দেশে চাঁদাবাজি-দখলবাজি চাই না: মিজানুর রহমান আজহারী

বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেছেন, দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং দুর্নীতি কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাতে সিলেট এমসি কলেজ মাঠে আঞ্জুমানে খেদমতে কুরআন আয়োজিত তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে বয়ান পেশ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

মিজানুর রহমান আজহারী তার বক্তৃতায় বলেন, “দেশের রাজনীতিতে যখন ক্ষমতার পালাবদল ঘটে, তখন আমরা এক সরকারের দুর্নীতির কাহিনি শুনি, পরবর্তীতে আরেক সরকারের দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠে। আমরা এই বাজে স্বভাবগুলো প্রতিটি দলের মধ্যে দেখতে পেয়েছি। এখন সময় এসেছে আমাদের নিজেদের শুধরে নেয়ার। আমরা চাই না চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা কোনো ধরনের দুর্নীতি দেশে চলতে থাকুক।”

তিনি আরও বলেন, “এটাই নতুন প্রভাতের বাংলাদেশ, নতুন ভোরের বাংলাদেশ। আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে একসাথে এই দেশকে উন্নত করতে কাজ করবো।”

ড. আজহারী জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের শপথ নেওয়ার সময় এসেছে। সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের শপথ নেয়া উচিত যে তারা আর কোনো দিন চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করবে না এবং সবসময় দেশের পক্ষে থাকবে।”

তাফসীর মাহফিলে তিনি একথাও বলেন যে, “যশোরের মাহফিলের বক্তব্য সাধারণ ও সবার জন্য ছিল। রাজনৈতিক প্রসঙ্গে যদি কেউ বলেন, ‘দল করে দেখান’, তবে আমি বলব, আমার প্রথম পরিচয় আমি একজন মুফাসসিরে কুরআন এবং তার পর আমি একজন বাংলাদেশি নাগরিক। দেশের যেকোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলার আমার অধিকার রয়েছে।”

মাহফিলের শেষ দিনে, ড. মিজানুর রহমান আজহারী ছাড়াও তাফসীর পেশ করেন আল্লামা ইসহাক আল মাদানী, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, মুফতি মাওলানা আমীর হামজা, শায়খ হাফিজ মাওলানা আবু সাঈদ, অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী, মাওলানা সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, শায়েখ আজমল মসরুর, মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার, মাওলানা মাহবুবুর রহমান জালালাবী ও মাওলানা হাসানুল বান্না বিন শরিফ আব্দুল কাদির।

এ ছাড়া মাহফিলের বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হাফিজ আব্দুল হাই হারুন প্রস্তাবনা পেশ করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আমতলীতে আদালতের আদেশ অমান্য করে ঘর উত্তোলন

বরগুনার আমতলীর আজিমপুর বাজারে আদালতের আদেশ অমান্য করে ১০ জানুয়ারী একটি ঘর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে তাদের ওপর হওয়া অবিচারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

জানা যায়, আজিমপুর বাজারের কুকুয়া মৌজার মধ্যে অবস্থিত ২২ শতক জমি নিয়ে স্থানীয় এছহাক মীর গং ও ইউনুছ খান গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একাধিকবার শালিস এবং স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা হলেও বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধান হয়নি। ২০২১ সালে এছহাক মীর গংরা আমতলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৭২২/২০২১ এবং আদালতের বিচারাধীন সময়ে বিবাদী পক্ষের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর আদালত থানা পুলিশের মাধ্যমে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

এদিকে, ১০ জানুয়ারী আদালতের আদেশ অমান্য করে বিবাদী পক্ষ এছহাক মীর, শহিদুল মীর, শাহিন মীর ও শামিম মীর একযোগে ওই বিরোধীয় জমিতে ঘর উত্তোলন করতে শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘর উত্তোলনের কাজ বন্ধ করে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনুছ খান এর পুত্র বাবুল খান অভিযোগ করে বলেন, “এছহাক মীর ও তার সহযোগীরা আমাদের জমি দখল করার জন্য আইন অমান্য করছে। তারা একাধিকবার শালিস ব্যবস্থাকে অমান্য করে আমাদের জমিতে ঘর উত্তোলন করে, যা মেনে নেয়া যায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাচ্ছি।”

এ প্রসঙ্গে, এছহাক মীরের পুত্র শহিদুল মীর তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতের আদেশ অমান্য করে ঘর উত্তোলন করা নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেন, “ঘর উত্তোলনের কাজ বন্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলাতে এক দিনও চলেনি ৩০ লাখ টাকার নৌ অ্যাম্বুলেন্স

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেওয়া একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স ৫ বছর ধরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে, এবং এক দিনও রোগী পরিবহন করতে পারেনি। দুর্গম চরবাসীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার এটি বরাদ্দ করলেও এটি এখনো কাজে আসেনি।

২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি তজুমদ্দিন হাসপাতালে হস্তান্তর করা এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি শশীগঞ্জ স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশে একটি খালে পড়ে রয়েছে। এর সামনের গ্লাস, মেশিন এবং ভেতরের বসার সিট সবই ভেঙে গেছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি বর্তমানে রোগী বহনের জন্য অযোগ্য হয়ে গেছে। তাছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫০ হাজার টাকা তেল খরচ বাবদ নেওয়া হলেও তার কোনো বিল বা ভাউচার দেখানো হয়নি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন যে, চরাঞ্চলের মানুষ যেখানে প্রতিদিন খাল বা নদী পারাপারের জন্য ট্রলার ব্যবহার করছে, সেখানে এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কোনো কাজে আসেনি। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল্যাহ জানান, চরবাসী কখনোই এই নৌ অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা পায়নি, এবং এটি শুধুমাত্র সরকারি টাকার অপচয় হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ জানায়, কমিউনিটি বেসড হেলথ কেয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি বরাদ্দ হলেও পরবর্তীতে এটি বিকল হয়ে যায়। যদিও গত ২০২৩ সালে এক ড্রাইভারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, তবে অ্যাম্বুলেন্সটি এখনো কোনো কাজে আসেনি।

এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার সরকার জানান, এটি বর্তমানে মেরামতের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে, তবে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কীভাবে এই অ্যাম্বুলেন্সটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধান করা যায়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কলকাতার পার্নো মিত্রকে নিয়ে বড়পর্দায় আসছেন মোশাররফ করিম

বেশ কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা মোশাররফ করিম ও কলকাতার মেধাবী অভিনেত্রী পার্নো মিত্রকে নিয়ে “বিলডাকিনি” নামের একটি ছবির ঘোষণা হয়। ছবির কাজও প্রায় শেষ হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে মুক্তি পায়নি এটি। তবে অবশেষে ছবিটির পোস্টার উন্মোচন ও মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) ছবির মুক্তির তারিখ এবং পোস্টার উন্মোচন করা হয়। নির্মাতা ফজলুল কবীর তুহিন, যিনি নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীরের ব্যতিক্রমধর্মী কাহিনী অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন, শুটিং স্পটে দাঁড়িয়ে পোস্টার উন্মোচন করেন। এই সময় জানানো হয় যে ছবিটি আগামী ২৪ জানুয়ারি দেশের সকল সিনেপ্লেক্সসহ আরও কিছু হলে মুক্তি পাবে।

ছবির পোস্টারে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা মোশাররফ করিমের পাশাপাশি পার্নো মিত্রকেও দেখা গেছে। মোশাররফ করিম “বিলডাকিনি”-তে মানিক মাঝি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি বাউলের সন্তান। অন্যদিকে, পার্নো মিত্র অভিনয় করেছেন গ্রামীণ নারী হানুফা চরিত্রে, যার গল্পই ছবির মূল কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দু।

পোস্টার উন্মোচন অনুষ্ঠানে মোশাররফ করিম বলেন, “‘বিলডাকিনি’ আমার একটি প্রিয় ছবি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, এটি আমাদের সমাজের কথা বলে, সমাজের সমস্যার কথা বলে এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের কথা বলে। এটি মানুষকে অমানুষ হয়ে ওঠার বদলে মানুষ হওয়ার কথা বলে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অভিনয় করে সন্তুষ্ট এবং তৃপ্ত। আমি চাই ছবিটি সবাই দেখুক।”

নির্মাতা ফজলুল তুহিন বলেন, “এই ছবিটি একজন নারী ও তার মাতৃত্বের স্বাধীনতার প্রশ্নে অসম্ভব লড়াইয়ের গল্প। চিরায়ত বাংলার রূপ এবং মানুষের চিরায়ত দুঃখও দর্শকরা দেখতে পাবেন।”

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুদানে নির্মিত এই ছবিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহাজাহান সম্রাট, লুৎফর রহমান জর্জ, শিল্পী সরকার অপু, রশীদ হারুন, হাবিব মাসুদ, আইনুন নাহার পুতুল, ইউসুফ হাসান অর্ক, মাহবুবুর রহমান, তিথি, মেহেদী হাসান সোমেন। ছবির শ্যুটিং হয়েছে নওগাঁ, নাটোর এবং বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কারাগারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিগ ব্যাশে অদ্ভুতভাবে আহত ওয়ার্নার

বিগ ব্যাশ লিগে ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা, যেখানে ব্যাটের আঘাতে আহত হলেন অজি তারকা ডেভিড ওয়ার্নার। সিডনি থান্ডার এবং হোবার্ট হ্যারিকেন্সের ম্যাচে এই দৃশ্যটি দেখা যায়। তবে, চোট পেলেও দমে যাননি তিনি এবং দলের ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন।

ক্রিকেটে ব্যাট ভাঙার ঘটনা নতুন নয়। অনেক সময় দেখা যায়, ব্যাটারের শট নেওয়ার পর ব্যাটের একাংশ উড়ে যায় বা ব্যাট হাতে ছুটে গিয়ে ফিল্ডিং খেলোয়াড়দের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ওয়ার্নারের ক্ষেত্রে এমন কিছু ঘটেনি।

এ ঘটনায়, হোবার্টের রাইলি মেরেডিথের বল মিড অফে বাউন্ডারি মারার পর ওয়ার্নারের ব্যাটের হাতল থেকে বাকি অংশ আলগা হয়ে যায়। সুইংয়ের শেষ মুহূর্তে আলগা হওয়া অংশ এসে ওয়ার্নারের ঘাড়ে লাগে। চমকে ওঠেন ওয়ার্নার নিজেও, তবে বড় কোনো চোট পাননি তিনি। হেলমেট থাকায় এই যাত্রায় নিরাপদে ছিলেন। তবুও দলের চিকিৎসক এসে তাকে পরীক্ষা করে যান।

ব্যাট বদল করে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন ওয়ার্নার। তিনি খেলেন ৮৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। যদিও সিডনি থান্ডার ম্যাচটি জিততে পারেনি, তবে ওয়ার্নারের ইনিংসের সুবাদে তারা ১৬৪ রান সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, টিম ডেভিডের ৩৮ বলে ৬৮ রানের ইনিংসে হোবার্ট হ্যারিকেন্স ১৬.৫ ওভারে ম্যাচটি জিতে নেয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু-প্রবীণরা

বরিশাল বিভাগে শীতের প্রকোপ বাড়ায় ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও প্রবীণরা। এর ফলে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগ হাসপাতালে কাক্সিক্ষত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ জন। এছাড়া, ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৭৪ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ৪৭৪ জন এবং ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৭৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন এবং জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সচেতন থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।

বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট এবং ডায়েরিয়া রোগে আক্রান্তদের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচতে শীতকালীন সাবধানতা অবলম্বন করা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। শীতের সময় শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ যত্ন নিতে হবে এবং তাদের সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে আরো মনোযোগী হতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে কেন্দ্রের নির্দেশ ভেঙে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার বিশাল শোডাউন

বরিশাল নগরীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা অমান্য করে বিশাল শোডাউন করেছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার। দলের উচ্চ পদস্থ নেতাদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এ শোডাউনটি অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক যানজট এবং দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

শনিবার সকালে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় বিএনপির পদবঞ্চিত নেতারা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করছিলেন। এ সময় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ঢাকার দুই শীর্ষ নেতার আগমন ঘটে, এবং বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা সহকারে তারা নগরীতে প্রবেশ করেন। তাঁদের বহনকারী দুটি মাইক্রোবাসের পেছনে অসংখ্য মোটরসাইকেলের বিশাল একটি বহর ছিল, যা নথুল্লাবাদসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানজট সৃষ্টি করে।

এভাবে একটি শোডাউন আয়োজনের ফলে জনগণের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়, বিশেষ করে যানবাহন শ্রমিক, যাত্রী এবং পথচারীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়ে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন, যাতে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা না আসে।

বরিশালের মহানগর বিএনপির সাবেক নেতারা বলেন, দলের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে এই ধরনের শোডাউন পরিচালনা করা দলের প্রতি অসম্মানজনক।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘‘এ ধরনের শোডাউন বা বিলবোর্ড স্থাপন নিষিদ্ধ, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক এবং সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের এই শোডাউন নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য হলেন শরফুদ্দিন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য হিসেবে মো. শরফুদ্দিনকে তিন বছরের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। পবিপ্রবি আইন, ২০০১-এর ধারা ১৮ (১)(ট) এবং ১৮ (৪) অনুযায়ী এই মনোনয়ন দেওয়া হয়।

ইনোভা আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরফুদ্দিনকে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো. শরফুদ্দিন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার অধিবাসী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রিনিউয়েবল এনার্জি টেকনোলজি বিষয়ে এমএস এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পেশাগত দক্ষতা এবং শিক্ষা জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করেছে।

তাঁর পেশাগত জীবনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের অ্যাডজাসেন্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করেছে।

মো. শরফুদ্দিন একজন লেখকও। তাঁর লেখা “Physics Panacea” নামের একটি বই রয়েছে, যা শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীদের কাছে প্রশংসিত।

শিক্ষা এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল ডিবেটিং ক্লাব এবং বাঁধন ব্লাড ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি এসএএম ফাউন্ডেশনের সাবেক সদস্যসচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দশমিনা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এবং সেন্টার ফর ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

মো. শরফুদ্দিনের এই মনোনয়ন পবিপ্রবির উন্নয়ন এবং পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



‘বিয়ের গণ্ডগোল’ নিয়ে জোভান-তটিনী: প্রেম, বিয়ে এবং সাসপেন্সের মিশ্রণ

নতুন বছর শুরুতেই মুক্তি পেয়েছে চমকপ্রদ নাটক ‘বিয়ের গণ্ডগোল’। প্রেম, বিয়ে এবং মজার সাসপেন্সের মিশ্রণে তৈরি এই নাটকটি দর্শকদের কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। গত ৯ জানুয়ারি ইউটিউবে মুক্তির পর এক দিনের মধ্যে নাটকটির ভিউ অতিক্রম করেছে ১১ লাখেরও বেশি, এবং সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যের ঘরে পড়ছে প্রশংসা ও করতালি।

নাটকটির গল্পে দেখা যায়, দুই প্রধান চরিত্র অনিক (ফারহান আহমেদ জোভান) এবং তন্দ্রা (তানজিম সাইয়ারা তটিনী)। অনিকের মা, মনিরা বেগম, সাইকো টাইপের একজন মহিলা, যিনি প্রায়ই আত্মহত্যার হুমকি দেন। তাই, তার সাথে বিয়ে করার জন্য অনিকের বন্ধুর মেয়ে তন্দ্রার সঙ্গে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু, তন্দ্রারও এক প্রেমিক রয়েছে এবং তার বাবা খুব রাগী। একদিকে তন্দ্রা ভীতু, অন্যদিকে অনিকও সাহস করতে পারেন না। ফলে, তাদের উভয়ের অজান্তেই এই বিয়েতে রাজি হতে হয়।

নাটকটির চিত্রনাট্য লিখেছেন জয়নাল আবেদিন এবং পরিচালনা করেছেন মাসরিকুল আলম। সিএমভি’র ব্যানারে নির্মিত এই নাটকটি দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে এবং ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

নির্মাতা মাসরিকুল আলম জানান, “আমরা চেষ্টা করেছি প্রেম আর ঘর পালানোর গল্প নিয়ে একটা ভিন্নমাত্রার গল্প উপস্থাপন করতে। দর্শকদের প্রশংসা এবং ইউটিউব ভিউ দেখে মনে হচ্ছে, সেই চেষ্টায় আমরা কিছুটা সফল।”

নাটকটির প্রধান দুই অভিনেতা জোভান ও তটিনী নিজেদের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন। এছাড়া, নাটকে আরও অভিনয় করেছেন মনিরা মিঠু, কচি খন্দকার, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মিলি বাশার প্রমুখ। নাটকটি প্রযোজনা করেছেন এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘অন্তর্বর্তী সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে’: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্রমান্বয়ে ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো সফলতা নেই। তিনি আরও বলেন, নতুন করে শতাধিক পণ্যে ভ্যাট বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে, যা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থায় ফাটল ধরাতে পারে।

আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের এসব কার্যক্রম দেশের সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করবে।”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরও বলেন, নতুন পাঠ্যবইয়ে বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে। নবম-দশম শ্রেণির পৌরনীতি বইয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভুল তথ্য তুলে ধরেছে, যেখানে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও পাঠ্যবইয়ে আওয়ামী লীগকে হিরো আর বিএনপিকে হেয় করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “এটি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”

নতুন পাঠ্যবইয়ে আওয়ামী লীগের বন্দনা এবং বিএনপির বিরুদ্ধে যে ধরনের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে, তা দ্রুত সংশোধন করার দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, “এটি আওয়ামী দোসরদের একটি নীলনকশা, যা বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম