নেতানিয়াহুর তিন মন্ত্রীর পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধিতা করে ইসরাইলের অতি-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির পদত্যাগ করেছেন। তার সঙ্গে তার জাতীয়তাবাদী-ধর্মীয় দল ওজামা ইয়েহুদিতের আরও দুই মন্ত্রীও পদত্যাগ করেছেন। খবর রয়টার্সের।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দিনেই এমন খবর এলো। যদিও যুদ্ধবিরতি স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওজমা ইয়েহুদি বা ইহুদি শক্তি পার্টি এখন থেকে আর ক্ষমতাসীন জোটের অংশ থাকবে না। তবে দলটি বলেছে, তারা নেতানিয়াহুর সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা করবে না।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগের সপ্তাহে বেন গভির পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন এবং তিনি এটিকে ‘একটি বেপরোয়া চুক্তি’ বলে অভিহিত করেন।

সেই সঙ্গে তিনি অন্যান্য কট্টরপন্থি, সেটলার (বসতি স্থাপনকারী) পন্থি পক্ষগুলোকেও একই পদক্ষেপ অনুসরণ করার আহ্বান জানান। সেসময় তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত চুক্তিটি শত শত ফিলিস্তিনি জঙ্গিকে মুক্ত করে দেবে এবং গাজার কৌশলগত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে আমাদের অজর্নগুলোকে মুছে ফেলবে। এর ফলে হামাস অপরাজিত থাকবে।’

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (১৫ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরাইল। আজ রোববার (১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপে যেসব জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে, তাদের নামের তালিকা না দেওয়া পর্যন্ত গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হবে না বলে জানান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

রোববার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতক্ষণ না হামাস মুক্তি দিতে চাওয়া জিম্মিদের তালিকা দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি শুরু হবে না।  স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা।




পটুয়াখালী পুলিশ লাইনের ব্যারাক থেকে নারী কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী পুলিশ লাইনসের নারী ব্যারাক থেকে তৃষা বিশ্বাস (২২) নামে এক নারী কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সকাল ৭টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তৃষা মাদারীপুর জেলার ঢাসার থানার পূর্ব কমলাপুর গ্রামের কৃষ্ণ বিশ্বাসের মেয়ে। ২০২৩ সালে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আহমাদ মাইনুল হাসান জানান, তৃষা পারিবারিক কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে বিএনপির কর্মী সমাবেশে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে, পটুয়াখালী শহরের পুরাতন আদালত মাঠে। এই কর্মী সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি ছিল, যাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুস রহমান এবং মাহবুবুল হক নান্নু।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহত পাঁচজনের মধ্যে ছাত্রদল নেতা মো. ফিরোজ আলম খান ইউসুফ এবং যুবদলের সদস্য রিয়াজ, জহির, রাসেল ও হানিফ হাওলাদার উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মী সমাবেশটি জেলা বিএনপির সম্মেলন নিয়ে আলোচনা করার জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা সমাবেশে যোগদান করতে থাকেন। এ সময় আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সমর্থিত গ্রুপ ও স্নেহাংশু সরকারের সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে স্লোগান ও মঞ্চে ওঠাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে যখন আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সমর্থিত গ্রুপ একটি মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ বায়জিদ পান্না মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করলে স্নেহাংশু সরকারের সমর্থিত নেতাকর্মীরা তাকে প্রতিরোধ করেন, যা পরবর্তীতে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতিতে রূপ নেয়। সংঘর্ষের ফলে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ বায়জিদ পান্না ঢাকা পোস্টকে বলেন, “আমি মঞ্চে ওঠার পর ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু সদস্য ডাকাডাকি ও হৈ-হুল্লোড় শুরু করে। তারা মূলত ঝামেলা করতে চেয়েছিল। শান্ত করার জন্য মঞ্চ থেকে নেমে আসি, তখন আমার ছেলেদের ওপর পেছন থেকে হামলা করা হয়, এতে আমাদের চারজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।”

অন্যদিকে, স্নেহাংশু সরকারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার কারণে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। আহত হওয়ার কিছু নেই, বর্তমানে সব কিছু ঠিক আছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




নিজের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার জন্য সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছে সেই সাথে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার তাগিদ দিয়ে আসছে অন্তর্বর্তী সরকার। এবার সর্বসাধারণের জন্য নিজের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সম্পদের বিবরণী নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক পোস্টে সেই বিবরণী লিখে প্রকাশ করেন তিনি।

“২০০০ সালের দিকে আমার বাবা ঢাকা শহরের নিম্নমধ্যবিত্ত এলাকা ডেমরার কাছে জুরাইন এবং যাত্রাবাড়ীর মধ্যবর্তী দনিয়া এলাকায় পাঁচতলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করেন। সেই ভবনের একটি ১,১৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আমি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। ২০১০ সালে দনিয়া ছেড়ে চলে আসলেও এখনো সেই ফ্ল্যাট আমার মালিকানায় আছে। একসময় আমি সেটি আমার এক ভাইয়ের কাছে বিক্রি করার কথা ভেবেছিলাম, যিনি এখনো সেখানে থাকেন। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি। জীবনের এক পর্যায়ে হয়তো আবার দনিয়ায় ফিরে যাব। বাবা-মায়ের বাড়িতে গেলে আমি এখনো সেই সরু করিডোরগুলোতে তাদের হাঁটতে দেখি। আমার প্রয়াত বাবার কোরআন তেলাওয়াতের শব্দ শুনি, মা যেভাবে বিনয়ের সঙ্গে সালাত আদায় করতেন তাও যেন দেখতে পাই।

২০১৪ সালে আমি শাহীনবাগে ১,১০০ বর্গফুটের একটি তিন বেডরুমের ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। ভাই এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন কিছু টাকা দিয়েছিলেন, আর বাকিটা আমার সঞ্চয় থেকে দিয়েছিলাম। আমি জায়গাটি ভালোবাসি। তবে নিরাপত্তার কারণে হয়তো খুব শিগগিরই এই ফ্ল্যাট ছেড়ে যেতে হবে। সম্প্রতি দেখছি, আমাদের এলাকার মসজিদের ভিক্ষুকরাও আমাকে চেনেন। কিছুদিন আগে কয়েকজন তরুণ আমাকে তাদের আড্ডার সামনে দিয়ে হাঁটার সময় ‘গণশত্রু’ বলে ডেকেছিল। এ কারণে আমাকে হয়তো শিগগিরই সরকারি একটি ফ্ল্যাটে চলে যেতে হবে। আমার পরিবার এই নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত।

প্রায় পাঁচ বছর আগে আমি আমার এক শ্যালকের কাছ থেকে ময়মনসিংহে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। খুব সস্তায় পেয়েছিলাম সেটি। একই ভবনে আমার স্ত্রী তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন। এই দুটি ফ্ল্যাট আমাদের জন্য মাসিক আয়ের একটি উৎস। এছাড়া গ্রামে আমার ৪০ শতাংশ আবাদি জমি আছে। বহু বছর ধরে একটা ভ্রান্ত ধারণায় ভুগেছি যে, অবসরে গ্রামে ফিরে যাব। শুধু লিখব আর হাঁটব—এটাই ছিল পরিকল্পনা। কিন্তু এখন মনে হয়, গ্রামে আর কখনো ফিরে যাওয়া হবে না। হয়তো আমি মরে গেলে আমার সন্তানরা আমাকে বাবা-মায়ের পাশেই কবর দেবে।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
আমার একটি মাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে যেখানে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা (১১.৪ মিলিয়ন টাকা) সঞ্চিত আছে। এই আগস্টে আমি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিতে দুই দশকের চাকরি ছেড়েছি। অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের বেশিরভাগই আমার এএফপির চাকরির পেনশন এবং গ্র্যাচুইটির। কিছু মানুষ আমার কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ধার নিয়েছে। আমার ধারণা, বছরের শেষে আমার সঞ্চয় হয় অপরিবর্তিত থাকবে, নয়তো খরচের কারণে কমে যাবে। আমার একটি গাড়ি আছে। ঢাকা শহরে একটি গাড়ি পরিচালনা এবং ড্রাইভার রাখার মাসিক খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

আমি জানি না, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ শেষ করার পর আমার ভাগ্য কোথায় নিয়ে যাবে। তবে নিশ্চিত জানি, এই সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কোনো কাজ না পেলেও আমি মধ্যবিত্তের মতোই সাধারণ জীবনযাপন করতে পারব। ক্ষমতায় থাকলে অনেকেই আপনার উপার্জন নিয়ে মিথ্যা রটায়। এটাই আমার পূর্ণাঙ্গ সম্পত্তির প্রকাশ।”




পটুয়াখালীতে প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা বাড়িঘরের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী জেলার ধানখালী ইউনিয়নের প্রকল্প এলাকায় শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে চার শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবার তাদের অধিগ্রহণকৃত বাড়িঘরের মূল্য পরিশোধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা একযোগে তাদের দাবি তুলে ধরেন।

এই সময় প্রকল্প পরিদর্শনে আসা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক কামরুজ্জামান তার গাড়িবহর আটকে দেন আন্দোলনকারী পরিবারগুলোর সদস্যরা। তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অযুহাত তুলে, বিভিন্ন সময় তাদের দাবি নাকচ করা হচ্ছে, এমন অভিযোগ তোলেন তারা।

এছাড়া, আন্দোলনকারীরা প্রকল্প পরিচালকের কুশপুত্তলিকায় আগুন ধরিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বক্তারা জানান, প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও তাদের বাড়িঘরের মূল্য এখনও পরিশোধ করা হয়নি। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবার আইনি হয়রানির শিকার হচ্ছে। বক্তারা আরও দাবি করেন, দ্রুত তাদের পাওনা পরিশোধ না করা হলে প্রকল্প এলাকায় কোন কাজ চলতে দেওয়া হবে না।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আল-মামুন, সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ তালুকদার, আনসার উদ্দিন মোল্লা এবং আসাদুজ্জামান আলমগীরসহ অন্যান্যরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০২৪ সালে ভারতীয় অপতথ্যের বন্যা: বাংলাদেশ নিয়ে ১৪৮টি ভুল তথ্য প্রচার

২০২৪ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি ঘটনাবহুল বছর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন—সবই ঘটেছে এই বছরে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এ সময়ে বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের প্রচারও ছিল নজিরবিহীন।

তথ্য যাচাইকারী সংস্থা রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ১৪৮টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি আড়াই দিনে একটি করে ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭২টি ভারতীয় গণমাধ্যম এবং অসংখ্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশকে নিয়ে ভুল তথ্য প্রকাশ করেছে।

আগস্ট-ডিসেম্বর: অপতথ্যের উচ্চ প্রবাহ

২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ১২টি অপতথ্য প্রচার হলেও, আগস্ট মাসে ৫৩টি অপতথ্য ছড়ানো হয়। এরপর ডিসেম্বরে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেফতারের ঘটনায় ফের ৫৩টি অপতথ্য ছড়ায়।

রিউমর স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে প্রকাশিত ১৪৮টি অপতথ্যের মধ্যে ১০২টি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, ৪২টি ছিল বিভ্রান্তিকর, এবং ৪টি ছিল বিকৃত তথ্য।

সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের প্রভাব

ভারতীয় অপতথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সাম্প্রদায়িক অপতথ্য, যার সংখ্যা ১১৫টি। এসব অপতথ্যের বেশিরভাগই প্রচারিত হয় মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার)। রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, এক্সে ছড়ানো এসব অপতথ্য অন্তত ২৫ কোটি বার দেখা হয়েছে।

অগাস্ট মাসে সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের মাত্রা ছিল চরমে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লুটপাটের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপকভাবে সাম্প্রদায়িক অপতথ্য ছড়ানো হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অপতথ্যের প্রসার

২০২৪ সালে ভারতীয়দের ছড়ানো অপতথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচার হয়েছে এক্সে (১০৭টি)। এছাড়া, ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে অন্তত ৫০টি অপতথ্য, যা ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেও ছড়িয়ে যায়।

রিউমর স্ক্যানারের তথ্যমতে, ৫ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে এক্সে এমন ৫০টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়, যেগুলো থেকে বাংলাদেশবিরোধী সাম্প্রদায়িক পোস্ট করা হয়েছে।

অপতথ্যের ধরন

ভারতীয় অপতথ্যের মধ্যে কয়েকটি বিশেষ প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে:

1. মুসলিমকে হিন্দু বানিয়ে অপপ্রচার: অন্তত ৩৬টি ঘটনায় মুসলিমদের হিন্দু দাবি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়।

2. ভিন্ন দেশের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে বলে প্রচার: ১৩টি ঘটনায় ভারতের ভেতরকার ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে উপস্থাপন করা হয়।

3. রাজনৈতিক সহিংসতাকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখানো: এসব ঘটনা ব্যবহার করে ভারতের গণমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা

ভারতের ৭২টি গণমাধ্যম ২০২৪ সালে বাংলাদেশ নিয়ে ১৩৭টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার অধিকাংশই অপতথ্য ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য প্রচার করেছে:

রিপাবলিক বাংলা (১০টি প্রতিবেদন)

হিন্দুস্তান টাইমস

জি ২৪ ঘণ্টা

আজত

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অপতথ্য

২০২৪ সালে অপতথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যক্তি:

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস: ৪টি অপতথ্য

ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ২টি অপতথ্য

শেখ হাসিনা: ২টি অপতথ্য

এছাড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিমান বাহিনীকে নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় অপতথ্যের প্রবাহ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তি তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করা হয়। রিউমর স্ক্যানারের গবেষণা থেকে স্পষ্ট যে, এসব অপতথ্য শুধু সামাজিক অস্থিরতা নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে।

 

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা ভেস্তে গেলে তার বাহিনী ফের ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন l

যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘স্বল্প সময়ের’ এবং ইসরায়েল গাজায় ফের হামলার অধিকার রাখে, তাতে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও থাকবে।

ভাষণে ইসরায়েলি এ প্রধানমন্ত্রী হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে মারাসহ গেল ১৫ মাসের যুদ্ধে তার বাহিনীর ‘সফলতার গুণগানও’ করেন।

“আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছি। হামাস এখন সম্পূর্ণ একা,” বলেন তিনি।

শনিবারের এ ভাষণের আগে নেতানিয়াহু চুক্তির শর্তের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, হামাস কোন কোন জিম্মিকে ছাড়বে তার তালিকা না পেলে ইসরায়েল চুক্তি বাস্তবায়ন করবে না।

“চুক্তির লংঘন বরদাস্ত করবে না ইসরায়েল,” বলেছিলেন তিনি।

প্রথম ধাপে হামাস যে ৩৩ জিম্মিকে মুক্তি দেবে তার একটি তালিকা এরই মধ্যে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো ছাপিয়েছে, তবে তালিকাটি সঠিক কিনা তেল আবিবের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

রোববার কোন তিন জিম্মি মুক্তি পাবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখন তার অপেক্ষায় আছে বলে জানিয়েছে। এদিন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা।

প্রথম ধাপে ইসরায়েলও এক হাজার ৮৯০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা। এর পাশাপাশি তাদেরকে গাজা থেকে বাহিনী প্রত্যাহারও শুরু করতে হবে।

রোববার কোন এলাকা দিয়ে হামাস তিন জিম্মিকে মুক্তি দেবে তা নিশ্চিত না হওয়ায় ইসরায়েল উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ গাজার সীমান্তে তিনটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা।

প্রথম দিন হামাস যাদের ছেড়ে দেবে তারা সবাই নারী বলে গোষ্ঠীটির ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক একটি বার্তা সংস্থা।

এদিকে যুদ্ধবিরতি শুরুর ক্ষণগননার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত আছে। বুধবার চুক্তির ঘোষণা আসার পর এ পর্যন্ত হামলায় ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হামাসের কর্মকর্তারা।

শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তেল আবিবে জড়ো হয়ে হাজারো মানুষ চুক্তির প্রথম ধাপে থাকা সব শর্ত ঠিকঠাক মেনে আরও জিম্মির মুক্তি নিশ্চিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে।

“আমরা হয়তো আরও ২০০ সেনা ও ১০ জনেরও বেশি জিম্মিকে বাঁচাতে পারতাম। সরকার সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, তারা ট্রাম্পের জন্য অপেক্ষা করেছে,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরামের সদস্য গ্যাল এলকেলাই।

শনিবার তেল আবিবের কাছে এক রেস্তোরাঁয় ছুরি হামলায় একাধিক লোক আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসরায়েলের পুলিশ।

বেসামরিক এক নাগরিকের গুলিতে হামলাকারী ঘটনাস্থলে নিহতও হয়েছে; সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী দখলকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারাম দিয়ে ‘অবৈধভাবে’ তেল আবিবে প্রবেশ করেছিল, জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।




গৌরবের সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা করার অধিকার কারো নেই : মাহবুব উল আলম হানিফ।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই মহান স্বাধীনতা ও সংবিধান। গৌরবের সংবিধান নিয়ে ছেলেখেলা করার অধিকার কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে আওয়ামী লীগের এই নেতার ব্যক্তিগত সহকারী তারিক-উল-ইসলাম টুটুল পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে হানিফ বলেন, সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই হলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে দেওয়া। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় সেটিই ফুটে উঠেছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বেশকিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম ও রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কমিশন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০(২) বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে এবং এ সংশ্লিষ্ট ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম তফসিল সংবিধানে না রাখার সুপারিশ করেছে। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ‍্য নয়।

সংবিধান সংস্কার বা পরিবর্তন করার কোনো এখতিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই জানিয়ে তিনি বলেন, একমাত্র নির্বাচিত সরকারই পারে যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ‍্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার বা পরিবর্তন করতে। পার্লামেন্ট ছাড়া কোনো ব‍্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকার এটি করতে পারে না। তাদের যদি কোনো প্রস্তাবনা থেকে থাকে তাহলে সেটা আগামী সংসদ নির্বাচনের মাধ‍্যমে যে সরকার গঠিত হবে সেখানে উত্থাপিত হবে। এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যদি মনে করেন সংস্কার প্রয়োজন তাহলে সংসদেই সেটা পাস হবে। বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস মুছে ফেলার যে ঘৃণ‍্য অপচেষ্টা সেটি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।




গাজায় মুক্তির আশা, প্রহর গুণছেন ফিলিস্তিনিরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বন্দিদের মুক্তির চুক্তি অনুমোদন পাওয়ায় স্বস্তির আশায় প্রহর গুণছেন ফিলিস্তিনিরা। দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধের অবসানে অবশেষে রোববার সকাল থেকে গাজায় কার্যকর হতে যাচ্ছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি।

মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বুধবার গাজা উপত্যকার ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়ার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা চলছে। শনিবার গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা উদ্ধার সংস্থা বলেছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় একটি পরিবারের অন্তত পাঁচ সদস্য মারা গেছেন।

একই দিন সকালে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেওয়ার পর জেরুজালেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, জেরুজালেম লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।




উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ ও প্রতিকার: জানুন বিপদের ইঙ্গিত

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন একটি নীরব ঘাতক রোগ হিসেবে পরিচিত। এই সমস্যার কারণে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদ চাপ। তবে, রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদের বেশি হয়, তখন তা উচ্চ রক্তচাপ বলে বিবেচিত হয়।

উচ্চ রক্তচাপের কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। এগুলো হলো:

দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া

বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়া

শ্বাসকষ্ট বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

নাক দিয়ে রক্ত পড়া

মাথা ব্যথা বা মাথা ঘোরা

অনিদ্রা ও ক্লান্তি

প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া

শরীরের কোনো অঙ্গ বিশেষ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ক্ষেত্রে খিঁচুনি

চোখের সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ অনেক সময় চোখে ফুটে ওঠে। এটি অবহেলা করলে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি’। এর ফলে চোখের রেটিনার রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সমস্যায় আক্রান্তদের স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে বেশি।

চোখে রক্তনালিগুলো ফেটে গেলে চোখ লাল হয়ে যেতে পারে। এটি উচ্চ রক্তচাপের একটি গুরুতর লক্ষণ। অনেক সময় চোখ পরীক্ষা না করলে এই সমস্যাগুলো ধরা পড়ে না। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। এর পেছনে মূল কারণ হলো রেটিনার রক্তনালিগুলোর ক্ষতি, যা চোখের রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।

করণীয়

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিমিত খাবার গ্রহণ, ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন, এবং পর্যাপ্ত ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম