পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথে নাব্যতা সংকট, চরম দুর্ভোগ যাত্রীদের

শীত মৌসুমে পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথে নাব্যতা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। নদ-নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচরের কারণে লঞ্চ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে লাউকাঠি, লোহালিয়া, কারখানা এবং কবাই নদীতে লঞ্চ আটকে পড়ার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভাটার সময় নদীতে গভীরতা আরও কমে যায়, ফলে লঞ্চ চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যাত্রা বিলম্বিত হওয়ায় সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। পটুয়াখালী নদীবন্দরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ড্রেজিং কার্যক্রম চালু থাকলেও তা প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রেজিং কার্যক্রমে সঠিক বরাদ্দ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ডিন মো. নুরুল আমিন জানান, ‘নদীর নাব্যতা সংকট নিরসনে সঠিক ড্রেজিং কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। বারবার অসম্পূর্ণ কাজ করার কারণে সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।’
নৌপথের যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা যাওয়ার পথে লঞ্চ ডুবোচরে আটকে পড়ায় ছয় ঘণ্টা বিলম্ব হয়। জরুরি কাজ থাকায় ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি।’
যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, নাব্যতা সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে নৌপথে চলাচল কার্যত বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লঞ্চ মাস্টাররাও জানিয়েছেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে যাত্রীসেবা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ‘নাব্যতা সংকট নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।’
বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ১৭টি রুটে মাত্র ৮টি ছোট লঞ্চ এবং ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে মাত্র ৪টি বড় লঞ্চ চলাচল করছে। যেখানে আগে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হলে নৌপথ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








