ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস (কার্বোনেটেড ও নন-কার্বোনেটেড), তামাকযুক্ত সিগারেট ইত্যাদি। এসব পণ্যে সম্পূরক শুল্ক ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সরবরাহ পর্যায়ে যেসব পণ্যের সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে

এনবিআর বলছে, যেসব হোটেলে মদ বা মদ জাতীয় পানীয় সরবরাহ করা হয় সেসব হোটেল বা বারের বিলের উপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া রেস্তোরাঁরা ক্ষেত্রেও একইভাবে মদ বা মদজাতীয় পণ্য সরবরাহ করা হলে—তার বিলের উপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে।

যেসব পণ্যের ভ্যাট বা মূসক বাড়ানো হয়েছে

এনবিআর বলছে, পটেটো ফ্ল্যাকস, কর্ন, মেশিন প্রস্তুত বিস্কুট, হাতে তৈরি বিস্কুট, আচার, চাটনি, টমেটো পেস্ট বা টমেটো কেচাপ বা সস, আম, আনারস, পেয়ারা ও কলার পাম্প, তেঁতুলের পেস্ট, ব্যবহারের অযোগ্য ট্রান্সফরমার অয়েল, লুবব্লেয়িং অয়েল, এলপি গ্যাস, বাল্ক ইম্পোটেড পেট্রোলিয়াম বিটুমিন, বিআরটিএ থেকে নেয়া লেমিনেটেড ড্রাইভিং লাইসেন্স, কঠিন শিলা, ফেরো-ম্যাঙ্গানিজ ও ফেরো-সিলিকো ম্যাঙ্গানিজ, ফেরো সিলিকন অ্যালয়, এইচ আর কয়েল থেকে সি আর কয়েল, সি আর কয়েল থেকে জিপি শীট, জি আই ওয়্যার, ৫ কেভিএ থেকে ২ হাজার কেভিএ বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, চশমার প্লাস্টিক ফ্রেম, চশমার মেটাল ফ্রেম, রিডিং গ্লাস, নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি ম্যাট্রেস। এসব পণ্যের ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া রেস্তোরাঁর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ, ইনভেন্টিং সংস্থার ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

দেশীয় যেসব পণ্যের ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে

কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু, হ্যান্ড টাওয়াল, সানগ্লাস, নন এসি হোটেল, মিষ্টান্ন ভান্ডার, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা, নিজস্ব ব্রান্ড সম্বলিত তৈরি পোশাকের শো-রুম বা বিপনী বিতান—এসব পণ্য ও সেবার উপর প্রযোজ্য ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি, ইলেক্ট্রিক পোল, মোটর গাড়ীর গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ, ডক ইয়ার্ড, ছাপাখানা, চলচ্চিত্র স্টুডিও, চলচিত্র প্রদর্শনী (সিনেমা হল), চলচ্চিত্র পরিবেশক, মেরামত ও সার্ভিসিং, স্বয়ংক্রিয় বা যন্ত্রচালিত করাতকল, খেলাধুলা আয়োজক, পরিবহন ঠিকাদার, বোর্ড সভায় যোগানকারী, টেইলারিং শপ ও টেইলার্স, ভবন রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা, সামাজিক ও খেলাধুলা বিষয়ক ক্লাব ইত্যাদি। এসব সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাট ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী পর্যায়ে যে পরিমাণ ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে

স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ, ওষধের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এলপি গ্যাসের স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ২ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে।

সিগারেটের ক্ষেত্রে রাজস্ব

সিগারেটের চারটি স্তরে দাম ও শুল্ক—দুটোই বাড়ানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে—নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়েছে। এতে প্রযোজ্য সম্পূরক শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া মধ্যমস্তরে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশ; উচ্চস্তরে ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ শতাংশ এবং অতি উচ্চস্তরের দাম ১৬০ টাকা থেকে ১৮৫ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ শতাংশ করা হয়েছে। লাইম স্টোন ও ডলোমাইটে ১০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।

অপরদিকে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা হলেই টার্নওভার কর দিতে হতে পারে। বর্তমানে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কর দিতে হয়। নতুন প্রস্তাব অনুসারে, বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকা পেরোলে পণ্য ও সেবা বেচাকেনায় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বসতে পারে। এ ছাড়া মদের বিলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মদের পাশাপাশি আমদানি, উৎপাদন ও সেবা পর্যায়ে বেশ কিছু পণ্য ও সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। যেমন আমদানি পর্যায়ে ফলের রসে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ; তামাকে ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ; সুপারিতে ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে।

বিমান টিকেটের দাম বাড়বে

চলতি বছর ব্যাংক খাতে আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিমান টিকেটে গত কয়েক বছর ধরে আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়নি। ব্যাংক খাতে আর্থিক নিরাপত্তা ও বাধ্য হয়ে মানুষ টাকা রাখে। তার উপর প্রায় সব হিসাবধারীকে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু বিদেশ ভ্রমণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে নয়—কখনো কর্মের, আবার কখনো ভ্রমণের জন্য যেতে হয়। ফলে বিমান টিকেটে আবগারি শুল্ক বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করে এনবিআর। শুধু বাড়ানো নয়, কিছু ক্ষেত্রে যৌক্তিকীকরণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এনবিআর প্রতিবেদনে ‘দি এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট এক্ট, ১৯৪৪’ সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, অভ্যন্তরীণ রুট ও সার্কভূক্ত দেশের বিমান টিকেটে ৫০০ টাকা হারে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। এটা যৌক্তিকীকরণ করা প্রয়োজন। সেজন্য অভ্যন্তরীণ রুটে ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা ও সার্কভূক্ত দেশে বর্তমানের দ্বিগুণ বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হচ্ছে। এছাড়া এশিয়ার দেশগুলোতে দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা এবং ইউরোপের দেশগুলোতে তিন হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার হাজার টাকা করা হয়েছে। আবগারি শুল্ক বাড়ার ফলে টিকেটের দাম বাড়তে পারে।




অভ্যুত্থানে শহীদদের নামে সড়ক নামকরণ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে, শহীদদের নামে বিভিন্ন সড়কের নামকরণের পাশাপাশি তাদের কবরস্থান ও সমাধি স্থল বাঁধাই করার বিষয়েও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিহত হন ২৫ জন ছাত্র-জনতা, এবং আহত হন শতাধিক। আন্দোলনের সময়ে শহীদদের সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের কবরস্থানগুলো নির্দিষ্ট ডিজাইনে বাঁধাই করা হবে। এছাড়া, শহীদদের নামে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নামকরণ করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শহীদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো হবে।

এদিকে, অনেক পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শহীদ বা আহত হওয়ার ফলে তাদের আর্থিক অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। এসব পরিবারের সাহায্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবী করেছেন তারা।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানিয়েছেন, “২৪ তারিখের গণআন্দোলনে আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করতে আমরা কাজ করছি।”

ইতিমধ্যে, পটুয়াখালী শহরের সার্কিট হাউজ চত্বরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার নামে হৃদয় তরুয়া চত্বর নামকরণ করা হয়েছে। তার বড় বোনকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরী দেওয়া হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম