গাফিলতিতে হারাচ্ছে বলেশ্বর নদীর গতি, বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে স্থানীয়রা

পিরোজপুর জেলার বলেশ্বর নদী একসময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ছিল। এই নদী ঘিরে ঝালকাঠি বন্দর এবং বাখরগঞ্জ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। তবে, বর্তমানে এই নদী তার গতি হারিয়ে ফেলেছে এবং এটি এখন মৃতপ্রায়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলার কারণে বলেশ্বর নদী সংকটের মুখে পড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পিরোজপুর শহরের খেয়াঘাট ও তার সংলগ্ন এলাকার নদী তীর সংরক্ষণে তিন কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প শুরু হয়েছিল। কিন্তু সঠিকভাবে ব্লক প্লেসিং না করার কারণে নদীর তীরে এলোমেলো ব্লক ফেলা হয়েছে, যা নদীটির গতিপথে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

এ ব্লকগুলির কারণে নৌযানগুলো নদীর তীরে ভিড়তে পারছে না, ফলে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন যে, ব্লকের কারণে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান খান আসাদ বলেন, “ব্লকের কারণে নদীর পাড়ে পণ্যবাহী নৌযান ভিড়তে পারে না। এ পরিস্থিতিতে আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

এছাড়াও, নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা চরগুলোও অবৈধভাবে দখল করা হচ্ছে। এসব চর দখলকারীরা কৃষি জমি ও ব্যক্তিগত স্থাপনা গড়ে তুলছে, যা নদীটির আরও সংকোচন সৃষ্টি করছে।

একজন খেয়া নৌকা মাঝি জগো বলেন, “আগে এই নদীতে বড় বড় কার্গো জাহাজ চলাচল করত, কিন্তু এখন ব্লকগুলোর কারণে আমাদের ছোট নৌকা চালাতেও সমস্যায় পড়ছি। মাঝেমধ্যে নৌকা ব্লকের সঙ্গে আটকে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “যত দ্রুত নদী পুনঃখনন না করা হবে, ততই শহরে জলাবদ্ধতার সমস্যা বাড়বে এবং বসবাসের পরিবেশ আরও খারাপ হয়ে যাবে। বলেশ্বর নদী খনন করা অত্যন্ত জরুরি।”

এ বিষয়ে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা নুসাইর হোসেন বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে বলেশ্বর নদীর ৯০ মিটার ড্রেজিংয়ের জন্য খুলনা আঞ্চলিক ড্রেজার অপারেশন বিভাগে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছি। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা সংকট দূর হবে এবং এর স্রোতের পরিমাণ বাড়বে।”

মো: তুহিন হোসেন*
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আমতলীতে শিশু রোগের ভ্যাকসিনের সংকট, ইপিআই কার্যক্রম বন্ধ

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত দুই মাস ধরে ১০টি শিশু রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে শূন্য থেকে ১৮ মাস বয়সী প্রায় ৪ হাজার ৮১২ শিশুর পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে। শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন যেমন নিউমোনিয়া, পোলিও, হাম, রুবেলা, যক্ষা, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি এবং হাম রোগের টিকা সরবরাহ না হওয়ায় ইপিআই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারিভাবে নির্ধারিত টিকাগুলি না পাওয়ায় তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। এক শিশু ইমনের মা লিপি বেগম বলেন, ‘আমার বাচ্চা ভালো রাখতে টিকা চাই। কিন্তু ইপিআই কেন্দ্রে টিকা নেই, তাই আমি শিশুকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

এ বিষয়ে কুকুয়া ইউনিয়নের চরখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী মোসা. নার্গিস আক্তার জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুদের ভ্যাকসিন সরবরাহ না হওয়ায় তারা শিশুসন্তানদের প্রয়োজনীয় টিকা দিতে পারছেন না।

অপরদিকে, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেন মং জানান, আপতত ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তবে, তিনি আশাবাদী যে এ মাসের শেষের দিকে অথবা আগামী মাসের শুরুতে ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরু হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেফতার

বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে ১৩ জানুয়ারি রাতে তার নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আব্দুল মালেক হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে।

গত ৪ আগস্ট বরিশাল জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার পর ২৩ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় মোট ৩৮১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল এবং আরও ৬০০-৭০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছিল।

চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক হাওলাদার বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। যদিও তিনি দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন, তবুও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য ‘প্লে উইথ এ পারপাস’ কর্মশালা

শুধু স্বাভাবিক সময়ে নয়, দুর্যোগ ও মানবিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতেও শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সমান জরুরি। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারে বসবাসরত মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ‘প্লে টু লার্ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিসেমি ওয়ার্কশপ, ব্র্যাক, আইআরসি এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায়। সিসেমি ওয়ার্কশপ হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ টেলিভিশন সিরিজ সিসিমপুরের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

‘প্লে টু লার্ন’ প্রকল্পের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কক্সবাজারে আয়োজন করা হয় একটি কর্মশালা, যার শিরোনাম ছিল ‘প্লে উইথ এ পারপাস’। সরকারি-বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় শতাধিক প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশ নেন। দিনব্যাপী এই কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, এবং সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

কর্মশালায় আলোচনা হয়, যেকোনো দুর্যোগ বা মানবিক বিপর্যয়ের সময় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশকে অতি জরুরি সেবা হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে। এতে উল্লেখ করা হয়, সিসেমি ওয়ার্কশপ দুটি রোহিঙ্গা শিশু চরিত্র—নূর ও আজিজ তৈরি করেছে, যা রোহিঙ্গা শিশুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষামূলক ভিডিও কন্টেন্ট রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলো ক্যাম্পে ব্র্যাকের প্লেল্যাব, ইউএনএইচসিআর এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এছাড়া, প্রকল্পটি ১২টি গল্পের বই বার্মিজ, ইংরেজি এবং বাংলা ভাষায় প্রকাশ করেছে, যা কক্সবাজারের ১৪টি সংস্থার শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় দুই লক্ষ শিশু এসব বই ব্যবহার করছে। সেই সঙ্গে শিশু বিকাশের জন্য বিশেষ হোমকিট এবং অভিভাবক ও শিশু যত্নকারীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

ছয় বছর ধরে চলমান ‘প্লে টু লার্ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা শিশু, অভিভাবক ও শিশু যত্নকারী সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রকল্পের আওতাধীন ৭০ শতাংশ শিশুদের সার্বিক বিকাশ সাধিত হয়েছে, ৯১% শিশুর মানসিক বিকাশ হয়েছে এবং ৯৬% শিশু যত্নকারী ও অভিভাবকরা শিশুদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতিসংঘে ইসরায়েলের ভয়ঙ্কর অভিযোগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ফের সংগঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলি মিশনের অন্যতম প্রতিনিধি ড্যানি ডেনন। মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হিজবুল্লাহকে একটি বড় হুমকি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরুর পর গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করে হিজবুল্লাহ, পাল্টা জবাব দিতে থাকে ইসরায়েলও।

তবে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে দু-পক্ষের সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযানে ধ্বংস হয়ে যায় হিজবুল্লাহর চেইন অব কমান্ড এবং অধিকাংশ গোপন অস্ত্রাগার। নিহত হন গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা হাসান নাসরুল্লাহসহ প্রথম সারির সব নেতা ও কমান্ডার।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৭ নভেম্বর লেবাননের সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে ইসরায়েল। সেই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল— লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে দেশটির সেনা সদস্যদের মোতায়েন করতে হবে এবং হিজবুল্লাহ যেন ওই অঞ্চলে ফের ঘাঁটি না গাড়তে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তবে লেবাননের সরকার সেই শর্ত মানছে না— উল্লেখ করে সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বরাবর লেখা এক চিঠিঢতে ড্যানি ডেনন বলেন, “আমরা যুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করতে পেরেছিলাম, কিন্তু সম্প্রতি গোয়েন্দা সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে ইসরানের সহযোগিতায় হিজবুল্লাহ ফের সংগঠিত হচ্ছে এবং নিজেদের অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করছে।”

“আমরা আরও জানতে পেরেছি যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর সিরিয়া-লেবানন সীমান্ত দিয়ে বেশ কয়েক দফায় হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছে ইরান। আর লেবাননে জাতিসংঘের যে বাহিনী সক্রিয় রয়েছে, তারাও বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে না।”

যদি হিজবুল্লাহ ফের শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে কখনও স্থিতিশীলতা আসবে না বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ড্যানি ডেনন।

জাতিসংঘের ইরান ও হিজবুল্লাহ মিশনের প্রতিনিধিরা এ অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে লেবানন মিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি হিজবুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ— ড্যানি ডেননের এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড




সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর কারাগারে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালতে আনা হয়। এ সময় দুদকের উপ-পরিচালক নাজমুল হুসাইন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তবে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী তার জামিন চেয়ে আবেদন করেননি। পরে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে আসামি ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদ বিবরণী জারি করা হয়। তিনি গত বছরের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন। কিন্তু আদেশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে অর্থাৎ গত ২৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধে মামলাটি রুজু করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে দুদক।




গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা যে কোনো সময়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের কাছ থেকে যে কোনো সময় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে যেসব মতানৈক্য ছিল সেগুলোতে সবপক্ষ একমতে পৌঁছেছে। এখন চূড়ান্ত ঘোষণার বিস্তারিত প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, কাতারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবিসি আরও জানিয়েছে, কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস ও ইসরায়েলের আলোচকরা একই ভবনে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হচ্ছে। যার অর্থ যুদ্ধবিরতি যে কোনো মুহূর্তে হবে।




পটুয়াখালীতে ফুটপাতের দোকানদার ও রিকশাচালকদের মাঝে কম্বল বিতরণ

পটুয়াখালীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের ঝাউতলা সংলগ্ন ভাসমান চা ও পানের দোকান এবং রিকশাচালকদের মাঝে এই কম্বল বিতরণ করা হয়।

এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পটুয়াখালী জেলা সমন্বয়ক তোফাজ্জেল হোসাইন, সজিবুল ইসলাম সালমান, সাইয়েদা রুসদা, রিফায়েত কবির খান রাইয়ান সাকেরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তীব্র শীতে শীতবস্ত্র হিসাবে কম্বল পেয়ে খুশি হন অসহায় ও গরীব মানুষরা। শীতবস্ত্র বিতরণকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, “তীব্র শীতে ভোগান্তিতে থাকা পটুয়াখালীর অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে পেরে আমরা আনন্দিত। দেশের মানুষের জন্য, তাদের কল্যাণে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঢাকা-বরিশাল লঞ্চে অত্যাধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার জানেন না চালক-ক্রু, দুর্ঘটনা বাড়ছে

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও, লঞ্চ চালক ও অন্যান্য ক্রুদের সেগুলো ব্যবহারের দক্ষতা নেই। প্রশিক্ষণ অভাবের কারণে প্রায়ই এসব লঞ্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার তাগিদ দিলেও, প্রশিক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিআইডব্লিউটিএ এবং লঞ্চ মালিকপক্ষ।

ঢাকা-বরিশাল রুটে ১৭০ কিলোমিটার পথের উপর চলাচল করে প্রায় ৩০টি বিলাসবহুল লঞ্চ। এসব লঞ্চে রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন রাডার, ইন্ডিকেটর, রিমোট কন্ট্রোল, ইকো সাউন্ডার, জিপিএস এবং ভিএইচএফ। এই যন্ত্রগুলো নদীপথে দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে চালকরা এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে অদক্ষ।

চালক এবং সুকানিদের অভিযোগ, লঞ্চ পরিচালনার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে তাঁদের কোনও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। ফলে এই অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই ব্যবহৃত হয় না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং লঞ্চ মালিকদের মধ্যে একে অপরের ওপর দায় চাপানোর ফলে চালক-সুকানিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সুন্দরবন গ্রুপের ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, “লঞ্চ চালানোর পদ্ধতি অনেক বদলে গেছে। বৈরি আবহাওয়া ও কুয়াশার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। মালিকপক্ষ বড় অংকের বিনিয়োগ করে লঞ্চ পরিচালনা করে, কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের উচিত চালক এবং সুকানিদের প্রতি বছর নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।”

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, “কুয়াশায় কীভাবে লঞ্চ চালাতে হবে, সে বিষয়ে আমরা আগে থেকেই লঞ্চ মালিকদের জানিয়ে দিয়েছি। কুয়াশায় যদি ১০০ মিটারের মধ্যে কিছু না দেখা যায়, তবে লঞ্চ বন্ধ রাখতে এবং ঘন ঘন হর্ন বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, সচেতনতার অভাবেই চালকরা এই নির্দেশনা মানছে না। আমাদের মনে হয় মাস্টার ও সুকানিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া খুবই জরুরি।”

বরিশাল বিভাগে প্রায় ২০০ চালক এবং সুকানি অদক্ষভাবে বিলাসবহুল লঞ্চ পরিচালনা করছেন, যার ফলে কুয়াশা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই রুটে সবচেয়ে বেশি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফের ১০ ডিগ্রির নিচে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা

শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পঞ্চগড়ে ফের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। এ কারণে শীতজনিত রোগের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি, বাতাসের আর্দ্রতা দাঁড়িয়েছে শতকরা ৯৯ ভাগে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ।

গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এ ওঠানামায় শীতজনিত সমস্যাগুলি বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সমস্যা বাড়ছে। তাদের আয়-রোজগার হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি, কাজে যেতে না পারার কারণে ভ্যানচালক, পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক ও দিনমজুররা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, শীতের কারণে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে, এবং এই মেঘলা দিনে কুয়াশার সাথে ঠান্ডা বাতাসও রয়েছে। আবার রোদ উঠলেও সকালে কনকনে শীত হাড় কাঁপাচ্ছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনেকেই জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, “দুদিন তাপমাত্রা বাড়ার পর আজ আবার তাপমাত্রা কমে ৯ ডিগ্রির ঘরে এসেছে। এ তাপমাত্রায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম