বরিশালে চিকিৎসকের মহতি উদ্যোগ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান

বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে সাধারণ রোগের চিকিৎসা ও সেবা পাওয়া যেন অনেক সময় দুরূহ হয়ে ওঠে। তাছাড়া, রোগবিহীন সাধারণ চিকিৎসকের কাছেও গেলেও অনেক সময় অতিরিক্ত টেস্ট ও ব্যয়বৃদ্ধি রোগীদের জন্য নতুন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে, এমন সময়ে বরিশালের এক চিকিৎসক তার অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে প্রতিদিনই রোগীদের সঠিক পরামর্শ প্রদান করছেন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিশেষ করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে।

ডা. মো. মাহাবুব আলম মির্জা, দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেজিস্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০২০ সালের মার্চ মাসে “স্বাস্থ্য গ্রুপ গৌরনদী-আগৈলঝাড়া” নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেন। এই গ্রুপের মাধ্যমে তিনি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছেন। বর্তমানে গ্রুপের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮০০, যেখানে সদস্যরা বিভিন্ন রোগ, রোগের ধরন এবং প্রতিকার সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ডা. মাহাবুব আলম মির্জা বলেন, “গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় এখানকার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। অনেক সময় পরিচিতজনরা স্বাস্থ্য সেবা নিতে ফোন করেন, কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সেসব ফোন গ্রহণ করা সম্ভব হতো না। তাই, আমি স্বাস্থ্য সেবা সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছি। এতে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।”

গ্রুপের সদস্যরা জানিয়েছেন, সাধারণ রোগ সম্পর্কে লিখলেই তারা বিনামূল্যে সঠিক পরামর্শ পাচ্ছেন। এতে যেমন তাদের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি সময়ও বাঁচছে। তারা আরো জানান, যদি অন্যান্য চিকিৎসকরাও এমন উদ্যোগ গ্রহণ করতেন, তাহলে আরও অনেক মানুষ উপকৃত হতো।

ডা. মাহাবুব আলম মির্জা বিশ্বাস করেন, স্বাস্থ্য সেবার সহজ তথ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে দিলে অসুস্থতা প্রতিরোধে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারবে। তার এই উদ্যোগ একদিকে যেমন স্থানীয় জনগণের জন্য উপকারি, তেমনি স্বাস্থ্য খাতে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় স্কুল মাঠ থেকে উদ্ধার বিদেশি শটগান, মালিকানা নিয়ে ধোঁয়াশা

ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি স্কুল মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে একটি বিদেশি শটগান। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের মধ্য কালমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ব্যাডমিন্টন ব্যাটের ব্যাগের মধ্যে গোপনভাবে রাখা শটগানটি উদ্ধার করে পুলিশ।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমোহন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রের গায়ে একটি নাম্বার রয়েছে এবং সেই নাম্বারের মাধ্যমে অস্ত্রটির মালিকানা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এমনকি এই শটগানটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত হতে পারে, কারণ গত বছর বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারণা করছে, এটি কোন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও হতে পারে।

এদিকে, লালমোহন থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এছাড়াও এটা হতে পারে একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন অস্ত্র, যার লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে অস্ত্রটি স্কুল মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে। আবার এটি অবৈধ অস্ত্রধারীরও হতে পারে। আমরা অস্ত্রটির মালিকানা শনাক্তের চেষ্টা করছি এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বাদ হচ্ছে ভুয়া তথ্য দেওয়া ৬০ হাজার টিসিবি কার্ড

বরিশালে চলতি মাস থেকে শুরু হয়েছে টিসিবির স্বল্পমূল্যে পণ্য বিতরণ, তবে এবার স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিতরণের ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য প্রদানকারীদের কার্ড বাতিল করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে টিসিবির ৬০ হাজার ভুয়া কার্ড বাতিলের আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবং এতে প্রকৃত দরিদ্রদের জন্য নতুন করে স্মার্ট কার্ড বিতরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

টিসিবি বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে মোট ৯০ হাজার উপকারভোগী রয়েছে, তবে এর মধ্যে ৬০ হাজারের স্মার্ট কার্ড এখনও আসেনি। পাশাপাশি, বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় বর্তমানে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৯২১ জন। ৯১ জন ডিলারের মাধ্যমে উপকারভোগীদের মাঝে তিনটি পণ্য—২ লিটার তেল, ২ কেজি ডাল এবং ৫ কেজি চাল—বিতরণ করা হচ্ছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৯০০ টাকা, তবে উপকারভোগীরা মাত্র ৪৭০ টাকায় তা পাচ্ছেন।

টিসিবির পণ্য উত্তোলন করতে আসা কাসেম ও বাদলসহ কয়েকজন উপকারভোগী জানান, ভুয়া তথ্যের কারণে একাধিক কার্ড রয়েছে একই পরিবারে। বিশেষত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবারগুলোর সদস্যদের একাধিক কার্ড দেওয়া হয়েছে, ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা টিসিবির পণ্য পাচ্ছেন না। তারা অভিযোগ করেন, কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং এটি ভোটার বাগিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

এদিকে, চাঁদমারী এলাকার ডিলার মিজানুর রহমান জানান, তার অধীনে বর্তমানে ২১০০ উপকারভোগী কার্ডধারী রয়েছেন, তবে এই মাসে মাত্র ৬০০ উপকারভোগী স্মার্ট কার্ডের অধীনে পণ্য পাবেন। এর কারণ, বেশিরভাগ কার্ডে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং অনেক কার্ডের ঠিকানা ভুল, এমনকি পিতার নামও সঠিক নয়। কিছু কার্ডের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের কার্ড পাওয়া গেছে, যা বাতিল করা হয়েছে।

টিসিবি বরিশালের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী শতদল মন্ডল জানিয়েছেন, স্মার্ট কার্ডে পণ্য বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও স্বচ্ছতা লাভ করবে। তিনি বলেন, “তথ্য যাচাইয়ের পর যাদের সঠিক তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের জন্য স্মার্ট কার্ড তৈরি করা হচ্ছে।”

এদিকে, কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপকারভোগীরা, এবং তারা দাবি করেছেন যে, যারা এতদিন কার্ড পাননি, তাদের জন্য নতুন স্মার্ট কার্ড দেওয়া হোক।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১০ বছর ধরে শতাধিক পাখিকে খাবার খাওয়ান বাকেরগঞ্জের বিপুল দাস

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ১০ বছর ধরে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে শতাধিক পাখিকে খাবার খাওয়াচ্ছেন বিপুল দাস (৪৫), যিনি বাপ্পি মিষ্টান্ন ভান্ডারের হোটেল কর্মচারী। প্রতিদিন সকালে দোকানে বেঁচে থাকা খাবার যেমন পুরি, সিঙ্গারা, রুটি ও মিশ্রিত খাবার দিয়ে পাখিদের খাওয়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকেন। তার এই অসামান্য ভালোবাসা দেখতে স্থানীয়রা নিয়মিত আসেন।

বিপুল দাস বাকেরগঞ্জ পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৬:৩০ মিনিটে দোকানের সামনে কোনো পাখির উপস্থিতি নেই। কিন্তু দোকান খোলার পর মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে দোকানের সামনে রাস্তার উপরে বসে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, পাখিদের খাবার দেওয়ার সময় হয়েছে। দোকানে থাকা পুরি, সিঙ্গারা, পাউরুটি ও মিশ্রিত খাবার নিয়ে তিনি রাস্তার উপর খাবার ছিটিয়ে দেন। ১০ মিনিটের মধ্যে পাখিরা খাবার খেয়ে উড়ে চলে যায়।

বিপুল দাস জানান, “আমি ১৫ বছর ধরে বাপ্পি মিষ্টান্ন ভান্ডারে কাজ করি। প্রায় ১০ বছর আগে দোকানে বসে রুটি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ দুটি কাক এসে রুটির কিছু অংশ মাটিতে ফেলে দেয় এবং খাবার খেয়ে চলে যায়। পরের দিন আমি দোকান খুলতেই আবার ঝাঁক ঝাঁক পাখি চলে আসে। তখন থেকেই আমি নিয়মিত তাদের খাবার দিয়ে আসছি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন শতাধিক পাখিকে খাবার দিতে হয়। দোকানে থেকে বেঁচে থাকা খাবার ছিটিয়ে দিলে দোয়েল, কাঠঠোঁকড়া, সারস, বুলবুলি এবং অন্যান্য পাখিরা এসে খাবার খায়। এখন তাদের প্রতি এমন ভালোবাসা আর সেবা আমি বাকিটা জীবন অব্যাহত রাখতে চাই।”

বিপুল দাসের দাবি, “খাবার দিতে একটু দেরি হলে পাখিদের শোরগোল আরও বেড়ে যায়, আর যদি দ্রুত খাবার দেওয়া হয়, তবে খাবার শেষ হলে তারা দ্রুত উড়ে চলে যায়।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় বিলুপ্তির পথে মুক্ত মৌমাছি

বরগুনার আমতলী অঞ্চলে মুক্ত মৌমাছির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত সমস্যাগুলি, এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে মৌমাছিরা একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। ফসলে কীটনাশকের অতিমাত্রায় প্রয়োগ, মৌচাকে আগুন দিয়ে মৌমাছি মারা, খাদ্যের অভাবসহ নানা কারণে মুক্ত মৌমাছির অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বরগুনার গ্রামীণ অঞ্চলে, বিশেষ করে আমতলীতে, প্রকৃতির মধ্যে থাকা মৌচাক আজ দুর্লভ হয়ে উঠেছে।

বরিশাল অঞ্চলের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত বরগুনার আমতলীতে, এক সময় মৌমাছির ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনে তা এখন আর শোনা যায় না। স্থানীয়দের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ মিলে মুক্ত মৌমাছির প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। মৌমাছির খাদ্যও এখন অনেক কমে গেছে, যার ফলে প্রাকৃতিক মৌচাকও প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মুক্ত মৌমাছির সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায়, ফসল ও ফলফলাদির পরাগায়ণ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এবং খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ঈসা ইকবাল বলেন, “মধুর মধ্যে প্রচুর পুষ্টি ও খাদ্যগুণ রয়েছে। মধু দুধ বা পানি দিয়ে মিশ্রণ করে খেলে হারানো শক্তি ফিরে পাওয়া যায়। তাছাড়া মধু বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।”

এছাড়া, মধু সংগ্রহকারী মৌয়াল ও মৌচাষিরা জানাচ্ছেন, অতীতে বনে-জঙ্গলে, গাছের ডালে, মাটির গর্তে মৌচাক পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে এসব জায়গায় আর মৌচাক খুঁজে পাওয়া যায় না।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশে প্রথম রিওভাইরাস শনাক্ত, কি জানা উচিত

দেশে প্রথমবারের মতো রিওভাইরাস (রেসপিরেটরি এন্টারিক অরফান ভাইরাস) শনাক্ত হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর) পাঁচ জনের শরীরে এই ভাইরাসটি চিহ্নিত করেছে। রিওভাইরাস মূলত হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।

বিশ্বে প্রথম রিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ১৯৫০ সালে। এই ভাইরাসটি সাধারণত অন্ত্রের সংক্রমণ সৃষ্টি করে এবং পানির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। শিশুদের ডায়রিয়া এবং জ্বরের কারণও হতে পারে রিওভাইরাস। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের ৩-৬ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়, তবে এটি তুলনামূলকভাবে কম ভয়াবহ এবং সাধারণত সহজেই চিকিৎসা করা যায়।

রিওভাইরাসের লক্ষণ:

ডায়রিয়া: পানি জাতীয় পাতলা মল, যা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

জ্বর: শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।

বমি: খাবার খাওয়ার পর বমি হতে পারে।

পেটে ব্যথা: অন্ত্রের অস্বস্তি বা পেটের ব্যথা।

শক্তি কমে যাওয়া: শরীর দুর্বল বা ক্লান্ত অনুভূত হতে পারে।

এ ভাইরাস সাধারণত মারাত্মক নয়, তবে এটি গুরুতর ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। সঠিক চিকিৎসা না পেলে এটি জীবনহানির কারণ হতে পারে, তবে যথাসময়ে চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটি নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে।

প্রতিরোধের উপায়: রিওভাইরাসের প্রতিরোধের জন্য টিকা (রিওভাইরাস ভ্যাকসিন) রয়েছে, যা শিশুদের জন্য দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া, হাত ধোয়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খাবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে পুতিন ‘কঠিন অবস্থায় পড়েছেন’ : বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার জানিয়েছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন কঠিন চাপে রয়েছেন। এএফপি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বাইডেন বলেন, “পুতিন এখন কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছেন। তিনি যে ভয়াবহ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা অব্যাহত রাখার আর কোনও সুযোগ নেই।”

বাইডেন আরও উল্লেখ করেন, যদি পশ্চিমা দেশগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত থাকে, তবে ইউক্রেনের বিজয়ের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল। বাইডেন এ কথাও বলেন যে, ট্রাম্পের প্রশাসন পরিবর্তনের পর ইউক্রেনের জন্য আরও কার্যকর সমর্থন নিশ্চিত করা হবে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজ টিভিতে খেলা দেখবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নিউজিল্যান্ড–শ্রীলঙ্কা শেষ ওয়ানডে আজ। বিগ ব্যাশ লিগ ও এসএ২০ তে আছে দুটি করে ম্যাচ। রাতে খেলতে নামবে বায়ার্ন মিউনিখ।

৩য় ওয়ানডে
নিউজিল্যান্ড–শ্রীলঙ্কা
সকাল ৭টা , সনি স্পোর্টস টেন ৫

বিগ ব্যাশ লিগ
সিডনি সিক্সার্স–পার্থ স্করচার্স
সকাল ১১–৪৫ মি., স্টার স্পোর্টস ২

অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স–ব্রিসবেন হিট
বিকেল ৩টা, স্টার স্পোর্টস ২

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল
ঢাকা আবাহনী–চট্টগ্রাম আবাহনী
দুপুর ২–৪৫ মি., টি স্পোর্টস

সৌদি প্রো লিগ
আল ওরোবাহ–আল হিলাল
সন্ধ্যা ৭–৪৫ মি., সনি স্পোর্টস টেন ১

এসএ২০
পার্ল রয়্যালস–ইস্টার্ন কেপ
বিকেল ৫টা, স্টার স্পোর্টস ২

জোবার্গ সুপার কিংস–এমআই কেপটাউন
রাত ৯–৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২

এফএ কাপ
লিভারপুল–অ্যাকরিংটন
সন্ধ্যা ৬–১৫ মি., সনি স্পোর্টস টেন ২

চেলসি–মোরকাম্ব
রাত ৯টা, সনি স্পোর্টস টেন ২

জার্মান বুন্দেসলিগা
মনশেনগ্লাডবাখ–বায়ার্ন মিউনিখ
রাত ১১–৩০ মি., সনি স্পোর্টস টেন ২




ঘোষণাপত্রে শেখ হাসিনার বিচার দেখতে চায় জনগণ: ভোলাতে সারজিস আলম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দাবি করেছেন, জনগণ ২৪-এর অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে সবার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে চায়।

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে ভোলা শহরে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রের সমর্থনে লিফলেট বিতরণ ও পথসভায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন,“শেখ হাসিনার সরকার যে স্বৈরাচারী ও রক্তে জড়িত, তার প্রমাণ বাংলার জনগণ পেয়েছে। ঘোষণাপত্রে জনগণ এই সরকারে থাকা খুনিদের বিচার চায়। ৭ দফা দাবিকে যৌক্তিক বলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন,“গোপালগঞ্জের সিন্ডিকেট বসিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার। জনগণ সেই সিন্ডিকেটকে ধ্বংস করে সমতার একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়। সেই লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জনতা ঐক্যবদ্ধ।”

ভোলার বাংলা স্কুল মোড়, সদর রোড এবং নতুন বাজার এলাকায় আন্দোলনের দাবির সমর্থনে লিফলেট বিতরণ করেন সারজিস আলম। পরে সরকারি স্কুল সংলগ্ন ইলিশা ফোয়ারা মোড়ে পথসভায় বক্তৃতা দেন তিনি।

সভায় আন্দোলনের ৭ দফা দাবির মধ্যে উঠে আসে: গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। আহতদের সরকারি খরচে চিকিৎসা। শেখ হাসিনা ও দোসরদের বিচার নিশ্চিত করা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের স্বীকৃতি।

সারজিস আলম বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদ জসিম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের সহানুভূতি জানিয়ে শহীদ জসিমের কবরও জিয়ারত করেন।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, সমন্বয়ক রাসেল মাহমুদ, এম এ সাঈদ, কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুর রহমান তুহিন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন ফয়সালসহ শত শত শিক্ষার্থী ও জনতা।

প্রসঙ্গত: সারজিস আলমের দাবি করা ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী গণসংযোগ চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

 




বরিশালে ডিসি কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

“এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই” এই স্লোগানে দেশব্যাপী তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপনের অংশ হিসেবে বরিশালে ডিসি কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসন বরিশাল ও ফরমার ক্রিকেটার্স ক্লাব বরিশালের আয়োজনে জেলা আউটার স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন: ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জ মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম,ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক মো. মোস্তফা জামান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. সাইদুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর অতিথিরা বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ডিসি কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫ এর শুভ সূচনা করেন।

উদ্বোধনী ম্যাচে দুই দলের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ দর্শকদের দারুণ আনন্দ দেয়। এই টুর্নামেন্টে ১২টি দল অংশ নিচ্ছে। জেলা ক্রীড়া অফিস ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত এ টুর্নামেন্ট তারুণ্যের ক্রিকেট প্রতিভাকে একত্র করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”