পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে ফারজানা আক্তার তামান্না। শৈশব থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছেন তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করার সময় থেকেই তার চোখে ছিল একটাই লক্ষ্য, চিকিৎসক হওয়ার।
ফারজানা ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন, কিন্তু প্রথমবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি। তবে, তিনি থেমে না থেকে আবারো দ্বিতীয়বার চেষ্টা করেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায়। এ বছর তিনি সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে ৪৭২৮ তম মেধাতালিকায় পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
তার এই সাফল্য শুধু নিজের জন্য নয়, বরং দরিদ্র কৃষক পরিবারের জন্যও এক বিশাল অর্জন। তার বাবা মো. আলাউদ্দিন একজন কৃষক, যিনি অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন। বাবা-মায়ের শ্রম ও ত্যাগের ফলস্বরূপ আজ ফারজানা তার পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তবে, ভর্তি এবং পরবর্তী পড়াশোনার খরচ নিয়ে এখনও কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
ফারজানার পরিবারের জীবনযাত্রা সহজ ছিল না, তার বাবা-মা প্রায়ই জমি বিক্রি করে মেয়ের পড়াশোনার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতেন। তামান্নার বাবা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “আমার মেয়ের সাফল্য দেখে আমি খুব খুশি। এতদিন পরিশ্রম করে জমি বিক্রি করতে হয়েছে, কিন্তু আজ আমি সন্তুষ্ট। এখন আমি শুধু চাই, মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন পূরণ করতে আর্থিক সহায়তা।”
ফারজানা নিজে বলেন, “আমার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা আমাকে সবসময় সহায়তা করেছেন। এ বছর অর্থাভাবে কোচিং করতে পারিনি, তবে আমার সিনিয়র বোনের পরামর্শ ও অনলাইনের গাইডলাইন অনুসরণ করে আমি পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছি।”
ফারজানার প্রাপ্তি শুধু তার নিজের জন্য নয়, বরং তার গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্যও একটি আলোকবর্তিকা হতে চলেছে। তিনি চান, একদিন তার গ্রামে ফিরে গিয়ে সেখানকার অসহায় মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন।
ফারজানার এই সাফল্যে তার পরিবার ও গ্রামবাসী আনন্দিত এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করেছেন। গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ফারজানা আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব। তার সাফল্য আমাদের সকলের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।”
মো: আল-আমিন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম