মেডিকেলে চান্স পাওয়া পটুয়াখালীর আল আমিন কাজ করেন বাবার ভাতের হোটেলে

অভাব-অনটনের সংসারে বড় হয়ে, নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছেন মো. আল আমিন হাওলাদার। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আল আমিন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৮৬.২৫ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় ১১৭তম স্থান অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্যে পরিবারের সবাই আনন্দিত। আল আমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।

আল আমিনের বাবা মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার জানান, তিনি নিজের জীবনসংগ্রাম ভুলে গেছেন, কারণ তার ছেলে এখন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে। তিনি বলেন, “ছেলেকে মানুষ করার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। রিকশা চালিয়েছি, রাতে শ্রমিকের কাজও করেছি। আজ আর সেসব মনে নাই, কারণ আমার ছেলে ডাক্তার হবে।”

আল আমিনের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হলেও তিনি পড়াশোনায় অদম্য। তার বাবা জানালেন, তাদের বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। তারপরেও ছেলে আল আমিন পড়াশোনা করতে গিয়ে কখনও দমে যাননি। এ প্রসঙ্গে আল আমিন বলেন, “পঞ্চম শ্রেণিতে যখন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি, তখন থেকেই আমি ঠিক করে নিয়েছিলাম, আমাকে পড়াশোনা করে বড় হতে হবে।”

এক সময় নিজের দুঃখ কষ্ট ভুলে তিনি বাবা-মায়ের সহযোগিতায় হোটেল পরিচালনা করেছেন। তবে, তার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষা অর্জন এবং ভবিষ্যতে মানুষের উপকারে আসা। আল আমিন জানান, “আমি ভবিষ্যতে মেডিসিন পড়তে চাই এবং অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।”

এছাড়া, তিনি নিজের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছিলেন। পরবর্তীতে বরিশাল সরকারি কলেজে ভর্তি হলেও অর্থের অভাবে কলেজে ক্লাস করতে পারেননি। কিন্তু তিনি পড়াশোনা থামাননি। বাড়িতে বসে এক বছর পড়াশোনা করে অনলাইনে ক্লাস করেন এবং আজ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেন।

আল আমিনের বাবা-মা তার পরিশ্রম এবং মেধা দেখে গর্বিত। এখন তার জন্য সবাই দোয়া করছেন যাতে সে আরও বড় হয়ে দেশের সেবা করতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চরমোনাই পীরের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক: ঐক্যের বার্তা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। এই সাক্ষাতের মাধ্যমে দেশের ইসলামি রাজনীতিতে নতুন এক দিগন্তের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশালের চরমোনাই দরবার শরিফে দুই শীর্ষ নেতার সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তারা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কোলাকুলি করেন। এর পর উভয়েই একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠক শেষে দুই নেতা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন। ভবিষ্যতে তারা একসঙ্গে দ্বীনের পথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ঐক্যের বার্তাও দেন তারা।

চরমোনাই পীর বলেন, “আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য আল্লাহর দ্বীনের পথে এগিয়ে যাওয়া। আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একসঙ্গে কাজ করবো।” জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের এই ঐক্য সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

বরিশাল সফরে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর কর্মী সম্মেলনে অংশ নেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে তিনি জামায়াতের নারী প্রতিনিধিদের এক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। বিকেলে হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে কর্মী সম্মেলনেও তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এই বৈঠকের মাধ্যমে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তাদের এই ঐক্য ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনার আমতলীতে আগুনে ১৮টি দোকান পুড়ে, ক্ষতি ১ কোটি টাকা

বরগুনার আমতলী উপজেলার খেকুয়ানি বাজারে সোমবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৮টি দোকান পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ভস্মীভূত দোকানগুলোর মধ্যে ফার্মেসি, মুদি, সেলুন, চা দোকান, স্টেশনারি এবং কম্পিউটার দোকান ছিল। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে বৈদ্যুতিক সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দুই দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে দোকানগুলোর অনেকাংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

একটি দোকান মালিক শামীম জানান, রাত সাড়ে বারোটার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু রাত দুইটার দিকে স্থানীয়দের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে এবং পাশের দোকানে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান। তখন তিনি ও স্থানীয়রা চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হননি। আগুনের তাণ্ডবে তার দোকানসহ ১৮টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অন্য এক ব্যবসায়ী নূর আলম জানান, তার মুদি দোকান ছিল। আগুনের ঘটনায় তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

আমতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়ারহাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ জানান, আগুন লাগার সংবাদ পাওয়ার পরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে খেকুয়ানি বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে বাধা পাওয়ায় আগুন নেভাতে কিছুটা সমস্যা হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। এই অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে হাত, পা বাঁধা অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে গভীর রাতে শাহনাজ পারভীন লাকি (৫০) নামের এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একদল ডাকাত তার ঘরে ঢুকে তাকে হাত, পা ও মুখ বেঁধে হত্যা করে। এছাড়া ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার গভীর রাতে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে। নিহতের দেবর শাহআলম মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে বাড়িতে এসে পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে তিনি শাহনাজ পারভীনকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মৃত অবস্থায় পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহনাজ পারভীন ওই সময় ঘরে একা ছিলেন। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি ডাকাতি না দুর্ধর্ষ চুরির অংশ, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, নীলগঞ্জ ইউনিয়নে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তারা আতঙ্কে আছেন। তবে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড তাদের আরও অসহায় করে তুলেছে। তারা পুলিশের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী বলছেন, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নেছারাবাদে মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগে সিফাত হোসেন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে নেছারাবাদ থানা পুলিশ।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্থানীয় থানায় মেয়ের বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন- নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাটি ইউনিয়নের সেহাঙ্গল গ্রামের মোঃ মিন্টু মিয়ারের ছেলে সিফাত হোসেন (২০), একই গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মারুফ (২৫) ও মোঃ ইমাম হোসেনের ছেলে হৃদয় (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেছারাবাদ উপজেলার গাজীপুর মৈশানী ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন ওই বখাটে যুবকদের প্রতিরোধ করে এবং মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, “আমার মেয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে প্রায়ই এই যুবকরা তাকে বিরক্ত করত। আমি একাধিকবার তাদেরকে সতর্ক করেছি, কিন্তু তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন দেখে ফেললে তারা পালিয়ে যায় এবং আমার মেয়েকে চড় থাপ্পর মেরে চলে যায়।”

এ ঘটনায় নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বনি আমিন জানিয়েছেন, “এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিলেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই এ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ জারি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্প সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। এটি এমন একটি পদক্ষেপ যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যখাতের নেতৃত্বস্থানীয় দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং পরবর্তী মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করা আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

শপথ নেওয়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর জারি করা একটি নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে— ডব্লিউএইচও-এর “কোভিড-১৯ মহামারির ভুল ব্যবস্থাপনা” এবং “জরুরিভাবে প্রয়োজন এমন সংস্কারে ব্যর্থতা”।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই জনস্বাস্থ্য সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে “অন্যায়ভাবে বেশি অর্থপ্রদানের” দাবি করে। এছাড়া চীন এই সংস্থায় কম অর্থ প্রদান করে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি অপ্রত্যাশিত নয়। ট্রাম্প কার্যত ২০২০ সাল থেকেই ডব্লিউএইচও’র বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। সেসময় তিনি করোনভাইরাস মহামারি নিয়ে সংস্থাটিকে আক্রমণ করেছিলেন এবং এই সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছিলেন।

এরই জেরে ২০২০ সালের জুলাই মাসে বৈশ্বিক এই সংস্থাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করার জন্য আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন ট্রাম্প।




শিল্পী সমিতি থেকে বহিষ্কার অভিনেত্রী নিপুণ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হলেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার। রোববার (১৯ জানুয়ারি) সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে বহিষ্কারের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে শিল্পী সমিতির সহ সভাপতি ও অভিনেতা ডিএ তায়েব।

জানা গেছে, অনৈতিকভাবে সমিতির প্যাড ব্যবহার করে মনগড়া বিবৃতি প্রদান করার অভিযোগ ছিল নিপুণের বিরুদ্ধে। গত বছর কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই শিল্পী সমিতির প্যাড ব্যবহার করে একটি বিবৃতি দেন নিপুণ। সেখানে নিজেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলে উল্লেখ করেন। পরদিন সামাজিক মাধ্যমেও সেটি শেয়ার করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে তখন নেটিজেনদের ব্যাপক তোপের মুখে পড়েন অভিনেত্রী।

গত বছরের ৩০ জুলাই মিশা-ডিপজল নেতৃত্বাধীন কমিটির ষষ্ঠ সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে নিপুণকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও অভিনেত্রী তা তোয়াক্কা করেননি; চালিয়ে যান তার সব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড।




৩০ বছর পর বরিশালে জামায়াতের মেগা সমাবেশ

দীর্ঘ ৩০ বছর পর বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দীন ঈদগাহ ময়দানে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেগা সমাবেশ। বরিশালে সংগঠনের এই ঐতিহাসিক সম্মেলন ঘিরে পুরো নগরী এক নতুন চেহারা ধারণ করে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সকাল থেকেই বরিশাল নগরীতে প্রবেশ করতে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে বরিশালে দুই শতাধিক বাস, ট্রাক, পিকআপ ও অসংখ্য লঞ্চ এবং ট্রলারযোগে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি বিশাল তোরণ তৈরি করা হয়। সমাবেশস্থল থেকে মাইলের পর মাইল জুড়ে শোনা গেছে নেতাকর্মীদের স্লোগান। ঈদগাহ মাঠে মূল অনুষ্ঠানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হয় ১২০টি মাইক এবং ৮টি ইলেকট্রনিক ডিসপ্লে। এতে সমাবেশের বার্তা অন্যান্য এলাকার মানুষও উপভোগ করেছেন।

জামায়াতের নেতৃবৃন্দদের মতে, এই সমাবেশ সংগঠনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে দেশের শান্তি, ঐক্য এবং উন্নয়নের দিক নির্দেশনা দেন।

বরিশাল মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক বাধার মুখে থাকলেও এবার সংগঠনটি আবারো জনসমর্থন এবং নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে সমর্থ হয়েছে।

সমাবেশের বিশেষ দিকগুলো:

  • ৪০০ স্বেচ্ছাসেবক সমাবেশের শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল।
  • বরিশাল শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনের শৃঙ্খলার জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হয়।
  • সড়কপথের পাশাপাশি নদীপথেও সমাবেশে যোগ দিতে আসেন হাজারো মানুষ।

এ সমাবেশ বরিশাল নগরীকে রাজনৈতিকভাবে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। জামায়াত নেতারা সমাবেশকে ঐতিহাসিক এবং পরবর্তী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মো. তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে কলেজ প্রভাষককে মারধরের অভিযোগ, ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফেসবুকে একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করার কারণে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ আব্দুল ছাত্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রিয়াজ আহম্মেদ মারধরের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামসহ ১১ জন এই ঘটনায় জড়িত।

গত রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাতে চরমোন্তাজ স্লুইস বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের একটি দল শিক্ষক রিয়াজ আহম্মেদকে বাজার থেকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয় এবং শতাধিক মানুষের সামনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ছবিকে কেন্দ্র করে। ছবিতে নজরুল ইসলামকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতার সঙ্গে খাম বিনিময় করতে দেখা যায়। ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করার পর নজরুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ ছাড়া, কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদে তার পছন্দের প্রার্থী মনোনীত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নজরুল ও তার সমর্থকরা কলেজ গেটে তালা লাগিয়ে দেন।

হামলার শিকার শিক্ষক রিয়াজ আহম্মেদ জানান, তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং প্রভাবশালীদের কারণে স্থানীয়রা ভয়ে সাহায্য করতে সাহস পাননি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

পরের দিন, সোমবার (২০ জানুয়ারি), কলেজের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় নজরুল ইসলামসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তবে নজরুল ইসলাম মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কেউ তাকে মারধর করেনি। শুধু ফেসবুকে ছবিটি শেয়ার করার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।”

রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. এমারৎ হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার কাগজপত্র হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শান্তি স্থাপন ও সব যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী শান্তিস্থাপন ও যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার শপথ গ্রহণের পর দীর্ঘ বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে জানান, তার শাসনামল হবে শান্তিস্থাপন ও এককীকরণকারী হিসেবে। এছাড়া বিশ্বের যত যুদ্ধ আছে নিজেদের শক্তি ব্যবহার করে সেগুলো বন্ধ করবেন বলেও কথা দেন তিনি।

গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে বলছি, গতকাল (রোববার) আমি দায়িত্ব নেওয়ার একদিন আগে, মধ্যপ্রাচ্যের জিম্মিরা তাদের পরিবারের কাছে ফেরা শুরু করেছে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “২০১৭ সালের মতো, আমরা আগের মতো ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করব। আমরা আমাদের সাফল্য শুধুমাত্র যুদ্ধে জয়ের মাধ্যমে পরিমাপ করব না। আমরা আমাদের সাফল্য পরিমাপ করব যুদ্ধ বন্ধ করে। খুব সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, যেগুলো আমরা শুরু করিনি।”

নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “আমাদের শক্তি সব যুদ্ধ বন্ধ করবে এবং বিশ্বে নতুন বন্ধনের উদ্দীপনা আনবে। যে বিশ্ব ক্ষুব্ধ, সহিংস। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”