ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ২০ জন আহত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত রাত (২৬ জানুয়ারি) সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। রাত ২টা পর্যন্ত চলতে থাকা এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার সাড়ে তিন ঘণ্টা পরও উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।

নীলক্ষেত মোড় এলাকায় রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা একে অপরকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আহত শিক্ষার্থীদের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও, উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীরা ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করলেও, সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলার সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ সংঘর্ষস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে, তিনি উভয়পক্ষের তোপের মুখে পড়েন। হাসনাত আবদুল্লাহ নীলক্ষেত এলাকায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপস্থিত হলে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা তার সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেন।

এর আগে, রাত ১১টার দিকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে পৌঁছান। সেসময়, স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থীরা হলের সামনে অবস্থান নেন এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে ধাওয়া দিয়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নীলক্ষেত পার করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পুলিশ দুই রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে সড়কের পাশে ব্যবসায়ীদের দখলে বিপদে পথচারীরা

পটুয়াখালীর দুমকিতে বরিশাল-পাগলা-দুমকি-বাউফল মহাসড়কের দুই পাশে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা স্থানীয়দের জন্য বেশ বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পথচারীরা নিয়মিত দুর্ঘটনায় পড়ছেন এবং এই সড়কটি ব্যবহারে অনেক সময় ও মানসিক চাপের শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশের সরকারি জমিতে গাছ ব্যবসায়ীরা লাকড়ি-গাছ রাখছেন, ফরিয়াদের তুষ-কুড়া-ধান, নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ীরা রড-সিমেন্ট-ইট রাখছেন, এবং চেরাই কাঠের ব্যবসায়ীরা সাজানো কাঠ রেখে যাচ্ছেন। বরিশাল-পাগলা-দুমকি-বাউফল মহাসড়কের বিশেষ কিছু এলাকা, যেমন বিশ্ববিদ্যালয় স্কয়ার, নতুন বাজার, থানাব্রিজ, রাজাখালী বাজার, তালতলী বাজার, বোর্ড অফিস বাজার এবং চরগরবদি ফেরিঘাটের এলাকাগুলোতে জায়গা দখল করা হয়েছে। এসব জায়গায় দিন-রাত চলছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সড়কটি দখল হয়ে গেছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সওজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এসব ব্যবসা বাণিজ্য চলছে। এতে সড়কের যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাস্তার ওপর ট্রাক থামিয়ে মালামাল ওঠানো নামানো হচ্ছে, যা একদিকে সময় অপচয় ঘটাচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জিহাদ জানান, “রাস্তায় ট্রাক থামিয়ে গাছ ওঠানামা করা আমাদের জন্য অনেক সমস্যা তৈরি করছে। সময় নষ্ট হচ্ছে, আর দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।” পথচারী হৃদয় দাস বলেন, “রাস্তার পাশে ট্রাক থামিয়ে রাখার কারণে চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে, ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “আমাদের ইউনিভার্সিটির সামনে সড়কটি খুবই চিকন, এখানে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের চলাচল করে। সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বাসগুলোও এখানে থামানো থাকে। রাস্তার পাশে ট্রাক থামিয়ে গাছ উঠানো-নামানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন মাহমুদ জানান, “আমরা এ বিষয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেব। যাতে এসব ট্রাকগুলো রাস্তার পাশে না থেমে মাঠে গিয়ে মালামাল লোড আনলোড করে। এর মাধ্যমে রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালানো বন্ধ হবে এবং অভিযুক্তদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১০ জন আহত

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের ধানহাট ট্রাক স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে যখন রোববার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এর আগে, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে একই স্থানে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ওই সময় দুই পক্ষের ১০ জনের মতো আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়।

এ ঘটনায় গতকাল রাতে, কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন ও পটুয়াখালী পায়রা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে তিন বছরের জন্য কালাইয়া বন্দর ধানহাট ট্রাক স্ট্যান্ড কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি আশরাফ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন। তবে, গত কিছুদিন ধরে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন বারবার স্ট্যান্ড দখল করার চেষ্টা করছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আলী আজমের পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে স্ট্যান্ড দখল করতে গেলে, এর প্রতিবাদে স্ট্যান্ড কমিটির সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ঘটে এবং বেশ কিছু ব্যক্তি আহত হন।

রোববার সকালে আলী আজমের পক্ষের লোকজন স্ট্যান্ড দখল করে নেয়, যা নিয়ে যুবদল নেতা আরিফ হোসেনের লোকজন হামলার শিকার হয়। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত মো. আবু তাহেরকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাসনিন তানজিলা ইসলাম জানান, আবু তাহেরের ডান হাতের তিনটি আঙুলে কোপ রয়েছে, যার মধ্যে একটি আঙুল কেটে চামড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

স্ট্যান্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন বলেন, আলী আজমের পক্ষের কাছে স্ট্যান্ড দখলের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তারা গায়ের জোরে স্ট্যান্ড দখল করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।

দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী দাবি করেছেন, তাঁর পক্ষের লোকজন এই সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি বলেন, যিনি (আরিফ) অভিযোগ করেছেন, তিনি বিএনপির সদস্য নন, বরং অতীতে যুবলীগের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছেন এবং এখন বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রথম ঘটনায় এক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হঠাৎ বুক ধড়ফড় করলে কী করবেন?

বুক ধড়ফড় করা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর অসুস্থতার কারণ। অনেকেই হঠাৎ বুক ধড়ফড়, অস্বস্তি, বা চিনচিনে ব্যথার অভিজ্ঞতা লাভ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা যেমন কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া, ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া, বা ট্যাকিঅ্যারিদমিয়ার লক্ষণ হতে পারে এটি। এই সমস্যাগুলোর কারণ এবং সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি মিনিটে ৭২ বার হয়ে থাকে। তবে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কাজের চাপ, কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণ হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক সঙ্কোচন-প্রসারণকে ব্যাহত করতে পারে।

কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়ার ধরন ও ঝুঁকি

কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া সাধারণত দুই ধরণের হতে পারে।

1. ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া: এই অবস্থায় হৃদস্পন্দন ৬০-এর নিচে নেমে যায়। ফলে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়ে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি দেখা দেয়।

2. ট্যাকিঅ্যারিদমিয়া: এতে হৃদস্পন্দন ১০০-এর ওপরে উঠে যায়। এই অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ১০০০ জনে ৫ জনের এমন সমস্যা দেখা যায়। বিশেষত, বয়স ৬০ পার হলে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দিতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?

সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

হঠাৎ বুক ধড়ফড় শুরু হওয়া।

সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট।

মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

অস্বাভাবিক ক্লান্তি।

যদি এ ধরনের সমস্যা বারবার ঘটে, দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ইসিজি, হল্টার মনিটরিং, লুপ রেকর্ডার ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে এর কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।

প্রতিকার ও করণীয়

ডিপ ব্রিদিং অনুশীলন করুন: বুক ধড়ফড় করলে শান্ত থাকুন এবং ধীরে ধীরে শ্বাস টেনে ছাড়ুন।

খোলা জায়গায় যান: বদ্ধ স্থানে থাকলে অসুবিধা আরও বাড়তে পারে।

সিগারেট এড়িয়ে চলুন: বুক ধড়ফড় শুরু হলে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

হালকা গরম পানিতে গোসল করুন: মাথার আগে হাত ও পা ভিজিয়ে গোসল করুন।

শরীরকে বিশ্রাম দিন: ভারী কাজ বা সিঁড়ি ভাঙা থেকে বিরত থাকুন।

চিকিৎসকের কাছে যান: শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক কোনো সমস্যা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে অভ্যাস পরিবর্তন

সঠিক জীবনধারা হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনায় জমিজমার চাষে তরমুজ ও ক্ষীরার সম্ভাবনার বড় পরিবর্তন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় চলতি বছর জমিজমার আবাদে সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের আওতাধীন অর্ধশতাধিক চরাঞ্চলে ক্ষিরা, তরমুজ ও বাঙ্গি গাছ ফুলে ফুলে ভরে গেছে এবং প্রতিটি গাছে ফলন শুরু হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর আবাদ বেড়েছে এবং আশার আলো দেখা যাচ্ছে একটি বাম্পার ফলনের।

তবে এর মাঝে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সার ও ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের উদ্বেগ। চরবোরহান, চরঈশান, বাসুদেবপাশা, চরকচ্ছবিয়া, চরওয়াডেল, রায় সাহেবের চর, চরশৌলাসহ বিভিন্ন চরে এখন ক্ষীরার সমারোহ দেখা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৫০ হেক্টরে ক্ষীরা, ৪০ হেক্টরে বাঙ্গি এবং ৩০০ হেক্টরে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। তবে তরমুজের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫০০ হেক্টরের বেশি হয়ে গেছে। গতবছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় তরমুজ চাষিরা লাভের মুখ দেখতে পারেননি। তবে এবার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল, ভোলা জেলার চরফ্যাশনসহ পাশের এলাকার চাষিরাও তরমুজ, বাঙ্গি এবং ক্ষীরার চাষ শুরু করেছেন।

উপজেলার তেঁতুলিয়ার চরকচ্ছবিয়ায় ১৫-১৬ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তরমুজ চাষ করছেন গলাচিপা উপজেলার চরকাজলের চাষি বাবুল খান। তিনি প্রায় ২৫ একর জমি লীজ নিয়ে ক্ষীরা, শসা, ড্রাগন এবং হীরা জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। ক্ষীরার চাষে কৃষকদের জন্য এটি একটি বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, তবে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে কিছুটা চিন্তিত রয়েছেন চাষিরা।

অন্যদিকে, তরমুজের চাষে খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা অতিরিক্ত ব্যয় বহন করছেন। ১০০ গ্রামের প্যাকেট বীজের দাম বেড়ে গিয়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে এবং সারের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তরমুজ চাষের খরচ এখন প্রায় ৫০-৬০ টাকা প্রতি মাদা এবং ফলন ভালো হলে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ জানান, তরমুজের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে এবং মাঠে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চাষিরা বাঙ্গি, ক্ষীরা এবং তরমুজের বাম্পার ফলন পাবেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় জমিজমা বিরোধে ছুরি দিয়ে আঘাত, ভাইকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম

পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাতিজা চাচাকে ছুরি দিয়ে আঘাত এবং ভাইকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, জমিজমার বিরোধের কারণে গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের চর আগস্তি গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাবুল আকনের পুত্র মোঃ শাওন আকন (২৪), মোঃ ফরহাদ আকন (৩০) ও মৃত সালাম আকনের পুত্র বাবুল আকন (৫৫) একত্রিত হয়ে, মৃত সালাম আকনের পুত্র মাহবুব আকন (৫০) এবং মোঃ রফিক আকনের পুত্র মোঃ আজাদুল (১৮) কে ছুরি ও চাইনিজ কুরাল দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশাদুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর, ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালত চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সময় আবেদন নামঞ্জুর করে এ পরোয়ানা জারি করেন। পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মামলাটি ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলামের আদালতে শুনানি হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আদেশ পরে দেবেন বলে জানালেও রবিবার পরোয়ানা জারি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে পরীমণি এবং তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরীমণি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ক্লাবে অ্যালকোহল পান করে বিল পরিশোধ না করেই চলে যান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের একটি বোট ক্লাবে পরীমণি ও তার সহযোগীরা ব্লু লেবেল অ্যালকোহল পার্সেল দেওয়ার জন্য নাসির উদ্দিনকে চাপ দেন। তিনি রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাকে গালমন্দ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, পরীমণি ক্লাবে থাকা গ্লাস ও মোবাইল ফোন নাসির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন, যার ফলে তিনি আহত হন। এছাড়া তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

এদিকে, পরীমণি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “এত চুপ করে থাকা যায় নাকি! শিল্পীদের এত বাধা কেন আসবে!? অনিরাপদ অনুভব করছি! এ দেশে সিনেমা/ বিনোদন বন্ধ করে দেওয়া হোক।”

পরীমণি এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহায়তায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় আরামবাগে বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এ জলিল হিরু মিয়ার বাসভবনে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এ জলিল হিরু অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এএসপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক আরআই বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল হোসেন মিয়া, এবং সাবেক এএসপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. এয়াকুব আলী।

জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সদর উপজেলা, মির্জাগঞ্জ উপজেলা, দুমকি উপজেলা এবং বাউফল উপজেলার দেড় শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধার মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এ জলিল হিরু।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জেল পলাতক ৭০০ আসামিকে এখনো ধরা যায়নি : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানো বন্দির মধ্যে সাত শতাধিক বন্দি এখনো ধরা পড়েননি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম। তবে তাদের ধরতে সরকার তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে জরুরি সেবা (হটলাইন) উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২শর বেশি আসামি পালিয়েছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ মতো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ৭শ হাজতি ধরা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দেশব্যাপী সহিংসতা ও সরকার পতনের উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশের কয়েকটি কারাগারে বিশৃঙ্খলা-বিদ্রোহ করেন বন্দিরা। বাইরে থেকে কোনো কোনো কারাগারে চালানো হয় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। এই পরিস্থিতিতে কারাগারগুলো থেকে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন, বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিসহ বিচারাধীন মামলার ২ হাজার ২০০ বন্দি পালিয়ে যায়। যারমধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেপ্তারের পর ফের কারাবন্দি করা হলেও এখনো ৭০০ বন্দি পলাতক রয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে ১১ জন, ৭০ জন জঙ্গি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী রয়েছে।



ছাত্রনেতারা সরকারে থেকে রাজনৈতিক দলে যোগ দেবে না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়ক বা ছাত্রনেতারা সরকারে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে ছাত্রনেতাদের (বা গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে) কোনো দূরত্ব বা ভুল বোঝাবুঝি কাম্য নয়। এতে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হবে।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল এ কথা বলেন।

পোস্টে আইন উপদেষ্টা বলেন, ছাত্রনেতারা সরকারে থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করছেন না বা এতে যোগ দিতে যাচ্ছেন না। এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি। একইসঙ্গে জুলাই ঘোষণাপত্র হবে একটি রাজনৈতিক দলিল। এটি প্রণয়নে গনঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মতামত আন্তরিকভাবে প্রতিফলনের ইচ্ছা ছাত্রনেতাদের রয়েছে। সেই জায়গায় সবার সহযোগিতা থাকা প্রয়োজন।

‘গত দু’দিন ফেসবুক ছেয়ে গিয়েছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা ও ছাত্রনেতাদের পলায়নের গুজবে। এই গুজবের উন্মত্ততায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নাশকতা করার চেষ্টা করেছে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে আমার কাছে দু-একজন ফোন করেছেন, ঘটনা কী জানার জন্য’।

আসিফ নজরুল লেখেন, আমি যতোটুকু জানি আর বিশ্বাস করি তাতে বিএনপি ষড়যন্ত্র বা ১/১১ ধরনের কিছুতে আগ্রহী নয়। ছাত্রনেতারা সরকারে থাকা অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করছেন না বা এতে যোগ দিতে যাচ্ছেন না।

বিএনপি ও ছাত্রনেতারা এমনকি নির্বাচন-কেন্দ্রিক বৃহত্তর সমঝোতার বিষয়েও অনাগ্রহী নন (এর ধরন ও ফর্মুলা আলোচনা সাপেক্ষে)। তাই বিরোধের কোনো কারণ নেই। সবাইকে বরং বুঝতে হবে ঐক্য ছাড়া আমাদের বিকল্প নেই।

তিনি লেখেন, গণহত্যাকারীদের দল আওয়ামী লীগের হাতে রয়েছে লুটের লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা, অনেক অন্ধ স্তাবক ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী, শক্তিশালী প্রচারণা নেটওয়ার্ক, তাদের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাশালী ভিন্ন রাষ্ট্র।

এদেরকে রুখতে হলে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে মনে রেখে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু তা বাংলাদেশের শত্রুদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক হয়ে ওঠার পর্যায়ে যেন না যায়।