বরিশালের সুগন্ধা নদীর তীরে একটি নবজাতক শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে, যা পাঁচ দিন আগে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, শিশুর মরদেহ শনাক্ত করতে তিনি তার সদ্যজাত কন্যার জন্মের পর দেওয়া পোশাকের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন।
সোমবার সকালে ঝালকাঠির চর বারইকরণ এলাকায় সুগন্ধা নদী থেকে ওই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নলছিটি থানার ওসি আবদুস সালাম জানান, পুলিশ শিশুটির পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। তবে শিশুটির বাবা সোহেল আহমেদ দাবি করেছেন, এটি তার সন্তানই। তিনি বলেন, “বাচ্চার জন্মের পরে যে পোশাক উপহার দিয়েছিলাম, সেই পোশাকেই তার লাশ দেখতে পেয়েছি।”
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সোহেল আহমেদ এবং ঝালকাঠি উপজেলার মগড় ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ঐশি আক্তারের দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। তবে, স্ত্রীর সঙ্গে চাকরি নিয়ে বিরোধ থাকায় তাদের সংসারে টানাপোড়েন চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে অন্তঃসত্ত্বা হলে, ঐশি বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং সোহেল আহমেদকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করার হুমকি দেন।
৯ জানুয়ারি ঐশি বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে একা এসে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে সফল হননি। পরে তাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে ১০ জানুয়ারি অস্ত্রোপচার ছাড়াই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। এরপর ঐশি শিশুটিকে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান।
১৫ জানুয়ারি সকালে, বাসার কাউকে কিছু না জানিয়ে ঐশি শিশুটিকে নিয়ে বের হয়ে যান এবং পরে নিজেই জানিয়ে দেন, সেতু থেকে শিশুটিকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন। মামা মো. মাসুদ জানান, ঐশি শারীরিক অসুস্থতা এবং বিষন্নতায় ভুগছেন, তাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পাঁচ দিন পর সুগন্ধা নদীর তীরে শিশুটির লাশ পাওয়া গেলে, পুলিশ শিশুটির বাবা-মার পরিবারকে অবহিত করে এবং নিখোঁজ শিশুর বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেয়। বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই ইব্রাহিম জানিয়েছেন, শিশুটির লাশের ডিএনএ টেস্ট করা হবে এবং শিশুটির মাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম