ভাবির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক: বাধা দেওয়ায় স্ত্রীসহ তিনজনকে পিটুনির অভিযোগ

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বামীর অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তোলায় স্ত্রীসহ পরিবারের তিনজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী স্ত্রী।

জানা গেছে, ১২ বছর আগে বাকাল ইউনিয়নের ফুলশ্রী গ্রামের ইউনুস ফরিয়ার মেয়ে তানজিলা আক্তারের সঙ্গে পূর্ব রাংতা গ্রামের আবুল মোল্লার ছেলে রকিব মোল্লার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। তবে রকিবের ভাই প্রবাসে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী ও রকিবের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে তানজিলা আপত্তি তোলায় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

পরে তানজিলা বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি মীমাংসার কথা বলে শুক্রবার রাত ৯টায় রকিবের বাড়িতে গেলে তানজিলা, তার চাচা শাহজাহান ফরিয়া এবং ভাইয়ের ছেলে আলামিনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তানজিলা ও আলামিন গুরুতর আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীরা মোটরসাইকেল, নগদ টাকা এবং এটিএম কার্ডও নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

রকিব মোল্লা বলেন, “আমাদের যৌথ পরিবার। আমার ভাই মারা যাওয়ার পর তানজিলা আলাদা হওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় সে রাগ করে চলে যায় এবং রাস্তায় তার পরিবারের লোকজন আমাকে মারধর করে। কারা তাদের ওপর হামলা করেছে, তা আমি জানি না।”

আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, “অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই মিল্টন মণ্ডলকে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বরিশালে ঠান্ডাজনিত রোগে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

বরিশালে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তিরা এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীদের ভিড়। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেক রোগীর স্বজন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী: গত ২৪ ঘণ্টায় শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ জন। ডায়রিয়ার কারণে ভর্তি হয়েছেন ১৭৪ জন।

এ বছর এখন পর্যন্ত শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ৪৭৪ জন এবং ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১,৭৯১ জন।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। তারা আরও জানান:

1. শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

2. শীতের সময় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে মনোযোগী হতে হবে।

3. উষ্ণ পোশাক পরিধান এবং গরম পানি পান করার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে।

4. জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং সর্দি-কাশির উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসকরা জনগণের প্রতি স্বাস্থ্য সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শীতকালীন অসুখ-বিসুখ প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা অত্যন্ত জরুরি।”

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ঝালকাঠিতে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের মানববন্ধন

পিলখানা ট্রাজেডির ঘটনায় চাকরিচ্যুত হওয়া বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহাল, কারাবন্দিদের মুক্তি এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবিতে ঝালকাঠিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে ‘বিডিআর কল্যাণ পরিষদ’ জেলা শাখার ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নেন।

ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বক্তারা বিডিআর সদস্যদের প্রতি বিদ্যমান অবিচার বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ডিএডি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “পিলখানা ট্রাজেডির প্রকৃত দোষীরা এখনো শাস্তি পায়নি। নিরপরাধ সদস্যদের পুনর্বহাল ও আটক সদস্যদের মুক্তি দেওয়া জরুরি।”

হাবিলদার গিয়াস উদ্দিন উল্লেখ করেন, “আমাদের আত্মসম্মানহানি হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”

বিডিআরের সন্তান জেসমিন আক্তার বলেন, “আমার বাবা এবং তার সহকর্মীরা অন্যায়ভাবে ভোগান্তির শিকার। আমরা তাদের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।”

বক্তারা তৎকালীন ঘটনায় ভুলভাবে চাকরিচ্যুত হওয়া সদস্যদের পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পিলখানা ট্রাজেডির ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবিও তোলেন।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ঝালকাঠিতে বাসন্ডার নড়বড়ে সেতুতে চলছে ৮০ টনের যান!

ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীর ওপর নির্মিত মাত্র সাত টনের ওজন ধারণক্ষম সেতুটির ওপর দিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে ৭০ থেকে ৮০ টনের ভারী যানবাহন। সেতুটির দুর্বল অবস্থা যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সড়ক বিভাগ।

সড়ক বিভাগ জানায়, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে পিরোজপুর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সরু ও নড়বড়ে সেতুটি দক্ষিণাঞ্চল থেকে খুলনা ও ঢাকার যাতায়াতের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহনের কারণে সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

বাসন্ডা সেতু এলাকার বাসিন্দারা জানান, ভারী যান চলাচলের সময় সেতুটি দুলে ওঠে এবং মাঝের প্লেট দেবে যায়। কখনো কখনো জোড়াতালি দেওয়া প্লেট ছুটে যায়। তারা দ্রুত চার লেনের নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্রাকচালক সাদ্দাম হোসেন জানান, ঝুঁকি জেনেও তিনি সাত টনের সেতুর ওপর দিয়ে ২০ টন মালবোঝাই ট্রাক নিয়ে চলাচল করেন। খুলনা থেকে গৌরনদী হয়ে আসতে বেশি দূরত্ব পার হওয়ার চেয়ে এই সরাসরি পথটি কম খরচ সাপেক্ষ।

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহারীয়ার শরীফ খান জানান, নতুন আরসিসি সেতু নির্মাণের নকশা জমা দেওয়া হয়েছে এবং ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে কাজ শুরুর সময়সীমা অনিশ্চিত। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজনের যান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।

বাসন্ডা সেতুর পরিবর্তে নতুন সেতু নির্মাণ এবং মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি করছেন এলাকাবাসী। এটি বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ঢাকা, খুলনা ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরো সহজ হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যুক্তরাষ্ট্রে পশ্চিমে দাবানল, দক্ষিণে তুষার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভয়াবহ দাবানলে জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস শহর। পাঁচ দিনেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। অনাবৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসে আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দেশটির দক্ষিণে ঠিক বিপরীত চিত্র। সেখানে উষ্ণ হিসেবে পরিচিত অনেক অঙ্গরাজ্যে এখনো কনকনে শীত, চলছে তুষারপাত।

প্রতিবছরে সেপ্টেম্বর থেকে মে পর্যন্ত ঠান্ডা মাসগুলোতে ক্যালিফোর্নিয়ার ওপর দিয়ে ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়। সান্তা আনা নামের এই বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠে। কমিয়ে দেয় বাতাসের আর্দ্রতা। এ কারণে আগেও অঙ্গরাজ্যটিতে দাবানল হয়েছে। তবে এবার আরেকটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনাবৃষ্টি। গত মে মাস থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে মাত্র শূন্য দশমিক ৩ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মূলত ঝড়ো বাতাস এবং অনাবৃষ্টিই লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলকে এতটা ভয়াবহ করে তুলেছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে দাবানলের কারণে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আগুনে পুড়ে গেছে ১০ হাজারের বেশি অবকাঠামো। শুক্রবার পর্যন্ত দাবানলে ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া বিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট অ্যাকুওয়েদার।




আ. লীগের পলাতক নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে নৈশভোজের অনুষ্ঠানে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গেছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে।

বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে গ্লাসগোর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে লেবার পার্টির আয়োজিত নৈশভোজে যান আনোয়ারুজ্জামান। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে আনোয়ারুজ্জামান পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে এরপর হত্যাসহ একাধিক মামলা হয়।

প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
প্রধানমন্ত্রীর স্টারমারের সমালোচনা করে বলেছে, অর্থ আত্মসাৎ এবং আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যায় অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বিতাড়িত আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন স্টারমার।




৪৩তম বিসিএস : ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে পদায়ন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ৪৩তম বিসিএসের ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখার ৩০ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনে ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন জানানো হয়, নিয়োগ পাওয়া সহকারী কমিশনারদের চাকরি শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার হিসেবে যথোপযুক্ত পদে পদায়নের জন্য তাদের বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ন্যস্ত করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, এসব কর্মকর্তাকে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে যোগদানের নির্দেশ করা হলো। যোগদান করা সহকারী কমিশনারদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।




আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং নিষেধাজ্ঞায় সাকিব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গুঞ্জনটাই দিনশেষে হলো সত্যি। চেন্নাইতে নিজের দ্বিতীয় বোলিং পরীক্ষাতেও পাস করা হলো না সাকিব আল হাসানের। বার্মিংহামের পর চেন্নাইতেও নিজের বোলিং অ্যাকশন শোধরাতে না পারায় সাকিবের ওপর নেমে এলো নিষেধাজ্ঞার খড়গ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং থেকেই নিষিদ্ধ হচ্ছেন তিনি।

গেল দুদিন ধরেই বাতাসে ভাসছিল তথ্য। চেন্নাইয়ে সাকিব আল হাসানের বোলিং অ্যাকশন বৈধতা পায়নি। নিয়ম অনুযায়ী, পরপর দুই বোলিং টেস্টে ব্যর্থতার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করা হচ্ছে না তার। যদিও খেলে যেতে পারবেন লাল-সবুজের জার্সিতে। খেলতে হবে ব্যাটার পরিচয়ে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ওপর ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) অধীন প্রতিযোগিতায় বোলিং করার নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। গত মাসে ভারতের চেন্নাইয়ে শ্রী রামচন্দ্র স্পোর্টস সায়েন্স সেন্টারে পুনর্মূল্যায়নের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




হাসিনার দোসররা মাদরাসার ছাত্র দেখলে টার্গেট করে গুলি করত: সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক কমিটির মূখ্য সংগঠন সারজিস আলম দাবি করেছেন, বছরের পর বছর ধরে খুনি শেখ হাসিনার হাত থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসছে দেশের মানুষ। গোলাপগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ ছিল হাসিনার ক্ষমতার শিকার। তিনি বলেন, হাসিনার খুনির দোসররা মাদরাসার ছাত্রদের টার্গেট করে গুলি করত, এবং এজন্য ছাত্ররা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পাঞ্জাবি পাজামা না পরে টিশার্ট গায়ে দিয়ে আন্দোলনে যোগ দিত। এমন পরিস্থিতি শুধু মাদরাসা নয়, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ নগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত “২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে ও ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ জুলাই বিপ্লবোত্তর আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম আরও বলেন, “আমরা অনেক জীবন ও রক্ত দিয়েছি, কিন্তু আমাদের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণ হয়নি। শহীদদের পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, খুনি হাসিনার দোসরদের বিচার হওয়া উচিত, কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের অনেক রাজনৈতিক দল এখনো আওয়ামী লীগের দোসরদের মদদ দিচ্ছে। সংস্কারের কথা বলছি, কিন্তু যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে কেন কথা বলছি না? তাদের বিরুদ্ধে কথা না বললে অভ্যুত্থানের কোনো সফলতা আসবে না।”

তিনি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট এবং পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তার মতে, “চাঁদাবাজি হচ্ছে, এবং প্রতিটি বাজারে এর জন্য পণ্যের দাম বাড়ছে। সরকারকে দোষারোপ করলে লাভ হবে না।”

সারজিস আলম আরও বলেন, “আজকের দিনেও হাসিনার দোসররা যাদের টার্গেট করেছে, তাদের মেরেছে। আমরা চাই না, ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটুক। ২৪ সালের অভ্যুত্থান সেই ফলাফল হতে যাচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। প্রতিবাদ করতে হবে, বুক চিতিয়ে, দেশ ও মানুষের জন্য।”

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




দুই যুগের জটিলতায় অস্থির বরিশালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএড ও বিপিএড কলেজ

বরিশালের বিএড এবং বিপিএড কলেজগুলো প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা জটিলতায় ভুগছে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কলেজ দুটি আর্থিক দুর্নীতি, দালালচক্র এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পক্ষের মাঝে দ্বন্দ্বে অস্থির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, খন্ডকালীন শিক্ষক মো. ফয়জুল হক মিলন, যিনি রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে কলেজটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন, এর কেন্দ্রবিন্দু বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, মিলন এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র দাবি করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন।

১৯৯৮ সালের ২০ মে, বরিশাল শহরের টিটিসি এলাকার রওনক ম্যানশনের একটি কক্ষে কার্যক্রম শুরু করে বরিশাল কলেজ অব এডুকেশন (বিএড) ও কলেজ অব ফিজিক্যাল এডুকেশন (বিপিএড)। প্রতিষ্ঠালগ্নে কলেজের সভাপতি ছিলেন প্রফেসর মো. হানিফ এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অধ্যক্ষ গৌড়াঙ্গ চন্দ্র কুন্ডু। কমিটির সদস্য ও হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন এ্যাড. আব্দুল খালেক মনা। ২০০০-২০০১ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজ দুটি অন্তর্ভুক্তির পর, ২০০১ সালে কলেজ ক্যাম্পাস উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। তবে, এরপর থেকে শুরু হয় কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিভক্তি।

এ্যাড. আব্দুল খালেক মনা অভিযোগ করেন, কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্নে তাকে হিসাবরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালে খন্ডকালীন শিক্ষক ফয়জুল হক মিলন, বিএনপি সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে নানা দুর্নীতি শুরু করেন এবং নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট গড়ে কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। পরে ২০০১ সালের ৩০ জুন তাকে কলেজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও, মিলন বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আঁতাত করে কলেজের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। বর্তমানে, মিলন নিজেকে বিপিএড কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ এবং কখনও আবার অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, এমন অভিযোগও উঠেছে।

তবে, ফয়জুল হক মিলন এসব অভিযোগকে অস্বীকার করে বলেন, এসব তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এবং তিনি কখনও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বা উপাধ্যক্ষ বলে পরিচয় দেননি। তার দাবি, আব্দুল খালেক মনা কলেজের শিক্ষক না হয়ে, আওয়ামী লীগ নেতাদের মদদপুষ্ট হয়ে কলেজটির নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করেছেন।

কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ কাজী মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ফয়জুল হক মিলনের সমর্থনে কলেজের অর্থ আত্মসাৎ এবং সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে একটি মামলা দায়ের হলেও, সুষ্ঠু বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আব্দুল খালেক। গত ১০ জানুয়ারী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি তদন্ত দল অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।

কলেজের এই দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা এবং বিতর্কের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে, বিএড কলেজের অধ্যক্ষ লতিফুন্নেছার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”