ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত পলাতক আসাদুজ্জামান খানের সাক্ষাৎকার মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ : প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় প্রকাশিত গণহত্যার পলাতক আসামি আসাদুজ্জামান খান কামালের সাক্ষাৎকারে মিথ্যাচার ও ভুল তথ্য রয়েছে। সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস-এ পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কামালের বক্তব্য তথ্য যাচাই না করেই প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে তার ভুল ও বিভ্রান্তিকর দাবিগুলি তুলে ধরা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আসাদুজ্জামান খান কামাল, যিনি বর্তমানে ভারতে আত্মগোপন করেছেন, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তার সাক্ষাৎকারে বহু মিথ্যাচার করেছেন। কামাল দাবি করেন যে, ৩ থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে প্রায় ৪৬০টি পুলিশ স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং ৫,৮২৯টি অস্ত্র লুট করা হয়েছিল। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, থানাগুলোর মধ্যে মোট ৫,৭৫০টি অস্ত্র লুট করা হয়েছে, এবং এর বেশিরভাগই ৫ আগস্টের ঘটনা। পুলিশ ইতোমধ্যে ৪,৩৫৮টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং বাকিগুলোর উদ্ধারে অভিযান চলছে।

কামাল তার সাক্ষাৎকারে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে ‘ইসলামী সন্ত্রাসী’ এবং ‘সেনাবাহিনীর যৌথ অভ্যুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা একেবারেই ভিত্তিহীন ও ভুল। এই ধরনের বক্তব্য শুধুমাত্র সরকার ও জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে, তবে বাস্তবে সেখানে কোনও অভ্যুত্থান বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছিল না।

এছাড়া কামাল তার সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আদালতে ভারতের হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, হাসিনা এবং তার সহযোগীরা ভারত থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

কামাল আরও দাবি করেন যে, হত্যাকাণ্ডের মামলার আসামি হওয়ার পর খুনের শিকার ৫৪ জন ব্যক্তি ফিরে এসেছেন। তবে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কোন সরকারী বা স্বাধীন সূত্র যাচাই ছাড়াই এটি প্রকাশ করেছে বলে দাবি করেছে প্রেস উইং।

এদিকে, কামাল দাবী করেছেন যে বাংলাদেশের গণমাধ্যম সম্পূর্ণরূপে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এই দাবিটি অপ্রমাণিত ও ভুল, কারণ ২০২৪ সালের ৮ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের কোনও সংবাদমাধ্যম সরকারী বা স্বাধীনভাবে কোনও বাধার সম্মুখীন হয়নি এবং সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ড. মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিল, উৎসবের আমেজ

জনপ্রিয় ইসলামী স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আজ ২৫ জানুয়ারি দুপুরে জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন ঝাউতলা মাঠে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন জেলা জামায়েতের সভাপতি এডভোকেট নাজমুল আহসান এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা মহানগর জামাত দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধূরী। দক্ষিণাঞ্চলে প্রথমবারের মতো বিশাল পরিসরে এ মাহফিলের আয়োজন করেছে পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।

মাহফিল আয়োজক কমিটি সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের একমাত্র মাহফিলটি পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাহফিলে কমপক্ষে প্রায় ১০ লাখ মানুষের আগমন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন ঝাউতলা মাঠসহ আরও ৯টি মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। নারীদের জন্য বিশেষভাবে আবদুল হাই বিদ্যানিকেতন, হাউজিং স্টেটেট ও লতিফ মিউনিপিপ্যাল স্কুলের মাঠগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন সড়কে শোভা পাচ্ছে ব্যানার ও ফেস্টুন, এবং আয়োজনকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে তৈরি করা হয়েছে দেড় হাজার অস্থায়ী টয়লেট, অজুখানা ও ৫০টি এলইডি মনিটর।

মাহফিলের পরিবহন ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পটুয়াখালীর পুলিশ অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছে। পুলিশ এবং র্যাব সদস্যরা একযোগে মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

সোমবারের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত মানুষ ইতোমধ্যে মাহফিলের মাঠে উপস্থিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, গলচিপা থেকে আসা মো: আবু বক্কর(৫৫) ও হোসেন আলী(৬০) দুই দিন আগেই মাঠে চলে এসেছেন, কারণ তাদের মতে, মাঠে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নাহিয়ান জানান, মাহফিলটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং সবাই সহযোগিতায় এই মাহফিলটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপা থানা পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, দুইজন আটক

গলাচিপা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানে তিনটি চোরাই বাজাজ প্লাটিনা মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে এবং দুইজন চোরকে আটক করেছে। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের এক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে চরবিশ্বাস ইউনিয়নের উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে মো. কাওসারের (২৭) একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এছাড়া, ২২ জানুয়ারি চরবিশ্বাস বাজার থেকে আরেক ব্যক্তি নাজিম উদ্দিনের (৩৪) মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় চরকাজল পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করা হলে তদন্ত শুরু করা হয়।

পুলিশ তাদের তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে বোরহান উদ্দিন হাওলাদার (৪০) নামক এক ব্যক্তিকে আটক করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর সহযোগী মো. হাসান (৩৫) কে আটক করা হয়। তদন্তের পর জানা যায়, শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. হাসানের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করা হয়। এই অভিযানে উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে তিনটি বাজাজ প্লাটিনা ছিল।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের দ্রুত আদালতে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, “আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের সম্পত্তি সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

এছাড়া, পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি এবং চুরি সংঘটিত হওয়ায় তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা

খুলনায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের নাম অর্ণব কুমার সরকার (২৬), যিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ-এর ছাত্র ছিলেন।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে খুলনার কেডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের তেঁতুলতলার মোড়ে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত পৌনে ৯টার দিকে অর্ণব তেঁতুলতলা মোড়ে একটি মোটরসাইকেলের উপর বসে চা খাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ১০-১২ জনের একদল সন্ত্রাসী সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় অর্ণবকে উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও একটি রক্তমাখা স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “নিহত অর্ণব ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। তার রোল নম্বর ছিল ২৩০৩১৭। এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আহসান হাবীব বলেন, “অর্ণবকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। তবে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।”

পুলিশ ধারণা করছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলমান রয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজাহারীর আগমন উপলক্ষে পটুয়াখালীতে বাজারে জনস্রোত

ড. মিজানুর রহমান আজাহারীর আগমন ঘিরে পটুয়াখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মাহফিলে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ ছুটে আসায় পুরো শহর এখন জনারণ্যে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) পটুয়াখালী শহরের বাসাবাড়িতে অতিথিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় বাজারগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচাবাজার, ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে ক্রেতাদের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতা মো. মেহেদী হাসান জানান, মাহফিল উপলক্ষে তার বাড়িতে প্রায় ২০ জন অতিথি এসেছেন। তাদের সেবাযত্ন ও খাবারের আয়োজন করতে প্রচুর পণ্য কিনতে হচ্ছে। তবে বাজারে ভিড়ের কারণে পণ্য সংগ্রহ করতে অসুবিধা হচ্ছে।

নিউমার্কেটের মেসার্স মোশারফ স্টোরের মালিক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, “এত ক্রেতার ভিড় সাধারণত ঈদ বা বড় উৎসবের সময় দেখা যায়। তবে আজাহারী হুজুরের মাহফিলের কারণে এমন ভিড় হবে আশা করিনি। ব্যবসায়িক চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

আগামীকাল শনিবার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আয়োজক কমিটি ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান জানান, “শহরে ইতোমধ্যে লক্ষাধিক মানুষ প্রবেশ করেছে। আমরা আশা করছি, আগামীকাল সকালের মধ্যেই আরো অনেক শ্রোতা যোগ দেবেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হবে, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবে : আলতাফ হোসেন চৌধুরী

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, তারেক জিয়া খুব শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন এবং খুব শীঘ্রই একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরী এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, বিএনপি আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়েই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকবে এবং নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ বায়জিদ পান্না মিয়া সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ৭ জনকে পাঠানো হলো সিঙ্গাপুরে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে আহত ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি ০৫৮৪) তারা দেশ ছাড়েন। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল আই সেন্টারে তারা চিকিৎসা নিবেন বলে জানা গেছে।

আহতরা হলেন— আব্দুল্লাহ আল বাকী, আকতার হোসেন, মো. ইয়ামিন, ফয়েজ আহমেদ, মিনহাজুল ইসলাম শুভ, মোহাম্মদ রমজান ও সালমান বিন শোয়াইব। এর আগে তারা জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।




দুমকির মুরাদিয়া নদী: এক সময়ের খরস্রোতা, আজ মরা খাল

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় লোহালিয়া নদীর অন্যতম শাখা পুনর্ভবা মুরাদিয়া নদী একসময় ছিল খরস্রোতা ও প্রাণবন্ত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবহেলার ফলে আজ তা মরা খালে রূপান্তরিত হয়েছে।

কালের বিবর্তনে নদীর উত্তাল ঢেউ, পালতোলা নৌকা এবং স্টিমার-লঞ্চের কোলাহল হারিয়ে গেছে। এখন বর্ষায় সামান্য পানি থাকলেও ভাটার সময় নদী প্রায় শুকিয়ে যায়। ফলে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা এলাকাবাসীর জীবন-জীবিকায় প্রভাব ফেলছে।

একসময় মুরাদিয়া নদী ছিল মৎস্য ভাণ্ডার। নদীর অফুরন্ত মাছ ছিল আশপাশের জেলে পরিবারগুলোর জীবিকার মূল ভিত্তি। কিন্তু নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের বিচরণ বন্ধ হয়ে গেছে। পলি জমে এবং চরে ভরাট হওয়ায় নদী এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে।

নদীর দুই পাড়ে জেগে ওঠা চরে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে পানির কারণে আমন চাষ ব্যাহত হয়। খরা মৌসুমে নদী পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। ফলে ইরি ধানের চাষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দক্ষিণ মুরাদিয়ার বাসিন্দা হানিফ নেঘাবান জানিয়েছেন, নদী খননের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সেচ ও সেচ প্রকল্প চালু করা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

নদীর জেগে ওঠা চরের খাস জমি বন্দোবস্ত না হওয়ায় তা অনাবাদি রয়ে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই জমি দখল করে নিজেদের বলে দাবি করছে। ফলে সরকারি জমির অপব্যবহার হচ্ছে।

মুরাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার বলেন, “নদীটি শুধু যাতায়াতের জন্যই নয়, কৃষি, বাণিজ্য এবং জীবনযাত্রার মান রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জনস্বার্থে নদী খনন এবং খননকৃত মাটি দিয়ে দুই পাড়ে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মুরাদিয়া নদী খনন অত্যন্ত জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর আগুনমুখা নদীতে ভয়াবহ ভাঙন, লঞ্চঘাট ও বসতভিটা বিলীন

পটুয়াখালীর গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার পানপট্টি এবং কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

অতিরিক্ত স্রোতের কারণে আগুনমুখা নদী বছরের অধিকাংশ সময়ই ভাঙন দেখা দেয়, আর এর ফলে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে বসতঘর, দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। গত কয়েক বছরে এই ভাঙনে পানপট্টি ও কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার ২ হাজার ৫০০ ফুট নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে, লঞ্চঘাট দুটির কয়েকবার স্থানান্তর করতে হয়েছে এবং স্থানীয়রা নদীভাঙন ঠেকাতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, পানপট্টি ও কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট দুটি স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ দুটি ঘাট দিয়েই হাজার হাজার যাত্রী নদী পারাপার করেন। তবে, ভাঙন কারণে প্রায়ই যাত্রীদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে এবং বিশেষত নারীদের ও শিশুর জন্য চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

পানপট্টি লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ী বাবু হাওলাদার বলেন, প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি যাত্রী লঞ্চ, ট্রলার এবং স্পিডবোটে পারাপার করেন, কিন্তু এই ভাঙনের কারণে তাদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা জানান, গত পাঁচ বছরে পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার পাঁচশ থেকে ছয়শ ফুট নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে এবং শতাধিক দোকান, বসতঘরসহ অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কামাল পাশা বলেন, কোড়ালিয়া লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ১ হাজার ৯৬৮ ফুট নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে, এবং এখানকার বসতঘর, মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও নদী গর্ভে চলে গেছে।

পটুয়াখালী নৌবন্দরের উপপরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, পানপট্টি লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কও ভেঙে গেছে, যার ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। তবে, পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতিমধ্যে এই ভাঙনরোধের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে এবং মার্চ মাসে কাজ শুরু হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠি জেলা আদালত ভবন: ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে বিচারকাজ

ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনটি ৯০ দশকে নির্মিত হলেও দীর্ঘদিনেও টেকসই সংস্কার না হওয়ায় এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে বিচারকাজ। ভবনের অবস্থা এমন যে, বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী এবং আদালতে কর্মরতরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ ২০১৯ সালে একটি চিঠি চালাচালি করে, তবে আজও এই বিষয়টি ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে, ভবনটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অবিলম্বে টেকসই সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি উঠেছে। ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি সরেজমিন পরিদর্শন করে, পরে বরিশাল তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবরে প্রতিবেদন পাঠায়। প্রতিবেদনে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল, মরিচা এবং ছাদের কনক্রিট খসে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

বিচারকরা বলেন, “আমরা এই জরাজীর্ণ ভবনে বিচার কার্যক্রম চালাতে আতঙ্কিত। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এবং পানির কারণে নথিপত্র নষ্ট হয়ে যায়।” আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা বলেন, ভবনটির অবস্থার কথা বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আদালতের এপিপি, অ্যাডভোকেট ফয়সাল হোসেন এবং আইনজীবী আককাস সিকদার সহ সকলেই দাবি করেছেন যে, নতুন ভবন নির্মাণ অথবা টেকসই সংস্কার জরুরি। তারা মনে করেন, এই ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করা উচিত। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনও ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন নির্মাণের দাবি জানান।

ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম এবং বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী আমানুল্লাহ সরকার জানান, নতুন ভবনের জন্য বাজেট তৈরি করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইন মন্ত্রনালয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম