ঝালকাঠিতে শীত ও কুয়াশার তীব্রতায় রবিশস্যে ঝুঁকি, শঙ্কিত কৃষকরা

চলতি শীত মৌসুমে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা শঙ্কিত। বিশেষত, রবিশস্যের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আলু, শিম, লাউ, করলা, মিষ্টি কুমড়া, শাকসবজির মতো ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত বছরের বন্যার কারণে অনেক কৃষক তাদের জমি থেকে ফসলের স্বাভাবিক ফলন পেতে পারেননি এবং চলতি বছর তারা সবজি চাষের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে তাদের ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগ করলেও অনেক জায়গায় তা পর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়নি।

কৃষি আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ গত ৫ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত রয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন আরও চলতে পারে। বিশেষত, ঝালকাঠি এবং উপকূলীয় এলাকার কৃষকরা তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলার ৮৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং ৫৯ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, ভুট্টা, গম, আলু, শীতকালীন সবজি, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, বাদাম, তিল, সূর্যমুখী, সয়াবিন এবং মশুরসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষকরা জানান, ঘন কুয়াশা ও রাতভর বৃষ্টির কারণে আলুর ক্ষেতে *লেট ব্লাইট* রোগ দেখা দিয়েছে, যার ফলে আলুর পাতা ও কাণ্ড পচে যাচ্ছে এবং গাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া, বোরো ধানের বীজতলায় *কোল্ড ইনজুরি* দেখা দিয়েছে। আলু ক্ষেতে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেও কুয়াশার প্রভাব থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। একইভাবে, বীজতলা রক্ষা করতে কৃষকরা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলেও অনেক সময় তা কার্যকর হচ্ছে না।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মনিরুল ইসলাম জানান, কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে। বোরো আবাদের জন্য এ বছর বীজতলা তৈরি এবং অন্যান্য ফসল চাষের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ববির দুটি হল ও লাইব্রেরির নাম বদলে দিলেন শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং দুটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার, ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি’র পরিবর্তে ‘কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার’, ‘বঙ্গবন্ধু আবাসিক হল’র পরিবর্তে ‘বিজয় ২৪ হল’ এবং ‘শেখ হাসিনা হল’র নাম পরিবর্তন করে ‘কবি সুফিয়া কামাল’ লেখা ব্যানার টানানো হয়।

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন, যাতে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নাম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের বরিশাল মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম সাহেদ জানান, এই নাম পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত’, ‘বঙ্গবন্ধু আবাসিক হল’ এবং ‘শেখ হাসিনা হল’ নামগুলি পরিবর্তন করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু অফিসিয়ালভাবে নাম পরিবর্তন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এসব নাম বদলে ব্যানার টানানোর পদক্ষেপ নেন।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী জানান, শিক্ষার্থীরা নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছে এবং বিকালে তারা স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের পর দীর্ঘ ৬ মাস পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও বিভিন্ন ভবনের নাম ফ্যাসিস্টদের নামে রয়েছে।” শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, এই নামগুলো দ্রুত সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা করে পরিবর্তন করা উচিত।

উপ-উপাচার্য আরো জানান, সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনা হবে এবং যদি এটি জরুরি হয়, তবে উপাচার্য সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে বিষয়টি সমাধান করতে পারেন।

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ নাফিসা হল’ অথবা ‘শহীদ রিয়া গোপ হল’ করার প্রস্তাব।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেড় মাস ধরে ভূমিসেবা বন্ধ, চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে ভূমিসেবা ব্যবস্থাকে আরো সহজ এবং দ্রুততর করার জন্য সরকার সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন সফটওয়্যারটির মাধ্যমে পাঁচটি ভূমিসেবা একত্রিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। গত দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিসে এ সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য সেবা আরও সহজ হবে। কিন্তু নতুন সফটওয়্যারের ধীরগতি এবং বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত না থাকায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভূমি মালিকরা নামজারি, খাজনা জমা দিতে পারছেন না। এছাড়া, লগইন আইডি না পাওয়ার কারণে ভূমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও একই সমস্যার মুখোমুখি।

সফটওয়্যারের আপগ্রেডেশন কার্যক্রমে অনেক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে গত বছরের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত ভূমিসেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে, মাত্র পাঁচ দিনের জন্য সেবাগুলো বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও, দেড় মাসেও এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হয়নি।

নতুন সফটওয়্যার সংক্রান্ত নানা সমস্যা উঠে এসেছে, বিশেষ করে নামজারি সংক্রান্ত। আগে নামজারির জন্য যেসব তথ্য যাচাই করা হতো, এখন তা করা সম্ভব হচ্ছে না। সার্ভার জটিলতা এবং নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে সরকারি স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভূমি মালিক এবং ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না, এবং সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সফটওয়্যার সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে কোর্ট অব ওয়ার্ডস, ভিপি সম্পত্তি এবং খাসজমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগে জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে সার্ভেয়াররা যেসব পদক্ষেপ নিতেন, সেগুলোর কোনো ব্যবস্থা নেই নতুন সফটওয়্যারে। এতে সরকারি সম্পত্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, বিভিন্ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। গ্রাহকদের তথ্য অনুপস্থিত থাকা, নামজারি যাচাইয়ের সুযোগ না থাকা, এবং সরকারি ভূমি মালিকানায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তাঁদের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. ইফতেখার হোসেন জানিয়েছেন, তারা আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং সার্ভারের ধীরগতির সমস্যাটি তাদের জন্য অজানা নয়। তবে, তিনি জানান, এই সমস্যার সমাধান করতে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, ভূমি মালিক এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাজশাহীর ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলতে রাজি, বিসিবি সভাপতির আশ্বাসে ফিরে এসেছে সমাধান

বিপিএল ২০২৫ এর ঢাকা ও সিলেট পর্ব শেষ হওয়ার পর এখন চট্টগ্রাম পর্বের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে বিপিএল-এর রাজশাহী দল, যাদের মধ্যে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটাররা অংশ নিচ্ছেন, এখনো পর্যন্ত তাদের পারিশ্রমিক পাননি। এর ফলে বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামে অনুশীলন বয়কট করেছিলেন রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। কিন্তু, বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের আশ্বাসে আবারও ক্রিকেটাররা ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছেন।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম কিস্তির টাকা নির্ধারিত সময়ে না দেওয়ায় রাজশাহীর ক্রিকেটারদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। এর ওপর গত দু’দিন অনুশীলন না করার পেছনে মূল কারণ ছিল, ক্রিকেটারদের সম্মানীর ২৫ শতাংশ চেক বাউন্স হয়ে যাওয়া। এরপর বুধবার বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ চট্টগ্রামে ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিটিং করে তাদের আশ্বস্ত করেন, যার ফলে তারা ম্যাচ খেলতে সম্মত হন।

রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল, বিশেষ করে তাদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে বিসিবি সভাপতির আশ্বাস সত্ত্বেও, রাজশাহীর ক্রিকেটাররা কবে নাগাদ তাদের পারিশ্রমিক পাবেন, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, দলটির মালিক পক্ষের কেউ এখনো খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তবে, দলের এক কর্মকর্তা জানায়, মালিকের স্ত্রী বলের আঘাতে আহত হয়ে বর্তমানে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন আছেন, যার কারণে পারিশ্রমিক নগদ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, মালিক অপারেশন্স ম্যানেজারকে বলেছেন, দেশে ফিরে ক্রিকেটারদের নগদ টাকা দেওয়া হবে।

এই পরিস্থিতিতে রাজশাহী দলের ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে বেশ কিছু হতাশা প্রকাশ করলেও, বিসিবি সভাপতি আশ্বস্ত করার পর তাদের মনোভাব কিছুটা স্বস্তিতে ফিরেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“অবৈধ দোকানে ভরে গেছে বেলস পার্ক, পরিবেশ বিপন্ন”

বরিশাল শহরের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র বেলস পার্ক বর্তমানে দোকানপাটে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রীণ সিটি পার্কসহ পার্কের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে বসানো এসব দোকানগুলো এখন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে খাবারের দোকানগুলোর কারণে মানুষের চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে, এবং বিকেলের পর মাদক সেবনের অভিযোগও উঠছে।

স্থানীয়দের মতে, গত কিছু বছরে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সহায়তায় বেলস পার্কে দোকান বসানো শুরু হয়। বর্তমানে সড়ক, পার্কিং স্থান, মাঠের ভেতরে দোকান বসানো হচ্ছে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে। এ ছাড়া, বিভিন্ন সময়ে এসব দোকান থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, বহু দোকানের মালিকরা এমনকি অগ্রিম টাকা নিয়ে দোকান বসিয়েছেন।

বেলস পার্কের সৌন্দর্য ধ্বংস হতে শুরু করেছে এবং অনেক দর্শনার্থী এই পরিস্থিতি নিয়ে বিরক্ত। বিশেষ করে, পরিবার নিয়ে সেখানে ঘুরতে আসা মানুষজনের চলাফেরার পরিবেশ আর আগের মতো নেই। এসব দোকান স্থানীয় পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং খাবারের পাশাপাশি মাদক বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

বেলস পার্কে এখন ৬০টিরও বেশি দোকান রাজাবাহাদুর সড়কের একপাশে বসানো হয়েছে। মাঠের চারপাশে দোকানের সংখ্যা ১০০ এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। এছাড়া, গ্রীন সিটি পার্কের পার্কিং এলাকায় এবং পার্কভিউ নামক ঝুলন্ত দোকানগুলোও রয়েছে। পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো গাছও কেটে দোকানগুলোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা টাকা দিয়ে দোকান বসিয়েছেন, তবে এসব দোকানগুলো অনুমোদিত নয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আরআই শাখার প্রধান স্বপন কুমার বলেন, অধিকাংশ দোকান অনুমতি ছাড়াই বসানো হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন যদি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পায়, তবে এসব দোকান উচ্ছেদ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“পর্দা যেখানে নেই, সেখানে রহমতও নেই: ছারছীনার পীর”

আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা শরীফের পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন (মা.জি.আ.) সম্প্রতি একটি ওয়াজ মাহফিলে বলেন, “মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের উপর কিছু ফরজ বিধান আরোপ করেছেন, তার মধ্যে পর্দা অন্যতম।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে আমাদের সমাজে পর্দার বিধান প্রায় অবহেলিত, অথচ এটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের জন্য ফরজ।”

মাহফিলে উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে হযরত মাওলানা আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইন বলেন, “পর্দা পালন করার মাধ্যমে সমাজে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। পর্দার বিধান পালনে জেনা, ব্যাভিচার, ধর্ষণসহ মারাত্মক অপরাধ থেকে জাতি মুক্তি পাবে।”

তিনি মঙ্গলবার রাতে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলাধীন তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ছারছীনা শরীফের মরহুম পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহঃ) এর স্মরণে আয়োজিত ঈছালে ছওয়াব ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন।

এছাড়া, মাহফিলে আরও আলোচনা করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ হেমায়েত বিন তৈয়্যেব, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়া-এ-নেছারিয়া দ্বিনীয়ার মুফতী মাওলানা মোঃ হায়দার হুসাইন এবং মুহাদ্দিস মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ আল মাহমুদ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হামাসের ‘হ্যা’, আজ রাত বা কাল ঘোষণা আসবে”

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও গাজায় যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা। তবে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, হামাস এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত প্রতিক্রিয়া প্রদান করেনি।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) এই বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের মুক্তির চুক্তি নিয়ে একমত হয়েছে। এ বিষয়ে ঘোষণা আজ রাত অথবা আগামীকাল (১৬ জানুয়ারি) আসতে পারে। হামাস জানিয়েছে যে, আগামী রোববার থেকে জিম্মিদের মুক্তি শুরু হবে।

ফিলিস্তিনি সূত্রে জানা গেছে, হামাস এই চুক্তির জন্য মৌখিকভাবে সম্মতি জানিয়েছে, তবে এখনও লিখিতভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণের ব্যাপারে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ইসরায়েলি মন্ত্রীরা বুধবার রাতেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে ভোটের জন্য সময়সূচী নির্ধারণ করেছেন, এবং বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে।

কান নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাসের সামরিক নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছেন। এছাড়া, হামাস ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকা থেকে তার সব পরিকল্পনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হামাস-ইসরায়েল চুক্তি এখন খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে সময় খুব কম বাকি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে সংস্কার করা বেইলি ব্রিজ ফের ঝুঁকিপূর্ণ

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সরকারী গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত বেইলি ব্রিজটি আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্কারের পরও ব্রিজটির পাটাতনগুলো মরিচা ধরে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থী, পথচারী ও যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ বেইলি ব্রিজটি ৩৫ বছর আগে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল। দীর্ঘদিনের ব্যবহার ও সংস্কারের অভাবে ব্রিজটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গর্তগুলোতে পড়েই প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে, বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের জন্য এটি ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করছে।

স্থানীয়রা জানান, সেতুতে রাতের আঁধারে কোনো আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ভ্যানগাড়ি, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল এবং সাধারণ মানুষ ভাঙা অংশে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া, বহু শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সেতুটি দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করেন, তবে সংস্কারের অভাবে তাদের জীবন এখন বিপদের সম্মুখীন।

সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহিরুল হক বলেন, “সেতুটির সংস্কার না হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কীভাবে এ সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করবে?”

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, “সেতুটি সংস্কারের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাময়িক বরখাস্ত হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যার সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিনকে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল, এবং তিনি পূর্বে রংপুরের আরপিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ছিলেন। গত বছরের ১৩ নভেম্বর, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৪ নভেম্বর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, আলেপ উদ্দিনকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (২) ধারার আওতায় ১৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে অসময়েও থেমে নেই নদীভাঙন

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীতে অব্যাহত নদীভাঙন বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেড়ে গেছে। একদিকে যেমন কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, তেমনি বিপদাপন্ন রয়েছে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, সড়ক, কালভার্টসহ ব্যাপক এলাকা। এসব সমস্যার সমাধানে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। স্থানীয়দের দাবি, একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক যাতে নদীভাঙন থেকে এলাকাটি রক্ষা পায়।

গত শনিবার সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে জানা যায়, নলছিটির মগর ও ভৈরবপাশা ইউনিয়নে ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এখানে কিছু এলাকা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। মগর ইউনিয়নের বহরমপুর, সিকদারপাড়া, খোজাখালি ও কাঠিপাড়া এলাকার সাতটি সড়ক এবং দুটি কালভার্ট নদী গর্ভে চলে গেছে। এসব এলাকার বহু স্থাপনা ও শত শত বিঘা ফসলি জমিও নদীতে বিলীন হয়েছে। এর ফলে এলাকার বাসিন্দারা প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে পড়েছে। বহরমপুর গ্রামের মানচিত্র ছোট হয়ে গেছে, এবং ভিটেমাটি হারিয়ে বহু মানুষ পথে বসেছেন।

এছাড়া, গত ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর বহরমপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন মৃধার বাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। যদিও জরুরি ভিত্তিতে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, তা কার্যকর হয়নি। গ্রামের বাসিন্দা রহমান মৃধা জানান, “আমার বাপ-দাদার কবরের শেষ চিহ্নটুকুও নদী গ্রাস করছে। আমাদের সমস্ত জমি, ভিটে চলে গেছে। আমাদের থাকার জায়গা নেই।”

স্থানীয় মগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাসুম লস্কর শাহাজাদা বলেন, “বহরমপুর, ঈশ্বরকাঠি, কাঠিপাড়া সহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামের ২০০ বসতবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয়সহ একাধিক স্থাপনা নদীগর্ভে চলে গেছে। দ্রুত একটি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে সামনে আরও বড় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।”

এদিকে, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভাঙনরোধে উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে। জেলা পাউবো প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা জানান, “এ বছরের মধ্যে সুগন্ধা নদীর চারটি স্থানে নদীরক্ষা কাজ শুরু করা হবে, যা ভাঙনরোধে কার্যকর হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম