পেঁয়াজের উত্তাপে পুড়ছে বাজার!

বাজারে ফের চোখ রাঙাচ্ছে দেশী পেঁয়াজ। পেঁয়াজের উত্তাপে পুড়ছে গোটা খুলনার বাজার। হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম এক লাফে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পেঁয়াজ কিনতে হোঁচট খাচ্ছে সাধারন ক্রেতারা।

যার প্রভাব ইতোমধ্যে খুলনার বাজারে পড়তে শুরু করেছে, মাত্র ৩/৪ দিনের ব্যবধানে খুলনার পাইকারি বাজারে ৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বাছাইকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। খুচরা বাজারে দাম আরো বেশি প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০/১২০ টাকা দরে। হঠাৎ করে পেঁয়াজের এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কৃষকরা যে পেঁয়াজ মজুত করে রেখে ছিল, তা প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যে মজুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ক্রমশই কৃষকদের কাছে মজুত করা পেঁয়াজ কমে আসছে।

তাছাড়া কয়েক দিন আগে, সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্নিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে লঘুচাপের দরুন অতিবৃষ্টিপাতের কারণে নতুন কালী পেয়াজের আবাদ ব্যাপক আকারে ক্ষতি হয়েছে। এতে পেঁয়াজ চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের ফসলের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার দরুন পেঁয়াজ চাষের উৎপাদন একমাস পিছিয়ে পড়েছে। তারই প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। তারা আরো জানিয়েছেন, সামনে বাজারে নতুন কালি পেয়াজ আসলে বাজার নিয়ন্ত্রন ও দাম কমে আসবে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা ধারনা করছেন, হঠাৎ বাজারে পেঁয়াজের দামের যে ছন্দপতন ঘটেছে, এমতাবস্থায় যদি সরকার পেয়াজ এল.সি করে তবে সাময়িক পেঁয়াজের বাজারে যে অস্থিরতা বিরাজ করে, তা নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।

খুলনা বাজারে পেঁয়াজের হঠাৎ উর্ধ্বগতির বিষয়ে সাধারন ভোক্তারা বলছেন, প্রতি বছর পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে থাকেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি চলছে। হঠাৎ হঠাৎ করে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে রাতারাতি কোনো না কোনো অজুহাতে পেঁয়াজের দাম হুড়হুড় করে বাড়িয়ে দেয়।

আর বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একটা ট্রেডিশন চালু হয়ে গেছে, কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দিলে, ওই সুযোগে ডাকাতি শুরু করে। বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে। কালো বাজারিরা মজুতের ঘাটতি, অতিবৃষ্টিতে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট ইত্যাদি অজুহাতে দাম বৃদ্ধি করেছে। খুলনার বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা এবং ক্ষোভ ফেটে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

তারা সামনে আরো দাম বৃদ্ধির ব্যাপারেও শঙ্কিত। এমতাবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রনে আনতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনাসহ নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে ব্যবস্থা গ্রহনের জোরদার দাবি তুলেছেন।

নাগরিক নেতা বলছেন- সিন্ডিকেটের শিকড় অনেক গভীরে। প্রশাসনের যে শাখাগুলো বা বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারাও এদের দ্বারা কোনো কোনো ভাবে প্রভাবিত। এছাড়া প্রশাসনেরও গাফালতি আছে। এই সিন্ডিকেট বা কালো বাজারিরা জনগণকে জিম্মি করে তারা নিজেরা একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে।

সিন্ডিকেটের মাধ্যেমে তারা একটা দর ঠিক করে ফেলে, সবখানে ওই দামেই বিক্রি হয়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দরকার। পাশাপাশি আইন-শৃঙখলা বাহিনীর সহযোগীতায় এটি মনিটরিং করা দরকার। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের উচিৎ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা বা জরিমানা করা গেলে কলোবাজারি পুরাপুরি বন্ধ না হলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আসবে, সাধারন ভোক্তারা স্বস্তি পাবে।

এদিকে, বুধবার (৫ নভেম্বর) খুলনা নগরীর পাইকারী পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে খুলনায় কুষ্টিয়ার- শ্মশান, বাঁশগ্রাম, পান্টি, মাগুরার- বুনোগাতি, আড়পাড়া, ঝিনাইদহের- শৈলকূপা, লাঙ্গলবাঁধ, ফরিদপুরের নগরকান্দা, ঝাটুরদিয়া, চারহাট, মকসুদপুর, পোড়াপাড়া, কালিনগর, ময়েনদিয়া, ধানগাসহ বিভিন্ন হাট ও মোকাম হতে খুলনার বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ হচ্ছে। কৃষককের কাছে যে পেঁয়াজ মজুত ছিল, তা প্রায় শেষের দিকে। ইতোমধ্যে মজুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যে কারণে, এসব মোকাম বা হাটে বর্তমানে পেঁয়াজ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুলনা পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, যখন পেঁয়াজের দাম কমছিল, ওই সময় অনেক ব্যবসায়ী বাজারে সরবরাহের জন্য কৃষকের কাছ থেকে যারা সরাসরি পেঁয়াজ কিনেন, তারা সেই পেঁয়াজ বাজারে না ছেড়ে মজুত করে রেখে ছিল। কৃষকদের কাছে মজুত করা পেঁয়াজ কমে আসার খবরে ওই অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের পূর্বের মজুত রাখা পেঁয়াজ এখন বেশি দরে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের বিপরীতে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমরা নগরীর পাইকারি বাজার হতে পেঁয়াজ কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করি। যে সময় যে দামে কিনি, সেই সময় সেই দামে বিক্রি করি, সামান্য লাভে বিক্রি করি।

দৌলতপুর পাইকারী কাঁচা বাজারে আসা ক্রেতা জাহিদ জানান, বাজারে ফের পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি ও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কোনো ভাবেই ৩ দিনের আগের ৭০ টাকার পেঁয়াজ ১১০ টাকা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা কোন দেশে বাস করি, যে ব্যবসায়ীদের কাছে সাধারন ক্রেতারা জিম্মি। তারা সিন্ডিকেট করে রাতারাতি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বৃদ্ধি করবে। এটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। বাজার নিয়ন্ত্রনে আসলে সাধারন ভোক্তারা একটু হলেও স্বস্তিতে থাকবে।

বাজারে আসা ক্রেতা তানিয়া রহমান জানান, পেঁয়াজ রান্নার গুরুত্বপূর্ন একটি মসলা। তরকারি রান্না করতে পেয়াজের বিকল্প নাই। কিন্তু, যে অবস্থা পেঁয়াজের দাম যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, উপায় কি? মনে হচ্ছে পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না-বান্না শুরু করতে হবে। ৭০ টাকার পেঁয়াজ ১১০/১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফারুক হোসেন নামের আরেক ক্রেতা জানান, এদেশের উন্নয়ণ চাইলে, আগে আমাদের নীতি- নৈতিকতা ও মানসিকতা বদলাতে হবে। আমরা কোন দেশে বাস করি, যে ২/৩ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০/৪০ টাকা বেড়ে যায়। গত, কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের মুখোমুখি করলে আমাদের মতো সাধারন জনগন উপকৃত হবো, আর কিছুই বলার নেই।

কেসিসির সোনাডাঙ্গা পাইকারী বাজারে ব্যবসায়ী মো. জলিল জানান, মৌসুমের শুরুতে কৃষক ও গৃহস্থরা পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুত করেন। ওই সময় পেঁয়াজ কম দামেও বিক্রি করেছেন। ওই সময় আমরাও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। ওই অল্প দামে পেয়াজ বিক্রি করতে করতে কৃষকের মজুতকৃত পেঁয়াজ প্রায় শেষের দিকে। মজুত সংকটের কারণে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুদিন হয়তো বেশি দামে পেঁয়াজ খাওয়া লাগবে, সামনে নতুন পেয়াজ ওঠলে দাম কমে যাবে।

তাছাড়া, বর্তমানে সার-বীজ প্রভৃতির যে দাম বাড়তি, তাতে যদি কৃষক পেঁয়াজ বিক্রিতে দাম বেশি না পায়, তবে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। মেসার্স জোনাকী ভান্ডারের সত্বাধিকারী আবু সুফিয়ান জানান, কৃষকরা যে পেঁয়াজ মজুত করে রেখে ছিল, তা প্রায় শেষের দিকে। ক্রমশই কৃষকদের কাছে মজুত করা পেঁয়াজ কমে আসছে। তাছাড়া কয়েক দিন আগে, সমুদ্রে সৃষ্ট ঘূর্নিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে লঘুচাপের দরুন অতিবৃষ্টিপাতের কারণে নতুন কালী পেঁয়াজের আবাদ ব্যাপক আকারে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের ফসলের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার দরুন পেঁয়াজ চাষের উৎপাদন একমাস পিছিয়ে পড়েছে। তারই প্রভাব পড়ছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে। সামনে বাজারে নতুন কালি পেয়াজ আসলে বাজার নিয়ন্ত্রন ও দাম কমে আসবে।

নগরীর চিত্রালী বাজারের খুচরা বিক্রেতা পিন্টু জানান, কি কারণে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে জানিনা। পাইকারি বাজার থেকে ১০০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনেছি, বিক্রি করছি ১১০ টাকা করে। খুলনা নিউ মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী কালু জানান, দাম তো আর আমাদের হাতে নেই। পাইকারি বাজার হতে যে দামে কিনি, সামান্য লাভে বিক্রি করি। গতকাল সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজার হতে ১০৫ টাকা দরে প্রতি কেজি পেয়াজ কিনেছি। খরচ-খরচা বাদে কয় টাকা দরে বিক্রি করবো বলেন। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১১৫/১২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। যখন দাম কমবে,তখন কম দামে বিক্রি করবো।

নগরীর ময়লাপোতা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী কাওসার জানান, সোনাডাঙ্গা পাইকারি বাজার হতে বাছাই করা পেঁয়াজ ১০৯ টাকা কেজি দরে কেনা লাগছে। এরপর খরচ আছে, খুচরা ১১৫টাকা দরে বিক্রি করছি। যে সময় যেমন কেনা, সেই সময় সময় তেমন দামে বিক্রি করি। রাখি বা মজুতের কারণে বর্তমানে পেয়াজের দাম বেড়েছে।
এ বিষয়ে নাগরিক সমাজ খুলনার সাঃ সম্পাদক এড. মো. বাবুল হাওলাদার জানান, আমাদের কাছে মনে হয় এই সিন্ডিকেটের শিকড় অনেক গভীরে। প্রশাসনের যে শাখাগুলো বা বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারাও এদের দ্বারা কোনো কোনো ভাবে প্রভাবিত। এছাড়া প্রশাসনেরও গাফিলতি আছে।

এই সিন্ডিকেট বা কালো বাজারিরা জনগণকে জিম্মি করে তারা নিজেরা একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। সিন্ডিকেটের মাধ্যেমে তারা একটা দর ঠিক করে ফেলে, সবখানে ওই দামেই বিক্রি হয়। এই সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দরকার। খুলনা জেলা প্রশাসনের একটা টাস্কফোর্স আছে, এটা দীর্ঘদিন অকার্যকর। তাদের কোনো কার্যকারিতা নাই। এটা চালু করা দরকার, বাজার কর্মকর্তা যিনি আছেন তার এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

আইন-শৃঙখলা বাহিনীর সহযোগীতায় এটি মনিটরিং করা দরকার। বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের উচিৎ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা বা জরিমানা করা। এটা করা গেলে কলোবাজারি পুরাপুরি বন্ধ না হলেও কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আসবে, সাধারন ভোক্তারা স্বস্তি পাবে।

এ ব্যাপারে সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনা মহানগর শাখার সাঃ সম্পাদক এড. কুদরত-ই খুদা জানান, একজন ভোক্তা হিসাবে আমরা চাই বাজার স্বাভাবিক থাকুক। সিন্ডিকেটদের যদি নিয়ন্ত্রন না করা যায়, যদি বাজার মনিটরিং জোরদার না করা যায় তবে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়বে এটা স্বাভাবিক। পেঁয়াজের সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষন অধিদপ্তরের কঠোর ভূমিকায় থাকতে হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, খুলনার নিত্যপণ্যের বাজারে আমরা নিয়মিত তদারকিসহ অভিযান অব্যহত রেখেছি। ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত করলে ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হচ্ছে।

যেহেতু পেঁয়াজের মজুত সংকটকে কেন্দ্র করে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে অবগত করা হয়েছে, এ ব্যাপারে বাজার মনিটরিং করে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান সরকার প্রদত্ত নিয়মনীতির বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর হতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।




৯ মাসে ৮০ হাজার ভিসা বাতিল করলো ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর গত ৯ মাসে প্রায় ৮০ হাজার নন–ইমিগ্র্যান্টের (অভিবাসনপ্রত্যাশী) ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ অভিবাসীমুক্ত’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং ক্ষমতায় এসে সে লক্ষ্যে নির্বাহী আদেশেও সই করেন।

যে ৮০ হাজার মানুষের ভিসা বাতিল করা হয়েছে, তাদের সবাই নথিবিহীন অভিবাসী নন; অনেকে বৈধ খণ্ডকালীন ভিসাধারীও ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ভিসাধারীদের মধ্যে ১৬ হাজার জনের ভিসা বাতিল হয়েছে ‘মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর’ কারণে, ১২ হাজার জনের ‘হামলা বা সহিংসতার’ অভিযোগে, আর ৮ হাজার জনের ভিসা ‘চুরির’ অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ‘যাদের ভিসা বাতিল হয়েছে, তাদের অর্ধেকই এই তিন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আরও জানান যে, গত আগস্টে ৬ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ভিসার মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ার পরও থাকার পাশাপাশি আইনভঙ্গ ও ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন’ দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

গত মে মাসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই হাজার হাজার নন–ইমিগ্র্যান্টের ভিসা বাতিল করেছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। তিনি বলেন, ‘যাদের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তাদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে।’

নির্বাহী আদেশের পর প্রথমে ওয়াশিংটনে এবং পরবর্তীতে দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়, যেখানে পুলিশ, কাস্টমস পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়ে হাজার হাজার নথিবিহীন অভিবাসীকে আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায়।

সূত্র: রয়টার্স




হাসান মামুনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি সারা দেশে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে এখন উত্তেজনা, কৌতূহল আর জল্পনা বিরাজ করছে। বিএনপি এখনো এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি, আর তাতেই রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

তবে কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসান মামুনের সমর্থকরা বুধবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গলাচিপায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

সন্ধ্যায় উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সংলগ্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গলাচিপা-দশমিনার গণমানুষের নেতা হাসান মামুনের নাম বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে। দল যদি তার নাম ঘোষণা না করে, তাহলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।

তারা আরও বলেন, হাসান মামুন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলকে সংগঠিত করেছেন। তার জনপ্রিয়তা, ত্যাগ ও গ্রহণযোগ্যতার কারণে পটুয়াখালী-৩ আসনে তিনিই সর্বাধিক যোগ্য প্রার্থী। দলীয় সিদ্ধান্তে বিলম্ব করে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিক্ষোভ ও সমাবেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা আরও বলেন, গলাচিপা-দশমিনার জনগণ হাসান মামুনকেই তাদের প্রার্থী হিসাবে দেখতে চায়। বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতির স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশসহ আরো কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মৃধা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম তালুকদার, মাসুম বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মশিউর রহমান শাহিন, দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক ফজলুর রহমান, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সাগর খান, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুনতাসীর মামুন, পৌর বিএনপি সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়াসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য যে, রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে- এই আসনটি নাকি রাখা হয়েছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের জন্য। এমন সম্ভাবনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, সর্বত্রই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।




শহীদ শান্তর কবর জিয়ারত করলেন ডাকসু’র ভিপি সাদিক কায়েম

বরিশালের বাবুগঞ্জে ২৪-এর আন্দোলনে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর কবর জিয়ারত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

এ সময় তিনি শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের মহিষাদী গ্রামে অবস্থিত শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে সাদিক কায়েম বলেন, ‘শান্ত দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তার আদর্শ ও ত্যাগ তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’ এ সময় তার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা ও বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শহরের মুরাদপুর ২ নম্বর গেট এলাকায় কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেধাবী শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ শান্ত।

পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্ত বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের মহিষাদী গ্রামে মোহাম্মদ জাকির হোসেনের ছেলে। মৃত্যুর পর স্বজনরা ও বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠীরা তার লাশ চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল বাবুগঞ্জের মানিককাঠী গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।




কুয়াকাটায় ১৯ কেজির কোরাল মাছ বিক্রি ২৫,৬৫০ টাকায়

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়েছে ১৯ কেজি ওজনের বিশাল কোরাল মাছ, যা স্থানীয় বাজারে ২৫,৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছটি ধরা পড়ে। পরে কুয়াকাটা পৌরমাছ বাজারে আনা হয়।

মাছটি কিনেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মুসল্লী ফিশের স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রতি কেজি ১,৩৫০ টাকায়। তিনি বলেন, “কুয়াকাটায় বড় মাছের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। তাই আমরা উপকূলীয় এলাকার জেলেদের কাছ থেকে এসব মাছ সংগ্রহ করি।”

জেলেরা জানান, সামুদ্রিক বড় মাছ ধরার মৌসুমে মাঝে-মধ্যেই এমন বড় আকারের ইলিশ, কোরাল, রূপচাঁদা, বোয়াল ও বাঘা আইড় মাছ জালে ওঠে। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এ মৌসুমে মাছের প্রাচুর্য দেখা গেলেও আগের তুলনায় সংখ্যা কিছুটা কমেছে, যার অন্যতম কারণ পরিবেশ পরিবর্তন ও দূষণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “সমুদ্রে বড় মাছ ধরা পড়ে। জেলেরা নিয়ম মেনে মাছ ধরলে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের ৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তালিকা প্রকাশ করেন।

ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): জহির উদ্দিন স্বপন
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): এস. সরফুদ্দিন সান্টু
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): প্রার্থী পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ): রাজীব আহসান
  • বরিশাল-৫ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন): এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): আবুল হোসেন খান

মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। তবে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো মিছিল বা মিষ্টি বিতরণ না করে প্রার্থীদের বাড়ির সামনে সমবেত হয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তারা।

বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, “বিএনপি এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের ইচ্ছাই ক্ষমতার উৎস, সেটি আজ আবারও প্রমাণিত হলো। আমি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বরিশালবাসীর কল্যাণে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সময়েই বরিশাল বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও রেডিও স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখনো যেসব উন্নয়ন বাকি রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করব। বরিশালবাসীর স্বপ্ন—ছয় লেন সড়ক—আমরা তা নিশ্চিত করব।”

এ্যাডভোকেট সরোয়ার বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বিত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “গ্রামাঞ্চলেও যেন শহরের সুবিধা পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করব।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




পটুয়াখালীতে বিএনপির দুই প্রার্থী ঘোষণা, দুই আসনে স্থগিত সিদ্ধান্ত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর চারটি আসনের মধ্যে দুটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাকি দুটি আসনের প্রার্থী ঘোষণা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারা প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র এবং বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই তাকে পুনরায় প্রার্থী করেছে বিএনপি।

অন্যদিকে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে দলের শীর্ষ পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছেন।

এদিকে পটুয়াখালী-২ (বাউফল)পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুই আসনে জোট ও শরিক দলগুলোর প্রভাব এবং একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর কারণে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

স্থগিত আসন দুটিতে ইতোমধ্যে বিকল্প প্রার্থীরা তৎপরতা শুরু করেছেন। বাউফল আসনে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এবং দশমিনা-গলাচিপা আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এই আংশিক প্রার্থী ঘোষণা পটুয়াখালীর রাজনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রস্তুতি, গণসংযোগ ও প্রচারণায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, জোট ও আসন সমন্বয়ের পর বাকি প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৩শ’ মন ঝাটকা ইলিশ জব্দ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে প্রায় ১৩শ’ মন ঝাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। রোববার (৩ নভেম্বর) দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার সোনাতলা নদী সেতুর পাশে ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কে এই অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের আওতাধীন বিসিজি স্টেশন নিজামপুর, মহিপুর ইউনিটের সদস্যরা।

অভিযানের সময় দুটি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ ঝাটকা ইলিশ পরিবহন করা হচ্ছিল। এসময় ‘চাকলাদার পরিবহন’ ও ‘মোরল এক্সপ্রেস’ নামের ট্রাক দুটি আটক করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিটি ট্রাক মালিককে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

জব্দকৃত ইলিশগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসির সাদেক, উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মো. মহসিন রেজা এবং কোস্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডারের উপস্থিতিতে স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, “ঝাটকা ইলিশ ধরা, পরিবহন বা মজুদ রাখা আগামী আট মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের এক কর্মকর্তা জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট 



কাশ্মীরে প্রতারণার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, নাম জড়াল সাকিব-গেইলের

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে আয়োজিত “ইন্ডিয়ান হেভেন প্রিমিয়ার লিগ (আইএইচপিএল)” নামে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চাঞ্চল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ক্রিকেট ও পর্যটনকে প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজন করা এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল বিশ্বের নামকরা তারকাদের—ক্রিস গেইল, থিসারা পেরেরা, জেসি রাইডারসহ আরও অনেকে। প্রচারণায় দেখা যায় বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের ছবিও, যদিও শেষ পর্যন্ত তার খেলার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

গত ২৫ অক্টোবর শুরু হওয়া লিগটির ফাইনাল হওয়ার কথা ছিল ৮ নভেম্বর। কিন্তু শনিবার হঠাৎ করেই খেলোয়াড়দের জানানো হয়, “কারিগরি কারণে” ম্যাচ স্থগিত রাখা হয়েছে। পরদিন জানা যায়, আয়োজকরা রাতের অন্ধকারে উধাও, কোনো বিল পরিশোধ না করে।

প্রায় ৪০ জন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে হোটেলে আটকা থাকতে হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘ইউবা সোসাইটি’ বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য প্রায় ১৫০ কক্ষ বুক করেছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, ক্রিকেট তারকাদের অংশগ্রহণে কাশ্মীরের পর্যটনও উপকৃত হবে। তবে টুর্নামেন্টের মাঝপথে সব আয়োজন ব্যর্থ হয়ে যায় এবং আয়োজকরা বকেয়া বিল ফেলে পালিয়ে যায়।

ইংল্যান্ডের আম্পায়ার মেলিসা জুনিপার জানিয়েছেন, “আয়োজকরা হোটেল থেকে পালিয়ে গেছে, খেলোয়াড় বা হোটেল কাউকেই টাকা দেয়নি। শেষ পর্যন্ত হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।”

ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার পারভেজ রাসুল জানিয়েছেন, কিছু বিদেশি খেলোয়াড়কে হোটেল ছাড়তে দেওয়া হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে ইংলিশ আম্পায়ারকে ব্রিটিশ দূতাবাসের সহায়তাও নিতে হয়েছিল। স্থানীয় ক্রিকেটাররা অভিযোগ করেছেন, শুরু থেকেই টুর্নামেন্টে শৃঙ্খলা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠে দর্শক ছিল না, স্পনসররা ফিরিয়ে নিয়েছে। প্রথম দিনেই জার্সি কম পড়ায় খেলোয়াড়দের পোশাক বাজার থেকে কিনে দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি করা হয়নি।

ক্রিকেট মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে এমন প্রতারণামূলক আয়োজন সম্ভব হলো এবং এর পেছনে কারা দায়ী।

শেষাংশ:
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইঁদুরফাঁদে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মুগাকাঠি গ্রামে নিজেই ইঁদুর মারার জন্য পাতানো বৈদ্যুতিক ফাঁদের তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান এক কৃষক। নিহতের নাম মুজাফর মৃধা (৭৫)।

ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছেন, মুজাফর মৃধা (৭৫) বাড়ির পাশের জমিতে রোপণের ধান ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য নিয়মিতভাবে বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার করতেন। সোমবার দুপুরে তিনি বিশেষ কাজে জনিত কারণে মাঠে গেলে বৈদ্যুতিক লাইনের সুইচ বন্ধ না করায় ফাঁদের তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

উজিরপুর মডেল থানা অফিসার ইনচাজ আব্দুস সালাম জানান, মৃতদেহ উদ্ধারের পরে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সংবাদাভাবে বিষয়টি ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

প্রাসঙ্গিক মন্তব্য ও প্রশাসনের অবস্থান:
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, উজিরপুর অফিসের সহকারী ম্যানেজার মো. সেলিম শেখ বলেন, ইঁদুর মারার জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার করা অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য। এ ধরনের ফাঁদ প্রতিরোধে তাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চলে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বিধি মেনেই কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে, কিন্তু অনেকে নির্দেশনা না মানায় সমস্যা হচ্ছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা জানান, যেখানে ইঁদুর মারার উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক ফাঁদ দেখা যাবে, সেখানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি সকল কৃষককে বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার এবং বিকল্প অনুপ্রবেশ প্রতিরোধক পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

পটভূমি ও সতর্কতা:
গ্রামবাংলায় ধানক্ষেতে ইঁদুর নিবারণে অনেকে সহজ ও সস্তা ব্যবস্থার জন্য বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার করেন; কিন্তু সেটি গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে — মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশুসহ প্রতিবেশীর জীবন-দায়িত্বও বিপন্ন করে। স্থানীয় ও প্রশাসনিক সতর্কবার্তার পরও এ ধরনের ঘটনায় যারা জড়ান তাদের জন্য আইনি ব্যবস্থা এবং শাস্তির সম্ভাবনা থাকে।

পুলিশ ও প্রশাসন তদন্ত করছে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন আরও কঠোর অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫