বরিশালে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রেফতার

বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাকে ১৩ জানুয়ারি রাতে তার নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আব্দুল মালেক হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, হামলা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে।

গত ৪ আগস্ট বরিশাল জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার পর ২৩ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় মোট ৩৮১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল এবং আরও ৬০০-৭০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছিল।

চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক হাওলাদার বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। যদিও তিনি দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন, তবুও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য ‘প্লে উইথ এ পারপাস’ কর্মশালা

শুধু স্বাভাবিক সময়ে নয়, দুর্যোগ ও মানবিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতেও শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সমান জরুরি। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারে বসবাসরত মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ‘প্লে টু লার্ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিসেমি ওয়ার্কশপ, ব্র্যাক, আইআরসি এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায়। সিসেমি ওয়ার্কশপ হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ টেলিভিশন সিরিজ সিসিমপুরের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

‘প্লে টু লার্ন’ প্রকল্পের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কক্সবাজারে আয়োজন করা হয় একটি কর্মশালা, যার শিরোনাম ছিল ‘প্লে উইথ এ পারপাস’। সরকারি-বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় শতাধিক প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশ নেন। দিনব্যাপী এই কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, এবং সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

কর্মশালায় আলোচনা হয়, যেকোনো দুর্যোগ বা মানবিক বিপর্যয়ের সময় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশকে অতি জরুরি সেবা হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে। এতে উল্লেখ করা হয়, সিসেমি ওয়ার্কশপ দুটি রোহিঙ্গা শিশু চরিত্র—নূর ও আজিজ তৈরি করেছে, যা রোহিঙ্গা শিশুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষামূলক ভিডিও কন্টেন্ট রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলো ক্যাম্পে ব্র্যাকের প্লেল্যাব, ইউএনএইচসিআর এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এছাড়া, প্রকল্পটি ১২টি গল্পের বই বার্মিজ, ইংরেজি এবং বাংলা ভাষায় প্রকাশ করেছে, যা কক্সবাজারের ১৪টি সংস্থার শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় দুই লক্ষ শিশু এসব বই ব্যবহার করছে। সেই সঙ্গে শিশু বিকাশের জন্য বিশেষ হোমকিট এবং অভিভাবক ও শিশু যত্নকারীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

ছয় বছর ধরে চলমান ‘প্লে টু লার্ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা শিশু, অভিভাবক ও শিশু যত্নকারী সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রকল্পের আওতাধীন ৭০ শতাংশ শিশুদের সার্বিক বিকাশ সাধিত হয়েছে, ৯১% শিশুর মানসিক বিকাশ হয়েছে এবং ৯৬% শিশু যত্নকারী ও অভিভাবকরা শিশুদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতিসংঘে ইসরায়েলের ভয়ঙ্কর অভিযোগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ফের সংগঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলি মিশনের অন্যতম প্রতিনিধি ড্যানি ডেনন। মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হিজবুল্লাহকে একটি বড় হুমকি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরুর পর গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের প্রতি সংহতি জানিয়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করে হিজবুল্লাহ, পাল্টা জবাব দিতে থাকে ইসরায়েলও।

তবে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে দু-পক্ষের সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযানে ধ্বংস হয়ে যায় হিজবুল্লাহর চেইন অব কমান্ড এবং অধিকাংশ গোপন অস্ত্রাগার। নিহত হন গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা হাসান নাসরুল্লাহসহ প্রথম সারির সব নেতা ও কমান্ডার।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৭ নভেম্বর লেবাননের সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে ইসরায়েল। সেই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল— লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে দেশটির সেনা সদস্যদের মোতায়েন করতে হবে এবং হিজবুল্লাহ যেন ওই অঞ্চলে ফের ঘাঁটি না গাড়তে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তবে লেবাননের সরকার সেই শর্ত মানছে না— উল্লেখ করে সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বরাবর লেখা এক চিঠিঢতে ড্যানি ডেনন বলেন, “আমরা যুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস করতে পেরেছিলাম, কিন্তু সম্প্রতি গোয়েন্দা সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে ইসরানের সহযোগিতায় হিজবুল্লাহ ফের সংগঠিত হচ্ছে এবং নিজেদের অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করছে।”

“আমরা আরও জানতে পেরেছি যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর সিরিয়া-লেবানন সীমান্ত দিয়ে বেশ কয়েক দফায় হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছে ইরান। আর লেবাননে জাতিসংঘের যে বাহিনী সক্রিয় রয়েছে, তারাও বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে না।”

যদি হিজবুল্লাহ ফের শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে কখনও স্থিতিশীলতা আসবে না বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ড্যানি ডেনন।

জাতিসংঘের ইরান ও হিজবুল্লাহ মিশনের প্রতিনিধিরা এ অভিযোগের কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে লেবানন মিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি হিজবুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ— ড্যানি ডেননের এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড




সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর কারাগারে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালতে আনা হয়। এ সময় দুদকের উপ-পরিচালক নাজমুল হুসাইন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তবে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী তার জামিন চেয়ে আবেদন করেননি। পরে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে আসামি ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদ বিবরণী জারি করা হয়। তিনি গত বছরের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন। কিন্তু আদেশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে অর্থাৎ গত ২৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধে মামলাটি রুজু করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত ২৩ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে দুদক।




গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা যে কোনো সময়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের কাছ থেকে যে কোনো সময় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে যেসব মতানৈক্য ছিল সেগুলোতে সবপক্ষ একমতে পৌঁছেছে। এখন চূড়ান্ত ঘোষণার বিস্তারিত প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, কাতারের পক্ষ থেকে খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবিসি আরও জানিয়েছে, কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস ও ইসরায়েলের আলোচকরা একই ভবনে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হচ্ছে। যার অর্থ যুদ্ধবিরতি যে কোনো মুহূর্তে হবে।




পটুয়াখালীতে ফুটপাতের দোকানদার ও রিকশাচালকদের মাঝে কম্বল বিতরণ

পটুয়াখালীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের ঝাউতলা সংলগ্ন ভাসমান চা ও পানের দোকান এবং রিকশাচালকদের মাঝে এই কম্বল বিতরণ করা হয়।

এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পটুয়াখালী জেলা সমন্বয়ক তোফাজ্জেল হোসাইন, সজিবুল ইসলাম সালমান, সাইয়েদা রুসদা, রিফায়েত কবির খান রাইয়ান সাকেরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তীব্র শীতে শীতবস্ত্র হিসাবে কম্বল পেয়ে খুশি হন অসহায় ও গরীব মানুষরা। শীতবস্ত্র বিতরণকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেন, “তীব্র শীতে ভোগান্তিতে থাকা পটুয়াখালীর অসহায় মানুষদের সাহায্য করতে পেরে আমরা আনন্দিত। দেশের মানুষের জন্য, তাদের কল্যাণে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঢাকা-বরিশাল লঞ্চে অত্যাধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার জানেন না চালক-ক্রু, দুর্ঘটনা বাড়ছে

ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও, লঞ্চ চালক ও অন্যান্য ক্রুদের সেগুলো ব্যবহারের দক্ষতা নেই। প্রশিক্ষণ অভাবের কারণে প্রায়ই এসব লঞ্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার তাগিদ দিলেও, প্রশিক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেয়নি বিআইডব্লিউটিএ এবং লঞ্চ মালিকপক্ষ।

ঢাকা-বরিশাল রুটে ১৭০ কিলোমিটার পথের উপর চলাচল করে প্রায় ৩০টি বিলাসবহুল লঞ্চ। এসব লঞ্চে রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন রাডার, ইন্ডিকেটর, রিমোট কন্ট্রোল, ইকো সাউন্ডার, জিপিএস এবং ভিএইচএফ। এই যন্ত্রগুলো নদীপথে দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হতে পারে, তবে চালকরা এসব প্রযুক্তি ব্যবহারে অদক্ষ।

চালক এবং সুকানিদের অভিযোগ, লঞ্চ পরিচালনার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে তাঁদের কোনও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। ফলে এই অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই ব্যবহৃত হয় না।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং লঞ্চ মালিকদের মধ্যে একে অপরের ওপর দায় চাপানোর ফলে চালক-সুকানিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সুন্দরবন গ্রুপের ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, “লঞ্চ চালানোর পদ্ধতি অনেক বদলে গেছে। বৈরি আবহাওয়া ও কুয়াশার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। মালিকপক্ষ বড় অংকের বিনিয়োগ করে লঞ্চ পরিচালনা করে, কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের উচিত চালক এবং সুকানিদের প্রতি বছর নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।”

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, “কুয়াশায় কীভাবে লঞ্চ চালাতে হবে, সে বিষয়ে আমরা আগে থেকেই লঞ্চ মালিকদের জানিয়ে দিয়েছি। কুয়াশায় যদি ১০০ মিটারের মধ্যে কিছু না দেখা যায়, তবে লঞ্চ বন্ধ রাখতে এবং ঘন ঘন হর্ন বাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, সচেতনতার অভাবেই চালকরা এই নির্দেশনা মানছে না। আমাদের মনে হয় মাস্টার ও সুকানিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া খুবই জরুরি।”

বরিশাল বিভাগে প্রায় ২০০ চালক এবং সুকানি অদক্ষভাবে বিলাসবহুল লঞ্চ পরিচালনা করছেন, যার ফলে কুয়াশা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই রুটে সবচেয়ে বেশি নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফের ১০ ডিগ্রির নিচে পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা

শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পঞ্চগড়ে ফের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। এ কারণে শীতজনিত রোগের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাশাপাশি, বাতাসের আর্দ্রতা দাঁড়িয়েছে শতকরা ৯৯ ভাগে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ।

গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এ ওঠানামায় শীতজনিত সমস্যাগুলি বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সমস্যা বাড়ছে। তাদের আয়-রোজগার হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি, কাজে যেতে না পারার কারণে ভ্যানচালক, পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক ও দিনমজুররা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, শীতের কারণে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে, এবং এই মেঘলা দিনে কুয়াশার সাথে ঠান্ডা বাতাসও রয়েছে। আবার রোদ উঠলেও সকালে কনকনে শীত হাড় কাঁপাচ্ছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনেকেই জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, “দুদিন তাপমাত্রা বাড়ার পর আজ আবার তাপমাত্রা কমে ৯ ডিগ্রির ঘরে এসেছে। এ তাপমাত্রায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লায়লা হত্যাচেষ্টা: প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি পেছাল

টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, যিনি প্রিন্স মামুন নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে টিকটকার লায়লা আখতার ফরহাদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার চার্জ শুনানি পেছানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল হকের আদালতে এ মামলার চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এদিন মামলার দুই পক্ষ—মামুন ও লায়লা—আদালতে উপস্থিত হন। মামুনের পক্ষ থেকে আইনজীবী চার্জ শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সময় আবেদন করেন, তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী চার্জ শুনানির জন্য প্রার্থনা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে এবং মামলার চার্জ শুনানি আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেন।

২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর লায়লা আখতার ফরহাদ মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ফেসবুকের মাধ্যমে মামুনের সঙ্গে পরিচয় হয় লায়লার। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারপর থেকে মামুন লায়লার বাসায় অবস্থান করতে থাকেন।

এই সময়ের মধ্যে বিভিন্নভাবে মামুন লায়লার কাছ থেকে টাকা দাবি করতেন। প্রায় সময় মাদক সেবন করে গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন এবং অশ্লীল ভাষায় কথা বলতেন। মাঝে মাঝে লায়লাকে মারধরও করতেন। এসব পরিস্থিতিতে মামুনের অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে লায়লা প্রতিবাদ করলে মামুন উত্তেজিত হয়ে তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করতেন।

২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর, একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে বাসায় ফেরার পথে, মদপানের জন্য মিরপুরে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে লায়লা তাকে নিষেধ করেন। এই ঘটনায় মামুন উত্তেজিত হয়ে লায়লাকে গালিগালাজ করেন এবং পরে মারধর করে হত্যাচেষ্টা চালান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরকারি চাকরীজীবীদের বেতন বাড়ানো-কমানোর হার নির্ধারণ হতে পারে প্রতিমাসে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সিভিল সার্ভিসের ২৬টি ক্যাডারের পরিবর্তে ছয়টি করার সুপারিশ করার কথা ভাবছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। পাশাপাশি সিভিল সার্ভিস থেকে ক্যাডার শব্দটি বাদ দেওয়া, অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের সুপারিশ আসতে পারে। এছাড়া ডিসির পূর্ণাঙ্গ নাম ডেপুটি কমিশনারের পরিবর্তে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট করা এবং ভূমি, সিটি করপোরেশন, পাসপোর্ট, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দরিদ্র মানুষের হয়রানি নিরসনে দেওয়া হতে পারে একগুচ্ছ সুপারিশ।

কমিশনসংশ্লিষ্টরা জানান, কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের সুপারিশ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে দ্রব্যমূল্যের স্ফীতি ঘটলে বেতন বাড়বে আবার দ্রব্যমূল্য কমলে বেতন কমবে। প্রতিদিন সরকারি সংস্থাগুলো বাজার মনিটরিং করবে। প্রতিদিনের বাজারদর বিশ্লেষণ করে বেতন বৃদ্ধি বা কমার হার নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সরকার নির্ধারিত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রধান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী রোববার বলেন, পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে না। কিছু কাজ এখনো বাকি। কী থাকছে সুপারিশে এমন প্রশ্নে কমিশনপ্রধান বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। যা থাকবে তা প্রতিবেদন দিলেই জানতে পারবেন।

কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিভিল সার্ভিসে মোট ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। ক্যাডারগুলোর মধ্যে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যা নিয়ে দ্বন্দ্ব ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তুলছে। এ দ্বন্দ্ব, বাকযুদ্ধ ও লেখালেখি যে নতুন করে শুরু হয়েছে তা কিন্তু নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১৬ সালে তৎকালীন ২৬ ক্যাডার (ইকোনমিক ক্যাডারসহ) ও প্রশাসন ক্যাডার প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এর আগেও প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের সংগঠন (প্রকৃচি) নানা সময়ে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিয়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সোচ্চার ছিল। কিন্তু বিগত সরকারগুলো আন্তঃক্যাডার দ্বন্দ্ব নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে প্রযুক্তি প্রসারের ফলে এখন ক্যাডারগুলোর দ্বন্দ্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো বিব্রত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্যাডারের ১০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।