পটুয়াখালীতে আজহারীর মাহফিল: স্যানিটেশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রস্তুত ১২০০ অস্থায়ী টয়লেট

পটুয়াখালীতে আলোচিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর আগমনকে কেন্দ্র করে ২৫ জানুয়ারি জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই মাহফিলের জন্য প্রায় ছয় লাখ মানুষের সমাগম ঘটতে পারে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। এ বিশাল জনসমাগমের স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে তৈরি করা হচ্ছে ১২০০ অস্থায়ী টয়লেট।

আয়োজকরা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, পটুয়াখালী জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনে মূল মাঠের পাশে ৪০০টি প্রসাবখানা এবং ২০০টি টয়লেট স্থাপন করা হবে। একইভাবে, সোনালী ব্যাংক মোড়ে ২০০টি প্রসাবখানা ও ১০০টি টয়লেট এবং ফোর লেন সড়কের বিটাইপ রাস্তার মোড়ে ২০০টি প্রসাবখানা ও ৫০টি টয়লেট স্থাপন করা হবে। এসব টয়লেটের পাশাপাশি, অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে আরও অস্থায়ী এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটও বসানো হবে।

নারীদের সুবিধার জন্য লতিফ স্কুল এবং আব্দুল হাই বিদ্যানিকেতনের প্যান্ডেলে অস্থায়ীভাবে ৫০টি টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, বিদ্যালয়ের বিদ্যমান টয়লেট ব্যবহারের সুযোগও দেওয়া হবে।

পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, “আমরা আশা করছি, মিজানুর রহমান আজহারীর আগমন উপলক্ষ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষের আগমন ঘটবে এবং তাদের স্যানিটেশনের সুবিধার্থে এই ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, সকলের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারব।”

এ মাহফিলটি আগামী ২৫ জানুয়ারি পটুয়াখালী তথা বরিশাল বিভাগে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মিজানুর রহমান আজহারী সশরীরে উপস্থিত থেকে আলোচনা করবেন। এই মাহফিলকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে এইচএমপিভিতে আক্রান্ত নারীর মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশে হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) আক্রান্ত নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম সানজিদা আক্তার, বয়স ৩০। মহাখালী সংক্রামক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরিফুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই নারী গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় মারা গেছেন। দেশে এইচএমপিভি শনাক্ত হওয়া কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য এটিই প্রথম। তবে তিনি যে এইচএমপিভি ভাইরাসের জন্যই মারা গেছেন, এমনটি বলা যাবে না। ওনার অন্য আরও শারীরিক জটিলতা ছিল, যার জন্য হঠাৎ করেই শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

তার আর কী কী জটিলতা ছিল জানতে চাইলে হাসপাতাল তত্বাবধায়ক বলেন, তিনি ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া তার কিডনি সমস্যা ছিল, সেইসাথে তিনি অনেক মোটা ছিলেন, যে কারণে তাকে ভেন্টিলেটরে ওঠানো যাচ্ছিল না। ভাইরাল নিউমোনিয়ার জন্যও সম্ভবত মারা যাননি, অনেকটা সুস্থও হয়ে গেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী জটিলতার জন্য হয়তো সমস্যা হয়েছে।




সারজিস আলমসহ ৪৫ জনের পাসপোর্ট জব্দ করেছে সেনাবাহিনী’,

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সারজিস আলমসহ ৪৫ জনের পাসপোর্ট জব্দ করেছে সেনাবাহিনী। তারা ইউরোপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।’ বেশ কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এমন এক খবর। সেখানে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলমসহ ৪৫ ব্যক্তির পাসপোর্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

তবে দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী সংস্থা রিউমর স্ক্যানার।

এক প্রতিবেদনে রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, সারজিস আলমসহ ৪৫ জনের পাসপোর্ট জব্দ করেছে সেনাবাহিনী শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয় বরং, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবিটি মিথ্যা বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অনুসন্ধানের শুরুতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে BBC NEWS 2470 নামক একটি ব্লগ ওয়েবসাইটে গত ১২ জানুয়ারি ‘ব্রেকিং নিউজ: সারজিস আলমসহ ৪৫ জনের পাসপোর্ট জব্দ করেছে সেনাবাহিনী’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।




আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তলব করা সাংবাদিকরা হলেন- এপির ব্যুরো চিফ জুলহাস আলম, ইউএনবির উপদেষ্টা সম্পাদক ফরিদ হোসেন, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, ঢাকা ট্রিবিউনের স্টাফ রিপোর্টার আলী আসিফ শাওন, ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক (সাবেক প্রেস মিনিস্টার) নাদিম কাদির, ডিবিসি নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব ঘোষ, ডেইলি পিপলস লাইফের (সাবেক বাসস) সম্পাদক মো. আজিজুল হক ভুঁইয়া, বাসসের স্পোর্টস ইনচার্জ স্বপন বসু, ডি‌বিসি নিউজের স্টাফ রিপোর্টার তাহমিদা সাদেক জেসি, চ্যানেল আই এর সিনিয়র রিপোর্টার নিলাদ্রি শেখর কুন্ডু, বাংলা টিভি সাবেক (দেশ টিভি) নজরুল কবীর, গাজী টিভির বার্তা সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান, গ্রিন টিভির সাজু রহমান, বাংলাভিশনের (সাবেক) আমিনুর রশীদ। ‌




যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পরও গাজায় চলছে হামলা, নিহত অন্তত ৩০

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে হামাস ও দখলদার ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার। অবশ্য এরপরও গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা থেমে নেই।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে চালানো ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, দীর্ঘ ১৫ মাস যুদ্ধের পর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে বলে মধ্যস্থতাকারীরা নিশ্চিত করার পর গাজার ফিলিস্তিনিরা আনন্দ উদযাপন করছেন। আগামী রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে চলেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েলি বাহিনী অবশ্য গাজা উপত্যকা জুড়ে তাদের হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং চুক্তির কথা ঘোষণার পর থেকে এই ভূখণ্ডে অন্তত ৩০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।

হামাসের কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রিশেক বলেছেন, কাতারের রাজধানী দোহায় যে চুক্তি হয়েছে তাতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, বাস্তুচ্যুত লোকদের তাদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া এবং যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিসহ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সমস্ত শর্তই পূরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে “জিম্মি ও তাদের পরিবারের দুঃখকষ্টের” অবসানে চুক্তি “এগিয়ে নিতে সহায়তা” করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের গত ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন আন্তঃসীমান্ত হামলার পর থেকে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।




অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-হামাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ হামাস ও দখলদার ইসরায়েল। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আজ বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ইসরায়েল ও হামাস গাজা যুদ্ধের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই যুদ্ধে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধের উত্তাপে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা এই চুক্তিতে ছয় সপ্তাহের প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির রূপরেখা রয়েছে এবং এতে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এবং ইসরায়েলের হাতে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আলোচনার বিষয়ে ব্রিফ করা একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

চুক্তিটি মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কয়েক মাসের আলোচনার ফল। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ জানুয়ারির অভিষেকের ঠিক আগে চূড়ান্ত চুক্তিটি চূড়ান্ত হলো। যেখানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা হস্তান্তরের আগেই মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

গাজার প্রধান ফিলিস্তিনি সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জানিয়েছে, হামাসের প্রতিনিধিদল মধ্যস্থতাকারীদের কাছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং বন্দীদের ফেরতের বিষয়ে তাদের সম্মতি জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামাস চুক্তির মৌখিক সম্মতি দিয়েছে এবং চূড়ান্ত লিখিত সম্মতি দেওয়ার জন্য আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর জানিয়েছেন, তিনি ইউরোপ সফর সংক্ষিপ্ত করে আজ রাতেই ইসরায়েল ফিরে আসছেন। ফিরেই তিনি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ও সরকারের ভোটে অংশ নেবেন। সম্ভবত আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস–নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাধা ভেঙে ইসরায়েলি এলাকায় প্রবেশ করে। তারা ১ হাজার ২০০ সেনা ও সাধারণ নাগরিককে হত্যা করে এবং ২৫০ জনেরও বেশি বিদেশি ও ইসরায়েলি নাগরিককে বন্দী করে নিয়ে যায়।

এরপর ইসরায়েলের গাজা অভিযানে এ পর্যন্ত ৪৬ হাজার এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। উপকূলীয় এই এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েল। তীব্র শীতে শত শত মানুষ তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে কোনোরকম টিকে আছে।

ট্রাম্প তার অভিষেকের আগে বারবার দ্রুত চুক্তি করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বন্দীদের মুক্তি না দিলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ হবে। তার মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দলের সঙ্গে মিলে চুক্তিটি সম্পন্ন করতে কাজ করেছেন।

এখন ইসরায়েলে বন্দীদের ফিরে আসা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার ডানপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ কমাতে পারে। যেখানে গত বছরের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহুর সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে ইরান–সমর্থিত লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাক ও ইয়েমেনের গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। এই চুক্তিটি ইসরায়েলি অভিযানে হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার পর চূড়ান্ত হলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নেতাদের হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল কৌশলগতভাবে এগিয়ে গেছে।




প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দু’বারের বেশি নয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না— এমন প্রস্তাব করেছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। সেই সঙ্গে সংসদের উভয় কক্ষের সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচিত প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের নয় পৃষ্ঠার সুপারিশ জমা দেয়। এতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এমন সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী—

(ক) সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমিত করা।

(খ) সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দুইবার নির্বাচত প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের অযোগ্য করা।

(গ) একই ব্যক্তি একই সঙ্গে যেন দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা হতে না পারেন তার বিধান করা এবং দ্বৈত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ বন্ধ করা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—

(ক) দলনিরপেক্ষ, সৎ, যোগ্য ও সুনামসম্পন্ন ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বিধান করা।

(খ) জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষের সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচিত প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান করা। কার্যকর সংসদের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংসদ সদস্যদের প্রত্যাহারের বিধান করা।

সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা—

(ক) সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি, আবাসিক প্লট, সব ধরনের প্রটোকল ও ভাতা পর্যালোচনা ও সংশোধন করা।

(খ) একটি ‘সংসদ সদস্য আচরণ আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের বাৎসরিকভাবে সম্পদের হিসাব প্রদান এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিষয়সমূহ ঘোষণা করা।

(গ) সংবিধান লঙ্ঘন করে সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়নে জড়িত থাকার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের আনোয়ার হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলার রায় কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং ভবিষ্যতে সংসদ সদস্যদেরকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টার পদ থেকে অপসারণ করা।

(ঘ) সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রটোকলের অবসান করা।

৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে আবারও নির্বাচনের প্রস্তাব
সচিব নিয়োগের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকবে : সংস্কার কমিশন
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ/গণমাধ্যম—

(ক) নিশ্চল পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া, যাতে পর্যবেক্ষকরা সারাদিন কেন্দ্রে থাকতে পারে, কিন্তু ভোটকক্ষে সার্বক্ষণিকভাবে নয়।

(খ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে প্রাক্-নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষণের অফিসিয়াল অনুমতি প্রদান করা।

(গ) পক্ষপাতদুষ্ট ভুয়া পর্যবেক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা।

(ঘ) ব্যক্তি পর্যায়ে পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিধান চালু করা ।

(ঙ) পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ভবিষ্যতে নির্বাচন ভালো করার জন্য কাজে লাগানোর বিধান করা।

(চ) আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপগুলো সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক সংস্থার জন্য সুস্পষ্ট করা। সরকারের পরিবর্তে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

(ছ) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিকদের সরাসরি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ, দিনে মোটর সাইকেল ব্যবহার করার অনুমতি প্রদান করা।

নির্বাচনী আচরণবিধি—

(ক) ব্যানার, তোরণ ও পোস্টারের পরিবর্তে লিফলেট, ভোটার-প্রার্থী মুখোমুখি অনুষ্ঠান, পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারের সম-সুযোগ প্রদানের বিধান করা।

(খ) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪ মেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার বিধান করা।

(গ) ১৯৯০ সালের তিনজোটের রূপরেখার মতো রাজনৈতিক দলের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করা।

কমিশনের সুপারিশগুলো দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে অন্তবর্তী সরকার।




গণতন্ত্র বহাল রেখে নতুন ৪ মূলনীতির সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে “সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র” প্রস্তাব দিয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। এছাড়া একটি কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবধিকার সুনিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাতটি প্রধান বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছে সংস্কার কমিশন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কাছে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সার-সংক্ষেপ সুপারিশ জমা দেয়। অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের সংস্কারের সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দেয়।

সাতটি প্রধান বিষয় হলো

১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান আদর্শ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনস্বরূপ সংবিধান ও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে “সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র” প্রস্তাব

২. ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা

৩. প্রধানমন্ত্রী পদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস

৪.অন্তর্বর্তী সরকার কাঠামোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব

৫. বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ

৬. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিতকরণ

৭. মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিক সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা নিশ্চিতকরণ।

১. কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের প্রযোজ্য সকল ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলো ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে “Republic” ও “Peoples Republic of Bangladesh” শব্দগুলো থাকছে।

২. ভাষা নাগরিকতন্ত্রের রাষ্ট্র ভাষা হবে ‘বাংলা’। সংবিধানে বাংলাদেশে নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত সকল ভাষা এ দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

৩. নাগরিকত্ব ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি…’ কমিশন এই বিধানটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করছে। সুপারিশ করা হচ্ছে যে, বর্তমান অনুচ্ছেদ ৬(২) নিম্নোক্তভাবে সংশোধন করা হোক “বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচিত হবেন” হিসেবে প্রতিস্থাপিত হোক।

৪. সংবিধান বিষয়ক অপরাধ ও সংবিধান সংশোধনের সীমাবদ্ধতা কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ক এবং ৭খ বিলুপ্তির সুপারিশ করছে।

৫. সংবিধানের মূলনীতি

৫.১ কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।

৫.২ বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন। সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে – “বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

রাষ্ট্রের মূলনীতি

কমিশন সংবিধানের মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলো বাদ দেওয়ার সুপারিশ করছে।

মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা

১. কমিশন সংবিধানের অধিকার সম্পর্কিত অনুচ্ছেদসমূহ পর্যালোচনা করে বেশ কিছু সুপারিশ প্রস্তাব করছে। বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে।

২. সংবিধানে কিছু নতুন অধিকার যেমন খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, ইন্টারনেট প্রাপ্তি, তথ্য পাওযা, ভোটাধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ, গোপনীয়তা রক্ষা, ভোক্তা সুরক্ষা, শিশু, উন্নযন, বিজ্ঞান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিদ্যমান অধিকারের অনুচ্ছেদসমূহের সংস্কার যেমন বৈষম্য নিষিদ্ধকরণের সীমিত তালিকা বর্ধিতকরণ, জীবনের অধিকার রক্ষায বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, জামিনে মুক্তির অধিকার অন্তর্ভুক্তকরণ এবং নিবর্তনমূলক আটক সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।

৪. প্রতিটি মৌলিক অধিকারের জন্য পৃথক সীমা আরোপের পরিবর্তে একটি সাধারণ সীমা নির্ধারণ এবং সীমা আরোপের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও আনুপাতিকতা পরীক্ষার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অধিকার খর্বের ঝুঁকি কমাবে।

৫. যেসব অধিকার (শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ইত্যাদি) বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সম্পদ ও সময় প্রযোজন, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রেখে সম্পদের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই পদ্ধতি সরকারের জবাবদিহিতা বাড়াবে এবং সম্পদের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অধিকার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

আইনসভা

১. কমিশন একটি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করছে; একটি নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ এবং একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট)। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে ৪ (চার) বছর।

নিম্নকক্ষ

১. নিম্নকক্ষ গঠিত হবে সংখ্যগরিষ্ঠ ভোটে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে। ৪০০ (চারশো) আসন নিয়ে নিম্নকক্ষ গঠিত হবে। ৩০০ (তিনশো) জন সদস্য একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। আরো ১০০ জন নারী সদস্য সারা দেশের সকল জেলা থেকে এই মর্মে নির্ধারিত ১০০ (একশটি) নির্বাচনী এলাকা থেকে কেবল নারী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন।

২. রাজনৈতিক দলগুলো নিম্নকক্ষের মোট আসনের ন্যূনতম ১০% আসনে তরুণ-তরুণীদের মধ্য থেকে প্রার্থী মনোনীত করবে।

৩. সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ন্যূনতম বয়স কমিয়ে ২১ বছর করা হবে।

৪. ২ (দুই) জন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন, যাদের মধ্যে একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন।

৫. একজন সংসদ সদস্য একই সঙ্গে নিম্নলিখিত যেকোনো একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না: (ক) প্রধানমন্ত্রী (খ) সংসদনেতা এবং (গ) রাজনৈতিক দলের প্রধান।

৬. অর্থবিল ব্যতীত নিম্নকক্ষের সদস্যরা তাদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।

৭. আইনসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি সবসময় বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন।

উচ্চকক্ষ

১. উচ্চকক্ষ মোট ১০৫ (একশ পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে; এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন। রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের মনোনয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশ) জন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। এই ১০০ (একশ) জন প্রার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ৫ জন আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবে। অবশিষ্ট ৫টি আসন পূরণের জন্য রাষ্ট্রপতি নাগরিকদের মধ্য থেকে (যারা কোনো কক্ষেরই সদস্য ও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন) প্রার্থী মনোনীত করবেন।

২. কোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য হতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১% নিশ্চিত করতে হবে।

৩. উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

৪. উচ্চকক্ষের একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন যিনি সরকার দলীয় সদস্য ব্যতিত উচ্চকক্ষের অন্য সকল সদস্যের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

সংবিধান সংশোধনী

১. সংবিধানের যেকোনো সংশোধনী উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন প্রযোজন হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনী উভয় কক্ষে পাস হলে, এটি গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। গণভোটের ফলাফল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

আন্তর্জাতিক চুক্তি

১. জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এমন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে আইনসভার উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন নিতে হবে।

অভিশংসন

রাষ্ট্রদ্রোহ, গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে। নিম্নকক্ষ অভিশংসন প্রস্তাবটি পাস করার পর তা উচ্চকক্ষে যাবে এবং সেখানে শুনানির মাধ্যমে অভিশংসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

নির্বাহী বিভাগ

১. কমিশন সুপারিশ করছে যে আইনসভার নিম্নকক্ষে যে সদস্যের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন আছে তিনি সরকার গঠন করবেন। নাগরিকতন্ত্রের নির্বাহী কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা দ্বারা প্রযোগ করা হবে।

২. কমিশন রাষ্ট্রপতির কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা সুপারিশ করছে; এই বিশেষ কার্যাবলী কিংবা সংবিধানে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য সকল বিষয়ে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে কাজ করবেন।

৩. কমিশন রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (“এনসিসি”) গঠনের সুপারিশ করছে।

জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল

১. জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল “এনসিসি” রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জাতীয়, প্রতিষ্ঠান। এনসিসি-র সদস্য হবেন: অ. রাষ্ট্রপতি; আ. প্রধানমন্ত্রী; ই. বিরোধীদলীয় নেতা; ঈ. নিম্নকক্ষের স্পিকার; উ. উচ্চকক্ষের স্পিকার; উ. বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি; ঋ. বিরোধী দল মনোনীত নিম্নকক্ষের ডেপুটি স্পিকার ; ও. বিরোধী দল মনোনীত উচ্চকক্ষের ডেপুটি স্পিকার; ঔ. প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধিত্বকারী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের উভয় কক্ষের সদস্যরা ব্যতীত, আইনসভার উভয় কক্ষের বাকি সকল সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তাদের মধ্য থেকে মনোনীত ১(এক) জন সদস্য।

ওই ভোট আইনসভার উভয় কক্ষের গঠনের তারিখ থেকে ৭ (সাত) কার্য দিবসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। জোট সরকারের ক্ষেত্রে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ব্যতীত জোটের অন্য দলের সদস্যরা ওই মনোনয়নে ভোট দেওয়ার যোগ্য হবেন।




ঝালকাঠিতে শীত ও কুয়াশার তীব্রতায় রবিশস্যে ঝুঁকি, শঙ্কিত কৃষকরা

চলতি শীত মৌসুমে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা শঙ্কিত। বিশেষত, রবিশস্যের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আলু, শিম, লাউ, করলা, মিষ্টি কুমড়া, শাকসবজির মতো ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত বছরের বন্যার কারণে অনেক কৃষক তাদের জমি থেকে ফসলের স্বাভাবিক ফলন পেতে পারেননি এবং চলতি বছর তারা সবজি চাষের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে তাদের ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগ করলেও অনেক জায়গায় তা পর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়নি।

কৃষি আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহ গত ৫ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অব্যাহত রয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন আরও চলতে পারে। বিশেষত, ঝালকাঠি এবং উপকূলীয় এলাকার কৃষকরা তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলার ৮৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং ৫৯ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, ভুট্টা, গম, আলু, শীতকালীন সবজি, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, সরিষা, বাদাম, তিল, সূর্যমুখী, সয়াবিন এবং মশুরসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষকরা জানান, ঘন কুয়াশা ও রাতভর বৃষ্টির কারণে আলুর ক্ষেতে *লেট ব্লাইট* রোগ দেখা দিয়েছে, যার ফলে আলুর পাতা ও কাণ্ড পচে যাচ্ছে এবং গাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া, বোরো ধানের বীজতলায় *কোল্ড ইনজুরি* দেখা দিয়েছে। আলু ক্ষেতে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেও কুয়াশার প্রভাব থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। একইভাবে, বীজতলা রক্ষা করতে কৃষকরা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলেও অনেক সময় তা কার্যকর হচ্ছে না।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মনিরুল ইসলাম জানান, কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে। বোরো আবাদের জন্য এ বছর বীজতলা তৈরি এবং অন্যান্য ফসল চাষের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ববির দুটি হল ও লাইব্রেরির নাম বদলে দিলেন শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং দুটি আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার, ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি’র পরিবর্তে ‘কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার’, ‘বঙ্গবন্ধু আবাসিক হল’র পরিবর্তে ‘বিজয় ২৪ হল’ এবং ‘শেখ হাসিনা হল’র নাম পরিবর্তন করে ‘কবি সুফিয়া কামাল’ লেখা ব্যানার টানানো হয়।

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন, যাতে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নাম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের বরিশাল মহানগর কমিটির আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম সাহেদ জানান, এই নাম পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত’, ‘বঙ্গবন্ধু আবাসিক হল’ এবং ‘শেখ হাসিনা হল’ নামগুলি পরিবর্তন করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু অফিসিয়ালভাবে নাম পরিবর্তন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এসব নাম বদলে ব্যানার টানানোর পদক্ষেপ নেন।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী জানান, শিক্ষার্থীরা নাম পরিবর্তন করে ব্যানার টানিয়েছে এবং বিকালে তারা স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের পর দীর্ঘ ৬ মাস পার হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও বিভিন্ন ভবনের নাম ফ্যাসিস্টদের নামে রয়েছে।” শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, এই নামগুলো দ্রুত সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা করে পরিবর্তন করা উচিত।

উপ-উপাচার্য আরো জানান, সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তন বিষয়ে আলোচনা হবে এবং যদি এটি জরুরি হয়, তবে উপাচার্য সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে বিষয়টি সমাধান করতে পারেন।

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন, তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ নাফিসা হল’ অথবা ‘শহীদ রিয়া গোপ হল’ করার প্রস্তাব।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম