নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে টিকে থাকার লড়াই

দেশজুড়ে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নাগরিক জীবনে সৃষ্টি করছে নাভিশ্বাস। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রা আরো কঠিন করে তুলেছে। চাল, ডাল, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ প্রায় সব পণ্যের মূল্য বাড়ায় আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করতে হিমশিম খাচ্ছেন মানুষ।
শীত মৌসুমেও সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও চালের মূল্য বেড়েই চলছে। একসময় প্রতি কেজি চাল পাওয়া যেত ৫০-৬০ টাকায়, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকার ওপরে। তেলের দামও প্রতি লিটারে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে টিসিবির ট্রাকসেলই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন জানান, প্রতিদিনই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “টিসিবির লাইনে দাঁড়ালে অনেক সময় পরিচিতরা দেখে ফেলে। তাই মাস্ক পরে থাকতে হয়। এত কিছুর পরও চাল বা তেল পাওয়া যায় না।”
একই চিত্র বাসাবো এলাকার আব্দুল হামিদের জীবনে। তার পরিবারে মা-বাবা ও সন্তানের চাহিদা মেটানো তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “চাল-তেল কিনতে গিয়ে মাসের বাজেট শেষ। এখন গরুর মাংস তো বিলাসিতা মনে হয়।”
গরু-মুরগির মাংসের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় বেশিরভাগ পরিবার খাবারের তালিকা থেকে আমিষ বাদ দিচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মাংস বিক্রেতা সুজন জানান, “আগে যেখানে দিনে দু-তিনটি গরু বিক্রি হতো, এখন তা একটিও শেষ হয় না।”
ফলের বাজারেও দেখা দিয়েছে একই অবস্থা। মগবাজার এলাকার ফল বিক্রেতা আক্তারুজ্জামান বলেন, “আগে প্রতিদিন ফল বিক্রি ভালো হতো। এখন আড়ত থেকে ফল আনতেও ভয় হয়। মানুষ চাল কিনবে, নাকি ফল—এটাই বড় প্রশ্ন।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ খাবারের মানেও ছাড় দিচ্ছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়া।”
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে মানুষের জীবনে টিকে থাকার লড়াই প্রতিনিয়ত কঠিন হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার পাশাপাশি জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








