লায়লা হত্যাচেষ্টা: প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি পেছাল

টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি প্রিন্স মামুন নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে টিকটকার লায়লা আখতার ফরহাদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জ শুনানি পেছানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল হকের আদালতে এ মামলার চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এদিন মামলার দুই পক্ষ—মামুন ও লায়লা—আদালতে উপস্থিত হন। মামুনের পক্ষ থেকে আইনজীবী চার্জ শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সময় আবেদন করেন, তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী চার্জ শুনানির জন্য প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে এবং মামলার চার্জ শুনানি আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেন।

২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর লায়লা আখতার ফরহাদ মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ফেসবুকের মাধ্যমে মামুনের সঙ্গে পরিচয় হয় লায়লার। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারপর থেকে মামুন লায়লার বাসায় অবস্থান করতে থাকেন।

এই সময়ের মধ্যে বিভিন্নভাবে মামুন লায়লার কাছ থেকে টাকা দাবি করতেন। প্রায় সময় মাদক সেবন করে গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন এবং অশ্লীল ভাষায় কথা বলতেন। মাঝে মাঝে লায়লাকে মারধরও করতেন। এসব পরিস্থিতিতে মামুনের অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে লায়লা প্রতিবাদ করলে মামুন উত্তেজিত হয়ে তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করতেন।

২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর, একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে বাসায় ফেরার পথে, মদপানের জন্য মিরপুরে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে লায়লা তাকে নিষেধ করেন। এই ঘটনায় মামুন উত্তেজিত হয়ে লায়লাকে গালিগালাজ করেন এবং পরে মারধর করে হত্যাচেষ্টা চালান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরকারি চাকরীজীবীদের বেতন বাড়ানো-কমানোর হার নির্ধারণ হতে পারে প্রতিমাসে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সিভিল সার্ভিসের ২৬টি ক্যাডারের পরিবর্তে ছয়টি করার সুপারিশ করার কথা ভাবছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। পাশাপাশি সিভিল সার্ভিস থেকে ক্যাডার শব্দটি বাদ দেওয়া, অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের সুপারিশ আসতে পারে। এছাড়া ডিসির পূর্ণাঙ্গ নাম ডেপুটি কমিশনারের পরিবর্তে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট করা এবং ভূমি, সিটি করপোরেশন, পাসপোর্ট, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দরিদ্র মানুষের হয়রানি নিরসনে দেওয়া হতে পারে একগুচ্ছ সুপারিশ।

কমিশনসংশ্লিষ্টরা জানান, কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের সুপারিশ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে দ্রব্যমূল্যের স্ফীতি ঘটলে বেতন বাড়বে আবার দ্রব্যমূল্য কমলে বেতন কমবে। প্রতিদিন সরকারি সংস্থাগুলো বাজার মনিটরিং করবে। প্রতিদিনের বাজারদর বিশ্লেষণ করে বেতন বৃদ্ধি বা কমার হার নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সরকার নির্ধারিত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রধান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী রোববার বলেন, পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে না। কিছু কাজ এখনো বাকি। কী থাকছে সুপারিশে এমন প্রশ্নে কমিশনপ্রধান বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। যা থাকবে তা প্রতিবেদন দিলেই জানতে পারবেন।

কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিভিল সার্ভিসে মোট ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। ক্যাডারগুলোর মধ্যে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যা নিয়ে দ্বন্দ্ব ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তুলছে। এ দ্বন্দ্ব, বাকযুদ্ধ ও লেখালেখি যে নতুন করে শুরু হয়েছে তা কিন্তু নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১৬ সালে তৎকালীন ২৬ ক্যাডার (ইকোনমিক ক্যাডারসহ) ও প্রশাসন ক্যাডার প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এর আগেও প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের সংগঠন (প্রকৃচি) নানা সময়ে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিয়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সোচ্চার ছিল। কিন্তু বিগত সরকারগুলো আন্তঃক্যাডার দ্বন্দ্ব নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে প্রযুক্তি প্রসারের ফলে এখন ক্যাডারগুলোর দ্বন্দ্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো বিব্রত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্যাডারের ১০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।




অগাস্টে পালাবদলের সময় দিল্লি ও ঢাকার সেনা নেতৃত্বের ‘যোগাযোগ ছিল’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশে যখন গত অগাস্ট মাসে ক্ষমতার পালাবদল হয়, তখন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বাংলাদেশে তার কাউন্টারপার্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাথে ‘সার্বক্ষণিক যোগাযোগে’ ছিলেন বলে জানিয়েছেন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘প্রক্রিয়া’টি যে দুই বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় করেই সম্পন্ন হয়েছে, তার কথাতে সে ইঙ্গিতও ছিল।

আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দিল্লিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল দ্বিবেদী সাংবাদিকদের কাছে এক প্রশ্নের জবাবে ওই মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বস্তুত সে দেশে যখন পালাবদল ঘটল, তখনও আমি সে দেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রেখে চলছিলাম। এরপর গত ২০শে নভেম্বরও আমাদের মধ্যে একটা ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কও স্বাভাবিক ভাবেই চলছে।”

প্রসঙ্গত, গত ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে অপসারিত হয়ে দেশত্যাগ করেন এবং বাংলাদেশের একটি মিলিটারি এয়ারক্র্যাফটে করে দিল্লির কাছে হিন্ডন এয়ারবেসে এসে অবতরণ করেন।

তখন থেকে আজ পাঁচ মাসের ওপর ধরে তিনি ভারতের মাটিতেই অবস্থান করছেন, যদিও তিনি ঠিক কোন ‘স্ট্যাটাসে’ রয়েছেন তা ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কখনওই স্পষ্ট করেনি।

তবে শেখ হাসিনা ভারতে এসে নামার ঠিক পর দিনই (৬ অগাস্ট) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশের পার্লামেন্টে জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি যাতে ভারতে এসে নামতে পারে, সে জন্য সে দেশের সেনাবাহিনীর তরফে ভারতের কাছে ‘ফ্লাইট
ক্লিয়ারেন্স’ বা আগাম অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।




তাহসান-রোজার মধুচন্দ্রিমার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল

গায়ক তাহসান খান এবং তার স্ত্রী রোজা আহমেদের মধুচন্দ্রিমার ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই এই দম্পতি জীবনযাত্রার একটি নতুন অধ্যায়ে পা রেখেছেন। তাহসান এবং রোজা বিয়ে করেছেন সম্প্রতি, আর এই খবরটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

বিয়ের এক সপ্তাহ পর, ৭ জানুয়ারি, তাহসান ও রোজা মালদ্বীপে তাদের মধুচন্দ্রিমা কাটাতে যান। সেদিন সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে তারা দেশের একটি এয়ারলাইন্সের বিমানে চড়ে সুদূর মালদ্বীপের জন্য রওনা দেন। সূর্যময় দ্বীপরাজ্যে তাদের বিশেষ মুহূর্তগুলো উপভোগ করছেন এই দম্পতি।

মধুচন্দ্রিমার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন রোজা আহমেদ। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রোজা মালদ্বীপের সাগর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন, সাদা বালিতে পা রেখে এবং লাল রঙের গাউন পরিহিত অবস্থায়। রোজার এই ছবি দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি এক সোনালী পরী, যা সাগরের নীল পানির মাঝে একদম মায়াবীভাবে আলোকিত হয়ে উঠেছে।

এর আগে, ৪ জানুয়ারি, তাহসান মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদকে বিয়ে করেন। গায়ে হলুদের ছবি প্রকাশের পরই তাহসান বিয়ের ছবি দিয়ে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। রোজা আহমেদ নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে কসমেটোলজিতে পড়াশোনা করেছেন এবং পরবর্তীতে কসমেটোলজি লাইসেন্স নিয়ে নিউইয়র্কের কুইন্সে ‘রোজাস ব্রাইডাল মেকওভার’ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চীনা আধিপত্যের লাগাম টানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, শিপ বিল্ডিং শিল্পে নতুন কৌশল

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক সামুদ্রিক শিল্পে আধিপত্য বিস্তার করতে চীনের অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। চীন যে ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তরের চাপ এবং মেধাস্বত্ব চুরির মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে প্রভাব বিস্তার করছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) ক্যাথরিন টাই-এর অধীনে শুরু হওয়া তদন্তে চীনের শিপ বিল্ডিং শিল্পে ত্বরান্বিত অগ্রগতি এবং মার্কিন শিল্পের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। ২০০০ সালে বৈশ্বিক ১৫০ বিলিয়ন ডলারের শিপ বিল্ডিং বাজারে চীনের শেয়ার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ, যা বর্তমানে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।

এদিকে, চীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, শ্রমিকদের মজুরি কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখা, বিদেশি কোম্পানির জন্য অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা। এই পরিস্থিতি মার্কিন শিল্পের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ বা পোর্ট ফি বৃদ্ধি করতে পারে।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং নির্বাচনী দল চীনকে নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে। এর আগে, ট্রাম্প প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর হাজার হাজার কোটি ডলারের শুল্ক আরোপ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি এবং চীনা পণ্যের ওপর আরও শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে শংকা প্রকাশ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই শিপ বিল্ডিং শিল্প পুনর্গঠন করতে কয়েক দশক এবং বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে, এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রে জাহাজ নির্মাণের বেসরকারি ও সরকারি কারখানাগুলোর সংখ্যা বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত, এবং এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন।

এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ একত্রে কাজ করছেন যাতে মার্কিন জাহাজ নির্মাণশিল্পের পুনর্গঠন সম্ভব হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে সেতু পার, ১৩ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার চাঁদকাঠি এলাকার তালতলা শাখা নদীর ওপর নির্মিত ৬৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি স্থানীয়দের জন্য ছিল একটি স্বপ্নের মতো। তবে সেই স্বপ্নে কিছুটা অন্ধকার নেমে এসেছে, কারণ সেতুর মূল কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক এখনও নির্মিত হয়নি। এর ফলে, সেতুর দুই পাশে কাঠের সিঁড়ি তৈরি করে প্রায় ১৩ গ্রামের হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন। হাটবাজার, অফিস, স্কুল-কলেজ এবং চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারী বাসিন্দাদের প্রতিদিনের জীবন এক অনিশ্চিত যাত্রায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুর উপজেলার চাঁদকাঠি এলাকার তালতলা শাখা নদীর ওপর নাওটানা-পাকুরিয়া সেতুর নির্মাণ কাজ ২০২০ সালের ২৩ মার্চ শুরু হয়। প্রকল্পের সময়সীমা ছিল ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর, তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিমরান মায়ান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ধীরগতিতে মূল সেতুর কাজ শেষ করলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই পুরো টাকা তুলে নেয়। ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু এখন এলাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেতুর দুই পাশে কাঠের সিঁড়ি বানিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। আগে এখানকার মানুষ নদীতে খেয়া পারাপার করত, তবে সেতু হওয়ায় খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সেতু পারাপারই একমাত্র উপায়, কিন্তু কাঠের সিঁড়ি ব্যবহারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিকা বিশ্বাস জানান, “ব্রিজটি দীর্ঘদিন অকেজো ছিল, কিছু কাজ করা হলেও সেতুর সংযোগ সড়ক এখনও নির্মিত হয়নি। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না, এবং বৃদ্ধদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।” অন্যদিকে, রাইসুল ইসলাম ইউনুস জানান, “ব্রিজের কাজ সমাপ্ত না করে ঠিকাদার পালিয়ে গেছেন, আমরা নিজেরাই সিড়ি ও বালুর বস্তা দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।”

স্কুল ছাত্র অতনী বিশ্বাস বলেন, “বৃষ্টির সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়, অনেকেই পড়ে যায় সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামার সময়।” কৃষক অজয় হালদার জানান, “রাস্তা দিয়ে উঠতে সমস্যা, পাঁচ কেজি চাল নিয়ে যেতেও সমস্যা হয়।”

এদিকে, পিরোজপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী রনজিত দে জানান, “নাওটানা সেতুর মূল অংশের কাজ শেষ হয়েছে, তবে সংযোগ সড়কের কাজ বাকি রয়েছে। আমরা শিগগিরই কাজ শুরু করবো এবং এক মাসের মধ্যে তা সমাপ্ত করব।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রয়োগে যুব সমাবেশ

নতুন বছরে বাংলাদেশকে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করার আহ্বানে বরিশালে একটি যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশে বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের পরিবেশগত সংকট মোকাবেলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে বরিশাল নগরীর জিলা স্কুলের মোড়ে প্রান্তজন, ক্লিন এবং বিডাব্লিউজিইডি-এর যৌথ উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাব-এর সম্পাদক রনজিৎ দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক জনাব তৌহিদুল ইসলাম শাহাজাদা, বরিশাল প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী, আরোহির নির্বাহী পরিচালক জনাব খোরশেদ আলম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। বর্তমান পরিবেশগত সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিকল্প নেই। আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িতে সোলার প্যানেল এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস ব্যবহার করে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ তৈরি করা সম্ভব। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করবে এবং এটি শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, এটি আমাদের দেশের অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সমাবেশে বক্তারা দেশের প্রতিটি গ্রামাঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা, বিচার না পেলে মায়ের আত্মহত্যার হুমকি

বরগুনার আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের বিকাশ ব্যবসায়ী কাসেম (২২) হত্যা মামলার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সঠিক সমাধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাসেমের পরিবার এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কাসেমের মা রাহিমা বেগম হত্যাকারীদের বিচার না পেলে ছেলের কবরের পাশে আত্মহত্যা করার হুমকি দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কাসেম ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে খুন হন। তার লাশ বাড়ির পাশের দোয়াচারা খালের পাড়ের ধানক্ষেতে পাওয়া যায়। কাসেম পটুয়াখালী সরকারি কলেজের বোটানির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং বিকাশ ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করতেন। ময়নাতদন্ত শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তার লাশ দাফন করা হয়।

গুরুতর আহত কাসেমকে দেখেছিলেন নূর মহম্মদ মোল্লা, যিনি জানান, কাসেমের ঘাড়ে পিছন থেকে কোপ দেওয়া হয়েছিল, যা তার ঘাড়ের অধিকাংশই কেটে ফেলেছিল। তার মাথা, হাত এবং পিঠে একাধিক কোপের চিহ্ন ছিল।

নিহতের বাবা নুর উদ্দিন মোল্লা ২৮ সেপ্টেম্বর আমতলী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে, মামলার তিন মাস পার হলেও পুলিশের কোনো সঠিক পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ঘটনার পর দুইজনকে আটক করা হলেও, তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আটক দুইজন চলতি মাসের ১৯ তারিখ জামিনে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসেন।

এদিকে, কাসেম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে এলাকাবাসী সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ৩০ নভেম্বর কলাগাছিয়া বাজারে শত শত লোক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে, যাতে কাসেম হত্যাকারীদের কঠোর বিচার দাবি করা হয়।

নিহত কাসেমের মা রাহিমা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “মোর পোলাডারে মাইর‌্যা খুনিরা ব্যামালা টাহা নিয়া গ্যাছে। পোলাডারে ক্যারা মারছে, এহনো মোরা জানতে পারি নাই। অরে যারা মারছে, হেগো বাইর কইর‌্যা ফাঁসির দাবি জানাই। মোর পোলার খুনিদের বাইর করতে না পারলে এবং বিচার না হলে মুই আগামী ঈদেরও আগে মোর পোলার কবরের পাশে গলায় দড়ি দিয়া মইর‌্যা যামু।”

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “কাসেম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আশা করি আমরা দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে পারবো।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলে টমটম উল্টে চালক নিহত, আহত ২

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় যাত্রীবাহী টমটম উল্টে গিয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং দুজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবক হৃদয় বয়াতি (২৩) মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দুলাল বয়াতির ছেলে। তিনি টমটম গাড়ির চালক ছিলেন।

আহত রমজান (২০) জানায়, টমটমটি চন্দ্রপাড়া চৌমোহনী বাজার থেকে দুজন যাত্রী নিয়ে বাউফল শহরের গোলাবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথে চন্দ্রপাড়া জোড়াপুলের কাছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি খালে উল্টে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তানজিলা ইসলাম জানান, হৃদয় বয়াতিকে হাসপাতালে আনার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত রমজান ও সবুজকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উমরার জন্য মেনিনজাইটিসের টিকা বাধ্যতামূলক

সংক্রামক ও বিপজ্জনক রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে সৌদি আরব নতুন স্বাস্থ্য শর্ত আরোপ করেছে। এখন থেকে পবিত্র উমরা পালন বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব ভ্রমণ করতে হলে মেনিনজাইটিসের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভ্রমণের কমপক্ষে ১০ দিন আগে মেনিনজাইটিসের টিকা নিতে হবে এবং ভ্রমণের সময় সেই টিকা নেওয়ার প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

সৌদি প্রশাসন জানিয়েছে, ১ বছরের বেশি বয়সী সব ভ্রমণকারীর জন্য মেনিনজাইটিসের টিকা বাধ্যতামূলক। তবে যারা ১০ বছর আগে এই টিকা নিয়েছেন, তাদের নতুন করে টিকা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

মেনিনজাইটিস হলো মানুষের মস্তিষ্ক এবং স্পাইনাল কর্ডের চারপাশের সূক্ষ্ম টিস্যু স্তরের সংক্রমণজনিত প্রদাহ। সাধারণত অণুজীবের সংক্রমণে এটি হয়ে থাকে এবং এটি নানা ধরনের হতে পারে, যেমন ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস, নিসেরিয়া মেনিনজাইটিস, ভাইরাল মেনিনজাইটিস ইত্যাদি। ভাইরাল মেনিনজাইটিস বিভিন্ন ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়, যা হাঁচি, কাশি ও অস্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্যবিধির মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।

এ ছাড়া উমরা যাত্রীদের করোনাভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং পোলিওর টিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষত, পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য পোলিও টিকার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তান, কেনিয়া, কঙ্গো, এবং মোজাম্বিকে ট্রানজিট যাত্রীদেরও পোলিওর টিকা নিতে হবে।

এসব শর্ত মেনে চলার জন্য সৌদি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (এসসিএএ) ভ্রমণকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এই নতুন নীতিমালা উমরা পালন ও অন্যান্য ভ্রমণের সময় স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম