পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম ও সাবেক হিসাবরক্ষক এস এম শাহিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছে। আজ, বুধবার পটুয়াখালী দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭২৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই মামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আজ রাতে শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম ও সাবেক হিসাবরক্ষক এস এম শাহিন ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত পটুয়াখালী পৌরসভার মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও ট্যাক্সের ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করেন। এই অভিযোগে সাবেক মেয়র ও সাবেক হিসাবরক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বের চরম লঙ্ঘন করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ মামলায় পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক সচিব মো. হেলাল উদ্দিনের নামও রয়েছে। কিন্তু তিনি ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন, ফলে তাঁকে এজাহার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তবে, মূসক ও ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক এস এম শাহিন বলেন, “সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলায় উল্লেখিত ভ্যাট ও ট্যাক্স খাতের অর্থ পৌরসভার ফান্ডে ছিল। আমরা দায়িত্ব হস্তান্তর করার পরে পরবর্তী মেয়র ও কর্তৃপক্ষ টাকা জমা না দেওয়ায় এমনটা হয়েছে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে লোন্দা দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়নহীন দশা, শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লোন্দা দাখিল মাদ্রাসাটি দীর্ঘ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। প্রায় অর্ধশতক কালেও মাদ্রাসাটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের অভাব রয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে।

মাদ্রাসাটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে। বর্তমানে এখানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, এবং এখানে মোট ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। মাদ্রাসার শিক্ষায়তনে দুটি টিনশেড ঘরের তিনটি রুম এবং একতলা একটি ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মাদ্রাসাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকে। সংস্কার করা হলেও একটি ঘর এখনও মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে, আর ২০০২ সালে নির্মিত পাকা ভবনটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, মাদ্রাসার যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই খারাপ। খালের পাশ দিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে মাদ্রাসায় আসতে গিয়ে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে তাদের।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান মীম জানান, “মাদ্রাসায় গভীর নলকূপ নেই, তাই বিশুদ্ধ পানি পান করতে অনেক দূরে যেতে হয়। আমাদের এখানে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি (ল্যাব) এবং কম্পিউটারও নেই। তাই আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানি না।”

স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব আকন বলেন, “মাদ্রাসার ভবন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। বন্যার পর কোনো সংস্কার হয়নি, আর যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই খারাপ। প্রায় অর্ধশত বছরেও এখানে কোনো উন্নয়ন হয়নি।”

মাদ্রাসার সুপার মো. আ. গফফার জানান, “মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব সমস্যার বিষয়ে জানানো হয়েছে।”

কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, “অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাদ্রাসার সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাইফকাণ্ডে গ্রেপ্তার শেহজাদকে ছেলে দাবি ঝালকাঠির রুহুল আমিনের

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ ভারতে আটক হয়েছেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং আত্মগোপনে ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শেহজাদ এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন।

২০১৭ সালে নলছিটির মোল্লারহাট ব্রিজের কাছে ভাড়ায় মোটরসাইকেলচালক রফিকুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় শেহজাদকে প্রধান আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এলাকায় থাকা অবস্থায় তিনি ছিনতাই, চুরি এবং মারামারির মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন।

পরিবারের দাবি ও পরিস্থিতি
শেহজাদের পরিবার জানায়, তিনি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় মাঝেমধ্যে টাকা পাঠালেও হঠাৎ সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তারা জানতে পারেন, তিনি ভারতে আটক হয়েছেন। তার বাবা রুহুল আমিন ফকির বলেন, “আমরা জানি না, সে কিভাবে ভারতে গেল। আমার ছেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নাও থাকতে পারে। আমরা সরকারের মাধ্যমে তার মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”

পুলিশের অবস্থান
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, “শেহজাদের বিরুদ্ধে নলছিটি ও ঢাকায় হত্যা মামলা রয়েছে। ছিনতাইয়ের সঙ্গেও তার জড়িত থাকার তথ্য আছে। তবে ভারতে আটকের বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো বার্তা আসেনি।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালের নাটকীয় জয়ে প্লে-অফের দোরগোড়ায় ফরচুন বরিশাল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খুলনা টাইগার্সকে ৭ রানে হারিয়ে প্লে-অফের পথে এগিয়ে গেল ফরচুন বরিশাল। বুধবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে এই জয়ে তামিম ইকবালের দল ৮ ম্যাচে ৬ জয় নিয়ে ১২ পয়েন্ট অর্জন করেছে।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ফরচুন বরিশাল সংগ্রহ করে ১৬৭ রান। শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বরিশাল। মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে শূন্য রানে ফেরেন তামিম ইকবাল ও ডেভিড মালান। তবে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটি দলকে বিপর্যয় থেকে কিছুটা টেনে তোলে।

তাওহিদ হৃদয়ের ৩০ বলে ৩৬ রানের ইনিংস শেষ হলে মাঠে আসেন মোহাম্মদ নবী। তবে তিনিও দ্রুত বিদায় নেন। মাহমুদুল্লাহ ৪৫ বলে ফিফটি করে দলের রান বাড়াতে ভূমিকা রাখেন। শেষদিকে রিশাদ হোসেনের ১৯ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসে বরিশাল সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৭।

১৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে খুলনার শুরুটাও ছিল অস্বস্তিকর। ৬ রানে ইমরুল কায়েসের বিদায়ে চাপ বাড়ে। মোহাম্মদ নাইম একাই খুলনার ইনিংসকে টানার চেষ্টা করেন। ৫৯ বলে ৭৭ রান করলেও সঙ্গীর অভাবে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।

বরিশালের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন জাহানদাদ খান, যিনি ২টি উইকেট নেন। মোহাম্মদ নবী, রিশাদ হোসেন ও রিপন মন্ডল নেন ১টি করে উইকেট।

এই জয়ের ফলে ফরচুন বরিশাল এখন বিপিএলের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে প্লে-অফের এক পা দিয়ে রাখল।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশন: ইসি মাছউদ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না করে সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। বরিশালে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি জানান, সুষ্ঠু ভোট উপহার দেওয়া কমিশনের অঙ্গীকার।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি ২০২৫ উপলক্ষে বুধবার (২২ জানুয়ারি) বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ঊর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভায় ইসি মাছউদ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন যেন হালনাগাদ কার্যক্রম নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়। ভুয়া ভোটার থাকলে তা প্রমাণ সাপেক্ষে বাতিল করতে বলেন তিনি। একইসঙ্গে সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়, বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনা করছে কমিশন। তাদের লক্ষ্য নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।




মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেন গলাচিপার মেয়ে ফারজানা, দুশ্চিন্তায় কৃষক বাবা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে ফারজানা আক্তার তামান্না। শৈশব থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে চলেছেন তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে শুরু করার সময় থেকেই তার চোখে ছিল একটাই লক্ষ্য, চিকিৎসক হওয়ার।

ফারজানা ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেন, কিন্তু প্রথমবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি। তবে, তিনি থেমে না থেকে আবারো দ্বিতীয়বার চেষ্টা করেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায়। এ বছর তিনি সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে ৪৭২৮ তম মেধাতালিকায় পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

তার এই সাফল্য শুধু নিজের জন্য নয়, বরং দরিদ্র কৃষক পরিবারের জন্যও এক বিশাল অর্জন। তার বাবা মো. আলাউদ্দিন একজন কৃষক, যিনি অনেক কষ্ট করে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন। বাবা-মায়ের শ্রম ও ত্যাগের ফলস্বরূপ আজ ফারজানা তার পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তবে, ভর্তি এবং পরবর্তী পড়াশোনার খরচ নিয়ে এখনও কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।

ফারজানার পরিবারের জীবনযাত্রা সহজ ছিল না, তার বাবা-মা প্রায়ই জমি বিক্রি করে মেয়ের পড়াশোনার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতেন। তামান্নার বাবা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “আমার মেয়ের সাফল্য দেখে আমি খুব খুশি। এতদিন পরিশ্রম করে জমি বিক্রি করতে হয়েছে, কিন্তু আজ আমি সন্তুষ্ট। এখন আমি শুধু চাই, মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন পূরণ করতে আর্থিক সহায়তা।”

ফারজানা নিজে বলেন, “আমার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা আমাকে সবসময় সহায়তা করেছেন। এ বছর অর্থাভাবে কোচিং করতে পারিনি, তবে আমার সিনিয়র বোনের পরামর্শ ও অনলাইনের গাইডলাইন অনুসরণ করে আমি পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছি।”

ফারজানার প্রাপ্তি শুধু তার নিজের জন্য নয়, বরং তার গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্যও একটি আলোকবর্তিকা হতে চলেছে। তিনি চান, একদিন তার গ্রামে ফিরে গিয়ে সেখানকার অসহায় মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন।

ফারজানার এই সাফল্যে তার পরিবার ও গ্রামবাসী আনন্দিত এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করেছেন। গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “ফারজানা আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব। তার সাফল্য আমাদের সকলের জন্য একটি অনুপ্রেরণা।”

 

মো: আল-আমিন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




ভোলায় বাল্কহেডের ধাক্কায় মাছ ধরার নৌকা ডুবি, এক জেলে নিখোঁজ

ভোলার মেঘনা নদীতে একটি বালুবাহী নৌযানের (বাল্কহেড) ধাক্কায় একটি মাছ ধরার নৌকা ডুবে গিয়ে, এতে মো. দুলাল মাঝি নামে এক জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে, সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল সংলগ্ন মেঘনা নদীতে। নিখোঁজ জেলে মো. দুলাল মাঝি শিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম মাঝির ছেলে।

ইলিশা নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও নিখোঁজ জেলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটনার দিন সন্ধ্যায়। দুলাল মাঝি মেঘনা নদী থেকে মাছ শিকার করে ঘাটে ফিরছিলেন, এ সময় একটি বালুবাহী বাল্কহেড তার নৌকাটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খাওয়ার পর নৌকাটি ডুবে যায় এবং দুলাল মাঝি নদীতে পড়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন, ইলিশা নৌ-পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। তবে এখনও নিখোঁজ দুলাল মাঝি উদ্ধার হয়নি।

এদিকে, দুলাল মাঝি নিখোঁজের ঘটনায় তার পরিবারসহ এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। স্বজনরা নদীর তীরে এসে আহাজারি করছেন।

ইলিশা নৌ-থানার ওসি জানান, উদ্ধার অভিযান চলছে এবং ঘাতক বাল্কহেডটিকে আটক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 

 




ভাণ্ডারিয়ায় নির্মাণাধীন কালভার্টে গর্তে পড়ে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে পড়ে রাকিব জমাদ্দার (২৩) নামে এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে উপজেলার চরখালি-মঠবাড়িয়া সড়কের ইকড়ি-ঝাউতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুব্রত হালদার (২০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী আহত হয়েছেন।

ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমদ আনওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত রাকিব জমাদ্দার পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ভগিরতপুর ইউনিয়নের ছোটশৌলা গ্রামের কবির জমাদ্দারের ছেলে। আহত সুব্রত হালদার পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের রবীন্দ্রনাথ হালদারের ছেলে।

স্থানীয় মিরুখালী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মনির হাওলাদার বলেন, রাত ১১ টার দিকে চরখালি থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল ইকড়ি-ঝাউতলা বাজারের কাছে নির্মাণাধীন একটি কালভার্টের গর্তে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই চালক রাকিব মারা যায়। পুলিশে খবর দেওয়া হলে, পুলিশ আসার আগেই নিহতের পরিবার লাশ বাড়িতে নিয়ে যায়। আহত সুব্রতকে উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়, পরবর্তীতে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত রাকিব জমাদ্দারের বন্ধু সাইফ ইমন বলেন, রাকিব ও তার বন্ধু সুব্রত ভাণ্ডারিয়ার আনসার খালি এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিল। ঘোরাফেরা শেষে মঠবাড়িয়ার ভগীরথপুর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় রাকিব মারা যায়। ১৮ জানুয়ারি রাকিব বিয়ে করেছিল, বিয়ের মেহেদী শুকনোর আগেই এই দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমদ আনওয়ার জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে মরদেহ ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। নিহত রাকিব জমাদ্দারের পরিবার এসে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছে। যেহেতু নিহতের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া থানা এলাকায়, আমরা মঠবাড়িয়া থানায় যোগাযোগ করেছি। পরিবারের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঠবাড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি ভাণ্ডারিয়া থানা এলাকায় ঘটেছে, তবে নিহতের বাড়ি মঠবাড়িয়ায়। নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে টিকে থাকার লড়াই

দেশজুড়ে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নাগরিক জীবনে সৃষ্টি করছে নাভিশ্বাস। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রা আরো কঠিন করে তুলেছে। চাল, ডাল, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ প্রায় সব পণ্যের মূল্য বাড়ায় আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করতে হিমশিম খাচ্ছেন মানুষ।

শীত মৌসুমেও সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও চালের মূল্য বেড়েই চলছে। একসময় প্রতি কেজি চাল পাওয়া যেত ৫০-৬০ টাকায়, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকার ওপরে। তেলের দামও প্রতি লিটারে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে টিসিবির ট্রাকসেলই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন জানান, প্রতিদিনই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “টিসিবির লাইনে দাঁড়ালে অনেক সময় পরিচিতরা দেখে ফেলে। তাই মাস্ক পরে থাকতে হয়। এত কিছুর পরও চাল বা তেল পাওয়া যায় না।”

একই চিত্র বাসাবো এলাকার আব্দুল হামিদের জীবনে। তার পরিবারে মা-বাবা ও সন্তানের চাহিদা মেটানো তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “চাল-তেল কিনতে গিয়ে মাসের বাজেট শেষ। এখন গরুর মাংস তো বিলাসিতা মনে হয়।”

গরু-মুরগির মাংসের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় বেশিরভাগ পরিবার খাবারের তালিকা থেকে আমিষ বাদ দিচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মাংস বিক্রেতা সুজন জানান, “আগে যেখানে দিনে দু-তিনটি গরু বিক্রি হতো, এখন তা একটিও শেষ হয় না।”

ফলের বাজারেও দেখা দিয়েছে একই অবস্থা। মগবাজার এলাকার ফল বিক্রেতা আক্তারুজ্জামান বলেন, “আগে প্রতিদিন ফল বিক্রি ভালো হতো। এখন আড়ত থেকে ফল আনতেও ভয় হয়। মানুষ চাল কিনবে, নাকি ফল—এটাই বড় প্রশ্ন।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ খাবারের মানেও ছাড় দিচ্ছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়া।”

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে মানুষের জীবনে টিকে থাকার লড়াই প্রতিনিয়ত কঠিন হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার পাশাপাশি জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিয়ে করতে আর ট্যাক্স দিতে হবে না: আইন উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিয়ে সম্পাদনে আরোপিত কর (ট্যাক্স) বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

আইন উপদেষ্টা বলেন, বিয়ে সম্পাদনে আরোপিত একটি কর ছিল, আইন মন্ত্রণালয় এ অযৌক্তিক কর বাতিল করেছে।

তিনি বলেন, ‘বিয়ের ফরমে লেখা থাকতো বিবাহিতা নাকি কুমারী। এটা একটা মেয়ের জন্য অমার্যাদাকর শব্দ। সেটা আমরা অবিবাহিতা করে ফেলেছি। এমন ছোটো ছোটো অনেক কাজ করেছি। আরও অনেক কাজ করার চিন্তা আছে।’

এ সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিয়ের ট্যাক্সে আজকে সাইন করলাম। আপনি ট্যাক্স ছাড়া বিয়ে করতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, সিটি করপোরেশন মডেল ট্যাক্স তফসিল ২০১৬ সালে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিয়ের ওপর বিভিন্ন করের হারের বিধান করে। এক্ষেত্রে করের টাকা পরিশোধ করতে হবে পাত্র পক্ষকে।

তপশিলের ১৫২ ধারায় বলা হয়েছে, প্রথম বিবাহ বা প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পরে বিবাহের জন্য একজন পুরুষকে বিয়ের পিড়িতে বসার আগে ১০০ টাকা ফি দিতে হবে। প্রথম স্ত্রীর জীবদ্দশায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ৫ হাজার টাকা, প্রথম দুই স্ত্রীর জীবদ্দশায় তৃতীয় বিয়ের জন্য ২০ হাজার টাকা দিতে হবে।

তপশিল অনুযায়ী, চতুর্থ বিয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ বা নিঃসন্তান হলে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। তবে, সেক্ষেত্রে ২০০ টাকা দিতে হবে।