জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, ফেব্রুয়ারিতেই ভোট

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই, ফেব্রুয়ারিতে ভোট আয়োজনের ব্যাপারে সরকার পদ্ধপরিকর।

রোববার সকালে রাজশাহীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকদের সাথে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব কিছুই করবে সরকার। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি, আবার কখনও উপদেষ্টাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কথা বলে। এর মধ্যে কিছু বিষয় সত্য থাকলেও; তাদের কথায় মনে হয় নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা নেই।

তিনি আরও বলেন, যারা জামিন পেয়ে একই ধরনের অপরাধ করতে পারে বা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিনষ্ট করতে পারে তাদেরকে নজরে রাখা হচ্ছে। এছাড়া আদালতে মামলার চাপ কমাতে একজন বিচারকের জায়গায় তিনজন বিচারক দেয়া হচ্ছে।




ভোলায় নলকূপ খনন করলেই বেরিয়ে আসছে গ্যাস

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কয়েকটি গ্রামে নলকূপ খনন করলেই বেরিয়ে আসছে গ্যাস। সেই গ্যাস দিয়েই স্থানীয়রা বিনা খরচে রান্না করছেন প্রতিদিনের খাবার। অবিশ্বাস্য শোনালেও ঘটনাটি একেবারে বাস্তব, পুরো এলাকাজুড়ে নলকূপের পানি আর আগুনের এই অদ্ভুত মিশ্রণ এখন সাধারণ দৃশ্য হয়ে উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এসব গ্রামের শত শত টিউবওয়েল থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। সেই গ্যাস দিয়েই গৃহিণীরা রান্নার কাজ করছেন।

এতে তাদের কোনো অর্থ খরচ হচ্ছে না। অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার এ সুবিধা নিচ্ছে। সরেজমিনে গিয়েও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় টিউবওয়েল থেকে উঠে আসা গ্যাসের ব্যবহার দেখা গেছে। কেউ টিউবওয়েল থেকে পাইপলাইন টেনে রান্না করছেন, আবার কেউ সেই গ্যাসের সংযোগ দিয়ে আয় করছেন টাকা। একেকটি টিউবওয়েল থেকে গড়ে চার-পাঁচটি লাইন টানা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৩৫ বছর আগে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রথম শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। সেই গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশের গ্রামগুলো এখন যেন গ্যাসের জনপদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কাচিয়া, টবগী ও হাসাননগরসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামে নলকূপ খনন করলেই মিলছে গ্যাস। ফলে কোনো সরকারি সংযোগ ছাড়াই গ্যাস ও পানি ব্যবহার করছেন এলাকাবাসী। অনুসন্ধানে গেলে স্থানীয়রা ‘ফ্রি গ্যাস’ ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস ও রতন হাওলাদার বলেন, আমরা এখানে টিউবওয়েল খনন করলেই গ্যাস বেরিয়ে আসে। সেই গ্যাস আমরা রান্নার কাজে ব্যবহার করি। আমাদের মতো অনেক পরিবারই এভাবে গ্যাস ব্যবহার করছে। দেখা গেছে, ভূগর্ভের প্রায় ৯০০ ফুট নিচ থেকে পানি উঠছে, সঙ্গে উঠছে গ্যাসও। অনেকেই সেই টিউবওয়েলে ড্রাম, কম্প্রেসার ও সিলিন্ডার বসিয়ে বিনা খরচেই রান্নার চুলায় গ্যাস ব্যবহার করছেন।

গৃহিণী জান্নাত বেগম ও রোজিনা জানান, গ্যাস ব্যবহার করতে আমাদের কোনো টাকা লাগে না। আমরা বিনা পয়সায় গ্যাস আর পানি দুটোই ব্যবহার করছি। তবে এসব সংযোগে অব্যবস্থাপনা থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তারপরও সেই গ্যাস ব্যবহার করে এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকটি ছোট কারখানাও। দিনের পর দিন এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় হলেও যেন কারও মাথাব্যথা নেই। ফলে সরকার প্রতিদিনই রাজস্ব হারাচ্ছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান-উজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন (বাপেক্স) জানিয়েছে, এগুলো পকেট গ্যাস। তাই লোকজন ব্যবহার করছে। তবে বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। বিনা অনুমতিতে গ্যাস ব্যবহার মোটেও ঠিক নয়। ভোলা বাপেক্সের ডিজিএম শাহাদাৎ হোসেন জানান, ওই গ্যাসের সঙ্গে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের কোনো কূপের সংযোগ নেই। তাই আপাতত অনুমতির প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, ভোলায় বর্তমানে তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। এখান থেকে তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।




গভীর রাতে বরিশাল মৎস্য অফিসে জাটকা নিয়ে বাগাড়ম্বর!

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের কম্পাউন্ডে বৃহস্পতিবার রাতে জাটকা হরিলুট হয়। এ সময় শত শত মানুষ কার্যালয়ে ঢুকে জব্দ করা মাছ লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে চারজন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও লুট রোধে ব্যর্থ হন। অভিযোগ আছে, মৎস্য কর্মকর্তারা বেশ কয়েক বক্স জাটকা সরিয়ে রেখে অল্প কিছু বিতরণ করতে যান, তখন হট্টগোল বাধে।

এরপর সেখানে ঘণ্টাব্যাপি চরম বিশৃঙ্খলা চলে, যা মৎস্য কর্মকর্তা ও স্টাফরা গেট আটকে নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে প্রত্যক্ষ করছিলেন। বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, উদ্ধার করা মাছ দুস্থদের মাঝে বিতরণকালে কিছু জাটকা লুট হয়েছে, কিন্তু স্টাফরা মাছ সরিয়ে ফেলেছে এমনটা অভিযোগ অসত্য।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে হঠাৎ মৎস্য অধিদপ্তরের মধ্যে হইচই শুরু হয়। কয়েকজন আনসার হুইসেল দিয়ে থামানোর চেষ্টা করলেও শত শত মানুষ মৎস্য অফিসে ঢুকে পড়েন। সরেজমিনে দেখা যায়, জাটকার কার্টুন নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু হয়। চলে নিজেদের মধ্যে মারামারি। অদূরে গ্যারেজের পাশে মৎস্য অফিসের কয়েকজন স্টাফ জাটকাভর্তি অন্তত তিনটি কার্টন ধরে রাখেন। একপর্যায়ে এক কার্টনভর্তি জাটকা লুট করে নিয়ে যায় উত্তেজিত জনতা।

এ সময় ঘটনাস্থলে কিছু নারী ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক নারী জানান, তারা প্রতারক। সব মাছ নিজেরা নিয়ে অল্প কিছু অফিসের সামনে রেখে গেট খুলে দিয়েছে। এরপর শত শত সাধারণ মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। আমিন হাওলাদার নামের একজন বলেন, ‘মাছ ছিল ১০-১২ কার্টন। কিন্তু এক কার্টনের মাছ বণ্টন করতে গেট খুলে দিলে হরিলুট শুরু হয়। তাদের থামাতে আনসারেরা চেষ্টা করেও পারেনি। জাটকা নিতে আসা নগরের বদ্ধপাড়ার গৃহিণী নীহারিকা মণ্ডল বলেন, ‘একটা জাটকাও পাইনি। সব লুট হয়েছে। স্যারেরা পেছনে কার্টন ভর্তি করে রেখেছেন।’

মহসীন মিয়া নামের শেরেবাংলা সড়কের যুবক বলেন, কয়েকটি মাদ্রাসার লোকজনকে বস্তা ভরে জাটকা দিয়েছে; কিন্তু গরিবেরা দাঁড়িয়ে থেকেও পায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের কম্পাউন্ডে জাটকা হরিলুট হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের কম্পাউন্ডে জাটকা হরিলুট হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুল হাসানকে এ বিষয়ে জানতে কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘আমি অভিযান করতে নিষেধ করেছিলাম, তারপরও করেছে।

আমতলীতেও এভাবে মাছ লুট হয়েছিল। সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসানের নেতৃত্বে অফিসের সামনেই বাস থামিয়ে অভিযান চলে। এ সময় বেশ কিছু মাছ উদ্ধার করা হয়।’ তবে কী পরিমাণ মাছ উদ্ধার হয়েছে, তা জানাতে পারেননি তিনি। মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি আরও বলেন, কিছু মাছ লোকজন নিয়েছে। সেখানে চারজন আনসার ছিল। স্টাফরা মাছ সরাননি। যারা বলেছে, তারা গুজব ছড়িয়েছে। স্টাফদের জাটকা নেওয়ার সুযোগ নেই।’




জামায়াতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি না বিএনপি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন গণভোট বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি নয়। শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে এক ডায়লগে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, আমরা বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলাম। তারা বলেছে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না। আমরা যেকোন সময় আলোচনায় বসতে রাজি আছি। প্রয়োজনে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় বসতে উদ্বুদ্ধ করবো।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু কীভাবে বাস্তবায়ন হবে এটি স্বাক্ষরিত হয়নি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন যখন সরকারের কাছে সুপারিশ করলো তখন বিরোধ তৈরি হলো।

হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ডেমোক্রেসিতে আলোচনা এবং রাজপথে ভয়েস রেইস করাএই দুটোই চলে। আমরা তো ভায়োলেন্স করছি না।

জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের বিরোধিতা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে মানুষের ফোকাস থাকে দল, প্রার্থী কেন্দ্রীক। আমাদের দেশে ভোটকেন্দ্র দখল হয়। দুটো ভোট দিতে গেলে টাইম ম্যানেজমেন্ট হবে না, ভোট কাস্টিং কম হবে। পরে আবার বলবে জনগণ জুলাই চার্টারের পক্ষে রায় দেয় নাই।

তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এখনো আছে। এখন জনগণের আস্থা নেই। আগে গণভোট হলে জাতীয় নির্বাচনে জনগণের আস্থা তৈরি হবে। এতে নির্বাচনটা ভালো হবে।




ডেঙ্গু ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর, বাংলাদেশ কেন ব্যবহার করে না

ডেঙ্গুজ্বর দিনে দিনে মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ডেঙ্গু মোকাবিলার উপায় নিয়ে রয়েছে নানা আলোচনা। ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন বা টিকা আছে, বাংলাদেশ এই টিকা কেন ব্যবহার করা হয় না, মানুষের মধ্যে রয়েছে এমন প্রশ্নও। খবর বিবিসি বাংলার।

এক সময় বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ে চিন্তায় থাকত মানুষ। কিন্তু এখন আর কোনো মৌসুম নেই। বছরের যে কোনো সময়ই হতে পারে ডেঙ্গুজ্বর।

কীটতত্ত্ববিদরা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নগরায়নসহ নানা কারণে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। আর এ কারণেই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যাও ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে হবে আবার ভ্যাকসিন বা টিকার ব্যবহারও বাড়ানোর কথা বলছেন তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোশতাক হোসেন বলছেন, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর জন্য দুটি টিকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে, সেগুলো ব্যবহারেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। আর এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশ ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিলেও বাংলাদেশ এখনো এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এছাড়া টিকা ব্যবহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়টিও জড়িত বলে মনে করেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, টিকার অনুমোদন দিতে আগে এই রোগকে এপিডেমিক ডিক্লেয়ার করতে হবে। কিন্তু সেটা করলে তো সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

এছাড়া এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় টিকার থেকে মানুষের সচেতনতা বেশি জরুরি বলেও মনে করেন অধ্যাপক বাশার।

বিবিসি বাংলার সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

কেবল বাংলাদেশ নয় ডেঙ্গুর প্রভাব রয়েছে বিশ্বজুড়েই। বিশেষ করে আফ্রিকা ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে এর ব্যাপ্তি ভয়াবহ। ইউরোপ-আমেরিকার নানা উন্নত দেশও ডেঙ্গুমুক্ত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে বসবাস করছেন।

বিশ্ব বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর এমন প্রভাব থাকলেও এর ভ্যাকসিন বা টিকা খুব একটা বিস্তার লাভ করেনি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’ এবং ‘কিউডেঙ্গা’ নামে দুই ধরনের টিকা পৌঁছেছে মানুষের হাতে।

ফ্রান্সের বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান সানোফি-এ্যাভেন্টিজের ডেঙ্গু টিকা ‘ডেঙ্গাভেক্সিয়া’র অনুমোদন দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ।

এছাড়া ২০২৩ সালে জাপানের তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’র অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দুই ডোজের এই টিকা শুধুমাত্র ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সিদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

তবে এর কোনোটিই ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ বাংলাদেশে ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের সুযোগ নেই। এর কারণ হিসেবে দুই ধরনের টিকারই নানা সীমাবদ্ধতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলছেন কীটতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, ‘ডেঙ্গুর ভ্যাক্সিনের কিছু লিমিটেশনস আছে, একটা নির্দিষ্ট বয়সের মানুষকে ছাড়া দেওয়া যায় না, ১৬ বছরের নিচে বয়স হতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গাভ্যাক্সিয়া দিতে হলে আগে একবার ডেঙ্গু হতে হবে। ডেঙ্গু যার জীবনে কখনো হয়নি তাকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না।’

বাংলাদেশে ডেঙ্গু টিকার ট্রায়াল

এখনো ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ। তবে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের আবিষ্কার করা ডেঙ্গু টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বা আইসিডিডিআরবি’র গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের লার্নার কলেজ অব মেডিসিন এবং বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি’র গবেষকরা যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ বা এনআইএই আবিষ্কৃত ওই টিকার নাম দেয়া হয়েছিল টিভি০০৫।

ওই সময় বলা হয়েছিল, ভারতে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা সফল হলে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। তবে পরবর্তীতে এ নিয়ে আর আলোচনা এগোয়নি বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোশতাক হোসেন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে ডেঙ্গু যে পর্যায়ে যাচ্ছে এবং এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে খুব একটা সফলতাও আমরা দেখাতে পারছি না তাতে ভ্যাকসিন আনা যায় কিনা এটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার সময় এসেছে।’

ডেঙ্গু ভ্যাসকিনের পাশাপাশি কমিউনিটি অ্যাওয়ারনেস বা সাধারণ মানুষের সচেতনতার কথা বলছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার।

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ব্যবহার করার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশে। এটি নিতেও আমাদের সময় লাগবে কারণ এখানে সরকারি সিদ্ধান্ত, বিশেষজ্ঞ মতামত, ট্রায়ালসহ নানা বিষয় জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে মানুষ যদি নিজে থেকেই পরিচ্ছন্ন থাকা, পানি জমতে না দেওয়া, মশারি টাঙানো এমন পদক্ষেপগুলো নেয় তাহলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে আনা সম্ভব।’




শিক্ষা পদ্ধতিকে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করা হবে : জহির উদ্দি স্বপন

ব্যুরো চীফ, বরিশাল : বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আগামী নির্বাচনের পরে আমাদের নেতা তারেক রহমান ও আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সমস্ত গণতান্ত্রিক দলকে সাথে নিয়ে দেশের সকল সৃজনশীল চিন্তাবিদ এবং তরুন প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে চাই। তাদের ভাষাকে বুঝে তাদের জন্য নতুন কারিকুলাম তৈরি করতে চাই।

বরিশালের উত্তর জনপদের গৌরনদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের নবীনবরন ও কলেজের ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন, শিক্ষা বিনিময়ের পদ্ধতিকে একটা আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করতে চাই। ডিজিটাল সাইকোলজি যদি শিক্ষকদের মধ্যে কাজ না করে তাহলে ডিজিটালাইজড সাইকোলজিকে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে কানেক্ট করা যাবেনা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেছেন, পুরনো চিন্তা, দৃষ্টি ভঙ্গি এগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আমাদের চিন্তার জগতকে মেরামত করতে হবে। আমাদেরকে তরুন প্রজন্মকে বুঝতে হবে।

পতিত সরকারের মতো কেউ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, দখলবাজি করলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি সরদার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালে অনুষ্ঠানের উদ্বোধণ করেছেন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল ওয়াহেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্ঠার একান্ত সচিব আয়মান হাসান রাহাত, বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন, মাধ্যমিক পরিদর্শক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম হেলাল, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাফর ইকবাল ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ কেএম সরিফুল কামাল, কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল আলম মাহী, একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী হুমায়রা তাহসিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরনের পর শিক্ষার্থীরা অতিথিদের ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করেন। সবশেষে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করা হয়েছে।




নির্বাচিত হতে পারলে সর্বপ্রথম নদী ভাঙনরোধে কাজ শুরু করবো : আব্দুল জব্বার

ব্যুরো চীফ, বরিশাল: জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল জেলা শাখার আমীর ও বরিশাল-৪ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেছেন-হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট থানা এলাকা একটি নদী বেষ্টিত প্রত্যন্ত অঞ্চল। প্রতিবছর এখানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম, নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি।

তাছাড়া এসব এলাকার বেশিরভাগ মানুষ মৎস্যজীবী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে আমাকে এমপি নির্বাচিত করা হলে, তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করা হলে সর্বপ্রথম আমি নদী ভাঙনরোধে কাজ শুরু করবো। পাশাপাশি অবহেলিত ও নদীবেষ্টিত বরিশাল-৪ আসনের মানুষের জীবন ও মানোন্নয়নে শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে কাজ করে যাবো। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতী, বাজার মনিটরিংসহ সকল অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো।

বরিশালের হিজলা উপজেলার সাংবাদিকদের সাথে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলা জামায়াতের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেছেন-বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাধারণ মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে।

হিজলা উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনের উপজেলা শাখার আমীর অধ্যাপক নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আযাদ আলাউদ্দিন, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মো. গুলজার, বড়জালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহানশাহ সামু চৌধুরী প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় হিজলা উপজেলার সাংবাদিকবৃন্দসহ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।




শনিবার থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা প্রাথমিক শিক্ষকদের

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি পালন করবে চারটি শিক্ষক সংগঠনের মোর্চা ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’। নবীন শিক্ষকরাও এতে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সহকারী শিক্ষকদের ৩ দফা দাবি হলো- ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের এই আন্দোলনে আছে- বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি), সহকারী শিক্ষক ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদসহ অনেকগুলো প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন।

শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, শনিবার শহীদ মিনারে ২০ হাজার শিক্ষক দশম গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেড ও পদোন্নতির অধিকার আদায়ে অবস্থান নেবেন, যা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে কর্মকর্তারা আলোচনা করতে চাচ্ছেন, বিভিন্ন দিক বোঝাচ্ছেন; কিন্তু আমরা চাই না। আমাদের কথা তো বহুবার তাদের বলেছি, কাজ তো হয়নি। এবার রাজপথেই দাবি আদায় করে আমরা ফিরবো।

খায়রুন নাহার লিপি বলেন, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ২৪ এপ্রিল এক আদেশে ১১তম গ্রেডে বেতন পাওয়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে এবং ১৩তম গ্রেডে বেতন পাওয়া শিক্ষকদের বেতন ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার কথা জানায়। তবে তাতে সন্তুষ্ট নন সহকারী শিক্ষকরা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা স্নাতক ও সমমান ডিগ্রি নিয়ে দশম গ্রেড পান। নার্সরা এইচএসসি ও নার্সিং ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে দশম গ্রেড পাচ্ছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এসএসসি ও কৃষি ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে দশম গ্রেড পাচ্ছেন। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষকরাও স্নাতক ও সমমান ডিগ্রি নিয়ে দশম গ্রেড পান।

তিনি আরও বলেন, আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা স্নাতক ও সমমান ডিগ্রি এবং সিএনএড বিপিএড বা বিটিপিটি কোর্স করে ১৩তম গ্রেড পান। পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও দশম গ্রেডে বেতন পান। তাই আমরা দশম গ্রেডে বেতন দেওয়ার দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করছি।

এ বিষয়ে নবীন শিক্ষকদের নেতা তালুকদার পিয়াস বলেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার মূলভিত্তি প্রাথমিক স্তর। প্রাথমিক শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক গঠনের প্রথম স্তরে কাজ করেন।

তিনি বলেন, এই স্তরে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মানও দুর্বল হয়। তাই শিক্ষার মূলভিত্তি যারা গড়ে দিচ্ছেন, তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও বেতন কাঠামো পাওয়া উচিত। সময়ের প্রেক্ষাপটে সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি।

এদিকে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের আরেকাংশ ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চতর গ্রেড নিয়ে জটিলতা নিরসন ও শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছেন৷

দাবি মানা না হলে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।




বরিশালে হাতপাখা প্রতীকের সেন্টার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বরিশাল-৫ (সদর) সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের হাতপাখা প্রতীকের সেন্টার কমিটির প্রশিক্ষণ কর্মশালা মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) নগরীর চাঁদমারি মুজাহিদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বরিশাল মহানগরের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও টিম লিডার মুফতি নাসির উদ্দিন নাইস।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ জাকারিয়া হামেদী।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন টিম লিডার ক্বারী মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও যুব আন্দোলনের বরিশাল মহানগরের যুম্ম সাধারণ সম্পাদক ও টিম লিডার মাওলানা মো. আবদুর রহিম, ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগর সভাপতি গাজী মো. রেদোয়ানসহ ওয়ার্ড নেতারা।




৩১ কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে প্রায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। বুধবার (৫ নভেম্বর) কালিগঞ্জ কোস্টগার্ড স্টেশনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেল ৪টায় কোস্টগার্ড মেঘনা নদীর সবুজ বয়াসংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন একটি ইঞ্জিনচালিত বোটে তল্লাশি করে প্রায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৯০ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এ সময় জালের প্রকৃত মালিক না পাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

জব্দকৃত জাল মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর সানির উপস্থিতিতে নষ্ট করা হয় এবং বোট ক্রুদের মুচলেকা নিয়ে বোটসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।